সমীর কুমার দত্ত
১ শ্রাবণ -বালিকা
মেঘের দেশে ঘর বেঁধেছে,
শ্রাবণ নারী এলো নেমে।
নীল শাড়িতে জল নূপুর,
বাজে তাহার মিষ্টি প্রেমে।
কাজল চোখে কান্না তার,
চায় সে ছুঁতে সবুজ বন,
বুকের ভেতর গোপন ব্যথা,
ভিজিয়ে দেয় আপন মন।
বিজলি তার আলোর সখা,
বাদল হাওয়া ডাক পিওন।
ধরণী আজ মাতাল সুখে,
ছুঁয়ে শ্রাবণ - মন কেমন।
২ পাখির চোখে দেখা
যদি হতাম ডানায় ওড়া চিল,
মেঘের দেশে পাততাম আমার ঘর।
সীমানা ছাড়িয়ে হাজার মাইল,
ছুঁয়ে আসতাম অচিন-সাগর চর।
কোন দুর পাহাড়ের চূড়ায় জমে বরফ,
কোন অরণ্যে ফোটে নাম না জানা ফুল;
নদীর বাঁকে বাঁকে কতশত জনপদ,
সবকিছুই বৃত্তান্ত দিতাম তুলে নিঁখুত নির্ভুল।
মেঘের চিঠি আর বাতাসের গান,
কুড়িয়ে আনতাম ডানার ভাঁজে ভাঁজে।
মানুষের কোলাহল ছেড়ে পেতাম নব প্রাণ,
ফিরতাম নীড়ে শুধু গোধূলির সাঁঝে।
সবুজ পাতার ওপারে লুকিয়ে থাকে গল্প,
মাটির গন্ধ মাখা মুক্ত হাওয়ার ডাক—
ফিরে এসে শোনাতাম তার খুব অল্প,
যা ছুঁয়ে যায় রোজ আকাশের সীমানায়
থাকা কোন কাক।
৩ আ মরি বাংলা ভাষা
শব্দে গাঁথি আমি বঙ্গ ভাষার মালা
অন্ত্যমিলের বাঁধনে রাখি না ধরে।
প্রাত্যহিক চর্চায় হোক আরো বিকশিত
মাতৃভাষা আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠা।
চলিত ভাষার প্রয়োগে করি মনের ভাব
সাহিত্যের অঙ্গনে ছড়াই নবীন আলো।
অমিত্রাক্ষর ছন্দে গড়ি নতুন নতুন শিল্প
সৃষ্টির আনন্দে ভাসি আপন মহিমায়।
ভাষার প্রতি আমার রয়েছে যে দায়
পালন করতে হবে নিষ্ঠা ও সততায়।
অনাগত দিনের জন্য লিখে যাই গান
বাংলা সাহিত্যের ডালি ভরে নানা রসে।
প্রজন্মের কানে পৌঁছে দি বাণী—এই ভাষা চিরন্তন
জ্ঞান ও ভাবের আদান - প্রদানে গড়ি এক নতুন ভুবন।

Comments
Post a Comment