Skip to main content

Posts

কবিতা ।। মেয়েটির মৃত্যু দেখে ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য

মেয়েটির মৃত্যু দেখে  তুষার ভট্টাচাৰ্য  এই মৃত্যু উপত্যকায় রাত দুপুরে নিরীহ  অসহায় মেয়েটির হাড় হিম নৃশংস    মৃত্যু দেখে যদি প্রতিবাদে না নামো আজ  রাস্তায় পথে পথে তবে বুঝে নেবো সুবিধাবাদী  তোমার     মেরুদন্ড    বিকিয়ে     গেছে কবেই    শাসকের কাছে    ; যদি আজ না নামো রাস্তায় l ============ তুষার ভট্টাচাৰ্য l কাশিমবাজার l বহরমপুর l মুর্শিদাবাদ l

কবিতা ।। অন্ধকারের আলো ।। বিবেকানন্দ নস্কর

অন্ধকার ের  আলো বিবেকানন্দ নস্কর অন্ধকার  ডেকেছে তোমায় অন্ধ স্রোতে ভেসে যাও আঁধার পৃথিবী  এঁকেছো  এভাবে ? অন্ধ হয়েছো মোহে অন্ধ কারাগারে নত মনুষ্যত্বের ছবি হা জির জিরে কালসিটে মুখ ! আমাদের পৃথিবী এত  আলো  মাখা তার পিঠে কালি দিয়ে আমরা এঁকেছি  অন্ধকার   ! অন্ধ মুনির উপাসনাতে থাকে  আলো অন্ধ পথের দু পাশে  আলো র সারি আড়ালে লুকিয়ে কাঁদে  ! আদিম  অন্ধকার ের জীব খুঁজেছো কি  অন্ধকার ের  আলো অন্ধ রাতেই জ্বলে ওঠে দীপ । ================ বিবেকানন্দ নস্কর সন্তোষপুর ফলতা দক্ষিণ ২৪ পরগনা পিন ৭৪৩৫০৩

কবিতা ।। ঘোষণা ।। প্রতীক মিত্র

ঘোষণা  প্রতীক মিত্র হুমকি যত বাড়তে থাকবে ফুলকি তত ছড়াতে থাকবে এদিক ওদিক সবদিকে। তুমি বরং মাপতে থাকো জল রাস্তায় সাধারণের ঢল উঁচু ছাদের কার্নিশে ঝুঁকে। নিভবে না এ আগুন যতদিন না মিলছে বিচার, মৃত জাতি জেগেছে কি দারুণ  এটাই তো ছিল হওয়ার। দর কষাকষি ছেড়ে মিথ্যের শহরে আয়নায় মুখ দেখে জানিয়ে দিই নিজের পরিচয় আশাবাদেরই আলো চোখে। যে যেদিক থেকে আসুক মিলবে পথ একই অভিমুখে। পা যতটা পথই হাঁটুক এ বিবেকে নেই কোনো অসুখ। হুমকি যত বাড়তে থাকবে ফুলকি তত ছড়াতে থাকবে এদিক ওদিক সবদিকে। ============== প্রতীক মিত্র, কোন্নগর, পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। অপেক্ষায় ।। রণেশ রায়

অপেক্ষায় রণেশ রায়  নিশি ডেকে বেড়ায়  চোখ বন্ধ রাতে, ঘুম হারায়,  কার যেন পদধ্বনি শুনি----  কোন এক নীরবতা জানায়, কথা বলে আমার অশরীরি বেটি  অভয়া বা নির্ভয়া বা তিলোত্তমা  বা ওই আদিবাসী মেয়েটি---   সুপ্ত নারীশক্তির জাগরণ, ওদের বুকে ত্রাস ছড়ায় নতুন দিনের দিশা দেখায়  অন্ধকার  পথে  আলো  ছড়ায়, ছিনিয়ে নেয় চলার  অন্ধকার  পথ,  লক্ষ্য কোটি মানুষের গর্জন জ্বলে ওঠে মশাল  রাতের আঁধারে ঊষার আগমন। চোখে উজ্জ্বল সকাল, আমি বসি উঠে  অপেক্ষায় থাকি কখন সূর্য ওঠে।

কবিতা ।। গ্লানি ।। সুজন দাশ

গ্লানি  সুজন দাশ  কতটা ক্ষমতা থাকলে ওদের উপেক্ষা করে জনতার দাবি ,  জনগণ বুঝি জেনে গেছে সব?  কার কাছে আছে ক্ষমতার চাবি!  জানে ওরা জানে বিচার করলে  থলের বিড়াল ডাক দেবে মিউ,  বাঁচাচ্ছে তাই সন্দেহ নাই  দেয় না পাত্তা পাবলিক ভিউ।  আগুন জ্বালালে জনতার মনে  নিস্তার নেই এটা মনে রেখো,  দাবানল হয়ে জ্বলে ধিকিধিকি  না শিখলে তাহা দেখে শুনে শেখো।  আর জি করের অভয়া তুমি  ভেবো না জননী হবে না বিচার,  বেরিয়ে আসবে পশুদের নাম  ফুটবে কলমে ঠিকই ফিচার।  আমরা রেখেছি চোখ চারিদিকে  ব্যর্থ হবে না বিচারের বাণী,  ক্ষমা চাই মাগো সবার পক্ষে  চাইনা আসুক এরকম গ্লানি। =================== সুজন দাশ  আটলান্টিক সিটি, নিউজার্সি,  যুক্তরাষ্ট্র।

কবিতা ।। বিনীত আবেদন ।। শংকর ব্রহ্ম

বিনীত আবেদন শংকর ব্রহ্ম ভাতা পাওয়া বুদ্ধিজীবী কোথায় আছ সব? দেশে যা আজ ঘটছে সেটা করছ অনুভব? ভাতাজীবী বুদ্ধিজীবী সব অন্ধ কালা হয়ে, রাজ্যে যা সব ঘটছে দেখবে না তা চেয়ে? ভাতায় লোভে চোখটি বুজে  মুখটি বুজে থেকে,  দলদাস করবে প্রমাণ সব কিছু আজ দেখে? বিবেক কোথায় হারিয়ে গেছে খোঁজ করে তা দেখ দু'এক ছত্র সুবিচার চেয়ে আজকে না হয় লেখ। ------------------------ SANKAR BRAHMA. 8/1, ASHUTOSH PALLY, P.O. - GARIA, Kolkata - 700 084 .

কবিতা ।। তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা ।। অশোক দাশ

তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা অশোক দাশ তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা,  চোখ ফেটে তোর রক্ত ঝরে                    ক্ষতবিক্ষত শরীর, হায়নার  দল  খুবলে খেলো  স্বপ্নের  কুঁড়ি  ছিঁড়ে   নিলো নিলো কেড়ে তাজা ফুটফুটে প্রাণ। তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা               বুকে অযুত বল,  দুর্জনের দুর্নীতি ভ্রষ্টাচারের     ভেঙেছিলিস সুখের ঘর। স্বপ্ন  চোখে  সেবার   মন্ত্র              কর্তব্যে  অবিচল,  বাঁচতে তাই দিলো না তোকে  জেনেছিলিস ওদের কু কীর্তির মতলব।  তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা  আগুন রাঙা পলাশ কৃষ্ণচূড়া, সারা ভুবন একটাই দাবি জাস্টিস                             রাত দখল ধরনা। তোর   যন্ত্রণার  আর্তনাদ  কোটি  কন্ঠে  অগ্নি-স্বর, ঘৃণার বারুদে জ্বলে ক্রোধ        ধিক্কার ধর্ষক...

কবিতা ।। শোক সন্তাপের দুর্গা ।। সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

শোক সন্তাপের দুর্গা সুদামকৃষ্ণ মন্ডল আমার দুর্গা হারিয়ে গেছে শোক বিহ্বল রাতে ফিরবে না সে আর কোনওদিন শরৎ শিউলি প্রাতে ঘরে বাইরে কুমারী প্রতিমা  রাস্তায় ট্রেনে বসে বারো মাসে দিনে রাতে হাঁটছে উষ্ণ শ্বাসে হায়না শেয়ালে রক্ত চাটে শকুনে খায় মাংস নারীর মাংস ওদের প্রিয় মাতৃ নিধনে অংশ রক্তেও ঘামে শহর গ্রাম মিছিলে আমজনতা মোমের বাতি জ্বলছে মৃদু শাসক মুখে ভণিতা রক্ষক দলে ভক্ষক ভিড়ে গদি দখলে হুমকি সাধুর বেশে শয়তান ঘুরে নয়তো বিষয় ঠুনকি চোখের জলে প্লাবন আসে কন্যার পিতা কাঁদছি কন্যা  হারানোর বিষম ব্যথায় সন্তাপে  মুষড়ে  আছি ================== সুদামকৃষ্ণ মন্ডল গ্রাম: পুরন্দর পুর (অক্ষয় নগর) পোস্ট : অক্ষয় নগর থানা : কাকদ্বীপ জেলা : দঃ চব্বিশ পরগণা

কবিতা ।। মেয়েদের স্বাধীনতা চাই ।। সুনীপা শী

মেয়েদের স্বাধীনতা চাই  সুনীপা শী আসিসনে মা মর্তে এবার,  আসিস নে মা আমাদের মাঝে। ভয় যে হয় তোকে ও নিয়ে, দানব দের কু নজরে পরিস নে যেনো তুই ও। স্বর্গ লোকে করেছিস তুই অসুর দমন। মর্ত লোকে করবে কে অসুর নিধন?  জনগণ আজ রাস্তায় নেমে করছে আন্দোলন।  দলে দলে এক হয়ে চাই ছে বিচার।  চাই ছে মেয়েদের নিরাপত্তা,স্বাধীনতা। জনগণের মাথার উপর বসে যারা, তাদের আন্দোলনের ডাক যায় না শোনা।  তাদের কাছে ধর্ষিতা মেয়েদের দাম - মাত্র দশ লক্ষ টাকা। তারা তো জনগণের মুখ বন্ধ করতে চাই।  চাই, জনগণ কে আড়াল করতে। লক্ষীর ভান্ডার আছে,  অথচ ,লক্ষীদের নিরাপত্তা নেই।  কন্যাশী, রুপশী এমন কি -  বছর বছর - তুই মা আসবি বলে, মণ্ডপে মণ্ডপে হাজার হাজার টাকা দিচ্ছে । চাই না আমরা অমন টাকা। চাই না অমন টাকায় মণ্ডপ সাজিয়ে-  তোকে সজ্জিত করতে। ভয় যে হয় দানব দের চোখে , তুই যেনো না -পরিস মা । তুই যেনো না পরিস । ===================== নাম-সুনীপা শী গ্রাম -মামুদপুর থানা -ফলতা পোষ্ট- রাজারামপুর জেলা -দক্ষিণ ২৪পরগনার 

কবিতা ।। গর্জে ওঠো এবার ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

গর্জে ওঠো এবার  সঞ্জয় বৈরাগ্য  বিচার চাই, বিচার চাই বলে, আর আবেদন নয়, নয় কোনো প্রার্থনা  ওগো নারী, এবার তোমরা গর্জে ওঠো! মোমবাতিগুলো নিভিয়ে দিয়ে, জ্বালো এবার, মশাল জ্বালো। প্রভাবশালী, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে  গর্জে ওঠো, আওয়াজ তোলো। তুমি তো সেই নারী, দশ হাতে, দশটি অস্ত্র নিয়ে বধিলে  মহিষাসুর, শুম্ভ-নিশুম্ভ আর রক্তবীজের দল, তবে আজ কেন ঘুমিয়ে তুমি! আর কতদিন, কতদিন আর, থাকবে তোমরা চুপ? করো প্রতিবাদ, ওঠো গর্জে আমরাও আছি তোমাদের সাথে; আজকে যদি গর্জে না ওঠো, তবে তোমার রক্তে, তোমার যন্ত্রণা'য়  ঐ নরপিশাচদের হবে জয়! ============= ✏️ সঞ্জয় বৈরাগ্য   কৃষ্ণনগর , নদীয়া ।

কবিতা ।। ভবিতব্য ।। জীবন সরখেল

ভবিতব্য জীবন সরখেল ছল চাতুরী নকল সাজে  বাগালেও শিরোপা  মুখোশ খুলে হবেই একদিন  মিথ্যের দফারফা! সবাই জেনে বুঝে আপনার কদর্য চরিত্র  নামটাও মুখে নেবে না কেউ  ঘৃণায় হবে ক্ষিপ্ত! দেরি হলেও সত্যের জয়  সময়ের অপেক্ষা ভুলবেই মেকি অবদান সব অভিনয় আর ভিক্ষা!  মানুষ বাঁচুক খেলুক হাসুক শুভবোদ্ধা তাই চায় শোষণ ক্ষমতা দম্ভে কেউ  শ্রদ্ধা সম্মান কী পায়?  _________________ জীবন সরখেল, বাঁকুড়া, ভারত। 

কবিতা ।। ঘুমিয়েই থাকবে? ।। মনোরঞ্জন ঘোষাল

ঘুমিয়েই থাকবে? মনোরঞ্জন ঘোষাল ঘুমিয়ে কি থাকবে চিরকাল? মানুষ! কুম্ভকর্ণ রাক্ষস সেও ঘুমিয়ে থাকত; ছয় মাস অত‍্যাচারের সাম্রাজ্য ঘিরে দমন নীতি। স্বাধীনতা হরণ করে দমিয়ে রাখা যায়? তারা ছিল ইংরেজ বিভেদী মানুষ লোভ লালসায় সম্পর্কে ধরেছে ছেদ জন্ম দিয়েছে শোষণ দমন বিচ্ছেদ। আর কত কাল? কত কাল সইবে বল শুধু বদল নয়, বদলাও চাই যত পাকা হাত কলুষিত মন আর দুষ্টু বুদ্ধি আর নেই দরকার; হোক সংস্কার  চলে যাক সব মর্গে; ফেলে দাও আবর্জনার দলে নতুন সূর্য উদয় হোক নতুন এক ভোরে। যদি দেখ বেগতিক তার; তবে থাকবে না সেও শেকড় গেড়ে বট বৃক্ষের মত যুগ থেকে যুগ পেরিয়ে যেতে দেবেনা তারে ধরণীর যেন বোঝা হয়ে সে না রয় জয়ী হয়ে চিরকাল অন‍্যায় সমরে। ================= মনোরঞ্জন ঘোষাল আত্মারামপুর পশ্চিম রামেশ্বর পুর বজ বজ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা পিন 700140

কবিতা ।। লিখতে পারো ।। নীলমাধব প্রামাণিক

লিখতে পারো নীলমাধব প্রামাণিক সত্যি তুমি লিখতে পারো পারোই তুমি লিখতে তাই গিলতে হবে যতোই সে হোক অস্বস্তিকর যাচ্ছেতাই । সত্যি সত্যি লিখতে পারো টেনেই সে সব প্রসঙ্গ লিখতে সবার হয়না সাহস হবেন শেষে অনঙ্গ  ? সত্যি কি আর লিখতে পারো কেবল শুধু যাও বলে ঘটতে থাকা দৃশ্যাবলি চোখের সামনে জ্বলজ্বলে । সত্যি সত্যি লিখতে বসে হিজিবিজি ভ্যানতাড়ায় সময় কাটে ঠাটবাটে আর তফাৎ বাড়ে শিরদাঁড়ায় । মিথ্যে না হোক ফলিয়ে যদি বলিয়ে হন নামকরা সত্যি ভীষণ বিখ্যাত লোক ভীতরে বেশ ঘুণধরা । সত্যি তুমি লিখতে পারো বলতে পারো যা ইচ্ছে মিথ্যে কেবল মানুষ হলে গুরুত্ব আর কে দিচ্ছে । -------- নীলমাধব প্রামাণিক কিসমত মাধব নগর (ধোপাহাট) ডাক- পূর্ব চাঁদপুর, মন্দির বাজার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ডাক সূচক-  ৭৪৩৩৩৬

কবিতা ।। একটু শান্তির খোঁজে ।। দীপক পাল

একটু শান্তির খোঁজে দীপক পাল তোমাদের নিয়ে এবার বিবেকের       ডাক এসেছে আমাদের মননে তোমরা এক এক জন চিকিৎসক,       অবশ্য কেউ কেউ বলে ভগবান, কত আশা কত স্বপ্ন নিয়ে       হয়েছ এক এক জন ডাক্তার। মানব সেবার শপথ নিয়ে        করবে সব রোগের সমাধান। মূমূর্ষ রুগীর চিকিৎসা করে        পেয়েছ কত আনন্দ, চোখে জল আনে তখন যখন       সুস্থ হয়ে ভরে তোলে আশীর্বাদে। কত সন্মান পাও মানুষের       পাও যে কত শ্রদ্ধা তাদের কাছে, অতি উৎসাহে করে যাও রুগীর সেবা       বেডের পর বেড অতি নির্বিবাদে। কিন্তু এত নিঃস্বার্থ সেবার কাজ বিঘ্নিত হয়       কিছু দুর্নীতিপরায়ন মানুষের জন্য। হিংস্র পশুরা যেমন তার শিকার ধরে       তার মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়, এরাও কেউ কেউ রাতের আঁধারে       নারী সঙ্গে পেতে চায়। অন্ধকারে নীর্জন পথে চলে তারা        বিষাক্ত হিংস্র শ্বাপদের মত সুযোগ খুঁজে বেড়ায় প্রতিবাদীদেরকে       খুন  কর...

কবিতা ।। গণতন্ত্রের পরিহাস ।। মোহিত ব্যাপারী

  গণতন্ত্রের পরিহাস  মোহিত ব্যাপারী  মরছে মানুষ মারছে মানুষ। চলছে খেলা গণতন্ত্রের। বন্দুকের গুলি আর বোমার শব্দে বুক কেঁপে ওঠে। আকাশে বাতাসে গণতন্ত্রের জয় ধ্বনিত হয়। মাইকের স্বরে জননেতার কন্ঠ চড়ে। মাথা নষ্ট হয় সাধারণ মানুষের। গণতন্ত্র গণতন্ত্র গণতন্ত্র। চিৎকার চেঁচামেচি। গণতন্ত্রের নামে শুধুই প্রহসন দেখি। যে জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না তারাই গনতন্ত্রের ভিত্তি। যে জনগণ ভাইয়ের গলা টিপে ধরে তারাই গণতন্ত্রের খুঁটি। একটা বাংলা মদের বিনিময়ে যারা নিজের ভোট বেঁচে দেয়,  তারাই শেষ কথা বলে। দুর্ভাগ্যের এখানেই শেষ নয়। দেশ মানে যার কাছে অস্পষ্ট ভূখণ্ড, সরকার মানে যার কাছে দু'কেজি আটা পাঁচ কেজি চাল, তারাই সরকার নির্বাচন করে। একে একে ভোট দিতে যায়। ব্যালট পেপারটা বুক পকেটে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। উৎকোচ নিয়ে ভোট দেয় যারা তারাই আবার আশা রাখে, ঠিক পথে হাঁটবে সরকার। মরছে মানুষ মারছে মানুষ। চলছে বোমা গুলির লড়াই। রাজনীতির ময়দানে স্বজন দুর্জন হয়। আর নেতারা সব এক টেবিলে চুমুক দেয়। গণতন্ত্র গণতন্ত্র গণতন্ত্র। অকারণ চিল চিৎকার। গণতন্ত্রের নামে শুধুই প্রহসন। পেটে খিদে নিয়ে খালি পায়ে মানুষ চায়...

কবিতা ।। বিচার চেয়ে যাব ।। শঙ্খ চক্রবর্তী

বিচার চেয়ে যাব   শঙ্খ চক্রবর্তী   তুমি আমায় গন্ধ দিয়ে যেও।  আমি পরাগরেণু হব।  মাটির গায়ে ছড়িয়ে পড়ে জোরসে বিচার চাব।  বিচার যদি না মেলে তবে হাওয়ায় উড়ে যাব।  নতুন দেশের নতুন ফুলের গর্ভমুণ্ডে মিশে,  নতুন রঙের নতুন গানের নতুন  ফুল ফোটাব।  পাওয়া যত অবিচারের, কথা যত অন্ধকারের, সবই ভুলে যাব।  আমি পরাগরেণু হব।  তুমি বৃষ্টি দিয়ে যেও,  এই মাটিতেই আবার জন্ম লব।  মাটির বুকে ফসল হয়ে, কখনো সোনার রোদ্রু হয়ে, আবার বিচার চাব। তুমি আমায় হৃদয়ে ধরে রেখো।  আমি তোমার গান গাব। এমনভাবেই প্রতিকালে বিচার চেয়ে যাব।  ======================= শঙ্খ চক্রবর্তী ১৭৪, পূর্ব সিঁথি বাই লেন,  রাধারমণ প্লাজা, ফোরথ ফ্লোর, ফ্ল্যাট ফোর এ, দমদম, কোলকাতা।

কবিতা ।। অপেক্ষায় ।। রণেশ রায়

অপেক্ষায় রণেশ রায়  নিশি ডেকে বেড়ায়  চোখ বন্ধ রাতে, ঘুম হারায়,  কার যেন পদধ্বনি শুনি----  কোন এক নীরবতা জানায়, কথা বলে আমার অশরীরি বেটি  অভয়া বা নির্ভয়া বা তিলোত্তমা  বা ওই আদিবাসী মেয়েটি---   সুপ্ত নারীশক্তির জাগরণ, ওদের বুকে ত্রাস ছড়ায় নতুন দিনের দিশা দেখায়  অন্ধকার পথে আলো ছড়ায়, ছিনিয়ে নেয় চলার অন্ধকার পথ,  লক্ষ্য কোটি মানুষের গর্জন জ্বলে ওঠে মশাল  রাতের আঁধারে ঊষার আগমন। চোখে উজ্জ্বল সকাল, আমি বসি উঠে  অপেক্ষায় থাকি কখন সূর্য ওঠে। ===========

কবিতা ।। মেয়ে ডাক্তার খুঁজিস না আর ।। প্রবীর বারিক

মেয়ে ডাক্তার খুঁজিস না আর  প্রবীর বারিক  "মা মাগো আমি দেশসেবা করব বীর দেশপ্রেমিকের মতো  দরিদ্র আর্তের জন্য উৎসর্গ করব ঘুচিয়ে দেব সকল জ্বালা ক্ষত।" ছোট্ট মেয়ের জীবনাদর্শে মা আপ্লুত "তোর স্বপ্ন সার্থক হোক মামি" মা একগাল হেসে বুকে টেনে নেয় "মৌ তুই আমাদের জীবনে সবচেয়ে দামি"। বইয়ের পাতায় বুঁদ হয়ে কঠোর সংগ্রাম  জীবনে এমন কিছু করতে হবে যা মানুষকে ভগবানতুল্য করে দেয় মেয়ে হয়েও টেক্কা দেবে সবে। দিনরাত এক করে ঈশ্বর হওয়ার সাধনায়  সর্বপ্রকার স্বাধীনতা ছিল তার পিতা কখনও আক্ষেপ করে না "মেয়ে হয়েছে আমার"। বরং আদর যত্ন ত্যাগ তিতিক্ষা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন মানব সেবক ডাক্তার হতে হবে আপোষহীন স্বপ্নের লেনদেন। নারী পুরুষ সমানাধিকার এক বিংশের বাণী তিলোত্তমাও টের পেয়েছে কত সম্মানহানি। ভগবানরূপে সেবা করে যায়  বিনিদ্র রাত্রি সেমিনার হলে চোখ ঢলে যায় মৃত্যুপথের যাত্রী। নর পিশাচ পাষণ্ড ধর্ষক মদ্যপ ক্ষুধার্ত হায়না  চুল থেকে নখ সর্বাঙ্গ রক্তস্নাত আয়না। সমাজ বিরোধী অমানুষেরা আজ দাপায় যত্রতত্র ওরা হল এক দানব নেই তাদের কোন গোত্র। সভ্য সমাজ বুদ্ধিজীবী বিক্রি হয়...

কবিতা ।। তিলোত্তমা ।। শম্পা পাত্র

তিলোত্তমা শম্পা পাত্র  হে অভয়া কাদম্বিনী তিলোত্তমা তুমি প্রতিবাদের পথ দেখলে আমার বঙ্গভূমি। মৃত্যু আজি পরাজিত তোমার রুদ্র রূপে কত শত নর নারী  জ্বলছে মশাল ধূপে। সভ্য সমাজ মুখোশ পরে  করে রক্তের খেলা নগ্নতার ঘোর বহিঃপ্রকাশ সহনের শেষ বেলা। বিচারের দাবি সবার মুখে হৃদয় বহ্নিশিখা দোষীদের আর নয় গো ক্ষমা  ফাঁসি হোক তার টিকা। লোক সমাবেশ সড়ক জুড়ে সিংহ সম গর্জন অত্যাচারী মূষিক গর্তে  কুর্শি করে বর্জন। =========== 

কবিতা ।। আসিস না মা ।। প্রিশিতা পরী

আসিস না মা প্রিশিতা পরী  এই বাংলায় আসিস না মা কৈলাস ধামেই থাক তুই যারা তোকে একহাতে পুজো করে তারাই অন্য হাতে জ্যান্ত্দুর্গা নিধন করে। তোর জন্য তাই আর কাশফুল হাসে না মহালয়ার সুরও বিষন্নতায় পূর্ণ হয়েছে কুমোরটুলিতে তোর মৃন্ময়ী রূপ আর চিন্ময়ী নেই তোকে বরণ করার মতো মায়ের আঁচল নেই। তোর আগমনে নববস্ত্রে নবপুষ্পে ভরে উঠতো ধরা খুশির বীণার রাগ ছড়িয়ে পড়ত আকাশে বাতাসে সকল গ্লানি বেদনা ভুলে উৎসবে মত্ত হতো বাঙালি যে হাত তোর পাদস্পর্শ করতো সে আজ কলঙ্কিত। ফিতে কেটে যে তোর আবাহন দিত মুখোশের আড়ালে সেই খুনের কান্ডারী ধর্ষকের মুখ বাঁচাতে ন্যায়ালয়ে হাজির বাঙালি হয়ে আমরা লজ্জিত। যে শারদোৎসব বাংলার ঐতিহ্য মাতৃশক্তির আরাধনা হত প্রতিটি ঘরে সে আজ মুহ্যমান তাসের ঘরের মতো ভগ্ন গগন বিদারী আর্তনাদে মানুষ আজ ঘুমহীন। ================

ছড়া ।। শিরদাঁড়া ।। প্রনীল মাধব

শিরদাঁড়া প্রনীল মাধব শিরদাঁড়াটা কোথায় গেল পাই না খুঁজে ভাইরে  সাধারণের মিছিল দেখে ভয়ে মরে যাইরে । পদলেহল করে করে থাকি সদাই নিচে মাথা তুলে দাঁড়াবো কি বিবেক বুদ্ধি মিছে। কেমন করে নামবো পথে প্রতিবাদের ভিড়ে তাবেদারি না করে যে ভিজে না মোর চিড়ে। বুদ্ধিজীবী ছিলাম ভালো সুটে বুটে কোটে  আজকে সবাই ধিক্কার দেয় রে আমার উপর চটে। শিরদাঁড়াহীন বাঁচবো না আর করছে খোকা শপথ না যদি আজ শুধরে যাই  আসবে ঘরে আপদ। ==========

ছড়া ।। জাস্টিস ।। সুজিত কুমার মালিক

  জাস্টিস সুজিত কুমার মালিক  ছুটছে গিমিক বাজছে রিমিক বুনছি লিরিক। আছি ভাতায় মিলছে খাতায় তলায় তলায়। নেই আর্জি  বড্ড পাজি সব কারসাজি। এসো উৎসবে, সব ভুলে যাবে বিচার পাবে! নেই অহংকার ছাড়বো চেয়ার ডোন্ট কেয়ার। মাতাল হাওয়া  পাল্টি খাওয়া চোখ সওয়া। শহীদ মিনার আর জি কার এক দাবি এক স্বর। ওহে মাস্টার একি ডাক্তার পাবে বিচার! =================   সুজিত কুমার মালিক  হেলান, আরামবাগ, হুগলী 

কবিতা ।। উৎসব ।। গীতা রাউথ

উৎসব গীতা রাউথ  কী উৎসব কোথায় হবে জানো কি তার দেশ মহালয়ার গান বাজবে আগমনীর রেশ। মাতবে কারা হই হুল্লোড় নব পোশাক পরে বোধ বুদ্ধি নেই যাদের শোষণ জালে মরে। যে কন্যাটা হাসতো সদা পিতামাতায় দেখে শুভ বিজয়া প্রণাম দিত সোহাগ রাশি মেখে। ফিরবেনা সে মায়ের কাছে শারদ প্রাতে কভু প্রতীক্ষায় প্রহর গুনে বিচার চাই তবু। প্রতিবাদী পা থেমে যাক না ধামা চাপায় রোষে বঙ্গদেশে অপরাধীরা নৃত্য করে জোশে। ===========

কবিতা ।। রণজয় ।। বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত

রণজয়  বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত  যা সুন্দর তা সুন্দর  তার ঘটে যাওয়া সর্বনাশে উজ্জ্বল নয় ফিকে হতে হতে  হারিয়ে যায় সর্বনাশী মন কোথায় পালাবে তুমি সুমন!  পালাতে পালাতে ইতিহাস থেকে  কবে আর খুঁজে পাবে  জীবন! ওরা কারা তোমার জীবন থেকে সূক্ষ্মতায় কেড়ে নিতে চায় অধিকার! চুপ নয়, তোমার অস্ত্র আজও নির্ভয় পৌরাণিক চিৎকার।  আজন্ম রণজয়।           --০-- বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত  যশোহর রোড  অমরপল্লী, কোলকাতা-৭০০০৭৪ 

কবিতা ।। অবশিষ্ট কত কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

অবশিষ্ট কত কথা তীর্থঙ্কর সুমিত অবশিষ্ট কত কথা চাদরের মত জড়িয়ে আছে নদীর এপাড় থেকে ওপাড় বিস্তর ব্যবধান না এর ঘরে হ্যাঁ কথারা দাঁড়িয়ে ক্ষণিকে ক্ষণিকে মিশে যায় অবলুপ্তির প্রান্তরেখা তাইতো আজও পথে মিছিল কৃষ্ণচূড়া গাছে পাখি বসে নদী মেশে সাগরে আমি দাঁড়িয়ে থাকি গোধূলির রঙ গায়ে মাখবো বলে। ============= তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুন্ডু ব্রাহ্মণ পাড়া হুগলী  ৭১২১৩৯

গল্প ।। আলোকতীর্থ ।। সৌমেন মণ্ডল

আলোকতীর্থ   সৌমেন মণ্ডল   ( এক) রাঘব সরকার শিক্ষাদরদী মানুষ। শিক্ষক হয়েছেন , তবে এখনো পড়াশোনা ছাড়েননি। যখনই সময় পান বই নিয়ে বসেন। শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় তিনি রাজ্যে প্রথম হয়েছিলেন। চাইলে সুসজ্জিত শহরের কোনো স্কুলকে কর্মক্ষেত্র করতেই পারতেন। কিন্তু তাঁর সাধক মন বেছে নিয়েছে গ্রামের এক প্রত্যন্ত স্কুল। উদ্দেশ্য , আলোর সাধনা — মনের মতো কিছু মানুষ গড়া।       ছোট্ট একটা বাজার পেরিয়ে স্কুল। সবুজে শোভিত তার চত্বর। বিল্ডিংগুলি আয়তাকারে চতুর্দিক থেকে ঘিরে রেখেছে মধ্যবর্তী প্রাঙ্গনকে। প্রথম দিন এই স্কুলে ঢোকার মুখে রাঘববাবু নিজ আদর্শকে মনে মনে প্রণতি জানালেন। স্কুলে যোগ দিয়ে অফিসিয়াল আনুষ্ঠানিকতা ও সহকর্মীদের সাথে আলাপ সেরে শ্রেণিকক্ষে পড়াতে গেলেন। পড়াশুনায় দৈন্যতাকে উপলব্ধি করে মন প্রাণ দিয়ে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রমে তিনি শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে প্রস্ফুটিত করতে চাইলেন। কিন্তু যত সময় গড়াল ততই অভিজ্ঞতা অন্যরকম হতে লাগল। একদিন ক্লাস নাইনে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ' দাম ' পড়াচ্ছিলেন। গল্পের একটি বাক্য ছিল ' গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করা যায় না...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,