Skip to main content

Posts

কবিতা ।। এই মন ভালো নেই দিনে ।। সুপ্রভাত মেট্যা

এই মন ভাল নেই দিনে সুপ্রভাত মেট্যা  এই মন ভাল নেই দিনে  কোথাও কোনও রৌদ্র ফুটলে ভয় হয়!  মনে হয়, ওই বুঝি মেঘ এসে ঢেকে দিল চৈতন্য আমাদের!  আমাদের হারিয়ে যাওয়া বোধ থেকে  এই বুঝি জন্ম নিল রাক্ষুসে অন্ধকার।  সচেতন পাতা,  গাছের শাখায় শাখায় হাওয়ায় নত হয়ে, ঝুঁকে পড়লে,  দোষ তুমি কাকে দেবে বলো? এই প্রভাত, জ্ঞানের শিকড়ে বড় মাটির অভাব জানি।  জানি কিছু উর্বর মস্তিষ্কে এখনও গোবরের প্রলেপ দেওয়া আদিসারের অন্ধ কিছু বই লেখা আছে।  তোমাকে বলি শোন, অ্যাই ছেলে,  যদি আলো হতে চাও, তবে অন্ধকারে ঘুরে ঘুরে  ঝুপড়ির ত্রিপল খাটানো রাতের নীচে যে সংসার পাতা আছে সেইখানে যাও।  ভাল একটা মন লুকিয়ে দেখবে সেইখানে কোনও কবির  ঘাম ও অশ্রুর ছায়ায় চুপ হয়ে আছে। ============ কবির নাম :- সুপ্রভাত মেট্যা  গ্রাম :- বলরামপুর  পোষ্ট :- জয় বলরামপুর  থানা :- তমলুক  জেলা :-পূর্ব মেদিনীপুর  পিন:- ৭২১১৩৭

কবিতা ।। জোছনা আলোর স্বপ্ন ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য

জোছনা আলোর স্বপ্ন  তুষার ভট্টাচাৰ্য  যারা বেঁচে আছে হলুদ কাঁসার থালার মতন জোছনা আলার স্বপ্ন বুনে চোখে, তারা কোনওদিন খড়কুটোর মতন ভেসে যাবে না নদীর বান বন্যায় জলস্রোতে পলিমাটির ঘ্রাণ নিয়ে তারা নতুন ঘর বাঁধবেই  ; তাদের নিকোনো মাটির উঠোনজুড়ে রুপোলি রোদ্দুরে ভিজে খেলা করবে ভোরের দোয়েল, শালিক l ========== তুষার ভট্টাচাৰ্য ডাকঘর : কাশিমবাজার l বহরমপুর l জেলা : মুর্শিদাবাদ l

কবিতা ।। নিঃস্ব হবো ।। লালন চাঁদ

নিঃস্ব হবো  লালন চাঁদ তোমার জন্যে আজও স্বপ্ন কুড়োই  রোদ্দুর কুড়োই  বুকের ভেতর সাজিয়ে রাখি থৈ থৈ শীত  তুমি এলে পৌষমেলায় যাবো  নলেন গুঁড়ের মিষ্টি কিনবো  গোটা মেলাটাই কিনে নেবো তোমার জন্যে  তুমি এলে না  মেলা ভেঙে গেলো  নলেন গুঁড়ের মিষ্টি খাওয়া হলো না  মেলাটাও কেনা হলো না  ভাবতে ভাবতে আমি নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়ে যাই  আর মেলায় যাবো না  একাকী থাকবো  তোমার জন্যে পুড়ে পুড়ে ছাই হবো সারা জীবন  ---------------------------------------- লালন চাঁদ গ্রাম + পোস্ট = কুমারগঞ্জ।  জেলা = দক্ষিণ দিনাজপুর। -------------------------------------

কবিতা ।। ভালোলাগা  ।। আজিজ উন নেসা 

ভালোলাগা  আজিজ উন নেসা  অচকিতে আঙ্গুল ছুঁয়ে যায়  পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির হাতে.... মনে চাপা ভয় মিশ্রিত উচ্ছ্বাস চল্কে ওঠে, চোখে মুখে তরঙ্গ খেলে যায়!  জলধারা মাটির তলদেশ আর বয়ে যেতে না পেরে  শত উচ্ছ্বাসে আছড়ে পড়ে পাহাড়িয়া ঝর্না!  চোখে চোখে কিছুক্ষণের চাওয়া চায়ি... ক্ষণিকের ঘটনা আজ ও স্মৃতির পাতায়   স্নিগ্ধ কোমল স্পর্শ দিয়ে যায়, জ্বলে ওঠে এক সুগন্ধ মোমবাতি! ============== আজিজ উন নেসা ৯ সার্কাস রেঞ্জ, বেকবাগান, কোলকাতা-১৯ 

ছড়া ।। সেই ছড়াটা ।। বদ্রীনাথ পাল

সেই ছড়াটা বদ্রীনাথ পাল  একটা ছড়া মিষ্টি বড়ো যেন মধু মাখা  যায় না যে ভাই কোনোমতেই লুকিয়ে তাকে রাখা, রাখি যেথায় তাকে - মৌমাছিরা ঠিক খুঁজে নেয় বারেবারেই ডাকে। সেই ছড়াটা দুষ্টু বড়ো করে ভাঙা গড়া হাসে হাসায় কাঁদিয়ে ছাড়ে যেন রসের ঘড়া, দুঃখ ও শোক ভুলে - যাবেই যাবে নাও যদি ভাই তাকেই কোলে তুলে ! সেই ছড়াটা তরল যেন ঠিক ঝর্ণা ধারা গড়িয়ে পড়ে জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের কিরণ পারা ! পরশটি তার পেলে- সব পেয়েছির দেশটি যেন হাতের কাছেই মেলে। ==================   বদ্রীনাথ পাল  বাবিরডি, পোস্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া,

কবিতা ।। অভিরুচি ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

অভিরুচি তীর্থঙ্কর সুমিত  জমানো কত কথা ক্রমশঃ শেষ হয়ে আসছে নীল রং কালো হতে হতে মিলিয়ে যাচ্ছে কোনো অজানা দেশে ব্যর্থতার শৈশব পরিপাক্ক যৌবন ফেলে এখন একাকী অন্ধকারে নিজেকে বদলাতে চায় তোমার সব চাওয়া ---- উদাসীনতার বিকেল আজ যাত্রা পথে শুধু রঙ বদলে যায় বদলে যায় নিজেকে চেনার অভিরুচি। ============== তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুণ্ডু, হুগলী  

সুশান্ত সেনের ৩টি কবিতা

১  বিশ্বাস তোমাকে বিশ্বাস করে সব কিছু ছেড়ে এসে দেখি তুমি দূর পাহাড়ের কুয়াশা দিয়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছো। তখন বিশ্বাস এর মর্যাদা রেখে দূর পাহাড়ের কাছে চলে এসে দেখি এখানেও পুরোদমে দল বদল চলছে। একজন বলে উঠলেন -  রাজনীতি ছাড়া মানুষ হয় না। তাই চাণক্যের  - কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র খুলে বসলাম এদিকে পড়তে গিয়ে দেখি বইটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা। তাই নর নরৌ নরাঃ শিখতে বসলাম। ২  এখন সুপারি গাছের ফাঁকে ঝুমকো ঝুমকো আলো  নীল আকাশে এক পশলা বৃষ্টি একটু বাতাস একটু ধুলো ওড়া নিয়ে হাইওয়ের ধারে দাঁড়াবার পর, সামনে দেখি ধুলো উড়িয়ে  চারটে মোটর সাইকেল আসছে  সামনে একটা এইচ ইউ ভি। অবতরণ করলেন দশাসই কর্মকর্তা  ল্যাংচা খাবার জন্য ল্যাংচা কুটিরের সামনে পাশে বন্দুকধারী দেহরক্ষী। মনে একটু কিন্তু কিন্তু নিয়ে  ল্যাংচা খাবার পর সিঙ্গারা খাবো কী না ভাবছি, এমন সময় পুটে কাধে হাত রেখে বলল- কি রকম দেখছেন সমাজ ব্যবস্থা ! ঝুমকো আলো, এক পশলা বৃষ্টি ধুলোর ভেতর সেঁধিয়ে গেল।  ৩  সূচিপত্র সকাল হয় দিন শুরু সূচিপত্র পড়ি,  নাম নেই নিরাশায় কেটে যায় বেলা। আবার লিখি আবা...

সুনন্দ মন্ডলের দুটি ছড়া

 সুনন্দ মন্ডলের দুটি ছড়া সবুরে রোদ ফুরোল সন্ধ্যে হল নামল আঁধার রাত। গপ্প গাথায় জমবে আসর কাটবে ভূতের সাথ। বেরিয়ে কেউ আসবে কি এই গল্পের খাঁজে? থাক না মোড়া শীতের কাঁথায় হরেকরকম সাজে। তোমার খুশি রাত জড়ানো মধুর আলাপ গুড়ে। একটুখানি বিরতি থাক মেওয়া ফলুক সবুরে।          ২  লক্ষ্মী প্যাঁচা চাষীর জমা ফসল এল  ঘরের কোণে মেলা। শীতের দুপুর নেই চড়ুই লক্ষ্মী প্যাঁচার খেলা। রাত ফুরোলে ভিজবে মাটি শিশিরে ডুববে পা। তোমার সাথেই বাঁধবে জুটি মাটির ভাঁড়ে চা! আলতো ছোঁয়া হিমেল হাওয়া  তোমার পায়ে আলতা! রঙিন হোক নতুন সকাল সঙ্গে আচার চালতা। লক্ষ্মী প্যাঁচার পায়ে পায়ে আসুক বাড়ি ধন। ফসল বেচে সোনা পাওয়া স্বপ্ন উলট পুরান। ============ কাঠিয়া, পাইকর, বীরভূম

গল্প ।। ব্যাঘ্ররূপী মনুষ্যভূত ।। সমীর কুমার দত্ত

  ব্যাঘ্ররূপী মনুষ্যভূত সমীর কুমার দত্ত                 জমিদার রায়বাহাদুর কন্দর্পনারায়ণের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে শরিকি সংঘর্ষের ফলে তাঁর সম্পত্তি ভগ্নদশাগ্রস্ত ভূতুড়ে সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে মামলার রায়ের দিন গুনছিলো। সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হ‌ওয়ার পর মামলাটির নিস্পত্তি হলে পাঁচ শরিকের মধ্যে নিজ নিজ অংশে রিমডেলিং,মেরামতি ইত্যাদির কাজ শুরু হলো। এমনিতেই বহুদিন  পড়ে থাকা জমিদারের নিস্তব্ধ নিঝুম বৃহৎ অট্টালিকা প্রাসাদকুক্কুটের নিরন্তর বকবকম যেন প্রাসাদটিকে রহস্যাবৃত করে তুলেছে। মেরামতির সময় ভৌতিক উপদ্রব শুরু হলো। তারা যতবার স্ব স্ব অংশের প্লাস্টার করে, পরের দিন এসে দেখে, সেই প্লাস্টার খসে পড়ে গেছে ব্যাঘ্রের থাবার চাপে। ভৌতিক উপদ্রব বলছি এইজন্য যে প্রত্যেক শরিকের দেওয়ালেই ওই এক‌ই নিদর্শন দেখা গেছে যেখানে ভিন্ন ভিন্ন রাজমিস্ত্রি কাজ করছে। আর দেওয়ালে সিংহের পদচিহ্ন পড়া তো সম্ভব নয়। সম্ভব শুধু মেঝেতে। তদুপরি দু -তিন দিন এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। কাজ বন্ধ হবার উপক্রম হলো। বাঘের অগুনতি পায়ের দাগ, যার ফলে প্লাস্টার খসে খসে পড...

অণুগল্প ।। শ্বেত পদ্ম ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ

  শ্বেত পদ্ম  অঞ্জনা  গোড়িয়া সাউ     টিং টং রিংটা বেজে উঠল । পুষ্পিতা  এই কলটার অপেক্ষায় উৎসুক হয়ে ছিল।  "অপেক্ষা করো । আমি আসছি ।" নির্দ্বিতায় বলে, ফোনটা কেটে দিল। পুষ্পিতা আয়নার সামনে আর একবার  ভালো করে তাকাল। লাল শাড়ি ম্যাচিং ব্লাউজ আর ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক। ঠিক ঠাক লাগছে তো ?মনে মনে বলল।আয়নার অপ্রান্ত থেকে কেউ বলে উঠল , কলঙ্কিনী বধূ হতে চাও ? নাকি রাধিকা ? পুষ্পিতা একদম ভয় পেল না । তীব্র কন্ঠে বলল ,"আমি ওর বউ " হতে চলেছি। কোন অন্যায় করছি না । ছবিটা অদৃশ্য হয়ে গেল । পুষ্পিতার মাথার সিঁদুরটা আলতো করে ঢেকে দিল চুলে । হাতে  একটা স্ট্রাইলিস্ট নোয়া , এঁয়োস্ত্রীর  চিহ্ন। সকল বন্ধন মায়া মমতা মুক্ত  করে আজ সে যাবেই অয়নের কাছে । দীর্ঘ ১৫ বছর বন্দী সংসারের খাঁচায় । ওড়বার খুব ইচ্ছে সামনের  আকাশটাতে ,শিকল বাঁধা পাখি  । নিজের ইচ্ছা গুলিকে দমিয়ে রেখে ছিল এত দিন । একদিন বাজার করতে গিয়েই  আলাপ হয় অয়নের সঙ্গে । দুব্যাগ বাজার নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল ওর গায়ে। অয়নই হাতটা ধরে   তুলে ছিল । রান্নাকরা ,বাজার করা শ্বশুর...

কবিতা ।। বর্ষবরণ ।। দীনেশ সরকার

  বর্ষবরণ দীনেশ সরকার   পুরানো দিনের কালিমা কলুষ থাক সব পিছে পড়ে মনের কোণেতে বেদনার ডালি রাখবো না আর ভ'রে।   দুঃখ-আঘাত যত জমা আছে আছে যত শোক-তাপ বর্ষ শেষের বিদায় লগ্নে ধুয়ে-মুছে হোক সাফ।   ধর্মের নামে হানাহানি যত রক্তের হোলি খেলা শেষ হয়ে যাক বর্ষশেষের   শেষ প্রহরের বেলায়।   এসো-এসো-এসো, নতুন বছর তোমারে বরণ করি নতুন ঊষার নবীন কিরণে জীবনের গান ধরি।   বন্ধুর পথ হোক মসৃণ বিচ্ছেদ যাক দূরে নতুন বছরে এসো সবে আজ গাই গান একসুরে।   নতুন বছর সবার হৃদয়ে দাও ভরে ভালোবাসা নবীন আলোকে নবউচ্ছ্বাসে জাগাও নতুন আশা।   ************************** দীনেশ সরকার ১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি, প্রেমবাজার, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর---- ৭২১৩০৬  

কবিতা ।। প্রকাশিত কবিতা ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

প্রকাশিত  কবিতা আশীষ  কুমার  বিশ্বাস একটা কবিতা তাঁর ভালো লাগা, মন্দ লাগা। তারপর প্রিন্টিং প্রেস অচেনা প্রচ্ছদ তাঁর জন্ম, লিটিল ম্যাগজিন। একটা যুদ্ধ জয়  প্রকাশিত কবিতা বার বার তাঁর ওপর চোখ বোলানো। মনে কবি হওয়ার শখ জাগে  রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, নজরুল, সুকান্ত মনের গভীরে সুপ্ত বাসনা। আবার কলম-কাগজ, নির্জনে চিন্তা ভাবনার গোড়ায় শিকড় গজানো। অক্ষরে অক্ষরে, শব্দে শব্দে নতুন লাইন। আরো একটা কবিতার জন্ম । ঠিক এই ভাবেই -- আরো একটা কিংবা অন্য ভাবে আরো একটা।

ছড়া ।। নতুন বছর ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

নতুন বছর  রঞ্জন কুমার মণ্ডল নতুন বছর নতুন বছর  এসো নতুন সুরে  দুঃখ কষ্ট মনের গ্লানি  দাও সরিয়ে দূরে। নতুন বছর নতুন বছর  শান্তি আসুক ফিরে  মন খুশিতে ভরা থাকুক  কষ্টেরা যাক সরে। নতুন বছর নতুন বছর  দাও নতুন আলো ঘুচবে দ্বন্দ্ব সব ভেদাভেদ  মন্দ চিন্তা গুলো। নতুন বছর নতুন বছর  দাও শুভ সন্দেশ হিংসা বিভেদ সরে যাবে থাকবে সুখ রেশ। নতুন বছর নতুন বছর  তোমার আগমনে  বিবেকবোধ ভালোবাসায় থাকবো সবার সনে। নতুন বছর নতুন বছর  সময় চলুক হেসে  সারা বছর মন ভালো থাক সবারে ভালোবেসে। ================== রঞ্জন কুমার মণ্ডল  সারাঙ্গাবাদ, ভায়া -বজবজ  দক্ষিণ ২৪পরগণা। পিন-৭০০১৩৭.

অণুগল্প ।। কমোড ।। অরিজিৎ মল্লিক

  কমোড অরিজিৎ মল্লিক সেদিন একটা বিখ্যাত শপিং মলে গেছি পুজোর বাজার করতে। এমনিতে মাসের গ্রসারি ওখান থেকেই করি যবে উদ্বোধন হয়েছে তাই স্টাফরা বেশির ভাগই চেনা। ব্র্যান্ডেড জিন্স দেখতে গিয়েই পেট টা কামড়ে উঠলো,আজ খুব ভোগাচ্ছে। টয়লেট গিয়ে দেখি তিনটেই বুকড, নক করাও অশোভন কিন্তু বেগ যখন আবেগকে ছাড়ালো তখন করলাম নক নক!! পরপর দুটো দরজাই খুলে বেরিয়ে আসলো দুজন পরিচিত সেলসবয়, মাথা নিচু করে চলে গেলো হন্তদন্ত হয়ে। ভেতরে যেতেই বুঝলাম, জলের বিন্দুমাত্র প্রমান নেই , দুর্গন্ধহীন! তবে কি ওরা শুধুই বসতে আসে কমোডে! একটু জিরোতে! তাই তো! একটাও টুল দেখিনি উঁচুদরের মলটায়। ----------------- অরিজিৎ মল্লিক  বর্ধমান,পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

কবিতা ।। হিংসুক ।। সেখ মোসলেম আলি

  হিংসুক  সেখ মোসলেম আলি  খামখেয়ালী, বেহিসাবি এটাই আমার স্বভাব। ঠোকে শিখেছি জীবনে মোর চৈতন্যের অভাব।। অবচেতনে, খুব যতনে ঠকাচ্ছে আমায় লোকে। মূর্ছিত সব, ছেড়ে ছুড়ে রব কাঁদছে আমার শোকে।। আমি তো বেশ দিব্যি আছি নেই কোনো ঝঞ্ঝাট। ওদের বুকে ঝিঁন ধরেছে তাই করে উটকাট।। হিসাব করে লাভ কি হবে? তুমিও চেষ্টা করো। পরিশ্রম আর বুদ্ধিবলে সঠিক পথটি ধরো।। ============== Adress: Sk Moslem Ali  Vill.- Jagadishpur,  P.O.- Naul,  P.S.- Shyampur, Dist.- Howrah  Pin code - 711312

ছড়া ।। কবিতা বিভ্রাট।। শান্তনু আচার্য

কবিতা বিভ্রাট   শান্তনু   আচার্য   লিখতে হবে কবিতা আমায় হঠাৎ হলো শখ ; লিখতে বসে শুধুই দেখি কমছে হাতের নখ । ভেবেছিলাম আসবে মাথায় শব্দ যত মিলিয়ে ; দেখছি এখন লেখার আগেই যাচ্ছে সব গুলিয়ে । উল্টে পাল্টে পড়লাম আমি কত কবিতার বই ; অনেক করেও নিরেট মাথায় ছন্দ আসছে কই ? খাতার পাতা ভরে লিখি হিজিবিজি সব শব্দ ; নিজের ভাষাই করেছে আজ বেজায় আমায় জব্দ । ভাবলাম কানে গুঁজে পেন, কখনো পেনসিল চিবিয়ে ; কখনো বা ঘোর সন্ধ্যেতে ঘরের আলো নিভিয়ে । এদিক ওদিক সেদিক থেকে খুঁজছি খালি ছন্দ ; অনেক পরে হতাশ হয়ে করলাম খাতা বন্ধ । এ জীবনে হলোনা আর আমার কবি হওয়া ; কবিতা লেখা কঠিন বেজায় , নয়রে   হাতের মোয়া । ....................................................... ঠিকানা : Dr. Santanu Acharya Flat no. 1C, AA 11/13, Deshbandhu nagar, Baguiati,  Kolkata 700059. .........................................................

নিবন্ধ ।। বন্ধুত্ব ।। তীর্থ মণ্ডল

বন্ধুত্ব তীর্থ মণ্ডল বন্ধুত্ব বা Friendship  এই শব্দটা এক সুন্দর ভাব প্রকাশ করে। বন্ধুত্ব সব সময় যে একই বয়স বা বয়সী কারো সাথেই হতে হবে তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।আট থেকে আশি যেকোন বয়সের সাথেই হতে পারে। বন্ধুত্বের জন‍্য কোন বয়সের সীমা নেই। আশি বছরের বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার সাথে কুড়ি বছরের বেশি বা তার থেকে কম বয়সী কোন  যুবক বা যুবতীর বা ছেলে মেয়ের মধ্যেও হতে পারে। বন্ধুত্ব স্বামী-স্ত্রীর, বাবা-মা, কাকা-  কাকী,মামা-মামী, বন্ধু-বান্ধবী, বা কোন পরিচিত,পরিচিতার মধ্যে বা হয়তো কর্মস্থলের কোন সহকর্মীর  সাথেও হতে পারে। কিন্তু ভালো বন্ধুত্ব হল জীবনের সর্বোত্তম সম্পদ, যেখানে সম্পর্কের কোন বাধা নেই, কোন চাহিদা নেই, যেখানে দুই ব্যক্তির মধ্যে মনের মিল, চিন্তা ভাবনার মিল হলেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব।পরস্পর সুখ দুঃখের কথা আদান প‍্রদান বা জীবনের বিভিন্ন সমস‍্যা সমাধানের মত বিনিময় বা এ  নিয়ে আলোচনা করে মনের কষ্ট বা গ্লানি লাঘব করা, দূর করা। বন্ধুত্ব হল বিপদে আপদে বন্ধুর পাশে থেকে তার হাত শক্ত করে তার মনে সাহস দেওয়া,ভরসা দেওয়া,তাকে সবরকম ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এই বন্ধুত্ব বি...

কবিতা ।। দাসত্ব ।। বিবেকানন্দ নস্কর

দাসত্ব বিবেকানন্দ নস্কর কাঁচের টেবিলে ভেসে ওঠে মুখ মদ্যপ রাত্রি মাতালের সন্ধানে ডিনারে তোমার সান্নিধ্য। জীবনের খোলসে লেখা ছিল দাসত্ব  মৃত্যুর শিকলে বাঁধা  দাসপ্রথা এখনো লুকানো আছে। কাঁচের মতো জীবন ,ভেঙে কুচি কুচি কে কে ধরা দিল, কারা বা হারালো তিমির রাত্রি জানে সব। অন্ধকারেই খুঁজেছি রমনীর ঘ্রাণ পরকীয়া পাপে জীর্ণ রাত্রি দাসত্ব দিয়েছে তবু অনেক অনেক ভালোবাসা।

কবিতা ।। খেলা রঙ্গ ।। সমর কৃষ্ণ মন্ডল

  খেলা রঙ্গ সমর কৃষ্ণ মন্ডল রঙ্গ রসের বঙ্গে যত, কথাকলির মেলা--- কথায় কথায় বলছে সবাই জমবে এবার খেলা। হরেক খেলা হচ্ছে হেথায় জমে সবই ক্ষীর-- ফেরেপবাজির কলকাটিতে হচ্ছে শত বীর। বীরের ঠেলায় যায় যে পরাণ, দিনে রাতে ভাই আমরা সবাই প্রাণ বাঁচাতে কেবল খাবি খাই। দামের চোটে বাঁচার রসদ হচ্ছে কুলিন সব বিদ্রোহীরা তোলে আওয়াজ বাকিরা নীরব। গরিবের তো সরকার আছে, ধনীর আছে পেশা মাঝের মানুষ মুখ বুজিয়ে কেবল করে গোঁসা। গোলেমালে তাল মিলিয়ে হচ্ছে অনেক মানী রাজনীতির এই খেলা দেখে মনে প্রমাদ গুনি। মন্দ মানুষ পায় না সাজা, ভালো মানুষ জেলে মিথ্যে মামলায় জেল খাটে কেউ, অর্থবানরা বেলে। শিক্ষিত সব স্বপ্ন দেখে , চাকরি হবে ভালো--- পরীক্ষাতে লিখল বটে, রেজাল্ট ভানিস হলো। কারা-ই বা সব চাকরি পেল, কারা দেখলো খাতা-- সাদা খাতায় কেল্লাফতে, বুঝি না তার মাথা। হরেক খেলা হচ্ছে বটে, খেলার মজা কই -- খেলা-রঙ্গের ধন্দে পড়ে, সবই তা-থৈ-থৈ। ==============  

কবিতা।। মায়াজন্ম ।। নজর উল ইসলাম

  মায়াজন্ম নজর উল ইসলাম পেয়েছি জীবন পাহারায় আছি বুকের মনঘরে  স্বপ্নডানায় ওড়া এক পবিত্রতায় ঝুঁকে সংসার আমার  আঁচল বিছিয়ে পৃথিবীর খোলা নাটকের মঞ্চে দাঁড়িয়েছি কত সুর কত ঘেরাটোপ একা একা সামলে হরিণ সভ্যতায় ছায়ার মত বুক পেতে নতজানু শুধু পাওয়া না পাওয়ার কাছে ছোটবেলাকার রঙ এখন অকেজো নির্ভার কী বুঝি না মায়া সন্ধ্যের কামিনী গন্ধ ভরা তেবাসি অশ্রু দাগে বিষন্ন মগ্ন ছায়ার অনিবার্য সুতোয় যেন ঝুলছে বাঁশির সূর্যাস্তে নিভন্ত মহাজ্যোতি হারিয়ে বেয়াদব গম্ভীর মেঘমুখ আলো দিশার অন্ধকারে হারিয়ে ঠুনকো পেঁচার অনুক্ত বিদায়গ্রস্ত জাল বিবর্তনে ফলিত জয়োল্লাসের দিন শেষ, অছন্দে ছন্দ কাঁদছে কাঁপা বিরহ পোড়ামাটির স্বাক্ষরে পরাজিত মন অ-সংষ্কৃতির কদর্য বেমালুম পালিত স্পর্ধায় প্রতি মনভূমি রেখাচিত্রে অন্তহীন বিনির্মাণে স্থিত আমরা তো আরোগ্যে সান্ধ্যভাষার মুখচ্ছবি জোছনায় প্রতীক ছুঁই, পরিসর বাঁধি বিস্তর অবিনশ্বর কারও সঙ্গে যে জড়িয়ে ক্ষতচিহ্নে ইচ্ছেডানা সাজিয়ে বাস্তবতায় সেতুবন্ধন স্বপ্ন-আঁকা কত আলো নির্ভার... ============ নজর উল ইসলাম  পশ্চিম বিবিপুর, বেগমপুর, বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণ...

কবিতা ।। রক্তের স্বাদ ।। বিপ্লব নসিপুরী

  রক্তের স্বাদ বিপ্লব নসিপুরী কিছু কথা, যা সর্বদা নোংরা মনের ঘরে  ভনভন করত কুৎসিত মাছির মতো।  অগভীর মনের গভীরে পুঞ্জীভূত কথাগুচ্ছ ব্যক্ত করেছিলাম বহুদিনের আধুনিক বাহুল্যবর্জিত  অকাজের জিনিসের ভীড়ে ঠাসা কুয়োর মুখে, কালো শ্যাওলার আস্তরণে মোড়া অগভীর  কুয়োর জমাট অন্ধকারে, ধিকধিক করে  জ্বলছিল প্রাণের আলো মৃদু,অতি ক্ষীণ।  একেবারে নিশ্চুপ, নির্বাক, পরাজিত সেনার  মতো শুনেছিল বহিরজগতচ্যূত একটা কুনোব্যাঙ, দীর্ঘদেহী কোমল মতি সর্প আর একদল মশা, যারা ছিল রক্ত স্বাদ হতে একেবারে বঞ্চিত।  কুয়োটা আজ শূন্য, নির্বাপিত আলোকবিন্দু, জীবহীন জড়ের আধার আঁধারে পরিপূর্ণ।  কোমলতার খোলস ছেড়ে সর্পের আগ্রাসী  আস্ফালন, বাতাসের উদর ক্রমশ ভারী আরও  ভারী হয়ে উঠছে, পান করে বিষের বাষ্প।  সাবধান খুব সাবধান,বুভুক্ষু সর্পটা পেয়েছে  রক্তের স্বাদ,রক্তিম শোণিত ধারার স্বাদ। মিটবে না অসীম ক্ষুধা হবে রক্তশূণ্য ধরা। ============= কলমে বিপ্লব নসিপুরী  গ্রাম+পোস্ট শীতলগ্রাম জেলা বীরভূম  পিন-৭৩১২৩৭ 

কবিতা ।। জলদেবতা ।। রহিত ঘোষাল

  জলদেবতা  রহিত ঘোষাল আমাদের সম্পর্ক ঠুনকো রাতের মতো নয় দূরে যে লাল সংকেত আলোর কোলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মোহনায়  তাকে কী বলবে ঠিক করেছ কিছু  সেখানে অসীমে যাওয়ার পথ ডুবন্ত নৌকার চন্দ্রিমা                          বহমান ছায়া কাঁটাগাছ যদি জানতে চায় কী বলবে ঠিক করেছ কিছু   সাতরং সূর্যকাচ পাপবোধ লুঠ করে তারা আমাদের মতো হাঁটুজলের সাক্ষ্য দেবে না তারা দুর্গম ভালবাসতে জানেই না তাদের কী বলবে ঠিক করেছ কিছু  =============

ছড়া।। দুলের মেয়ে সৌদামিনী ।। প্রবোধ কুমার মৃধা

  দুলের মেয়ে সৌদামিনী        প্রবোধ কুমার মৃধা             মাঝ নদী বরাবর জেলে ডিঙি বেয়ে।             হাল ধরে দাঁড়িয়ে সে দুলেদের মেয়ে।             নাম তার সৌদামিনী নিটোল গঠন।             চকিত নয়নে চায় কাজল বরণ।             কোমরে জড়ায়ে নিয়ে ডোরাকাটা শাড়ি।             রোদে-জলে বারোমাস স্রোতে দেয় পাড়ি।             দুটি ভাই নেপা-গোপা দিদির দোসর।             জলে জাল তোলা ফেলা করে দিনভর।             ঘরেতে পঙ্গু বাপ শুয়ে বিছানায়।             মরণের দিন গো‌নে কাঁদে যাতনায়।             সারাবেলা কাজ নিয়ে তাদের জননী।             মুখ বুজে টেনে চলে সংসারের ঘানি।             সকল...

অণুগল্প ।। বাহন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাহন মানস কুমার সেনগুপ্ত বহুদিন আগে তৎকালীন বর্ধমান ‌জেলার মেমারি ষ্টেশনে নেমে অনেক দূরবর্তী গুলটে নামে এক গ্রামে পৌঁছেছিলাম । বাসযাত্রা, ছৈ লাগানো তিন চাকার ভ্যান রিক্সা অবশেষে গরুর গাড়িতে দীর্ঘ যাত্রাশেষে পৌঁছন   গেল সেই গ্রামে। উপলক্ষ্য বন্ধুর ভাইয়ের বিয়ে। গ্রামে গিয়ে আমার মত খাস শহুরে লোকের বিয়ে দেখার অনাবিল আনন্দের অনুষঙ্গে মিশে ছিল অনেক ঘটনা। বরযাত্রী গেলাম  গ্রামের অন্ধকার মেঠো পথে গরুর গাড়িতে। বউভাতের দিন গ্রামের প্রান্তসীমায় বন্ধুর বাড়িতে আরও কয়েকজন মিলে মাদুর পেতে সংলগ্ন পুকুর ঘাটে চলছিল চা সহযোগে বৈকালিক আডডা। হঠাৎ    দেখা গেল অনেক দূরে গ্রামের মেঠোপথ ধরে ধূলো উড়িয়ে কিছু একটা ছুটে আসছে। কাছে আসতে বোঝা গেল ঘোড়সওয়ার হয়ে কেউ একজন আসছেন এদিকেই। বাড়ির কাছে আসতে আমার বন্ধুটি এগিয়ে গেল ঘোড়সওয়ারী ভদ্রলোককে অভ্যর্থনা করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যেতে। কাছ থেকে দেখলাম সযত্নে লালিত চকচকে ঘোড়াটিকে। গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা ঘোড়াটিকে দেখতে তখন গ্রামের মানুষের ভীড়। আমার কাছে সে এক বিস্ময়। বন্ধু আবার বাইরে এসে আডডায় যোগ দিয়ে জানাল ভদ্রলোক কনের মামা ।...

কবিতা ।। মা, বড্ড ভয় করছে ।। অশোক দাশ

মা, বড্ড ভয় করছে অশোক দাশ মা বড্ড ভয় করছে  একা একা পথ চলতে  রাস্তায় ওত পেতে থাকে যত                            হায়নার দল। মা, বড্ড ভয় করছে  সূর্যটা ডুবে গেলে আঁধার ঘনায় নিস্তব্ধ নিঝুম রাতে  ঘুম আসে না  ঘরের চারপাশে কারা যেন দাপিয়ে বেড়ায়।  ওরা হিংস্র জানোয়ার  দিদিটাকে ওরা খুবলে -খুবলে  পাশবিক অত্যাচার করে মেরে ফেললো, মা, দিদিটা এখনও বিচার পেল না  কোনদিন কি ও বিচার পাবে না ! সত্য কি উদঘাটন হবে না !! অপরাধী কি সাজা পাবেনা!!! মা জানে, মায়ের বুক কাঁপে  তবুও সস্নেহে মেয়ের পিঠে হাত রেখে প্রত্যয়ের সুরে কন্ প্রতিটি ক্রিয়ার যেমন বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে  তেমনি প্রতিবাদ প্রতিরোধও আছে  গন আন্দোলন গন জাগরণই পারে অধিকার ছিনিয়ে নিতে  বিচার আদায় করতে।  রাজপথ আলপথে ঘটবে জনবিস্ফোরণ  বাজবে যুদ্ধের দামামা। তমসার আঁধার চিরে ভোরের সূর্যোদয়  এক ফালি রোদ্দুরে ভাসবে জগত সংসার।  অশোক দাশ ভোজান, রসপুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।  মোবাইল নম্ব...

কবিতা।। যৌবনের ডাক - গোপাল চন্দ্র মন্ডল

  যৌবনের ডাক গোপাল চন্দ্র মন্ডল               বসন্তে কোকিল কুহু কুহু ডাকে  সুষমা বিছানায় শুয়ে প্রেমের ছবিআঁকে । এ কোকিল ডেকে দেয় যৌবনের ডাক  মনো বীনা বেজে ওঠে বাজায় ঢাক।  অষ্টাদশী নারীর কি যে যৌবন যন্ত্রনা  যার জ্বালা সেই বোঝে পায়না সে শান্তনা।  সুষমা একমাত্র বোঝে তার কি যে জ্বালা   পরিণীতা হয় তার চেয়ে বেশী ঝালাপালা। সুষমা পরিণীতা দুজনে বেশ বন্ধু  কথা দিয়ে কথা নেয় সে যে দীনবন্ধু। সুষমা পরিণীতা দীনবন্ধু যায় স্কুলে প্রেমের গল্প করে পড়া যায় ভুলে। দুই ফুল এক মালি লাগে তাদের দ্বন্দ্ব       কে কাকে বেশি ভালোবাসে বাড়ায় ছন্দ। এযে প্রেমের মহিমা বোঝা বড়ো দায়  কে যে কাকে ল্যাং মারবে শুধু ভয় পায়। ভালোবাসা ছাড়া আর জীবনে কি আছে  প্রেম যদি ব্যর্থ হয় জীবন একেবারে মিছে। ----------------------------------------------------------    গ্রাম =   উত্তর বালুপাড়া।     পোস্ট =গোপালগঞ্জ।     জেলা =দক্ষিণ দিনাজপুর।      পিন   =৭৩৩১৪১  ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো