Skip to main content

ভ্রমণকাহিনি: ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়





অতীতের রাজগৃহ আজকের রাজগীর



((ফিরে দেখাঃ যে কোনো অতীতের ঘটনা অতীতে শেষ হয়ে যায় না। অতীত ছাড়িয়ে তার রেশ বর্তমান এমন কী ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হয়। আমরা অবশ্যই জানি বর্তমান বা ভবিষ্যতে অতীত বড় দামি একটি বিষয়। অতীতের বিচার হয় ভবিষ্যতের কষ্টিপাথরে। অতীত যদি অতীতেই শেষ হয়ে যেত তবে ইতিহাস আর কেউ পড়ত না। মহেঞ্জোদর, হরোপ্পা বা নালন্দার ধ্বংসস্তুপ নিয়ে কেউ আর ভাবতে বসত না। এই ভ্রমণকাহিনীটি আজকের নয়। ২০০০ সালের অর্থাৎ প্রায় কুড়ি বছর আগের। এই ২০ বছরে রাজগীরের সামাজিক চিত্র হয়ত পরিবর্তিত হয়েছে অনেক কিন্তু নালন্দার ইতিহাস নয়। আর সেই কারণেই এই ভ্রমণকাহিনী আজও প্রাসঙ্গিকতা হারায় নি। আর একটা সুবিধাও আছে। তখনকার অর্থনৈতিক চিত্র খানিকটা আঁচ পাওয়া হয়ত যেতে পারে এই পুরোন ভ্রমণকাহিনী দিয়ে। ))

টাইম মেশিন বলে একটা কথা আছে যার সাহায্যে বর্তমান থেকে অতীতে যাওয়া যায়। একথা আমাদের জানা ছিল। তবে একটা লাক্সারি বাসে চড়েও যে তা করা যায় তা আমাদের এই ভ্রমণের আগে পর্যন্ত জানা ছিল না।
জি-টি-রোড ছেড়ে বাস যখন উঠল এসে প্রশস্ত আলো ঝলমলে দুর্গাপুর রোডের মসৃণ পিঠে তখনও কিন্তু মনে বেশ চিন্তা ছিল। হাতে ছিল মাত্র সাড়ে তিনদিন। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বিস্তৃত এক কর্মসূচী সম্পাদনের গুরুদায়িত্ব বুকে জাগাচ্ছিল একটা কম্পন। মনের অসংখ্য জানলায় হাত নেড়ে যাচ্ছিল অসংখ্য অনিশ্চিতের সম্ভাবনাগুলি।
চার ঘন্টা পরে রাত প্রায় সাড়ে দশটায় পানাগড়ে গিয়ে ক্লান্ত গাড়িটা নিল ক্ষণিক বিশ্রাম আর যাত্রীরা একটা চটির মধ্যে সেরে নিল তাঁদের নৈশ আহার।
আবার আধঘন্টার মধ্যেই গাঝাড়া দিল বাসটা। বিরতিহীন এই নৈশযাত্রার মধ্যেই চলল আমাদের তন্দ্রামাখা ঘুম আর কখনও বা জেগে উঠে আগত স্থানটির পরিচিতি লাভের জন্যে ঔসুক্য। কখনও দূরবিস্তৃত ফাঁকা মাঠ, কখনও বা সন্নিকটস্থ ঘন জঙ্গল ভেদ করে দু'চোখে তীব্র সন্ধানী আলো জ্বালিয়ে এগিয়ে চলল একগুঁয়ে বাসটা।
রাত কেটে গেল- কচি ভোরটা এক চপল শিশুর মত খেলে বেড়াতে লাগল আমাদের চোখের সামনে। বাসটা তখন রাজগীরের পাহাড়ী পথটা ধরে ফেলেছে। চড়াই-উৎরাই আর হেয়ার পিন বাঁকের মুহুর্মূহ আক্রমণে অ্যাক্সিলারেটর আর ব্রেকে পা আর স্টিয়ারিং-এ হাত রাখা ব্যতিব্যস্ত ড্রাইভারের পাশের জানলা দিয়ে আবিষ্কার করি সহসাই এক মহাবিস্ময়কে। পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে তখন উঠে পড়েছে স্নিগ্ধ লাল রঙের একটা গোলা। লাল আবির ছড়িয়ে মাঘী শুক্লা-পঞ্চমীর সূর্যোদয় আমাদের রাজগীরের মাটিতে জানাল সাদর আমন্ত্রণ। এরপর ক্রমে বয়েস বেড়ে যাওয়া সূর্যটা আমাদের পাশে পাশে চলতে চলতে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল সেই পাহাড়ী পথটায়।
তখন বেলা প্রায় পৌনে নটা। ডানদিকে রোপওয়ে যাওয়ার পথটাকে খানিক অপেক্ষা করতে বলে আমরা এগিয়ে গেলাম রাজগীর শহরটার দিকে। মিনিট পনেরর মধ্যেই বাসের যাত্রা হল শেষ। এবার শুরু হল আস্তানা খুঁজে নেওয়ার তোড়জোড়। আগে থেকে বুকিং করার সূত্রে সহজেই আসীন হওয়া গেল যে যার ঘরে। এবং সাড়ে দশটার মধ্যে প্রত্যেকের প্রাতঃকৃত্যের হল সমাপন।
মধ্যাহ্ন ভোজের পরে জড় হওয়া গেল ধর্মশালা রোডের মোড়ে। এখানে শহর দর্শনের প্রধান যানবাহন হল টাঙ্গা। রিক্সা যদিও আছে তবু তা এই পাহাড়ী রাস্তার পক্ষে একটু অনুপযুক্ত বলে আমাদের মনে হল। জনপ্রতি পঁচিশ টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট হল (২০০০ সালের হিসেবে)।  
যাত্রার শুরুতেই এক বিপত্তি। গাড়ির আনাড়ি সওয়ারীদের এলোমেলো বসায় ভারসাম্যহীনতার জন্যেই হোক বা পাহাড়ী পথের অসাম্যতার জন্যেই হোক ঘোড়াটা যেন চিঁ হিঁ হিঁ করে ডেকে সূচনা করল এক বিদ্রোহের। ফলে যাত্রীরা পপাত ধরণী তলে। আর বিদ্রোহ করে উঠল এক যাত্রীও। যে টাঙ্গায় এমন বেয়াড়া ঘোড়া থাকে সে টাঙ্গায় সে চড়বে না। অনেক করে বুঝিয়ে তাকে রাজি করিয়ে আবার আমাদের যাত্রা হল শুরু।   
জরাসন্ধর রাজধানী অতীতের রাজগৃহ ছিল এক সমৃদ্ধ নগরী। গৌতম বুদ্ধ এবং মহাবীর জৈন উভয়ের সঙ্গেই অতীতের এই উন্নত শহরের ছিল আত্মীক যোগাযোগ। টাঙ্গা যে রাস্তা দিয়ে চলল তার বাঁ পাশে পড়ে জীবকের বনানী-সমৃদ্ধ বিস্তৃত আমবাগান। নামে আমবাগান হলেও প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল ভেষজ উদ্ভিদের এক বিশাল বাগিচা। জীবক ছিলেন মগধরাজের পারিবারিক চিকিৎসক। পথে পড়ল রাজা বিম্বিসারের জেলখানা যার ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে জড় করা কতগুলো পাথর ছাড়া আর কিছুই নয়।
রাজগীরের এক প্রধান আকর্ষণ হল রোপওয়ে। গৃদ্ধকূট পাহাড়ের ওপর থেকে যার যাত্রা শুরু আর সাড়ে সাত মিনিটের ব্যবধানে রত্নগিরি পাহাড়ের চূড়ায় যার মধ্যাবস্থান। যে পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে বুদ্ধের মন্দির আর বিশ্বশান্তি স্তুপ। এমন মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ পাওয়া সত্যি সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। রোপওয়ে চড়ে যে একবার এই মন্দিরে এসেছে উঠে, সেই বুঝি চেয়েছে বারংবার আসতে। এমন পরিবেশ মানুষকে নিয়ে যেতে সক্ষম এক মহাশান্তির জগতে। দিগন্তবিস্তৃত সেই ভাবরাজ্যে প্রায় বিলীন হতে বসেছি—কিন্তু সময় বলে যে একটা জিনিস হাতঘড়িতে টিকটিক আওয়াজের মধ্যে দিয়ে আপন অস্তিত্ব জাহির করতে লাগল, তার জন্যেই ফিরতে হল আবার বাস্তব জগতের দো্রগোড়ায়। চক্রাকার রোপওয়ের পরবর্তী সাড়ে সাত মিনিটটা হল আবার গৃদ্ধকূট পাহাড়ে ফিরে যাবার।
রোপওয়েতে চড়ার একটা ভারি আনন্দ আছে। এই অপার আনন্দ যে কখনও চড়ে নি, কিংবা ভয়েতে চোখ বন্ধ করে ফেলেছে তারা কেউ উপভোগ করতে পারে নি। পাহাড়ের গা বেয়ে আকাশপথে ডানা মেলা একটা পাখির মত মনে হচ্ছিল নিজেকে। ঠিক তেমনই হালকা তেমনই মুক্ত। পাহাড়ের পাষাণ-কঠিন গাত্রদেশ কিংবা অতল খাদ-গহ্বর অথবা চারপাশের সুসজ্জিত সুউচ্চ শৃঙ্গরাশি মনের মধ্যে ভয়ের  ভাব যতই সৃষ্টি করছিল তার চেয়ে বেশি সৃষ্টি করছিল অভিযানের আনন্দ ম্পন্দন। পাহাড় ঘেরা রূপকথার রাজ্যে মেঘের মধ্যে দিয়ে যেন ভেসে চলেছি কোন এক হৃদয়েশ্বরীর সন্ধানে—কুচবরণ কন্যার সুখস্পর্শ কল্পনায় চোখ বুজে ফেলি কোন সুনিবিঢ় মুহূর্তে। দেখা মেলে যেন রাজকন্যার বন্দিকারী কুৎসিত-দর্শন দানবের। কোষ থেকে বার করি বিশালকায় তরবারি—ঝনৎকারের তীক্ষ্ণ আওয়াজে হঠাৎ-ই চোখ খুলে যায় আমার। দেখি গিয়ারে গিয়ারে ঘর্ষণের আওয়াজ।
রোপওয়ে ধরে আমরা ততক্ষণে নেমে এসেছি বাস্তবের মাটিতে। তৃপ্তির হাসি ছড়িয়ে দিই সারা মুখে। এই চাপাতে যেমন মজা আছে তেমনি মজা আছে এই চাপা দেখাতেও। আমরা মাটিতে নেমে যাবার পরও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি সার সার তারের ওপর দিয়ে আসা-যাওয়া মুক্ত খাঁচাগুলোর দিকে। এই আসাযাওয়ার খরচ জনপ্রতি মাত্র পনের টাকা (২০০০ সালের হিসেবে)।
ফেরার পথে জৈনমন্দির, শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ, আনন্দময়ী মায়ের আশ্রম শেষ করে একেবারে প্রায় সন্ধ্যার মুখোমুখী উষ্ণকুন্ডের কাছে। জুতো খুলে ঢুকতে হবে। মোজা খোলাও দরকার না হলে ভিজে যাবে। উষ্ণকুন্ড বেশ গভীর। সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে সিঁড়ির ধাপ নেমে গেছে নিচে। অনেকেই স্নান করছে। আমাদের কারোর তখন স্নান করার প্রয়োজন ছিল না তাই বাইরে বেরিয়ে এসে আবার টাঙ্গায় চড়ে বসি।
পরের দিন খাওয়া দাওয়া করে বাস ছাড়ার কথা দুপুরে। গন্তব্য হবে নালন্দা আর পাওয়াপুরী। কিন্তু অকারণ আলস্যে বেলাটা কাটিয়ে দিতে মন চাইল না। টাঙ্গা ভাড়া করা হল জনপ্রতি হিসেবে দুটো স্পট অর্থাৎ জাপানী মন্দির আর মিউজিয়াম দেখার জন্যে। জাপানী মন্দিরের যথেষ্ট আকর্ষণ বৈশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও বলব মিউজিয়ামটিকে কেউ যেন অবহেলা না করেন। যথেষ্ট সময় নিয়ে এই প্রদর্শনীশালাটি ঘুরে দেখা ভাল। মহাবীরের জীবনী নিয়েই মূলত এই প্রদর্শনী তবু এত সুন্দর কারুকার্য বেশ ভাল লাগে।
ফিরে এসে চান-খাওয়া। সেরে আবার বেরিয়ে পড়া গেল নালন্দার পথে। রাজগীর থেকে মাত্র দশ বার কিলোমিটারের ব্যবধানে নালন্দা। বাঁ দিকে অতীতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে একটি ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছু নয়। গাইড ছাড়া ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ অনেকটা নুন ছাড়া ভাত খাওয়ার মত। পেট ভরলেও মন ভরে না। পা দুটোকে চালিয়ে ভ্রমণ করছি বটে তবে কৌতূহল মিটছে না। তাই গাইডের সঙ্গে চুক্তি করে নেওয়া গেল। চল্লিশজনের বাসভর্তি যাত্রীর জন্যে দক্ষিণা মাত্র চল্লিশ টাকা (২০০০ সালের হিসেবে)।
যা হোক প্রদর্শকের হিন্দি সুরারোপিত বাংলায় শুরু হল আমাদের নালন্দা পরিভ্রমণের পরিদর্শন-বক্তৃতা। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ-এর স্মৃতি বিজড়িত আচার্য শীলভদ্রের নালন্দা সত্যই এককালে ছিল বিশ্বের বিদ্যালয়। প্রায় সারা পৃথিবীর এক মহাবিস্ময়—বিপুল এক জ্ঞানভান্ডার। দশ হাজার ছাত্র আর দেড় হাজার শিক্ষকের থাকার ঘর, অধ্যয়নের ঘর এমন কী বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার পর্যন্ত। আটফুট চওড়া দেওয়াল দিয়ে ঘেরা ঘরগুলি ছিল প্রাকৃতিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। গরমের সময় ঠান্ডা আর শীতের সময় গরম আরামদায়ক ঘরগুলোর দরজার পরিবর্তে ছিল বিশাল বড় বড় হুড়কোর ব্যবস্থা। ওই হুড়কো বন্ধ থাকলেই ধরে নিতে হত ঘর বন্ধ আর ভেতরে যাওয়া মানা। কঠোর অনুশাসনের মধ্যে ছিল তখনকার ছাত্রজীবন। বিস্ময়ের এক মহাঘোরের মধ্যে দিয়েই সিঁড়ি বেয়ে উঠলুম একেবারে ওপরে। ধ্বংসস্তূপের একেবারে শিখরে। বিশাল এক ইতিহাসকে দেখে নেওয়া গেল পাখির চোখে। সত্যিই চমৎকার। আমাদের ভারতবর্ষ যে অতীতের এক পৃষ্ঠায় সারা পৃথিবীকে জ্ঞানালোকে আলোকিত করত এই গর্বটুকু মনের মধ্যে পুরে নিয়ে ফিরে চললাম।  
এবার উল্টোদিকের সংগ্রহশালায়। নালন্দা ধ্বংসস্তূপ খননের ফলে যা কিছু মূর্তি, তৎকালীন ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি, অস্ত্রশস্ত্র, বাসনপত্র ও আরও নানা সামগ্রী রাখা আছে এই সংগ্রহশালায়। কিছু মাথায় ঢুকল কিছু ঢুকল না। ইতিহাসের ছাত্র নই। তবে রসায়নের ছাত্র হিসেবেও জানি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের বিক্রিয়ায় যে ভবিষ্যৎ তৈরি হয় তাতেও থাকে অতীতের ছাপ, অতীতের বিষয়, অতীতের বিস্ময়, অতীতের শিক্ষা। 'ইতিহাস নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়'-এই বক্তব্যই ইতিহাস পাঠের সার্থকতা উপলব্ধি করায়। এ কথা অনস্বীকার্য যে ঐতিহাসিক এই বিখ্যাত ধ্বংসস্তূপটিতে না এলে বোধহয় বুঝতেই পারতাম না ইতিহাসের পরমাণু বিস্ফোরণ কাকে বলে। নগ্নচোখে অদৃশ্য অতিক্ষুদ্র এক পরমাণুর ততোধিক ক্ষুদ্র কেন্দ্রক বিদীর্ণ হয়ে সৃষ্টি হয় বিশাল পরিমাণ পারমানবিক শক্তি। তুলনায় এই নালন্দা তো অতি স্পষ্ট রূপে দৃশ্যমান। খনন কার্যটিকে যদি কেন্দ্রক বিদারণ হিসেবে ধরা যায় তো অতীত নালন্দার এই ধংসস্তূপ অতি অবশ্যই তুলনীয় সেই পারমানবিক মহাশক্তির সঙ্গে যা বলে দিচ্ছে কী বিশাল এক কর্মকান্ড আর জ্ঞানভান্ডার ছিল অতীতের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিকশিত এই মহাশক্তিটি শুধু আমাদের মন্ত্রমুগ্ধই করে না, অতীতের এই জ্ঞানভান্ডারটির আলোকোজ্জ্বল এক রূপ উপস্থাপিত করে আমাদের বোধবুদ্ধির সমীপে।
এখানে বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। সূর্য প্রায় দিকচক্রবালের কাছাকাছি। ঘড়িতে পাঁচটা বাজতে আর কুড়ি মিনিট। পৌঁছেছি  পাওয়াপুরি। মন্দিরগুলো এক এক করে বন্ধ হয়ে যাবে পাঁচটার সময়। অতএব পড়ে গেল হুড়োহুড়ি। টাঙ্গা আর অটোর সঙ্গে দর কষাকষি। কিন্তু এই দুই বাহনই প্রায় সমান ভাড়া দাবি করছে দেখে আমরা এই খানাখন্দ ভরা এবড়োখেবড়ো পথে অটোকেই বেছে নিলাম। তারপর সেই অটোচালকের রণকৌশলের ওপর নির্ভর করে আর পৈত্রিক প্রাণগুলোকে ভাগ্যের হাতে সঁপে দিয়ে এগিয়ে চলি। এটা রাস্তা নাকি পাথরে ভরা চন্দ্রপিষ্ঠ ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। তবে একটা কথা বোঝা যাচ্ছিল যে দুপুরে যা খেয়েছিলুম সেগুলো সব এমন হজম হয়ে গেছে যে পেটের ভেতরে কোথাও খুঁজে পাওয়াই দুস্কর।
এখানকার জৈন মন্দিরগুলি অপূর্ব। তবে অপূর্বতম বোধহয় বিশাল সরোবরের মধ্যে বসান জলমন্দিরটি। জলপুরী নামে যা অভিহিত। অজস্র তামরসশোভিত এই সরোবরে পাতা যত দেখেছি ফুল তত পাইনি। নানা জাতের পাখিরা পদ্মপাতার ওপর দিয়ে গটগট করে হেঁটে যাচ্ছে এ দৃশ্য ভারি মনোহর।
অস্তগামী সূর্যের ছটায় ভগবান মহাবীর জৈনের শ্বেতাম্বর মূর্তিটি এখানে অর্থাৎ সরসিজ মধ্যস্থ এই শ্বেতপাথরের প্রাসাদে এক অনাস্বাদিত মহাপ্রসাদের মত লাগল। মহাবীরের পবিত্র পুতাগ্নি স্থাপন করা হয়েছে এখানে। আবশ্যিকভাবেই মাথা নিচু করে ঢুকতে হয় এখানে কারণ সাড়ে তিনফুট দরজা দিয়ে ঢোকার কৌশল ঐ একটাই। ঠিক তার পেছনে রয়েছে মহাবীরের পদচিহ্ন। মন্দির থেকে পাড়ে যাওয়ার চমৎকার সেতুপথ দিয়ে মানসিক প্রশান্তি নিয়ে যখন ফিরে চলেছি তখন গোধূলিলগ্নের স্নিগ্ধ লাল সূর্যটা ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে অস্তাচলের কন্দরে।  
আজকের মত ভ্রমণ শেষ করে খেয়ে নেওয়া গেল। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে। এবার রাজগীরের পথে। কাল ভোর ছটায় বাস ছাড়বে। কালকে যাব বুদ্ধগয়া। হোটেলে ফিরে খেয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া গেল।
ভোর সাড়ে তিনটেয় উঠে চান। করতেই হল কারণ কাল সারাটা দিন আমাদের পথে অর্থাৎ বাসের মধ্যেই থাকতে হবে। ভোর সাড়ে ছটাতেই বাস যেন তোপধ্বনি করে যাত্রাশুরুর ইঙ্গিত দিল। বাসে ওঠার আগে চা বিস্কুট খাওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে বাসে জলখাবার দেওয়া হবেআজ ঠাসা প্রোগ্রাম। তাই উদরেও তো কিছু ঠেসে দিতে হবে।
এবার চলেছি বৌদ্ধগয়ার পথে। গয়াকে না ডিঙ্গিয়ে বৌদ্ধগয়া যাওয়ার উপায় নেই। গয়া একটি হিন্দু তীর্থ। আবার প্রেতযোনি থেকে উদ্ধার পাওয়ার পীঠস্থানও বটে। পরিব্রাজক বা পর্যটক যেই হোক না কেন গয়া ভারতের বুকে একটি অতি উল্লেখযোগ্য স্থান। ঐতিহাসিক আর পৌরাণিক তো বটেই।
অন্তঃসলিলা ফল্গু নদীর তীরে বাসটা যখন দাঁড়াল তখন বেলা প্রায় নটা। রুটি কলা আর ডিমসেদ্ধ দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারতে ব্রিজটার পাশে দাঁড়িয়ে ধ্যান দিই নদীর ওপারে 'গয়া' নামক প্রেতমুক্তির ও পিন্ডকরণের সেই স্থানটির প্রতি। গয়ায় পিন্ড দেওয়ার স্থান দুটি। একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর অন্যটি অপঘাতমৃত্যুর যা প্রেতশীলা নামে অভিহিত।
প্রাকৃতিক দৃশ্য বড়ই মনোহর। পঞ্চসতীর অন্যতমা সীতার শাপে ফল্গু হয়েছে অন্তঃসলীলা। ধু ধু বালিখাতে বালির অন্তর দিয়ে বয়ে চলেছে নদীর চোরাস্রোত। ইতিহাসকে মাটি ফুঁড়ে উঠতে দেখেছি রাজগীরে। এখানে পূরাণ যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে- রামায়ণের কত কাহিনী উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে চিন্তার বাতায়ন পাশে। অভিশপ্ত ফল্গুনদী এখানে ঢুকেছে বালির অভ্যন্তরে। অস্তিত্ব শুধু তার চোরাস্রোতের মধ্যে দিয়ে। বাল্মিকী সৃষ্ট নায়িকা সীতার শত দুঃখের ভারে ভারাক্রান্ত মন নিয়েই উঠে বসেছি বাসে। বাস ছেড়েছে আর আমরা ছেড়েছি গয়াকে।
বেলা দশটার মধ্যেই পৌঁছে গেছি বৌদ্ধদের ধর্মক্ষেত্র ও পীঠস্থান বুদ্ধগয়ায়। বাসটা দাঁড়াল থাই মনাস্টারি বা থাইল্যান্ডের মন্দিরের গা ঘেঁষে। রাস্তার এক পাশে। রাস্তা এখানে খুব চওড়া আর মসৃণ ও পরিষ্কার। আজ আর কোনও হোটেলে ওঠার সময় নেই। ঠাসা এই ভ্রমণসূচীতে উদর পূরণেরও একটা আবশ্যিক পর্ব রাখতে হয়। একটা স্কুল চত্বরে ব্যবস্থা হল রান্নাবান্নার। আমাদের সঙ্গে ক্যাটারিং গিয়েছিল। তাই তারাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল এই কাজে।
আমরা চা খেয়ে বেরিয়ে পড়ি। এখানে অনেক মন্দির। সুন্দর আর সুদৃশ্য। পায়ে হেঁটে ধীরে সুস্থেই চলেছি মন্দির দেখতে। শান্ত আর শান্তির এক ক্ষেত্র। যা কিছু কথা সবই পর্যটকদের। উত্তরের দিকে হাঁটা দিই। প্রধান দ্রষ্টব্য মহাবোধি মন্দির। এর চত্বরটা যেমন বিশাল তেমন বিশালত্ব এর উচ্চতায়।  
সেদিন মেলা উপলক্ষে সমাগম হয়েছিল বহু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বির। বিরাট মেলা বসেছিল মন্দির প্রাঙ্গনে। শত সহস্র ভক্তের মিছিলের মধ্যে দিয়ে সংকীর্ণ পথটুকু করে নিয়ে কোনরকমে আমরা ঢুকে পড়লাম ভেতরে। অর্থ মূল্যের বিনিময়ে ক্যামেরায় ছবি তোলার অনুমতি পাওয়া যাবে। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হল। বলাই বাহুল্য এখানে দেবতা স্বয়ং বুদ্ধদেব। সৌম্য মূর্তিটি দর্শন করে আমরা বেশ প্রীত হলাম। বিগ্রহ দর্শনের পর মন্দির প্রদক্ষিণ। ভাস্কর্যের চমৎকার এই মহা নিদর্শনটি মনে রাখার মত। মন্দিরের পাশে পাশে দেওয়ালে জ্বলছে শত শত প্রদীপ। ভক্তের দল প্রদীপ সাজাতে ব্যস্ত। অনেক ভক্তকে দেখা গেল দন্ডী খাটতে। আবার কয়েক জন মিলে পাঠ করছে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আর শৃংখলা লক্ষণীয় ছিল।
মন্দির প্রদক্ষিণ সেরে পায়ে পায়ে এসে পৌঁছলাম বিখ্যাত সেই বিশাল বোধিবৃক্ষের পদতলে। এই সেই বোধিবৃক্ষ যার নিচে তপস্যা করে গৌতম 'বোধিত্ব' অর্জন করেছিলেন। এর বিশালতা এক মুগ্ধ –বিস্ময়ে দর্শন করার মত।
ভীড় কাটিয়ে অতিকষ্টে সেখান থেকে তিব্বতীয় মনাস্টারি। মন্দিরগুলি সবই অলংকরণের বৈশিষ্টে উজ্জ্বল। শুধু মন্দিরই নয়, এখানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল দুশ কুইন্ট্যালের ধর্মচক্র যা শুধু ঘুরেই চলেছে। কিন্তু সেই ধর্মচক্রে হাত ছোঁয়ানোর পুন্যকর্মটুকু সারার আগেই মন্দির হয়ে গেল বন্ধ। ব্যস্ততায় হয়ত বলতে ভুলে গেছি বারটা থেকে দুটো পর্যন্ত এখানকার সব মন্দির বন্ধ থাকে।
এরপর তো আস্তে আস্তে সব মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে। দুটোর পর আর আসা যাবে না। কারণ তখন আমাদের খাওয়া আর ফিরে যাবার তাড়া। তাই হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। আমরা কয়েকটা অটো ভাড়া করে উঠে পড়লাম।
চীনা মনাস্টারি দেখে অটো থামল থাই মনাস্টারিতে। অভাবনীয় স্থাপত্বকলার অচিন্তনীয় এক প্রদর্শনী। মনে হল যেন দেখে যাই আর দেখে যাই। কিন্তু এই মন্দির-নগরীতে মন্দিরের আর শেষ কোথায়? কিন্তু হাতঘড়ির ঘূর্ণায়মান কাঁটা বলে দিচ্ছিল সময়ের একটা শেষ আছে।
এরপর একে একে ভুটানি মন্দির, জাপানী মন্দির। আর এরই পাশে যা দেখলাম তা বোধহয় অবর্ণনীয় অত্যাশ্চর্যতায় ভরা। স্থাপত্যের পরে ভাস্কর্যের এই চমকপ্রদ নিদর্শনে শুধু অভিভূতই নয়, একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলাম। আশি ফুট উঁচু বিশাল ধ্যানরত বুদ্ধমূর্তি। একটা মাত্র পাথর কেটে কেটে এটি নির্মিত হয়েছে। মাঝে কোথাও জোড় নেই, নেই কোনও ফাটলও। আগে যা দেখেছি সব কিছু যেন নিস্প্রভ হয়ে গেল এই দৃশ্যে। কেন না আগের সব কিছুর মধ্যেই ছিল আড়ম্বরের আয়োজন আর প্রাচুর্যের প্রকাশ। কিন্তু বিশাল এই মূর্তির উপাদান শুধুই এক তাল পাথর। একটা সামান্য ছেনি আর হাতুড়ি যে জড় এক খন্ড পাথরে এমন ভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, এ মূর্তি না দেখলে তা বিশ্বাস করা খুব কঠিন। সুতরাং বিস্ময়-বিমুগ্ধ চোখে অনেকটা সময় ব্যয় করে ফেললাম এই বিস্ময়-শিলাটি ভালভাবে অবলোকন করতে।
খাওয়ার পরে সামান্য বিশ্রাম। দুপুর তিনটে নাগাদ বাস ছাড়ল। বিদায় বুদ্ধগয়া, বিদায়। রাজগীরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে যেমন নিয়েছি কৌতূহল মেশান আনন্দটাকে, বুদ্ধগয়ার ঐশ্বর্যের মধ্যে থেকেও নিয়ে চললাম পরিপূর্ণ একটা হৃদয়কে। ইতিহাস, পুরাণ, ধর্ম আর দর্শন—একই অঙ্গে এত রূপ দেখি নি তো আগে। তাই সারাটা পথ রোমন্থন করে চললাম সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া ভ্রমণের এই স্মৃতিটাকে। রাত্রি শুরুর তমসাচ্ছন্ন বাসযাত্রার মধ্যে চিন্তাচ্ছন্ন যে মনটাকে আবিষ্ট আর একাত্ম করে দিয়েছিলাম রাত শেসের আর এক সূর্যোদয় জাগিয়ে দিল তাকে। বলল, হে পর্যটক, ওঠো, জাগো। শক্তি সঞ্চয় কর। এক ভ্রমণের সমাপ্তি দিয়ে সূচনা কর আর এক ভ্রমণের ইচ্ছেটাকে।
ঘড়িতে তখন ভোর ছটা। 
 ================================================

 DR. ARUN CHATTOPADHYAY
181/44 G.T.Road (Gantir Bagan)
P.O.Baidyabati
Dist. Hooghly(PIN 712222)
Mobile 8017413028
Mobile 8017413028
                   

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ একলা  আজ আর কাছে আসে না কেউ  যারা কাছে ছিলো  তারা ছেড়ে গেছে  আকাশের মতো এখন একলা জীবন। বয়েস বেড়েছে  দৃষ্টি ক্ষীণ  যৌবনের রোদ নেই  এখন বসে বসে গুণি বার্ধক্যের দিন। উত্তাপ চায় মন  প্রিয়জনের একটু ছোঁয়া  শ্মশানে কারা লাশ বয়ে নিয়ে যায়  ভাবি আমিও লাশ হবো  ক'টা দিন পর। বিষাদ ভাবনায় খাঁ খাঁ করে ওঠে মন। অপেক্ষা কেউ নেই  অথচ কেউ কেউ থেকে যায়  মনের গোচরে  থেকে যায় অপেক্ষায়। আজ যার সাথে দ্যাখা  সে অপরিচিত  হৃদয়ে ধূপের সুবাস  কেউ থেকে যায় অপেক্ষায়। অনেক দিন পর কথা হলো  সবাই ফিরে এলো  মনের মানুষ ফিরে এলো না  এখন আর কেউ থাকে না অপেক্ষায়। শূন্য হৃদয়  মরে গিয়ে বেঁচে আছি তার অপেক্ষায়। হেঁটে যায় রোদ্দুর পায়ে পায়ে হাঁটে  পায়ে পায়ে হেঁটে যায় রোদ্দুর  দুপুর পোড়ে দাবদাহে  খরা কবিতায়। বিকেল আসে না  সন্ধ্যে নামে না  পাখিরা ফেরে না নীড়ে  তবু মনের নদী পেরিয়ে যায়  অচেনা ভূবন। শুকনো মরু বুক বরাবর  তেষ্টায় বিহবল ঠোঁট  ভুখাপেট পান করে চাঁদের ওলা...

আগুনের রঙহীন রঙ ।। রোকেয়া ইসলাম

আগুনের রঙহীন রঙ রোকেয়া ইসলাম দিকবিদিকশুন্য শিউলি দৌড়াচ্ছে , কোলে পাঁচ বছরের মেয়ে। কখনও হোটচ খেয়ে পড়ে যায়, ইটের কোণায় লেগে বুড়ো আঙ্গুল ফেটে রক্ত বের হয়, তবুও দৌড়াতে থাকে শিউলি। গতকালই রুবেল বলেছিল ওদের বেতন হয়নি, মালিক বলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম ওঠানামা করছে তাই অর্ডার বাতিল। বারোতলা গার্মেন্টসে আগুন জ্বলে ওঠে। শ্রমিকরা যখন ভেতরে আঁটকে আছে, দরজায় বিদেশি তালা ঝুলছে, চাবিসহ গেট কিপারের দেখা নেই। ভেতরের মানুষগুলো ধোয়ার কুন্ডলিতে আচ্ছন্ন হয়ে হাতড়ে হাতড়ে নাকে মুখে ওরনার আঁচল আর শার্টের কোনা তুলে ধোয়া আঁটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। বারো তলার কাচের জানালা বিকট শব্দে ঝুরঝরো হয়ে নিচে পড়ছে। ওদের আর্তচিৎকারে ইউটিউবাররা লাইভ ভিডিওদাতারা দেশি বিদেশি সাংবাদিকরা এলোপাতাড়ি ছবি তুলতে থাকে । এগুলো ওদের সম্পদ। বহু চেষ্টার পর ধোয়ার কুন্ডলী রেখে আগুন নেভে। কিন্তু শিউলির ঘর ভরে থাকে আগুন তাপের রঙে। রুবেল এই বারো তলা গার্মেন্টসের সুপার ভাইজার ছিল। রুবেলকে পাওয়া যায়নি শুধু রুবেলের শরীরের মাপে একটুকরো কয়লা পড়ে ছিল ভেজা ছাইয়ের স্তুপে। মেয়ে প্রায় রাতেই ওর গলা জড়িয়ে বুকের কাছে মুখ নিয়ে বল...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...