Skip to main content

Posts

ছড়া ।। শুভাশিস দাশ

নারী শুভাশিস দাশ নারী নয় ফেলনা নারী নয় খেলনা নারী নয় অবহেলা পাত্র সম্মান করো তাঁকে শ্রদ্ধায় ভরো মাকে ভালবাসো দিবা থেকে রাত্র। আমাদের সব কাজে নারীরা জড়িয়ে আছে কেউ দিদি, বোন কেউ কন্যা পিসি আছে, আছে মাসী সবাইকে ভালবাসি জায়া আছে, ধরণী অনন্যা ॥   =================   শুভাশিস দাশ দিনহাটা মো 9932966949

কবিতা ।। সুমিত মোদক

  বাঁচার স্বপ্ন সুমিত মোদক দখিনা বাতাস মেখে নতুন করে বাঁচতে চেয়েছি আবার ; দখিনা বাতাস মেখে … নতুন করে বাঁধতে চেয়েছি সংসার , জীবন ; এক গ্রাম্য মেয়ের জীবন ; যেখানে থাকবে খিড়কির ঘাট , পুবের জানালা , একটা গোটা উঠান … এমন এক জীবন , এমন এক সংসার ; আমি তো গ্রামের সহজ সরল এক মেয়ে ; সমাজের অত জটিল অংক বুঝিনা ; বুঝতে পারি না ; সে কারণেই তো প্রথম যৌবনের প্রথম প্রেমেই  ঠকে গেলাম ; তলিয়ে গেলাম মুম্বাইয়ের অন্ধকার গলিপথে ; সে সময় সে বলেছিল শহরে নিয়ে যাবে , সংসার পাতবে ; বিশ্বাস করে ছিলাম ; শহর থেকে ঘুরতে আসা সুদর্শন , তরতাজা ছেলেটাকে বিশ্বাস করে ছিলাম ; সে কারণে বাবা-মা , আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে , গ্রাম ছেড়ে তার হাত ধরে পাড়ি দিয়ে ছিলাম ভিন রাজ্যে  ; এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে ; সে স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল , যখন বুঝলাম বিক্রি হয়ে গেছি রাতজাগা মহল্লায় ; আর আমি , রাতপরি ; ওখান থেকে পালাবার কোনও পথ নেই ; পালাবার কোনও পথ থাকে না ; আমাকে দেখে কি মনে হয়েছিল কে জানে ; এক রাতপুরুষ আমাকে নতুন করে বাঁচার মন্ত্র দিল ; দিল মুক্তির চাবিকাঠি  ; অনেক চেষ্টায় এলাকার পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে এলো ; মুক্তি , অ...

কবিতা ।। সাত্যকি

ধোঁয়াশা মলিন হলে   সাত্যকি বৃক্ষ শরীরের গায়ে ঠেস দিয়ে যখন তার নিষ্প্রাণতা চোখে আসে  যখন ছাইয়ের পাশে বসে থাকি  ধোঁয়ারা দেখি ছুঁয়ে নিচ্ছে আকাশের সাদা  সেই সময় চারপাশের রুক্ষতা ঘিরে ধরে চোখ  একটা নিঃশব্দ উচ্চারণ ভেসে ভেসে আসে  কখনও পড়ে ফেলি  কখনও গ্রীষ্মের রোদের মতো হয়ে থাকে তারা  তবে শেষমেশ বুঝে যাই আমি মাতৃতান্ত্রিকতাই ভালোবাসি  আমি চিরকাল তারই ধার ঘেঁষে আছি....                               -------------   সাত্যকি  c/o-প্রদ্যুৎ দাস ঋষি অরবিন্দ সরণি ,  সরকার বাগান উত্তর পূর্ব -ন পাড়া  পোস্ট -ন-পাড়া  থানা -বারাসত  জেলা -উত্তর 24 পরগনা  কলকাতা -700125। মো: 7278107288।  

কবিতা।। মোয়াল্লেম নাইয়া

  "বনলতা সেন"  মোয়াল্লেম নাইয়া মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা বনলতা সেন মিটিয়ে দিতে চায় সে আমার সকলই লেনদেন ৷ অমোঘ টানের অন্ধকারে পথ চলেছি হেঁটে আজও তাহার পাইনি দেখা বছর গেছে কেটে৷ স্নিগ্ধ শিশির সবুজ ঘাসে মেলছে তাহার ডানা অবুঝ প্রেমিক তোমার চুলে হারায় যে ঠিকানা! নীড়ের মত চোখ দুটিতে লক্ষ মনের বাস মেঘ-বৃষ্টির খেলা সেথায় চলছে বারো মাস ৷ জোনাকির ওই নিয়ন আলোয় বনলতা সেন তোমায় নিয়ে গল্প গাথা কাব্য অমর প্রেম। চলুক না হয় খোঁজার পালা হাজার বছর ধরে স্বপ্নে ঘটুক বনলতা সেন-"মুখোমুখি বসিবারে"৷              ------------০০------------   নাম-মোয়াল্লেম নাইয়া গ্রাম+পোষ্ট- ইমামদ্দীপুর থানা-ঢোলাহাট জেলা- দক্ষিণ২৪ পরগণা পিন-৭৪৩৩৯৯ ফোন নং-৯৯৩৩১৯৫৭৫২

কবিতা ।। সুমনা ভট্টাচার্য্য

অথ উলূপী কথা     সুমনা ভট্টাচার্য্য   হৃদয় কখনো নিয়ম বহির্ভূত সহিষ্ণুতার সংযমী বাঁধ ভাঙে- নারীরও জাগে তৃষ্ণা যথাবিহিত আ মন্ত্রণের সাংকেতিক আহ্বানে ;   নই দ্রৌপদী শীলিত ব্যবহারিক- আশিরনখের আর্য মুদ্রাদোষ, নেই সুভদ্রা বা চৈত্রবাহনীর পুরুষ মোহিনী শৃঙ্গার সংযোগ ।   চলেছি জীবনে -দ্বিধাহীন নাগ মেয়ে নির্লজ্জ পা বাঁধে উদার ছন্দ- বিধাতার ভুল নিজে দেবো শুধরিয়ে যাপন জানেনা রাখ ঢাক-নিঃশর্ত;   সেদিন অর্জুন স্নান এঁকেছিলে গায়ে ... পৌরুষ ছোঁয়া জলের  উজান স্রোত নিষেধ বল্গা ছিঁড়েছে বিধবা মেয়ে স্রো তের টানে যে হারায় কপর্দক -   কপর্দকেই সোনার পাথর বাটি উপবাসী দেহ- মানে না মনু-শাসন  ধৃষ্টতা ঘোর, শুদ্ধ অবিশ্বাসী -   অনর্থ মানে সপ্তপদী গমন -   ঝুলিতে জমানো একরাত সহবাস একরাত প্রেমে কিনেছি গর্ভক্ষত সেই ক্ষ তে ভরি' জীবনের অধিবাস... যেমন ভিক্ষা চিনে নেয় ক্ষুধার্ত;   চতুর্বর্গ শুধু পুরুষ - মোক্ষ ভার্যার ক্রিয়া পুত্রার্থে ই বলে- কর্তৃ বাচ্যে বাঁচে পুরুষ আর্য বিবাহ বচনে প্রবোধের মন গলে ।   পাশা খেলা হোক বা অশ্বমেধ বাজী - পরস্মৈপদী  ...

ছড়া ।। খগপতি বন্দ্যোপাধ্যায়

  নারী তুমি খগপতি বন্দ্যোপাধ্যায় পুতুল খেলা ছেড়ে তুমি গেলে শ্বশুর বাড়ি দু'চোখ ভরা স্বপ্ন তোমার পেলো ন'হাত শাড়ি । সবার মুখে ফোটাও হাসি দিনে রাতে খেটে নিজের দিকে না তাকিয়ে যাও রয়ে একমেটে । শ্বশুর ননদ দেওর আদি করলে সবে আপন নিংড়ে দিয়ে নিজের সবই সুখের জীবন যাপন । মেটাও সবার যা প্রয়োজন ভূলে নিজের কথা  সুযোগ পেলে কেউ ছাড়ে না দিতে তোমায় ব্যথা । নারী তুমি নিজেকে আজ একটু ভালোবাসো নিজের সাথে নিজেই নিজে প্রাণখুলে আজ হাসো । খগপতি বন্দ্যোপাধ্যায় মালঞ্চ ,কবরডাঙ্গা ,বাঁকুড়া ৭২২১০১ যোগাযোগ :৯৪৩৪৩০৫৬২১

কবিতা ।। অভিষেক ঘোষ

       ভ্রান্তি   অভিষেক ঘোষ ১ ম দিন আমায় ওরা খোলা মাঠে মুক্তি দিয়েছে ! দ্যাখো মা, আমি মুক্ত । কী যে আনন্দ হচ্ছে ! আমি কখনো ভাবিনি জানো, ওরা আমায় ওদের শাসন থেকে, শৃঙ্খল থেকে, এতখানি মুক্তি দেবে ! ২ য় দিন কত সবুজ চারিদিকে ! চতুর্দিকে গা-ঘেঁষাঘেষি করার কেউ নেই । যেদিকে চোখ মেলছি, মুক্তজীবন হাতছানি দিচ্ছে, আজ আর কেউ অশালীন কটাক্ষে, অবাঞ্ছিত ঘৃণ্য স্পর্শে, বিকৃত লালসায় – আমায় নিয়ম-মাফিক  বিব্রত করতে পারবে না, তা ভেবে কী যে ভালো লাগছে !! ৩ য় দিন তবে কী সব্ ভুল ছিল মা ? ওদেরই একজন আজ আমাকে আমার অজান্তেই একা করে দিয়েছে, তার নিজস্ব গোপন স্বার্থে । সমাজ থেকে স্বতন্ত্র করে, ব্যক্তিগত কামনার বিকৃত জগতে আশ্রয় দিয়েছে ! মা গো, এতটা ঠকে গেলাম আমি ! কখনো ভাবলাম না, কোনো পুরুষ পারে না এতটা মহৎ হতে, এমন অসীম মুক্তি পুরুষের পৃথিবীতে অলীক । সব ভ্রান্তি-পাশ । সবার থেকে পৃথক করে, দিয়েছে উন্মুক্ত খোলা মাঠ । কিন্তু অলক্ষ্যে, গোপন কামনার অদৃশ্য প্রাচীর তুলেছে, আমার স্বাধীন অবকাশ-টুকু ঘিরে । আজ অবাক হলে চোখ রাঙিয়ে সে বলছে, "এই গন্ডির মধ্যে  যত পারো ছোটো, কিন্তু  আমি একা তো...

কবিতা ।। সম্পা পাল

তৃতীয় বিশ্ব ও নারী সম্পা পাল আরও একটি এবং তারপরও নদী হতে ইচ্ছে হয় জানোতো আমি তৃতীয় বিশ্বের এক নারী একদিন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছিল এখন আকাশ আর একটু উঁচু তবু একটি জীবন বহন করছি দৈনিক প্রথম বিশ্বের স্বপ্ন দেখিনি বিশেষ ওখানে আমেরিকা আছে শুধু অলিন্দে সীমাহীন শূন্যতা জানি তৃতীয় বিশ্ব কখনো নারীর শূন্যতা খোঁজে না তবু সব শূন্যতার পরও একটি বসন্ত থাকে একটি এবং থাকে একটি নদীও থাকে..... --------------- সম্পা পাল , শিলিগুড়ি 

ছড়া ।। রিয়াদ হায়দার

  মা রিয়াদ হায়দার মাথায় উপর আদর মাখা একটা স্নেহের হাত, যত্ন করে বাড়িয়ে দিতেন থালা ভর্তি ভাত। স্কুলেতে যাবার সময় গুছিয়ে দিতেন খাতা, আদর করে আঁচড়ে দিতেন ভিজে চুলের মাথা। কাছে নিয়ে সোহাগ মেখে গালে দিতেন চুমো, বলতো তিনি-সোনা রে তুই এবার একটু ঘুমো। সারা জীবন আগলে রেখে আঁচল দিয়ে ঢাকে, ছোট্ট সোনা মনের সুখে আদর মেখে থাকে। ছেলে-মেয়ে'র জন্য যিনি থাকেন সকল কাজে, শ্রদ্ধা জানাই তিনি হলেন সবার প্রিয় মা'যে... ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, রিয়াদ হায়দার সরিষা আশ্রম মোড় পোস্ট - সরিষা থানা - ডায়মন্ড হারবার জেলা - দঃ২৪ পরগণা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর - 9609618020 rasel.hayder786@gmail.com

কবিতা।। দীপঙ্কর বেরা

  নারীর পথ চলা  দীপঙ্কর বেরা  অনেকদিনের অনেক পুরোন কথা মনে পড়ে জগদ্দলকে ঠেলে তোমার যাত্রা জীবন গড়ে তুমি মহীয়সী তুমি মানুষ হয়েছো নিজের মত তোমাকে তাই শ্রদ্ধা জানাই করছি মাথা নত। খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা করে রান্নাবাড়া ঠিক সময়ে অফিস হাজির কর্মের ডাকে সাড়া, বিকেলে ফিরে একা হাতে ঘরদোর সামলে তোমার জীবনকে তুমি নিজের মত গড়লে। না সাজগোজ গয়নাগাঠি গড়ে তোলা সংসার সমাজের বুকে যেন সমাজ হয়ে ওঠা পরিবার, তোমার নারী ভাবনা তোমাকে দিয়েছে মুক্তি তুমি ভেঙে দুর্বার হলে দেখালে তোমার যুক্তি। এত পরিশ্রমে চলতে থাকা মানুষ তুমি একক দেখিয়ে দিতে পেরেছো তুমি এ দশক এ শতক, প্রেমের অপরূপ ভঙ্গিমায় আমি খুঁজে পাই তুমি দিগন্তে যেন উঠেছে সূর্য চিরকালের আত্মভূমি।

কবিতা ।। মোনালিসা নায়েক

হৃদস্পন্দন  (প্রিয় নারী – আমার মা-কে) মোনালিসা নায়েক মা মানে পৃথিবীর আলো দেখার আগে থেকে সযত্নে আগলে রাখা  একটা হৃদয়মন্দির ভ্রূণ থেকে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার লড়াকু শক্তি আর সাহস, অব্যক্ত কথারা হয়ে ওঠে হৃদয়, এমন এক আদর্শ চেতনার মূল্যবোধে জীবনকে চিনিয়ে দেওয়ার অসীম ক্ষমতা, অবিচ্ছিন্ন  এক বন্ধন, সব প্রতিকূলতাকে হারিয়ে সংগ্রামের অস্তিত্বে জয়টীকা। 'মা' এই ছোট্ট শব্দের ব্যাপ্তিতে  মরুভুমি বুকে সুখের খনি, সংসার এক দীর্ঘ সংগ্রামী -কন্টকাকীর্ণ পথের অবিশ্রান্ত সৈনিক। একটা সময় মায়েদের ছেড়ে আসতেই হয় নতুনসংসারকে নিজের করে পেতে, মায়ের আঁচল ছায়ার দাগ শুঁকে ভুলে থাকি পৃথিবীটা শূন্য লাগার যন্ত্রনা। এখন নিজে মা হয়ে বুঝেছি কোনো অভিযোগ রাখতে নেই, নিজেকে উজাড় করে সন্তানের হৃদস্পন্দন হয়ে বাঁচতে। রাজসুখ থাকলেও ঋষির মতোই জীবনযাপন করে সব মা-রাজর্ষি।   =============       মোনালিসা নায়েক আরামবাগ  হুগলী ফোন-৯৬৪৭৫৫৭৪০৯

ছোটগল্প ।। সঞ্জীব সেন

শিউলিদির কাছে শেখা সঞ্জীব সেন   কিছুদিন ধরে শিউলিদির কথা খুব মনে পড়ছে, গ্রামের বাড়ি । পাকাপাকি ভাবে কলকাতা শহরে চলে আসার পর গ্রামে যাওয়াও হয়নি, জীবনের একটা সময় এসে মনে হয় জীবনটা আসলে একটা বৃত্ত। যেখান থেকে শুরু করেছি সেখানে ফিরে যেতে চায় মন । এতদিন কাজের ভিতর ব্যস্ততার ভিতর শৈশব ফেলে আসা পরিজন,এসব ভাবার অবসর হয়নি। লকডাউন থেকে এখন আনলক। ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে । করোনা আতঙ্ক বুকে নিয়ে লোক পথে নামছে । রুজি রোজগারে । কিছু লোকের চাকরি গেছে। কিছু লোক জীবিকা পালটে ফেলেছে । প্যারাটিচার থেকে কলা বিক্রেতা ।  যাইহোক এসব নিয়েই চলতে হবে । এই দেখুন সেই ঘুরে ফিরে করোনার কথায় ফিরে যাচ্ছি । আমি তো শিউলিদির কথা বলতে চাইছিলাম এতক্ষণ ।তবে শুনুন এখানে শিউলি শুধু একটা নাম নয় । তার চেয়ে বলা ভাল শিউলিদিদের কথা । তখন পাড়ার দাদারা রাজেশ খান্নাকে ছেড়ে বচ্চনের মত স্টাইল করছে । অবশ্য তখন কথাটা ছিল বচ্চন কাট ।ফাস্ট ডে ফাস্ট সো এ ইয়ারানা সিনেমা দেখতে গিয়ে  হাউসফুল দেখে মুখচুন করে ফিরে এসেছে । তখন বাশবেড়িয়ার মত মফরসল শহরে নতুন সিনেমা আসত অনেক পরে । ততদিনে ইয়ারানা মারমার কাটকাট । দাদারা তখন স...

কবিতা ।। দেবব্রত মণ্ডল

  গর্ভধারিণীর মুখ    দেবব্রত মণ্ডল ক্ষুধার ভার আর বিগত রাতের বাসি-গন্ধ মেখে শিশুর মতো ঘুমিয়ে আছে আমার গ্রাম! ঘন কুয়াশা সরিয়ে ধীরে জেগে উঠছে কাকভোর উঠোনে অপেক্ষমান শীতকাতুরে আফোটা আলো এমন দিনে আমি মন্মর্জির উজানে হাঁটি অর্ধশতক পার করি অনায়াসে- যত পিছনে যাই উদোম হাওয়ায় স্মৃতির গুহমুখ খুলে যায় ক্রমশ। ওই তো গোঠের রাখল গরুর বাঁধন খোলে ঘুম চোখে গৃহপালিতেরা অকস্মাৎ থমকে দাঁড়ায় ওদের দৃষ্টি সড়গড় হলে, নতুন রাখল ভেবে যখন হাম্বা রবে ডেকে ওঠে- আমি পুরানো রাখল হয়ে যাই! নারকেল পাতা ছিপ ফেলে পুকুরের জলে দোল খায়, সমস্ত আলো গেঁথে তোলে নিজস্ব স্বভাবে। একটা ক্ষুধার্ত সকাল বাসি বাসনে দেয় উঁকি, আর নরম রোদে- বুকে সুগন্ধ নিয়ে নির্ভার বকুল ঝরে। পোষা হাঁসের সেই গদগদ ভাব, ওদের আয়ত চোখে আঁটুলির মতো চাপা অভিমান দেখি! আমি অফুরন্ত হলুদের মাঝে স্মৃতি হাতড়াই ভাঙা পাঁচিলে ফুটে আছে সহজ চিত্রমালা, এইমাত্র বাড়ীর ছোটোবউ ঘুঁটে দিয়ে গেছে। সলাজ ঘোমটায় ঢাকা সুখের সিঁদুর, আঁচলে প্রভাত শিশির মিশে আছে। দৃশ্যান্তরে- আমার চেতনায় ফুটে ওঠে এক মায়াময় রূপ। তাঁর ছেঁড়া আঁচলের খুঁটে বাঁধা সমস্ত ক্লেশে...

কবিতা ।। শিউলি মন্ডল

শক্তিরূপেণ সংস্থিতা         শিউলি মন্ডল  আমি সেই নারী , যার আগমনী তোলে বিষন্নতার তান !! নরপিশাচের লোলুপ দৃষ্টি , সেঁজুতির শিখা আজও করে ম্লান ।। আমি সেই মায়াবিনী , মায়ার খেলায় মত্তা।  মাতা, কন্যা, ভগিনী, প্রেয়সী, পত্নী রূপে;  যুগে যুগে এঁকেছি, তোমার নানান সত্ত্বা।।  আমি জনক দুহিতা  সীতা। মায়ার টানে করেছো মোরে রক্ষা,  তবু খুঁজিতে মোর পবিত্রতা;  নিয়েছো বারবার অগ্নিপরীক্ষা !!  আমি সেই দ্রোপদী,  যাজ্ঞসেনী ,পঞ্চপান্ডব জায়া। রক্ষা করো নি মোর সম্মান  ত্যাজিয়া রাজধর্মের মায়া।।  আমি মৈত্রেয়ী, অপালা, খনা।  আমার জ্ঞানের  বিচ্ছুরিত আলো,  ভুলিয়েছে কালের যত অবমাননা,  ঘুচিয়েছে জগতের যা কিছু কালো।।  আমি সাবিত্রী ,সত্যবান ত্রাতা।  সৃষ্টি স্বরুপা আমি ,প্রতিনিয়ত বঞ্চিতা;  রণচন্ডী, চামুন্ডা আমি ;করুণাময়ী মাতা  স্রষ্টার সাথে তবে, কেন এই দ্বিচারিতা??!!  নই পুরূষ বিদ্বেষী নারী, চাই শুধু জানতে,  একে অপরের পরিপূরক, পারে নাকি তারা হতে ? ভুলিয়া যত মান,অভিমান, দ্বিধা,দ্বন্দ্ব,দ...

কবিতা ।। মহাজিস মণ্ডল

                মেয়েদের কবিতা                       মহাজিস মণ্ডল কোনও ব্যথা অকপটে কাউকে বলো না শুধু নিবিড় হয়ে আসা রাতকে লিখো তোমার গহীন অভিসারের কথা চারপাশে দেখো,এখন বকধার্মিকের দল আগুন পোহানো মানুষগুলো সব্বাই ঘুমিয়ে নির্জন কোনও রাস্তায় বেরোনোর আগে সাতবার ভেবো...                        -০-   মহাজিস মণ্ডল সবুজলেন, নবপল্লী(১২ ফুট), ২২ বিঘা রোড, হরিদেব পুর, জোকা, কলকাতা-৭০০১০৪, মোঃ -৮৫৮৩৯৫৭৯১৯, তারিখ -০৯/০৩/২০২১.                          -০-

কবিতা ।। অমিতাভ সরকার

  নারীর অন্দরে অমিতাভ সরকার পৃথিবী পর্দা আঁটা অসুখের পথ হাঁটা নারীতে পৃথিবী গড়া নারী চিন্তায়। মনের যাপনাতলে চেতনার বাতি ছলে জীবনে নাড়ীর টান স্বার্থে খাটায়। চাহিদার কামনায় রোদ ক্ষোভ যাপনায়  নারী সে   বুঝতে নারি চেনা-অচেনায়। তবুও একলা জ্বরে শরীর  মনের দরে  সুখেতে ক্ষতের আভা  মূক ভাষা চায়। সময় পালটে চলা মনেতে বিষম জ্বলা তবুও ভাবনা সে কি খুব পালটায়? ==================== অমিতাভ সরকার আনন্দললোক আবাসন, ফ্ল্যাট ২ ই,১২৭ যশোর রোড,বারাসাত, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ফোন ঃ৯৪৩২২৮৩১৭৪

কবিতা ।। অরবিন্দ পুরকাইত

  তুমি বিনা কোথায় জীবন  অরবিন্দ পুরকাইত নারী মানে আনাড়ি ক'জন আর বলতে ছাড়ি নারী মানে নরকের দ্বার, থাকে না কথাটি পেটে হাট করে বসে দেখাদেখি কেনাকাটি, খালি গাঁট খসে – কতশত অভিযোগভার! পথে সে বিবর্জিতা কে বা আর না জানি তা স্ত্রীর কাছে মিথ‍্যায় শাস্ত্রে সায়, কলঙ্ক নারীরই বেলা, পরমহংস নর মহামূল‍্য পুরুষরত্ন, স্ত্রীলোকের কী দর – ধরনা তাই পুত্রকামনায়। সন্তানের জন্ম দিতে দু-দণ্ড বিশ্রাম নিতে – ক্রমে বন্দি করল সংসার, কে খোঁজে কী বল আছে, কতখানি সুধা রিরংসা হানাহানি – রক্তাক্ত বসুধা, নারীর ইচ্ছার করুণ সংহার! সময়-সুযোগটি পেলে সৃজনে সম্মান মেলে সময়ের হাতে নজির ঢের, জননী জায়া বা কন্যা ভাবিনি তত প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে যেন বিরোধরত! নারী আপন সম্মান পাক টের।        *       *       *       *       * অরবিন্দ পুরকাইত গ্রাম ও ডাক – গোকর্ণী, থানা – মগ‍রাহাট, জেলা – দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, ডাকসূচক – ৭৪৩ ৬০১।  

কবিতা ।। পলাশ পোড়েল

আমার মা পলাশ পোড়েল তোমার আঁচলে সংসারের চাবি তাতে ছিল নক্সা আঁকা, অভিমান কোঁচড়ভরে বোনে স্বপ্নখানি মা নয় সে সুজন সখা। বালিকা বয়সেই  বাজলো যে সানাই গোধূলি লগ্ন দেখে, বুঝি সেই থেকে শুরু, নতুন বউ ঘরের সোহাগী সিঁদুর মেখে। তুমি হাসি মুখে সব মেনে তবু নিলে কষ্টকর এ সংসারে, আমরা তোমায় কখনো সুখ তো দিইনি দুঃখে ব্যথিত অন্তরে। মা গো এখন ছবি তুমি আমার হৃদয়ে একলা কাঁদে মন, বুকে থাকে তোমার স্মৃতি পড়ে যা মনে সদাই ক্ষণে ক্ষণে।  ==================

কবিতা ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

নারী বিষয়ক  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  তুমি কি কেবলই মা, নাকি কারো মেয়ে বা কারো বন্ধু!  আজ থেকে তুমি তাই রমা, কখনো চন্ডী কখনো শ্যামা। তোমার জন্ম নারীর কোলে তাই আজো সভ্যতা দোলে নিজের সকল কষ্ট ভুলে  সবার জন্য লড়েই গেলে। নও শুধুই সবার আশা হাতের মুঠোয় ভালবাসা  রাগ, অভিমান পুষে মনে সাজাও জগতকে যতনে। তুমিও আর ক'রো না ক্ষমা সভ্যতার মুখে ঘষো ঝামা নরম শিরদাঁড়া সোজা করে  দাঁড়াও আজ শক্ত শরীরে।

কবিতা ।। সাইফুল ইসলাম

আমার নারী সাইফুল ইসলাম ==================   আমার নারী শুধু কী মা            অর্ধাঙ্গিনীও বটে - আমার নারী আদরের বোন            ফুল হয়ে সে ফোটে। আমার নারী বীরাঙ্গনা                 প্রকাশ্য সমরে- বীর নায়ক ধারণকারী                  রত্নময়ী জঠরে। আমার নারী ঘুঁটে লাগায়                 হেলে থাকা দেয়ালে, কোলের শিশু ঘুম পাড়াতে               গান করে খেয়ালে। আমার নারী রাত্রি জাগে               বসে রুগীর শিয়রে- মমতাময়ী মাতৃরুপে               স্নেহ আদর করে। শত্রু দমন করেন নারী                দুর্গা মাতা রূপে- আমার নারী সরস্বতী               নমন করি চুপে।     ---------------------     সাইফুল ইসলাম বর্দ্ধনপাড়া,প...

কবিতা ।। সোমা মজুমদার

আজ আমি মানুষ  সোমা মজুমদার আজ ৮ মার্চ  আজ আমি নারী  আজ আমি মানুষ  আজ আমি সব পারি, আজ আমি তোমার কবিতা, আজ আমি বক্তৃতা।  আজ আমি বীরাঙ্গনা, আমি সোনীতা,আমি কল্পনা, আমি মেরিকম... আজ আমি কিসে কম?  আজ তোমার স্বীকার করতে লজ্জা হয় না, সারাদিনের ক্লান্তির শেষে দরজায় যখন একগ্লাস জলের সাথে স্নিগ্ধ হাসি নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকি, তুমি কেমন প্রানবন্ত হয়ে উঠ। আজ তোমায় বলতে শুনি, আমি ছাড়া ঘরটা কেমন অগোছালো।  আমায় ছাড়া ভাল্লাগে না।  আমি তোমার অর্ধাঙ্গিনী।  পছন্দের মেনু থেকে, মশারী টা গুছিয়ে দেওয়া, আমায় ছাড়া নাকি ভাবা যায় না।  এমনকি গাড়ি থেকে বাড়ি, ট্রেন থেকে প্লেন সবি আমি চালাতে পারি।    আজ ৮ মার্চ  আজ আমি নারী, আজ আমি মানুষ  আজ তোমায় শুনলাম রবি কবির সুরে সুর মিলিয়ে বিধাতা কে প্রশ্ন করতে   'নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার হে বিধাতা '....   আসলে আজ ৮ মার্চ  আজ আমি মানুষ  কাল, হ্যাঁ কাল আমি নারী  আমার অন্তঃপরে বাড়ি  কাজের কথায় নাক গলাতে কেন আসি  সব কথায় কেবল করি বাড়াবাড়ি  ব...

কবিতা ।। সুকান্ত সেনগুপ্ত

  * নারী * সুকান্ত সেনগুপ্ত  মায়া-মমতা ও প্রেমের সূত্রে আগলিয়ে রাখ অন্তরে, কুঁড়েঘরকে নিকিয়ে ঝুকিয়ে করে তুলো তুমি মন্দিরে। নিজ জীবনের কষ্ট'কে ভুলে ঘরে আন সুখ শান্তি, কখনো জননী কখনো জায়া তোমার তো নাই ক্লান্তি! অশুভ শক্তির বিনাশ করো কখনো দৈত্যদলোনি, জগদ্ধাত্রী কখনো বা তুমি প্রেমিকের প্রিয় রমণী। গাছের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে ফুল ফুটিলে যেমন, সংসারে আসে সুখ-সমৃদ্ধি পড়িলে তোমার চরণ।            ------*----- (সুকান্ত সেনগুপ্ত। গ্র:+পো:- তিলুড়ী, জে: বাঁকুড়া, পিন- ৭২২১৫৩, ফো:/হো. ৯৭৩২১৩৪০৯১)  

কবিতা ।। অঞ্জনা দেব রায়

আমার প্রিয় নারী আশাপূর্ণা দেবী অঞ্জনা দেব রায় শতকোটি নারীর মধ্যে  তোমাকে চিনেছি বহুদূর থেকে  জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে  নারী জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র দিয়েছিলে তোমার কলমে প্রকাশিত হলো  নারী শক্তির অপার মহিমা । তোমারই লেখা নারী  প্রগতির ত্রয়ী উপন্যাসে  তিন প্রতিবাদী নারী চরিত্র চির উজ্জল , তোমার অদম্য সাহস সমস্ত তুচ্ছতাকে ভাসিয়ে নিয়ে  মহান স্রষ্টার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল তোমাকে,  তোমার লেখনি শক্তি সাহিত্যের অঙ্গনে মহারানীর মর্যাদায়  তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল,  তুমি হলে সেই নারী জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র    আমার প্রিয় নারী আশাপূর্ণা দেবী ।    ===================  

ছড়া ।। মেহেদি হাসান

বাঁচবো মিলেমিশে মেহেদি হাসান শুনো সবে দিতে শিখো নারীর অধিকার, এই সমাজে আমরাও চাই আপন স্বাধিকার। আমি নারী লড়তে জানি চলতে পারি একা, বদলে দিতে আমিও পারি নষ্ট প্রথার রেখা। ভালোবাসা আমার মাঝেই প্রিয়ার বেশে খুঁজো, মায়ের ছাঁয়া বোনের মায়া আমার নীড়েই বুঝো।  তবে কেন দূরে ঠেলো  জড়াও ভালোবেসে, দাও অধিকার চাই স্বাধিকার বাঁচবো মিলেমিশে। -------------    মেহেদি হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়া,বাংলাদেশ 

কবিতা ।। মধুমালা বিশ্বাস

সতীর সেকাল- একাল মধুমালা বিশ্বাস  সতী সেদিন‌ও গিয়েছিল শিবের ঘর ছেড়ে প্রজাপতি দক্ষের ঘরে।  সেদিন‌ও সতী ফিরে আসেনি শিবের ঘরে আজ‌ও আসে না ফিরে। অপমান, লাঞ্ছনা, কটুক্তি সেদিন‌ও শুনেছিল আজ‌ও কত সতী পুড়ে শিব ও দক্ষের বিবাদে। পুড়ে শেষ হলে কেউ বুছেনা, শুধু আগুন জ্বলে অবশেষে ছাই হয়ে পড়ে থাকে।           ------×------  মধুমালা বিশ্বাস গ্রাম+পোস্ট- মেটেলী জেলা- জলপাইগুড়ি পিন- ৭৩৫২২৩

কবিতা ।। শুভ্রা ভট্টাচার্য

 নিজেরে করো সম্মান শুভ্রা ভট্টাচার্য নারী, নেই কেনো তোমার সতত কোন আধার! জলের মতো যখন যেমন তখনি তেমন আকার! এই আছ ভাটায় আবার কখনো দেখি জোয়ারে যে যার খুশি নাচায় বুঝি দোদুল্যমান তোমারে! তাই কখনো দেখি বেশ আছো তুমি "বোসে" আবার হাসি মুখে এই আছো বুঝি "ঘোষে", তুমি বাবার দুলালী, কখনো স্বামীর ঘরনী তুমিই আবার সর্বংসহা, সন্তানের জননী, তোমার তিনটি দশা - কন্যা জায়া মাতা নিজস্বতা বিকিয়ে তুমি সর্বত্যাগী দাতা। সত্যিই নেইকো তোমার ঋজুতা দৃঢ় ব্যক্তিসত্ত্বা! বোকার হদ্দ তুমি, বড্ড অভাব সুক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা! সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমায় ঘিরে কত ব্যঙ্গ মজা সেই মজাতেই সামিল হয়ে​ ভাবছো তুমি রাজা! বুঝেও কেন বোঝনা নিজ সত্তার অবজ্ঞা অপমান! দীপ্তকণ্ঠে করো রক্ষা অন্তঃ-প্রজাতির মানসম্মান, নারী হতেই সৃষ্টি এ সত্যকে অন্তরে করো স্বীকার নিজের অস্তিত্বের সৌন্দর্যায়নে কঠিন অঙ্গীকার। পুঞ্জিত ব্যথার বিষ উদগিরণে নারীতে অসহিষ্ণুতা পুরুষের আস্ফালনের সহিত নীরব সমঝোতা! যত দ্বন্দ লড়াই শুধু নিজ প্রজাতির সনে করো! বোঝো না আত্মপ্রতিষ্ঠার লড়াইটা কত বড়ো! চিত্তের দূর্বলতায় ভেবোনা তুমি অসহায় বিপন্ন অন্যের বলিপ্রদত...

কবিতা ।। সৌরভ ব্যানার্জ্জী

এই সমাজে নারী সৌরভ ব্যানার্জ্জী জন্ম তোমার গর্ভে আমার জীবন দান মুক্ত প্রাণ, ধ্বংস-ছিন্ন-লুপ্তি ঘটছে তোমার দ্বারা শোকের গান। হাঁটতে শিখেছো, চলতে শিখেছো আমিই সেই অবলম্বন; কামনার মোহ লোভী পরায়ন অসূচী শরীরে সূচীত মন। কাল যে শরীরে চাহিদা মিটেছে তৃপ্ত হয়েছে শিশুর পেট, আজ সে শরীর ভ্রষ্টা হয়েছে, হয়েছে শুধু কৃপার ভেট। ক্ষুদ্ধ কাঙাল আঘাত হেনেছে আহত হয়েছে সেই অতীত; মিথ্যা জগৎ,মিথ্যা সমাজ শূন্য স্বপ্ন,শূন্য মিথ। দিবা-রাত্রি এক করে যে জুটিয়েছে তার পেটের ভাত, বেইমান সব পশুর জাত, মারতে তাদেরও কাঁপেনি হাত। যুক্তি-তর্ক বিফলে যাবে গলা ফাটিয়ে হবে সারা, দেশের মানুষ শক্তিশালী ভাঙছে নিজেরই শিরদাঁড়া। বস্ত্রহীন করেছো তাদের রেখেছো করে নিরাকার, শিক্ষিত এই সমাজে এখন সতীত্ব রাখা ভার।   ===========     সৌরভ ব্যানার্জ্জী বি/৩৭ লেক গার্ডেন্স,কোল-৩৩

কবিতা ।। সুজিত কুমার মালিক

নারী, তুমি দশভুজা অগ্নিপরীক্ষার অপমানের দহন শীতল করেছে বিভাজিত ধরণী। পাশার দানে পরাজয়ের গ্লানি বস্ত্রহরণের উল্লাসে মাতে! সহমরণের সতীত্ব লাভে খোল-করতাল কান্না ঢাকে, বিপত্নীক নাকি ভাগ্যবান, তারক সাজে বরের বেশে। ভালোবাসার আশ্চর্যতম সৌধে জল রঙে বেদনার চিত্র। লালসার শিকারি হয়ে পুড়ে  প্রহসনি সমাজ বেআব্রু হয়। যুগ হতে যুগান্তরে তুমি শোষিত, লাঞ্ছিত, অপমানিত। তবুও তুমি জন্মদাত্রী! অসুর নাশে দানবদলনি, রক্ষা কালে বিপদতারিণী। যম দুয়ারে কাঁটা বিছিয়ে ভাইয়ের কপালে বিজয় তিলক। জহরব্রতে বাঁচাও পরিবারের মান, মাতঙ্গিনী হয়ে উড়িয়ে দাও নিশান। বিরহী প্রেমিকা তুমি অন্তঃপুরে, স্বপ্নের আলপনা তোমার হৃদয় জুড়ে। নারী-তুমি দশভুজা, তুমিই অর্ধ-জগৎ। ================== সুজিত কুমার মালিক গ্রা: মইখণ্ড, পো: হেলান আরামবাগ, হুগলী পিন:৭১২৪১২ মোঃ৯৬৩৫৪২৪৬২

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

শ্রমিক বিষয়ক হাইকুগুচ্ছ ।। বাসুদেব সরকার

শ্রমিক বিষয়ক হাইকুগুচ্ছ  বাসুদেব সরকার  শ্রমিক তারা শ্রম বেচে জীবন চালায় যারা  করছে কর্ম  কাজ করা হলো যে  শ্রমিকধর্ম।  শ্রমিক খাটে কলকারখানা ও  অফিস-মাঠে  মজুরি কম শ্রমিক করে তবু  কায়িকশ্রম  প্রতি দিবসে  শ্রমিক করে কাজ নেইকো বসে  ঝরছে ঘাম পায় না শ্রমিকেরা শ্রমের দাম  মালিকপক্ষ  শ্রমিকের মজুরি ঠকানো লক্ষ্য  মে দিবসের ডাকে সকলে আজ  জেগেছে ফের  =============== ◾বাসুদেব সরকার, পেশা: শিক্ষক  চরভৈরবী, হাইমচর, চাঁদপুর, বাংলাদেশ। 

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬