পরিসংখ্যান দিবস
পাভেল আমান
পরিসংখ্যান বা রাশি বিজ্ঞান, যাকে
ইংরেজিতে বলা হয় স্ট্যাটিসটিক্স। এটি এক ধরনের গাণিতিক বিজ্ঞান যা মূলত
বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা সংক্রান্ত পরিবেশন নিয়ে কাজ করে। বর্তমান প্রজন্মের
কাছে এই পরিসংখ্যান বিদ্যাটা এখনো সেভাবে জনপ্রিয় না হয়ে উঠলেও দেশের
অর্থ সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম।
দিনকে দিন বিজ্ঞান প্রযুক্তি কম্পিউটার ইন্টারনেট ও সর্বশেষ এআইয়ের যুগে
স্ট্যাটিসটিক্সের বহুমুখী প্রয়োগ ও কার্যকরিতা দেশবাসীর কাছে প্রাসঙ্গিক
হয়ে উঠছে।পরিসংখ্যানের ব্যবহার রয়েছে বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান সমেত আরও
অন্যান্য শাখায়। প্রতিদিনের জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বিষয়টিকে আরও
জনপ্রিয় করে তুলতে "স্ট্যাটিসটিক্স ডে" বা পরিসংখ্যান দিবস পালন করা
হয়।ভারতীয় পরিসংখ্যানের জনক প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের জন্মবার্ষিকী
উপলক্ষে প্রতিবছর ২৯ জুন পালন করা হয় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস। ১৮৯৩ সালের
২৯ জুন তাঁর জন্ম হয়। প্রশান্তচন্দ্র ছিলেন একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং
পরিসংখ্যানবিদ । ভারতের স্বাধীনতা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় তাঁর
ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৩১ সালে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউট
প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরিসংখ্যান গবেষণা এবং প্রশিক্ষণের জন্য এটিই হল
অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। ১৯৩৭ সালে পাইলট সমীক্ষার মতো যুগান্তকারী
সমীক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রশান্তবাবু, যা বড় আকারে ডাটা সংগ্রহের পথ
প্রশস্ত করেছিল।তাঁর প্রধান অবদানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্সি কলেজে
একটি পরিসংখ্যান গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা, কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল
ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মহালানোবিস ডিসট্যান্স-এর উদ্ভাবন—যা জনসংখ্যা
তুলনা ও শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত একটি বহুচলকীয় দূরত্ব পরিমাপক। বৃহৎ
পরিসরের নমুনা জরিপের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তিনি তাঁর কাজের জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওয়েলডন
মেমোরিয়াল প্রাইজ, সোভিয়েত বিজ্ঞান একাডেমির বিদেশী সদস্যপদ, শ্রীনিবাস
রামানুজন স্বর্ণপদক, দুর্গাপ্রসাদ খৈতান স্বর্ণপদক এবং পুরস্কার ও সম্মাননা
লাভ করেছেন।পদ্মবিভূষণ পুরস্কার বিজয়ী প্রশান্ত মহলনবিশের অপরিসীম
অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ২০০৭ সালে ২৯ জুন দিনটিকে জাতীয় পরিসংখ্যান
দিবস হিসাবে ঘোষণা করে ভারত সরকার। তারপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটি
পরিসংখ্যান দিবস হিসাবে পালন করা হয়।পরিসংখ্যান ও আর্থিক পরিকল্পনার
ক্ষেত্রে অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দ্র মহালানবিশের উল্লেখযোগ্য অবদানের
স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর ২৯ জুন তাঁর জন্মবার্ষিকীতে দেশ জুড়ে পরিসংখ্যান
দিবস পালন করা হয়। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হ’ল, সাধারণ মানুষ, বিশেষ
করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিকল্পনা ও নীতি-নির্ধারণ
সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা। ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর পরিসংখ্যান দিবস
উদযাপিত হয়ে আসছে।ফি বছর এই দিনটি উদযাপন করা হয়। আর্থ-সামাজিক পরিকল্পনা
এবং দেশের উন্নয়নে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সম্পর্কে
সাধারণ মানুষ বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই
দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। পরিশেষে একটি কথা বর্তমান এই সংকটের সময়ে
বিজ্ঞান চেতনা মনস্কতা চর্চা দেশ জাতি ও সাধারণ মানুষকে প্রগতির অভিমুখে
নিয়ে যায়। ভুলে গেলে চলবে না একটা দেশ ও রাষ্ট্রের প্রগতি ও চালিকাশক্তি
হচ্ছে বিজ্ঞান প্রযুক্তি গবেষণা উদ্ভাবনী মানসিকতা ও সর্বোপরি সমস্ত
নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বিজ্ঞান শিক্ষা চর্চা ও অনুশীলনেই নিহিত
একে অপরের মধ্যে গড়ে ওঠে যুক্তিবোধ বিদ্বেষ বিভাজন নির্বাসনে বিজ্ঞান
চেতনার আলোকে মানুষ এগিয়ে চলে যথাযোগ্য শিক্ষাকে ধারণ করে। জাতীয়
পরিসংখ্যান দিবসে আমরা ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নে প্রয়াত
বিজ্ঞানী প্রশান্ত চন্দ্র মহলান বিশ্বের দেখানো পথকে অনুসরণ করে দেশ ও
জাতির কল্যাণী নিজেদের আত্ম নিয়োজিত করি। সবকা সাথ সবকা বিশ্বাস সবকা
প্রগতিতে গড়ে উঠুক এক বিকশিত ভারত।

Comments
Post a Comment