স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী
ঊষালোকের পুণ্যতীর্থে জাগে শুদ্ধ স্নানের ক্ষণ,
তরুমূলে বারি-অর্ঘ্যে সমাপন আজ পবিত্র অবগাহন।
নৈবেদ্যের উপাচারে সাজানো প্রকৃতির নিঃশব্দ বন্দনা,
পুণ্যালোকে ভস্ম হোক আজ গ্লানির মলিন লাঞ্ছনা।
তিমির-রাত্রি শেষে মুছে যাক বিষাদ-কালিমার রেখা,
ঐতিহ্যের এই মহিমায় শুদ্ধ হোক হৃদয়ের নিভৃত লেখা।
মন্দির-সোপানে শঙ্খনাদে জাগে শাশ্বত সেই টান,
অর্ঘ্য-ডালিতে সমর্পিত আজ ভক্তের আকুল প্রাণ।
চৌকাঠে আঁকা সিন্দুর-তিলক, স্বস্তিক চিহ্নের আভা,
হালখাতার এই পুণ্য লগ্ন—ঐতিহ্যের এক অক্ষয় প্রতিভা।
রন্ধনশালায় পায়েসের ঘ্রাণে পবিত্র শুদ্ধাচারের রীতি,
ঐতিহ্যের এই উৎসবে জাগে এক নিবিড় স্বর্গীয় প্রীতি।
নব্য বসন পরিধানে জাগে এক ধ্রুপদী পবিত্রতার দীপ্তি,
পিতৃ-মাতৃ চরণে প্রণত হয়ে লভি পরম আত্মতৃপ্তি।
গৃহে গৃহে অন্নকূটের ঘটা, রাজকীয় সব আয়োজন,
পঞ্চব্যঞ্জনে তৃপ্ত আজ গৃহের সকল প্রিয় পরিজন।
ছানা-মিষ্টির সুবাসে মূর্ত এক স্নিগ্ধ রাজকীয় মাধুর্য,
নববর্ষের এই মহাভোজ—বাঙালির চিরায়ত ঐশ্বর্য।
ধূপ-সুরভিত আবহে মুখরিত দোকানের প্রতিটি প্রাঙ্গণ,
মঙ্গলালোকে উজ্জ্বল আজি বাঙালির সেই চিরায়ত গৌরব।
দাদুর আঙুল ধরে নব্য পোশাকে সেই চেনা ভিড়ে পথচলা,
সিঁদুর-তিলক আর লাল-খাতায় বন্দি এক ঐতিহ্যের বর্ণমালা।
রঙিন মোড়কে স্তূপীকৃত সেই মিষ্টান্ন-বিলাসের মহোৎসব,
হাল-খাতার এই আভিজাত্যে প্রস্ফুটিত বাঙালির এক শাশ্বত বৈভব।
জীর্ণ পুরাতন বিদায় নিল আজ নতুনের শুভ্র আবাহনে,
নব-উন্মেষের দুন্দুভি বাজে বাঙালির বিজয়ী প্রাঙ্গণে।
লক্ষ্মী-লাভের এই পুণ্য লগ্নে ঘুচে যাক সকল দৈন্য-জ্বালা,
প্রদীপ্ত হোক শ্রীবৃদ্ধি আর এক ঐশ্বর্যের জয়মালা।
কাল-কালান্তরের এই মেলবন্ধন থাকুক অক্ষয় ও অম্লান,
নববর্ষের রাজ-গৌরবে স্পন্দিত বাঙালির এই জয়গান।
==============
Sneha, Joykrishnapur, Arambagh, Hooghly

Comments
Post a Comment