মানবজীবনের সৃজনশীলতা অনন্তকুমার করণ শাস্ত্রে বলে মানবজন্ম দুর্লভ। কোটি কোটি জন্ম অতিক্রম করে জীব বিবর্তনের পথ ধরে মানব জন্ম পায়। শাস্ত্র না মানতেও পারি। সীমিত ইন্দ্রিয়শক্তি দিয়ে ঈশ্বরের উপলব্ধি সম্ভব নয়। মনে হতে পারে, পূণর্জন্ম, পরলোক, আত্মার অস্তিত্ব, ঈশ্বর ইত্যাদি সবই ধোঁয়াশা। এইসব জটিল বিষয় না ভেবে সৃজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে জীবনকে দেখা যাক। আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন, মৌল মানবসত্ত্বা, বুদ্ধিবৃত্তি,পরিবেশ, সমাজ, স্বাস্থ্য, কল্যান এবং রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক জীবন, দার্শনিক ও ধর্মীয় জীবন এবং প্রেম ও বিবেক ইত্যাদির উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করলে কি আনন্দ ও আলোয় আমরা উদ্ভাসিত হতে পারবো না? এই স্পন্দন কি ঈশ্বর লাভের সহায়ক নয়? মানুষ মননশীল প্রাণী, অশন, বসন, যৌন-আচরন-সবক্ষেত্রেই তার আলাদা মর্যাদা, রকমফের ও নিয়ম-কানুন আছে। প্রত্যেকটি জীবন সত্ত্বার সঙ্গে তার পরিবেশ অবিচ্ছেদ্য। আমার মধ্যে সব না, সবার মধ্যে আমি? সেই তো তুমি, তুমিও তো সে!! দেহ আর মন-দুটোকেই একসাথে ধরে রাখে জী...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...