প্রথম কবিতা-
অনুত্তর
তুমি আছ কি না—আজও জানি না,
তবু বিপদ এলেই অজান্তে তোমাকেই ডাকি।
ঝড় যখন নামে জীবনের ঘরে,
তোমারই নাম আসে অশ্রুভরা স্বরে।
মনে জাগে কত অজানা প্রশ্ন,
উত্তর খুঁজিতে হয়ে পড়ি ক্লান্ত।
যতই ভাবি, ততই দেখি শেষে,
প্রশ্নগুলো রয়ে যায় প্রশ্নেরই দেশে।
বিশ্বাস আমার প্রদীপের আলো,
সন্দেহের হাওয়ায় কাঁপে তারই শিখা।
কখনও মনে হয়—তুমি আছ কাছে,
কখনও মনে হয়—সবই মনের দেখা।
মন তখন নিজের সঙ্গেই লড়ে,
যুক্তি আর বিশ্বাস দাঁড়ায় মুখোমুখি।
তুমি যদি থাকো, দাও অন্তরে সাড়া,
যদি না-ই থাকো, কেন এই অনুভূতি?
উত্তর পাই না, তবু থেমে যাই না,
অজানার পথেই চলি অবিরাম।
হয়তো খোঁজার মাঝেই লুকিয়ে আছ তুমি—
আর সেই অনুত্তরেই বেঁচে থাকে আমার বিশ্বাস।
দ্বিতীয় কবিতা-
ক্ষণিক জীবন
আজ মরলে কাল দুদিন,
তারপর সবই নীরব;
যে নাম ছিল মুখে মুখে,
সে-ও হবে বিস্মৃত রব।
যে ধন নিয়ে অহংকার,
যে মান নিয়ে এত লড়াই,
শ্মশানের ধোঁয়ার সনে
মিশে যাবে সব বড়াই।
খালি হাতে এসেছিলাম,
খালি হাতেই যাব চলে;
রয়ে যাবে কর্ম শুধু
মানুষেরই হৃদয়তলে।
ক্ষণিক এ জীবনের তরে
কেন এত হিংসা-অভিমান?
দুটি মধুর ভালোবাসার বাণী
জাগাক মানবপ্রাণ।
আজ মরলে কাল দুদিন—
এ সত্য চিরন্তন;
প্রেম যদি বিলাতে পারো,
অমর হবে জীবন।
ক্ষমা, দয়া, স্নেহ আর মমতা—
এই হোক জীবনের ধন;
দেহ একদিন মাটিতে মিশিবে,
রয়ে যাবে সুকর্মের স্মরণ।
মৃত্যু সবার অনিবার্য পথ,
কেউ নয় চিরদিনের অতিথি;
প্রেম আর সুকর্ম অমর হয়ে রয়,
মানুষ চলে যায়, রেখে যায় স্মৃতি।
তাই তো বলি, যতদিন শ্বাস,
ততদিন প্রেমের সাধন;
জীবন ক্ষণিক—প্রেমই চিরন্তন,
এই হোক মানবজীবনের অর্জন।
তৃতীয় কবিতা-
মায়ের অপেক্ষা
ঘরে ফেরার বেলা হলে সাঁঝ নামে ধীরে,
তুলসীতলে দীপ জ্বেলে মা দাঁড়ায় দুয়ারে।
দিন ফুরায়, গোধূলি-রঙ মিশে যায় আঁধারে,
খোকার ফেরার আশায় চেয়ে থাকে পথধারে।
ছোটবেলায় খেলা শেষে ফিরতাম যখন ঘরে,
দূর থেকেই দেখতাম মা দাঁড়িয়ে আছে দ্বারে।
বুঝিনি সেদিন নীরবতাও কথা বলতে জানে,
মায়ের দুটি স্নেহ-চোখই বুঝত মনের মানে।
বয়স বাড়ে, পথ বাড়ে, বাড়ে কাজের ভিড়,
তবু মায়ের মন পড়ে থাকে সেই পুরোনো নীড়।
হাজার মানুষ চেনে আমায়, হাজার নামে ডাকে,
মায়ের মুখে "খোকা" ডাকটি আজও হৃদয় মাখে।
সন্ধ্যাতারা জ্বলে ওঠে নীল আকাশের কোণে,
পাতার ফাঁকে দোলে হাওয়া সন্ধ্যার নীরব সুরে।
দূরে কারও পায়ের শব্দ ভেসে এলে ক্ষণে,
মায়ের চোখে আলো ফোটে—"খোকা এল?" মনে।
পৃথিবীতে আপন বলে কতজনই রয়,
সময়েরই স্রোতে শেষে বদলে যায় পরিচয়।
একটি হৃদয় অপেক্ষাতে ক্লান্ত হয় না কভু,
সন্তান ফিরবে—এই আশাতে জেগে থাকে মা শুধু।
যত ঙ না কেন, যতই হোক দেরি,
দুয়ারেতে বসে থাকে মা, পথের পানে ফিরি
দিনের শেষে ঘরে ফিরি মায়ের স্নেহের টানে—
পৃথিবীর সব পথের শেষে, মা-ই আমার ঠিকানা।

Comments
Post a Comment