Skip to main content

গল্প ।। উষ্ণতার সান্নিধ্যহীনতা ।। সৌমেন দেবনাথ

উষ্ণতার সান্নিধ্যহীনতা 

সৌমেন দেবনাথ 


দিন এসেছে দিন গিয়েছে। সব দিন যে সুখের জন্য এসেছে বা সুখ বয়ে নিয়ে এসেছে তা নয়, আবার সব দিন দুঃখও বয়ে আনেনি। স্বাচ্ছন্দ্য যে ছিলো বলবো না, আবার অস্বাচ্ছন্দ্যও ছিলো না। দুঃখ, কষ্ট, দারিদ্র্য, রোগ-ব্যাধি, সমস্যা যত ছিলো তারচেয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতাও কম ছিলো না। মৃত্যুকে কখনো কামনা করিনি, বেঁচে থাকার আকুতি বেশী ছিলো বলে। আমার স্বামীর সাথে তার ভাইদের মতভেদ হয়েছে, আমার স্বামী তার মাকে বিশেষ কারণে বড় কথা বলেছে, প্রতিবেশীদের সাথে আমার স্বামী বাক-বিতণ্ডা করেছে, কিন্তু আমাকে কোনদিনও আঘাত দিয়ে কথা বলেনি, আঘাত করেনি। আমার স্বামী বলতো, তোমাকে দুঃখ কী বুঝতে দেয়নি, কষ্টের থাবার থেকে দূরে রেখেছি, দারিদ্র্যের চোখ রাঙানী তোমাকে পেতে দেয়নি, রোগ-ব্যাধি তোমাকে শাশানী দেয়নি, সমস্যাও তোমার জীবনে এসে দাপাদাপি করতে পারেনি। শত বিপদ থেকে তোমাকে রক্ষা করেছি, নিজের শরীরকে প্রাচীর করে। বিনিময়ে তোমাকে কিছু দিতে হবে আমায়! আমি ভ্রূ কুঁচকে ভাবতাম, কি চায় ও আমার কাছে! ও এত উজাড় করে দিয়ে নিঃস্বকে ঐশ্বর্যে ভরিয়ে দিচ্ছে, নিঃস্বর কাছে সে কি চায়, নিঃস্বর কাছে এমন কি দেখলো যে, এত কিছুর বিনিময়ে সেটি সে পেতে চায়! অনেক পরে বুঝতে পারি। আসলে ওর হৃদয়কে বোঝার সে হৃদয় আমার ছিলো না। ওর হৃদয়ে আবেগের প্রাবল্য ছিলো, আমি ছিলাম ঠিক ঊষর জমির মত নীরস। ওর কারিশমাময় ব্যক্তিত্ব আমার বন্ধ হৃদয়ে বারবার টোকা মেরেছিলো, আমি বুঝতে পারিনি। যখন বুঝতে পারলাম, তখন আর দেরী করিনি, ও যে জিনিসটি বিনিময়ে পেতে চেয়েছিলো, আমি সেটি ওকে বিনা বিনিময়ে দিয়ে দিয়েছি। ভাবি, নিঃস্বর ভেতরও এমন কিছু থাকে, যা অন্যের চোখে অনেক মূল্যবান। সেটি বিনিময় করলে নিঃস্ব আর নিঃস্ব থাকে না। নিঃস্ব হয়ে যায় মহাশ্চৈর্যের অধিকারী। আজ আমার হৃদয়ের সকল ভালোবাসা ওর জন্য, আমার একান্ত মনের ন্যূনতম সুখটুকুও ওর জন্য। আগামীর পথ চলাটাও ওর জন্য। বেঁচে থাকাও ওর বেঁচে থাকার উপর। ও আমার জীবনের আর এক অংশ, আমার জীবনের আর এক নাম, আমার সুখের আর এক নাম। আমার সুখ।
আমার ভাগ্যাহত কপালের এলোকেশগুলো সরিয়ে দিয়ে ও যখন আমায় উষ্ণ পরশ দিতো আমি ব্যাপক বিরক্তিবোধ করতাম। আমার স্বামীর এহেন কাণ্ডকে আমি উত্যক্ত জ্ঞান করতাম এবং নির্লজ্জ, বেহায়া বলে সম্বোধন করে বড় বড় কথা শুনিয়ে দিতাম। অথচ আমার স্বামী এক তিল কণাও রাগ প্রকাশ করতো না, আমার পাশ থেকে সরতো না, আমাকে একা থাকতে দিতো না, আমি ওর থেকে পালিয়ে থাকার চেষ্টা  করতাম। তখন ভাবতাম, ওর থেকে পালালেই বুঝি বাঁচা। এখন বুঝি, স্বামীর স্পর্শের মর্ম। আজ বুঝি, স্বামীর স্পর্শ স্ত্রীর জন্য কী! আজ বুঝি, স্বামীর আদর স্ত্রীর জন্য কত বড় প্রাপ্তি! আজ বুঝি, স্বামীর সান্নিধ্য কত বেশী সুখের! স্বামীর সান্নিধ্যে না থাকলে কোনো নারী কি বসন্তের মানে বোঝে! আসলে যে নারী বোঝে না ভালোবাসা, সে নারী বেঁচে থাকার স্বার্থকতা কিসে তা জানে না। যে নারীর জীবনে ভালোবাসার মানুষটি আজো আসেনি, সে নারী বোঝে না জীবনের সবচেয়ে রঙিন অংশ কি!
আজ বুঝতে পারি, আমার ছোট ছোট ভুলগুলো আমার সুখ নামক পাখিটিকে কত দূর বিতাড়িত করে দিচ্ছিলো। আজো যদি সেই ভুলকে আঁকড়ে থাকতাম, তবে হয়ত মাটির সাথে মিশে যেতাম। বুঝতে পারছি একটি ভুলের অনেক ক্ষমতা। সে নষ্ট করতে পারে একটি দিনকে, একটি মাসকে, এমনকি একটি জীবনকে। ভুল একটি হাজার বাকল বিশিষ্ট বৃক্ষ। সেই বাকলগুলো আরো পাঁচজনের মনের বিরুদ্ধে যেয়ে জীবনকে, জগৎকে বিষময় করে তোলে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই, একটি ভুলকে মহাভুলে রূপান্তর করার পূর্বেই আমি আমার লাগামকে ভালো ভাবেই টানতে পেরেছি। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছি, আর ভুল নয়। এবার ভুল হয়ে গেলে আর সহ্য করতে পারবো না। সব ভুল সব সময় সমান আঘাত দেয় না। পূর্বের ভুলে মজা পেতাম, এখন ভুল হলে জীবনটাই বৃথা হয়ে যাবে।
আমাদের জীবনের প্রথম রাতে আমার স্বামী যখন রুমে প্রবেশ করে তখন তার মোবাইলে একের পর এক কল আসতেই থাকে। কে কি বলছিলো আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম। এবং বুঝতেও পাচ্ছিলাম। এক বন্ধু ওকে বললো, ঘরের লাইট যেন বন্ধ করিস না। জীবনের প্রকৃত মজাটা কিন্তু অন্ধকারে মাটি হবে।
আমার স্বামী তার বন্ধুটিকে ফাজিল বলে কলটা কেটে দিয়ে নিজের মনেই হাসতে থাকে। পরক্ষণে আবার কল আসে। সেই বন্ধুটি বললো, বেশী ভদ্র সাজতে গিয়ে নিজের আয়েশ না মিটিয়ে মনে মনে ইশপিশ করার দরকার নেই। যখন যে কাজটি করতে হয় তখনই সেটা করাই শ্রেয়। সময় গেলে কিন্তু ফোঁসফোঁস পাবি। বিষাক্ত সর্পকে বোঝার চেয়ে তাকে ধরেই নির্বিষ করতে হয়।
আমার স্বামী তাকে পাজী আর জ্ঞানী বলে কলটা কেটে দেয়। ভ্রূ কুঁচকে একটা মিনিট বসে থাকতেই আবার কল আসে। সেই বন্ধু বললো, এ রজনী জীবনে এক বারই আসে। কভু বৃথা যেতে দিবি না। যে কাজ হয় না বাসর রাত, সে কাজ হয় না আশ্বিন কার্তিক মাস।
আমার স্বামী যেন এক প্রকার বিপদে পড়ে গেলো। ও কলটা কেটে দিয়েছিলো রাগে। আমার শরীরে ঘাম দিতে শুরু করে আর গলা শুকাতে থাকে। এ রাত স্বামীর জন্য যত সুখের, যত সুখকর, স্ত্রীর জন্য তত নয়। স্ত্রীর জন্য ভয়ের যত, লজ্জারও তত। এ রাতের জন্য নরের মত নারীও অপেক্ষা করে, কিন্তু নরের তার পিছনে থাকে লোভ আর নারীর থাকে বিপদের, আশংকার। এ রাতে নারী তার সবচেয়ে আপন পুরুষের কাছে থেকে অমৃত ব্যবহার চায়, বোঝা পড়ার প্রারম্ভেই জীবন চলার চিত্রটা আঁকতে চায়, শিকারে থাকতে চায়, কিন্তু শিকার হতে চায় না। নিজেকে উজাড় করে দিতে চায়, কিন্তু নিজেকে দিতে চায় না। বেশ পরে আমার স্বামীর সেটে আবারও কল আসে। সে বন্ধু বললেন, ব্যস্ত একটা দিন পার করলি, জানি এখনো ব্যস্ত আছিস। ব্যস্ত থাকিস থাক, ব্যস্ত রাখিস ঠোঁট, ব্যস্ত রাখিস হাত।
আমার স্বামীর রাগ হয়ে গেলো। ও সেট বন্ধ করে দিলো। ও আমার সামনে এসে বসলো, আমাকে এক মিনিট অপলকে দেখলো, কিন্তু কোনো শব্দ উচ্চারণ করলো না। হয়ত আমার রূপে ও মুগ্ধ হয়েছিল, নতুবা ক্রুদ্ধ। বেশক্ষণ পরে আমার নাম সম্বোধন করে বললো, রাজন্যা, আর দশটা পুরুষের মত আমি ধ্যান-ধারণা পোষণ করি না। আমি ভদ্রতার মাপকাটিতে পিছিয়ে ছিলাম না, তোমার চোখেও অভদ্র হতে চাই না। আমি কখনো কারো মতামত ভিন্ন কোনো কাজ একার সিদ্ধান্তে করিনি। এ কারণে আমি ঠকি কম। তোমার মতামত ভিন্ন তাই কোনো কাজও করবো না। জীবনে সুখী হতে হলে অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হয়, যাকে নিয়ে পরবর্তী জীবনটা চলবো তাকে আমি আর যায় করতে পারি, নির্যাতন করতে পারি না। জীবন সাগরের আমরা দুই নব যাত্রী, আমাদের পথ এক মোহনায় মিলেছে। আজ সর্বোচ্চ আমি তোমার হাত ধরতে পারি, যার অর্থ আজ থেকে তুমি আমার চলার পথের সাথী, তাই-ই নয় আমিও তোমার চলার পথের সাথী। আমার জীবন নৌকায় তুলে নিলাম তোমায়, কভু এমন কাজ করো না, যাতে আমি অন্যের কাছে ছোট হই, পরস্পর পরস্পরের উপর নির্ভরশীল হলে, সুখ আমাদের থেকে ছেড়ে যাবে না। কী হাতটি ধরতে দেবে? আমি জোর করে তোমার হাত ধরবো না।
আমি আমার হাতটি সভয়ে ওর হাতের উপর রাখি। ওর হাতে হাত রাখতেই আমার যে কি ভালো লেগেছিলো বলে বোঝাতে পারবো না। আজো সে আমার হাতের থেকে হাত সরাইনি। একটি দিনও আমাকে কষ্ট দেইনি। আমার পাশ থেকে সরে যায়নি। আজ আমার পুরুষটি আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নিজের স্বামী বলে বলছি না, আমার স্বামীর মনে কোনো পাপ নেই। নির্ভেজাল একজন মানুষ ও। ওর কথা, আমার পাঁচটি ভালো বান্ধবী থাকতে পারে, তেমনি তোমার পাঁচটি ভালো বন্ধু থাকতে পারে। সবার সাথে মিশবে, সবাইকে সময় দেবে, কিন্তু শালীনতার পরিচয় দেবে৷ হাত তোমার, পা তোমার-কোনটিকেই আমি বাঁধতে পারি না। কিন্তু ঐ মস্তিষ্কে আছে তোমার নীতি। বিবেকবর্জিত কাজ করলে ঐ মস্তিষ্কে আমি নাড়া দিতে পারি, তাতে তোমার হাত যা ইচ্ছা তাই করবে না, পা বিপথে পা বাড়াবে না। স্নানের নামে তুমি শরীর ভাসিয়ে দিতে পারো না, আনন্দের নামে তুমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারো না। যা করবে নীতিকে আঁকড়ে করবে। জ্ঞানত অন্যায় করবে না।
আমি আমার স্বামীর কথা আজো মেনে চলছি, তাই আমার সুখের শেষ নেই, শত্রুরও।
অন্যের সুখে ঈর্ষান্বিত হওয়া মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। অনেকে অনেক কথা বলেন। সব আমার কানে না আসলেও অনেক কথায় কানে আসে। কেউ আবার শুনিয়ে শুনিয়ে বলেন। কেউ বলেন, স্বামীর গুণেই স্ত্রী গুণান্বিত। স্ত্রী যদি উচ্চ শিক্ষিত হয় আর স্বামী যদি পাগল হয়, সবাই তাকে পাগলের বৌ-ই বলেন।
আর একজন বলেন, বোয়াল মাছের পেডি নরম, ভালো মানুষের বেডি নরম। স্বামীর দ্বারা স্ত্রী তো প্রভাবিত হবেই।
আবার কেউ আমার পূর্ব ইতিহাস তুলে বলেন, লোহা জব্দ কামার বাড়ি, মেয়ে জব্দ শ্বশুরবাড়ি।
আর একজন একই সুরে বলেন, মরিচ সড়ো শিলে, বৌ সড়ো কিলে।
যে যায় বলুক না কেনো আমার স্বামী আমাকে শাসন করে, প্রহার করে কিংবা অন্যায়শক্তি প্রদর্শন করে জয় করেনি। হৃদয়ের শক্তি প্রয়োগ করেই ও আমায় জয় করেছে। ওর হৃদয়ের শক্তি প্রবল। তা দিয়ে আমায় এমন কষে বেঁধেছে ছুটে গেলেও ফিরে আসতে হবে। অযাচিত ভাবেই জীবনের মহামূল্যবান জিনিসই পেয়েছি। এখন আমার মৌলিক চাহিদা তাই পাঁচটি নয়, ছয়টি।
একবার আমার স্বামী প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ যায়। পাড়ার লোকজন আমার শ্বাশুড়িকে ঘিরে ধরে হেসে হেসে বলতে লাগলেন, সুন্দরী বৌ ঘরে ফেলে বাইরে গেলে তা ফিরে পাওয়া যায় নাকি?
অন্যজন বললেন, দেবর সম্পর্কীয়দের সাথে দেখিস এবার বৌটির কথা-বার্তার মাত্রা বেড়ে যাবে।
আর একজন মহিলা নাক মুখ বাঁকিয়ে বললেন, বিয়ে করে বৌকে রেখে যাওয়া মানে বৌকে নরকে রাখা। নরকে কি সে নারী থাকে! এখন তো স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলছে, দেখিস কিছু দিন পরে আর তেমন মিষ্টি করে কথায় বলবে না।
এক অল্প বয়স্কা নারী বললেন, দুরত্ব বাড়লে অনুভব বাড়ে। অনুরাগ না কমে বরং বাড়েই।
একজন বয়স্কা মহিলা তাকে গরম দিয়ে বললেন, দূর, তুই জানিস না কিছু। যৌবনের খাই বড় খাই। একবার যে নারী ঐ স্বাদ পেয়েছে, সে স্থির থাকতে পারে না। বিবেক তার লয় যায়। দেখিস ও বৌ রিক্সাওয়ালার হাত ধরে পালাবে।
আরো দুইজন মহিলা ঐ মহিলাটিকে সায় দিলেন। অন্যজন বললেন, লাজ-লজ্জার ঘাটতি আছে বৌটির। পর-পুরুষকে ঘরে জায়গা দেবেই দেবে।
এসব কথা ঘরে থেকে সব শুনলাম আমি। আমার শ্বাশুড়ি তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন, তার বৌমাকে নিয়ে এত বাজে বাজে কথা বলছে অথচ একটি কথাও না ধরে বরং আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব কথা স্বামীকে বললাম। স্বামী আমাকে বুঝিয়ে সান্ত্বনা দিলেন। স্বামীর সান্ত্বনায় আমি সব ভুলে যাই।
এ রকম সমালোচনার সিংহভাগই আমার কপালে জোটে। নিন্দুকদের কথাগুলো আমাকে যেন উজ্জীবিত করে। আমি পথ চলি বুঝে শুনে। সকল কাঁটা ধন্য করে আমি হয়েছি জয়ী। আমার স্বামী আমায় বিশ্বাস করে, তার বিশ্বাসের কোনো অমর্যাদা আমি করতে পারি না। বিশ্বাস থেকে যে আশা জন্মায়, তার নাম ভালোবাসা। আর এ এমনি ভালোবাসা যা ঠুনকে নয় যে, একটু ঝড়ে ভাঙবে। স্বামী আমাকে আদর করে দিয়ে বলে, সমাজে এমন কীটের অভাব নেই। সব হয় ওদের, শান্তি হয় না। মনোভাব পরিবর্তন হয় না। সুন্দর পৃথিবী ওদের চায় না, সুন্দর পৃথিবী ওদের ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে। সুখ থাকে না পথে পড়ে। আমরা বেঁচে রবো একে অপরের জন্য। সুখ তো তখন কেবল মামুলি। অনুভব দিয়ে ভালোবাসা হবে প্রগাঢ়তর। মেঘের থেকে কিছুটা জল চেয়ে আঙিনায় ভিজবো দুইজন। মধ্যরাতে জ্যোৎস্নাস্নানে একাকার হয়ে যাবো। তুমি এমন করে এঁকে দেবে ভালোবাসার চিহ্ন যেমনটা করলে মনটা শান্তি পাবে। হবে অভিমান, অভিমান কখনো জিতবে না, জিতবে ভালোবাসা।
আমার স্বামীর মুখের বাক্য আমার লাগে অমিয় সমান। ওর মুখের কথা আমার জীবনের সংলাপ। ওকে ছাড়া আজ এক পা এগুতে পারবো না। যা সকলে আশা করে আমি হাতে তাই পেয়েছি। সুনীল আকাশের একমুঠো নীল পেয়েছি। আজ সুখ-শান্তি কল্পিত নয়। জীবনের দৈনন্দিন লেনদেন সব জাবেদায় লিপিবদ্ধ করায় খতিয়ান করতে সমস্যা হয়নি। রেওয়ামিল মিলে যাওয়ায় আমাদের প্রেম আছে তেমনি। বৈধ পথে অর্থ উপার্জন করে আমার স্বামী, যা আমাদের আর্থিক অবস্থাকে করেছে আচ্ছা, হিসাব বলে সব হিসাব রেখেছি। আমার স্বামী আমাকে পণ্যজ্ঞান করেনি, ভোগের সামগ্রী ভাবেনি। ও আমাকে ব্যালেন্স শীটের দায় পাশে রাখেনি, রেখেছে সম্পদ পাশে। সংসার নামক শিল্প প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত কাঁচামাল দিয়েছে। উৎপাদন তাই ব্যাহত  হয়নি। লজ্জায় আজো সরাসরি বলতে পারিনি, আমি তোমায় ভালোবাসি। এবার প্রশ্ন পেলে বলবো, প্রেমের নিক্তিতে মেপে দেখো আমি তোমায় কত কিলোগ্রাম ভালোবাসি!
আমি দেখেছি সাংসারিক কাজে কিছু থেকে কিছু হলেই আমার বাবা আমার মাকে বকতেন। শাসন করতেন। কিন্তু আমি সংসারে নিজের অগোচরে কত অনাকাঙ্ক্ষিত কাজই করে ফেলি। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে বকে না। শাসন করে না। বরং বুঝিয়ে বলে। শিখিয়ে দেয়। আমি হতবাক হই। দুটো পুরুষে আমি পার্থক্য দেখি। বলছি না আমার বাবা খারাপ। কোন বাবাই খারাপ না। কিন্তু স্বামী তো খারাপও হয়। বাবা শাসন করতেন, বকতেন, এগুলোও দরকার আছে। বাবা আমাকে স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন কিন্তু মায়ের উপর তো কষাঘাত করতেন। মায়ের কথার মূল্য ছিলো না, মা কথা বলার সাহসও করতেন না। কিন্তু আমার অভাগা মা বাবাকে অন্যের কাছে উপস্থাপন করতেন অনেক বড় করে, সুন্দরের চেয়েও সুন্দর করে। বাবার প্রতি মায়ের ভালোবাসার কমতি ছিলো না।
ছোটবেলা থেকেই আমার মিথ্যা বলার স্বভাব ছিলো। মিথ্যা বলে বলে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিতাম। বাবাকেও মিথ্যা বলে বলে টাকা নিতাম। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতাম। রেজাল্ট ভালো না হলেও বাড়ি এসে মা বাবাকে বলতাম রেজাল্ট ভালো হয়েছে। স্বামীর সাথেও মিথ্যা বলতাম। আমার স্বামী আমাকে অকপটে বিশ্বাস করতো। এক সময় জ্ঞান ফিরলো, এত মিথ্যা বলি, অথচ সে আমাকে বিশ্বস্ততায় রেখেছে। মিথ্যা বলা ছেড়ে দিলাম। ভালো মানুষের সংস্পর্শে থাকলে খারাপও ভালো হয়ে যায়। আমার ভেতরটা পরিষ্কার হয়ে গেলো ওর উজ্জ্বলতায়। কি দারুণ একটা মানুষ, কি দারুণ আচার আর কি দারুণ সুবিন্যস্ত চিন্তা! কখনো কোনদিন রেগে কথা বলেনি। কিভাবে রাগ করবো তার উপর! রাগ উঠার আগেই তার মহান ব্যক্তিত্ব আর দায়িত্বসুলভ ব্যবহারে রাগ কর্পূরের মত উড়ে যায়। সে আমাকে তার করে নেয়ার যে চেষ্টা করেছে আমি তার না হয়ে আর পারিনি। এখন সে যত ভালোবাসার চেষ্টা করে তারচেয়ে চেষ্টা বেশী করি আমি। যত সম্ভব ভালোবাসি, প্রকাশ করার চেয়ে কর্ম আর অনুভব দিয়ে বেশী বুঝিয়ে দিই।
এক মানুষের সুখ অন্য মানুষের সহ্য হয় না। আমাদের সুখও মানুষের সহ্যের বাইরে চলে গেলো। কেউ কেউ আমাদের উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করেছে, কেউ কেউ আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে গ্রহণ করেছে। কে বা কারোর বৌ আমাকে নিয়ে আমার স্বামীর কাছে নালিশ করেছে। আমি কিভাবে বুঝলাম? বাইরে থেকে এসেই আমার চোখে চেয়েই আমার স্বামী একটা অমলিন হাসি দেয়। যখন তার মুখে অমলিন হাসি দেখলাম না, বুঝলাম কেউ তার মুখে গরল দিয়েছে এবং গরলের পরিমাণ বেশ বেশীই। আমি কি হয়েছে বলতেও পারলাম না, আমাকে ও হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলো। আমি ওর এমন গম্ভীর মুখ কখনো দেখিনি। আর এমন শক্ত হতে কখনো দেখিনি। যার হৃদয় যত কোমল রেগে গেলে ঘটে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। বাবা রেগে গেলে দেখতাম মাও রেগে যেত, ঘটে যেত ঘটনা দুর্ঘটনা পর্যন্ত । আমি মায়ের মত উচ্চবাক্য না করে চুপ থাকলাম। আমি জানি ওর রাগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। ওর রাগ ও সংবরণ করে নেবে তাও জানি। কি করে না করে তাই অনুসরণ করছি। দেখলাম ও খুব অস্থির। এমন অস্থির ওকে মানাচ্ছে না। ওকে শান্ত করবো, তাও সাহসে কুলাচ্ছে না। ভুল বুঝতে পারলে ক্ষমা চেয়ে নেয়া যেত। কিন্তু কি ভুল করলাম যা মানুষের চোখে পড়লো, আমাকে ভুল ধরিয়ে দিলো না, স্বামীকে বলে তাকে বিষিয়ে দিলো! খুব খারাপ লাগছে। খেতে দিলাম। শান্ত ছেলের মত খেয়ে উঠে গেলো। এক গাল ভাত ও আজ গালে তুলেও দিলো না।
খেয়ে ও বিশ্রাম নিতে গেলো। আমি পিছন পিছন এলাম। ওর নিষ্প্রভতা আমাকে আরো নিষ্প্রভ করে দিচ্ছে। মুখ ফুঁটে বলেই ফেললাম, আমার অজান্তে আমি যদি কোনো ভুল করি আমাকে ক্ষমা করো।
চুপ করে থাকলো সে। আমি বললাম, আমার ভুলটা কি আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না! 
কোনো কথা সে বলছে না। ওর চিবুক ধরে ঝাঁকিয়ে দিলে ও খুব খুশী হয়। ভাবলাম একবার চিবুক ধরে আচ্ছামত ঝাঁকিয়ে দিই। সাহসে বেড় পেলো না। ওর ঘুম আসছে না। আবার বললাম, আচ্ছা, ঠিক আছে, ভুল করেছিই। স্বীকার করলাম। আর গোমড়া মুখে থেকো না। 
ও ঘুমানোর জন্য খুব চেষ্টা করলো, কিন্তু ঘুম আসছে না। যাতে ঘুম আসে তাই চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। ও আমার হাতটা সরিয়ে দিলো। আমি আজ আর বেশী অগ্রগামী হলাম না। ও ঘুমিয়ে গেলো। আমি ওর গাল, মুখ, চোখ, কপালে হাত বুলিয়ে অমৃত পরশ দিয়েও তৃপ্ত হচ্ছি না। মানুষটা আমাকে ভুল বুঝেছে। ফেঁটে যাচ্ছে বুকটা, চোখে জল এলো। জলচোখ দেখলে ও বাঁচতো না। ঘুম ভেঙে যদি দেখতো আমার চোখে জল, ওর সব রাগ চলে যেত। আমার সব ভুল ওর চোখে ফুল হয়ে ফুঁটতো।
সকালে অফিসে যাওয়ার আগে ও ওর মাকে ডেকে বললো, মা, তোমার বৌমা যেন বাইরে না যায়। 
মায়ের কেনো প্রশ্নের উত্তর না করে ও চলে গেলো। অফিসে যাওয়ার আগে কত বার ও ফিরে ফিরে দেখতো। আজ সে সব ভুলে গেছে। কে কানে বিষ দিলো, যে বিষে ওর মনের যত মাধুর্য নীল হয়ে গেছে! মা বললো, বাইরে যাও, কার কার বাসায় যাও? কী গল্প করো? সংসারকে কি ছোট করে উপস্থাপন করো?
আমি থমকে গেলাম। আমার সংসার আমার স্বর্গ। আমার সংসারকে মানুষের কাছে ছোট করবো কেনো? মা আবারো বললেন, আমাকে নিয়ে, আমার রবিনকে নিয়ে নিশ্চয় কারো কাছে বিষোদগার করেছো?
আমি মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কান্না করে দিলাম। অপ্রত্যাশিত কিছু শুনলেই আমার চোখে জল আসে। একটু সুখের পরশ পেলেও চোখে জল আসে। বাবা যখন মাকে বকতো তখনও মা না কাদলেও আমার চোখে জল আসতো। আমার মা আমার বাবার আচরণে শক্ত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আমি তো আমার স্বামীর থেকে তেমন আচরণ পাইনি যে শক্ত হয়ে নীরস হয়ে পড়বো। নাকি আমার স্বামী এখন থেকে ওমন আচরণই করবে আর আমি শক্ত হয়ে উঠবো? আমার স্বামী কি আসলেই পরিবর্তন হয়ে যাবে! মাকে নির্ভয় দিয়ে বললাম, মা, আপনার অনুমতি ভিন্ন বাড়ির বাইরে আমি আর যাবো না।
মা বিড়বিড় করে বকতে বকতে চলে গেলেন। মা ছেলের মনে আমাকে নিয়ে সন্দেহ প্রবেশ করেছে। অথচ আমি কী ভুল বা কী অন্যায়টা করলাম বুঝতেও পারলাম না। আর কোন প্রতিবেশীর আমি ক্ষতি করেছি যে আমার প্রতিপক্ষ হলো! আমার বিরুদ্ধে আমার স্বামীকে বিষিয়ে দিলো কে! সারাদিন ভেবে ভেবে কূল কিনারা পেলাম না। একবার স্বামীকে ফোন দিলাম, ফোন ধরলো না। ধরলো না ভালোই হয়েছে, নতুবা কি বলতাম!
বাবা যেদিন যেদিন মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করতো সেদিন সেদিন মা অভিমান করে চুপ থাকতো না। বাবার জামা কাপড় কেঁচে দিতো। বাবার পছন্দের খাবার রান্না করতো। আমাকে বেশী বেশী আদর করতো। ঘর, বাড়ি সুন্দর করে পরিষ্কার করতো। বাবা দেখে মাকে ধন্যবাদ না দিলেও রাগ থেকে বেরিয়ে আসতো। সব পুরুষ যদি এক চরিত্রের হয়, তবে আমার স্বামীও খুশী হবে। সারাদিন ঘরের কাজে মনোনিবেশ করলাম। প্রতিটি সংসারে স্বামীর মন জয়ের জন্য আমাদের মত স্ত্রীদের কত কিছুই না করতে হয়।
আমি খুব উৎকণ্ঠিত আর চিন্তিত। অফিস থেকে বাড়ি এসে আজ তার ভূমিকা কী হতে পারে ভেবে খুব ভেঙে পড়লাম। কেউ হয়ত তাকে বলেছে বৌ শাসনের কথা। সমাজে বৌ শাসন করা এক প্রকার পুরুষত্ব। হয়ত আমার স্বামীকে কেউ কাপুরুষ বলেছে বৌর সাথে মিলেমিশে মহব্বতে থাকে বলে। যে কোনো কাজে বৌর সাথে পরামর্শ করা, বৌর মতামত গ্রহণ করা আমাদের সমাজ কি ভালো চোখে দেখে?
মন খারাপ হলেও সংসারে মন খারপ করে থাকলে হবে না। বুকে ব্যথা নিয়ে তাই মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করলাম। এভাবে হেসে যাওয়ার গল্প কেউ বোঝে না, কেউ দেখেও দেখে না। ওর বাসায় চলে আসার সময় হয়ে গিয়েছে। আমি খুব অপ্রস্তুত হয়ে আছি। ও কি বলে না বলে, আর আমি প্রতিউত্তরে কি বলবো না বলবো, মেনে নেবো সব, না যথোচিত জবাব দেবো! বিশ্বাস করেছিলো যাকে তাকে এত ভুল বোঝাটা কতটুকু সমীচীন তার? অপরাধ না করেও যদি শাস্তি পেতে হয়, তবে সেই শাস্তি মাথা পেতে দেয়াও ঠিক না। প্রতিঘাত তো মানুষ তখনই করে যখন আঘাত পায়।
অফিস থেকে ফিরে ও প্রথমে ওর মায়ের কাছে গেলো। সচরাচর তা সে করে না। মায়ের সাথে কথা সেরে শুকনো মুখে আমার সামনে দিয়ে হেটে ঘরে চলে গেলো। চেয়েও দেখলো না। কি কারণে এক দিনেই এত অচেনা হয়ে গেলাম! ভালোবাসার মানুষটাকে সুন্দর করে কষ্ট দিতে একটুও ওর বুক কাঁপছে না। আমি ওর ধারে কাছে ঘেঁষলাম না। হয়ত তার রেগে থাকাতে আমার কোনো প্রশ্ন বিস্ফোরণের উদ্রেক করতে পারে।
শার্ট, প্যান্ট বদলে স্নানে গেলো ও। ছুঁড়ে ছুঁড়ে দেয়া ওর শার্ট, প্যান্ট আমি যত্ন করে গুছিয়ে রাখলাম। কি রাগ, রাগ যেন বজ্রাস্ত্র! পুরুষ তো, রাগ তার মানায়, আমি নারী, আমার রাগতে মানা। পুরুষ রাগলে বাদশা, নারী রাগলে রগচটা।
ও স্নান করে এলো। ওকে খুব ফ্রেশ দেখাচ্ছে। শুধু মুখে হাসি নেই। মন চাচ্ছে ওর বুকে যেয়ে লুকাই। আজ কি এক দ্বিধার বেড়া দূর করে রেখেছে! নিরীহ হরিণীটিকে দেখেও কি ওর খুব ভাল লাগছে! খেতে দাও খেতে দাও করে অন্যদিন পাগল করে তুলতো, আজ কিছুই বলছে না। ওর পছন্দের খাবার রান্না করেছি। বললাম, চলো খাবে।
খেয়ে এসেছি কথাটি বলে ও ঘরে যেয়ে ঘুমিয়ে গেলো। বিয়ের পর ও কখনো এক সাঝ বাইরে খায়নি। আমার হাতের রান্না নাকি ওর অমৃত লাগে। মা রান্না করতে চাইলেও আমি মাকে রান্না করতে কখনো দিইনি। আপন মাধুরী মিশিয়ে রান্না করি, ও যে আমার রান্না খেতে মরিয়া। আজ সে বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে, শুনে এত খারাপ লাগলো বলে বোঝাতে পারবো না। সংসারে আজ আমি কত নেহাত একটা জীব হয়ে পড়েছি। সংসারের এ দুটো মানুষ আজ কত দূরের যেন। মনটা ছটফট করছে শুধু কথা বলবো বলে। কিন্তু কথা শোনার মানুষ নেই।
ও এড়িয়ে চলছে, ওকে অনুসরণ করা কতটুকু সমীচীন ভাবলাম। ওর পিছে লেগে না থাকলে ওর রাগ ভাঙবে না, আরো ভুল বুঝবে। আবার ওর পিছে লেগে থাকলে ও ভাববে অন্যায় করেছি। ক্ষমা পাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি। যাবো না ওর কাছে! দেখি একা থেকে কত আনন্দ পায়! ধারে থাকলে মূল্যবানকেও মূল্যহীন মনে হয়। নিজেকে মূল্যহীন করে তুলবো না। আমি ঘরে না যেয়ে বাইরে বসে থাকলাম। আজ ঘর আমার ঘর নেই, নিজের ঘরে ঢুকবো তবুও দ্বিধা জাগছে। নারীর ঘর কি খুব সহজপ্রাপ্য? আমার জন্য দরজাটা খোলা আছে, কত নারীর তো ঘরে প্রবেশের দরজাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সারারাত দরজা ঠুকেও পাষাণ স্বামীর মন গলাতে পারে না, এমন নারীও কি সমাজে নেই?
মা এসে বিরক্তির স্বরে বললেন, এত রাতে বাইরে কেনো?
মায়ের প্রশ্নের জবাব সহজ হলেও উচ্চারণ কঠিন৷ ঘরে গেলাম। ও ঘুমিয়ে গিয়েছে। কত আরামের ঘুম! ওর ঘুমন্ত মুখে চেয়ে থেকে ভাবছি, কঠিন তুমি কত কঠিন! তবে অত সহজ হয়ে ধরা দিয়েছিলে কেনো? স্বপ্ন দেখিয়ে স্বপ্ন কেড়ে নিলে কেনো? প্রথম থেকেই নিরাশা দিলে নিরাশার মধ্যে তো আমি বাঁচতে শিখে যেতাম।
শুধু ভাবছি আর ভয় পাচ্ছি, কাকে চুল টেনে দিতাম, নাক টেনে দিতাম, কান টেনে দিতাম! কত ভয়ংকর একটা মানুষ। কথা বলতেও ভয় করছে। অথচ দুইদিন আগেও তার সাথে কত খুঁনসুটি, তর্কতর্কি করেছি। আমিও ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হলাম। যতক্ষণ ঘুম আসেনি, ততক্ষণই ভেবেছি, জীবনটা উলোট-পালোট হতে কত অল্প সময়ই না লাগে! গতবার যখন আমার জ্বর হয়, আমার স্বামী আমাকে কত যত্ন করে সুস্থ করে তুলেছিলো। সারাক্ষণ ভেবেছি আজ রাতেই আমার জ্বর আসুক। কাল সকালে তবে আমাকে সে শুশ্রূষা না দিয়ে থাকতে পারবে না। কাছে আসবে। কাছে থাকবে। কথা নাই বলুক কাছে তো থাকবে। কিন্তু অভাগার স্বপ্ন পূর্ণ হলো না। আমার জ্বর এলো না। ও কাছেও এলো না। প্রত্যাশিতকে কাছে পেতে মানুষ কত অপ্রত্যাশিতও কামনা করে, ভাবা যায়?
যখন ও অফিসের উদ্দেশ্যে বের হবে, বাঁধা দিলাম, বললাম, তুমি আমাকে এত এড়িয়ে চলছো কেনো? 
ও উত্তর না দিয়ে চলে যাচ্ছিলো। সামনে যেয়ে ওর চোখে মুখে চেয়ে বললাম, আমি কি এমন করেছি যে এত সন্দেহ করছো? তুমি আমাকে সন্দেহ করতে পারো?
ও খুব বিরক্ত। আমি তোয়াক্কা না করে বললাম, মানুষের কান কথায় কান দিয়ে নিজের স্ত্রীকে ভুল বোঝো? আর আমি কত বড় ভুল করেছি যে, এত শাস্তি দিচ্ছো? 
ও আমাকে শান্ত-শিষ্ট ভাবেই বললো, সরো, অফিসে যেতে দাও। দেরী হয়ে যাচ্ছে। 
আমি আজ ছাড়ার লোক না। বললাম, যাকে বিশ্বাস করো না, যার প্রতি অবিশ্বাস ভর করেছে সে এই জৌলুসে থাকবে না। প্রাণশূন্য ইমারতের মধ্যে সে থাকবে না। সে ভালোবাসা চায়, হয় ভালোবাসবে, না হয় ত্যাগ করবে।
ও দেখলাম একটু তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। এত শক্ত শক্ত কথা বলেও ওকে দমাতে পারলাম না। কাজে চলে গেলো। আমি খুব রাগ আর জেদে ঘরে যেয়ে জিনিস পত্র গুছিয়ে নিলাম। কিন্তু ঘর থেকে বের হতে পারলাম না। নারী ভালোবাসার নীড়ে থাকতে চায়, ভালোবাসায় বেঁধে রাখতে চায় সবাইকে। ভালোবাসার মধ্যে বাঁচতে চায়। ভালোবাসা না পেলে ঘর ছাড়তে চায়, কিন্তু ঘর থেকে বের হতে পারে না। অদৃশ্য কোনো এক বাঁধনে সে আটকা পড়ে যায়। ভালোবাসাহীনতায়ও তাই তাকে কত নিশীদিন যাপন করতে হয়। ব্যাগ থেকে জামা কাপড় বের করে আবার ঘর সাজালাম। থাক সে তার মত, আমিও থাকবো আমার মত। ভালোবাসা তো আর চেয়ে পাওয়া যায় না। আমার মা তো ভালোবাসাহীনতায় একটা জনম পার করে দিলো। দুটো মানুষ এক ঘরে থাকা আর দুটো মানুষ এক হয়ে থাকা তো এক কথা না। তবুও জীবন চলে যায়। মনের যা দাবী মন না পেলে মনে যে হাহাকার থাকে তা তো বলে বোঝানো যাবে না। তবুও বেঁচে থাকতে হয়, বাঁচার মত না হলেও।
================
 
সৌমেন দেবনাথ
যশোর

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায়

সেই লাল ফ্রকটা সৈকত প্রসাদ রায়  বৃদ্ধাশ্রমের পশ্চিম দিকের জানলাটা বিকেলের রোদে একটু লালচে হয়ে থাকে। সেই জানলায় ঠেস দিয়ে বসে থাকেন এক অশীতিপর বৃদ্ধা,  তাঁর নাম জবা, কিন্তু এখানে সবাই তাঁকে 'বোবা মা' বলে ডাকে। আজ কুড়ি বছর হলো একটি দুর্ঘটনায় সে কথা বলার শক্তি চিরতরে হারিয়েছে । তাঁর ডান হাতটা অসাড়, পক্ষাঘাতে কুঁচকে গেছে আঙুলগুলো। কিন্তু তাঁর বাম হাতটি সবসময় বুকের কাছে একটি পুরনো, বিবর্ণ পলিথিন জাপটে ধরে থাকে। কেউ জানে না ওই পলিথিনের ভেতরে কী এমন মহার্ঘ্য বস্তু লুকিয়ে রেখেছেন তিনি। জবার স্মৃতিগুলো আজ বড় বেশি জীবন্ত হয়ে উঠছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ পঁচিশে বৈশাখ হতে পারে, কিন্তু জবার মনের ক্যালেন্ডারে আজ তাঁর মেয়ে 'খুশি'র জন্মদিন। ফিরে যাওয়া যাক পঁচিশ বছর আগের এক বসন্তের রাতে। জবা তখন টগবগে তরুণী, তবে কপালটা তাঁর পোড়া। স্বামী মারা গেছেন খুশির জন্মের ছ'মাসের মাথায়। লোকের বাড়িতে বাসন মেজে, ধান সেদ্ধ করে জবা বড় করছিলেন তাঁর একমাত্র প্রাণভ্রমরা খুশিকে। খুশির বয়স তখন সাত। বায়না ধরেছিল, "মা, দোকানে ওই যে লাল ফ্রকটা ঝুলে আছে, ওটা আমায় কিনে দেবে?" জবা সেদিন কথা দিয়েছিলেন...

নারীকে আমি যেমন দেখি ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য

নারীকে আমি যেমন দেখি কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য শুধু নারী নিয়ে লিখতে আমার ভারি আপত্তি। না না আমি নারী বিদ্বেষী নয়। বরং উলটো। নারী যদি আড়ি করে, মন খারাপ,  আর মন ভারী আমার পিছন ছাড়ে না। কিন্তু নর, নারী নিয়ে লিখলে আমার মনে হয় পক্ষপাতদুষ্ট হবে , অর্থাৎ পুরুষ নারী কে ফ্লার্ট বা মাখন লাগাতে ব্যস্ত থাকবে। আসল কথা প্রকাশে বিরত  অথবা গার্জিয়ানগিরি দেখানোর লক্ষণ প্রকট হবে। আর নারী যদি নারী নিয়ে লেখেন, তা'হলে সোনায় সোহাগা। শতাংশের হিসাব জানিনা, তবে অর্ধেকের বেশি নারী, তাদের নিয়ে না লিখে পুরুষদের অসহযোগিতা নিয়ে প্রবন্ধ লিখতে শুরু  করবেন। যে ভারসাম্যের বা বোঝাপড়ার দরকার নারী পুরুষের মধ্যে, সেটার বড় অভাব। আন্তর্জাতিক নারী দিবস হোক বা প্রতিদিনের দিনযাপন, আজকের যুগ আগের মত নয়। এখন ''ডবল ইঞ্জিন সরকার", বেশিরভাগ পরিবারে। আর সেভাবেই আজকের প্রজন্মের নারী পুরুষ নিজেদের তৈরি করে নিচ্ছে। এই তৈরি করা কিন্তু বললাম আর তৈরি হয়ে গেল এমনটা নয়। একটু একটু করে অল্প বয়স থেকে পরিবেশ, প্রকৃতি আর পারিবারিক শিক্ষা যেটা জেনেটিক, নারী পুরুষ দুজনের মধ্যে পরিবর্তন আনে। তাতে ঝগড়া, মনোমালিন্য হবেই।...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পাঠ-প্রতিক্রিয়া ।। নবপ্রভাত বইমেলা 2023 সংখ্যা ।। সোমা চক্রবর্তী

পাঠ-প্রতিক্রিয়া : নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৩ সংখ্যা সোমা চক্রবর্তী  (কালিকাপুর, বারাসাত,উত্তর চব্বিশ পরগনা) লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় যাওয়া এবার সম্ভব হল না। কয়েকদিন আগে ডাক যোগে হাতে পেয়েছি নবপ্রভাত এর মুদ্রিত বইমেলা সংখ্যা। একটি অণুগল্প নিয়ে আমিও সেখানে রয়েছি অন্যান্য প্রিয় লেখকদের সঙ্গে। কাজেই, উৎসাহ একটু বেশিই রয়েছে। সম্পাদক মহাশয়ের অনুরোধ লিখিত পাঠ প্রতিক্রিয়া চাই। তাই আর অপেক্ষা না করে পড়ে ফেললাম বইটি। নবপ্রভাত এর যে ব্লগ বা ওয়েব ম্যাগাজিন (ব্লগজিন) এর সঙ্গে আগে থেকেই আমি পরিচিত, এ ক্ষেত্রে তার কথা একটু বলে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতি বাংলা মাসের এক তারিখে প্রকাশিত প্রতিটি সংখ্যারই প্রবন্ধ অংশটি অত্যন্ত উন্নত মানের হয়ে থাকে। যেমন বিষয় নির্বাচন, তেমনই তথ্য সমৃদ্ধ। মুদ্রিত সংখ্যাটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাঁচটি প্রবন্ধের প্রত্যেকটিই উৎকৃষ্ট। বিষয় এবং তথ্য আমাদের ভাবায়। "যুদ্ধ-কবিতা এবং কবিতায় যুদ্ধবিরোধ" প্রবন্ধটি পড়তে পড়তে এবং উল্লিখিত কবিতার ভেতর দিয়ে আমরা দেখতে পাব, মধ্যযুগের বীরগাথামূলক কাব্য এবং মহাকাব্যের হাত ছেড়ে কেমন করে কবিতা ছোট পাকদন্ডী বেয়ে চল...

নারী এখন ।। দেবব্রত মন্ডল

নারী এখন দেবব্রত মন্ডল  নারী এখন নির্বাচনের পোস্টার— দেয়ালের গায়ে গায়ে তার হাসিমুখের প্রতিশ্রুতি। বাস্তবে সে এক নিরাপত্তাহীন দেহ, অন্ধ গলির অন্ধকার যাকে প্রতিদিন অনুসরণ করে। তার সম্মান মঞ্চভরা স্লোগান, তার বিচার ধুলো জমা ফাইলের ভেতর নীরব অপেক্ষা। রাস্তায় সে ভয়ের ছায়া মেপে হাঁটে, ঘরে ফিরে নীরব কান্না লুকিয়ে রাখে বালিশের নিচে। এই সমাজে নারী হওয়া মানে— প্রতিটি সকাল একটি নতুন আশঙ্কা, প্রতিটি রাত একটি অসমাপ্ত যুদ্ধ। তবু সে বেঁচে থাকে— স্বপ্ন, লজ্জা, ক্ষত সবকিছু বুকে নিয়ে মানুষ হয়ে ওঠার অদম্য লড়াইয়ে।

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...

নারী ।। চন্দন মিত্র

নারী চন্দন মিত্র   কিনে আনি চালডাল তরিতরকারি আরো কিনি তেলনুন যা যা দরকারি,   এটুকুই কাজ আমার কোনোমতে সারি।     অগোছালো ভুলো-লোক       ঈষৎ আনাড়ি   তবু পরিপাটি থাকি,   যা যা দরকারি অনায়াসে মিলে যায়     ঘরে আছে নারী। ........................    চন্দন মিত্র ডায়মন্ড হারবার

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার

  তবুও প্রজাপতিটা  সুবিনয় হালদার হলুদের ছোঁয়া তখনো লাগেনি পত্রে তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে— এখনো বসে ভুল ভবিষ্যৎ! কত সোহাগে রং মেখেছিল কোন এক ফাগুনের দুপুরে, এসেছিল একাকী— ফাগ-ছড়ানো বাঁশ বন তালগাছ পুকুরপাড়— মেঠো পথ ধরে অন্ধকার পথে ; পরাগের রেনু মিলেমিশে মাখামাখি ভিজেছিল সেই রাত রংবেরং স্বপ্নের বেড়াজাল ইন্দ্রিয় সুখের ছন্দপতন ঘটে প্রাতে । রজনীগন্ধার গন্ধে মাখা পত্রটা বর্ণমালা শূন্য নিঃশব্দ  পলেস্টার খসা দেওয়াল মাকড়সার জাল ভ্যাপসা গুমোট পরিবেশে  একাকী পড়ে জীর্ণ বিবর্ণ অপরিচিতদের ভিড়ে ; তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে—অজান্তে পথ ভুলে ! =============== সমাপ্ত =============== সুবিনয় হালদার  গ্রাম - দৌলতপুর  পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার  থানা - ফলতা  জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগনা  পিন কোড নম্বর -৭৪৩৫০৩ রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ  দেশ - ভারতবর্ষ

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...