প্রেমের ঘাটতি
শ্যামল হুদাতী
টানা দুইঘন্টা ঝগড়া চলল অরুণাভ আর বর্ণালীর মধ্যে। এইতো কদিন আগে দশ বছরের বিবাহ বার্ষিকী পালন করল ঘটা করে। কখন যে ওদের মধ্যে কি হয় কে জানে?
- "বর্ণালী চলো আমার ডির্ভোস নেওয়ার প্লান করি। এইসব ঝগড়া ঝামেলা আর ভালো লাগছে না। আমি সত্যিই ক্লান্ত।" এক নিঃশ্বাসে অরুনাভ কথাগুলো বলতে কোন কষ্ট হল না।
- "আমি নিজেও অনেকবার ভেবেছি - আর পারা যাচ্ছে না," বর্ণালী বলল।
কাল এই ব্যাপারে ফ্যামিলির সাবাইকে জানাবো। ঘুমন্ত বাচ্চার দিকে তাকিয়ে ওরা শান্ত হল।
বিয়ের আগে তিনমাস ভালোই প্রেম করেছে দু'জন। বিয়ের পরেও ভালোই স্বাভাবিক ছিল। মেয়েটা হওয়ার পর থেকে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। অফিস থেকে ফিরলে অরুনাভর মেজাজ থাকে তুঙ্গে। বর্ণালী প্রথমে চুপ থাকলেও সারাদিনে মেয়ের পেছনে ঘোরে, ঘরের কাজ সামলে মেজাজও সপ্তম আকাশে৷ সব চাহিদা ঠিকঠাক পূরণ করলেও দুজনের মধ্যে প্রায় কথা কাটাকাটি, ঝগড়া, ঝামেলা লেগেই থাকে৷
এমন না যে কেউ অন্য কারো প্রতি আসক্ত তাও নিজেদের মধ্যে কোন টানই যেন আর চোখে পড়ে না। প্রেমের ঘাটতি চরমে। এইটা ধীরে ধীরেই হয়েছে, একদিনে নয়।
দুইজনের রুম ও আলাদা হয়ে গেলো। তাও ঝগড়া থামে না।
পরের দিন মা বাবার রুমে গিয়ে ওরা ডির্ভোসের কথা বলল। তাঁরা বললেন, তোমাদের জীবন, তোমাদের সিদ্ধান্ত।
-তবে তোমরা যদি আমাদের থেকে অনুমতি চাও। আমাদের একটা শর্ত তোমাদের পালন করতে হবে।
- কি শর্ত?
-তেমন কঠিন কিছু না৷ এক মাস তোমাদের এক ঘন্টা করে একটা রুমে কাটাতে হবে।
দুজনেই তাচ্ছিল্যের একটা হাসি দিল যেন কোন ছেলেমানুষী আবদার। বাবা এইবার গম্ভীর গলায় বলে,
- আর উই সিরিয়াস?
-দশ বছর একঘরে এক বেডে কাটিয়েছ। আমাদের জন্য একটা ঘন্টা কাটাবে তোমরা একা। রুমে যে যার মতো থাকবে,কথা না বলে। জাস্ট একঘন্টা পর তোমরা বেরিয়ে আসবে। এরপর যা ইচ্ছে করো।
অরুণাভ আটটায় ফেরে। তোমরা নটা থেকে দশটা একঘন্টা রুমে কাটাবে। এরপর যে যার রুমে।
-যাও তোমাদের টাইম শুরু হচ্ছে ..
মা দরজা লক করে দিতেই অরুণাভ বিরক্ত চোখে তাকিয়ে ল্যাপটপ খুলে খেলা দেখতে শুরু করলো।
কেউ কোন কথা বলছে না। যেন তাদের কোন কথাই নেই বলার জন্য। ওদের সময় টা যেন যাচ্ছে না। বর্ণালী বিছানায় কখনও শুয়ে কখনও বই পড়ে সময় কাটায়। ল্যাপটপে খেলার শব্দে ঠিক ঘুমাতে পারছে না। এইভাবে টানা চার দিন...দশ দিন...পনের দিন। এই পনের দিনে প্রেমের ঘাটতি অনেকটা পূরণ হল। নিজেরাও উপলব্ধি করল। আলাদা ঘর ছেড়ে- এক ঘরে, ওরা দুজন থাকতে চাইল বাবা-মার অনুমতি নিয়ে। সবাই খুশি।
-----------------------------------------------------------------

Comments
Post a Comment