Skip to main content

Posts

দীনমহাম্মদ সেখের অনুগল্প

মিঠা পাতার পান  মিজানের বয়স এখন বারো বছর। মা মরা ছেলেটার ঠিকানা তার নানিমার কাছে। যখন মিজানের বয়স ছয় মাস ছিল তখনই তার মা টা বাপের সাথে বিবাদ করে বিষ খেয়ে মরে। তারপর দুমাস যেতে না যেতেই বাপে আবার বিয়ে করে।একদিন তার বাপ ছোট্ট মিজানকে তার নানিমার কাছে রেখে চলে যায় । ব্যস ! সেই যে গেল আর ফিরেও তাকায়নি তার জন্ম দাতা বাপটা । সেই থেকেই মিজানের বাপ মা সব তার নানিমা। মিজান তাকেই মা বলে ডাকে । নানিমারও বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই।একলা মানুষ। স্বামীটা গত হয়েছে বছর দশেক হলো। ভালো চলাফেরা করতে পারে না। তবুও রাঁধে বাড়ে। ছোটো মিজানকে নিয়েই তার এই সংসার। নানিমার শেষ সময়ের লাঠি মিজান। সেও তার নানিমার খেয়াল রাখে। সময় মতো বাজার করা,জ্বালানি গোছানো, জল তোলা-- সবই করে সে। আর বাজার করতে গেলে মিজান কখনোই তার নানিমার প্রিয় মিঠাপাতার পান আনতে ভুল হয় না। শাকসবজি যায় আনা হোক না কেন মিঠাপাতার পান আনা চাই- ই চায়।সে নিজ হাতে পান সাজিয়ে দেয়। নানিমা সেই পান চিবাতে চিবাতে তার মেয়ের ছোট বেলার কত গল্প শোনায়।মিজান তার নানিমার কোলে মাথা রেখে সেই গল্প শুনে।মিজান বুঝতে পারে গল্প বলতে বলতে নানিমার গলা আটকিয়ে আসে। দুচো...

জগবন্ধু হালদারের কবিতা :

  একদিন হবে রৌদ্র গাঢ় হলে তুমি ছুঁতে পারো চৌকাঠ ধুনুচি, পিলসুজ, মন্ত্রপুত মালা আর তালু ঘষে ঘষে আমার দেয়ালে এঁকে দিতে পারো যা খুশি, আগুনও জ্বালাতে পারো ইচ্ছে হলে সলতে খুঁচিয়ে দিতে পারো ঋতু কিংবা ঋতুস্রাব নিয়ে অহরহ শালিশি সভায় দাঙ্গা বাধুক কেটে নিক বিধি মেনে জিভ ও মগজ ওরা পাতা ছিঁড়ে দিক মতে না মিললে তুমি রক্তমাখা হাতে পদ্মের ঝুড়ি নিয়ে তবু আমার বারান্দায় বসতে পারো জেদে, বিশ্বাসে সহস্র অন্য মুখ ও জিভ একদিন দেখো শাস্ত্রের শেষ পাতা লিখবে......

অরবিন্দ পুরকাইতের কবিতা

লেপচা খা সুদিনের মুসাফির যদিও আমি, তবু জীবনেরই আর এক ব্যঞ্জনা যেন ঠিকমতো উচ্চতায় নিজেকে উন্নীত করতে পারলে খুলে যায় কত না দুয়ার! বক্সা ফোর্টে দোকানদার বলেছিলেন, ‘একবার পৌঁছন, দেখবেন কষ্টের কথা মনেও থাকবে না।’ মনে হয়েছিল সান্ত্বনা নিছক। পশ্চাতে মিহিন কুয়াশামাখা উত্তুঙ্গ পর্বত সম্মুখে বেলাশেষের চেনা সূর্য অদ্ভুত কোমল মায়াবী নিম্নে চিকন শ্বেতকায় জয়ন্তী নদী। পায়ে-পায়ে ঝরনা গাছ ফুল পাখি প্রজাপতি টুকরো সবজিখেত কোথাও, ক’টি গরু-মুরগি, সঙ্গী সারমেয় – কুটিরে পাঁচজনের একাধারে পরিবার ও পাড়া। স্ত্রী কি পুরুষ – কঠোর শ্রমের জীবন প্রাণোচ্ছলতা তবু, তবু সহজ হাসিটি ডুপ্পা যুবক-যুবতীর জংখা ভাষায় গান সন্ধ্যার বৌদ্ধমন্দিরে। দূরের কুক্কুটধ্বনি করে বসতি-প্রমাণ নরম আলোয় নির্ভার সুরশিশুরা খেলে আপন খেয়ালে শস্য ঝাড়ে মা – টলমল শিশুটি ছড়ায়! এত প্রাণবান তুমি, হে ভূধর প্রবীণ!      *      *      *

চন্দন মিত্রের কবিতা

মরার সময় একটি সেলফি দিয়ে যাব   এই যে তুমি জ্বরের ঘোরে মাঝরাতে আছাড় খেলে তোমাকে তুলে না-ধরলে উঠতেই পারতে না এই যে তুমি জাতীয় সড়কে ডিগবাজি খেয়ে আট-দশটা  উঠে দাঁড়িয়ে ধুলোরক্ত ঝেড়েমুছে সবাইকে অবাক করে দিলে  হেলমেট না-থাকলে হয়তো শুয়েই থাকতে রাস্তায় এসব জানকারি ফেসবুকে দিলেই না ফলে কেউ জানলই না  লাইক দিল না উহু দিল না লাভ দিল না স্যাড দিল না তুমি বোকার মতো বাঘবন্দি খেলা খেলে গেলে বউয়ের সঙ্গে কেউ দেখতে এল না  পাশের বাড়ির না তার পরের বাড়ির না কাছের কেউ না দূরের কেউ না  এখন কেউ ফেসবুক ছাড়া কিছুই শুনতে পাই না দেখতে পাই না ভাবছি মরার সময় একটি সেলফি দিয়ে যাব ... =============================== চন্দন মিত্র ভগবানপুর ( হরিণডাঙা ) , ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

তনুশ্রী পালের কবিতা ।

ফিরে যাই       ------------- সবুজ-নীলের জুরিগান  মোহনায় উতল   হয়ে এল    মনে মনে ফিরে যাই তবে   সেইসব উষ্ণ নিঃশ্বাসে  সরল রেখার যত ডট   আমাদের যুদ্ধময়       যুগল প্রান্ত্র ?  মনে মনে ফিরে এস তবে   বিদ্ধস্ত্ব অস্ত্রগুলো নিয়ে    কিন্তু আমার দুই হাত কেমন নিঃস্ব     হয়ে  আছে !   তাতে বুঝি শুশ্রুষা  নেই   জীর্ণ সব নখের ভিতর ক্লান্ত কিছু লবণের দানা !       -------------------------------    Tanusri Paul. BabuPara. Routh Lane. Jalpaiguri . West Bengal. pin-735101                      

সায়ন মোহন্তর কবিতা

প্লাটফর্ম প্লাটফর্মে বসে আছি আপ ট্রেন এই স্টেশনে যাত্রী রাখছে একটু ঘোরাঘুরির পর ডাউন ট্রেন নিয়ে যাচ্ছে সাইরেন বাজিয়ে হুশ করে গন্তব্যে ছুটছে ট্রেন আমি একা প্লাটফর্মে বসে দেখছি আর টুকরো টুকরো শব্দে ভিজছি - আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িটার জানালা  দিয়ে চালক বাইরে দেখছে , হয় তো আমাকেও আমি এখনও প্লাটফর্মে বসে,  দেখছি ট্রেনের তারে কাকের জটলা। ======================= সায়ন মোহন্ত চাষা পাড়া কৃষ্ণনগর, নদিয়া-৭৪১১০১ চলভাষ - ৯৫৬৩৮১৯৪০১

তাপসী লাহার কবিতা

সমর্পণ ----------- অবিকল ভুলজন্মের মতো সন্ধ্যেরা, অস্পষ্ট  হাতছানিতে  মিশে যায়  মানবিক স্বগতোক্তি, আশ্বাস বিহীন  সন্ধ্যারা নেমে আসে কৌতুহলী পড়শির ন্যায়; সাঁঝভরসার পালে ভরসারা ডিঙির মতন --- ওঠানামা চলে। নিজের কাছে আত্মগোপনেরা  বিকল্পরুপ খোঁজে। পরতে পরতে  তখন আঁকড়ে ধরার গান নিঃশর্ত সমর্পণ  বোঝে। ==============================      তাপসী  লাহা

অ-নিরুদ্ধ সুব্রতর কবিতা

এই খাতায় কোনও কবিতা নেই -------------------------------------------- এই খাতায় কোনও কবিতা নেই পাতায় পাতায় শব, সারিবদ্ধ রাত কোনও দাগ নেই, আছে রক্তশূন্য প্রেম ভাঁজে ভাঁজে ঘাড়ধাক্কা খাওয়া প্রতিবাদ এই খাতায় কবিতা নেই, এ শুধু বিকৃত অবকাশ বিব্রত হয়ে সাদা আলো নিভে গেছে বিস্রস্ত হয়ে ঝরে গেছে হাজার ধ্বনিময় উচ্চার বেশি রাতে শুয়ে গেছে কাগুজে হুতাশ এই খাতায় কবিতার কথা মিথ্যে শোনায় কবিতা কী করে লেখা হয়,কী গূঢ় প্রত্যয় আগুনের শর্তহীন ধোঁয়া? শুধুই ধোঁয়াশা আমার রক্ত , হাড়, ঘাম-গন্ধ তো কবিতা নয় কবিতার চেয়ে খাতা পড়া ভালো যে বলে সে ফাঁকা খাতা দেখেনি তো, ক্লেদে চটচটে,ভিজে স্যাঁতসেতে শ্বেদে ঘুমোতে না পারা অন্ধকার জমা,ঘন কালো সমস্ত একার সময়,জানলায় বিগত যত এসে মেলেছে লাল পচা গলা জিহ্বা ভ্যাঙাবার কত কত ফলিত প্রকাশ হেসেছে আয়নায় প্রাচীন প্রেতের মতো আমি খুঁজেছি পাথর,টুকরো শক্ত ভারি অনবরত বলেছি,চলো দূরে গিয়ে বাঁচি হাতের কলমের সূঁচালো মুখের কাছে জিজ্ঞাসা ছুড়েছি, এটুকু শাণে কৃষিকাজ পারি? এই খাতায় কবিতা নেই,অদৃশ্য খেউড় এই খাতা বিবমিষা ধরা ফেলনা পাত্র মাত্র ফিরে আসা সন্ধ...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

খুন তারপর, তারপর তোমাকে ভাবার জন্য পড়ার বাহানায় বসি- - উড়ন্ত চিলের ডানার মতো- -  যখন একজোড়া ভ্রুযুগ আঁকি,- - অনেকটা রাত হয়ে যায়!  বারান্দায় ঘুমিয়ে মা' স্বপ্ন দেখে,-"পড়ায় খুব মন- "সূর্য উঠবে!"। প্রতিরাত মা'কে হত্যার ক্ষমতা যে দেয়- তোমাকে ঠকানোর সাহস সে আমায়- - - - তোমায় পাওয়ার ইচ্ছে শাণিত খাড়া হয়ে- ওর হাড়-দেহ শুঁকছে। এর পরেও কি 'ওদের' মতো বলবে- "লোপাট হয়ে যাক সব লালরঙ- নিখোঁজ হয়ে যাক পাগলীটা- - - - =================

নিসর্গ নির্যাস মাহাতো কবিতা

৫.  কৃষ্ণকলি আতুর চোখের মধ্য থেকে রজনীগন্ধা সরিয়ে নিলে আতর মলিন হয়। ছোপ দাগ জেগে ওঠে কাজলের নীচে। আরও কালো ঘন হয়, চিড় ধরা প্লাবণের পর। ৪. মৃণালিনী ও কাদম্বরী শত পুরুষ বুক বাঁধে মৃণালিনীর স্বপ্নে, কানাঘুষো প্রেমের কলঙ্কিনী প্রাণ রসদ কাদম্বরী। মৃণাল নির্মল চাঁদ- কঠোর সাধনা। বুক ভাসা প্রেমিকের হয়ে রবি স্বর- উপেক্ষা ক্ষমা করো। =================== নিসর্গ নির্যাস মাহাতো বি ৮, কেরানীটোলা, মেদিনীপুর সূচক- ৭২১১০১

মোনালিসা পাহাড়ীর কবিতা

সুখ কণা কণা সুখই নাকি  সব অসুখের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে! সুখের ঝাঁচকচকে মোজাইক ঘরে ঝলসে যাওয়া আড়ম্বর মাথা নিচু করে থাকে- পোষা পাখির মত... আড়ম্বরের নিচে চাপা পড়ে অন্ধকার, শান্তির সাদামাটা ছা-পোষা স্বভাবের কোন ঠাঁই হয়না। তাই দিনের শেষে দামি সাজানো ঘর, সুগন্ধি বিছানায়  অবিশ্বাস খেলা করে, কাঁচের ঘরের মতো সম্পর্কনামা ঝনঝন করে ভেঙে যায়। ============================= মোনালিসা পাহাড়ী মনোহরপুর, গড় মনোহরপুর দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর,

আরিয়ান প্রিয়স পালের কবিতা

আমি লেখাটা বেশ ছিল।স্বভাবে গান নীল আকাশ সাজানো দু-এক প্লেটে। এখনও সময় আছে,মন ভাসমান। মিটুক খিদে,প্রেমিকার বুক চেটে। অল্প আলো রেশ দেওয়ালের ফ্যানে। কথারা ঠিক ছিলো।আস্ত বইয়ে। সবটাই ক্লান্তির।ছায়া পথ ঘিরে । সূর্য অস্ত নামে কেবিনের গায়ে। হাতের গ্লাস ভরে বরফের ঘামে  হঠাত্ বিকেল নামে টেবিলের ধারে। হাজার পাখির ডাক গোটা-শট রুমে দু-চোখের বোঝাপড়া হাতে-হাত রেখে, তবুও ঘেরে লাজ দ্বন্দ্বের জেড়ে সব যে-শত্রু তবে,বন্ধু ছয়।। আমিও বাড়ি ফিরে,সময়ের ঘড়ি নিশাচর,ভবঘুরে আর কিছু নয়।। ============================= #আরিয়ান প্রিয়স(পাল) ডি ডি মন্ডল ঘাট রোড, কলকাতা - ৭০০০৭৬

স্বরূপ মুখার্জ্জীর কবিতা

1. অনেকটা কবিতার মতো —————————————————————— শাল কাঠের ছাই দিয়ে তৈরী পুতুল ইংরেজ আমল থেকে তৈরী হওয়া ক্রোধ রক্ত লেগে থাকা অভ্র ( ২ ) নদীর পার ভাঙলে মানুষ হাহাকার করলেও নদী মৃদ্যু হাসে ( ৩ ) তথাকথিত ক্রোধ ভাবনা কে বেত্রাঘাত করলে নিয়তি সপুষ্পক উদ্ভিদে রূপান্তরিত হয় 2. সময় ও সাফল্য ————————————————————— দুটো ছবি মাঝখানে স্মৃতিচিহ্ন একটা পুরানো পর্দা দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসা সিগারেটের গন্ধ নিকোটিন হাসে ধোঁয়া প্রবেশ করে শরীরে ছাই পড়ে থাকে তিনতলার নীচের মাটিতে অভিশাপেরা মাথানত করে আত্মাহুতি দেয় কবন্ধ সময় 3. ত্রসরেনু ————————————————— ভাঙা ছাত বেয়ে রোদ নামে আমার দেহের ওপর এভাবেই দুপুর ভাঙছে বিকেল এসে ধরা দেয় বসন্তের কোকিল কে প্রগাঢ় সন্ধ্যা ব্যাকরণ ভুলে যায় তলপেটে বাসা বাঁধা কৃমি পথ হারিয়ে গান্ধী টুপিতে আশ্রয় নেয় ******************************** স্বরূপ মুখার্জ্জী   গ্রাম – বনপাড়া পো :-  ঝিলু ব্লক...

তমোঘ্ন নস্করের কবিতা

            পরান মাঝি           স্বপ্নের চোখজুড়ে নামে বিশাল পূর্ণিমার নদী ........জলের গাঢ় আওয়াজে পরান পাল কাটে..... উল্টো মুখো চলেছে ডিঙি ..... জ্যোত্স্না মাখছে তার নিয়তি শরীর....প্রাণ ভিজছে সুরে আর সুরায়..... জন্মের গামছা মাথায় বেঁধে পোড়া বিড়ির পুনরাগুনে গাইছে লালনের গান .... ছল ছল নদীর বুকে দাঁড়িয়ে মনে হয় এখনও তার মীরা মাঝরাতে চাঁদের অভিসারে  স্পট সুরে নিমগ্ন ভজন এ ডুবেছে...... জঙ্গলের জীবন থেকে এভাবেই সে গেয়ে যায় প্রতিরাতে জীবনের দেয়া নেয়ার গান। এভাবেই দাঁড় বাইতে বাইতে কখন যে পরানের পরান ছুটি নেবে নিরুদ্দেশে কে জানে!!  মীরা হয়তো সাত সুরের জাল ফেলেও ধরতে পারে স্পন্দনহীন পরান কে.....

প্রণব কুমার চক্রবর্তী কবিতা

রাতের শরীরে কান্নার পান্ডুলিপি                                   গোধূলির সোনা রঙ মেখে অাজকাল বড্ড বেশি মাথা তুলছে মন খারাপের গল্পগুলো  ..... দিগন্তের কপালে  যেন মুছে ফেলা সিঁদুরের থ্যাবড়ানো দাগ অাকাশ ভেঙে ক্রমশ নেমে অাসে                বিষন্নতার এক কালো চিত্রলিপি

চন্দ্রাবলীর কবিতা

অদেখা কোন  মন আপন অদূরে কোন দেখার আদল ভুলে ছিল, সবুজ অবুঝ পাওনারা সব মেঘ কোণে ভেসেছিল । তবু অজানা পথ নিজেই এল পায়ের কাছে , ধূলোর চাদর বৃষ্টি ফোঁটা মেখে নিল । নিঝুম সাঁঝ মহল নেভা আলোর স্মৃতিতে থমকে ছিল । আঁচল ঝাপসা দেখা ঠোঁটের আদর অভিমানে ফুলে ছিল , তবু ছেঁড়া পাতা জুঁড়েছিল  রূপকথা নিয়ে  । মন ,কার কখন, অচেনা ক্ষণ হঠাৎ ফুরিয়ে ছিল । প্রেম বিশাল আকাশ চাতক মুখে বৃষ্টি দিল , তবু বেয়ারিং চিঠি নিলাম কিনে , মনের বিনিময়ে  ।। =========================== চন্দ্রাবলী ব্যানার্জী ১৬২, মহেন্দ্র ব্যানার্জী রোড কলকাতা - ৭০০০৬০

সুমন নস্করের ছড়া

পৌষালি খেঁজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধার   সময় এলো ওই, নলেন গুড়ের মিষ্টি মিঠাই   নতুন ধানের খই৷ উড়কি ধানের মুড়কি হবে   কণেক চূড়ের মোয়া, ভাঁড় পোড়ানো কাঁচা রসের   গন্ধে শীতের ছোঁওয়া৷ নতুন ধানের পিঠে হবে   উঠবে ঘরে ধান, খেঁজুর গুড়ের গন্ধ ছোটে   সতেজ ভরা ঘ্রান৷ শিউলিরা যায় ভাঁড় কোমরে   কাটতে খেঁজুর গাছ, শীতের আমেজ একটু নিতে   থাক পড়ে থাক কাজ৷ খেজুর গুড়ের পাটালিতে   গন্ধ ছাড়ে বেশ, পৌষালি আজ এমনি ভাবে   তুলছে সুরের রেশ৷ ভাল্লাগে না সকালবেলা   পড়তে বসা ছাই, আমেজ পেতে রসের লোভে   খেঁজুর তলায় যাই৷ ============== সুমন নস্কর গ্রাম+পোষ্ট- বনসুন্দরিয়া থানা- মগরাহাট জেলা- দক্ষিণ ২৪ পরগনা

স্বপনকুমার বিজলীর ছড়া

অঙ্ক খাতায় মেঘের ভেলা  অঙ্ক নিয়ে যেই বসেছি দাওয়ায় মাদুর পেতে চড়ুইগুলো উড়ছে তখন পাশের ধানের ক্ষেতে  টুনির বাসা ডুমুর ডালে আছে দেখি ঝুলে  এ সব দেখে অঙ্ক করার নিয়ম গেছি ভুলে । অমনোযোগ হচ্ছি আমি বুঝতে পেরে শেষে  বই খাতা পেন নিয়ে বসি ঘরের ভিতর এসে  চোখ চলে যায় জানলা দিয়ে বিলের শাপলা ফুলে  পাপড়ি মেলে হাসছে ওরা উঠছে হাওয়ায় দুলে । ঝক্কি ভারি হল তো বেশ অঙ্ক হল না যে খুব বকা কাল খেতে হবে ক্লাসে সবার মাঝে  এবার ছুটে সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে বসি ছাতে অঙ্কগুলো করতে হবে , অল্প সময় হাতে । চেয়ে দেখি সাদা মেঘে নীল আকাশে ভেসে ---- বকের সাথে ডানা মেলে যাচ্ছে দূরের দেশে  আর হলনা অঙ্ক করা, থাকবে ফাঁকা খাতা ?  মেঘের ভেলা এঁকে দিলাম অমনি দু'তিন পাতা।   .   .  .  .  .  . ------------------- স্বপনকুমার বিজলী  জোকা, কলকাতা , 

কান্তিলাল দাসের কবিতা

শীতের এ-বাংলায় । উত্তরবায়ু দিয়ে গেল চিঠি হেমন্ত যায় চলে আনছি সে ঋতু দেরি নয় আর চেনো যাকে 'শীত'বলে। সাঁঝে কুয়াশায় সকালে শিশিরে হিম হিম অনুভবে বুঝেছে মানুষ শীতের পোশাক লাগবে এবার তবে ! বের হয়ে আসে সোয়েটার টুপি শাল ও চাদর যত কম্বল লেপ রাত্রে শয়ণে প্রয়োজন অন্ততঃ। উঠেছে শীতের সব্জী বাজারে সিম কপি মুলো লাউ শাক পালঙের লাউ ও মেথির সকালেই কিনে নাও । উঠছে কমলা আপেল পেয়ারা শীতদেশ হতে ক্রমে জয়নগরের মোয়া এল ওই খাওয়াদাওয়া যাবে জমে। আহা নলেনের গুড় আসে ওই   পিঠে সাথে মোলাকাতে জমে পার্বণ শীত রজনীর নবান্ন ঘ্রাণ তাতে ! আলুখেত দেখো সেজেছে সবুজ সরিষা কনক সাজে ভরিয়েছে মাঠ ভরিয়েছে মন রোদের কাঁকন বাজে ! আসে পরিযায়ী পাখিরা এখন সাঁতরাগাছির ঝিলে গজলডোবায় নামে ঝাঁকে ঝাকে আরো কত খালে বিলে। বনভোজনের বাহানায় যারা বেরিয়েছে কাছে দূরে ডেকেছে প্রকৃতি আসলে তাদের হৃদয় বেজেছে সুরে ! ফুলে ফুলে আজ ছেয়েছে বাগিচা নয়নাভিরাম সাজে আমন্ত্রণের বিনীত হাসিটি দেখি যে তাদের মাঝে। চলো ঘুরে দেখি প্রজাপতি কত রঙ চুরি করে ওড়ে ফুলেদের সাথে মিতালি ...

সুনন্দ মন্ডলের কবিতা

সুদখোর                    রক্ত জল করা ফসল বিকোয় জলের দামে বছর শেষে কানাকড়ি পরে থাকে তলানিতে তারও ভাগ লাগে গ্রামের মহাজনকে যাঁতাকলের রস পিষে নেয় সে সবার। কৃষক নয়তো মজুর গোলামী খাটে আজীবন বউ ছেলে মেয়ে বন্ধক দিতে হয় গতর গেলে। একেকটা অসহায় জীবনের সলতে বেঁচে থাকে খড়ের চাল জড়ানো ঘরে। নির্দয় মহাজন এক টাকা ধার দিলে অসময়ে সময়ে উসুল করেন ঢের বেশি দামে। নিঃস্ব মজদুর হাতের মুঠোয় যা ধরেন মেলে পোষাই না টাকার গন্ধওয়ালা বড়লোকের।                 ----------- ছাপাখানা                   আলো আঁধারী জীবন চড়ে কালির সুখটানে আঁকা নীরবতা। শব্দরা কথা বলে অক্ষরের গায়ে ভালোবাসা মায়া স্নেহের চিরকুট বয়ে আনে খটখট টাইপে নানা রঙা ফসলি হয়ে বেরিয়ে আসে। জীবন কলের চাকার আগে আগে ঘোরে ব্যর্থ কেন হবে? নদীর খেয়ালে জল যেমন স্বচ্ছ কালির আমদানিতে লেখাও তেমন সরল। কয়েকটা ঘন্টা অতিক্রমের সময় চায় তারপর এঁকে দেবে পদটিক...

প্রসুন কুমার মন্ডলের কবিতাগুচ্ছ

1 ঈশ্ বলতে ইচ্ছে করে অর্ধমানব বানিয়ে ভূমিষ্ট  না করার থেকে গত রাতের ফেলে রাখা কন্ডমে পিছলে পড়া ভালো এত বুঝি আমরা তবুও গলির রাস্তায়  নতুন আলো দেখলে ঈশ্ বলতে ইচ্ছে করে।         2         অনুভূতি আজ দিনের শেষ ট্রেনটা ছাড়িয়ে একরাশ অবসন্নতা নিয়ে জীবনের  স্টেশনে আমি একা রাশি রাশি ভালোবাসা আর  তোর স্মৃতি নিয়ে ঘর ভাঙা শালিকের মতো তখনো স্বপ্ন বুনে চলেছি বয়স বাড়ার দ্বায়িত্ব আর  তোর অপেক্ষার নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় নেই    3 মানবিকতার আত্মহত্যা  সেদিন অভিমানের জেদে ভালোবাসাকে হেরে যেতে দেখলাম অপেক্ষা এখনো পিছু ছাড়েনি দেওয়ালের টিকটিকির ওজন বৃদ্ধিতে  আমার কোনো হিংসা নেই কিন্তু তোমার শাড়ির ফাঁকে আর কেউ উঁকি দিল না তো মন খারাপের রাতে অ্যালকোহলে  ডুবে থাকার মতো প্রেমিক হয়তো আমি নই নক্ষত্র সংখ্যার থেকেও ভালোবাসি তোমায় সুস্থ মানবিকতার আত্মহত্যার আগে আবার একটু ভালোবাসতে পারতে  4           তুমি ভা...

কবিতা ভট্টাচার্যের কবিতা

এখানেই ঈশ্বর এই ঘরটা ঈশ্বরের ঘর   এখানে নিঃশব্দের পাশে অপরূপ - নিস্তব্ধতা   এখানে অত্যন্ত আকর্ষণ   কতবার ছুঁয়েছি , ফ্যালফ্যাল               চোখে দেখেছি   উঁচু নিচু মাঝারি সারি            সুন্দর স্রষ্টার সৃষ্টি ।             এদিকে পদ্য , এদিকে সাহিত্য   পরিপূর্ণ রচনার সম্ভার                 মন্দির চত্বর লক্ষ্য তারার সাথে অসংখ্য   প্রদীপ জ্বলজ্বল করছে   যেন এক পৃথিবী , সবাইকে ডাকছে আকুল আবেগে           কী অদ্ভুত সুন্দর ।

সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতা

লক্ষ্যভ্রষ্ট পথিক আমি, পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে ঠিক যেভাবে ছোট্ট নদী ছুটতে-ছুটতে দারুণ বাঁচে! মাধুকরী করেই আমি পাহাড় দেখে ঝর্ণাতলে সেই যেখানে অরণ্য-বন ভালবাসার কথাই বলে; সেই সে দেশে যেই না গেছি ছুটতে ছুটতে হন্যে হয়ে নদীও দেখি দারুণ খুশি, আমার জন্যে যাচ্ছে বয়ে। টুনটুনিটার মতই সরল, আমার হাতে রাখল সে হাত তারপরে তো আপন হল, নদীর সে গান, জলপ্রপাত। ছপ-ছপা-ছপ সাঁতরে শুধু ডুব-সাঁতারে, চিৎ-সাঁতারে যাচ্ছি ডুবে উঠছি ভেসে কুল না পেয়ে সেই পাথারে। এরপরে তো হঠাৎ করে সেই ফোয়ারা উথলে ওঠে এমনি করেই ঝলমলিয়ে বাগানজুড়ে গোলাপ ফোটে। গেলাম ভুলে পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে বন্দী আমি আটকে গেছি, আটকে গেছি তোমার কাছে! ========================================= Sudipta Biswas,Deputy Magistrate & Deputy Collector,(WBCS Exe.), Nokari Uttar Para, PS-Ranaghat,Dist- Nadia ,

চিরকুটের কবিতা

যৌবন এখন আর আকাশ থেকে ফুল পড়ে না নদীর জল বিষাদের পাঁকে জর্জরিত চাঁদের আলোয় কেউ গা ধোয় না পড়ে থাকে বাঁশি কোন সে অন্দরে ! পাতার ফাঁকে রঙিন স্বপ্নেরা উকি দেয় ঠিকই তবে কোথাও যেন মনোমালিন্য ঝলসানো যৌবনের শেষ কুঁড়ি বাস্তবের দরবারে মাথা কুটে মরে ।  আসলে নুনের দাম অনেক বেশি কাঁচা দেয়ালের ঘরে । ব্যর্থ প্রেম একরাশ নিশ্ছিদ্র ধোঁয়ার মাঝে একটা নরম গোলাপ কখন বিষিয়ে গেল ! টের পেলোনা কেউ ।  দুরন্ত রোদ্দুরের মতো আবিষ্কার করি একটা জলজ্যান্ত আধপোড়া ভালোবাসা  থকথকে কালো রক্ত ভিজিয়ে দেয় আমার সকাল সন্ধ্যা ।  গভীর রাত্তিরে নিদ্রার ভেতর এক ঝাপসা পথ বরাবর দুইকুল ছাপিয়ে প্রেম এনে দেয় আমার মেঘবালিকা ।  তোমার শহরে আমি বহমান এক ধূলিকণা হলেও আমার গল্পে তুমিই নায়িকা ।  ======================= সুশান্ত কোড়া প্রযত্নে নৃসিংহ ঘোষ গুরুপল্লি পশ্চিম ( ভোডাফোন টাওয়ারের কাছে )  শান্তিনিকেতন বীরভূম

শেখ সামসুল হক এর একগুচ্ছ কবিতা

যাও   ফিরে   যাও গাছের   পাতার   সবুজ   খোয়ানো   ছবি ইথিওপিয়া   নয়   এই   বাংলাদেশে দেখছি   অবশেষে   তাই   বাংলাদেশে আবারও   হৃদয়   খুন   দেখতে   হবে  ? সোনার   মানুষ   হারাতে   দেবোনা   আমি যে   করেই   হোক   বিনাশ   ঠেকাতে   চাই উতাল  - মাতাল   অদিন   আসছে নিকটে   বিকট   শকুন   উড়ছে সামনে   পিছে   ডাইনে   বায়ে বাঁচার   চেয়ে   মরাও   ভালো আওয়াজ   তুলে   বলছে   কি   সব মায়ের   কোলের   অবুঝ   শিশুর অকাল   মরণ   জল   পিপাসায় তাই   যদি   হয়   বেশ   তুমি   থাকো যে   করেই   হোক   হৃদয়   খুন   ঠেকিয়ে   আসি যাও   ফিরে   যাও   খরার   মরা   বাংলা   ছেড়ে। নিখোঁজ   সেই   ছবি তুমি   এখনো   অজানা   এক ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায় লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজনা — মধুসূদন থেকে জীবনানন্দ (প্রথম অংশ ) রণেশ রায়    ১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত: জীবনী, সাহিত্যপ্রতিভা ও আত্মোপলব্ধি জীবনী মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন যুগান্তকারী কবি। অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে, এক সমৃদ্ধ জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পাশ্চাত্য সাহিত্য, গ্রিক-রোমান পুরাণের প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ছিল ছাত্রজীবন থেকেই । সেই আকর্ষণই তাঁকে পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রেরণা দেয়।তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের এক দিগন্ত রেখা। যুবক বয়স থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন।তিনি ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কলকাতার স্কুল-কলেজে পড়তে শুরু করেন। তৎকালীন পাশ্চাত্য জীবনাদর্শ, বিশ্বযুড়ে সামাজিক পরিবর্তনের ঢেউ,মানবতাবাদী দর্শন —এসব তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে । তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে "মাইকেল" নাম গ্রহণ করেন—যা ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজে অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তিনি বিচ্ছিন্ন হয় পড়েন তার নিজ-জনের কাছ থে...

স্বাধীনতা দিবস ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)

স্বাধীনতা দিবস অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস) ভোরের বেলা বর্ষণের                    ঝমঝম ছন্দে, ঘুম থেকে উঠে        মেঘ জমা মনে ; বাদলের লুকোচুরি খেলা। পুবের আকাশ থেকে এক টুকরো সূর্য রশ্মি, চকচকিয়ে পাত্রে রাখা                  পদ্ম পাতায় পরে। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের সাথে         শ্বেত করবীর দোলা। দক্ষিণা আকাশে যেখানে             জলের রেখা দিগন্তে মেশে ; ঠিক সেখানেই উঁড়ে যায়                    পাখি পক্ষীর দল। পশ্চিম দিকে কালো মেঘে ঢাকা গাছের ফাঁকে শুধুই তারেই দেখা।         উত্তরেতে বহু দূরে............... ভেসে আসে গানের সু...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...