কবিতাগুচ্ছ ।। সুশান্ত সেন
গুহা
আমার কাছে এসে বসেছিল এক খ্যাঁক শিয়াল
সে সব সময় খ্যাঁক খ্যাঁক করত বলে লোকে আমার কাছে আর ঘেঁশত মনা।
বেশ নিশ্চিন্ত ছিলাম পাড়া পড়শীর নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না নিজের মনে থাকা যাবে বেশ।
এক বন্ধু মুঠোফোনে ফোন করে বলল - সাবধানে থাকিস আর হাতের কাছে একটা বন্দুক রাখিস কারণ মাঝে মাঝে খ্যাঁক শিয়াল'রা ক্ষেপে যায়
আর ক্ষেপে গেলে তোকে কামড়ে দিতে পারে।
বন্দুকের লাইসেন্স জোড়ার করে বন্দুক কেনার নানা ঝকমারি, তাই চাঁদনী চকে বেলেঘাটায় মেটিয়াবুরুজে ডানলপে ইত্যাদি নানা জায়গায় ঢু মারতে শুরু করলাম - একটা বন্দুক কেনার মানসে।
ফ্রী স্কুল স্ট্রীটে এক লিপস্টিক পরা খ্যাঁক শিয়াল আমাকে খ্যাঁক করে ধরে গুহার ভেতর ঢুকিয়ে দিলো।
কলকাতায় গুহা ভাড়া পাওয়া যায় সবাই জানেন নিশ্চয়।
মিছিল
মিছিলে দাড়িয়ে আছ তোমরা সে তোমার পাপ
আমরা নিয়ম মেনে তোমাকে পেটাই
অনাগত কাল থেকে এইরূপ প্রথা চলে
প্রবাহিত সবার সম্মুখে।
তাই ত অনেক অনেক কথাই
লাঠি কাঁদুনে গ্যাস বা জলকামান
সয়ে সয়ে আকাশের চন্দ্রমা হয়েছে।
লস এঞ্জেলস এ আজ চলিয়াছে গুলি
নগররক্ষণ কার্য সম্পন্ন হয়েছে যথারীতি।
এইরূপে পৃথিবীর যেখানে যেখানে
প্রতিিবাদী মস্তক উন্নীত,
তাহাদের উচিত শিক্ষাই
দিয়ে থাকি আমরা যার নাম মানব সভ্যতা।
ভুল
কয়েকজন মানুষের ভুলে
জলপ্রপাত গর্জে উঠলো।
বিন্দু বিন্দু জলকণার মেঘ
প্রতিবাদের ন্যায়
কলকাতার রাস্তায় ট্রাম পুড়িয়ে দিয়ে
ভাবলো বিপ্লব এনেছি।
সন্ধ্যাতারা যখন ধোঁয়ার দাপটে
টিয়ার গ্যাস এর গ্যাস নিষ্কাশনে চোখে ঝাপসা দেখছে।
ঠিক তখনই দুয়ার খুলে
মুক্ত বাজারের ব্যান্ডের ট্রামফেট
বেজে উঠলো বন্ধ কারখানার গেটের সামনে।
হাওড়া আর রায়পুর দুটো শহর ছাড়া আর কিছু নয়।
পঁচিশ বছর আগে
পঁচিশ বছর আগে
অথবা
পঁচিশ বছর পর
হর্ষ ও উদ্দীপনা
এক রকম থাকে কি !
চলমান মহাকাল পঁচিশ বছরের
কোনো তোয়াক্কা রাখে না ।
কোনো কোনো পঁচিশ বছর আবার
চব্বিশ বছরেই থেমে যায় থেমে থাকে
তখন তাকে দেখি
উল্টে পাল্টে উল্টে পাল্টে
যতক্ষণ না নিদ্রা নেমে আসে চোখে।
আবার কোনো কোনো পঁচিশ বছর
দেশের সীমানা পেরিয়ে
অন্য এক মহাদেশে চলে যায়
যেখানে অন্য এক পঁচিশ বছর
হাতছানি দিয়ে মুক্তির গান গায়
গান গায় সীমানা অতিক্রমের ।
রাধারাণী ও প্রেম
রাধারাণীর শেকড় মাটিতে
রাধারাণী ঘরের কাজ করেন
রাধারাণী রান্নাও করেন আবার মডেল'ও হন।
জড়িয়ে জড়িয়ে রাধারাণী বৃক্ষ হয়ে ওঠেন।
রাধারাণী প্রেরণা
রাধারাণী সৃষ্টির উৎস।
রাধারাণী যক্ষী হয়ে
দিল্লিতে রিজার্ভ ব্যাংক এর সামনে দাঁড়িয়ে
একুশ ফিটের উচ্চতায়।
পৃথিবী থেকে চলে যাবার আগে রামকিঙ্কর ছোটলোক ও জীবন সঙ্গিনী রাধারানীকেই স্মরণ করেছিলেন।
দেশপ্রেম ও সংসার
যে মাটিতে জন্ম
সে শুনল এই মাটি তোমার নয়
হয় পালাও নাহলে আমার ধর্ম নাও
না হলে ধর্ষণ ও মৃত্যু
ও সম্পত্তি ধ্বংস।
ওরা পালাতে থাকলো
আকাশটা ভেদ করে যেতে পারলে ভালো হতো
তা অসম্ভব
তাই মাঠ পেরিয়ে নদী পেরিয়ে
দিগন্ত খোঁজার চেষ্টায় যখন নাভিশ্বাস
তখন ওপাড়ার ছুঁচো বলে উঠলো
এই খাজনা দে।
সে শুনেছিল খাজনা সরকারকে দিতে হয়
ছুঁচোকে সেই কথা বলাতে
চারটে দাঁত উড়ে গেলো আর ভুরুর তলা কেটে
রক্ত ঝরতে থাকলো।
মাটি, দেশ, ধর্ষণ,সম্পত্তি,নদী, মাঠ, দিগন্ত, সরকার, ছুঁচো সব একাকার হয়ে মগজের ভেতর ঢুকিয়ে লোকটা কি করে এখনো সংসার করছে কে জানে !!
===============
সুশান্ত সেন
৩২বি, শরৎ বোস রোড কলিকাতা ৭০০০২০
Comments
Post a Comment