Skip to main content

গল্প ।। বিমাতা ।। সমীর কুমার দত্ত

nabapravat

বিমাতা  

সমীর কুমার দত্ত


ইমপোর্ট এক্সপোর্টের ব্যবসাদার রামেন্দ্রসুন্দর চতুর্বেদীর স্ত্রী সুপর্ণা চতুর্বেদী পরলোক গমন করেন যখন তাঁদের একমাত্র পুত্র শ্রীমান রণজয় চতুর্বেদী বারো বছরের। নিজের সময়াভাবে তিনি অসুস্থ স্ত্রীর দিকে নজর দিতে পারেননি। এখন তাঁর স্ত্রীর অবর্তমানে পুত্রকে দেখবেন কীভাবে। সেহেতু পুত্রকে দেখাশোনা করার জন্য একজন মহিলা খুঁজছিলেন পুনর্বিবাহ করার জন্য। কোন  অবস্থাপন্ন বড় ঘরের মহিলা সন্তান সহ কোন দোজবরকে বিয়ে করতে চাইবে না জেনে একজন গরীব ঘরের মেয়ে পূর্ণিমা ব্যানার্জিকে  এই শর্তে র্বিবাহ করতে রাজি হয়েছেন যে যতদিন না রণজয় ওরফে রণ সাবালোক হচ্ছে ততোদিন সন্তানাদির কথা মুখে আনতে পারবে না ।  দরিদ্রঘরের মেয়ে হ‌ওয়ার দরুণ  চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করা পূর্ণিমা বিয়ের পর সচ্ছল পরিবারের মধ্যে এসে সম্পত্তির লোভ সামলাতে না পেরে রণকে মানুষ করার পরিবর্তে একটা অমানুষ তৈরি করার এবং সর্বোপরি জীবন থেকে সরিয়ে দেবার মনোভাব নিয়ে চলতে শুরু করলো। উদ্দেশ্য তার ভবিষ্যৎ গর্ভজাত সন্তানের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা।

রণজয় ধীরে ধীরে সৎ মায়ের মমতা ও তত্ত্বাবধানে মানুষ হ‌ওয়ার পরিবর্তে কুপথে চালিত হতে লাগলো। তবে পড়াশোনাটা ঠিক ভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য রামেন্দ্রসুন্দর ভাবেন পূর্ণিমা তাঁর সন্তানকে ঠিক ভাবেই মানুষ করছে। ছেলেটা তার মায়ের মমতা ও অবিভাবকের সুনজর থেকে বঞ্চিত হয়ে দিনের পর দিন অমানুষ হয়ে উঠতে লাগলো। আর পূর্ণিমা তার বাবার কাছে সবকিছু গোপন করে যেতে লাগলো। রণজয় যথাক্রমে দশ, বারো ক্লাস পাশ করে কলেজে ঢুকলো। বি.কম. এ ঢুকলো উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট  হ‌য়ে বাবার ব্যবসার হাল ধরা। কিন্তু কলেজে গিয়েই ও মেয়েদের পাল্লায় পড়ে গেলো। কলেজে বড়লোকের ঘর থেকে আসা কুলাঙ্গার মেয়েদের সঙ্গে লীলা করে বেড়াতে শুরু করলো। ক্লাস না করে হোটেল, সিনেমা ইত্যাদি করে বেড়াতে লাগলো। জীবনকে তৈরি করার সময়েই মেয়েদের দেহসঙ্গ, হৈ-হুল্লড় ও মদ গেলা ইত্যাদি করে করে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়লো। আস্তে আস্তে অমানুষ হয়ে উঠতে লাগলো। যে পথে চলেছে ছেলে পূর্ণিমা এটাই চাইছিল। তাই স্বামীর নজরে আনেনি। বড়ো লোকের ছেলে উচ্ছন্নে যাক্। মদে চুর হয়ে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরে। টলতে টলতে উপরে উঠে ঘরে ঢুকে বিছানায় পড়ে পড়ে।রামেন্দ্রসুন্দর এর কিছুই জানতেন না। 

রণজয় কলেজে ঢোকার সময় পূর্ণিমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কারণ যে সময় রণজয়কে দেখাশোনা করার সে সময়টা পার হয়ে গেছে। তাই পূর্ণিমা তার নিজেকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। রণ যে দিনের পর দিন এভাবে মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরে, ব্যাগে মেয়েদের ছবি নিয়ে ঘোরে, সারা রাত মেয়েদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়ে আর বেলা পর্যন্ত শুয়ে থাকে। পড়াশোনা তো করেই না। কেরিয়ারটা ডুম হয়ে গেলো বলে। পূর্ণিমা রামেন্দ্রসুন্দরের কাছে বেমালুম চেপে যায়। মনে মনে ভাবে ওকে আর একটু বাড়তে দেওয়া উচিত। ও বরবাদ হয়ে গেলেই তো ওর ভবিষ্যৎ সন্তান বা সন্ততি যাই হোক না কেন তাকেই ধরতে হবে স্বামীর ব্যবসার হাল। পূর্ণিমা বহুবার ভেবেছে ওর ভবিষ্যৎ সন্তান -সন্ততির পথ পরিষ্কার করতে রণকে জীবন থেকে সরিয়ে দিতে। কিন্তু পারেনি। কারণ, সমস্ত দোষ ওর ঘাড়ে এসে পড়বে। কিন্তু এখন ও বড়ো হয়ে গেছে। জাহান্নামে যাওয়ার পথ ও নিজেই তৈরি করে নিচ্ছে। এই সুযোগেই মদের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিলে অথবা মাতাল তৈরি করে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরিয়ে দিলে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে থাকবে।ব্যাস পথ পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে শেষোক্ত পদ্ধতিটি নিরাপদ। তাতে মৃত্যু না হলেও অঙ্গহানি অসম্ভব নয়। কিন্তু মদের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিলে তাতে ঝুঁকি আছে। পুলিশের ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

একদিন রামেন্দ্রসুন্দরের শরীর খারাপ হলে অফিসে যাননি। ঘরেই ছিলেন। পূর্ণিমা ভাবলো—আজ‌ই বাপের কাছে ধরা পড়ে যাবে ছেলের কীর্তি । এতো তাড়াতাড়ি না পড়লে ভালো হতো। রাত হতে চললো রণ তখনো বাড়ি ফেরেনি। রামেন্দ্র পূর্ণিমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,  "রণ এখন‌ও বাড়ি ফেরেনি ? নটা বাজতে চললো।" 
ঠিক তখন হর্ণের আওয়াজ শোনাগেলো।
পূর্ণিমা বললো, "ঐ বোধহয় এলো।"
— ও রোজ‌ই কি এই সময় বাড়ি ফেরে? 
—প্রায়‌ দিন‌ই তো এ সময় ফেরে।
—ডে কলেজে আটটা,নটা হবে কেন?
—সেটা ওকে জিজ্ঞাসা করবেন।
—উত্তরটা বেপরোয়া হয়ে গেলো না কি? তুমি তো মা। নিজের মা না হলেও সৎ মা তো বটে। তোমর তো অধিকার ও কর্তব্য দুটোই থাকার কথা।
—দায়িত্ব যখন ছিলো তখন পালন করেছি। এখন বড়ো হয়ে গেছে। আর আমি কলেজের পড়ার ও কখন কী ক্লাশ থাকে কি বুঝি? বোকার মতো এ সব জিজ্ঞাসা করে গাল বাড়িয়ে চড় খাই আর কি। সারা জীবন পরের ছেলের দায়িত্ব বহন করে যাবো, তা কি করে হয়। আমার নিজের ছেলেও তো আসতে চলেছে পৃথিবীতে। তার প্রতি কোন কর্তব্য নেই। এখন তো রণ বাচ্চাটি নেই যে ওকে দেখতে হবে।
রণ টলতে টলতে সিঁড়ি দিয়ে উঠছে। রামেন্দ্র শরীর খারাপকে উপেক্ষা করে সিঁড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। সিঁড়ি দিয়ে উঠে সোজাসুজি বাবার মুখের সামনে। রণ ভূত দেখার মতো চেয়ে র‌ইলো।
রামেন্দ্র জিজ্ঞাসা করলো,  "এতো রাত হলো যে?"
নেশাগ্রস্ত গলায় জড়িয়ে জড়িয়ে রণ উত্তর দিলো, "রাত কোথায় বাবা? সবে তো নটা।
—তুমি মদ খেয়েছো ! কলেজে কি মদ খেতে যাও? তোমর কি রোজ‌ই নটা পর্যন্ত ক্লাস হয়?
আর তুমি মদ খেয়ে বাড়ি ফেরো!
— রোজ ক্লাস থাকে না। এক এক দিন থাকে। মনে অনেক কষ্ট। তাই একটু আধটু খেয়ে ভুলে থাকতে চাই।
—এ সব তোমার মা জানে?
—মা! কোথায় মা? মা তো কবে স্বর্গে চলে গেছে আমাকে একা করে দিয়ে। তুমি একজনকে ধরে এনে বলবে আমার মা, তা হতে পারে না। শোনো বাবা শুধু টাকা জুগিয়ে গেলে আর মায়ের পরিবর্তে আর একজন মা এনে দিলেই সব হয় না বাবা। তোমার নিজের কি কোন দায়িত্ব নেই?
শুধু পয়সা ছাড়া তুমি বাবার দায়িত্ব পালন করো নি। আমার খারাপটা শুধু দেখার দায়িত্ব তোমার আর আমার ভালোটা দেখার দায়িত্ব তোমার নেই?
—চুপ করো । আমাকে সারাদিন পয়সা রোজগারের ধান্দায় থাকতে হয়। আমার আর সময় কোথায়?
—বা বা, পৃথিবীর আর বাবারাও পয়সা রোজগার করে আবার সংসারকেও দেখে । ছোট বেলায় স্কুলে গার্জেন মিটিং থাকে। বেশির ভাগ বাবাই যায়। তুমি কোনদিন গেছো? আর বাবারা কি পয়সা রোজগার করে না?  গার্জেন মিটিং বছরে একবার কি দুবার হয়।

রামেন্দ্র চূপ করে থাকে আর ভাবে ছেলের এই অবস্থা তো একদিনে হয়নি। পূর্ণিমা সব জানে কিন্তু আমার কাছে আড়াল করে গেছে। কী চায় ও? ও কি চায় ছেলেটা বরবাদ হয়ে যাক্। আর ওর আগত সন্তান- সন্ততি এই সম্পত্তি ভোগ করুক। না না আমি হা ঘরের মেয়ে এনে ভুল করেছি। তেল জলে কি মেশে! মেশে না।
তারপর রামেন্দ্র নিজের ঘরে ঢুকে স্বর্গগতা স্ত্রী সুপর্ণার ছবির কাছে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে, 
"সুপর্ণা, তুমি যে ছেলের দায়িত্ব আমায় দিয়ে গেছো, আমার ভুলে বরবাদ হয়ে যেতে বসেছে। যাকে ভালো ভেবে নিয়ে এলাম ওকে দেখার জন্য, সে ওকে ঠিকমতো দেখলো না আমার সময়াভাবের সুযোগ নিয়ে। আমার বিয়ে করার কি দরকার ছিলো। আমি তো রণকে দেখার জন্য‌ই করেছি। রণ এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমাকে ভয় তো করেই না, উপরন্তু , যা নয় তাই শুনিয়ে দিলো। তুমি তো জানো ব্যবসার জন্য আমার সময়াভাব। তুমি থাকলে আমায় চিন্তা করতে হতো না। আমি আমার অবহেলায় তোমাকে হারিয়েছি আর তোমার সন্তানকেও হারাতে চলেছি। তোমায় হারিয়েছি অর্থের অভাবে নয়, সময়াভাবে। ভিতরে ভিতরে তোমার দুটো কিডনিই যে নষ্ট হতে চলেছে, তুমি কষ্ট পেয়েছো,কিন্তু আমায় জানাও নি আমার সময়াভাবের জন্য। আজ সেই সময়াভাবেই তোমার ছেলেকেও হারাতে বসেছি। সিচোয়েশন আমার হাতের বাইরে চলে গেছে। আমার যদি কিছু হয় এ ব্যবস্থা সামলাবে কে?"

কলেজে যেসব বড়ো লোকের বদ মেয়েদের সঙ্গে রণজয়ের খুব ভাব ছিলো, সেগুলো বাদে ওর‌ই ক্লাসে একটি মেয়ে ছিলো দেখতে সুন্দরী, শান্তশিষ্ট ও মেধাবী। নাম তার শ্রীময়ী। রণজয় যাদের সঙ্গে নষ্টামি করে বেড়ায় তাদের সম্পর্কে ভাবে —এরা কেউ স্ত্রী হবার মতো যোগ্যের নয়। এদের সঙ্গে লীলা করা যায় কিন্তু এদের কে বাড়ির বধূ করা যায় না। পক্ষান্তরে শ্রীময়ী রূপে-গুণে অনন্যা। শ্রীময়ীকে বিবাহ করে ঘরে নিয়ে গেলে বাবা হয়তো মেনে নেবেন। তাই একদিন শ্রীময়ীকে কলেজে একা পেয়ে মনের কথাটা স্পষ্ট করে বলার চেষ্টা করে। বলে, 
"শ্রীময়ী একটু দাঁড়াবেন ? আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।"
শ্রীময়ী একটু বিস্মিত হয়ে ভাবলো —হঠাৎ আজ ডেকে কথা বলছে। কী বলতে চায়! আজ বুঝি ওরা আসেনি তাই ।আজ আমাকে পেয়েছে যেচে ভাব করতে চাইছে। রণজয় হ্যান্ডসাম, সুপুরুষ। এমনিতেই কোন মেয়ের মন কেড়ে নেবার যোগ্যতা ওর আছে। তার ওপর বড়লোকের ছেলে। কিছুটা প্রায়োরিটি তো পেতেই পারে। তাই ওর ডাকে সাড়া না দিয়ে পারে নি।
" চলুন না ক্যান্টিনে গিয়ে বসা যাক্।" রণজয় বললো। এড়িয়ে যেতে না পেরে শ্রীময়ী রণকে অনুসরণ করলো। 
"চা খাবেন? চা খেতে খেতে কথা হবে।" রণ বললো।
ইচ্ছে না থাকলেও এড়াতে পারলো না। স্মার্ট মেয়ে শ্রীময়ী কেমন যেন নার্ভাস ফিল করলো। মুখ ফসকে বলে ফেললো, " কী বলবেন বলুন।"
রণজয় শুরু করে, "আমার ওদের সঙ্গ ভালো লাগে না। ওরা হলো বড়োলোকের উড়নচণ্ডী মেয়ে। কী করবো। বাড়িতে ভালো লাগে না,তাই ওদের সঙ্গে একটু উড়ে বেড়াই। আমি একজন ভালো মেয়ে খুঁজছি তাকে জীবনসঙ্গিনী করতে চাই,  যে আমার এবং আমাদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবে। আসলে আমাদের ইমপোর্ট এক্সপোর্টের একটা ব্যবসা আছে। বাবা থাকতে থাকতেই আমাকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। আমার তো মা নেই। দশ -বারো বছর বয়সেই মাকে হারিয়েছি। বাবা একদম‌ই সংসারে সময় দিতে পারেন না। গরীব ঘরের এক মহিলাকে বিবাহ করে এনেছেন আমাকে দেখার জন্য। তার মতলবটা হলো, তার ছেলেমেয়ে হলে যেন সমস্ত সম্পত্তির মালিক হয়। সেইজন্য তিনি আমার খারাপ চান। যাতে আমি মদ খেয়ে ওইসব মহিলাদের সঙ্গে নষ্টামি করে শেষ হয়ে যাই। আমাকেও হয়তো বিষ দিয়ে মেরেও ফেলতে পারে। সেইজন্য আমাকে,আমার বাবাকে বাঁচাবার জন্য একজন ভালো মহিলা চাই । আমি আপনাকে ওদের মধ্যে ফেলি না। ওরা আমাকে দিয়ে আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নোংরা কাজ করিয়ে আমাদের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করবে। আমি ওদেরকে আর সঙ্গ দেবো না। মা চলে যাবার পর আমাকে ভালোবাসার আর কেউ নেই। আমি ভালোভাবে বাঁচতে চাই। আমাদের তো অর্থের অভাব নেই। আছে ভালো মানুষের অভাব। আমার মা খুব ভালো ছিলেন। বেঁচে থাকলে চিন্তা করতুম না। মাকে হারিয়ে আমি আমার মাথার ওপর ছাদটা হারিয়েছি। আমি আপনাকে ভালবাসি। বিশ্বাস করুন। বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে যেতে চাই। আমার যা বলার আমি বললাম। এবার সিদ্ধান্ত আপনার। না হলে কী করবো! আমার অদৃষ্ট বলে মেনে নেবো!

শ্রীময়ী বড়োলোকের মেয়ে না হলেও উচ্চ মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে। কমার্স নিয়ে পড়ছে চাটার্ড অ্যাকাউন্টেডেন্ট হবে বলে। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। বাবা বিশ্বজিৎ চৌধুরী এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের  ম্যানেজার। বাবা মায়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক শ্রীময়ীর। সেদিন রাতে রণজয়ের কথাগুলো ভেবে দেখলো—না, রণজয়ের কথাগুলো ফেলে দেবার নয়। আবার সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব! যদি ওর মতলব খারাপ‌ই হতো তাহলে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিতো না। সত্যিই ও যা বললো ওর পরিবারের কথা,তাতে ওর পাশে না দাঁড়ালে খারাপ দেখায়। শ্রীময়ী সরাসরি মা -বাবাকে খুলে সব কথা বললো। মা শুনে বললেন, " আহা রে! সত্যিই, ছেলেটা অর্থনৈতিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও সুখী নয়!  বিপথে চলে যাচ্ছে। সামনে ওর বড়ো বিপদ । বাবা বললেন, "তোর কি মনে হয়,ও যা বলছে সব সত্যি বলছে?" 
—আমার তো মনে হয় বাবা, ও যা বলছে ঠিক বলছে। না হলে মনে করো ওর দুরভিসন্ধি থাকলে, ও  বাড়ির এই চিত্রটা আমার কাছে তুলে ধরবে কেন? আমার সঙ্গে যদি ওর খেলার ইচ্ছে থাকে তাহলে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেবে কেন? ও একটা কিছু অবলম্বন খুঁজতে চাইছে। আপাতভাবে সকলের মনে হবে বড়লোকের লম্পট ছেলে। ভেতরের খবর কে আর রাখে।
—তোর যদি মনে হয় তুই ওকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে ওর যা সমস্যা তা সমাধান করতে পারবি, আমি তাহলে ওর বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারি। তবে তোদের কথা শুনে আগবাড়িয়ে কথা বলতে গেলে যদি অপমান করে? এখনো তো পড়াশোনা করছে। এখন যদি ওর বিয়ে না দেয়? যদি না বলে দেয়?
শ্রীময়ীর মা রমা চৌধুরী বললেন, " তুমি মেয়ের বাবা। বললেই বা। গায়ে না মাখলেই হলো। মেয়ের বাবাই তো এগিয়ে যায়। ছেলেটা দেখতে  শুনতে ভালো, অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে। ও তো পৈতৃক ব্যবসায় বসবে। ওকে তো চাকরি খুঁজতে হবে না। তবে আর অসুবিধেটা কোথায়?
— তোর মা আসলে সুন্দর জামাই হবে, বড়োলোক জামাই হবে ভেবে আর হাত ছাড়া করতে চাইছে না। সে ঠিক আছে। যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—যদি ভাবে, ওদের পয়সা আছে বলে ওদের পরিবারে মেয়েকে  গচাতে চাই।
শ্রীময়ী বলে," তুমি তোমার পরিচয় দেবে।আর বলবে আপনার ছেলে নিজেই আমার মেয়েকে ডেকে বলেছে বদ সঙ্গ ত্যাগ করে আমার মেয়েকে বাড়ির বৌ করতে চেয়েছে। বিশ্বাস না হয়,আপনার ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞেস করুন। আপনার ইচ্ছে না থাকলে এ বিয়ে হবে না। তবে আমার বিশ্বাস যেভাবে চলেছে আপনার ছেলে, আমার মেয়েই পারবে ওকে বদ সঙ্গ থেকে বের করে আনতে।"

গর্ভাবস্থায় পূর্ণিমা একদিন স্বপ্নে সুপর্ণাকে দেখলো।  লাল পাড় সিল্কের শাড়িতে ঘোমটা মাথায় সুপর্ণা এসে দাঁড়িয়েছে। পূর্ণিমাকে তীব্র ভৎসনা করে যেন বলছে," পূর্ণিমা রণজয়কে দেখাশোনার জন্য উনি তোকে বিবাহ করে ঘরে নিয়ে এলেন। উনি মাতৃহারা রণজয়কে একজন মা দিতে চেয়েছিলেন, কোন কাজের লোক হিসাবে নয়। উনি তো পুনর্বিবাহ না করে একজন কাজের লোককে আনতে পারতেন। তাহলে তোকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে নিয়ে এলেন কেন? আর তুই কিনা রণকে মারার তোড়জোড় করছিস্। ছিঃ ছিঃ! তোর এতো লোভ! আমি তো জানি গরীবের মন ভালো হয়। তুই মা নামের কলঙ্ক। এবং গরীবের‌ও কলঙ্ক! তুই যা করতে চাইছিস্,তা কোনদিনো সম্ভব হবে না। তুই মা হ‌ওয়ার অযোগ্য। তোকে ধিক্। তুই একটা বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ।"—এই বলে সুপর্ণার ছায়ামূর্ত মিলিয়ে গেলো। পূর্ণিমার ঘুমটা ভেঙে গেলো। ও খুব ভয় পেয়ে গেলো। মনে মনে ভাবলো ও দিদির অর্থাৎ সুপর্ণার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবে। বলা যায় না অভিশাপ লেগে যেতে পারে।  তার নিজের আগত সন্তান -সন্ততির ক্ষতি হতে পারে। তারপর থেকে সে রণজয়ের ক্ষতির করার চিন্তা থেকে বিরত থাকে।

শ্রীময়ীর বাবা বিশ্বজিৎ রণজয়ের বাবা রামেন্দ্রসুন্দরের সঙ্গে দেখা করে কথাটা পাড়লেন। কথাটা শুনে রামেন্দ্রসুন্দর বললেন,"আপনি বলছেন রণজয়ের সঙ্গে আপনার মেয়ের বিয়ে দিতে চান। আমার তাতে আপত্তি নেই কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী আমার ছেলে বিপথে চালিত। সুতরাং তার সঙ্গে একটা ভালো মেয়ের জীবন জুড়ে দেওয়া কোন শুভোবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ করে না। ও যদি নিজেকে শোধরায় তাহলে ঠিক আছে। আমার কোনো আপত্তি নেই।"
শ্রীময়ীর বাবার খুব ভালো লাগলো রামেন্দ্রসুন্দরের কথা শুনে। একজন প্রকৃত ভদ্রলোক বলে মনে হলো। তাই বললেন,
"এসব‌ই আমি শুনেছি। আপনার ছেলে কথা দিয়েছে যে সে নিজেকে শুধরে নেবে যদি শ্রীময়ী ওকে বিয়ে করতে রাজি থাকে। আমার মেয়ে বলেছে, যে পথে ও গেছে সে পথ থেকে ওকে ফেরাতে সমর্থ হবে। তাই বলছিলাম যদি আপনি মত দেন তাহলে আমরা এগোতে পারি।"
পাত্রীর পিতার মুখথেকে সব শুনে রামেন্দ্রসুন্দর বললেন,
"বেশ, যদি আপনাদের মেয়ে পারে তো আমার কোন আপত্তি নেই।"
—আপনি যদি একবার গিয়ে আমার মেয়েটা দেখে আসেন তো ভালো হয়।
—আমার ছেলে যখন পছন্দ করেছে তখন আমি আর দেখে কী করবো। তবু বলছেন যখন যাওয়া যেতে পারে,কিন্তু তার আগে আমাকে আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আপনার মেয়েকে বলবেন যাতে ও ভালোভাবে পাশ করতে পারে। তারপর পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিতে হবে।

মত বিনিময় করে শ্রীময়ীর বাবা বাড়ি ফিরে এলেন। মেয়েকে ও স্ত্রীকে সবকথা বললেন। শ্রীময়ী ফোনে রণজয়কে সব কথা জানালো। আর বললো, " আজ থেকে আর মদ ধরবেন না। মন দিয়ে পরীক্ষার প্রিপারেশন করবেন। রেজাল্ট আউট হলে তবে বিয়ের কথা ভাববো। আর একটা কথা,কলেজে দেখা হলে না চেনার ভান করতে হবে। আমি চাই না কথাটা পাঁচ কান হোক। আর ওদেরকে অ্যাভয়েড করে চলতে হবে। কথাগুলো যদি লঙ্ঘিত হয় তাহলে আমাকে ভাবতে হবে আমি বিয়ে করবো কিনা।"
—প্রথমে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ রাজি হ‌ওয়ার জন্য। আপনি যা যা বললেন তার অবশ্যই মান্যতা দেওয়া হবে। তবে ভীষ্মের প্রতিজ্ঞার থেকেও কঠোর। পালন করতেই হবে।উপায় নেই। আমি আগেই বলেছিলাম আপনাকে যে আপনি ওদের থেকে কতো আলাদা! স্বর্গ থেকে আমার মা 
আপনাকে আশীর্বাদ করবেন। গুড নাইট।
পরের দিন থেকে রামেন্দ্রসুন্দর কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন ছেলের মধ্যে। কলেজে গিয়ে ওই অসভ্য মেয়েদের সঙ্গে আর যোগ না দিয়ে ভালো ছেলের মতো ক্লাশ করে সময়ে বাড়ি ফিরে আসতে লাগলো। ঘরে ফিরে পড়ায় মনোনিবেশ করতে শুরু করলো। পরিবর্তন দেখে রামেন্দ্রসুন্দর আশার আলো দেখতে পেলেন। ভাবলেন সত্যিই মেয়েটার মধ্যে গুণ আছে। ওই পারবে রণজয়কে বদলাতে। স্বর্গগতা স্ত্রীর ছবির সামনে গিয়ে বলতে লাগলেন,"সুপর্ণা, ঘরের লক্ষ্মী করে আনবো তাকে যে তোমার ছেলেকে বদলাতে পারবে। আমি আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তুমি শুধু ওদের দুজনকে আশীর্বাদ করো।"

যথা সময়ে উভয়ের পরীক্ষা পর্ব চুকে গেলো। ওরা চার্টার্ডে ভর্তি হবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলো। ইতিমধ্যে উভয় পক্ষ থেকে বিবাহের কথাবার্তা শুরু হয়েছে মাত্র। এমনসময় পূর্ণিমার ডেলিভারির অনেক আগেই লেবার পেন শুরু হয়ে গেলো। এমনটি হবার কথা নয়। ডাক্তার পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে পূর্ণিমার গর্ভজাত সন্তান ইতিমধ্যেই মারা গেছে। আর দেরি না করে অপারেশন করে মৃত সন্তান প্রসব করালো। শুধু মৃত নয়, গর্ভস্থ সন্তান বিকলাঙ্গ। বাঁচার অনুপযুক্ত। শুধু তাই নয় ওভারিতে কিছু ত্রুটি থাকায় ওভারি অপারেশন করতে হলো। যার অর্থ পূর্ণিমা ভবিষ্যতে আর মা হতে পারবে না।পূর্ণিমা কান্নায় ভেঙে পড়লো। অপরের ক্ষতি করতে চাওয়া পৃর্ণিমা মৃত বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিলো। শুধু তাই নয় ভবিষ্যতে ও আর মা হতে পারবে না। যে সন্তানের জন্য সে অন্য এক সন্তানের ক্ষতির কথা ভাবে ভগবান তার মনস্কামনা পূর্ণ তো করেন না,বরং শাস্তি দেন। মাতার পূর্ব জন্মের কৃত অথবা এই জন্মের কৃত পাপের জন্য গর্ভ অশুদ্ধ হতে পারে। অথবা এক‌ই কারণে পিতার শুক্র অশুদ্ধ হতে পারে যার অবশ্যম্ভাবী ফল সন্তানের বিকলাঙ্গতা। তবে  এক্ষেত্রে পিতার দিক থেকে কোন প্রকার অশুদ্ধতা নেই।  না হলে রণজয়ের মতো সুস্থ সবল ছেলে জন্মাবে কেন। আবার সন্তানের নিজের পূর্বজন্মার্জিত পাপের শাস্তি হিসাবেও বিকলাঙ্গতা আসতে পারে।

বিকলাঙ্গ‌ ও মৃত সন্তান প্রসূত হ‌ওয়ায় পূর্ণিমা উপলব্ধি করতে পারলো অনেকটা ঠকে শেখার মতো। রামেন্দ্রসুন্দর তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেন, 
"জঙ্গলে হিংস্র বাঘিনীকে অনেক সময় দেখা যায় অন্য কোন প্রাণীর শাবককে রক্ষা করতে। মাতৃত্ব এমন এক জিনিষ যা জংলী জানোয়ারকেও অনেক সময় মহৎ করে তোলে। সে বুক দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করে, যদিও তা ব্যর্থ চেষ্টা। কারণ, অন্যেরা সেই শাবককে ছেড়ে দেবে না। তুমি মানুষ হয়ে এটুকু করার পরিবর্তে তার ক্ষতি করার চেষ্টা করতে লাগলে। কি হলো? নিজেরটাকে কি ধরে রাখতে পারলে? পূর্ণিমা ঠকে শিখে কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বীকার করলো,"স্বপ্নে আমায় দিদি দেখা দিয়ে আমার চোখ খুলে দিয়েছেন। আমি দিদির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেবো যে রণজয় যেমন তাঁর সন্তান তেমনি আমার‌ও। আমার আর সন্তানের দরকার নেই।এখন থেকে রণ আমার‌ও সন্তান। আমি আমৃত্যু ওর পিছনে ঢাল হয়ে থাকবো দিদির অনুপস্থিতিতে। আমি ওর কোন ক্ষতি হতে দেবো না।"

রামেন্দ্রসুন্দর যার পর নাই খুশি হয়ে সুপর্ণার ছবির কাছে গিয়ে বললো, "সুপর্ণা, তুমি হলে ঘরের লক্ষ্মী। তুমি ওই অবুজ মহিলাকে দেখা দিয়ে ওর চোখ খুলে দিয়েছো। আবার তোমার ছেলে রণকে রক্ষা করার জন্য শ্রীময়ীকে রণের জীবনে এনে হাজির করে দিয়েছো। গৃহের শান্তির জন্য যা যা করার তুমি তাই করছো। তোমার কাছে আমার ঋণের শেষ নেই।"
পূর্ণিমা সুপর্ণার ছবির কাছে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো আর  স্বামীর কাছে যেমনটি স্বীকারোক্তি দিয়েছিলো, তাই  সুপর্ণার কাছে দিয়ে তার আশীর্বাদ চেয়ে নিলো এ সংসারকে শান্তিতে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য। পূর্ণিমার শোক ভুলতে প্রায় বছর খানেক লেগে গেলো। তারপর শ্রীময়ী ও রণজয়ের বিবাহের কথাবার্তা পাকা করে একটা দিন দেখে মহাধূমধাম করে বিবাহ পর্ব চুকে গেলো। পূর্ণিমা যথারীতি মায়ের করণীয় কার্য হাসিমুখে পালন করলো। কেবল মাঝে মধ্যে পুত্রশোক তাকে দুর্বল করে দেয়। কিন্তু রামেন্দ্রসুন্দর পূর্ণিমাকে যথার্থ স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে আর শ্রীময়ী ও রণজয় তাকে যথার্থ মায়ের জায়গা দিয়ে তার প্রিয় হয়ে তাকে তার পুত্রশোক ভুলিয়ে দিতে সর্বতোভাবে চেষ্টা করতে লাগলো।

=======================

সমীর কুমার দত্ত

সমীর কুমার দত্ত
(পুনে, মহারাষ্ট্র)


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র মানস কুমার সেনগুপ্ত সাহিত্যের পাতা থেকে চলচ্চিত্রের পর্দায় চিত্রায়িত কিছু সেরা চরিত্র আজও আমার মনের মণিকোঠায় ভীড় করে আসে।  কিশোর বয়সে দেখেছিলাম মনোজ বসুর আংটি চাটুজ্যের ভাই' অবলম্বনে নির্মিত 'পলাতক ' ছায়াছবি ‌। ছবির মূল চরিত্র বসন্ত জমিদার বাড়ির সুখ আরাম বিসর্জন দিয়ে গ্রামের পথে, মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সঁপে দিতে চেয়েছে। গানপাগল বসন্ত চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে নিয়ে ভেবেছি, এমনটা যদি আমি পারতাম। ছবিতে বসন্ত জীবন পথের পথিক হয়ে সংসার ছেড়ে, ঠিকানাবিহীন হয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মনের খবর খুঁজতে।  রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি ' গল্প নিয়ে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র তারাপদও কৈশোরকালেই বেড়িয়ে পড়েছিল ঘরের বাঁধন ছেড়ে। মুক্ত প্রকৃতির কোলে তারাপদর সঙ্গে গেয়ে উঠেছি-' 'এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে।  যৌবনকালে দেখা রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস 'বনপলাশীর পদাবলী অবলম্বনে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র উদাস গেয়ে উঠেছে -' মনের কথা কারে বলি আর,...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। পিতৃ-মাতৃ- সুধা ।। সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

পিতৃ-মাতৃ- সুধা সুদামকৃষ্ণ মন্ডল এই সেই হাত পাখা বেতের লাঠি  বাবার চশমা খাট বিছানা । চৌকি জঁক ঘাট পুকুর কুল আম গাছতলা মায়ের পরশ লেগে আছে হুঁকো কলকে আর পানের বাটায় । পুরানো সেই থমথমে গম্ভীর বারান্দা চিরস্মরণীয়  উভয়ের প্রতিকৃতি ফ্রেমে বাঁধা । তাকিয়ে সদাহাস্যোজ্জ্বল  আমাদের দিকে । মায়ের সিন্দুকে আচার খুচরো দু'আনা পয়সা কত গল্পের মাটি মাটি সুগন্ধি জানালা ! এখন  তুলসীতলার প্রদীপ জ্বলে না বলে - কত আফসোস  গোধূলিতে নেই সিঁথি সিঁদুর ! আহা জন্মভিটার  রাঙামাটি নমস‍্য মাতৃ সুধা । =========== সুদামকৃষ্ণ মন্ডল গ্রাম: পুরন্দর পুর (অক্ষয় নগর) পোস্ট : অক্ষয় নগর থানা : কাকদ্বীপ জেলা : দঃ চব্বিশ পরগণা পিন কোড :743347

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

আশিস চৌধুরীর মুক্তগদ্য

বাদল বাউল বাজায় রে একতারা গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহে যখন শরীর মন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে তখন আমরা চাতকের মত আকাশপানে চেয়ে থাকি,দেখি মেঘ করেছে কি-না। এ যেন যক্ষপ্রিয়ার মত মেঘের অপেক্ষায় বসে থাকা।এখন অবশ্য বর্ষা সময়মত আসে না। বড় অভিমানী হয়েছে সে। মৌসুমীবায়ু যে সময়ে এই বাংলায় প্রবেশ করার কথা তা এখন করে না,কিছুটা বিলম্বিত বলা যায় । ঋতুচক্রে এখন অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে গেছে বিশ্ব-উষ্ণায়নের কারণে একথা আমরা আজ সকলেই জানি।আর এই বিশ্ব-উষ্ণায়নের মূল কারণ হচ্ছে অতি আধুনিক মানুষের লাগামছাড়া ভোগবিলাস।কাজেই বর্ষার আগমন একটু দেরিতে হলেও আমরা আগের মত অস্থির হই না,অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে। সুতরাং বর্ষা দেরি করলেও আমরা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে কার্পণ্য করি না।তার আগমনে আমাদের হৃদয় ময়ূরের মত নেচে ওঠে।আমরা যেন এইভাবে অভ্যর্থনা জানাই-‘এসো শ্যামল সুন্দর/আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা। ’ ঋতুচক্রের নিয়মানুযায়ী আষাঢ় , শ্রাবণ-এই দু ’ মাস বর্ষাকাল।তা সত্ত্বেও ভাদ্রমাসেও কিন্ত যথেষ্ট বৃষ্টি হয়।তবু আষাঢ়-শ্রাবণ কে নিয়েই আমাদের যত কাব্য , গান আর নস্টালজিয়া।এই মুহূর্তে আমারই মনে পড়ে গেল-আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন..... ...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...