প্রবন্ধ
বিশ্ব বই দিবস
সোনালী সরকার
কেউ একজন ঠিকই বলেছেন এ.সি রুমে জুতো বিক্রি হয় আর বই ফুটপাতে। কলেজ স্ট্রিট হোক কিংবা মালদার কোর্ট চত্বর সব জায়গায় বই আজ মাটিতে।অথচ ঐ বই মাটিতে পায়ে পড়লে আমাদের প্রনাম করতে হয় বলে গুরুজন আমাদের শিখিয়েছেন।
বিশ্ব বই দিবস সৃষ্টি হয় ১৯৫৫ সালে ২৩ শে এপ্রিল থেকে । United Nations educational scientific and cultural organisation (UNESCO) অনুষ্ঠান উদযাপনের মধ্য দিয়ে এই বিশ্ব বই দিবস পালন শুরু করেন।এই বিশ্ব বই দিবস ও কপিরাইট দিবস ২৩ শেএপ্রিল করা হয় তিনজন সাহিত্যিক এর মৃত্যু দিবস এর দিন হিসেবে।এই তিন জন সাহিত্যিক ছিলেন
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার,ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগা,মিগুয়েল দে সার্ভান্তস। উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের বিশাল বড় কবি ও নাট্যকার। তাঁর জন্মদিন ১৫৬৪ সালের ২৩ শে এপ্রিল ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে ধরা হয়। তাঁর কলমে ইংরেজি সাহিত্য আজ পরিপূর্ণ। একদিকে তাঁর মৃত্যুদিন ও ১৬১৬ সালের ২৩ শে এপ্রিল।ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগা ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ, ক্রনিকর, লেখক। তিনি স্প্যানিশ গদ্যের মাধ্যমে পেরুর ইতিহাস ও ইনকা সভ্যতা নিয়ে লিখেছেন যা তাঁকে আমেরিকার প্রথম ধ্রুপদী লেখক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। এই মহান লেখকের মৃত্যুদিন হচ্ছে ২৩ শে এপ্রিল ,১৬১৬ সাল। মিগুয়েল দে ছিলেন একজন স্পেনীয় কবি,নাট্যকার,ঔপন্যাসিক। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি ছিল ডন কিহোতে, যা বিশ্বের প্রথম আধুনিক উপন্যাস।এই মহান লেখকের মৃত্যু দিন ও ১৬১৬,২৩ শে এপ্রিল। এই তিন জন ইংরেজি সাহিত্যকে এত সমৃদ্ধ করেছে যে ইনাদের মৃত্যুদিনকে UNESCO আন্তর্জাতিক বই ও কপিরাইট দিবস বলে অভিভূত করেছে।তবে এই দিনটির ধারনা প্রথম স্পেন লেখক ভিসেন্ত আন্দ্রেসের কাছে থেকে আসে। বই দিবস প্রথম উদযাপন করা হয় ১৯৯৫ সালের ৭ অক্টোবর যা প্রথমে মর্যদা পাইনি। কারন তখন বই ক্রয় বিক্রয়ের অনুকূল পরিবেশ ছিল না।পরে ১৯৩০ সালে ২৩ শে এপ্রিল এই বই দিবস অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানিক ভাবে। UNESCO চেয়েছিল এমন একটা দিন যা বিভিন্ন দেশ, স়ংস্কৃতিকে একসঙ্গে জুড়বে ।এই তিন জন বিভিন্ন দেশের , বিভিন্ন ভাষার লেখক হওয়ায় তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে জুড়ে থাকা এই ২৩শেএপ্রিল দিন টিকে বেছে নেওয়া হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল বই পড়ার অভ্যাস গড়া, কপিরাইট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, লেখক প্রকাশককে সম্মান জানানো। কপিরাইট হচ্ছে নিজের সৃষ্টির উপর আইনগত অধিকার।এতে সষ্ট্রার অধিকার বাড়ে, কেউ নকল,বিক্রি স্রষ্টার অনুমতি ছাড়া যেন না পারে।
বই আমাদের জ্ঞান, শিক্ষা,মূল্য দিতে শেখায়।সে কথা মাথায় রেখে প্রতি বছর এই দিন উদযাপিত হয়।২০২৬ সালের ২৩ শে এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস উদযাপিত হল।এ বছরের থিম ছিল”Books are bridge between generations and cultures “ মানে বই প্রজন্ম ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করে। এই দিনে অনেক জায়গায় বই দান কর্মসূচি হয়েছে, তরুনদের বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, লেখক ও বইমেলা সম্পর্কে অনুষ্ঠান হয়েছে। স্পেনের মাদ্রিদ শহর প্রথম বই শহর হিসেবে ঘোষনা করা হয়। স্ত্রাসবুরকে UNSECO World Book capital হিসেবে মানোনীত করেছিল ২০২৪ সালে।২০২৬ সালে বই শহর হিসেবে মানোনীত হয় মরোক্কোর রাহাতকে। এখান ৫৪ টির বেশী প্রকাশনা সংস্থা,বড় আন্তর্জাতিক বই মেলা করার উদ্যোগ, নিরক্ষরতা দূরীকরণে উদ্যোগের জন্য এই বছর এই শহরকে বেছে নেওয়া হয়।
বই মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়, ভাবতে শেখায়, শিক্ষা শেখায়। বই একাকীত্ব দূর করে। মানুষ মানুষকে ঠকায় কিন্তু বই মানুষের চিরসঙ্গী।সবাই ছেড়ে গেলেও বই ছেড়ে যায় না।বই আমাদের মনোনিবেশ করতে শেখায়।বই অতীত বর্তমানের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করে।
কিন্তু এত কিছুর পরেও আমরা পেরেছি তরুন প্রজন্মের কাছে বই উপহার দিয়েও বই এর মূল্য বাড়াতে। ডিজিটাল যুগে ই বুকস আর স্মার্ট ফোনে বা কোথাও যেন হারিয়ে গেছে।আজকাল বই পড়া ও কেনা যেন এক প্রকার বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।তাহলে এই বিশ্ব বই দিবস কী করে সফল হলো? কী করেই বা নতুন প্রজন্মকে আমরা বোঝালাম। সত্যি কী আমরা পেরেছি পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে?
============

Comments
Post a Comment