Skip to main content

Posts

দীনমহাম্মদ সেখের অনুগল্প

মিঠা পাতার পান  মিজানের বয়স এখন বারো বছর। মা মরা ছেলেটার ঠিকানা তার নানিমার কাছে। যখন মিজানের বয়স ছয় মাস ছিল তখনই তার মা টা বাপের সাথে বিবাদ করে বিষ খেয়ে মরে। তারপর দুমাস যেতে না যেতেই বাপে আবার বিয়ে করে।একদিন তার বাপ ছোট্ট মিজানকে তার নানিমার কাছে রেখে চলে যায় । ব্যস ! সেই যে গেল আর ফিরেও তাকায়নি তার জন্ম দাতা বাপটা । সেই থেকেই মিজানের বাপ মা সব তার নানিমা। মিজান তাকেই মা বলে ডাকে । নানিমারও বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই।একলা মানুষ। স্বামীটা গত হয়েছে বছর দশেক হলো। ভালো চলাফেরা করতে পারে না। তবুও রাঁধে বাড়ে। ছোটো মিজানকে নিয়েই তার এই সংসার। নানিমার শেষ সময়ের লাঠি মিজান। সেও তার নানিমার খেয়াল রাখে। সময় মতো বাজার করা,জ্বালানি গোছানো, জল তোলা-- সবই করে সে। আর বাজার করতে গেলে মিজান কখনোই তার নানিমার প্রিয় মিঠাপাতার পান আনতে ভুল হয় না। শাকসবজি যায় আনা হোক না কেন মিঠাপাতার পান আনা চাই- ই চায়।সে নিজ হাতে পান সাজিয়ে দেয়। নানিমা সেই পান চিবাতে চিবাতে তার মেয়ের ছোট বেলার কত গল্প শোনায়।মিজান তার নানিমার কোলে মাথা রেখে সেই গল্প শুনে।মিজান বুঝতে পারে গল্প বলতে বলতে নানিমার গলা আটকিয়ে আসে। দুচো...

জগবন্ধু হালদারের কবিতা :

  একদিন হবে রৌদ্র গাঢ় হলে তুমি ছুঁতে পারো চৌকাঠ ধুনুচি, পিলসুজ, মন্ত্রপুত মালা আর তালু ঘষে ঘষে আমার দেয়ালে এঁকে দিতে পারো যা খুশি, আগুনও জ্বালাতে পারো ইচ্ছে হলে সলতে খুঁচিয়ে দিতে পারো ঋতু কিংবা ঋতুস্রাব নিয়ে অহরহ শালিশি সভায় দাঙ্গা বাধুক কেটে নিক বিধি মেনে জিভ ও মগজ ওরা পাতা ছিঁড়ে দিক মতে না মিললে তুমি রক্তমাখা হাতে পদ্মের ঝুড়ি নিয়ে তবু আমার বারান্দায় বসতে পারো জেদে, বিশ্বাসে সহস্র অন্য মুখ ও জিভ একদিন দেখো শাস্ত্রের শেষ পাতা লিখবে......

অরবিন্দ পুরকাইতের কবিতা

লেপচা খা সুদিনের মুসাফির যদিও আমি, তবু জীবনেরই আর এক ব্যঞ্জনা যেন ঠিকমতো উচ্চতায় নিজেকে উন্নীত করতে পারলে খুলে যায় কত না দুয়ার! বক্সা ফোর্টে দোকানদার বলেছিলেন, ‘একবার পৌঁছন, দেখবেন কষ্টের কথা মনেও থাকবে না।’ মনে হয়েছিল সান্ত্বনা নিছক। পশ্চাতে মিহিন কুয়াশামাখা উত্তুঙ্গ পর্বত সম্মুখে বেলাশেষের চেনা সূর্য অদ্ভুত কোমল মায়াবী নিম্নে চিকন শ্বেতকায় জয়ন্তী নদী। পায়ে-পায়ে ঝরনা গাছ ফুল পাখি প্রজাপতি টুকরো সবজিখেত কোথাও, ক’টি গরু-মুরগি, সঙ্গী সারমেয় – কুটিরে পাঁচজনের একাধারে পরিবার ও পাড়া। স্ত্রী কি পুরুষ – কঠোর শ্রমের জীবন প্রাণোচ্ছলতা তবু, তবু সহজ হাসিটি ডুপ্পা যুবক-যুবতীর জংখা ভাষায় গান সন্ধ্যার বৌদ্ধমন্দিরে। দূরের কুক্কুটধ্বনি করে বসতি-প্রমাণ নরম আলোয় নির্ভার সুরশিশুরা খেলে আপন খেয়ালে শস্য ঝাড়ে মা – টলমল শিশুটি ছড়ায়! এত প্রাণবান তুমি, হে ভূধর প্রবীণ!      *      *      *

চন্দন মিত্রের কবিতা

মরার সময় একটি সেলফি দিয়ে যাব   এই যে তুমি জ্বরের ঘোরে মাঝরাতে আছাড় খেলে তোমাকে তুলে না-ধরলে উঠতেই পারতে না এই যে তুমি জাতীয় সড়কে ডিগবাজি খেয়ে আট-দশটা  উঠে দাঁড়িয়ে ধুলোরক্ত ঝেড়েমুছে সবাইকে অবাক করে দিলে  হেলমেট না-থাকলে হয়তো শুয়েই থাকতে রাস্তায় এসব জানকারি ফেসবুকে দিলেই না ফলে কেউ জানলই না  লাইক দিল না উহু দিল না লাভ দিল না স্যাড দিল না তুমি বোকার মতো বাঘবন্দি খেলা খেলে গেলে বউয়ের সঙ্গে কেউ দেখতে এল না  পাশের বাড়ির না তার পরের বাড়ির না কাছের কেউ না দূরের কেউ না  এখন কেউ ফেসবুক ছাড়া কিছুই শুনতে পাই না দেখতে পাই না ভাবছি মরার সময় একটি সেলফি দিয়ে যাব ... =============================== চন্দন মিত্র ভগবানপুর ( হরিণডাঙা ) , ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

তনুশ্রী পালের কবিতা ।

ফিরে যাই       ------------- সবুজ-নীলের জুরিগান  মোহনায় উতল   হয়ে এল    মনে মনে ফিরে যাই তবে   সেইসব উষ্ণ নিঃশ্বাসে  সরল রেখার যত ডট   আমাদের যুদ্ধময়       যুগল প্রান্ত্র ?  মনে মনে ফিরে এস তবে   বিদ্ধস্ত্ব অস্ত্রগুলো নিয়ে    কিন্তু আমার দুই হাত কেমন নিঃস্ব     হয়ে  আছে !   তাতে বুঝি শুশ্রুষা  নেই   জীর্ণ সব নখের ভিতর ক্লান্ত কিছু লবণের দানা !       -------------------------------    Tanusri Paul. BabuPara. Routh Lane. Jalpaiguri . West Bengal. pin-735101                      

সায়ন মোহন্তর কবিতা

প্লাটফর্ম প্লাটফর্মে বসে আছি আপ ট্রেন এই স্টেশনে যাত্রী রাখছে একটু ঘোরাঘুরির পর ডাউন ট্রেন নিয়ে যাচ্ছে সাইরেন বাজিয়ে হুশ করে গন্তব্যে ছুটছে ট্রেন আমি একা প্লাটফর্মে বসে দেখছি আর টুকরো টুকরো শব্দে ভিজছি - আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িটার জানালা  দিয়ে চালক বাইরে দেখছে , হয় তো আমাকেও আমি এখনও প্লাটফর্মে বসে,  দেখছি ট্রেনের তারে কাকের জটলা। ======================= সায়ন মোহন্ত চাষা পাড়া কৃষ্ণনগর, নদিয়া-৭৪১১০১ চলভাষ - ৯৫৬৩৮১৯৪০১

তাপসী লাহার কবিতা

সমর্পণ ----------- অবিকল ভুলজন্মের মতো সন্ধ্যেরা, অস্পষ্ট  হাতছানিতে  মিশে যায়  মানবিক স্বগতোক্তি, আশ্বাস বিহীন  সন্ধ্যারা নেমে আসে কৌতুহলী পড়শির ন্যায়; সাঁঝভরসার পালে ভরসারা ডিঙির মতন --- ওঠানামা চলে। নিজের কাছে আত্মগোপনেরা  বিকল্পরুপ খোঁজে। পরতে পরতে  তখন আঁকড়ে ধরার গান নিঃশর্ত সমর্পণ  বোঝে। ==============================      তাপসী  লাহা

অ-নিরুদ্ধ সুব্রতর কবিতা

এই খাতায় কোনও কবিতা নেই -------------------------------------------- এই খাতায় কোনও কবিতা নেই পাতায় পাতায় শব, সারিবদ্ধ রাত কোনও দাগ নেই, আছে রক্তশূন্য প্রেম ভাঁজে ভাঁজে ঘাড়ধাক্কা খাওয়া প্রতিবাদ এই খাতায় কবিতা নেই, এ শুধু বিকৃত অবকাশ বিব্রত হয়ে সাদা আলো নিভে গেছে বিস্রস্ত হয়ে ঝরে গেছে হাজার ধ্বনিময় উচ্চার বেশি রাতে শুয়ে গেছে কাগুজে হুতাশ এই খাতায় কবিতার কথা মিথ্যে শোনায় কবিতা কী করে লেখা হয়,কী গূঢ় প্রত্যয় আগুনের শর্তহীন ধোঁয়া? শুধুই ধোঁয়াশা আমার রক্ত , হাড়, ঘাম-গন্ধ তো কবিতা নয় কবিতার চেয়ে খাতা পড়া ভালো যে বলে সে ফাঁকা খাতা দেখেনি তো, ক্লেদে চটচটে,ভিজে স্যাঁতসেতে শ্বেদে ঘুমোতে না পারা অন্ধকার জমা,ঘন কালো সমস্ত একার সময়,জানলায় বিগত যত এসে মেলেছে লাল পচা গলা জিহ্বা ভ্যাঙাবার কত কত ফলিত প্রকাশ হেসেছে আয়নায় প্রাচীন প্রেতের মতো আমি খুঁজেছি পাথর,টুকরো শক্ত ভারি অনবরত বলেছি,চলো দূরে গিয়ে বাঁচি হাতের কলমের সূঁচালো মুখের কাছে জিজ্ঞাসা ছুড়েছি, এটুকু শাণে কৃষিকাজ পারি? এই খাতায় কবিতা নেই,অদৃশ্য খেউড় এই খাতা বিবমিষা ধরা ফেলনা পাত্র মাত্র ফিরে আসা সন্ধ...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

খুন তারপর, তারপর তোমাকে ভাবার জন্য পড়ার বাহানায় বসি- - উড়ন্ত চিলের ডানার মতো- -  যখন একজোড়া ভ্রুযুগ আঁকি,- - অনেকটা রাত হয়ে যায়!  বারান্দায় ঘুমিয়ে মা' স্বপ্ন দেখে,-"পড়ায় খুব মন- "সূর্য উঠবে!"। প্রতিরাত মা'কে হত্যার ক্ষমতা যে দেয়- তোমাকে ঠকানোর সাহস সে আমায়- - - - তোমায় পাওয়ার ইচ্ছে শাণিত খাড়া হয়ে- ওর হাড়-দেহ শুঁকছে। এর পরেও কি 'ওদের' মতো বলবে- "লোপাট হয়ে যাক সব লালরঙ- নিখোঁজ হয়ে যাক পাগলীটা- - - - =================

নিসর্গ নির্যাস মাহাতো কবিতা

৫.  কৃষ্ণকলি আতুর চোখের মধ্য থেকে রজনীগন্ধা সরিয়ে নিলে আতর মলিন হয়। ছোপ দাগ জেগে ওঠে কাজলের নীচে। আরও কালো ঘন হয়, চিড় ধরা প্লাবণের পর। ৪. মৃণালিনী ও কাদম্বরী শত পুরুষ বুক বাঁধে মৃণালিনীর স্বপ্নে, কানাঘুষো প্রেমের কলঙ্কিনী প্রাণ রসদ কাদম্বরী। মৃণাল নির্মল চাঁদ- কঠোর সাধনা। বুক ভাসা প্রেমিকের হয়ে রবি স্বর- উপেক্ষা ক্ষমা করো। =================== নিসর্গ নির্যাস মাহাতো বি ৮, কেরানীটোলা, মেদিনীপুর সূচক- ৭২১১০১

মোনালিসা পাহাড়ীর কবিতা

সুখ কণা কণা সুখই নাকি  সব অসুখের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে! সুখের ঝাঁচকচকে মোজাইক ঘরে ঝলসে যাওয়া আড়ম্বর মাথা নিচু করে থাকে- পোষা পাখির মত... আড়ম্বরের নিচে চাপা পড়ে অন্ধকার, শান্তির সাদামাটা ছা-পোষা স্বভাবের কোন ঠাঁই হয়না। তাই দিনের শেষে দামি সাজানো ঘর, সুগন্ধি বিছানায়  অবিশ্বাস খেলা করে, কাঁচের ঘরের মতো সম্পর্কনামা ঝনঝন করে ভেঙে যায়। ============================= মোনালিসা পাহাড়ী মনোহরপুর, গড় মনোহরপুর দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর,

আরিয়ান প্রিয়স পালের কবিতা

আমি লেখাটা বেশ ছিল।স্বভাবে গান নীল আকাশ সাজানো দু-এক প্লেটে। এখনও সময় আছে,মন ভাসমান। মিটুক খিদে,প্রেমিকার বুক চেটে। অল্প আলো রেশ দেওয়ালের ফ্যানে। কথারা ঠিক ছিলো।আস্ত বইয়ে। সবটাই ক্লান্তির।ছায়া পথ ঘিরে । সূর্য অস্ত নামে কেবিনের গায়ে। হাতের গ্লাস ভরে বরফের ঘামে  হঠাত্ বিকেল নামে টেবিলের ধারে। হাজার পাখির ডাক গোটা-শট রুমে দু-চোখের বোঝাপড়া হাতে-হাত রেখে, তবুও ঘেরে লাজ দ্বন্দ্বের জেড়ে সব যে-শত্রু তবে,বন্ধু ছয়।। আমিও বাড়ি ফিরে,সময়ের ঘড়ি নিশাচর,ভবঘুরে আর কিছু নয়।। ============================= #আরিয়ান প্রিয়স(পাল) ডি ডি মন্ডল ঘাট রোড, কলকাতা - ৭০০০৭৬

স্বরূপ মুখার্জ্জীর কবিতা

1. অনেকটা কবিতার মতো —————————————————————— শাল কাঠের ছাই দিয়ে তৈরী পুতুল ইংরেজ আমল থেকে তৈরী হওয়া ক্রোধ রক্ত লেগে থাকা অভ্র ( ২ ) নদীর পার ভাঙলে মানুষ হাহাকার করলেও নদী মৃদ্যু হাসে ( ৩ ) তথাকথিত ক্রোধ ভাবনা কে বেত্রাঘাত করলে নিয়তি সপুষ্পক উদ্ভিদে রূপান্তরিত হয় 2. সময় ও সাফল্য ————————————————————— দুটো ছবি মাঝখানে স্মৃতিচিহ্ন একটা পুরানো পর্দা দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসা সিগারেটের গন্ধ নিকোটিন হাসে ধোঁয়া প্রবেশ করে শরীরে ছাই পড়ে থাকে তিনতলার নীচের মাটিতে অভিশাপেরা মাথানত করে আত্মাহুতি দেয় কবন্ধ সময় 3. ত্রসরেনু ————————————————— ভাঙা ছাত বেয়ে রোদ নামে আমার দেহের ওপর এভাবেই দুপুর ভাঙছে বিকেল এসে ধরা দেয় বসন্তের কোকিল কে প্রগাঢ় সন্ধ্যা ব্যাকরণ ভুলে যায় তলপেটে বাসা বাঁধা কৃমি পথ হারিয়ে গান্ধী টুপিতে আশ্রয় নেয় ******************************** স্বরূপ মুখার্জ্জী   গ্রাম – বনপাড়া পো :-  ঝিলু ব্লক...

তমোঘ্ন নস্করের কবিতা

            পরান মাঝি           স্বপ্নের চোখজুড়ে নামে বিশাল পূর্ণিমার নদী ........জলের গাঢ় আওয়াজে পরান পাল কাটে..... উল্টো মুখো চলেছে ডিঙি ..... জ্যোত্স্না মাখছে তার নিয়তি শরীর....প্রাণ ভিজছে সুরে আর সুরায়..... জন্মের গামছা মাথায় বেঁধে পোড়া বিড়ির পুনরাগুনে গাইছে লালনের গান .... ছল ছল নদীর বুকে দাঁড়িয়ে মনে হয় এখনও তার মীরা মাঝরাতে চাঁদের অভিসারে  স্পট সুরে নিমগ্ন ভজন এ ডুবেছে...... জঙ্গলের জীবন থেকে এভাবেই সে গেয়ে যায় প্রতিরাতে জীবনের দেয়া নেয়ার গান। এভাবেই দাঁড় বাইতে বাইতে কখন যে পরানের পরান ছুটি নেবে নিরুদ্দেশে কে জানে!!  মীরা হয়তো সাত সুরের জাল ফেলেও ধরতে পারে স্পন্দনহীন পরান কে.....

প্রণব কুমার চক্রবর্তী কবিতা

রাতের শরীরে কান্নার পান্ডুলিপি                                   গোধূলির সোনা রঙ মেখে অাজকাল বড্ড বেশি মাথা তুলছে মন খারাপের গল্পগুলো  ..... দিগন্তের কপালে  যেন মুছে ফেলা সিঁদুরের থ্যাবড়ানো দাগ অাকাশ ভেঙে ক্রমশ নেমে অাসে                বিষন্নতার এক কালো চিত্রলিপি

চন্দ্রাবলীর কবিতা

অদেখা কোন  মন আপন অদূরে কোন দেখার আদল ভুলে ছিল, সবুজ অবুঝ পাওনারা সব মেঘ কোণে ভেসেছিল । তবু অজানা পথ নিজেই এল পায়ের কাছে , ধূলোর চাদর বৃষ্টি ফোঁটা মেখে নিল । নিঝুম সাঁঝ মহল নেভা আলোর স্মৃতিতে থমকে ছিল । আঁচল ঝাপসা দেখা ঠোঁটের আদর অভিমানে ফুলে ছিল , তবু ছেঁড়া পাতা জুঁড়েছিল  রূপকথা নিয়ে  । মন ,কার কখন, অচেনা ক্ষণ হঠাৎ ফুরিয়ে ছিল । প্রেম বিশাল আকাশ চাতক মুখে বৃষ্টি দিল , তবু বেয়ারিং চিঠি নিলাম কিনে , মনের বিনিময়ে  ।। =========================== চন্দ্রাবলী ব্যানার্জী ১৬২, মহেন্দ্র ব্যানার্জী রোড কলকাতা - ৭০০০৬০

সুমন নস্করের ছড়া

পৌষালি খেঁজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধার   সময় এলো ওই, নলেন গুড়ের মিষ্টি মিঠাই   নতুন ধানের খই৷ উড়কি ধানের মুড়কি হবে   কণেক চূড়ের মোয়া, ভাঁড় পোড়ানো কাঁচা রসের   গন্ধে শীতের ছোঁওয়া৷ নতুন ধানের পিঠে হবে   উঠবে ঘরে ধান, খেঁজুর গুড়ের গন্ধ ছোটে   সতেজ ভরা ঘ্রান৷ শিউলিরা যায় ভাঁড় কোমরে   কাটতে খেঁজুর গাছ, শীতের আমেজ একটু নিতে   থাক পড়ে থাক কাজ৷ খেজুর গুড়ের পাটালিতে   গন্ধ ছাড়ে বেশ, পৌষালি আজ এমনি ভাবে   তুলছে সুরের রেশ৷ ভাল্লাগে না সকালবেলা   পড়তে বসা ছাই, আমেজ পেতে রসের লোভে   খেঁজুর তলায় যাই৷ ============== সুমন নস্কর গ্রাম+পোষ্ট- বনসুন্দরিয়া থানা- মগরাহাট জেলা- দক্ষিণ ২৪ পরগনা

স্বপনকুমার বিজলীর ছড়া

অঙ্ক খাতায় মেঘের ভেলা  অঙ্ক নিয়ে যেই বসেছি দাওয়ায় মাদুর পেতে চড়ুইগুলো উড়ছে তখন পাশের ধানের ক্ষেতে  টুনির বাসা ডুমুর ডালে আছে দেখি ঝুলে  এ সব দেখে অঙ্ক করার নিয়ম গেছি ভুলে । অমনোযোগ হচ্ছি আমি বুঝতে পেরে শেষে  বই খাতা পেন নিয়ে বসি ঘরের ভিতর এসে  চোখ চলে যায় জানলা দিয়ে বিলের শাপলা ফুলে  পাপড়ি মেলে হাসছে ওরা উঠছে হাওয়ায় দুলে । ঝক্কি ভারি হল তো বেশ অঙ্ক হল না যে খুব বকা কাল খেতে হবে ক্লাসে সবার মাঝে  এবার ছুটে সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে বসি ছাতে অঙ্কগুলো করতে হবে , অল্প সময় হাতে । চেয়ে দেখি সাদা মেঘে নীল আকাশে ভেসে ---- বকের সাথে ডানা মেলে যাচ্ছে দূরের দেশে  আর হলনা অঙ্ক করা, থাকবে ফাঁকা খাতা ?  মেঘের ভেলা এঁকে দিলাম অমনি দু'তিন পাতা।   .   .  .  .  .  . ------------------- স্বপনকুমার বিজলী  জোকা, কলকাতা , 

কান্তিলাল দাসের কবিতা

শীতের এ-বাংলায় । উত্তরবায়ু দিয়ে গেল চিঠি হেমন্ত যায় চলে আনছি সে ঋতু দেরি নয় আর চেনো যাকে 'শীত'বলে। সাঁঝে কুয়াশায় সকালে শিশিরে হিম হিম অনুভবে বুঝেছে মানুষ শীতের পোশাক লাগবে এবার তবে ! বের হয়ে আসে সোয়েটার টুপি শাল ও চাদর যত কম্বল লেপ রাত্রে শয়ণে প্রয়োজন অন্ততঃ। উঠেছে শীতের সব্জী বাজারে সিম কপি মুলো লাউ শাক পালঙের লাউ ও মেথির সকালেই কিনে নাও । উঠছে কমলা আপেল পেয়ারা শীতদেশ হতে ক্রমে জয়নগরের মোয়া এল ওই খাওয়াদাওয়া যাবে জমে। আহা নলেনের গুড় আসে ওই   পিঠে সাথে মোলাকাতে জমে পার্বণ শীত রজনীর নবান্ন ঘ্রাণ তাতে ! আলুখেত দেখো সেজেছে সবুজ সরিষা কনক সাজে ভরিয়েছে মাঠ ভরিয়েছে মন রোদের কাঁকন বাজে ! আসে পরিযায়ী পাখিরা এখন সাঁতরাগাছির ঝিলে গজলডোবায় নামে ঝাঁকে ঝাকে আরো কত খালে বিলে। বনভোজনের বাহানায় যারা বেরিয়েছে কাছে দূরে ডেকেছে প্রকৃতি আসলে তাদের হৃদয় বেজেছে সুরে ! ফুলে ফুলে আজ ছেয়েছে বাগিচা নয়নাভিরাম সাজে আমন্ত্রণের বিনীত হাসিটি দেখি যে তাদের মাঝে। চলো ঘুরে দেখি প্রজাপতি কত রঙ চুরি করে ওড়ে ফুলেদের সাথে মিতালি ...

সুনন্দ মন্ডলের কবিতা

সুদখোর                    রক্ত জল করা ফসল বিকোয় জলের দামে বছর শেষে কানাকড়ি পরে থাকে তলানিতে তারও ভাগ লাগে গ্রামের মহাজনকে যাঁতাকলের রস পিষে নেয় সে সবার। কৃষক নয়তো মজুর গোলামী খাটে আজীবন বউ ছেলে মেয়ে বন্ধক দিতে হয় গতর গেলে। একেকটা অসহায় জীবনের সলতে বেঁচে থাকে খড়ের চাল জড়ানো ঘরে। নির্দয় মহাজন এক টাকা ধার দিলে অসময়ে সময়ে উসুল করেন ঢের বেশি দামে। নিঃস্ব মজদুর হাতের মুঠোয় যা ধরেন মেলে পোষাই না টাকার গন্ধওয়ালা বড়লোকের।                 ----------- ছাপাখানা                   আলো আঁধারী জীবন চড়ে কালির সুখটানে আঁকা নীরবতা। শব্দরা কথা বলে অক্ষরের গায়ে ভালোবাসা মায়া স্নেহের চিরকুট বয়ে আনে খটখট টাইপে নানা রঙা ফসলি হয়ে বেরিয়ে আসে। জীবন কলের চাকার আগে আগে ঘোরে ব্যর্থ কেন হবে? নদীর খেয়ালে জল যেমন স্বচ্ছ কালির আমদানিতে লেখাও তেমন সরল। কয়েকটা ঘন্টা অতিক্রমের সময় চায় তারপর এঁকে দেবে পদটিক...

প্রসুন কুমার মন্ডলের কবিতাগুচ্ছ

1 ঈশ্ বলতে ইচ্ছে করে অর্ধমানব বানিয়ে ভূমিষ্ট  না করার থেকে গত রাতের ফেলে রাখা কন্ডমে পিছলে পড়া ভালো এত বুঝি আমরা তবুও গলির রাস্তায়  নতুন আলো দেখলে ঈশ্ বলতে ইচ্ছে করে।         2         অনুভূতি আজ দিনের শেষ ট্রেনটা ছাড়িয়ে একরাশ অবসন্নতা নিয়ে জীবনের  স্টেশনে আমি একা রাশি রাশি ভালোবাসা আর  তোর স্মৃতি নিয়ে ঘর ভাঙা শালিকের মতো তখনো স্বপ্ন বুনে চলেছি বয়স বাড়ার দ্বায়িত্ব আর  তোর অপেক্ষার নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় নেই    3 মানবিকতার আত্মহত্যা  সেদিন অভিমানের জেদে ভালোবাসাকে হেরে যেতে দেখলাম অপেক্ষা এখনো পিছু ছাড়েনি দেওয়ালের টিকটিকির ওজন বৃদ্ধিতে  আমার কোনো হিংসা নেই কিন্তু তোমার শাড়ির ফাঁকে আর কেউ উঁকি দিল না তো মন খারাপের রাতে অ্যালকোহলে  ডুবে থাকার মতো প্রেমিক হয়তো আমি নই নক্ষত্র সংখ্যার থেকেও ভালোবাসি তোমায় সুস্থ মানবিকতার আত্মহত্যার আগে আবার একটু ভালোবাসতে পারতে  4           তুমি ভা...

কবিতা ভট্টাচার্যের কবিতা

এখানেই ঈশ্বর এই ঘরটা ঈশ্বরের ঘর   এখানে নিঃশব্দের পাশে অপরূপ - নিস্তব্ধতা   এখানে অত্যন্ত আকর্ষণ   কতবার ছুঁয়েছি , ফ্যালফ্যাল               চোখে দেখেছি   উঁচু নিচু মাঝারি সারি            সুন্দর স্রষ্টার সৃষ্টি ।             এদিকে পদ্য , এদিকে সাহিত্য   পরিপূর্ণ রচনার সম্ভার                 মন্দির চত্বর লক্ষ্য তারার সাথে অসংখ্য   প্রদীপ জ্বলজ্বল করছে   যেন এক পৃথিবী , সবাইকে ডাকছে আকুল আবেগে           কী অদ্ভুত সুন্দর ।

সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতা

লক্ষ্যভ্রষ্ট পথিক আমি, পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে ঠিক যেভাবে ছোট্ট নদী ছুটতে-ছুটতে দারুণ বাঁচে! মাধুকরী করেই আমি পাহাড় দেখে ঝর্ণাতলে সেই যেখানে অরণ্য-বন ভালবাসার কথাই বলে; সেই সে দেশে যেই না গেছি ছুটতে ছুটতে হন্যে হয়ে নদীও দেখি দারুণ খুশি, আমার জন্যে যাচ্ছে বয়ে। টুনটুনিটার মতই সরল, আমার হাতে রাখল সে হাত তারপরে তো আপন হল, নদীর সে গান, জলপ্রপাত। ছপ-ছপা-ছপ সাঁতরে শুধু ডুব-সাঁতারে, চিৎ-সাঁতারে যাচ্ছি ডুবে উঠছি ভেসে কুল না পেয়ে সেই পাথারে। এরপরে তো হঠাৎ করে সেই ফোয়ারা উথলে ওঠে এমনি করেই ঝলমলিয়ে বাগানজুড়ে গোলাপ ফোটে। গেলাম ভুলে পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে বন্দী আমি আটকে গেছি, আটকে গেছি তোমার কাছে! ========================================= Sudipta Biswas,Deputy Magistrate & Deputy Collector,(WBCS Exe.), Nokari Uttar Para, PS-Ranaghat,Dist- Nadia ,

চিরকুটের কবিতা

যৌবন এখন আর আকাশ থেকে ফুল পড়ে না নদীর জল বিষাদের পাঁকে জর্জরিত চাঁদের আলোয় কেউ গা ধোয় না পড়ে থাকে বাঁশি কোন সে অন্দরে ! পাতার ফাঁকে রঙিন স্বপ্নেরা উকি দেয় ঠিকই তবে কোথাও যেন মনোমালিন্য ঝলসানো যৌবনের শেষ কুঁড়ি বাস্তবের দরবারে মাথা কুটে মরে ।  আসলে নুনের দাম অনেক বেশি কাঁচা দেয়ালের ঘরে । ব্যর্থ প্রেম একরাশ নিশ্ছিদ্র ধোঁয়ার মাঝে একটা নরম গোলাপ কখন বিষিয়ে গেল ! টের পেলোনা কেউ ।  দুরন্ত রোদ্দুরের মতো আবিষ্কার করি একটা জলজ্যান্ত আধপোড়া ভালোবাসা  থকথকে কালো রক্ত ভিজিয়ে দেয় আমার সকাল সন্ধ্যা ।  গভীর রাত্তিরে নিদ্রার ভেতর এক ঝাপসা পথ বরাবর দুইকুল ছাপিয়ে প্রেম এনে দেয় আমার মেঘবালিকা ।  তোমার শহরে আমি বহমান এক ধূলিকণা হলেও আমার গল্পে তুমিই নায়িকা ।  ======================= সুশান্ত কোড়া প্রযত্নে নৃসিংহ ঘোষ গুরুপল্লি পশ্চিম ( ভোডাফোন টাওয়ারের কাছে )  শান্তিনিকেতন বীরভূম

শেখ সামসুল হক এর একগুচ্ছ কবিতা

যাও   ফিরে   যাও গাছের   পাতার   সবুজ   খোয়ানো   ছবি ইথিওপিয়া   নয়   এই   বাংলাদেশে দেখছি   অবশেষে   তাই   বাংলাদেশে আবারও   হৃদয়   খুন   দেখতে   হবে  ? সোনার   মানুষ   হারাতে   দেবোনা   আমি যে   করেই   হোক   বিনাশ   ঠেকাতে   চাই উতাল  - মাতাল   অদিন   আসছে নিকটে   বিকট   শকুন   উড়ছে সামনে   পিছে   ডাইনে   বায়ে বাঁচার   চেয়ে   মরাও   ভালো আওয়াজ   তুলে   বলছে   কি   সব মায়ের   কোলের   অবুঝ   শিশুর অকাল   মরণ   জল   পিপাসায় তাই   যদি   হয়   বেশ   তুমি   থাকো যে   করেই   হোক   হৃদয়   খুন   ঠেকিয়ে   আসি যাও   ফিরে   যাও   খরার   মরা   বাংলা   ছেড়ে। নিখোঁজ   সেই   ছবি তুমি   এখনো   অজানা   এক ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,