গ্রামের বিদ্রোহ
আর. এম. কারিমুল্লাহ
গ্রামটার নাম মঙ্গলপুর,গ্রামের ঠিক প্রান্তে, নদীর কোলঘেঁষে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এক প্রকাণ্ড মাঠ। মাঠটির ঠিক মাঝখানে নয় তবে রাস্তা থেকে খানিক ভেতরেই দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি ছোট্ট ছোট্ট পরিবার কে নিয়ে গ্রামটি । গাছের ডালপালা মেলে ছায়া দিতে দিতে সে ভুলেই গেছল বোধহয় সে এদের কেউ নয়! সেই ছায়ার গভীরে জন্ম নিত কত শত নাম না জানা পাখির বাসা, কাঠবিড়ালির সংসার, আর কত না অদেখা প্রাণীর স্বর্গ।গ্রামের মোড়ল সুবীর বাবু, সবাই তাকে বড়ো বাবু বলে ডাকে, লোকে যেমন ভয় পাই তেমনি সম্মান ও করে , কিন্তু যেখানে অন্যায় খারাপ কাজ দেখে সেখানে প্রাণ পনে ছুটে যাই, খুব একটি সাদা সিধে জীবন যাপন করে, সব সময় পরনে সাদা পাঞ্জাবি নীল পায়জামা, পায়ে সবুজ রঙের মোজা, হাঁটুর উপরে ফিতা দিয়ে বাঁধা।সক্কাল সক্কাল- মাহমুদুল এর বাড়ি গিয়ে বলল- তোরা নাকি গ্রাম ছেড়ে চলে যাবি?_ হ্যাঁ বড়ো বাবু..._ গ্রাম ছাড়তে মায়া হয় না!_ হয় বই কি? খুউব হয় , কিন্তু কি করবো বড়ো বাবু? পেটের জ্বালায় দু মুঠো ভাতের জন্য যেতে হচ্ছে...।_ আমাদের ভুলে যাবি না তো?_ না না বড়ো বাবু , কি যে বলেন! সব সময় মনে থাকবে, সব সময় মনে থাকবে...।_ আচ্ছা বেশ , ভালো ভাবে যা তাহলে! তা তোদের জিনিস পত্র?_ জিনিস পত্র তো তেমন নেই, যা কটা আছে প্রয়োজনীয় ছাড়া আপনাদের থাকবে ...।_ ঠিক আছে....।এরপর গ্রামের সকল ছেলে মেয়েরা এসে জনে জনে জিজ্ঞেস করতে থাকে... মাহমুদুল দা, শুনলাম গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছ?_ হ্যাঁ রে..._কেন দাদা , আমাদের জন্য তোমার মন খারাপ করবে না বুঝি?_ করবে না কেন! সব সময় করবে , তাছাড়া আমি তো আসবো তোদের দেখতে , আমার এই সোনার গ্রাম টি দেখতে....।স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে কে নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছিল ..... গ্রামের এক কোনে..।সময় যতই বাড়তে লাগল ততই মন খারাপের কারণ হল তার। বাবা মা কে হারিয়েছে ছোট্ট বেলায়, জন্ম বেড়ে উঠা সমস্ত কিছুই গ্রাম কে ঘিরেই, তাকে যেন ছেলের মত স্নেহ করেছে গ্রামটি..... মায়ের ভালোবাসা বুঝতে দেয়নি কখনো.....।আজ ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে।আজ শুধু ভাবছে আর ভাবছে...মনে করছে অতীত দিনের ইতিহাস......... অনেক সময় গল্প করতে করতে স্মৃতি খেয়ায় ভেসে যেত কোনওদিন তাদের কৈশোরে যৌবনের উদ্দামতার দিনগুলিতে কিম্বা ছেলেবেলায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাঁ ঘরের গোঠের গরু-ছাগল সেই ছায়ায় বিশ্রাম নিত কোনও নিরীহ গ্রীষ্মের দুপুরে। এই ভাবে কেটে যাচ্ছিল নিস্তরঙ্গ অনাড়ম্বর দিনগুলি।গ্রামটি যে শুধু প্রকৃতির অংশ ছিল তা নয়, বরং সে ছিল এক সমাজের নীরব রক্ষক, এক জীবন্ত ইতিহাস—যার ডালে বোনা ছিল স্মৃতি, যন্ত্রণার রক্ত, ভালোবাসা আর আত্মত্যাগ।অবশেষে যেতে হল গ্রাম ছেড়ে , এক লম্বা সরু পথ ধরে চলে যাচ্ছে, এমন সময় এক প্রবল বেগে বৃষ্টি নামল , আকাশের ঘন কালো মেঘ, সে তৎক্ষণাৎ অনুভব করল যেন বিদ্রোহ শুরু করেছে।।==========================(আর. এম. কারিমুল্লাহ, হরিশচন্দ্র পুর, মালদা, পিন কোড- ৭৩২১২৫, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...
Comments
Post a Comment