Skip to main content

গুচ্ছকবিতা ।। মেশকাতুন নাহার

নবপ্রভাত


গুচ্ছকবিতা ।। মেশকাতুন নাহার 


স্বাধীনতার নীরব প্রস্থান

 
এক প্রেমরাষ্ট্র গড়ে ওঠে অনুভূতির নামে,
সেখানে ক্ষমতা বসে থাকে ভালোবাসার ফ্রেমে।
শাসন চলে হাসিমুখে, আদেশ আসে নরমে,
নরম শব্দের আড়ালেতে স্বৈরাচারই কর্মে। 

রাষ্ট্রপ্রধান প্রেমিক বটে, আইন নিজেই লেখে,
যা সে বলে সেটাই সত্য—বাকিটা সে মুছে রাখে।
সংবিধান তার খুবই ছোট, একটিমাত্র ধারা—
ক্ষমতাই যে ভালোবাসা, প্রশ্ন মানে হারার সারা।

নাগরিক আছে, অধিকার নেই—থাকে শুধু দায়,
মতামত দেয় অনুমতিতে, সীমার ভেতর চাই।
নিজস্ব চিন্তা উচ্চারণে রাষ্ট্রদ্রোহ গোনা,
স্বাধীনতার সংজ্ঞাটুকু সন্দেহে ভেজানো সোনা।

"ভালোবাসা মানে অধিকার"—ঘোষণা চলে নিত্য,
সম্মতি সেখানে অপরাধ, 'না' শব্দটি অসত্য।
কখনো কবি হয়ে শাসক ছন্দে রাগ ঝাড়ে,
সমস্যার সব উৎস খুঁজে দুর্বল কণ্ঠে পাড়ে।

কখনো দার্শনিক সেজে বক্তৃতা দেয় ভারী,
স্বাধীনতা নাকি বিলাস, সীমাবদ্ধতাই সারি।
এইভাবে রাষ্ট্র চলে বেশ শান্ত আর গম্ভীর,
ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে যায় অন্তর আর শরীর। 

হঠাৎ একদিন নাগরিক পাঠ বদলায় ধীরে,
রাষ্ট্র নয়—জীবন পড়তে শেখে নিজের নীড়ে।
দেখে সে মানুষ জন্মেছে, শাসনের জন্য নয়,
ভালোবাসা মানে শৃঙ্খল—এই বোধে জাগে ভয়।

কোনো বিদ্রোহ, কোনো মিছিল, কোনো শব্দের ঝড়—
শুধু নীরব পদত্যাগে ভাঙে ক্ষমতার ঘর।
স্বৈরশাসক রয়ে গেল, সিংহাসনও তাই,
রাষ্ট্র আছে—নাগরিক নেই, ইতিহাস শুধু ছাই।

আর যে বেরিয়ে গেল নীরব সত্য জেনে,
সে এখন স্বাধীন সত্তা—নিজস্ব সীমা বুনে।
কোনো প্রেমরাষ্ট্র নয়, কোনো শাসনজাল নয়,
সে এখন স্বাধীন জীবন—সম্পূর্ণ নির্ভয়।


ভগ্ন প্রতিশ্রুতির প্রহেলিকা


এমন পরিণতি কি অনিবার্য ছিল,
স্বপ্নের অন্তর্গত নক্ষত্রগুলো কি
এভাবেই নিভে যাওয়ার জন্যই জন্মায়?
হৃদয়ের উপকূলে যে রঙিন জোয়ার উঠেছিল,
তা কি কেবলই সময়ের নিষ্ঠুর ভাটার জন্য?
এ তো বিধানের শৃঙ্খলা নয়,
এ যেন নিয়মের ছদ্মবেশে
অনিয়মের দুর্গন্ধময় কারাগার—
যেখানে ন্যায়ের ভাষ্য লেখা হয়,
কিন্তু ন্যায় নিজেই বন্দী অন্ধকারে।
তোমাদের কি তবে মেধাবী বলবো,
নাকি ইতিহাসের নিষ্ঠুর প্রহরী—
যারা জ্ঞানের আলোকবৃত্তে দাঁড়িয়ে
অজ্ঞতার শৃঙ্খলই নির্মাণ করে?
বিস্ময় লাগে—
একই কণ্ঠে ভ্রাতৃত্বের মহিমান্বিত শ্লোক,
আর গোপন প্রাঙ্গণে প্রতারণার কৌশলচর্চা;
স্লোগানে ন্যায়বিচারের দীপ্তি,
কিন্তু ব্যবহারে অন্যায়ের অদৃশ্য সাম্রাজ্য।
মানুষ কি সত্যিই পারে
হিংসা ও অহংকারের অগ্নিবীজ
নিজের অন্তর থেকে নির্বাসিত করতে?
নাকি সভ্যতার আবরণে লুকিয়ে থাকে
প্রাচীন পশুত্বের অবিনাশী ছায়া?
তবুও মনে হয়—
এমন তো হওয়ার কথা ছিল না;
মানুষের ধর্ম তো ছিল আলোর দিকে যাত্রা,
তবু স্বার্থের বেদীতে
ধর্মই কেন বারবার বলিদান হয়?
সময়ের কাছে প্রশ্ন রেখে যাই—
যে পৃথিবী আমরা স্বপ্নে গড়েছিলাম,
সে কি সত্যিই এইরকম হওয়ার কথা ছিল?


দূরের দীপশিখা 


তুমি মনে রেখো—
অস্তিত্বের গূঢ় উপকূলে
আমি এক নীরব অনুবাদক,
সময়ের অনির্ণেয় সমীকরণে হারিয়েও
তোমার নামই পাঠ করি অবিরত।

হয়তো আমাদের পথরেখা
কখনও সমাপতিত হবে না একই অক্ষরেখায়,
নিয়তির গুপ্ত লিপিতে
আমরা দু'জন দুই বিপরীত উপপাদ্য;
তবুও চেতনার অন্তর্লোকে
তুমি-ই আমার অনিবার্য পরিভাষা।

দূরত্ব—
ক্রমবর্ধমান এক প্রাচীর,
যার ইট গাঁথা হয়
অপ্রকাশিত বেদনা আর সময়ের স্তবকে;
তবুও অনুভূতির অধিবিদ্যা জানে—
কীভাবে অদৃশ্য স্রোতে ভেসে যেতে হয়
এক হৃদয় থেকে অন্য হৃদয়ের অতল গহ্বরে।

আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস
একটি নীরব মন্ত্রোচ্চারণ,
যেখানে তোমার নামই
অনুরণিত হয় মহাকালের প্রান্তে;
প্রতিটি প্রার্থনা—
এক অনামা উপাসনা,
যেখানে তুমি-ই একমাত্র দেবতা,
আর আমি এক নির্বাক আরাধক।

এই ভালোবাসা—
কোনো অর্জনের সমীকরণ নয়,
বরং এক অন্তহীন অন্বেষণ,
যেখানে প্রাপ্তির চেয়ে
অপূর্ণতার দীপ্তিই অধিক উজ্জ্বল।

তুমি মনে রেখো—
না-পাওয়ার এই মহাকাব্যে
আমি এক অনন্ত চরিত্র,
যে শেষ অবধি বেঁচে থাকে
শুধু তোমার প্রতিধ্বনির ভেতরেই—
নিভৃতে, নির্জনে, নিঃশেষে।


মশার গণতন্ত্র 


এই শহরে মশা বাহিনীর বাড়ছে খুব দাপট,
দিনে কম, রাত নামলেই বাড়ে তাদের জট।
ড্রেন ভরা, জল জমে—ওদের সুখের ঘর,
আমরা শুধু রক্তদাতা, তারা ধরণীধর। 

কানের কাছে গুনগুনিয়ে গায় ভয়ের গান,
ঘুম এসেও আর আসে না,শুনে শ্লোগান। 
হুল ফুটিয়ে নেয় যে রক্ত বড়োই অবিচার,
মশার সাথে যুদ্ধে নেমে হারি বারংবার। 

কয়েল জ্বালি, স্প্রে ছিটাই—চলছে কত চেষ্টা,
মশা বলে—"এসব দিলে বাড়ে আরও তেষ্টা। 
মশারি টানলেও খুঁজে নেয় ওরা গোপন পন্থা,
রক্ত খেয়ে বাড়ায় শক্তি,বাড়ায় দাপট,আস্থা।

ডেঙ্গুর ভয়, চিকুনগুনিয়া—নতুন নতুন চাল,
সাজিয়ে দেয় ডাক্তার বাবুকে অসুখেরই জাল।
আমরা শুধু চুলকাই বসে করি আহাজার,
ওরা নাকি উৎসব করে—"রক্ত আমাদের অধিকার!"

মানুষ নাকি মশার শহর—বুঝা আজকাল দায়,
মশার দাপটে নাগরিক সব আছে বেকায়দায়। 
কবে যে মুক্তি মিলবে,মশার রাজত্ব থেকে,
নাকি মশাই শাসন করবে এই শহরটাকে!


ছুটির ডানায় ফিরে দেখা 



যদি একটা ছুটি হতো, যেতাম আপন দেশে,
মনের ভিতর জমে থাকা স্বপ্ন হাসত শেষে। 
ইচ্ছে গুলো ডানা মেলে উড়ত নীল আকাশে,
মুক্ত হাওয়ায় ভাসত হৃদয় সুখেরই আবেশে।

মাটির গন্ধ ভরিয়ে দিত বুকেরই শূন্যতা,
শেকড় ছুঁয়ে জেগে উঠত হারানো ব্যথার-কথা।
শৈশব ভেজা পথের ধুলো ডাকত নীরব সুরে,
ফিরে যেতাম ফেলে আসা স্মৃতির আপন ঘরে।

নদীর বুকে ভাসত আবার হাসির নৌকা-গান,
চেনা মুখের ভিড়ে পেতাম আপন পরিচয় খান। 
মেঠো পথে হেঁটে হেঁটে খুঁজতাম সেইসব দিন,
যেখানে সব স্বপ্নগুলো ছিল রঙিন, অমলিন।

বকুল ফুলের গন্ধ মেখে জেগে উঠত মন,
চাঁদের আলোয় লিখতাম বসে হারানো সেই ক্ষণ।
যদি হতো খুশির ছুটি, মিলত প্রাণের টান,
নিজের ভিটায় গাইতাম আমি জীবনেরই গান।


অস্তিত্বের অন্তরালে সেই তুমি 



চৈতন্যের গূঢ় প্রান্তরে যে অবয়ব অদৃশ্য,
তুমি সেই অনামা —
যার স্পর্শে জেগে ওঠে রঙের আদিম অভিধান,
অস্তিত্বের ক্যানভাসে আঁকা হয় অনন্তের প্রথম উচ্চারণ।

রামধনুর বহুরূপী বিভঙ্গে তুমি একক সুর,
অদ্বৈত দর্শনের নীরব অনুরণন—
তোমার উপস্থিতি, যেন সময়ের ভাঁজে লুকানো কোনো সূত্র,
যা উন্মোচিত হলেই সৃষ্টি পায় তার নিজস্ব ব্যাখ্যা।

হৃদয়ের অতল গহ্বরে যে অনুসন্ধান নিরবচ্ছিন্ন,
সেই যাত্রাপথের একমাত্র দিকনির্দেশ তুমি—
অজানার প্রতি যে আকর্ষণ, তারই মহাজাগতিক রূপ,
যেখানে আমি হারাই, আর তোমাতে খুঁজে পাই নিজেকে।

তুমি চন্দ্রালোক নও, তুমি তার উৎসগত ব্যঞ্জনা,
যে আলোতে অন্ধকারও হয়ে ওঠে অর্থবহ—
তোমার নৈঃশব্দ্য, যেন ভাষার অতীত কোনো তত্ত্ব,
যেখানে উচ্চারণ মানেই সীমাবদ্ধতা।

হৃদয়াকাশের অনন্ত বিস্তারে তুমি ধ্রুব,
আমার সকল সংশয় যার চারপাশে আবর্তিত—
তোমার রূপ, কোনো দৃশ্যমান প্রতিমা নয়,
বরং বোধের গভীরে স্থাপিত এক চিরন্তন প্রতীক।

জীবনের সমস্ত ভাঙাগড়া, সকল অস্থির সমীকরণ পেরিয়ে,
তুমি সেই অনিবার্য পুরুষ—
যার জন্যই রঙেরা পায় তাদের পরম সংজ্ঞা,
আর আমি, তোমারই অভিমুখে, হয়ে উঠি পূর্ণতার আরেক নাম।


ধাতব দ্বৈততার মূল্য-ভ্রান্তি



স্বর্ণমুদ্রা ঝলসে ওঠে রাজপথের শীর্ষ আলোয়,
তাম্রমুদ্রা পড়ে থাকে ধুলো জমা পথের ঢালোয়।
দু’টিই গড়া আগুনে, একই দহন, একই ঢালাই,
তবু একটির জন্য মেলা বসে, অন্যটি অবহেলায় ঠাঁই।

স্বর্ণের ঝংকারে খুলে যায় অগণিত দ্বারের কপাট,
তাম্রের স্পর্শে নড়ে না কোনো বন্ধ সম্ভ্রমের আঘাট।
একটি হাতে হাতে ঘুরে ক্ষমতার উষ্ণ পরশে,
অন্যটি হারায় নিঃশব্দে সময়ের দুখের নিঃশ্বাসে। 

দু’টিরই ওজন সমান, একই ইতিহাসের রেখা,
তবু রঙের প্রলেপে বদলে যায় মূল্যবোধের লেখা। 
স্বর্ণমুদ্রা উঠে যায় সিংহাসনের অলঙ্কার হয়ে,
তাম্রমুদ্রা মিশে থাকে জনতার নীরব ক্ষয়ে।

একটির নামে লেখা হয় কীর্তির দীপ্ত অধ্যায়,
অন্যটির কথা চাপা পড়ে বিস্মৃতির অন্ধকার ছায়ায়।
তবু গভীর খনিতে, সময়ের অদৃশ্য বিচারকালে,
তাম্রমুদ্রাই টিকে থাকে মাটির চিরন্তন জ্বালে।

কারণ স্বর্ণ ক্ষণিক জৌলুস—অবস্থানের উঁচু সিঁড়ি, 
তাম্রের বুকে থাকে ইতিহাস—নির্ভীক, নির্লোভ কুঁড়ি।
শেষে সব আলো নিভে গেলে, সব পরিচয় গেলে ঝরে,
ধাতুর সত্যই জাগে—সমতার নির্মম সত্যের নীড়ে।


অনুপস্থিতির অদৃশ্য মহাকর্ষ



পাহাড় ভেঙে পড়লেও
মানচিত্রের রেখা খুব একটা বদলায় না—
শুধু কোনো এক উপত্যকায়
নীরবে জমে ওঠে ধুলো
আর নিঃশ্বাসহীন নীরবতা।

সমুদ্রও তো জানে—
এক ফোঁটা লবণজল শুকিয়ে গেলে
তার নীলত্ব কমে না খুব;
তবু গভীরের অন্ধকারে
কখনো কোনো ঢেউ
নিজেরই নাম ভুলে যায়।

আকাশে একটি তারা নিভে গেলে
রাত্রির অভিধান বদলায় না,
তবু দূরের কোনো নাবিক
হঠাৎ করেই হারিয়ে ফেলে
তার গোপন দিকনির্দেশ।

বনের ভেতর একটি বৃক্ষ ঝরে গেলে
সবুজের সমারোহ কমে না খুব;
শুধু কোনো অচেনা পাখি
খুঁজে পায় না আর
তার বহুদিনের চেনা ডাল।

পৃথিবী তবু পুরোনো ছন্দেই থাকে—
সূর্য ওঠে,
নদী বয়ে যায়,
বৃষ্টি মাটির কপালে
নীরব চুমু এঁকে দেয়।

তবু কোথাও কোথাও
জন্ম নেয় অদৃশ্য শূন্যতা—
যার কোনো নাম নেই,
কোনো ঘোষণা নেই;
শুধু নিঃশব্দে বদলে যায়
কারো অন্তর্গত ঋতুচক্র।


ক্ষমতার পুতুলনাট্য ও নীরব দর্শক



তুমিই তো সর্বজ্ঞতার স্বঘোষিত মন্দির।
প্রায় এক যুগের অনুশীলনে
দরবারি কৌশলের গুপ্ত ব্যাকরণ
তোমার আঙুলে হয়ে উঠেছে নিখুঁত ব্যঞ্জনা।
ক্ষমতার অলিন্দে তুমি নীরব কারিগর—
কলকব্জা নাড়ার সূক্ষ্ম বিদ্যায়
প্রভুর অনুকম্পার তালা খুলে ফেলো
অদৃশ্য চাবির মৃদু ঝংকারে।

আমরা তখনও অপরিণত উচ্চারণ—
স্বাধীনতার প্রথম স্বরবর্ণ
জড়তা নিয়ে লিখতে শিখি কেবল।
তোমরা বলো—
এটাই নিয়ম,
এভাবেই ইতিহাসের রথ চলে।
কিন্তু আমাদের চোখে পড়ে—
রথের লাগামটি
এখনো প্রাচীন প্রভুর হাতেই বাঁধা।
তোমার প্রজ্ঞা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর।
ক্ষমতার পুতুলনাট্যে
তুমি এক অনবদ্য সূতোর জাদুকর।
অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে
চেয়ারগুলো স্থান পরিবর্তন করে,
আর করতালির প্রতিধ্বনি
দরবারের দেয়ালে
নৈতিকতার ছায়াকে আড়াল করে রাখে।

আমরা তবু প্রশ্নের নবজাত প্রাণ
স্বাধীনতার অভিধান খুঁজি।
ইতিহাসের পাতায় তাকিয়ে ভাবি—
পরাধীনতার শেকল
আসলেই কি কখনো ভেঙেছিল?
নাকি কেবল ধাতুর রঙ বদলে
লোহার স্থলে সোনালি অলঙ্কার?
প্রভুর অবয়ব বদলেছে,
কিন্তু প্রভুত্বের দর্শন
অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।

স্বৈরাচারী মানসের মহড়া
তাই আজও সমবেত শক্তিতে অটল—
যেন এক অদৃশ্য সংহতি,
যেখানে ভিন্ন মুখগুলো
একই ছায়ার অনুগত প্রতিরূপ।

আর আমি—
এই মহৎ প্রজ্ঞার নাট্যমঞ্চে
সম্ভবত একমাত্র অদক্ষ দর্শক।
দরবারি ব্যাকরণের
জটিল রূপতত্ত্ব
আমার আয়ত্তে আসেনি কখনো।
তাই সত্যকে
সরল রেখায় দেখে
নিজেকেই আবিষ্কার করি
নির্বোধের আসনে।

শেষাবধি
বোকা আমিটা বোকাই থেকে যাই—
কারণ আমার বিশ্বাস
এখনো অবিনশ্বর:
স্বাধীনতা কোনো প্রভুর দানপত্র নয়,
এটি মানুষের আত্মমর্যাদার
মৌলিক উচ্চারণ।
যেদিন সেই উচ্চারণ
দরবারি কোলাহল ভেদ করে উঠবে—
সেদিন হয়তো
প্রভুর প্রাঙ্গণে প্রজ্ঞার অভিনয় থেমে যাবে,
আর ক্ষমতার সিংহাসনের নিচে
প্রথমবারের মতো
মানুষের প্রকৃত ছায়া
দৃশ্যমান হবে।


মিষ্টি কথার জটিল গণিত 



ভদ্রলোকের ভদ্র বচন—
চিনির থেকেও মিঠে,
শুনলেই মন গলে গিয়ে
হয়রে নরম পিঠে!

যেন শীতে খেজুর-গুড়ে
দুধে ভেজা পায়েস,
কথার ভাঁজে হাসির ঝিলিক—
পরনে স্টাইল-ড্রেস!

"আপনি সেরা! আপনি মহা!"—
বলতে নেই তাঁর জুড়ি,
ফুলতে ফুলতে কর্তা মশাই 
বাড়ায় তাঁরই বুড়ি। 

রসের ভাঁড়ে চামচ নেড়ে
ঢালেন মিষ্টি ঢেউ,
ক্ষেত্র বিশেষ দেখা যায় যে—
ধরা পড়েন কেউ!

হাসিমুখে চা এগিয়ে 
বসুন মহাশয়,স্যার,
পাঁচ মিনিটে স্বাক্ষর সারা-
ফাইল যে করেন পার।

কথার ভিতরে মাখন-ঘি,
আরও কাজু-কিশমিশ,
হিসেব কষা ভদ্রলোকটি -
বড়োই জটিল জিনিস। 

সবই কিন্তু ছল নয় ভাই
কথা সত্য মানি,
কিছু মানুষ নির্মল জ্যোৎস্না
অবিমিশ্র প্রাণী। 

যার বাক্যে ফাঁদ নেই আর
স্বার্থে ও নেই গন্ধ,
তার মিষ্টতা দীর্ঘস্থায়ী—
মানুষ পায় আনন্দ।


পরিমিতির প্রকোষ্ঠে নির্বাসিত অরণ্য 



আমি তখনো মহীরুহের স্বপ্নে উন্মুখ—
মৃত্তিকার অতল গর্ভে শিকড় প্রোথিত করে
অস্তিত্বকে স্থিতির দর্শনে স্থাপন করতে চাইতাম;
প্রখর রৌদ্রে দণ্ডায়মান থেকে
ঝঞ্ঝার সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে,
পাতার অন্তঃস্রোতে নিজস্ব ভাষ্যের লিপি উৎকীর্ণ করতে।

কিন্তু আমাকে প্রতিস্থাপিত করা হলো এক অলঙ্কৃত সীমানায়—
টবের সুশৃঙ্খল আবদ্ধতায়;
পরিমিত জল,
পরিমিত আলোক,
পরিমিত আকাঙ্ক্ষা—
যেন জীবনও একটি মাপজোখের প্রকল্প।

অদৃশ্য কাঁচির শীতল নিষ্ঠুরতায়
আমার শিকড়সমূহ ছেদন করা হলো নিঃশব্দে;
শাখাপল্লব কেটে দেওয়া হলো শৃঙ্খলার সুমধুর অজুহাতে।
তারা বলেছিল—
"সংকোচই শোভন,
সীমারেখাই সৌন্দর্য,
বিস্তারের স্পর্ধা অশোভন।"

ক্রমাগত নীরবতার অনুশীলনে
আমি রূপান্তরিত হলাম—
অরণ্যের অসীম সম্ভাবনা থেকে
কারুকার্য-নির্মিত এক সুশৃঙ্খল বনসাইয়ে;
বাহ্যিক পূর্ণতায় পরিপাটি,
অন্তর্গত বিস্তারে রুদ্ধ।

আমার উচ্চতা আর নক্ষত্রস্পর্শী নয়,
আমার ছায়া আর কারও ক্লান্তি আশ্রয় দেয় না;
বৃদ্ধির দিগন্তকে নান্দনিকতার নামে
কেউ একদিন পরিকল্পিতভাবে নির্বাসিত করেছে।

তবু এই অবরুদ্ধতার দায়
শুধু আমার নীরবতার উপর ন্যস্ত নয়—
দায় তাদেরও,
যারা শিষ্টতার কাঁটাতারে আমার কণ্ঠ পরিবেষ্টিত করেছিল;
যারা উচ্চারণকে অবাধ্যতা ঘোষণা করে বলেছিল—
"তোমার ক্ষুদ্রতাই তোমার গৌরব।"

আজ আমি অভিযোজিত—
নিস্তব্ধতার অভ্যাসে অর্জিত হয়েছে এক প্রকার স্থৈর্য,
এক প্রকার শূন্য-সমাহিত প্রশান্তি;
যেন আত্মসমর্পণও এক দার্শনিক অবস্থান।

তবু নিশীথের গভীর স্তব্ধতায়,
শুকনো পাতার ক্ষীণ ঘর্ষণে শুনতে পাই—
আমার অন্তঃকরণে এখনো এক সুপ্ত অরণ্য স্পন্দিত।

সে অরণ্য অবগত—
বনসাইয়েরও জিনগত স্মৃতিতে
মহীরুহের বীজ সুপ্ত থাকে;
স্বপ্নের অন্তত ভূগোলে
সে একদিন পূর্ণ বৃক্ষে পরিণত হবেই।


সেই মেয়েটি আজও দাঁড়িয়ে 



সেই মেয়েটি আজও দাঁড়ায় শান্তির পথের ধারে,
চোখে তাহার নীরব ভাষা,জমা ব্যথার ভারে।
ভাঙা স্বপ্ন ঢেউ হয়ে যে আছড়ে পড়ে মনে,
তবু বাঁচে এই বিশ্বাসে—আলো আসবেই ক্ষণে। 

ঝড়ের পরে ঝড় এসেছে থামেনি তাঁর চলা, 
রাতের শেষে রোদের খোঁজে ক্লান্ত দুপুর বেলা। 
অশ্রু লুকায় হাসির ভাঁজে শক্ত মুখোশ পরে,
নিজের কষ্ট নিজেই বয়ে নীরব রাখে ধরে। 

পথের ধুলো পায়ে মেখে ছুটছে সে অবিরাম, 
বুকের ভেতর যুদ্ধ চলে—নেই যে তাঁহার বিশ্রাম। 
আপোষ করা শেখেনি সে, ক্লান্তি চোখের নীচে,
লড়াইগুলো নিত্য নতুন বুকের ভিতর ঘুচে। 

নির্মম আঘাত, বজ্রাঘাত, ক্ষত হলো গভীর,
তবু আশার প্রদীপটুকু জ্বলছে যে অনড় স্থির।
ভেঙে পড়ার মুহূর্তেও সে খোঁজে ভোরের গান,
বিশ্বাস যে তার রৌদ্র হেসেই ভাঙাবে অভিমান। 

কোলাহলে হারায় মেয়ের কণ্ঠ ভরা সে সুর,
তবুও সে তালাস করে বসন্ত ঋতুর। 
সব হারানোর ভিড়েও সে হাল ছাড়েনি হায়, 
সেই মেয়েটি দাঁড়ায় আছে —ক্ষয়িষ্ণু অসহায়।


প্রতিদিনের ভোটযুদ্ধ



নিত্যই লড়ি—
অবহেলার সঙ্গে,
ব্যঙ্গমুখের সঙ্গে,
অশুভ বার্তার সঙ্গে।

নিত্যই হেরে যাই—
মুখোশের নৃশংসতায়,
অচেনা শব্দের তীক্ষ্ণতায়,
দুঃখের অচেনা ভেলায়।

ভোটের মাঠে যাই না,
তবু প্রতিদিনই ভোট দিই—
ভয়ের পক্ষে,
নীরবতার পক্ষে,
নিজেকেই গুটিয়ে রাখার পক্ষে।

মুখোশেরা দাঁড়িয়ে আছে,
হাসির পেছনে লুকানো নখ,
নৈতিকতার স্লোগানে মোড়া
হিংস্র হিসাব বাক্স খুলে। 

অচেনা শব্দ আসে—
"চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ",
"এতে তোমার কী আসে যায়",
"সবাই তো এমনই।"

ব্যালট পেপার চলে যায়
অচেনা হাতের দখলে,
আমি হেরে যাই
একটু একটু করে।

দিনশেষে দেখি—
স্বপ্নগুলো ক্ষণস্থায়ী,
সত্য দাঁড়িয়ে আছে বিরোধী দলে,
বিকৃত চিন্তার সংখ্যা অনন্ত।

এই শহরে কী হয়?ভোট উৎসব!
এ এক দীর্ঘ ক্ষয়,
যেখানে মানুষ প্রতিদিন
নিজেকেই হারায়—
ফল ঘোষণার আগে।


সত্তার অন্তর্গাথা



তিনি নন দৃশ্যমান প্রতিমা, নন অলংকারের অস্থায়ী প্রলেপ,
নন বাহ্যিক পরিধানের ভাঁজে বন্দী কোনো ক্ষণস্থায়ী রূপমায়া।
তিনি অন্তর্স্বরের গূঢ়তম অনুরণন,
চেতনার আকাশে নিবিড় দীপ্ত এক ধ্রুব নক্ষত্র—
অদৃশ্য অথচ অনিবার্য,
বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থিত অচঞ্চল অক্ষ।

রক্তস্রোতের অনুবীক্ষণিক গতিতে তাঁরই স্বাক্ষর,
বিবেকের গভীর কোষে তাঁর নীরব বিধিবাক্য।
চিন্তার মহাশূন্যে তিনি দিকনির্দেশক আলোকবিন্দু,
অবচেতনের অতল স্তব্ধতায়ও তাঁর অমোঘ অধিষ্ঠান।

তিনি আচরণের অবয়বে অদৃশ্য অনুশাসন,
প্রতিটি কর্মের অভিঘাতে প্রেরণার কম্পন।
পথের ধূলিকণায়ও প্রতিফলিত তাঁর পদরেখা,
প্রতিটি পদক্ষেপে অনন্ত প্রত্যয়ের অনুলিখন।

বাহ্যবস্ত্রের আবরণে তাঁকে খোঁজা বিভ্রমমাত্র—
কারণ তিনি অনস্তিত্বের অন্তর্লয়ে সত্তার পরম স্বরূপ।
দেহের প্রদর্শনে নয়,
নীতির গভীরতম অনুরাগে,
নৈতিক স্পন্দনের নিভৃত প্রদেশে
তিনি জাগ্রত অন্তর্জাগতিক শাসনশক্তি।

যেখানে হৃদয় স্বচ্ছ,
সেখানে তাঁর অবিচল আসন;
যেখানে কর্ম নির্মল,
সেখানেই তাঁর উচ্চারণ।

তিনি নন সাময়িক উল্লাসের প্রদর্শনী—
তিনি অন্তর্লিখিত সত্য,
মানবসত্তার নীরব, শাশ্বত ঘোষণা।


নীরব বসন্ত



ফাল্গুন এলে বসন্ত রঙে সূর্যমুখী হাসে,
ঝাঁকে ঝাঁকে ভ্রমর নামে লাজে লুটায় পাশে।
অংশুমালীর একটুখানি চাহনির আশায়,
প্রস্ফুটিত সে প্রতিক্ষণে আলোর অন্বেষায়।

চেরাপুঞ্জির মেঘেরা তাই ঈর্ষায় কালো হয়,
আলোর প্রেমে ডুবে থাকা ফুল চেয়ে রয় বিস্ময়। 
পরাগভরা উষ্ণ আবেশ কিরণে কিরণে দোলে,
নিঃশব্দ এক বুদ্ধিহীন প্রতীক্ষার দ্বার খোলে।

রাঙা ওষ্ঠে হাসি জমে কিরণ-নেশার রেশ,
পরিপূর্ণ হয় কি সাধ—জানে না সে বিদ্বেষ। 
সূর্যের সাথে বলবার ছিল অগণন না-বলা কথা,
বিন্দু বিন্দু স্বপ্ন বুনে গেঁথেছিল ব্যথা।

কিন্তু হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ভাঙল স্বপ্নজাল,
অব্যক্ত সব নীরব ভাষা উড়ল তুলোর পাল।
তবু সূর্যমুখী চেয়ে থাকে সূর্যালোকের পানে,
অন্ধ হয়েও পাপড়ি মেলে অনুরাগের টানে।

একদিন দিবাকর ডোবে অভিমানের ঘোরে,
উপেক্ষাকেই সঙ্গী করে ঝরে পড়ে সে ভোরে।
হারিয়ে যায় অচেনা পথে নিভৃত এক ঘরে,
ভালোবাসার নাম লিখে নীরবতার পরে।


সমুদ্রের নীলছায়া



হে সমুদ্র,
তোমার বিস্ময়কর সৌন্দর্য যেন অজস্র ভগ্নপ্রাণ মনকে ছুঁয়ে যায়,
নিয়মতান্ত্রিক জীবনের ধূসর সীমান্ত ছাড়িয়ে,
দূরত্বের বিভাজন ভাঙি, ছুটে চলি তোমার বিশাল, অজানা বুকের দিকে।
প্রতিটি নজরে আমি মুগ্ধ,
প্রতিটি স্পর্শে হারাই—
তোমার নিসর্গের রূপকথা যেন বুকে বাজে অশ্রু-মধুর নোট।

নীলতার অপূর্ব অন্দরে
তরঙ্গগুলো আছড়ে পড়ে উপকূলে,
সুরের ছন্দে ছড়ায় প্রণয়ের অদ্ভুত ধ্বনি।
ঢেউয়ের রহস্যময় তালে তালে ডাকে আমায়,
কানে কানে ফিসফিস করে শোনায় অচেনা কল্পনার গল্প।
আমি অবিকল মন্ত্রমুগ্ধ, বিমোহিত,
হে সমুদ্র, শুধুই তোমার দিকে।

তোমার বিস্তীর্ণ বুক, হিমছোঁয়া উদারতায় ভরা,
অজস্র জলরাশিতে ডুবে আমি যেন ভুলে যাই দুঃখ, ক্লান্তি, অভিশাপ।
তুমি দাও তৃপ্তির অমৃত,
অন্তরের ক্ষুধা মিটিয়ে দাও অদৃশ্য আলোয়।
তাইতো হৃদয় বারবার চায়—
তোমার কাছে ছুটে আসা, তোমার সঙ্গে একাকার হওয়া।

কখনো তুমি তাণ্ডবী, উত্তাল,
ভয়ংকর হাওয়ায় ঘূর্ণায়মান,
সুনামির মতো আকস্মিক হানা দিয়ে ভাঙো শান্তির দেউল।
বিকট গর্জন, ধ্বংস,
তবু তোমারই লোনা জল টানে বারবার।
পূর্ণিমার স্বচ্ছ আলোয় সিক্ত হয় অন্তর,
লহরীর সঙ্গে মিতালি করে জেগে ওঠে মন,
যন্ত্রণা, বেদনা ভেসে যায়,
হৃদয় সমুদ্রের তরে ছড়িয়ে দেয় সহস্রবার, সহস্র ক্ষণ।

হে সমুদ্র,
তোমার রহস্যময়, নাটকীয় সৌন্দর্য,
শান্তি ও তাণ্ডবের এক অবিরাম মেলবন্ধন,
আমায় ডেকে নেয় বারবার,
যেন একটি নতুন দিগন্ত,
যেখানে লহরীর সাথে মিলিত হয় মন,
যেখানে সমুদ্রের নীলেতে হারায় আমি।



ঘূর্ণিবায়ুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে 



তুমি যখনই—
কালবৈশাখীর উন্মত্ত আহ্বান,
আমার নীরব ধরণী কেঁপে ওঠে
অস্থির অনুরণনে।

তুমি যখনই—
নির্দয় বজ্রাঘাতের তীব্রতা,
আমি হতে চাই
প্রশান্ত, শীতল—
অবিরল জলপ্রপাত।

তুমি যখনই—
অদম্য, ঘন অন্ধকার মেঘমালা,
আমি উন্মোচন করি
এলোমেলো আবেগের
রঙিন কাব্যকথা।

তুমি যখনই—
দগ্ধ উষ্ণতায়
শত ফারেনহাইটের সীমা,
আমি তখনই—
হাওয়াই মিঠাই,
শীতল স্বপ্নের নরম ছোঁয়া।

তুমি যখনই—
তেজস্বী ঘূর্ণিঝড়ের অহংকার,
আমি প্রার্থনা করি
এক মুঠো
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ধার।

তুমি যখনই—
রুদ্ধ দ্বার,
অনমনীয় প্রতিরোধ,
আমি নতশিরে মেনে নিই
তোমাতেই—
পরাজয়ের বোধ।

তুমি যখনই—
উত্তাপভরা এক উন্মত্ত নদী,
আমি খোলা চুলে
ঝাঁপ দিই—
অবাধে নিরবধি।

তুমি যখনই—
বৈরিতার বিবর্ণ,
ক্লান্ত সিন্ধু,
আমি হই—
অমত্ত, নির্ভীক
বৃষ্টিবিন্দু।

তুমি যখনই—
অশান্ত প্রবল স্রোতের ডাক,
আমি তখন
নববর্ষের পুষ্পিত বসুন্ধরা,
রঙিন পোস্টারে করি
নতুন শপথ।

তুমি যখনই—
ঘূর্ণিবায়ুর শনশন হাহাকার,
নব রূপে
আমি ছড়িয়ে দেই-
ভালোবাসার শিশির 
সহস্রবার। 



ধূলির স্বপ্ন



আমি তো চাইনি ঐ আকাশ টা ছুঁতে,
চাইনি ঐ চাঁদটার সঙ্গী হতে,
চাইনি তারাগুলো গুনতে;
চেয়েছি মাটির ধূলিকণার সাথে গড়াগড়ি করতে।

তবুও কেন ধূলো ঝড়ে হই বিধ্বস্ত,
তবুও কেন আকাশ ফুড়ে বজ্রধ্বনি করে উত্তাল।

আমি শুধু চেয়েছি নিশ্বাসে মাটির গন্ধ শুঁকে,
হাসি খুঁজে পেতে ধূলির মাঝে,
প্রতিটি কাঁটাতারের মাঝেও শান্তির অশ্রু ফোটাতে।

কিন্তু অচেতন বাতাসে ঝড় ওঠে,
থরথরে কাঁপে মন;
ধূলির গন্ধে ভেসে যায় আগুনের স্মৃতি,
আমার ক্ষুদ্র হাতেও আলোর চুম্বন পৌঁছায় না।

তবু আমি শিখেছি—
বজ্রধ্বনির মধ্যেও লুকিয়ে আছে মৃদু রাগ,
ধূলি ঝরে গেলেও জন্মায় নতুন পথের সূচনা।

আমি ঘুমিয়ে থাকি মাটির কোলে,
তবু স্বপ্ন বুনে যায় আকাশের বুকে—
চুপচাপ, অবাধ্য, অচেনা,
যেখানে ধূলির রঙে মিশে যায় আকাশের নীল।


নীরব অনশনের পদচিহ্ন 



বহুদূর হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত নাগরিক আমি,
সময়ের কংক্রিট পথে ক্ষয়ে যায় পদচিহ্ন
রাষ্ট্র জুড়ে ঘোষণার জল, তবু গলায়
তৃষ্ণা জমে থাকে নীরব অনশন।

কে দেবে জল?
এ প্রশ্ন আজ নিষিদ্ধ শব্দ,
বুকের ভিতর পুড়ে খাক হয়
নৈতিকতার অনির্বচনীয় দগ্ধবর্ণ।

মরুর বুকে শহর গজায়,
শহরের বুকে মরু—
মানুষ নামে প্রতীকগুলি
লাভের অক্ষরে আত্মহারা, শ্রুতি ও শ্রুতিহীন।

জিরোয় বসে শ্বাস নেই,
বাতাসে ভেজানো নেই কোনো সহমর্মিতা,
ভাবনার মেঘ রাষ্ট্রীয় বেগে
বিষণ্নতা ঢুকে পড়ে ব্যক্তিগত কোষে।

মাস পেরোয়, বছর বদলায়,
প্রতিশ্রুতির ক্যালেন্ডার ফুরোয়
স্বপ্নগুলো বজ্রাহত ফাইলে
নথিভুক্ত হয় অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা হিসেবে।

জনশূন্য নয়—
তবু জনবিরল মনুষ্যত্ব,
শ্যাওলা ধরা নৈতিকতায়
পিছলে পড়ে পড়ে উঠি, আহত বিবেক নিয়ে।

বালুকাময় ভবিষ্যৎ পথে
ছায়া খুঁজি কোনো বৃক্ষের—
কিন্তু কংক্রিট সভ্যতায়
শেকড়হীন উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকে নির্বিকার।

রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে
চোখ রাখি দৃঢ় রাখার অভিনয়ে,
মায়া আজ বিলাসী শব্দ—
সংবিধানে লেখা নেই তার ব্যবহারবিধি।

স্বেদে নিঃশেষিত দেহে
পানির চেয়ে ভারী হয়ে ওঠে প্রশ্ন,
আছে কীকোন পথিক? 
এখনো মানুষ—
যে হাত বাড়ালে জল নয়,
ফিরে আসবে বিশ্বাস।


নীরবতার ভিতরে তুমি 



অনুভূতিকে মাপার কোনো যন্ত্র নেই।
প্রতিদিন আমি তার ভার বয়ে চলি।
কিন্তু শব্দগুলো—
তার কাছে ছোট হয়ে পড়ে।

নীরবতা—
এটাই সবচেয়ে বড় ভাষা।
আমি থেমে থাকি,
শুধু তাকিয়ে থাকি।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই,
চোখ মেললেই তোমাকে দেখি।
তুমি জেগে থাকো
নিঃশ্বাসের পাশে,
জানালার ফাঁকে ফেলে আসা হালকা আলোয়।

কখন যে তুমি ঢুকে পড়ো
চুপিচুপি ভেতরে—
আমি টের পাই না।

তুমি থাকো খাবারের টেবিলে,
চায়ের গরম চুমুকে,
প্রতিটি পদচারণায়-
প্রতিটি ছায়ায়,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে।

হৃদয়ের ভেতরে কতটা স্পন্দন হয়—
কীভাবে জানাই?
শব্দগুলো সেখানে পৌঁছানোর আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

শুধু জেনে নিও—
ভেজা চুলের ভাঁজে ভাঁজে
তুমি দোলা দাও,
ক্ষণে ক্ষণে।
অদৃশ্য স্পর্শে
মনে করিয়ে দাও তোমার অস্তিত্ব।

এখন আর শব্দের প্রয়োজন নেই।
তোমার নীরবতা
নিজেই একটি ডাকে পরিণত হয়েছে।
হৃদয়ের ভেতরে বাজে অদৃশ্য ধ্বনি,
যা শূন্যতার মাঝেও প্রতিধ্বনিত হয়।

তোমার নাম—
প্রতিটি নিঃশ্বাসে


নীরব অনশনের পদচিহ্ন 



বহুদূর হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত নাগরিক আমি,
সময়ের কংক্রিট পথে ক্ষয়ে যায় পদচিহ্ন
রাষ্ট্র জুড়ে ঘোষণার জল, তবু গলায়
তৃষ্ণা জমে থাকে নীরব অনশন।

কে দেবে জল?
এ প্রশ্ন আজ নিষিদ্ধ শব্দ,
বুকের ভিতর পুড়ে খাক হয়
নৈতিকতার অনির্বচনীয় দগ্ধবর্ণ।

মরুর বুকে শহর গজায়,
শহরের বুকে মরু—
মানুষ নামে প্রতীকগুলি
লাভের অক্ষরে আত্মহারা, শ্রুতি ও শ্রুতিহীন।

জিরোয় বসে শ্বাস নেই,
বাতাসে ভেজানো নেই কোনো সহমর্মিতা,
ভাবনার মেঘ রাষ্ট্রীয় বেগে
বিষণ্নতা ঢুকে পড়ে ব্যক্তিগত কোষে।

মাস পেরোয়, বছর বদলায়,
প্রতিশ্রুতির ক্যালেন্ডার ফুরোয়
স্বপ্নগুলো বজ্রাহত ফাইলে
নথিভুক্ত হয় অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা হিসেবে।

জনশূন্য নয়—
তবু জনবিরল মনুষ্যত্ব,
শ্যাওলা ধরা নৈতিকতায়
পিছলে পড়ে পড়ে উঠি, আহত বিবেক নিয়ে।

বালুকাময় ভবিষ্যৎ পথে
ছায়া খুঁজি কোনো বৃক্ষের—
কিন্তু কংক্রিট সভ্যতায়
শেকড়হীন উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকে নির্বিকার।

রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে
চোখ রাখি দৃঢ় রাখার অভিনয়ে,
মায়া আজ বিলাসী শব্দ—
সংবিধানে লেখা নেই তার ব্যবহারবিধি।

স্বেদে নিঃশেষিত দেহে
পানির চেয়ে ভারী হয়ে ওঠে প্রশ্ন,
আছে কীকোন পথিক? 
এখনো মানুষ—
যে হাত বাড়ালে জল নয়,
ফিরে আসবে বিশ্বাস।


আসনের আলো ছায়া 


চেয়ার পেলাম অনেক সাধের—
মনে এখন জোয়ার,
গতকালও ছিলাম তুচ্ছ 
আজকে আমি স্যার,

চেয়ারের ওই চারটি পায়ে
দাপট চারিধারে,
বসে বসে দেই যে হুকুম—
চা আনো তো তেড়ে। 

আগে যখন কাজে যেতাম
ঘাম ঝরত ক্লেশে,
এখন দেখি সবাই আসে—
আমার এক নির্দেশে!

চেয়ার যেন জাদুর ছোঁয়া 
বদলায় যে কথার সুর,
“আপনি” ছেড়ে “তুমি”ডাকে
ক্ষমতার কেমন নূর!

ফাইল দেখে মাথা নাড়ে,
ভ্রুটা একটু কুঁচকে,
চেয়ার হেলান দিয়ে বলে 
“লাঞ্চ আজ কি মুচমুচে?”

চেয়ার যত সাধের হোক,
মনে রেখো কথা—
চেয়ার থাকে,পাত্র বদলায় 
এই তো জীবন প্রথা।


অনুরাগের নিঃশব্দ প্রত্নচিহ্ন



আমি—
অবহেলিত এক উদ্যানের নীরব বৃক্ষ,
ঋতুচক্রের ভিড়ে
যার দিকে ফেরে না কোনো দৃষ্টি।

কখনো—
অচেনা কোনো পথিক আসে,
ক্ষণিক মুগ্ধতায় থামে;
আমারই কোনো পুষ্প ছিঁড়ে নেয়,
সৌরভে ভিজে
ফিরে যায় নিজস্ব গতিপথে।

আমি তখন—
অপূর্ণতার দীর্ঘ প্রতিধ্বনি বুকে নিয়ে
দাঁড়িয়ে থাকি স্থির;
ঝরে পড়া পাপড়ির শব্দে
গুনি নিজের ক্ষয়।

আমার অস্তিত্ব—
স্পর্শের আগেই বিস্মৃত উচ্চারণ,
অথবা ব্যবহারের পর পরিত্যক্ত উপমা;
যেখানে ফিরে আসে না
অর্থের কোনো আলোকরেখা।

তবুও—
মাটির গভীরে জেগে থাকে অন্য সঞ্চার;
শিকড়েরা শেখায় স্থিতির দর্শন,
নির্লিপ্ততার গোপন অনুশীলন,
আর অব্যক্ত শক্তির সংহতি।

এখন আর আমি পুষ্প নই—
আমি হতে চাই অবিনশ্বর বৃক্ষ;
যার কাছে আসা যায়,
কিন্তু ছিন্ন করা যায় না সত্তা।

আমি দাঁড়িয়ে থাকি—
সময়ের অবিরাম স্রোতের বিপরীতে,
নিজস্ব নীরবতায় পূর্ণ,
অনাহত স্বাতন্ত্র্যের দীপ্তিতে অমলিন।



শূন্যতার গূঢ় অনুরণন



কাঁচ ভাঙে ঝনঝনে—ধ্বনি বাজে চারিধার,
মন ভাঙে নীরবতায়—শূন্যে ঢাকে অশ্রু-ভার।

দীপ নেভে দমকা হাওয়ায়—জ্বলে ওঠে ছাইয়ের গন্ধ,
হৃদয় নেভে অচেনা ক্ষয়ে—থাকে শুধু নীরব দ্বন্দ্ব।

চোখের জলে বৃষ্টি নামে—দেখে সবাই ভেজা পথ,
মনের জলে ডুবে থাকে—অদৃশ্য এক গহীন রথ।

ফুল ঝরে রঙ হারিয়ে—বাগান জুড়ে পড়ে রেশ,
স্বপ্ন ঝরে নিস্তব্ধতায়—শূন্যতায় অনিমেষ।

বীণার তার ছিঁড়ে গেলে—কাঁপে সুরের কান্না-রেখা,
প্রাণের তার ছিঁড়ে গেলে—কে শুনেছে সেই ব্যথা?

আকাশ ফেটে বজ্র নামে—চমকে ওঠে দিগন্ত-প্রান্ত,
অন্তর ফেটে অন্ধকারে—নামে রাত্রি অগাধ শান্ত।

শঙ্খ ভাঙে শব্দ তুলে—কাঁপে মন্দির, কাঁপে দ্বার,
বিশ্বাস ভাঙে নিঃশব্দে—ঝরে শুধু অদৃশ্য অশ্রুধার।

পাতা ঝরে শরৎ শেষে—দেখে সবাই ঋতুর রূপ,
মায়া ঝরে হৃদয়-ভেতর—ভেঙে হয় শূন্য কূপ।


মুক্তির বৃষ্টি 


বন্দিদশার ক্ষতচিহ্ন এখনও বুকে জাগে নিঃশব্দ ব্যথা,
তবু মুক্তির বাতাসে জেগে ওঠে জীবনের গোপন ব্যাকুলতা।
দীর্ঘদিনের অবদমিত শ্বাস আজ ছন্দ খুঁজে পায় প্রাণে,
নিভে যাওয়া প্রদীপ আবার জ্বলে ওঠে আলোর টানে।

অশ্রুসিক্ত চোখে যে নীরবতা ছিল দীর্ঘ রজনীজুড়ে,
আজ সেখানে স্বপ্নেরা খেলে মুক্ত আকাশের নীল সুরে।
বেদনাঘন স্মৃতিরা ভেসে যায় সময়ের অনন্ত স্রোতে,
নতুন সুখের আলপনা আঁকে হৃদয়ের অনুভূতিতে। 

শৃঙ্খলভাঙা পদচারণায় সে এগোয় দূর অনিশ্চিত পথে,
প্রতিটি ধাপে খুঁজে পায় হারানো সত্তা নতুন রথে।
যে হৃদয় ছিল স্থবির নির্যাতনের নিষ্ঠুর ভারে,
আজ সে হৃদয় সুর তোলে জীবনের অনাবিল আহ্বানে।

ঝরাপাতার মতো ঝরে পড়ে গ্লানির কালো স্মৃতি,
শ্রাবণের ধারায় ধুয়ে যায় যন্ত্রণার ক্লান্ত গীতি।
অশ্রু আর বর্ষার জল মিশে এক পবিত্র স্রোতধারায়,
পরিশুদ্ধ করে প্রাণ, জাগায় আশার দীপ্তিময় মায়ায়।

আজ সে দাঁড়ায় অনন্ত আকাশের অবাধ বিস্তারে,
নেই কারাবাস, নেই আর অমানিশার অন্ধকারে।
মুক্তির স্পর্শে জেগে ওঠে প্রতিটি অনুভব,
জীবন যেন নতুন লেখা এক অনন্ত কবিতার বৈভব। 

তবু স্মৃতির গভীরে লুকিয়ে থাকে বন্দিশালার ছায়া,
মনে করিয়ে দেয়—অন্ধকারও ছিল এক নীরব মায়া।
সেই মায়া ভেঙে আজ সে আলোর পথের অভিযাত্রী,
দুঃখকে জয়ে রূপ দিয়ে হয়ে ওঠে নিজেই মুক্তির শ্রী।


----------------------

মেশকাতুন নাহার 
প্রভাষক সমাজকর্ম 
কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ 
চাঁদপুর।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। প্রসেনজিৎ দাস

তিনটি কবিতা ।। প্রসেনজিৎ দাস   পরিত্যক্ত ফল অনেকের সাথে আমার জন্ম এক বাগানে - প্রতিশ্রুত মিষ্টি এবং মনোরম রঙের। বীজ থেকে অংকুর হয়ে পাপড়ি ছড়িয়ে,  আমি প্রতিটি প্রত্যাশীর মতো একটি - সাধারণ সুন্দর স্বপ্ন দেখেছিলাম।  আমি বৃষ্টি, শিলা, রৌদ্র, খরা, ঝড়ের - সাথে মুখোমুখি হয়েছি বহুবার।  স্বপ্নের মতো ছিল এই অভিজ্ঞতা।  ছিল সে অনেক মজার আমার বেড়ে ওঠা।  ভাগ্যের বিদ্রুপে এলো এক নতুন বাঁক।  আমার আত্মার পবিত্রতা, হয়তো আমার - স্রষ্টার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি এই জন্মে।  ধরণীর বুকেই পেলাম শেষ ঠাঁই।   হলো ত্বক ক্ষতবিক্ষত, দেখলো না কেউ,  শুনলো না আমার বিধাতা, আমার ঈশ্বর ! কান্নায় করেনি কর্ণপাত, দেহের জ্বালা, কেউ - দেখতে চায়নি, স্বীকৃতি হারালাম সেইমুহূর্তে।  সমাজের অনেক অভূত প্রাণের মতনই - আমি জায়গা পেলাম নোংরা বর্জনের স্থানে। চোখের জলের অধিকার, প্রতিবাদের অধিকার - এই অসম সমাজে সবার জন্যে নয় । দুর্গের প্রহরী পাথরে সাজানো, পাথরের বানানো পথ - খাড়া দেয়াল, আজও গলিগুলো অন্ধকার । যুদ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। অরুণ চট্টো...      গল্পগুচ্ছ গল্প ।। সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি ।। দীনেশ সরকার গল্প ।। ইকো ।। রুদ্র ভট্টাচার্য গল্প ।। দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ গল্প ।। অপূর্ণতা ।। মোঃআরিফুজ্জামান সোহাগ গল্প ।। বীজ ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক গল্প ।। মনিকরণিকা ।। অ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...