Skip to main content

নিবন্ধ ।। নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী

nabapravat

নোবেলের সাত কাহন

পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী 


এক.

নোবেল পুরষ্কার নিঃসেন্দহে বিশ্বের অন্যতম একটি সম্মানিত পুরষ্কার । প্রতি বছর অক্টোবর মাস এলেই প্রথম শ্রেণীর বিজ্ঞানীদের সাথে সাধারণ মানুষও উদগ্রীব হয়ে থাকেন নোবেল পুরস্কারের ঘোষণার দিকে । পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন , চিকিৎসার সঙ্গে সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতির মতো ছ'টি ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তি ও সংস্থাকে এই পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষিত হয় । ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত নোবেল পুরষ্কার মানব কৃতিত্বের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক হিসেবেই স্বীকৃতি পেয়েছে ।
এই পুরষ্কারগুলি এমন ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেয় যাদের কাজ মানুষের জীবন আরও উন্নত ও সুন্দর করে তোলে । বছরের পর বছর ধরে, নোবেল পুরষ্কারগুলি শ্রেষ্ঠত্ব,ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব মানুষকে মনে করিয়ে দেয় নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা এবং করুণা বিশ্বকে আরও ভালো কিছুর জন্য পরিবর্তন করতে পারে। এই ভাবনা থেকেই নোবেল পুরস্কার হয়ে উঠেছে সবচেয়ে অর্থবহ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিগুলির মধ্যে অন্যতম একটি পুরস্কার ।
নোবেল পুরস্কার কেবলমাত্র বিজ্ঞান, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রগতিকেই উৎসাহিত করে না, এই পুরষ্কার অন্যদেরও মানবতার সেবা করার জন্য অনুপ্রাণিত করে। আজও , তাই নোবেল পুরষ্কারকে "বিজ্ঞানের এভারেস্ট " হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে ।
আলফ্রেড নোবেল তার বেশিরভাগ সম্পদই , নোবেল পুরস্কারের জন্য রেখে গিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন এই অর্থ যেন মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণের জন্য প্রদান করা হয়। তাঁর ইচ্ছা অনুসারে, তাঁর মৃত্যুর পরে এই পুরস্কার দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছিল ।

দুই .

তাঁর পুরো নাম ছিল আলফ্রেড বারনাড নোবেল। ১৮৩৩ সালের ২১শে অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোমে জন্ম হয়েছিল আলফ্রেডের । নোবেলের দাদা ছিলেন একজন সেনা সার্জেন এবং তার বাবা ইমানুয়েল টেকনিক্যাল স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন।
সেন্ট পিটাসবার্গে বিজ্ঞানের পাঠ শেষ করে আলফ্রেড প্রথমে চলে গিয়েছিলেন আমেরিকায় । পরে, উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যান ফ্রান্সে র প্যারিসে । প্যারিসে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় বিজ্ঞানী আস্কানিয়ো সোবেরোর । সোবেরোর ততদিনে নাইট্রোগ্লিসারিন আবিষ্কার করে ফেলেছেন । নাইট্রোগ্লিসারিনের ব্যবহারগত দিক নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি । আলফ্রেড সেখানে থেকে সোবেরোর কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনের বিজ্ঞানটি ভাল করে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করলেন।
১৮৫২-তে তিনি ফিরে এলেন পিটার্সবার্গে , নিজের বাসভূমিতে । সেখানে ফিরেই তিনি যোগ দিলেন পারিবারিক অস্ত্রব্যবসায়। ব্যবসায় যোগ দিলেন ঠিকই, কিন্তু নাইট্রোগ্লিসারিন তাঁর মাথা থেকে সরে যায়নি । অস্ত্রের ব্যবসার পাশাপাশি নাইট্রোগ্লিসারিন নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজটিও শুরু করলেন সমান তালে । সেই সময়ে সঙ্গে পেলেন ভাই এমিলকে।
১৮৬৩ সালে নাইট্রোগ্লিসারিনের সঙ্গে বারুদ মিশিয়ে বানিয়ে ফেললেন ব্লাস্টিং অয়েল। বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য বানানো হলো ফিউজ়যুক্ত ব্লাস্টিং ক্যাপ। ব্লাস্টিং অয়েল ও ব্লাস্টিং ক্যাপ দুটোরই পেটেন্ট নিয়ে নিলেন তিনি । ব্যবসা চলছিল ভালোই কিন্তু , যুদ্ধ শেষে সব ব্যাঙ্ক একসাথে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় অর্থের অভাবে তাদের ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে যায় ।
পিটার্সবার্গের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে পুরো পরিবার নিয়ে আলফ্রড চলে আসেন স্টকহলমে। সেখানে আলফ্রেড আর তাঁর ভাই এমিল পুনরায় নাইট্রোগ্লিসারিন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে শুরু করলেন । সেই পরীক্ষা চলাকালে একদিন এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে যায় । সেই দুর্ঘটনায় মারা যায় আলফ্রেডের ভাই এমিল। কিছুদিন পরে মারা গেলেন বাবাও । মাত্র ৩১বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হলো আলফ্রেডকে। ততদিনে তাঁর ব্লাস্টিং অয়েল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, চার দিকে চাহিদা বেড়েই চলেছে । সেই অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে জার্মানি ও স্কটল্যান্ডে আরও দুটি কারখানা খুললেন আলফ্রেড। কিন্তু সবচেয়ে মুশকিল ছিল সুরক্ষার বিষয়টি । গরম কিছুর সংস্পর্শে এলেই বা ধাক্কা লাগলেই নাইট্রোগ্লিসারিনে বিস্ফোরণ ঘটে প্রচুর শ্রমিক মারা যেতে লাগলেন । সবচেয়ে ভয়ংকর দুর্ঘটনাটি ঘটে গেল ১৮৬৬ সালে , জার্মানির ক্রুমেলে। এই দুর্ঘটনা পরে কারখানায় মৃত্যুমিছিল চিরতরে তাঁর জীবন বদলে দিল ।
ক্রুমেলের দুর্ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা সছিদ্র বালির স্তুপ ঘুরিয়ে দিল আলফ্রেডের জীবনের মোড়
আদি প্রাণী ডায়াটমের দেহাবশেষে নাইট্রোগ্লিসারিন ভরে, এই ছিদ্রযুক্ত বালির আবরন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কথা ভাবলেন তিনি । তাঁর মনে হলো এমন জিনিস ধাক্কা খেলে যেমন সহজে ফাটবে না, তেমনই গরম হলেও সহজে বিস্ফোরণ ঘটবে না । এটা ব্লাস্টিং ক্যাপ দিয়ে ডিটোনেট করে ফাটানোও যাবে সহজে ।
১৮৬৭ সালে নতুন এই বিস্ফোরকটির পেটেন্ট নিলেন আলফ্রেড। গ্রিক শব্দ 'ডুনামিস' মানে প্রবল শক্তি। সেখান থেকেই এই নতুন আবিষ্কারের তিনি নাম দিলেন
' ডিনামাইট ' ।
সেই সময়ে পাথরে ফুটো করতে নিউম্যাটিক ড্রিলের আবিষ্কার বড় ভূমিকা নিয়েছে । সেই ফুটোকে ফাটিয়ে চৌচির করার সহজ পথ নিয়ে এল আলফ্রেডের 'ডিনামাইট'।শুধু পাহাড় নয়, বড় বড় বাড়ি মুহূর্তে ভেঙে দিতে ডিনামাইটের জুড়ি ছিল না। অল্প দিনেই ডিনামাইট হয়ে ওঠে একটি জনপ্রিয় বিস্ফোরক।

তিন .

১৮৮৮ সালের ১২ জুন। সকালের সংবাদপত্রে বড় বড় হরফে নিজের নাম দেখে চমকে উঠলেন আলফ্রেড । সেদিন কাগজে তিনি দেখলেন তাঁরই মৃত্যুসংবাদ ছাপা হয়েছে কাগজের প্রথম পাতায় । চমকে উঠলেন তিনি । শিরোনামে লেখা ছিল 'মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীর মৃত্যু' । আসলে , পত্রিকাটি ভুল করে আলফ্রেডের ভাইয়ের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলেছিল। ভুল করে প্রকাশিত সেই শোক সংবাদ আলফ্রেড নোবেলকে তাঁর উত্তরাধিকার এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে। সেই মুহূর্তটিই বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার , নোবেল পুরস্কার তৈরির অনুপ্রেরণা জোগায়।

আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিস্কার করেছিলেন সহজে ঘর বাড়ি ভেঙে ফেলতে বা বিস্ফোরন ঘটিয়ে পাহাড়ে ফাটল ধরাতে । আলফ্রেড মানুষের কাজের সুবিধে হওয়ার কথা ভেবেছিলেন , শ্রমিকের কাজের সুবিধের কথা ভেবেছিলেন। তিনি মানুষ মারার কাজে ডিনামাইট ব্যবহার করতে বলেননি । কিন্তু, মানুষ ধ্বংস ও মৃত্যুর কাজে লাগালো ডিনামাইটকে। তার নিজের আবিস্কারে মানুষের নির্বিচার মৃত্যু দেখে আহত হয়েছিলেন আলফ্রেড ।
মানুষটি জীবনে কোনোদিন ধূমপান করেননি, কখনও মদের গ্লাস ছুঁয়ে দেখেননি। একাকী জীবন তাঁর , বিয়েও করেননি তিনি । তেমন কোনো বন্ধুবান্ধবও ছিল না । মৃত্যুর অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে প্রভূত অর্থের মালিক আলফ্রেড সেই সময়ে জীবনে নিরাসক্ত হয়ে পড়েন ।
প্রথম জীবনে আলফ্রেড কবি হতে চেয়েছিলেন , বেশ কিছু কবিতাও লিখেছিলেন। নিজের মৃত্যুর খবরে আলফ্রেডের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল তাঁর সযত্ন লালিত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির কাছে।

চার.

১৮৯৬ সালের ডিসেম্বরে মৃত্যুর এক বছর আগে, ১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর ৬৩ বছর বয়সে, আলফ্রেড নোবেল তার আগের উইলে পরিবর্তন করলেন । সেই উইলে উল্লেখ করলেন পুরস্কার দেওয়ার কথা । তিনি লিখলেন, তাঁর সম্পত্তির বেশিরভাগ অংশ পাঁচ ভাগে ভাগ করে নোবেল পুরস্কারের তহবিল সংগ্রহ করা হবে। সুইডিশ ভাষায় হাতে লেখা চার পৃষ্ঠার সেই উইলে তিনি সারাজীবনের সঞ্চিত ধন-সম্পদের বিলিবন্টনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন । পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসা, সাহিত্য এবং শান্তিতে পুরষ্কার দেওয়ার জন্য তিনি সঞ্চিত অর্থের একটি বড় অংশ দান করে দিলেন । নোবেলের উইলে অর্থনীতিতে পুরষ্কার দেওয়ার কোনো কথা তিনি বলে যাননি তাই নোবেলের সঞ্চিত অর্থ-সম্পদ থেকেও অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কারের অর্থ আজও দেয়াও হয় না। তাঁর উইলের একটি নির্দিষ্ট অংশে এই পুরস্কার দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন,
...আমার বাকি সব সম্পদের বিলিবন্টন করা হবে এভাবে , আমার মূলধন যা আমার নির্বাহী কর্মকর্তারা নিরাপদে বিনিয়োগ করেছেন তা দিয়ে একটা তহবিল গঠন করা হবে। এই তহবিল থেকে বার্ষিক যে সুদ পাওয়া যাবে তা প্রতি বছর পুরষ্কার হিসেবে ভাগ করে দেয়া হবে তাদেরকে যাঁরা আগের বছর মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রেখেছেন। বছরে যে সুদ পাওয়া যাবে সেই সুদকে সমান পাঁচ ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে । এক ভাগ দেয়া হবে সেই ব্যক্তিকে যিনি পদার্থবিজ্ঞানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বা উদ্ভাবন করবেন , এক ভাগ দেয়া হবে সেই ব্যক্তিকে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক আবিষ্কার বা উন্নয়ন করবেন, এক ভাগ দেয়া হবে সেই ব্যক্তিকে যিনি শরীরতত্ত্ব কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করবেন, এক ভাগ দেয়া হবে সেই ব্যক্তিকে যিনি কোন আদর্শ স্থাপনের লক্ষ্যে সাহিত্যে সবচেয়ে ভালো কাজ করবেন এবং এক ভাগ দেয়া হবে সেই ব্যক্তিকে যিনি দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে, সেনাবাহিনীর বিলুপ্তি বা সৈন্যসংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে, শান্তি সম্মেলনের আয়োজন ও প্রচারের লক্ষ্যে সবচেয়ে বেশি কিংবা সবচেয়ে ভালো কাজ করবেন।

তিনি আরও লিখেছেন, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের পুরষ্কার দেবে সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস, শরীরতত্ত্ব কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরষ্কার দেবে স্টকহোমের ক্যারোলিন ইন্সটিটিউট, সাহিত্যের পুরষ্কার দেবে অ্যাকাডেমি ইন স্টকহোম এবং শান্তি পুরষ্কার দেবে নরওয়ের পার্লামেন্ট (স্টরটিং) কর্তৃক নিয়োজিত পাঁচ সদস্যের এক কমিটি।

এই পুরস্কার তাঁর নামে নামাঙ্কিত হয়ে নোবেল পুরষ্কারে পরিণত হয়। তৈরি হয় নোবেল ফাউন্ডেশন। ১৯০০ সালের ২৯ শে জুন এই প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়েছিল । আলফ্রেডের উইলের ভিত্তিতে নোবেল পুরস্কারের অর্থ ও প্রশাসন পরিচালনা করাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ। নোবেল ফাউন্ডেশন এই পুরস্কারের নিয়মাবলী চূড়ান্ত করার পরে নোবেল কমিটি প্রথম পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করা শুরু করে। পরবর্তী কালে তারা প্রাথমিক নির্বাচিত প্রার্থীদের একটি তালিকাও পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে দেয়। বিভিন্ন পুরস্কারের জন্য নির্দিষ্ট সুইডিশ একাডেমি এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিজয়ী নির্বাচন করে।

আলফ্রেড নোবেল পুরস্কারের জন্য গণিতকে তাঁর উইলে অন্তর্ভুক্ত করে যাননি। ফলে , বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় দেওয়া হলেও গণিতের উপর কোনো নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় না। কেন তিনি পুরস্কারের জন্য গণিতের কথা বলেননি সেই নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অনেক কৌতূহল এবং জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গণিতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনা করেই তৈরি হয়েছে এই জল্পনা । বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সম্ভবত গণিতকে তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে দেখেছিলেন আলফ্রেড , আর সেই কারণেই হয়তো তিনি গণিতকে পুরস্কারের জন্য ভাবেননি ।
তিনি সেই ক্ষেত্রগুলোই বেছে নিয়েছিলেন যেখানে মানবজাতির উপকার হতে পারে। এছাড়া, যেহেতু মর্যাদাপূর্ণ কয়েকটি গণিত পুরষ্কার তখন প্রচলিতই ছিল, যেমন সুইডিশ গণিতবিদ গোস্টা মিত্তাগ-লেফলারের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পুরস্কার , সেই কারনে নোবেল হয়তো আরও একটি প্রতিযোগিতামূলক পুরষ্কার দেওয়ার কথা ভাবেননি ।

পাঁচ

১৮৯৬ সালে নোবেলের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর, ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছিল।
পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসা, সাহিত্য এবং শান্তির ক্ষেত্রে মোট পাঁচটি নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে, অর্থনীতি বিজ্ঞানে পুরষ্কার দেওয়ার প্রচলন হলে নোবেল পুরস্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় ছ'য়ে। অর্থনীতির পুরষ্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পুরষ্কার না হলেও এটি আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে "দ্য সেভেরিগেস রিক্সব্যাঙ্ক পুরষ্কার" নামে পরিচিত। এই পুরস্কারটি সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভেরিগেস রিক্সব্যাঙ্ক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য এবং অর্থনীতির অনুষ্ঠানটি সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন সুইডেনের রাজা। নরওয়ের অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি দেয় নোবেল শান্তি পুরস্কার।
পুরস্কার গ্রহণের সময়ে বিজয়ীরা নোবেল বক্তৃতাগুলিতেও অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তারা তাদের গবেষণা বা মানবিক কাজের অন্তর্দৃষ্টি বিশ্ববাসীর সঙ্গে ভাগ করে নেয়। আলফ্রেডের উইলের মর্মানুসারে পুরস্কার প্রাপকদের হাতে একটি স্বর্ণপদক, ডিপ্লোমা এবং আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই আর্থিক পুরস্কারের মূল্য বর্তমানে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা যেটি ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০.৩ কোটি টাকা । নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত ব্যক্তি ' নোবেল লরিয়েট ' হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন ।

নোবেল লরিয়েটদের যে স্বর্ণপদকটি দেওয়া হয়, সেটি অবশ্য বিশুদ্ধ সোনার তৈরি নয়। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ২৩ ক্যারেট সোনা দিয়ে নোবেল পুরস্কারের পদক তৈরি করা হয়েছিল । পরে, ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে পদক তৈরি করা শুরু হয়। ১৮ ক্যারেটের সোনার পদকে দেওয়া থাকে ২৪ ক্যারেটের সোনার প্রলেপ।
১৯৮০ সালের পর থেকে স্বর্ণপদকের বিশুদ্ধতাই কমেনি , কমে যায় ওজনও। আগের পদকগুলির ওজন হতো ২০০ গ্রাম আর এখন সেটি দাঁড়িয়েছে ১৭৫ গ্রামে।


ছয়.

প্রথম নোবেল প্রদান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯০১ মার্চ ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমের গ্র্যান্ডে হোটেলে এক ভোজসভার মাধ্যমে । সেই ভোজসভায় ১১৩ জন পুরুষ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সেই বছরেই এক্স-রে আবিষ্কারের জন্য প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল উইলহেম রন্টজেনকে। এটি ছিল পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার। চিকিৎসায় প্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জার্মান চিকিৎসক ও অনুপ্রাণবিজ্ঞানী এমিলি ভন বেরিং। ১৮৯০ এর দশকে তিনি ডিপথেরিয়া প্রতিরোধক তৈরি করেন, যা আজও হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করে চলছে।

২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১,০১২ জন ব্যক্তি ও সংস্থা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন , এদের মধ্যে কেউ কেউ একাধিকবার পুরস্কার লাভ করেছেন, মোট ৮৯২ জন ভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা এই সম্মাননা অর্জন করেছেন। এই বছরে এই তালিকায় যুক্ত হলেন আরও ১৪ জন।
নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মালালা ইউসুফজাই। ২০১৪ সালে তিনি মেয়েদের শিক্ষার জন্য লড়াই করে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন পদার্থবিদ জন বি. গুডেনাফ হলেন সবচেয়ে বয়স্ক নোবেল লরিয়েট যিনি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে তার কাজের জন্য ৯৭ বছর বয়সে ২০১৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন।
এখন পর্যন্ত মোট নয়জন ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। প্রথম এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি ১৯১৩ সালে তাঁর বিখ্যাত রচনা গীতাঞ্জলির জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন।
মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি দু'বার নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন। এদের একজন হলেন জন বার্ডিন যিনি পদার্থবিজ্ঞানে প্রথমবার ১৯৫৬ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য এবং দ্বিতীয় বার ১৯৭২ সালে অতিপরিবাহিতার (সুপারকন্ডাক্টিভিটি) তত্ত্ব উদ্ভাবনের জন্য এই পুরষ্কার পেয়েছিলেন । আরেকজন হলেন পোলীয় ও ফরাসি বিজ্ঞানী মেরি কুরি । মেরি কুরি ছিলেন নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী ও একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান ক্ষেত্রে দুটি নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন । ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞান এবং ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল তাঁকে । তার আবিষ্কারগুলি আধুনিক পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার ১৯৫৮ সালে রসায়নে নোবেল পান ইনসুলিন অণুর গঠন নির্ধারণের জন্য। ১৯৮০ সালে পুনরায় তিনি রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন ভাইরাসের নিউক্লিওটাইড ধারা বা ডিএনএ সিকুয়েন্সিং উদ্ভাবনের জন্য। তিনি ছিলেন রসায়নে দুবার নোবেলজয়ী প্রথম বিজ্ঞানী।
২০০১ সালে শার্পলেস রসায়নে নোবেল পান কাইরালি-অণুঘটিত জারণ বিক্রিয়ার জন্য। এরপর ২০২২ সালে তিনি আবার রসায়নে নোবেল পান ক্লিক কেমিস্ট্রি ও বায়ো–অর্থোগোনাল কেমিস্ট্রির উন্নয়নের জন্য। স্যাঙ্গারের পর তিনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি রসায়নে দুবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ।

মার্কিন রসায়নবিদ লিনাস পাউলিং হলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি রসায়ন এবং শান্তিতে দুটি আলাদা ক্ষেত্রে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন। তিনি রাসায়নিক বন্ধন বোঝার এবং বর্ণনা করার জন্য কোয়ান্টাম মেকানিক্স ব্যবহার করেছিলেন। পরে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রচার চালিয়েছিলেন। পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আবেদনেরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি । ১৯৫৪ সালে রসায়নে এবং ১৯৬৩ সালে শান্তিতে দুইবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন পাউলিং ।

মানবতার সেবায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার কারণে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে তিনবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা ও আহতদের চিকিৎসা প্রদানে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় অসাধারণ অবদানের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)
১৯৫৪ এবং ১৯৮১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে।

নোবেলের দীর্ঘ ইতিহাসে দুজন স্বেচ্ছায় নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই দুজনের প্রথমজন হলেন ফরাসি দার্শনিক জঁ পল সার্ত্রে এবং দ্বিতীয়জন ভিয়েতনামের সংগ্রামী রাজনীতিবিদ লে দুক তাও।
ফরাসি লেখক জঁ পল সার্ত্রে ছিলেন অস্তিত্ববাদের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা । তাকে আধুনিক অস্তিত্ববাদের জনকও বলা হয়। সার্ত্রের অসাধারণ কাজের মধ্যে রয়েছে, 'বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস' শীর্ষক বইটি। যেখানে তিনি তাত্ত্বিকভাবে অস্তিত্ববাদের উপর তাঁর মতামত উপস্থাপন করেছেন। ইউরোপের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপর্যয় কেমন ছিল, সেটা গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
পল সার্ত্রে ১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কিন্তু তিনি এই পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেন। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন , নোবেল এমন এক সম্মান, যা পাশ্চাত্যের লেখক এবং প্রাচ্যের বিপ্লবীদের বাক্‌রুদ্ধ করে দেয়।
তিনি বলেছিলেন , আলজেরিয়ায় যুদ্ধ চলাকালে তাঁরা ১২১ জনের স্বাক্ষরিত বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন, তখন তাঁদের পুরস্কার দেওয়া হয়নি। দিলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে বলে তাঁরা তা গ্রহণ করতেন। সংগ্রামের শেষে পুরস্কৃত হতে তিনি তাঁর অপারগতা প্রকাশ করেন।
১৯৭৩ সালে ভিয়েতনামের বিপ্লবী নেতা লে দুক তাও এবং মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারকে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল নোবেল কমিটি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে এই দুজনের মুখ্য ভূমিকা ছিল । কিন্তু লে দুক তাও পুরস্কার নিতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন । কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভিয়েতনামে প্রকৃত শান্তি তখনও ফিরে আসেনি। যেহেতু শান্তিই প্রতিষ্ঠা হয়নি, সেহেতু শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য কোনো পুরস্কার তিনি গ্রহণ করতে পারেন না। সুইডিশ একাডেমি পঞ্চাশ বছর ধরে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন বা বাছাইয়ের সব তথ্য গোপন করে রাখে। তাই এই চিঠির কথা জানা যায় ৫০ বছর পরে। হেনরি কিসিঞ্জার ও লে দুক তাওকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদে সেই সময়ে নোবেল কমিটির দুই সদস্য পদত্যাগও করেছিলেন। কারণ হিসেবে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ভিয়েতনামে যুদ্ধ বন্ধ না হওয়াকেই তুলে ধরেছিলেন ।
বার্ট্রান্ড রাসেলও প্রাথমিক ভাবে নোবেল নিতে তাঁর অসম্মতি প্রকাশ করেছিলেন , কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেছিলেন ।

প্রায় ছয় দশক আগে ১৯৫৮ সালে মস্কোর ঔপন্যাসিক ও কবি বরিস পাস্তারনাককে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। সমসাময়িক গীতিকবিতা এবং মহান রাশিয়ান মহাকাব্য রচনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
তিনি প্রাথমিকভাবে এই সম্মান গ্রহণ করলেও পরে তৎকালীন সোভিয়েত সরকারের চাপের মুখে পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়েছিলেন ।

হিটলারের নিষেধাজ্ঞার কারণে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েও পুরস্কার নিতে আসতে পারেননি তিন জন জার্মান বিজ্ঞানী। ক্যারোটিনয়েড ও ভিটামিন নিয়ে কাজ করার জন্য ১৯৩৮ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন জার্মান জৈব রসায়নবিদ রিশার্ড কুন। রিশার্ড কুন নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। সব জার্মান নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ১৯৩৭ সালে অ্যাডল্ফ হিটলার একটি ডিক্রি জারি করেছিলেন। হিটলারের জারি করা নিষেধাজ্ঞার কারণেই কুন নোবেল পুরস্কার নিতে পারেননি । একই কারণে পুরস্কার নিতে পারেননি অ্যাডলফ বুটেনান্ডও। ১৯৩৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ান বিজ্ঞানী লিওপোল্ড রুজিকার সাথে যৌথভাবে জার্মান জৈব রসায়নবিদ অ্যাডলফ বুটেনান্ড । যৌন হরমোন নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল । তিনিই প্রথম একটি বিশুদ্ধ পুরুষ যৌন হরমোন তৈরি করতে এবং এর রাসায়নিক গঠন নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যাকে বলা হয়েছিল , 'অ্যান্ড্রোস্টেরোন'।
বঞ্চিতদের তালিকায় ছিলেন আরও একজন । জার্মান প্যাথলজিস্ট ও ব্যাকটিরিওলজিস্ট গেরহার্ড ডোমাকক ১৯৩৯ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পেয়েও সেটি নিতে যেতে পারেননি হিটলারের নিষেধাজ্ঞার কারণেই । পরবর্তীকালে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে ডিপ্লোমা সনদ ও পদক তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল , কিন্তু পুরস্কারের অর্থ তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।


সাত.

এই বছরে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ীদের নাম ৬ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে । শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা হয়েছিল অসলোতে , অন্য পুরস্কারের ঘোষণা হয় স্টকহোমে । ডিসেম্বরের ১০ তারিখে আলফ্রেডের জন্মদিনে প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হলো সেই পুরস্কার ।

২০২৫ সালের চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মেরি ই. ব্রুনকো, ফ্রেড র‍্যামসডেল এবং শিমন সাকাগুচি৬ অক্টোবর এই তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেমব্লি। মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির গবেষক, ফ্রেড র‍্যামসডেল যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিক্সের গবেষক এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্সের উপর তাদের যুগান্তকারী গবেষণার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন তারা। এই গবেষণার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে আমাদের ধারণায় বিপ্লব এসেছে এবং অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, ক্যান্সার এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেমব্লি এক বিবৃতিতে বলেছে, 'তাদের আবিষ্কার গবেষণার একটি নতুন ক্ষেত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং নতুন চিকিৎসার বিকাশকে উৎসাহিত করেছে।'


পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ. ডেভোরেট এবং জন এম. মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক সার্কিটে কোয়ান্টাম টানেলিং এবং শক্তির স্তরের উপর তাদের যুগান্তকারী গবেষণা অণুবীক্ষণিক কোয়ান্টাম জগৎ এবং ম্যাক্রোস্কোপিক বাস্তব জগতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছে। এই অর্জন কোয়ান্টাম কম্পিউটার, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।


ধাতব-জৈব কাঠামো (MOFs) আবিষ্কারের জন্য জাপানের কিউটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিচার্ড রবসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ওমর এম. ইয়াঘিকে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে রসায়নে । ধাতব-জৈব কাঠামো বিশিষ্ট পদার্থগুলিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্থান রয়েছে যা গ্যাস আটকে রাখতে পারে, ক্ষতিকারক রাসায়নিক সঞ্চয় করতে পারে, বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারে এবং এমনকি শুষ্ক বাতাস থেকে জল সংগ্রহ করতে পারে, এগুলো বিজ্ঞান এবং পরিবেশের জন্য যথেষ্ট সুবিধা প্রদান করে।


বিশৃঙ্খলা ও হতাশার মধ্যে শিল্পের স্থায়ী শক্তি তুলে ধরার জন্য হাঙ্গেরীয় লেখক লাসজলো ক্রাস্‌নাহোরকাইকে দেওয়া হয়েছে সাহিত্যের নোবেল পুরষ্কার । তার অনন্য লেখার ধরণটির জন্যই তিনি পরিচিত। ক্রাস্‌নাহোরকাই অযৌক্তিকতা, গভীর প্রতিফলন এবং কাব্যিক গল্প বলার মিশ্রণ ঘটিয়ে মধ্য ইউরোপীয় সাহিত্য ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন এবং পূর্ব দর্শন থেকে অনুপ্রেরণাও গ্রহণ করেছেন।সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, আকর্ষণীয় এবং দুরদর্শী রচনার জন্য তাকে এ বছর সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তার লেখনি বৈশ্বিক ভয়াবহতার মধ্যে শিল্পের শক্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
লাসজলো ক্রাস্‌নাহোরকাই তার ডিস্টোপিয়ান ও বিষণ্ণতাময় উপন্যাসগুলোর জন্য বিখ্যাত। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে, সাটানট্যাঙ্গো, দ্য মেলানকোলি অব রেজিস্ট্যান্স। এগুলো পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি ২০১৫ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার এবং ২০১৯ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ফর ট্রান্সলেটেড লিটারেচার জেতেন।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলায় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের লড়াইয়ের সাহসী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো । অবাধ নির্বাচন, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের জন্য তার নিরন্তর লড়াইকে সম্মান জানিয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটি। তার সাহস এবং শান্তিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ লক্ষ ভেনেজুয়েলার মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে যারা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে চলেছেন এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে চলেছেন ।


অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনজন অর্থনীতিবিদ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক জোয়েল মোকির, ফ্রান্সের নাগরিক ও কলেজ দে ফ্রান্স এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের গবেষক ফিলিপ আগিয়োঁ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, প্রভিডেন্সের অধ্যাপক পিটার হাউইট। উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করার জন্য তাঁরা এই পুরস্কার পেলেন। তারা দেখিয়েছেন, উদ্ভাবনই ভবিষ্যৎ অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। তাঁদের গবেষণা মনে করিয়ে দেয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয় বা নিশ্চিত কোনো প্রক্রিয়া নয়।নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, গত দুই শতাব্দীতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ব দেখেছে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এর ফলে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ, আর এর ওপরই গড়ে উঠেছে আমাদের সমৃদ্ধির ভিত্তি। এ বছরের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী-জোয়েল ময়কার, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট দেখিয়েছেন, কীভাবে উদ্ভাবন আরো অগ্রগতির প্রেরণা হতে পারে ।
এই তিন অর্থনীতিবিদের মধ্যে অর্ধেক পুরস্কার পেয়েছেন জোয়েল মোকির। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্তগুলো শনাক্ত করার জন্য তিনি পুরস্কার পেয়েছেন। 'সৃজনশীল বিনাশ' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির তত্ত্ব দেওয়ার জন্য বাকি অর্ধেক পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট। রয়টার্সের তথ্যানুসারে, এই পুরস্কারের মূল্য প্রায় ১২ লক্ষ ডলার।

যথারীতি দ্বন্দ্ব রইল, মতান্তর রইল। পাওয়া না পাওয়া নিয়ে বিতর্কও থেকে গেল। কিন্তু নোবেল পুরস্কারের গুরুত্ব এতে এতটুকুও কমে যাচ্ছে না। আলফ্রেড নোবেল যেমন ছিলেন তেমনই থাকলেন চিরস্মরণীয় হয়ে । থেকে গেল তাঁর স্মরণে তৈরি নোবেল পুরস্কারও।




=====================

Pulakranjan Chakraborty

Pulakranjan Chakraborty

Village- Jatadharpur

PO- KALARA

Dist Paschim medinipur

Pin no : 7365933874

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতা ।। দি ওয়াল- রাহুল দ্রাবিড় ।। আনন্দ বক্সী

দি ওয়াল- রাহুল দ্রাবিড়  আনন্দ বক্সী  ঠান্ডা মাথা, সরল হাসি, ভদ্র আচরণ  যাঁর ব্যাটিং দক্ষতায় মজে সবার মন,  ধৈর্য আর একাগ্রতার যিনি নিদর্শন  ভারতবাসীগণের তিনি অতি আপনজন,  ইন্দোরে জন্ম হলেও কর্নাটকে বাস  ক্রিকেট খেলে ছড়িয়ে দেন ধরাধামে সুবাস, শরদ দ্রাবিড় পিতা তাঁর পেশায় কারবারি  মাতা পুষ্পা,গৃহবধূর ছেলে সে দরকারি, যাঁর ব্যাটিং দেখতে মাঠে জমতো সে কী ভিড় ক্রিকেটপ্রেমী জনের প্রিয়, সে রাহুল দ্রাবিড়। বারো বছর বয়সে তাঁর ক্রিকেটে হাতেখড়ি  স্কুলের হয়ে ভাসান প্রথম তাঁর ক্রিকেট তরি। বিশ্বনাথ ও তারাপোরে দেন ক্রিকেট-দীক্ষা  সঙ্গী হলো জীবনে তাঁর তাদের সে শিক্ষা। কর্নাটকের হয়ে তিনি ঘরোয়া খেলা খেলে  নির্বাচকের সামনে  প্রতিভা ধরেন মেলে। ওয়ানডের জাতীয়দলে পেলেন তিনি ডাক  কিন্তু যেন কোথায় একটা থেকেই গেল ফাঁক।  শুরুটা তাঁর হলোনা ভাল শ্রীলঙ্কার সাথে  বাড়ালেন সময় আরও নিজের কসরতে।  ইংল্যান্ডে ঘটল তাঁর টেস্ট-অভিষেক  এমন খেলা খেললেন যে পেলনা কেউ ঠেক। লর্ডস মাতিয়ে দিলেন তিনি দুর্দান্ত খেলে  আউট হয়ে ফ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

নববর্ষের ছড়া ।। বাসুদেব সরকার

  পুরানো ছাড়া নতুনের সাজ  বাসুদেব সরকার এ জীবনের অতীতস্মৃতি  শিকেয় তুলে,  নতুন স্বপ্নে যায় হারিয়ে পুরান ভুলে।  নতুন স্বপ্ন, নতুন আশায়   নতুন দিনে,  নতুন দিনের হাট হতে যে  আনে কিনে। স্বপ্ন-আশা-ভালোবাসায়   বাঁচা-বাড়া,  নেই নতুনের অস্তিত্ব যে  পুরান ছাড়া।  স্থির দাঁড়ানো পুরানো ভিত্তি  ব্যতীত আজ,  ভঙ্গুর অতি, বিবর্ণ তাই- নতুনের সাজ।  ........................... ◾বাসুদেব সরকার, পেশা: শিক্ষক  চরভৈরবী, হাইমচর, চাঁদপুর, বাংলাদেশ। 

মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ

  বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক গল্প মাটি , বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান দিব্যেন্দু ঘোষ বাঁকুড়ার একেবারে শেষ প্রান্তের গ্রাম খয়েরবনি। চৈত্রের দুপুরে গ্রামটাকে দেখলে মনে হয় যেন কোনও রাক্ষস তার সর্বস্ব শুষে নিয়ে ছিবড়ে করে ফেলে রেখে গেছে। মাঠের পর মাঠ ফুটিফাটা , ধানের গোলাগুলো খাঁ খাঁ করছে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু নদীটা কবেই শুকিয়ে কাঠ , সেখানে এখন শুধু বালি আর নুড়িপাথরের কঙ্কাল। এই প্রবল খরা আর খিদের জ্বালা, এ দুইয়ের সঙ্গেই খয়েরবনি গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। এখানে জীবন মানে প্রতিদিনের ক্লান্তিহীন যুদ্ধ , যেখানে জেতার কোনও আশা নেই , শুধু টিকে থাকাটাই একমাত্র লক্ষ্য । গ্রামের একেবারে শেষ মাথায় বুড়ো শিবতলার প্রাচীন নাটমন্দির। সেটারও ভগ্নদশা , পলেস্তারা খসে গিয়ে ভিতরের নগ্ন ইটগুলো বেরিয়ে পড়েছে। নাটমন্দিরের এক কোণে বসেছিল রতন। ওর বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ হবে , কিন্তু অভাব আর রোদের তাপে চামড়া পুড়ে গিয়ে ওকে আরও অন্তত দশ বছরের বড় দেখায়। পরনে শতচ্ছিন্ন ফতুয়া , চোখের নীচে গভীর কালি , বুকের পাঁজরগুলো গোনা যায় । আর মাত্র দু ' দিন পরেই গাজন। গ্রামের প্রা...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

হালখাতায় বেহাল দশা ।। দীপক পাল

  হালখাতায় বেহাল দশা দীপক পাল পার্কের বেঞ্চে তিন মক্কেল সবে এসে বসেছে। তিন মক্কেল মানে বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপ। তিনজনেই এবছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। সৌম্য আর বিশ্বরূপ স্টার পেয়েছে। কিন্তু বাবলা তিনবারের চেষ্টায় মোটামুটি ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। তাই ওদের আনন্দ আর ধরে না। সৌম্য ও বিশ্বরূপ ভাল কলেজে ভর্তি হয়েছে আর বাবলা গড়িয়াহাটায় ইনিডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ড্রাফ্টসম্যান ট্রেণিংর জন্য ভর্তি হয়েছে। বাবলা বললো, - ' এই শোন, কাল তো পয়লা বৈশাখ, নববর্ষ, এই দিনটাকে আমরা অন্য রকম করে পালন করতে পারি না?' বিশ্বরূপ বলে, - ' তুমিই বলো কি ভাবে আমরা নববর্ষটা পালন করতে পারি?' - ' এই ধর কাল বিকেলে যদি আমরা সবাই ধুতি পাঞ্জাবী পরে বেরোই তবে কেমন হয়?' - ' ও বুঝেছি, কাল আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নিপাট বাঙালী সেজে বেরোব।' সৌম্য বলে। - ' অ্যায় একদম ঠিক বলেছিস তুই।' এবার ওরা বললো, - ' কিন্তু ধুতি পাঞ্জাবীতো আমাদের নেই, তবে?' - ' আরে বাবা সেতো আমারও নেই। শোন আ...

নববর্ষের একাল সেকাল ।। অয়নী মুখার্জী

নববর্ষের একাল সেকাল  অয়নী মুখার্জী  নতুন নতুন আশা নিয়ে     নতুন বছর আসে, চড়ক আর গাজন শেষে      বৈশাখ মাসে| আগে চলত বিকেল থেকেই    হাল খাতার বহর, নোনতা-মিষ্টির প্যাকেট হাতে      মেতে উঠত শহর| পাড়ার দোকানে মানুষের ঢল     উপচে পড়া ভিড়, নতুন জামা গায়ে চড়িয়ে     চোখ ক্যালেন্ডারে স্থির| এখন সেই উন্মাদনা    হারিয়ে গেছে প্রায়, অনলাইন কেনা-কাটায়      অনেক সাশ্রয় হয়! পাড়ার দোকান ঝিমিয়ে গেছে     লোক হয়না আর, পয়লাতেও বিদেশি পোশাক     চাই ভিনদেশি খাবার|  যুগের সাথে তাল মিলিয়ে    ...

নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক

নববর্ষের সেকাল একাল মিতা ভৌমিক মুছে যাক গ্লানি,ঘুচে যাক সব জীর্ণ স্মৃতির ভার, তবুও মন থেকে মোছে না কিছু জমে থাকা হাহাকার। কিছু হাহাকারে থাকে পুরোনোকে ফিরে পাবার আকুলতা। যেমন প্রতি বছর বৈশাখের প্রথম দিনে হাহাকার জাগে পঞ্জিকার ডানার ওপর নববর্ষের রোদ ঝলসানো ভোরের। পুরোনো দিনগুলো উঁকি দিয়ে যায় স্মৃতির জানলা ধরে। প্রতিবছর ক্যালেন্ডার বদলায়,সময় এগিয়ে যায়, আমরা ধীরে ধীরে যান্ত্রিক মানবে রূপান্তরিত হয়ে উঠি। তবু কোথাও যেনো হৃদয়ের মণিকোঠায় অক্ষয় হয়ে থাকে শৈশবের নববর্ষরা ,রঙিন স্মৃতির ক্যানভাস জুড়ে। সেকালের নববর্ষ মানেই ছিলো ভোরের আলো ফুটতেই নতুন জামা পড়ে ঠাকুরঘরের পূজোতে চন্দন-ধূপের সুঘ্রাণ। "গাছে গাছে ফুল ফুটেছে, নববর্ষের ডাক এসেছে তুমি আমার বন্ধু হও, নববর্ষের কার্ড লও" বাবার এনে দেওয়া নববর্ষের কার্ডগুলোতে এই কবিতার ছড়া লিখে দাদুর হাত ধরে বিলি করতে বেরোতাম বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি।পরিবর্তে নিজের সংগ্রহেও জমা হতো বহু নববর্ষের কার্ডের সম্ভার। ক্যালেন্ডারের পাতায় গণেশঠাকুরের মূর্তি আর লাল খেরোর খাতার গন্ধে ম ম করতো পাড়ার দোকানগুলো। মিষ্টির বাক্স আর বগলদাবা করে কিছু...

হালখাতা ।। সেখ জিয়াউর রহমান

  হালখাতা সেখ জিয়াউর রহমান সবারই বুকের বাঁ পকেটে একটা হালখাতা রাখা থাকে সেখানে লেখা -  মিনুর মা'কে চার চামচ নুন, ছোট জা বোনের বিয়েতে মিনাকরা বড়ো নেকলেসটা নিয়ে একমাস পর ফেরত দিয়েছিলো, কেউ লিখে রাখে - "ঠাকুরপো ওই দিকেই তো যাবে তোমার দাদার খাবারটা একটু নামিয়ে দেবে!" আরও কত কী- রামুর ভূষিমাল দোকানে একশো টাকা বাকি সেও হালখাতার কার্ড পাঠিয়েছে,মলিন কাগজে গণেশের ছবি ছাপা, দেবে তো সেই দশ বারোটা বোঁদে একটা নিমকি আর একটা গজা সবই হিসাবে বাঁধা! আচ্ছা মেঘ তো কোনোদিন কার্ড পাঠায়নি! চুড়ুই পাখি,  নাম না জানা ওই ফুলটা সন্ধেবেলা মন ফুরফুরে করে দেয় যে  বা ওই সাঁওতালি বাঁশিওয়ালা! হিসেবের খাতায় কত পাওনা জমা হলো   কে জানে! তোমার-আমার হিসেব খোলা খাতা — পাতা উল্টালেই দেখি কত না-দেওয়া, কত না-পাওয়া এই খাতা কখনো যেন বন্ধ  না-হয়, নইলে কোনো একদিন তুমি খাতা ছুঁড়ে ফেলে বলবে— "আমার জন্যে কী করেছো?" তখন— সমস্ত না-লেখা ভালোবাসা, সব গোপন স্পর্শ, সব নিঃশব্দ পাশে থাকা— হাওয়ায় ভেসে যাবে, আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো একটি শূন্য হিসেবের সামনে... ................................... সেখ জিয়াউর রহমান...