স্মৃতির পাতায় পয়লা
দেবশ্রী চক্রবর্তী
নববর্ষ আদ্যপান্ত বাঙালিয়ানার মোড়কে জড়ানো সযত্নে লালিত একটি শব্দ। শারদীয়ার যেমন আগমনী হয় তেমনি নববর্ষের প্রতীক্ষা একপ্রকার আগমনীর মতোই। পয়লা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের আলাপন আর সেই বিশেষ দিনকে মনের মতো করে আপ্যায়ন করার প্রস্তুতি কদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়।
আমাদের শৈশব কৈশোর অন্তত তার সাক্ষ্য দিতে পারে। নববর্ষ শুধু বৈশাখের প্রথম দিনেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আগে পরে কিছুদিনের মিলিত উদযাপন হল নববর্ষ। ছোটবেলার কিছু স্মৃতি আজও জীবন্ত যা আজ নাগালের বাইরে তবে চির অমলিন যেমন চৈত্র সংক্রান্তির দিন সকালে বাড়ির ছেলেরা থালায় কাঁচা আম খই আর ছাই নিয়ে বাড়ির বাইরে কোথাও গিয়ে আমটা দা দিয়ে কেটে দুভাগ করতো। এর অর্থ শত্রুকে হারানো অর্থাৎ পুরোনো শত্রুতা মানঅভিমান বিষাদ সবকিছুকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নতুন বছরকে আপ্যায়ন করা। শুধু তাই নয় সেদিন স্নানের পর সকলকে নিয়ম করে নিমপাতা জোয়ান গুড় কাঁচা হলুদ একসাথে নিয়ে খেতে হত। এসব নিয়মকে কখনো বেড়াজাল মনে হয়নি বরং পুরোপুরি উপভোগ করতাম। সেদিন পাচন খাওয়ার রীতি আজও অনেক বাড়িতেই আছে সব মিলিয়ে প্রাণের আরাম খুঁজে পেতাম সেসব দিনে। অপেক্ষায় থাকতাম এই আনন্দকে উপভোগ করার জন্য আর সেই আনন্দ দ্বিগুন হত পরের দিন নতুন জামা পাওয়ার উন্মাদনায়। সে হয়তো দামি পোশাক নয় কিন্তু মূল্যের মূল্য বোঝার ক্ষমতা বা মনের ইচ্ছে কোনোটাই তখন ছিলোনা থাকতো শুধু অপেক্ষা।
বড়দের প্রণাম করা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি বিতরণ তো ছিলই আরো একটা পর্ব ছিলো বাড়িতে সেটা হল বড়দের প্রণাম করলে ছোটদের হাতে টাকা দেওয়া হত আশীর্বাদস্বরূপ। ছোট ছিলাম তাই মনে হত আজ বাড়িতে অনেকে আসুক তাহলে প্রাপ্তির পরিমাণ ভালোই হবে। টাকা তো উপলক্ষ্য গুরুজনদের যে অমলিন স্নেহ ভালোবাসার ছোঁয়া ছিলো সেসব স্মৃতি আজও রঙীন।
হালখাতার নিমন্ত্রন থাকতো যা আজকেও পুরোদস্তুর বিরাজমান। সময়ের সাথে দিনবদলের পালায় নববর্ষের উদযাপন এখন অনেক জৌলুসময় নতুন নতুন ভাবনার আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলা হয় বাঙালির বিশেষ দিনকে। শুধু দুর্গাপূজা নয় নববর্ষও যে বঙ্গসংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র তার পরিচয় আজ রাজ্যের গন্ডি দেশের গন্ডি পেরিয়ে সর্বজনীন। ছোট বড় সবাই বিভেদ ভুলে আরো বেশি করে মেতে উঠুক নববর্ষের প্রাণের আলিঙ্গনে।
........................
Debasri Chakraborty
Jessore Road
Khudiram Colony, Kol - 74

Comments
Post a Comment