Skip to main content

Posts

Showing posts with the label প্রেম বিষয়ক

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী

মায়াজাল  উত্তম চৌধুরী কী যে এক রহস্যের মতো! দিনদিন বাড়ে ক্রমাগত  চোখ তাঁর, মুখ তাঁর, মন। নিভৃতেই ভাবছি যখন  আকাশের রামধনু রং হোলি খেলে হৃদয়ে আমার।  কী যে এক দীর্ঘ মায়াজাল  ছড়িয়ে রয়েছে দিকে দিকে! যত তাকে গোটাতে চেয়েছি  টেনে ধরে নিটোল সকাল। .................................. উত্তম চৌধুরী সারদাপল্লি,আলিপুরদুয়ার  ৭৩৬১২১

উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

উদভ্রান্ত আমি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় একটা জীবন্ত আমি ঘুরে বেড়াই খাতার পৃষ্ঠায় ব্যর্থ প্রেম থেকে তুলে আনি নতুন অহংকার বস্তু কণার মতো ছড়িয়ে দিই দুঃখকে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত গড়ে ওঠে একটা বিরাট পথ যা তুমি পেরুতে পারো না আবার সরাতেও পারো না আর আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে বেড়াই নিজেরই কবিতার পংক্তিতে আমার দুহাতে এখন উপচে পড়ে দয়া গোটা পৃথিবীই মনে হয় ভীষণ আপন কেবল তুমি একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে বলে... ============== জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার

গুচ্ছ কবিতা  অভিজিৎ হালদার   হলুদ প্রহরের দীর্ঘশ্বাস ও অবিনশ্বর দহন শহরের প্রতিটি ইটের পাঁজরে আজ পলাশেরা উদ্ধত রক্তিমতায় জেগে উঠেছে, যেন কোনো এক প্রাচীন যুদ্ধের বিজয় নিশান। আমি সেই চেনা গলির মোড়ে আজও খুঁজি সেই বিশেষ হলুদ প্রহরটি, যা একদা তোমার বাসন্তী শাড়ির ভাঁজে আর চঞ্চল হাসিতে মিশে ছিল। বসন্ত কি তবে কেবল বৃক্ষের নতুন করে সেজে ওঠা? নাকি এটি এক প্রচ্ছন্ন নীল বেদনা, যা হৃদয়ের নির্জনতম কোণে গোপনে জলসিঞ্চন করে ক্ষতকে সতেজ রাখে? প্রিয়তমা, এই যে দক্ষিণা বাতাস আজ অবাধ্য হয়ে বয়ে যাচ্ছে চারিপাশে— তাতে তোমার চুলের সেই পরিচিত ঘ্রাণ নেই, বরং আছে এক অস্থির বিচ্ছেদের হাহাকার। প্রেমিক আজ ভিড়ের মাঝেও একা, কারণ সে জানে এই রঙের উৎসবে তার কোনো অংশীদার নেই। প্রতিটি ঝরা পাতা যেন একেকটি না-বলা চিঠির বয়ান, যা মাটির বুকে আছড়ে পড়ে গুমরে মরে। এই হলুদ দহন থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই, কারণ বসন্ত নিজেই এখানে দাহনকারী। নীল ডায়েরির পাতায় বিমূর্ত বিরহগাথা অভিজিতের কলম আজ থমকে গেছে এক অলীক শূন্যতার কিনারে, যেখানে শব্দেরা আর ছন্দ মেলাতে চায় না। বসন্তের এই প্রথম ভোরে সে আর প্রেমিকার কোমল হাত ছোঁয় না, বরং তা...

প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি

প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম আদিল হোসেন মাহি মানুষ পৃথিবীতে আসে অজ্ঞান, নিরপেক্ষ, নিঃশব্দ। কিন্তু সে শিখে—স্পর্শের ভাষা। মায়ের বুকে মুখ রাখলে যে নিশ্চিন্ত ঘুম আসে, তার মধ্যে ভেসে আসে প্রেমের প্রথম আলো। সেই আলো নীরব, নিঃসঙ্গ, কিন্তু শক্তিশালী; যা একবার জ্বলে গেলে মুছে যায় না। প্রেম তাই কোনো শিখানো বিদ্যা নয়; এটি মানুষের আত্মার ভিতরে জন্মানো এক প্রাথমিক সত্য। প্রেমকে আমরা প্রায়ই সংজ্ঞায় আবদ্ধ করতে চাই। কেউ বলে এটি আকর্ষণ, কেউ বলে এটি আবেগ, কেউ বা বলে এটি রসায়ন। কিন্তু প্রেম এসবের বাইরে। প্রেম হলো সেই অদৃশ্য শক্তি, যা মানুষকে তার সীমা অতিক্রম করতে শেখায়। যে মানুষ ভালোবাসতে জানে, সে নিজের স্বার্থের বাইরে ভাবতে পারে। প্রেম তাকে তার একক সত্তা থেকে বৃহত্তর মানবিক সত্তায় নিয়ে যায়। প্রেমের সবচেয়ে স্পষ্ট রূপ আমরা দেখি রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে। কিন্তু প্রেম তার চেয়েও বহুগুণ গভীর। মায়ের নিঃশর্ত স্নেহ, পিতার নীরব ত্যাগ, বন্ধুর অকৃত্রিম পাশে থাকা, শিক্ষকের নিঃশব্দ পথপ্রদর্শন—এসবই প্রেমের বহুমাত্রিক রূপ। এমনকি একজন অচেনা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা—এটিও প্রেমেরই প্রমাণ। ...

অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী

অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️শিবাশিস মুখার্জী কলকাতার এক পুরনো বাড়িতে বসে জানলার ফাঁক দিয়ে ভিজে হাওয়া টেনে নিয়ে বাবাইদা একদিন আমাকে বলেছিল দেখিস, প্রেম হলো মেঘের মতো। আসবে যাবে কিন্তু বাতাসের মতো কাউকে না কাউকে স্পর্শ করবেই। সেদিন কথাটা শুনে হেসেছিলাম। তখনও বুঝিনি কিছু কথা সময়ের ভিতর নীরবে বেঁচে থাকে একদিন হঠাৎ সত্যি হয়ে ওঠার জন্য। বয়সে তখন বাবাইদা পঞ্চাশ ছুঁয়েছে। চুলে পাক ধরেছে চোখে কাচের চশমা তবু হাসলে মনে হতো এক তরুণ এখনও ভেতরে বেঁচে আছে। সময়ের ধুলো তাকে ছুঁতে পারেনি শুধু একটু ক্লান্ত করেছে। আর আমি তখন সদ্য লেখক প্রেম সম্পর্কে অল্প জানা জীবন সম্পর্কে অর্ধেক অন্ধ। একদিন হঠাৎ মেসেঞ্জারে একটা বার্তা এলো বাবাইদা কেন তুমি আমাকে ভালোবাসলে না তাহলে আমার জীবনটা অন্যরকম হত। লিখেছিল পরিণীতা। চব্বিশ বছরের এক তরুণী সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করে সকাল-সন্ধে ট্রাম-বাসে ছুটে চলে আর অন্তরে নিঃশব্দে কবিতা লেখে। বাবাইদা অনেক আগেই বুঝেছিল মেয়েটার ভেতরে আছে ঝড়। এক গভীর ভালোবাসার ক্ষমতা যা মানুষকে বাঁচায়, আবার শেষও করে দেয়। কিন্তু সেই ঝড়কে বুকে টেনে নেওয়ার সাহস তার নিজের মধ্যে ছিল না। বয়স অভিজ্ঞতা,...

গল্প ।। অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল

অসমাপ্ত শ্রুতি জয় মণ্ডল শিলিগুড়ির ঘিঞ্জি শহর ছাড়িয়ে গাড়িটা যখন কার্শিয়াং-এর কুয়াশার বুক চিরে উপরে উঠছিল, তখন অনিকেতের ল্যাপটপে একটা পুরোনো সুর বাজছিল। অনিকেত পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। পাহাড় তার নেশা, আর একাকীত্ব তার স্বভাব। কিন্তু এবারের এই পাহাড় ভ্রমণটা ছিল একটু অন্যরকম। তার হাতে ছিল একটা মেরুন রঙের খাম, যা সে খুঁজে পেয়েছিল তার ঠাকুরদার পুরোনো ট্রাঙ্কে। চিঠিটা লেখা হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। প্রেরক— মৃন্ময়ী। প্রাপক— অনিকেতের ঠাকুরদা, বিনায়ক। কিন্তু চিঠিটা কোনোদিন খোলা হয়নি। • কুয়াশার শহরে প্রথম দেখা:  কার্শিয়াং-এর এক জীর্ণ কিন্তু আভিজাত্যে ভরা হোমস্টে-তে অনিকেত উঠল। সেখানে তার পরিচয় হলো ইপ্সিতার সাথে। ইপ্সিতা সেখানকার স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা। চশমার আড়ালে তার চোখ দুটো যেন সবসময় পাহাড়ের মেঘের মতো কিছু একটা লুকোতে চায়। অনিকেত যখন ডাইনিং হলে বসে সেই মেরুন খামটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল, ইপ্সিতা পাশে এসে বসল।  "আপনিও কি পুরোনো চিঠির গন্ধ খুঁজছেন?" ইপ্সিতার গলায় এক অদ্ভুত মাদকতা ছিল। অনিকেত হাসল। "না, আমি এক অপূর্ণ প্রেমের শেষটা খুঁজতে এসেছি। আমার ঠাকুরদা আর মৃন্ময়ী— এঁদের গল্পটা হয়তো ...

রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র

ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড অভীক চন্দ্র প্রেম আসলে একটা স্টার্টআপ। পার্থক্য শুধু এই যে, এখানে আইডিয়া পিচ করতে হয় না; চোখের দৃষ্টি পিচ করলেই কাজ শুরু। বিনিয়োগকারীরা অদৃশ্য, কিন্তু ঝুঁকি একেবারে দৃশ্যমান। লাভ-লোকসানের হিসেব মেলাতে গেলে ক্যালকুলেটরের বদলে দরকার হয় টিস্যু। প্রথমে আসে 'আইডিয়া স্টেজ'। বাসে, লাইব্রেরিতে, অফিসের কফি মেশিনের সামনে হঠাৎ করে মনে হয়, "এই মানুষটিকে ছাড়া পৃথিবীটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা!" এই ভাবনাটাই হলো মিনিমাম ভায়াবল্‌ প্রোডাক্ট। এরপর শুরু হয় মার্কেট রিসার্চ। সে কী খায়, কী দেখে, কার পোস্টে লাইক দেয়। প্রাচীন যুগে মানুষ নক্ষত্র দেখে ভাগ্য বিচার করত; আধুনিক প্রেমিক তার টাইমলাইন দেখে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তারপর আসে ফান্ডিং রাউন্ড। এখানে বিনিয়োগ হল সময়, ঘুম আর আত্মসম্মান। "না না, আমি এমনিই অনলাইনে ছিলাম," এই বাক্যটি হলো প্রেমের প্রথম ভুয়ো ব্যালেন্স শিট। ঘুম কমে যায়, চার্জারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। মোবাইলের ব্যাটারি যেমন দশ পার্সেন্টে নামলেই লাল সতর্কতা দেখায়, তেমনই প্রিয়জনের 'সিন' হয়ে উত্তর না এলে হৃদয়ে লাল বাতি জ্বলে ওঠে। প্রেমের সিইও আসলে কেউ ন...

প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার

  প্রেমিক-জন্ম নবনীতা সরকার  নিদারুণ এক ভুলে ছিঁড়ে গেছে যাবতীয় বিশ্বাসের ডোর অনাকাঙ্ক্ষিত যাপনের যে ডানা সুই সূতোয় আটকে দিয়েছিল সমাজ তাতে লেগেছে চাপ চাপ রক্তের দাগ তুমি বলেছিলে মানুষ মাত্রই ভুল করে আদতে মানতে পারলে কই ! তোমার তীর্যক চাহনিতে লেগে থাকে তীক্ষ্ণ ছুড়ির ধার আহত হংসীর মতো পড়ে থাকি সারাবেলা নাভিমূলে একটু একটু করে বেড়ে ওঠে বোধিবৃক্ষ , ভেতরের ঈশ্বর জানে তা সময়ের অবিরাম অনভিপ্রেত ধারাপাত স্থানুবৎ করেছে সাংসারিক মনন যে চোখ ভুল দেখা সয়ে গ্যছে অথবা যে মন আয়ত্ত করেছে ভুল করার একশো একটি কৌশল, তার কাছে খোলা আকাশ আর জীবন সমার্থক এটুকুর উপলব্ধি জন্য একবার অন্তত প্রেমিক-জন্ম নিও প্রিয়... ***********   নবনীতা সরকার পবিত্র পাড়া জলপাইগুড়ি

সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত

সুব্রতাসম্ভব সহজ গান অর্ণব সামন্ত দ্রাঘিমাও থমকে, স্থির পরিপ্রেক্ষিতে আকাশের বুক  সুখ-দুঃখ সামলে রাখে আষ্টেপৃষ্ঠে জন্ম জন্মান্তরের ঋণ  ঢেউয়ে ঢেউয়ে দোলে স্রোতস্বিনী পিছুতে ভালবাসা নাছোড়  আজীবন মরণ মুহুর্মুহু তবু জীবনের চেয়েও বেশি জীবন  যাপনে আনো মধুরিমা, সৌন্দর্য, মন্ত্রমুগ্ধতা, সম্মোহন  একই সঙ্গে সৃজন প্রলয় আবার জীবনের অসীম বিস্তার  নয়নতারায় প্রথম আলো, জিভেপ্রথম শব্দ  অনন্ত অভিসার, যৌন সুখ, ব্ল্যাকহোল থেকে প্রথম প্রসব যন্ত্রণা  অক্ষরে অক্ষরে স্বরবর্ণ স্থাপনা, রঙিন ব্যঞ্জনবর্ণের অভিব্যক্তি  বিবর্তন ডেকে আনো চলনে, বলনে, ব্যবহারে  বিষুবরেখায় রাখো সুব্রতাসম্ভব সহজ গান কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তিতে প্রেমের অধিক বিরহ যাপন  সুমেরু কুমেরু মিশে যায় একবিন্দুতে সিন্ধুসম্ভব উচ্ছল রাগরাগিনীতে  অনন্ত দ্রাঘিমা জুড়ে শুধু বেঁচে থাকে এক জীবনের জন্যে অন্য জীবনের কামনাবাসনা  এককের ঝংকারে মাধ্যাকর্ষণ অগ্রাহ্য করে ছুটে যায় এক অবাধ অবাধ্য সহজ কবিতা, সহজ গান  সুব্রতাসম্ভব যাপনে রাখে জীবনের চেয়েও বেশি জীবন !       ...

যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত

  যৌবনের বিগত ঋণ শম্পা সামন্ত মন ভালোর কিছু কথা তুমি বিছিয়ে রেখেছো রোদেলা শিউলির উচাটন আনন্দে উদবেগের আলোগুলি স্মৃতির সোপান বেয়ে উঠুক বহ্নিশিখা আমাদের সেই পুঞ্জিভূত ক্ষোভের পাহাড় খুঁড়ে রাস্তা নির্মাণ উপেক্ষায় পড়ে থাকা বাঁশিগুলি ধুলো ঝেড়ে তুলে রাখি আবার শলমা জড়ির চকমকি রাত, বৃষ্টি শেষে সোঁদাগন্ধের বিকেলে শরীর জড়ানো সুখের উপনিবেশ ঘোমটা উঠিয়ে তৃষ্ণায় মরিচিকার দু-চোখের পরিপূর্ণ ভ্রম বুকের ভরসা ঠেলে বেরিয়ে আসতে চায় অনুরাগের গরম লাভা একদিন এপথে পুষ্পবৃষ্টি হোক আবার বসন্ত মেখে নিক রঙিন পলাশে শিমুলে এখন মাঘের পিছুটান কচিপাতায় পেতে রাখে কিসিমের কাজল  যে পথে লিখে রাখে যাবতীয় ঋণ সে পথে বসন্তের উদ্ভ্রান্ত যৌবনের শুভমুক্তি হোক।   =============

দেখা ।। রাজশ্রী দে

দেখা  রাজশ্রী দে    অনুপমা দেবী  যাচ্ছেন কাশ্মীর ডলফিন ট্রাভেলসের সঙ্গে। দাদার ছেলে সৌভিক এসেছে ট্রেনে ওঠাতে। অনেকদিনের শখ কাশ্মীর ভ্রমণের। স্বামী অয়নের সঙ্গে  বহু দেশ দেখা হয়েছে  কিন্তু কাশ্মীর বাদ পরে গেছে। জঙ্গী হামলার ভয়ে অয়ন কাশ্মীর কিছুতেই যেতে চাইত না।  দু বছর হল অয়ন আর নেই।   অনুপমা থাকেন নিউ আলিপুরে, পাশের ব্লকে থাকেন দাদা, বৌদিরা।  ওনার ইচ্ছের  কথা জানতে  পেরে  সৌভিক যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। রাজধানী ছুটে চলেছে দিল্লীর দিকে,  সামনের পরিবারের সঙ্গে আলাপ হল। ট্রাভেল  এজেন্সির লোকেরাও  বার বার তদারকি করছে। ডিনার করে শুয়ে পড়ল অনুপমা।  দিল্লি থেকে  সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেসে উঠে পরলো সকলে, পাটা একটু  টন টন করছিল অনুপমার।   আর্নিকা টিউব থেকে বের করে পা দুটোতে মালিশ করলেন একটু। এবার যাওয়া হবে জম্বু, তারপর  শ্রীনগর। সামনের সিটে এখনও কেউ আসে নি।  কিছুক্ষন পরে  ডলফিনের একজন লোক নিয়ে এলেন  এক ভদ্রলোককে। এককালে বেশ হ্যান্ডসম ছিলেন বোঝাই যাচ্ছে।  বেশ চেনা চেনা...

খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি

খেলাঘর  অদিতি চ্যাটার্জি শনিবার দিনটা সোহিনী ঠিক করেছিলেন গড়িয়াহাট যাবেন চৈত্র  সংক্রান্তির সেল শুরু হয়েছে দিন দুই হলো, অন লাইনে কেনা কাটা করলেও ঐ বাড়ির পর্দা, কুশন কভার , বিছানার চাদর, দুটো কুর্তি গড়িয়াহাট থেকেই কিনবেন । দুটো দোকানে যাবেন, দশটা জিনিস হাতে নিয়ে দেখবেন, রঙবেরঙের মানুষ দেখবেন,তাঁদের গল্প কথা টুকরো টাকরা কানে নিয়ে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরবেন । একা মানুষের একটা জমাটি শনিবার দিন কাটানো হবে। এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে অটো থেকে নামলেন বাসন্তী দেবী কলেজের সামনে।  ভাড়াটা মিটিয়ে ফুটে উঠতেই প্রায় ধাক্কাই দিলেন একজন ভদ্রলোক কে সোহিনী । ব্যাগটা সামলাতে সামলাতে বললেন   "আই অ্যাম সরি" কিন্তু একি! চশমা চোখে জিনস আর হলুদ রঙের টি-শার্টে ভদ্রলোকটাকে তো চেনা চেনা লাগছে ভীষণ। আবারও কি সোহিনী ডুবছে ঐ খয়েরি চোখের মণিতে। কোনো খড়কুটো পাচ্ছে না তো আঁকড়ে ধরার মতো। ভদ্রলোকটিও থতমত খেয়ে গেছে, কত বছর পর! প্রায় কুড়িটা বছর পেরিয়ে সোহিনী কে দেখছে । সোহিনী তো! সেদিনের সেই ছটফটে মেয়েটা আজ বেশ শান্ত, অবাক করা চোখ দুটোর কি পরিবর্তন হয়েছে! মনে তো হয় না কোনো! সেই নিমগাছ তলায় বিকেল শেষে স্কার্...

ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী

ক্ষণস্থায়ী  শ্যামল হুদাতী  কলকাতার সল্টলেকের সেই কাচঘেরা ভবনের ভেতর ঢুকলেই মনে হয় যেন জীবনের এক ধরণের রুটিন সিনেমা চলতে থাকে। লিফটের ধাক্কা, লবি থেকে ভেসে আসা কফির গন্ধ, ডিসপ্লে বোর্ডে টিমের নাম - সবকিছু একসাথে গুছিয়ে দেয় দিনের কাজ। শৌর্য প্রতি সকালে কষ্ট করে উঠে ট্রেনে করে আসে - সকালে শহরের কোলাহল, তারপর অফিসে ঢুকে সমস্ত মনোযোগ কাজে। তার চোখে এক ধরণের নির্জনতা আছে - পরিবার আছে, দায়িত্ব আছে, কিন্তু দেখা যায় কিচ্ছু কমে আছে হৃদয়ে। অপরদিকে আকৃতি - চটপট কাজ শেষ করে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে আসে, লোকাল ট্রেনে যাতায়াত - এ এক দৈনন্দিন ঘটনা। অফিসে সে ম্যানেজার হিসেবে কটাক্ষ করে, হাসি ঠাণ্ডা-তাপে রাখে; কাজের মাঝে ওর মিষ্টি আড্ডা টিমকে হালকা করে দেয়। তন্ময় যখন ব্যাঙ্গালোরে নতুন প্রজেক্টে ব্যস্ত—তখন আকৃতির জীবনটা ধরা পড়ে একধরনের স্থির গহ্বরের মতো। ভিডিওকল আছে, কথাও আছে—কিন্তু সেই কথাগুলো মাঝে মাঝে রুটিনের আওয়াজের মধ্যে হারিয়ে যায়। চা-স্টলে দাঁড়িয়ে শৌর্য ও আকৃতি প্রায়ই দেখা হয়। সেই প্রথম দিনের সাধারণ কথাবার্তায় যে স্নিগ্ধতা ছিল, তা ধীরে ধীরে বিশেষ রং ধারণ করে। প্রথমটা ছিল অল্...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

সামলে নেবে ।। আনন্দ বক্সী

সামলে নেবে  আনন্দ বক্সী অচিনপুরে যাবে খোকা  টাট্টুঘোড়ার পিঠে চড়ে, খুরের শব্দে মাতিয়ে দিক  লাগামখানি কষে ধরে। ভয় পাবে না মোটেও খোকা  থাকবে বসে বীরের মত, সামলে নেবে নিজেই খোকা  আসবে পথে বিপদ যত। কোনও বাধাই পারবে না যে  আজকে তাকে আটকে দিতে, পুরোপুরি প্রস্তুত যেন  তার দক্ষতার স্বাদটা নিতে। দৈত্য দানো রাক্ষস খোক্কস  যেই আসুক না পথের বাঁকে, হাতের চাবুক দিয়ে খোকা  বোঝাবে ঠিক সবক তাকে। ঘুরবে খোকা ইচ্ছেমত  অচিনপুরে পৌঁছে গিয়ে, লাগবে ভালো যে জিনিসটা  মায়ের জন্য আসবে নিয়ে।

কবিতাগুচ্ছ ।। গোবিন্দ সাহা

কবিতাগুচ্ছ ।। গোবিন্দ সাহা  উচাটন মন বালিকা তটিনীর যৈবতী স্রোত বর্ষার ঝিরঝিরে প্রেক্ষাপট। পাহাড়ের প্রগাঢ় সবুজ আঁচলে ডুকরে কাঁদে অবলা প্রেম।  ভেজা হাওয়ায় ভাসে প্রান্তর  শুষ্ক মরু তখনো ছন্নছাড়া মন।  কাজল-মেঘ জমেছে কিনারে ভিজিয়ে দেবে বড়ালের পাতা।  ধোঁয়াটে বৃষ্টির আরশিতে একা তুমি আর কতদিন দেখবে মুখশ্রী?  শাওনের উদ্বাস্তু পুঞ্জীভূত নীরদ ঢেকেছে অশ্রু সিক্ত বিরহী নয়ন। চেয়েছি তোমায়  ক্ষরণ শুধু হৃদয়ে নয় পাথরে টুপটাপ দুঃখ গুলো জলপ্রপাত। জংলী গাছের ডগডগে ফুল ভির্মি নেশা মস্তিষ্কের কোটরে। নিরাকার মেঘেদের ভিতর আবছা হয়েছে ধোঁয়াটে সবুজ। তীক্ষ্ণ বুনো বিহঙ্গের শিস্ শুনে মনে পড়ে বিগত জ...

আশা ও নতুন ভোর ।। জয়শ্রী দাস

আশা ও নতুন ভোর জয়শ্রী দাস ১. নতুন সূর্য রাত যতই দীর্ঘ হোক, ভোর তার পথ ভুলে না। অন্ধকারের বুক চিরে সূর্যের প্রথম আলো এসে বলে—সব শেষ হয়ে যায়নি। প্রতিটি সকাল যেন জীবনের নতুন একটি সুযোগ, যেখানে গতকালের ব্যর্থতা শুধু একটি স্মৃতি, আর আগামী দিনের সম্ভাবনা একটি উন্মুক্ত দরজা। ২. বৃষ্টির পর বৃষ্টি থেমে গেলে ভেজা পাতায় জমে থাকা জলের ফোঁটাগুলো আলোর সঙ্গে কথা বলে। তারা জানে, ঝড় স্থায়ী নয়। মানুষের জীবনও তেমনই—দুঃখ আসে, কষ্ট আসে, কিন্তু একদিন হাসিও ফিরে আসে। অপেক্ষা করতে জানতে হয়, বিশ্বাস রাখতে জানতে হয়। ৩. পথচলা সব পথ ফুলে ঢাকা থাকে না। কোথাও কাঁটা, কোথাও ধুলো, কোথাও ক্লান্তির দীর্ঘ ছায়া। তবু যারা থামে না, তারাই একদিন গন্তব্যে পৌঁছায়। কারণ পথের সৌন্দর্য শেষ প্রান্তে নয়, প্রতিটি সাহসী পদক্ষেপে লুকিয়ে থাকে। ৪. স্বপ্নের আলো স্বপ্ন কখনও চোখ বন্ধ করে দেখা যায় না; স্বপ্ন দেখতে হয় জেগে থেকে। প্রতিদিনের ছোট ছোট চেষ্টা, নীরব পরিশ্রম আর অটল বিশ্বাস একদিন সেই স্বপ্নকে বাস্তবের আলোয় দাঁড় করায়। তখন মানুষ বুঝতে পারে, অসম্ভব বলে কিছু ছিল না। ৫. জীবনের গান জীবন কোনো নিখুঁত ...

ছড়া।। নতুন দিশায় আগা ।। আনন্দ বক্সী

  নতুন দিশায় আগা  আনন্দ বক্সী  স্বাধীনতার জন্য যাঁরা করলো জীবন দান  ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল জীবনের জয়গান। রক্ত দিয়ে রুখলো যাঁরা এ দেশের সম্মান  আমাদের সে দেশের প্রতি আছে কি দরদ-টান? স্বাধীনতা দিবস এলেই স্মৃতির দুয়ার খুলি  ব্যান্ড বাজিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে জাতীয় নিশান তুলি। স্বর চড়িয়ে মাইক্রফোনে শোনাই হাজার বুলি  দিনটা গেলে আমরা কেন আবার সে সব ভুলি? আজ কেউ চাইছে পিঠ বাঁচিয়ে গদি টিকিয়ে চলতে  কেউ বা ভয়ে গুটিয়ে থাকে ন্যায্য কথা বলতে। আজ  অসুর ঘোরে কলার তুলে সুররা থাকে গুটিয়ে  অসাধু আর অসৎ লোকে নিচ্ছে মজা চুটিয়ে। আজ ন্যায়ের কথা বলছে যাঁরা বলছি তাঁদের পালা  লুটছে যারা তাদের গলায় দিচ্ছি ফুলের মালা। আজ  মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছোঁয়া ছিটকে গ্যাছে লাগাম  সময়মতো কাজ চাইলে হচ্ছে দিতে আগাম।  আজ  বেকারত্বে ছেয়েছে দেশ কোথায় কাজ জুটছে? খেই হারিয়ে যুবসমাজ মন্দ পথে ছুটছে। আজ জাতপাত ও ধর্ম নিয়ে খেলছে বুড়োভামরা  স্বাধীনতার বয়স বাড়ে হই না বড় আমরা। আজ কেউ খাচ্ছে কোপ্তা-কাবাব কেউ পায়না অন্ন  অর্জিত এই স্বাধীনতা ...

ফেনাভাত ।। অনিন্দ্য পাল

ফেনাভাত অনিন্দ্য পাল ১. অফিসের কাঁচের দরজাটা ঠেলে বাইরে পা রাখতেই পুষ্পলের মনে হলো, সে বুঝি আস্ত একটা জ্বলন্ত চুল্লির মধ্যে ঢুকে পড়েছে। কলকাতার বৈশাখী দুপুর তার সমস্ত রুদ্ররূপ নিয়ে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল শরীরের ওপর। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরের কৃত্রিম ঠাণ্ডায় বসে বোঝার উপায় ছিল না যে, বাইরের পৃথিবীটা এভাবে গনগনে আগুনে রূপ নিয়েছে। পিচগলা রাস্তা থেকে একটা ভ্যাপসা গরম হাওয়া এসে চোখে-মুখে ধাক্কা মারল। পুষ্পল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঁধের ব্যাগটা একটু গুছিয়ে নিয়ে শিয়ালদা স্টেশনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। ঠিক তখনই বুক ঠেলে একটা টক ঢেকুর উঠে গলাটা যেন অ্যাসিডে পুড়িয়ে দিয়ে গেল। অম্বলের তীব্র জ্বালায় মুখটা তেতো হয়ে উঠল তার। মনে মনে নিজেকেই একটা গাল দিল পুষ্পল—দুপুরের টিফিনে ওই রাস্তার ধারের নোংরা কড়াইয়ে ভাজা শিঙাড়া আর কড়া লিকারের দুধ-চা-টা না খেলেই হতো। কিন্তু উপায়ও তো ছিল না। রুমিটা গত দুদিন ধরে জ্বরে শয্যাশায়ী। গা যেন পুড়ে যাচ্ছে ওর। রোজ সকালে রুমিই পরম যত্নে পুষ্পলের টিফিন গুছিয়ে দেয়। আজ আর তা হয়ে ওঠেনি। সকালে বেরোনোর সময় তড়িঘড়ি নিজেই চারটে পাঁউরুটি সেঁকে নিয়েছিল। শুকনো মুখে সেই রুটি চিবিয়েই সকাল কেটেছে। আর ...

দুটি কবিতা ।। ছন্দা দাম

দুটি কবিতা ।। ছন্দা দাম  জনমের লেনদেন কবিতার কলোনী ধরে বহুদূর বিদর্ভ নগরে আঁধার নামে কত পথ ঘুরে, ফেরে পথিক দু দণ্ড শান্তির খোঁজে, সন্ধ্যার শুকতারা পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে চেনা মাটির গন্ধে, চেনা আঁধার চুঁইয়ে নামে ব্যথার বারিশ.... টালির চালের বুকের খাচা থেকে রাত ভর ঝরে যায়, কত কথার মাঝখানে শূন্যতার গল্প চুপ থেকে যায় সারা জনমের মতো, মুখামুখি বসে থাকা শুধু....কথাদের উষ্ণ শরীরের পালক ঝরে পরে, কার্নিশের মানি প্ল্যান্টটার তাকিয়ে থাকা অনিমেষ নয়নে...         কোন কথা নেই বয়ানে,     সামনে খুলে রাখা বনলতা সেন, পাখির নীড় উড়ে গেছে সে কবেই,এখন শুধু শূন্যতার একমুঠো খড়কুটো, রঙিন জানালার ওপার থেকে বড্ড চকচকে সব... সব ঝুটো,সব অর্থহীন কবিতার মতো দুমড়েমুচড়ে পড়ে থাকে ঘরের কোণে গার্বেজে, তবু কিছু কথা থেকে যায় বলবার... মুখোমুখি বসবার,থেকে যায় একটা জনমের লেনদেন।।   ভুলভাল আমি তুই আমি ভ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

৩টি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

কলেজ প্রেম সমীর মন্ডল বাবা মায়ের একটি মেয়ে  দেখা হলো কলেজে গিয়ে  প্রথম দিনেই প্রথম আলাপ টুকিটাকি তুচ্ছ কথায় এক সাথে কলেজ বদলে বাংলা ক্লাসে আবার দেখা তারপর কথা হয় না তেমন নবীন বরনে তোর কবিতা বুঝেছি মেয়ে রূপেতে না হোক গুনেতে সে লক্ষ্মী হবেই সত্যজিৎ বাবুর পদাবলী ক্লাসে সাক্ষাৎ হলো সেই, মেঘবালিকার সাথে রাধার মতো আবিষ্ট চোখে সেই প্রথম কৃষ্ণ হলাম মাঠে বসলে এক সারিতে একটু দূরে তুই বসেছিস লাইব্রেরিতে রিডিং রুমে বইয়ের র‍্যাকে,চোখে চোখ রেখেছিস সাইকেল স্ট্যান্ডে তোর টোকেন নিয়ে অপূর্ব এক খুশির মক্কায়, দিন কেটেছে পরীক্ষার হলেও পিছন ফিরে বারবার মুগ্ধ তোর হাসিতে সেই তোর দেখা পাইনি  সোস্যাল এলে এডুকেশন ট্যুরে মলিন আকাশে দুঃখ লুকিয়ে মনটা তখনও ভাঙেনি আমার গুজব ছড়ালো বন্ধু বাতাসে তোর নামেতে অনেকেই সুখী! সে...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...