হীরের আংটি
কৃষ্ণচন্দ্র রায়
কিছুদিন যাবৎ এই এক সমস্যা হয়েছে রথীন বাবুর । যখনই একা থাকেন কিংবা খাওয়া-দাওয়ার পর বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিয়ে একটু চোখ বোজেন তখনই টিভি স্ক্রিনের মতো চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি মুখ । খুব চেনা, মায়া জড়ানো । যেন কতো কথা কতো ব্যথা জমে আছে ওর গভীরে । ভালো করে চেনার চেষ্টা করেন কিন্তু কিছুতেই মনে করে উঠতে পারেন না । বুঝতে পারেন না ভেসে ওঠার কারণ । তবে এটা বুঝতে পারেন মুখটা কোন সুন্দরী যুবতীর । আর ইশারায় কিছু বলতে চায় । তখনই মাথার ভেতরটা দপদপ করে ওঠে, যন্ত্রণায় ছিঁড়ে পড়ে মাথাটা । খানিকটা ভয় ও যখন করে নেয় বুক । আর এমন ঘটনা যে শুধু একদিন দুদিন তা নয়, প্রায় টানা মাস দুই ধরে চলছে । ব্যাপারটা বেশ ভাবিয়ে তুললো রথীন বাবুকে । কাউকে বলে যে একটু হালকা হবেন তারও উপায় নেই । হয়তো কেউ বিশ্বাসই করবে না । হাসাহাসি করবে, গাঁজাখুরি গল্প বলে উড়িয়ে দেবে । তখন ব্যাপারটা আরো যন্ত্রণাদায়ক হবে । কিন্তু হাত গুটিয়ে ও বসে থাকতে পারলেন না । তাই একদিন সাইক্রিয়াটিস্ট ডক্টর বোসের চেম্বারে চলে গেলেন । তিনি সব কথা শুনে খানিকটা অবাক হয়েই বললেন, ভেরি ইন্টারেস্টিং । আজ পর্যন্ত এমন ঘটনার কথা শুনিনি। মেডিকেল সাইন্সে এর চর্চা আছে বলেও জানা নেই। ব্যাপারটা বড় অদ্ভুত । তারপর একটু ভেবে নিয়ে বললেন, মিস্টার সরকার, ঘটনাটা কতদিন ধরে চলছে ?
----মাস দুয়েক হবে ।
------আচ্ছা, মুখটা কি একই রকম? মানে বলতে চাইছি নির্দিষ্ট কোন মুখ?
-----হ্যাঁ, ঠিক ১৮-২০ বছরের কোন যুবতীর মুখ ।
------আপনি কি জীবনে এমন কোন মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন যিনি এখন আর বেঁচে নেই? ভালো করে ভেবে বলুন মিস্টার সরকার ।
-----ভালো করে ভাবার কিছু নেই মিস্টার বোস । চিরকালই আমি একটু বেরসিক । কাঠ খোট্টা ও বলতে পারেন । সব সময় মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করি । তাই আমার জীবনে প্রেম আসেনি । আপনি নিশ্চয়ই জানেন আমি এখনো ব্যাচেলার ।
----তা অবশ্য ঠিক । আচ্ছা, আপনি তো কলকাতা পুলিশের একজন বড় অফিসার ছিলেন । কর্মজীবনে এমন কোনো মহিলা ক্রিমিনালের মুখোমুখি হয়েছিলেন কি? যে কোন অপারেশনে আপনার হাতে মারা গেছে ?
-----একেবারেই না । সেইরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি । আর এখন তো আমি রিটায়ার্ড ।
ডক্টর বোস কে বেশ চিন্তিত দেখালো । মনে হলো তিনি কোন থই পাচ্ছেন না । খানিকটা হতাশার সুরেই বললেন, সরি মিস্টার সরকার, আমি বোধহয় আপনার কোন কাজেই আসতে পারলাম না । সত্যি সত্যি বিষয়টা বড় অদ্ভুত ।
সেদিন শনিবার । অমাবস্যা । রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবে ইজি চেয়ারে শরীরটা এলিয়ে দিয়ে একটু চোখ বুজেছেন অমনি চোখের সামনে ভেসে উঠলো একটি মুখ । ঝাপসা নয়, একেবারে পরিষ্কার , জীবন্ত । ফিসফিস করে বলল, আমাকে এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি তো তোমার খুব কাছের মানুষ । আমি মিনতি ।
----মিনতি! কোন মিনতি? মিনতি নামে আমি তুমি কাউকে চিনি না । তাছাড়া আমার কোন কাছের মানুষ নেই । চিরকালই আমি একা । চিৎকার করে বললেন রথীন বাবু ।-----এই জনমে তুমি হয়তো একা । কিন্তু তার আগে । তখন তো তুমি একা ছিলে না । তখন তোমার মিনতি ছিল । একবার ভালো করে চেয়ে দেখো, ঠিক চিনতে পারবে ।
আগের জন্মের কথা শুনতেই শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নিচে নেমে এলো । পুলিশের জাঁদরেল অফিসারটা এক পলকের মধ্যে কেমন নড়বড়ে হয়ে গেল । তবুও গলায় খানিকটা জোর এনে বলল, না না তুমি মিথ্যে বলছো । আমি কখনো কাউকে ভালোবাসিনি । আমি তোমাকে চিনি না, জানিনা ।
----নিশ্চয়ই চেনো , ভালোও বাসো । ভালো না বাসলে কি আমার দেয়া আংটিটা পড়তে পারতে ?
----তোমার দেওয়া আংটি! কোন আংটি?
-----কেন, ওই যে তোমার আঙুলে এখনো জ্বলজ্বল করছে । এই হীরের আংটিটাই ছিল তোমাকে দেওয়া আমার প্রথম উপহার ।
এবার সত্যি সত্যিই ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলেন রথীন বাবু । গলাটাও শুকিয়ে কাঠ । ঢক ঢক করে খানিকটা জল খেয়ে নিলেন । ভাবতে লাগলেন এর ভেতরে নিশ্চয়ই কোন রহস্য আছে । হয়তো কোন অশরীরী ওর পিছু নিয়েছে । নইলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে কেন ? তাহলে কি আংটি টাই সব রহস্যের আধার । নিশ্চয়ই তাই । আংটিটা পরার পর থেকেই তো অশান্তি শুরু । তার আগে তো কখনো হয়নি । কিন্তু একজন পুলিশের লোক হয়ে কি করে বিশ্বাস করবেন ব্যাপারটা । কিন্তু নেগলেক্ট করাও ঠিক হবে না । কাল ই একবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের কারো পরামর্শ নিতে হবে ।
পরদিনই সকাল-সকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের মিস্টার মিত্র র সঙ্গে দেখা করলেন । তিনি সবটা শুনে বললেন, সত্যি সত্যিই ব্যাপারটা ভীষণ অদ্ভুত । আমার মনে হয় এটা কোন অতৃপ্ত আত্মার কাজ । যদিও এই ব্যাপারে আমার কোন বিশ্বাস নেই । তবু অঘটন তো আজও ঘটে । কলকাতার অনেক পুরনো বাড়িতেও নানারকম অশরীরীদের আনাগোনার কথা শোনা গেছে। হয়তো এখনো এমন কিছু আছে বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা নেই । তারপর হঠাৎ করেই রথীন বাবুর আংটিটিকে দেখিয়ে বললেন, রথীনদা, তোমার হাতের ওই ডায়মন্ড রিংটা তো আগে কখনো দেখিনি । নতুন কিনলে বুঝি?
----হ্যাঁ ভাই । তবে রিংটা নতুন নয় । অনেক পুরনো । তুমি তো জানোই পুরনো জিনিস কালেকশন করা আমার খুব শখ। মাস দুয়েক আগে কলকাতার রাসেল এক্সচেঞ্জ থেকে অকশনে রিংটা কিনেছিলাম । আঙুলেও ঠিকঠাক হয়ে গেল, তাই পরে নিলাম । জীবনে তো সংসার করা হলো না, এইসব কালেকশন নিয়ে বেশ ভালোই আছি । ও, একটা কথা বলতে ভুলে গেছি । কাল অশরীরী একটা অদ্ভুত কথা শুনিয়েছিল । রিংটা নাকি সে- ই আমাকে উপহার দিয়েছে । আমি তো শুনে অবাক । এ কখনো হয় নাকি !
একদম চুপচাপ হয়ে গেলেন মিস্টার মিত্র । একটা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো । তাহলে নিশ্চয়ই সব রহস্য এই আংটি টার ভেতর লুকিয়ে । হয়তো এটা পূর্বজন্মের কোন ঘটনা । যা এ জন্মে রথিনদা কিছুতেই মনে করতে পারছেন না । রথিন দার কথা শুনে মনে হয় অশরীরী ওর খুব কাছের মানুষ । তাই হয়তো রথীনদার কোন ক্ষতি করতে চায় না । আচ্ছা, একটা পরীক্ষা করেই দেখা যাক না । মিস্টার মিত্র রথীন দাকে বললেন, এখনই আংটিটা খুলে ফেলুন। নিজের কাছে রাখবেন না আংটিটা । দেখা যাক কি হয় ।
-----তাহলে তুমিও কি এই রিং টাকেই ডাউট করছো?
-----জানেন তো সবকিছুকেই সন্দেহের চোখে দেখা আমাদের ধর্ম । আমার বিশ্বাস এই রিংটার ভেতরেই লুকিয়ে আছে সব রহস্য । এখন শুধু বিশ্বাসটাকে প্রমাণ করতে হবে ।
আংটিটা খুলে রাখলেন রথীন বাবু । পরখ করে দেখতে চাইলে সত্যি মিথ্যের শেষ পরিণতি । কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার একদিন দুদিন করে সপ্তাহ পার হয়ে গেল ওই মুখের আর দেখা পাওয়া গেল না। সবকিছু যেন সেই আগের মতই । বেশ অবাক হলেন। তাহলে কি সত্যি সত্যিই সব রহস্য এই আংটিটাকে জড়িয়ে । নাকি সবটাই কাকতালীয় ? আচ্ছা, আরেকবার আংটি টাকে পরে দেখলে কেমন হয়? দেখাই যাক না ঘটনাটা আবার কি ঘটে । সন্ধানী মনটা কুসংস্কারের মোড়ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল ।
আংটিটা পরার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার চোখের সামনে ভেসে উঠলো অভিমান ভরা একটি মুখ । শুধু অভিমান নয়, খানিকটা কষ্ট ও স্পষ্ট । ব্যথা জড়ানো গলায় বলল, আমাকে ভুলে যাওয়ার জন্যই বুঝি আংটিটা খুলে রেখেছিলে? কিন্তু ভুলতে চাইলেই কি সব সময় ভোলা যায় । যায় না । এই আমাকেই দেখনা আজও ভুলতে পারিনি তোমাকে । অশরীরী হয়েও ভালোবাসাটা কেমন রয়েই গেছে । আসলে সমস্যা একটাই । তুমি শরীরি আর আমি অশরীরী । শরীরী আর অশরীরীর মধ্যে প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই কঠিন এবং যন্ত্রণাদায়ক । ইচ্ছে হলেও তোমাকে ছুঁতে পারি না, আদর করতে পারিনা । এক এক সময় মনে হয় তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসি, আমার মতো অশরীরী করে তুলি । কিন্তু পারিনা । আমি যে ভীষণ ভালোবাসি তোমাকে । জানিনা এভাবে আর কতদিন কাটাতে হবে । আচ্ছা মাধব, তোমার কি একবারের জন্য মনে পড়ে না আমাদের সেই পূর্ব জন্মের কথা । মনে পড়ে না সেই গৌরীপুরের কথা যেখানে আমাদের একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠা, একে অপরের কাছে আসা আর অবশেষে ভালোবাসা ।
রথীন বাবুর শরীরে এক বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল । চোখ দুটো কেমন আবেশ জড়ানো, ঘুম ঘুম ভাব । কেমন যেন স্বপ্নের মত হারিয়ে যেতে থাকেন এই জগত থেকে অন্য জগতে । আজকের সময় থেকে আরও একশো বছর পেছনে । এক সময় আবেগ মাখা গলায় বলে ওঠেন, মনে পড়েছে মিনতি মনে পড়েছে, সব মনে পড়েছে । তুমি ছিলে গৌরীপুরের জমিদার কৃষ্ণকান্ত চৌধুরীর মেয়ে মিনতি। আর আমি তোমাদের লেঠেল সরদার যাদব বাগদির ছেলে মাধব । তখন আমাদের মত মানুষদের তোমাদের অন্দরমহলে ঢোকা বারণ ছিল । কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই বাবার হাত ধরে পৌঁছে যেতাম তোমাদের বাড়ি। দেউড়ির দারোয়ানরা আড় চোখে তাকাতো । আমি ভয় পেতাম । প্রথম যেদিন তোমাদের বাড়ি যাই তখন আমার কতই বা বয়স । বড়জোর দশ । শিশু মনে তখন দুচোখ জুড়ে বিস্ময় । এত বড়ো বাড়ি তো কখনো দেখিনি । দেখিনি এতো অর্থ প্রতিপত্তি প্রাচুর্য । ওইটুকু বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম তোমাদের আর আমাদের মধ্যে ফারাক টা । বুঝতে পেরেছিলাম ফারাক টা একটু-আধটু নয়, আসমান জমিন । তবে তুমি বোধ হয় বুঝতে পারোনি । বুঝতে পারোনি আমাদের মত মানুষদের সাথে তোমাদের মিশতে নেই । আসলে তুমি যেমন সুন্দর তেমনি তোমার মনটাও ছিল ততটাই সুন্দর । সেই মন ধনী গরিব বোঝেনা, বোঝেনা জাতিভেদের ঘৃণ্য তফাৎ । সে শুধু বোঝে সবাই মানুষ । আর ভালো মানুষ হলে তার সাথে তো মেশাই যায় । আসলে যত বিভেদ বড়দের মধ্যে । শিশু মনে তার কোন প্রভাবই নেই । তোমারও ছিল না । তাইতো প্রথম দেখাতেই আমাকে তোমার খেলার সাথী করতে চেয়েছিলে । আমি ভয় পেয়েছিলাম । কিন্তু তোমার ডাককে উপেক্ষা করার ক্ষমতা ছিল না আমার । শেষ পর্যন্ত একটা সময় তোমার খেলার সাথী ই হয়ে গেলাম । যদিও তোমার বাবা সহ অনেকেই ভালো চোখে দেখতেন না । কিন্তু তোমার মা আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন । আসলে, মায়েরা তো সত্যি কারের মা- ই হয় । তারা কাউকে আলাদা চোখে দেখেনা । তাদের হৃদয় যে মায়া-মমতা ভালোবাসায় ভরা । যদিও আমার কপালে সেই স্বাদ ত্যামন ভাবে জোটেনি । ভালো করে মাকে বোঝার আগেই তাকে হারিয়েছি। ।
----ঠিক বলেছ । তবুও মা আমাদের বাঁচাতে পারেননি । পারেননি ভালবাসার স্বীকৃতিটুকু দিয়ে আমাদের রক্ষা করতে । কি করেই বা পারবেন । তখন সময়টা অন্যরকম ছিল । পুরুষ শাসিত সমাজে মেয়েরা ছিল পরাধীনতার মোড়কে মোড়া এক একটা জীবন্ত পুতুল । মানুষ হিসেবে গণ্যই হতো না তারা । শুধু পুরুষদের কামনা বাসনা মেটানো আর সন্তান উৎপাদনই ছিল তাদের কাজ ।
----কিন্তু তুমি অন্যরকম ছিলে । তোমার সাহস ছিল, বুদ্ধি ছিল, আর ছিল নিজস্ব মত প্রকাশের দুর্দান্ত সাহস । তুমি কখনো মানুষকে বিভেদের চোখে দেখনি । তাইতো ওইরকম একটা সময়ে দাঁড়িয়ে ও আমার মত একটা নিচু জাতের ছেলেকে ভালবাসতে পেরেছিলে । পেরেছিলে ভালোবাসার চিহ্ন হিসাবে এই দামী হীরের আংটিটা অনামিকায় পরিয়ে দিতে। তোমার মত এমন সাহসী মহিলা দেখিনি আমি ।
----তবুও তো শেষ রক্ষা হলো না । পূর্ণতা পেল না আমাদের ভালোবাসা । হয়তো পৃথিবীর সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না । আমাদেরটাও পায়নি । কিন্তু আমি যে আজও তোমাকে ভুলতে পারিনি মাধব । আজও খুব খুউব ভালোবাসি তোমাকে ।
----সেটাই স্বাভাবিক মিনতি । তখন ধনী-গরীবের ফারাক ছিল, জাত ধর্মের বিভেদ ছিল আর ছিল ক্ষমতাবান পুরুষের দম্ভ । এর মাঝখানে অসম ভালবাসার পূর্ণতা পাওয়া সহজ ছিল না । আমার বাবা হয়তো কিছুটা আঁচ পেয়েছিলেন । একদিন সাবধান করে বলেছিলেন, আগুন নিয়ে খেলা করিস না রে খোকা । হয়তো একদিন এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবি। এখনো সময় আছে, ফিরে আয় । কিন্তু আমি শুনিনি । শরীরে তখন গরম রক্ত । ইস্পাতের মতো পেটা শরীরে হাতির শক্তি । তার ওপর পাকা লেঠেল । যে একসঙ্গে একশো লোকের মহড়া নিতে পারে । তার চেয়েও বেশি ছিল তোমার ভালোবাসার হাতছানি । কিন্তু তখন তো বুঝতে পারিনি অর্থ প্রতিপত্তি বৈষম্যের শক্তি ভালোবাসার চেয়েও অনেক অনেক বেশি ।
---ঠিক তাই । তাইতো আর ঘর বাঁধা হলো না আমাদের । পালিয়ে গিয়েও রেহাই পেলাম না। । দম্ভ আর আভিজাত্যের কাছে ভালোবাসার পরাজয় হল । নিঃশব্দে শেষ হয়ে গেল দুটো জীবন । শেষ হয়ে গেল আশা-আকাঙ্ক্ষা ভালোবাসা । কি ভয়ংকর ভাবেই না খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করল আমাদের । আচ্ছা মাধব, আজও কি আমরা আমাদের ভালোবাসা কে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনা ? পারিনা অশরীরী হয়ে শরীরী সম্পর্কের স্বাদ পেতে ?
------জানিনা, জানিনা আমি কিচ্ছু জানি না । তবে তোমাকে আর হারাতে চাই না । এই আংটির ছোঁয়ায় যখন তোমাকে দেখতে পাই, তোমার সান্নিধ্য উপভোগ করি তখন আর কিছুতেই সেই সুযোগ নষ্ট করব না । আমরা এভাবেই বাঁচবো ।
মিনতির চোখে নীরব সম্মতির লক্ষণ । আর তাইতো আজও রথীন বাবুর অনামিকায় সেই হীরের আংটিটা জ্বলজ্বল করছে । বিশ্বাস না হলে একবার গিয়ে দেখে আসতে পারো ।
========সমাপ্ত========
কৃষ্ণচন্দ্র রায়
ভালুকা নতুন বাজার, নদীয়া ---৭৪১৩১৭
Comments
Post a Comment