তারপর আর কোনোকিছু ঠিক হল না। কেন হল না, এই প্রশ্নখানা আজ তোমাকে করতে ইচ্ছে হল। জানি এর স্বস্তিকর কোনো উত্তরই তুমি দেবে না। ধরো, যদি সত্যি সত্যি তোমার নতুন ঠিকানায় চিঠিখানা পৌঁছে যায়। পোস্টমাস্টার যদি প্রমাণ করে দেয় চিঠিখানা তোমাকে উদ্দেশ্য করেই পাঠানো হয়েছে, তাও কি তুমি অস্বীকার করে দেবে? ফিরিয়ে দেবে চিঠিখানা? নাকি যত্ন করে চিঠিখানা নিজের কাছে নেবে, পড়বে। আর পড়তে পড়তে তোমার মনে হবে আমার কথা, আমাদের সুখ-স্মৃতির কথা। আমাদের ঘিরে সেই চন্দ্রমল্লিকা গাছখানার গল্প তোমার মনে আছে? তুমি বুদ্ধিমতী। ভুলে গেছ বললেও আমি সে কথা বিশ্বাস করব না। আমি জানবো, তুমি মনে রাখতে চাওনি।
সেবারের জন্মদিনের পর যে আর ফিরবে না একথা আগে কেন জানাওনি? ভেবেছিলে আমি কষ্ট পাব? আজ বুঝতে পারি, তোমার না বলা কথার মাঝে কত কথা বলার ছিল। তোমার চোখ আর চাহনির মায়াতে যে একবার ডুবেছে তার আর ফেরা হয় না। জানো, চিঠিখানা লিখব ভাবছি এমন সময় উত্তর আকাশের কোণে একরাশ ঘন কালো মেঘ জমেছে। থমথমে পরিবেশ। হঠাৎ খুব জোড়ে বৃষ্টি আরম্ভ হল। জানালার পাশে বসতেই বৃষ্টির জলের ছিটে যেন তোমার শীতল স্পর্শটুকু মনে করায়। তোমার প্রিয় ঋতু বর্ষা, আর আমার কাছে এই বর্ষা বিষাদের মাস, বিষণ্ণতার মাস। তোমাকে ছাড়া তোমার প্রিয় ঋতু যে অভ্যর্থনা না পেয়ে চলে যাচ্ছে, এ তুমি মেনে নিচ্ছ কেমন করে? আমি খুব করে চাই, আমাদের আবার দেখা হোক। নাহোক এই পরিচয়ে, অন্য কোথাও অন্য কোনো নামে। আবার ভালোবাসবো, যত্ন করব, আগলে রাখব বুকের মাঝে। কেউ টের পাবে না, কতটা ভালোবাসলে দুই আত্মা এক এবং অবিনশ্বর হয়ে যেতে পারে।
এখন আর কবিতায় ছন্দ আসে না, বিকাল ধীরে ধীরে সন্ধের কোলে ঢলে পড়ছে দেখে আনন্দ পাই না, গানে সুর জাগে না। সারা বাড়ি জুড়ে তোমায় খুঁজি, কোত্থাও তুমি নেই। কেবল আছে, এক পাহাড়-সমান কষ্ট, তীব্র মৃত্যু-সমান যন্ত্রণা, আর বীভৎস একাকীত্ব। যেদিন থেকে তুমি নেই সেদিন থেকে আমার সব প্রেমের উপন্যাস মিথ্যে, সব কবিতা মিথ্যে, তোমাকে নিয়ে লেখা সব গান মিথ্যে। সত্যি কেবল দিনের পর দিন ধরে তোমাকে লেখা চিঠিগুলো। যার উত্তরের প্রত্যাশায় আমার প্রেমিকহৃদয় চেয়ে বসে থাকে তোমার হাতে গোছানো শাড়ির আনলার দিকে। ঈশ্বর ঠিক একদিন আমাকে এমন জীবনযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন। আমাকে ঠিক পৌঁছে দেবেন তোমার কাছে। অন্যকোনো নামে, অন্যকোনো পরিচয়ে।
ইতি,
অপেক্ষারত একটি প্রেমিকহৃদয়
আষাঢ় '১৪৩২
শান্তিনিকেতন, বীরভূম

Comments
Post a Comment