নববর্ষের শপথ
স্বপন চক্রবর্তী
বৈশাখ বলে, আবার এসেছি সাথে নিয়ে দাবদাহ,
জৈষ্ঠ্য বলে, আমি আছি পিছে, গলাবোই হিমবাহ।
নির্বোধ ঐ মানুষের দল আপন লয়ের কারণ,
এখনো সময় আছে যদি লভে শুভবুদ্ধির শরণ।
আষাঢ়ের কথা, মনে তার ব্যথা, বলে সে অসম্ভব,
চারিদিকে যত তরুর নিধনে আমি যেন এক শব।
রুক্ষ শুষ্ক আমার প্রাণেতে নাই কোন বারিধারা,
শ্রাবণ নয়নে অশ্রু প্লাবন, অবয়বে ব্যাধি জরা।
আকাশে বাতাসে মেঘ নাহি ভাসে, ভাদ্রের হাহাকার,
তারি মাঝে বাজে আশ্বিন হৃদে মহামায়া ঝংকার।
যদিও তেমন পায় না সে সাড়া আপনার অন্তরে,
কার্তিক বলে, এত উত্তাপে বাঁচবো কেমন করে !
অগ্রহায়ণও বলে একই কথা, প্রাণে চাই শীতলতা,
সারাটা বছরই দাবদাহ জেরে সর্ব অঙ্গে ব্যাথা।
পৌষও কেবল খুঁজে খুঁজে ফেরে হিমের পরশখানি,
মাঘের কর্ণকুহরে বুঝি শীত করে কানাকানি।
ফাগুনে আবার প্রকৃতির মাঝে আগুন লাগার ইশারা,
ভরা চৈত্রে তারই মহড়া, তপ্ত বসুন্ধরা।
বুঝেও মানুষ কিছুই বোঝে না, আপন স্বার্থে অন্ধ,
দিবানিশি করে হানাহানি আর পরস্পরেতে দ্বন্দ্ব।
বিটপ ছেদনে যত্রতত্র তৈয়ার মহীরূহ,
রণদামামার আস্ফালনে ফৌজী চক্রব্যুহ।
বসুন্ধরার পরিবেশ তাই আজ বুঝি ভয়াবহ,
তপ্ত আবহাওয়া সারা বিশ্বেই, গ্রীষ্মের দাবদাহ।
যত্রতত্র ধ্বংসলীলায় মেতেছে নিখিল বিশ্ব,
হারিয়ে গিয়েছে মনুষ্যত্ব, ভালোবাসা আজ নিঃস্ব।
নেই কারো মান, নেই কারো হুঁশ, তবুও আমরা মানুষ,
উড়িয়ে চলেছি দিগন্তে শুধু অহংকারের ফানুস।
নতুন বছরে তাই নিতে হবে নতুন দিনের শপথ,
হিংসা অন্তে শান্তির পথে ছুটুক বিজয়রথ।
সেই সাথে হোক বৃক্ষ রোপণ, বৃক্ষ ছেদনে ইতি,
নতুবা অচিরে পৃথ্বীর ভালে সবিশেষ দুর্গতি॥
============================

Comments
Post a Comment