১লা বোশেখ
মীনাক্ষী সিনহা
এক্কেবারে ছোটবেলার কিছু কথা মনে পড়ছে যাচ্ছে। চৈত্রের শেষ রাতে , দাদুর সঙ্গে বাজারে মিষ্টি আনতে যেতাম। আম সন্দেশ, নিমকি, দরবেশ , ছোট ছোট কচুরী ইত্যাদি সব রকমারি খাদ্যবস্তুর সমাহারে আমি একদম যাকে বলে, যারপরনাই উল্লসিত থাকতাম । মিষ্টির দোকানে বসেই একটা দুটো আম সন্দেশ পেটে চালান করে দেওয়ার যে অমলিন আনন্দ সে কথা আজও অনস্বীকার্য। তারপর বাড়ি এসে রাত জেগে হালখাতার প্যাকেট তৈরীর কাজে লেগে পড়া ।।
সকাল বেলা স্নান সেরে নতুন জামা পড়ে দাদুর সঙ্গে রিক্সা করে দিদার গুছিয়ে দেয়া নৈবিদ্য নিয়ে সোনাপট্টির উদ্দেশ্য রওনা। আমি আর রাঙা মামা আম পাতা, সোলার কদম আর অন্য সব নানা ফুল দিয়ে সাজিয়ে তুলতাম সিদ্ধিদাতা গণেশ পুজোর প্রাঙ্গণটিকে।।
পুজো সমাপ্তি তে প্রসাদ বিতরণের পর্ব মিটলে শুরু দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজ । মেনুতে থাকত দিদার হাতের নানারকম পদ।
ঘি সহযোগে সাদা ভাত , নটেশাক ভাজা, এঁচোর দিয়ে ছোলার ডাল, বেগুনি, মাছের ঝাল , পটল চিংড়ি , কাঁচা আমের চাটনি ও হিম শীতল শ্বেত শুভ্র দধি। কখনো কখনো আমরা ছোটরা বায়না করলে পাড়ার গৌরমামার দোকান থেকে আসত মিষ্টি পান।।সুগন্ধি পানের সুরভী তে নববর্ষ একেবারে জমজমাট ।।
সন্ধ্যায় সক্কলে মিলে জম্পেশ আড্ডা হত ওই এক টুকরো বারান্দায় দুটো মাত্র বেঞ্চে।রাতে বড় মামা নিয়ে যেত কোথায় আইসক্রিম, কোথায় লস্যি এসব খাওয়াতে। নতুন বছরের আগমন বার্তায় চারিদিকে সাজো সাজো রব ।।
রোজকার চেনা শহর টাই উৎসবের মোড়কে ধরা দিত নব সাজে নব রূপে ।।

Comments
Post a Comment