Skip to main content

ভ্রমণকাহিনি: ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়





অতীতের রাজগৃহ আজকের রাজগীর



((ফিরে দেখাঃ যে কোনো অতীতের ঘটনা অতীতে শেষ হয়ে যায় না। অতীত ছাড়িয়ে তার রেশ বর্তমান এমন কী ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হয়। আমরা অবশ্যই জানি বর্তমান বা ভবিষ্যতে অতীত বড় দামি একটি বিষয়। অতীতের বিচার হয় ভবিষ্যতের কষ্টিপাথরে। অতীত যদি অতীতেই শেষ হয়ে যেত তবে ইতিহাস আর কেউ পড়ত না। মহেঞ্জোদর, হরোপ্পা বা নালন্দার ধ্বংসস্তুপ নিয়ে কেউ আর ভাবতে বসত না। এই ভ্রমণকাহিনীটি আজকের নয়। ২০০০ সালের অর্থাৎ প্রায় কুড়ি বছর আগের। এই ২০ বছরে রাজগীরের সামাজিক চিত্র হয়ত পরিবর্তিত হয়েছে অনেক কিন্তু নালন্দার ইতিহাস নয়। আর সেই কারণেই এই ভ্রমণকাহিনী আজও প্রাসঙ্গিকতা হারায় নি। আর একটা সুবিধাও আছে। তখনকার অর্থনৈতিক চিত্র খানিকটা আঁচ পাওয়া হয়ত যেতে পারে এই পুরোন ভ্রমণকাহিনী দিয়ে। ))

টাইম মেশিন বলে একটা কথা আছে যার সাহায্যে বর্তমান থেকে অতীতে যাওয়া যায়। একথা আমাদের জানা ছিল। তবে একটা লাক্সারি বাসে চড়েও যে তা করা যায় তা আমাদের এই ভ্রমণের আগে পর্যন্ত জানা ছিল না।
জি-টি-রোড ছেড়ে বাস যখন উঠল এসে প্রশস্ত আলো ঝলমলে দুর্গাপুর রোডের মসৃণ পিঠে তখনও কিন্তু মনে বেশ চিন্তা ছিল। হাতে ছিল মাত্র সাড়ে তিনদিন। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বিস্তৃত এক কর্মসূচী সম্পাদনের গুরুদায়িত্ব বুকে জাগাচ্ছিল একটা কম্পন। মনের অসংখ্য জানলায় হাত নেড়ে যাচ্ছিল অসংখ্য অনিশ্চিতের সম্ভাবনাগুলি।
চার ঘন্টা পরে রাত প্রায় সাড়ে দশটায় পানাগড়ে গিয়ে ক্লান্ত গাড়িটা নিল ক্ষণিক বিশ্রাম আর যাত্রীরা একটা চটির মধ্যে সেরে নিল তাঁদের নৈশ আহার।
আবার আধঘন্টার মধ্যেই গাঝাড়া দিল বাসটা। বিরতিহীন এই নৈশযাত্রার মধ্যেই চলল আমাদের তন্দ্রামাখা ঘুম আর কখনও বা জেগে উঠে আগত স্থানটির পরিচিতি লাভের জন্যে ঔসুক্য। কখনও দূরবিস্তৃত ফাঁকা মাঠ, কখনও বা সন্নিকটস্থ ঘন জঙ্গল ভেদ করে দু'চোখে তীব্র সন্ধানী আলো জ্বালিয়ে এগিয়ে চলল একগুঁয়ে বাসটা।
রাত কেটে গেল- কচি ভোরটা এক চপল শিশুর মত খেলে বেড়াতে লাগল আমাদের চোখের সামনে। বাসটা তখন রাজগীরের পাহাড়ী পথটা ধরে ফেলেছে। চড়াই-উৎরাই আর হেয়ার পিন বাঁকের মুহুর্মূহ আক্রমণে অ্যাক্সিলারেটর আর ব্রেকে পা আর স্টিয়ারিং-এ হাত রাখা ব্যতিব্যস্ত ড্রাইভারের পাশের জানলা দিয়ে আবিষ্কার করি সহসাই এক মহাবিস্ময়কে। পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে তখন উঠে পড়েছে স্নিগ্ধ লাল রঙের একটা গোলা। লাল আবির ছড়িয়ে মাঘী শুক্লা-পঞ্চমীর সূর্যোদয় আমাদের রাজগীরের মাটিতে জানাল সাদর আমন্ত্রণ। এরপর ক্রমে বয়েস বেড়ে যাওয়া সূর্যটা আমাদের পাশে পাশে চলতে চলতে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল সেই পাহাড়ী পথটায়।
তখন বেলা প্রায় পৌনে নটা। ডানদিকে রোপওয়ে যাওয়ার পথটাকে খানিক অপেক্ষা করতে বলে আমরা এগিয়ে গেলাম রাজগীর শহরটার দিকে। মিনিট পনেরর মধ্যেই বাসের যাত্রা হল শেষ। এবার শুরু হল আস্তানা খুঁজে নেওয়ার তোড়জোড়। আগে থেকে বুকিং করার সূত্রে সহজেই আসীন হওয়া গেল যে যার ঘরে। এবং সাড়ে দশটার মধ্যে প্রত্যেকের প্রাতঃকৃত্যের হল সমাপন।
মধ্যাহ্ন ভোজের পরে জড় হওয়া গেল ধর্মশালা রোডের মোড়ে। এখানে শহর দর্শনের প্রধান যানবাহন হল টাঙ্গা। রিক্সা যদিও আছে তবু তা এই পাহাড়ী রাস্তার পক্ষে একটু অনুপযুক্ত বলে আমাদের মনে হল। জনপ্রতি পঁচিশ টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট হল (২০০০ সালের হিসেবে)।  
যাত্রার শুরুতেই এক বিপত্তি। গাড়ির আনাড়ি সওয়ারীদের এলোমেলো বসায় ভারসাম্যহীনতার জন্যেই হোক বা পাহাড়ী পথের অসাম্যতার জন্যেই হোক ঘোড়াটা যেন চিঁ হিঁ হিঁ করে ডেকে সূচনা করল এক বিদ্রোহের। ফলে যাত্রীরা পপাত ধরণী তলে। আর বিদ্রোহ করে উঠল এক যাত্রীও। যে টাঙ্গায় এমন বেয়াড়া ঘোড়া থাকে সে টাঙ্গায় সে চড়বে না। অনেক করে বুঝিয়ে তাকে রাজি করিয়ে আবার আমাদের যাত্রা হল শুরু।   
জরাসন্ধর রাজধানী অতীতের রাজগৃহ ছিল এক সমৃদ্ধ নগরী। গৌতম বুদ্ধ এবং মহাবীর জৈন উভয়ের সঙ্গেই অতীতের এই উন্নত শহরের ছিল আত্মীক যোগাযোগ। টাঙ্গা যে রাস্তা দিয়ে চলল তার বাঁ পাশে পড়ে জীবকের বনানী-সমৃদ্ধ বিস্তৃত আমবাগান। নামে আমবাগান হলেও প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল ভেষজ উদ্ভিদের এক বিশাল বাগিচা। জীবক ছিলেন মগধরাজের পারিবারিক চিকিৎসক। পথে পড়ল রাজা বিম্বিসারের জেলখানা যার ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে জড় করা কতগুলো পাথর ছাড়া আর কিছুই নয়।
রাজগীরের এক প্রধান আকর্ষণ হল রোপওয়ে। গৃদ্ধকূট পাহাড়ের ওপর থেকে যার যাত্রা শুরু আর সাড়ে সাত মিনিটের ব্যবধানে রত্নগিরি পাহাড়ের চূড়ায় যার মধ্যাবস্থান। যে পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে বুদ্ধের মন্দির আর বিশ্বশান্তি স্তুপ। এমন মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ পাওয়া সত্যি সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। রোপওয়ে চড়ে যে একবার এই মন্দিরে এসেছে উঠে, সেই বুঝি চেয়েছে বারংবার আসতে। এমন পরিবেশ মানুষকে নিয়ে যেতে সক্ষম এক মহাশান্তির জগতে। দিগন্তবিস্তৃত সেই ভাবরাজ্যে প্রায় বিলীন হতে বসেছি—কিন্তু সময় বলে যে একটা জিনিস হাতঘড়িতে টিকটিক আওয়াজের মধ্যে দিয়ে আপন অস্তিত্ব জাহির করতে লাগল, তার জন্যেই ফিরতে হল আবার বাস্তব জগতের দো্রগোড়ায়। চক্রাকার রোপওয়ের পরবর্তী সাড়ে সাত মিনিটটা হল আবার গৃদ্ধকূট পাহাড়ে ফিরে যাবার।
রোপওয়েতে চড়ার একটা ভারি আনন্দ আছে। এই অপার আনন্দ যে কখনও চড়ে নি, কিংবা ভয়েতে চোখ বন্ধ করে ফেলেছে তারা কেউ উপভোগ করতে পারে নি। পাহাড়ের গা বেয়ে আকাশপথে ডানা মেলা একটা পাখির মত মনে হচ্ছিল নিজেকে। ঠিক তেমনই হালকা তেমনই মুক্ত। পাহাড়ের পাষাণ-কঠিন গাত্রদেশ কিংবা অতল খাদ-গহ্বর অথবা চারপাশের সুসজ্জিত সুউচ্চ শৃঙ্গরাশি মনের মধ্যে ভয়ের  ভাব যতই সৃষ্টি করছিল তার চেয়ে বেশি সৃষ্টি করছিল অভিযানের আনন্দ ম্পন্দন। পাহাড় ঘেরা রূপকথার রাজ্যে মেঘের মধ্যে দিয়ে যেন ভেসে চলেছি কোন এক হৃদয়েশ্বরীর সন্ধানে—কুচবরণ কন্যার সুখস্পর্শ কল্পনায় চোখ বুজে ফেলি কোন সুনিবিঢ় মুহূর্তে। দেখা মেলে যেন রাজকন্যার বন্দিকারী কুৎসিত-দর্শন দানবের। কোষ থেকে বার করি বিশালকায় তরবারি—ঝনৎকারের তীক্ষ্ণ আওয়াজে হঠাৎ-ই চোখ খুলে যায় আমার। দেখি গিয়ারে গিয়ারে ঘর্ষণের আওয়াজ।
রোপওয়ে ধরে আমরা ততক্ষণে নেমে এসেছি বাস্তবের মাটিতে। তৃপ্তির হাসি ছড়িয়ে দিই সারা মুখে। এই চাপাতে যেমন মজা আছে তেমনি মজা আছে এই চাপা দেখাতেও। আমরা মাটিতে নেমে যাবার পরও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি সার সার তারের ওপর দিয়ে আসা-যাওয়া মুক্ত খাঁচাগুলোর দিকে। এই আসাযাওয়ার খরচ জনপ্রতি মাত্র পনের টাকা (২০০০ সালের হিসেবে)।
ফেরার পথে জৈনমন্দির, শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ, আনন্দময়ী মায়ের আশ্রম শেষ করে একেবারে প্রায় সন্ধ্যার মুখোমুখী উষ্ণকুন্ডের কাছে। জুতো খুলে ঢুকতে হবে। মোজা খোলাও দরকার না হলে ভিজে যাবে। উষ্ণকুন্ড বেশ গভীর। সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে সিঁড়ির ধাপ নেমে গেছে নিচে। অনেকেই স্নান করছে। আমাদের কারোর তখন স্নান করার প্রয়োজন ছিল না তাই বাইরে বেরিয়ে এসে আবার টাঙ্গায় চড়ে বসি।
পরের দিন খাওয়া দাওয়া করে বাস ছাড়ার কথা দুপুরে। গন্তব্য হবে নালন্দা আর পাওয়াপুরী। কিন্তু অকারণ আলস্যে বেলাটা কাটিয়ে দিতে মন চাইল না। টাঙ্গা ভাড়া করা হল জনপ্রতি হিসেবে দুটো স্পট অর্থাৎ জাপানী মন্দির আর মিউজিয়াম দেখার জন্যে। জাপানী মন্দিরের যথেষ্ট আকর্ষণ বৈশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও বলব মিউজিয়ামটিকে কেউ যেন অবহেলা না করেন। যথেষ্ট সময় নিয়ে এই প্রদর্শনীশালাটি ঘুরে দেখা ভাল। মহাবীরের জীবনী নিয়েই মূলত এই প্রদর্শনী তবু এত সুন্দর কারুকার্য বেশ ভাল লাগে।
ফিরে এসে চান-খাওয়া। সেরে আবার বেরিয়ে পড়া গেল নালন্দার পথে। রাজগীর থেকে মাত্র দশ বার কিলোমিটারের ব্যবধানে নালন্দা। বাঁ দিকে অতীতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে একটি ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছু নয়। গাইড ছাড়া ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ অনেকটা নুন ছাড়া ভাত খাওয়ার মত। পেট ভরলেও মন ভরে না। পা দুটোকে চালিয়ে ভ্রমণ করছি বটে তবে কৌতূহল মিটছে না। তাই গাইডের সঙ্গে চুক্তি করে নেওয়া গেল। চল্লিশজনের বাসভর্তি যাত্রীর জন্যে দক্ষিণা মাত্র চল্লিশ টাকা (২০০০ সালের হিসেবে)।
যা হোক প্রদর্শকের হিন্দি সুরারোপিত বাংলায় শুরু হল আমাদের নালন্দা পরিভ্রমণের পরিদর্শন-বক্তৃতা। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ-এর স্মৃতি বিজড়িত আচার্য শীলভদ্রের নালন্দা সত্যই এককালে ছিল বিশ্বের বিদ্যালয়। প্রায় সারা পৃথিবীর এক মহাবিস্ময়—বিপুল এক জ্ঞানভান্ডার। দশ হাজার ছাত্র আর দেড় হাজার শিক্ষকের থাকার ঘর, অধ্যয়নের ঘর এমন কী বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার পর্যন্ত। আটফুট চওড়া দেওয়াল দিয়ে ঘেরা ঘরগুলি ছিল প্রাকৃতিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। গরমের সময় ঠান্ডা আর শীতের সময় গরম আরামদায়ক ঘরগুলোর দরজার পরিবর্তে ছিল বিশাল বড় বড় হুড়কোর ব্যবস্থা। ওই হুড়কো বন্ধ থাকলেই ধরে নিতে হত ঘর বন্ধ আর ভেতরে যাওয়া মানা। কঠোর অনুশাসনের মধ্যে ছিল তখনকার ছাত্রজীবন। বিস্ময়ের এক মহাঘোরের মধ্যে দিয়েই সিঁড়ি বেয়ে উঠলুম একেবারে ওপরে। ধ্বংসস্তূপের একেবারে শিখরে। বিশাল এক ইতিহাসকে দেখে নেওয়া গেল পাখির চোখে। সত্যিই চমৎকার। আমাদের ভারতবর্ষ যে অতীতের এক পৃষ্ঠায় সারা পৃথিবীকে জ্ঞানালোকে আলোকিত করত এই গর্বটুকু মনের মধ্যে পুরে নিয়ে ফিরে চললাম।  
এবার উল্টোদিকের সংগ্রহশালায়। নালন্দা ধ্বংসস্তূপ খননের ফলে যা কিছু মূর্তি, তৎকালীন ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি, অস্ত্রশস্ত্র, বাসনপত্র ও আরও নানা সামগ্রী রাখা আছে এই সংগ্রহশালায়। কিছু মাথায় ঢুকল কিছু ঢুকল না। ইতিহাসের ছাত্র নই। তবে রসায়নের ছাত্র হিসেবেও জানি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের বিক্রিয়ায় যে ভবিষ্যৎ তৈরি হয় তাতেও থাকে অতীতের ছাপ, অতীতের বিষয়, অতীতের বিস্ময়, অতীতের শিক্ষা। 'ইতিহাস নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়'-এই বক্তব্যই ইতিহাস পাঠের সার্থকতা উপলব্ধি করায়। এ কথা অনস্বীকার্য যে ঐতিহাসিক এই বিখ্যাত ধ্বংসস্তূপটিতে না এলে বোধহয় বুঝতেই পারতাম না ইতিহাসের পরমাণু বিস্ফোরণ কাকে বলে। নগ্নচোখে অদৃশ্য অতিক্ষুদ্র এক পরমাণুর ততোধিক ক্ষুদ্র কেন্দ্রক বিদীর্ণ হয়ে সৃষ্টি হয় বিশাল পরিমাণ পারমানবিক শক্তি। তুলনায় এই নালন্দা তো অতি স্পষ্ট রূপে দৃশ্যমান। খনন কার্যটিকে যদি কেন্দ্রক বিদারণ হিসেবে ধরা যায় তো অতীত নালন্দার এই ধংসস্তূপ অতি অবশ্যই তুলনীয় সেই পারমানবিক মহাশক্তির সঙ্গে যা বলে দিচ্ছে কী বিশাল এক কর্মকান্ড আর জ্ঞানভান্ডার ছিল অতীতের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিকশিত এই মহাশক্তিটি শুধু আমাদের মন্ত্রমুগ্ধই করে না, অতীতের এই জ্ঞানভান্ডারটির আলোকোজ্জ্বল এক রূপ উপস্থাপিত করে আমাদের বোধবুদ্ধির সমীপে।
এখানে বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। সূর্য প্রায় দিকচক্রবালের কাছাকাছি। ঘড়িতে পাঁচটা বাজতে আর কুড়ি মিনিট। পৌঁছেছি  পাওয়াপুরি। মন্দিরগুলো এক এক করে বন্ধ হয়ে যাবে পাঁচটার সময়। অতএব পড়ে গেল হুড়োহুড়ি। টাঙ্গা আর অটোর সঙ্গে দর কষাকষি। কিন্তু এই দুই বাহনই প্রায় সমান ভাড়া দাবি করছে দেখে আমরা এই খানাখন্দ ভরা এবড়োখেবড়ো পথে অটোকেই বেছে নিলাম। তারপর সেই অটোচালকের রণকৌশলের ওপর নির্ভর করে আর পৈত্রিক প্রাণগুলোকে ভাগ্যের হাতে সঁপে দিয়ে এগিয়ে চলি। এটা রাস্তা নাকি পাথরে ভরা চন্দ্রপিষ্ঠ ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। তবে একটা কথা বোঝা যাচ্ছিল যে দুপুরে যা খেয়েছিলুম সেগুলো সব এমন হজম হয়ে গেছে যে পেটের ভেতরে কোথাও খুঁজে পাওয়াই দুস্কর।
এখানকার জৈন মন্দিরগুলি অপূর্ব। তবে অপূর্বতম বোধহয় বিশাল সরোবরের মধ্যে বসান জলমন্দিরটি। জলপুরী নামে যা অভিহিত। অজস্র তামরসশোভিত এই সরোবরে পাতা যত দেখেছি ফুল তত পাইনি। নানা জাতের পাখিরা পদ্মপাতার ওপর দিয়ে গটগট করে হেঁটে যাচ্ছে এ দৃশ্য ভারি মনোহর।
অস্তগামী সূর্যের ছটায় ভগবান মহাবীর জৈনের শ্বেতাম্বর মূর্তিটি এখানে অর্থাৎ সরসিজ মধ্যস্থ এই শ্বেতপাথরের প্রাসাদে এক অনাস্বাদিত মহাপ্রসাদের মত লাগল। মহাবীরের পবিত্র পুতাগ্নি স্থাপন করা হয়েছে এখানে। আবশ্যিকভাবেই মাথা নিচু করে ঢুকতে হয় এখানে কারণ সাড়ে তিনফুট দরজা দিয়ে ঢোকার কৌশল ঐ একটাই। ঠিক তার পেছনে রয়েছে মহাবীরের পদচিহ্ন। মন্দির থেকে পাড়ে যাওয়ার চমৎকার সেতুপথ দিয়ে মানসিক প্রশান্তি নিয়ে যখন ফিরে চলেছি তখন গোধূলিলগ্নের স্নিগ্ধ লাল সূর্যটা ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে অস্তাচলের কন্দরে।  
আজকের মত ভ্রমণ শেষ করে খেয়ে নেওয়া গেল। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে। এবার রাজগীরের পথে। কাল ভোর ছটায় বাস ছাড়বে। কালকে যাব বুদ্ধগয়া। হোটেলে ফিরে খেয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া গেল।
ভোর সাড়ে তিনটেয় উঠে চান। করতেই হল কারণ কাল সারাটা দিন আমাদের পথে অর্থাৎ বাসের মধ্যেই থাকতে হবে। ভোর সাড়ে ছটাতেই বাস যেন তোপধ্বনি করে যাত্রাশুরুর ইঙ্গিত দিল। বাসে ওঠার আগে চা বিস্কুট খাওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে বাসে জলখাবার দেওয়া হবেআজ ঠাসা প্রোগ্রাম। তাই উদরেও তো কিছু ঠেসে দিতে হবে।
এবার চলেছি বৌদ্ধগয়ার পথে। গয়াকে না ডিঙ্গিয়ে বৌদ্ধগয়া যাওয়ার উপায় নেই। গয়া একটি হিন্দু তীর্থ। আবার প্রেতযোনি থেকে উদ্ধার পাওয়ার পীঠস্থানও বটে। পরিব্রাজক বা পর্যটক যেই হোক না কেন গয়া ভারতের বুকে একটি অতি উল্লেখযোগ্য স্থান। ঐতিহাসিক আর পৌরাণিক তো বটেই।
অন্তঃসলিলা ফল্গু নদীর তীরে বাসটা যখন দাঁড়াল তখন বেলা প্রায় নটা। রুটি কলা আর ডিমসেদ্ধ দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারতে ব্রিজটার পাশে দাঁড়িয়ে ধ্যান দিই নদীর ওপারে 'গয়া' নামক প্রেতমুক্তির ও পিন্ডকরণের সেই স্থানটির প্রতি। গয়ায় পিন্ড দেওয়ার স্থান দুটি। একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর অন্যটি অপঘাতমৃত্যুর যা প্রেতশীলা নামে অভিহিত।
প্রাকৃতিক দৃশ্য বড়ই মনোহর। পঞ্চসতীর অন্যতমা সীতার শাপে ফল্গু হয়েছে অন্তঃসলীলা। ধু ধু বালিখাতে বালির অন্তর দিয়ে বয়ে চলেছে নদীর চোরাস্রোত। ইতিহাসকে মাটি ফুঁড়ে উঠতে দেখেছি রাজগীরে। এখানে পূরাণ যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে- রামায়ণের কত কাহিনী উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে চিন্তার বাতায়ন পাশে। অভিশপ্ত ফল্গুনদী এখানে ঢুকেছে বালির অভ্যন্তরে। অস্তিত্ব শুধু তার চোরাস্রোতের মধ্যে দিয়ে। বাল্মিকী সৃষ্ট নায়িকা সীতার শত দুঃখের ভারে ভারাক্রান্ত মন নিয়েই উঠে বসেছি বাসে। বাস ছেড়েছে আর আমরা ছেড়েছি গয়াকে।
বেলা দশটার মধ্যেই পৌঁছে গেছি বৌদ্ধদের ধর্মক্ষেত্র ও পীঠস্থান বুদ্ধগয়ায়। বাসটা দাঁড়াল থাই মনাস্টারি বা থাইল্যান্ডের মন্দিরের গা ঘেঁষে। রাস্তার এক পাশে। রাস্তা এখানে খুব চওড়া আর মসৃণ ও পরিষ্কার। আজ আর কোনও হোটেলে ওঠার সময় নেই। ঠাসা এই ভ্রমণসূচীতে উদর পূরণেরও একটা আবশ্যিক পর্ব রাখতে হয়। একটা স্কুল চত্বরে ব্যবস্থা হল রান্নাবান্নার। আমাদের সঙ্গে ক্যাটারিং গিয়েছিল। তাই তারাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল এই কাজে।
আমরা চা খেয়ে বেরিয়ে পড়ি। এখানে অনেক মন্দির। সুন্দর আর সুদৃশ্য। পায়ে হেঁটে ধীরে সুস্থেই চলেছি মন্দির দেখতে। শান্ত আর শান্তির এক ক্ষেত্র। যা কিছু কথা সবই পর্যটকদের। উত্তরের দিকে হাঁটা দিই। প্রধান দ্রষ্টব্য মহাবোধি মন্দির। এর চত্বরটা যেমন বিশাল তেমন বিশালত্ব এর উচ্চতায়।  
সেদিন মেলা উপলক্ষে সমাগম হয়েছিল বহু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বির। বিরাট মেলা বসেছিল মন্দির প্রাঙ্গনে। শত সহস্র ভক্তের মিছিলের মধ্যে দিয়ে সংকীর্ণ পথটুকু করে নিয়ে কোনরকমে আমরা ঢুকে পড়লাম ভেতরে। অর্থ মূল্যের বিনিময়ে ক্যামেরায় ছবি তোলার অনুমতি পাওয়া যাবে। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হল। বলাই বাহুল্য এখানে দেবতা স্বয়ং বুদ্ধদেব। সৌম্য মূর্তিটি দর্শন করে আমরা বেশ প্রীত হলাম। বিগ্রহ দর্শনের পর মন্দির প্রদক্ষিণ। ভাস্কর্যের চমৎকার এই মহা নিদর্শনটি মনে রাখার মত। মন্দিরের পাশে পাশে দেওয়ালে জ্বলছে শত শত প্রদীপ। ভক্তের দল প্রদীপ সাজাতে ব্যস্ত। অনেক ভক্তকে দেখা গেল দন্ডী খাটতে। আবার কয়েক জন মিলে পাঠ করছে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আর শৃংখলা লক্ষণীয় ছিল।
মন্দির প্রদক্ষিণ সেরে পায়ে পায়ে এসে পৌঁছলাম বিখ্যাত সেই বিশাল বোধিবৃক্ষের পদতলে। এই সেই বোধিবৃক্ষ যার নিচে তপস্যা করে গৌতম 'বোধিত্ব' অর্জন করেছিলেন। এর বিশালতা এক মুগ্ধ –বিস্ময়ে দর্শন করার মত।
ভীড় কাটিয়ে অতিকষ্টে সেখান থেকে তিব্বতীয় মনাস্টারি। মন্দিরগুলি সবই অলংকরণের বৈশিষ্টে উজ্জ্বল। শুধু মন্দিরই নয়, এখানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল দুশ কুইন্ট্যালের ধর্মচক্র যা শুধু ঘুরেই চলেছে। কিন্তু সেই ধর্মচক্রে হাত ছোঁয়ানোর পুন্যকর্মটুকু সারার আগেই মন্দির হয়ে গেল বন্ধ। ব্যস্ততায় হয়ত বলতে ভুলে গেছি বারটা থেকে দুটো পর্যন্ত এখানকার সব মন্দির বন্ধ থাকে।
এরপর তো আস্তে আস্তে সব মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে। দুটোর পর আর আসা যাবে না। কারণ তখন আমাদের খাওয়া আর ফিরে যাবার তাড়া। তাই হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। আমরা কয়েকটা অটো ভাড়া করে উঠে পড়লাম।
চীনা মনাস্টারি দেখে অটো থামল থাই মনাস্টারিতে। অভাবনীয় স্থাপত্বকলার অচিন্তনীয় এক প্রদর্শনী। মনে হল যেন দেখে যাই আর দেখে যাই। কিন্তু এই মন্দির-নগরীতে মন্দিরের আর শেষ কোথায়? কিন্তু হাতঘড়ির ঘূর্ণায়মান কাঁটা বলে দিচ্ছিল সময়ের একটা শেষ আছে।
এরপর একে একে ভুটানি মন্দির, জাপানী মন্দির। আর এরই পাশে যা দেখলাম তা বোধহয় অবর্ণনীয় অত্যাশ্চর্যতায় ভরা। স্থাপত্যের পরে ভাস্কর্যের এই চমকপ্রদ নিদর্শনে শুধু অভিভূতই নয়, একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলাম। আশি ফুট উঁচু বিশাল ধ্যানরত বুদ্ধমূর্তি। একটা মাত্র পাথর কেটে কেটে এটি নির্মিত হয়েছে। মাঝে কোথাও জোড় নেই, নেই কোনও ফাটলও। আগে যা দেখেছি সব কিছু যেন নিস্প্রভ হয়ে গেল এই দৃশ্যে। কেন না আগের সব কিছুর মধ্যেই ছিল আড়ম্বরের আয়োজন আর প্রাচুর্যের প্রকাশ। কিন্তু বিশাল এই মূর্তির উপাদান শুধুই এক তাল পাথর। একটা সামান্য ছেনি আর হাতুড়ি যে জড় এক খন্ড পাথরে এমন ভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, এ মূর্তি না দেখলে তা বিশ্বাস করা খুব কঠিন। সুতরাং বিস্ময়-বিমুগ্ধ চোখে অনেকটা সময় ব্যয় করে ফেললাম এই বিস্ময়-শিলাটি ভালভাবে অবলোকন করতে।
খাওয়ার পরে সামান্য বিশ্রাম। দুপুর তিনটে নাগাদ বাস ছাড়ল। বিদায় বুদ্ধগয়া, বিদায়। রাজগীরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে যেমন নিয়েছি কৌতূহল মেশান আনন্দটাকে, বুদ্ধগয়ার ঐশ্বর্যের মধ্যে থেকেও নিয়ে চললাম পরিপূর্ণ একটা হৃদয়কে। ইতিহাস, পুরাণ, ধর্ম আর দর্শন—একই অঙ্গে এত রূপ দেখি নি তো আগে। তাই সারাটা পথ রোমন্থন করে চললাম সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া ভ্রমণের এই স্মৃতিটাকে। রাত্রি শুরুর তমসাচ্ছন্ন বাসযাত্রার মধ্যে চিন্তাচ্ছন্ন যে মনটাকে আবিষ্ট আর একাত্ম করে দিয়েছিলাম রাত শেসের আর এক সূর্যোদয় জাগিয়ে দিল তাকে। বলল, হে পর্যটক, ওঠো, জাগো। শক্তি সঞ্চয় কর। এক ভ্রমণের সমাপ্তি দিয়ে সূচনা কর আর এক ভ্রমণের ইচ্ছেটাকে।
ঘড়িতে তখন ভোর ছটা। 
 ================================================

 DR. ARUN CHATTOPADHYAY
181/44 G.T.Road (Gantir Bagan)
P.O.Baidyabati
Dist. Hooghly(PIN 712222)
Mobile 8017413028
Mobile 8017413028
                   

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432