Skip to main content

বেড়িয়ে এলাম ঝাড়খণ্ডে ।। শিবপ্রসাদ পুরকায়স্থ

[ভ্রমণ]

বেড়িয়ে এলাম ঝাড়খণ্ডে

শিবপ্রসাদ পুরকায়স্থ

      ২৫শে ডিসেম্বর। সকাল ৬-৫এ হাতিয়া এক্সপ্রেসে, রাঁচির ষ্টেশনে পৌছলাম। ষ্টেশনে নেমে চারদিকটা একনজরে দেখে নিলাম। হালকা অন্ধকার ভাব। কুয়াশায় যেন ধোঁয়া আটকা পড়েছে। শরীরে ঠান্ডা টের পাচ্ছি। গায়ে গরম পোশাক চাপানো। এখানে আসার আগে যেমনটা ঠান্ডার গল্প শুনেছিলাম, তেমনটা এবারে হয়নি।
      পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ষ্টেশন চত্তর। চলমান সিঁড়ি দিয়ে ওপারে পেরিয়ে গেলাম। পরিপাটি করে সাজানো গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। আমাদের নির্ধারিত গাড়ির চালক, ইমরান আনসারি। কালোসাদা বড় মাপের রুমালটি নাড়িয়ে নিশ্চিত করলেন। আমরা দুটো গাড়িতে উঠে পড়লাম। কে কোন গাড়িতে উঠবে আগেই ঠিক করা ছিলো। গাড়ি ষ্টেশন ছেড়ে সরু পথের মধ্যে দিয়ে গিয়ে হাইরোডে ছুটে চলল।
       তখন চারিদিকে শুনশান পরিবেশ। রাঁচি শহরে তখনও অধিকাংশ চোখের পাতা খুলবার সময় হয়ে ওঠেনি। বেশ কিছুটা পথ যাওয়ার পর হনুমানের কারুকার্য করা অসম্পূর্ণ মন্দিরের পাশ ঘেঁষে অপ্রসস্ত গলিপথে ঢুকে পড়ল। সামনে চলমান বিজ্ঞাপিত লেখায় হোটেল নটরাজ [Hotel Nataraj] আবাসিক দেখতে পেলাম। পথের পাশে আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল। প্রথমে এই জায়গাটি কোথায় ড্রাইভার বুঝতে পাচ্ছিল না। যাক শেষ পর্যন্ত পাওয়া তো গেল।
      পীযূষবাবু ফোনের পর ফোন করে হোটেলের দরজা খোলালো। দেখলাম দায়িত্বে যাকা কম বয়সি দুইছেলে চোখ কজলাতে কজলাতে দোর খুলে দিল। আমরা যে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠতে চলেছি ঠিক তার দুহাত দূরে মেঝেতে বিছানা করে ঘুমচ্ছিল এরা। যে যেখানেই ঘুমুগ্যে না, আমরা পয়সা দিয়ে ভালো পরিসেবা পেলেই হলো। পাশ কাটিয়ে ওপরে উঠে গেলাম।
      এখানে আমার অর্ধাঙ্গিনী নেই। ঘর বাছাইয়ের প্রশ্ন ওঠে না। সবাই জানে আমি সাহিত্যমনস্ক মানুষ। যে ঘরটাই পাবো তাতেই খুশী। আমাদের কক্ষ পড়েছে চলতি রাস্তার ধারে। আমাদের বলতে, গোপালদা। আমি দাদা বলেই ডাকি। সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ। আপাতদৃষ্টিতে গুরুগম্ভির। মিশলে বুঝবেন বাইরের খোলশ দেখে মনগড়া ধারণা করা ভুল, তা প্রমাণ হবে।
      আমাদের কক্ষের ঝুল বারান্দা আছে। কাচের পাল্লা খুলে বাইরে গিয়ে দাঁড়ালাম। সেখান থেকে রাঁচি শহরের অনেকটা দূর পর্যন্ত দেখা যায়। পুরোনো পাকা জরাজীর্ণ বাড়ির  পাশাপাশি হাল আমলের ঝকঝকে বহুতল  আবাসিক। বিভিন্ন নামে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। যেহারে জায়গার দাম বাড়ছে। প্রোমটারের থাবা থেকে পুরোনো বাড়িগুলো বাঁচানো কতদিন যাবে। আরও কতকিছু মনে আসছিল। এমন সময় দাদা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। শিবু, সকালের ঠাণ্ডায় বেশিক্ষণ থাকা ঠিক না। দাদার কথা অন্যথা না করে ভিতরে ঢুকে গেলাম।
      গরম জলে স্নান সারা হয়ে গেছে সবার। বাইরে থেকে চা এনে পানের পর্ব সমাপ্ত। নেতার হাটে দশম ফলস ( Ten Water Fall ) দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। দর্শনীয় স্থানে পৌঁছিয়ে গেলাম। দেখলাম অনেকটা উঁচু থেকে জলের খরধারা প্রবাহিত হচ্ছে। অমি, ডাক্তারবাবু ও ঈশানী অনেকটা নিচুতে নেমে গেলাম। ঝর্ণার জল ছুঁয়ে ছবি তুললাম।
      দ্বিতীয়বার পাঁচমুখী বা পঞ্চ ঘাঘ জলপ্রপাত (Panchghagh Water Fall) লক্ষ্য করার মতো। এর বৈশিষ্ট্য আবার আলাদা। এই ঝর্ণাটি যে পাথর খণ্ডগুলো মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে অনেককিছু মনে করিয়ে দেয়। প্রতিটি পাথরখণ্ড আড়ায়াড়ি ভাবে আছে। বিভিন্ন আঙ্গিকে তার অবস্থান। এই পাথরগুলো দেখে আমার যা মনে হয়েছিল সেটাই বলি। সকর্মে যুক্ত ব্যক্তিরা তার প্রিয়বস্তু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবে। চকখড়ির আকার।  গ্রন্থের আদল। আস্ত কঠের গুঁড়ি। আরও কতো বিচিত্র রূপে পড়ে থাকা পাথরগুলোকে চিন্তিত করে যায় বা কল্পনায় ভেবে নিতে পারি।  যেমন বৈকালিক অস্তগামী ভাসমান মেঘগুলো এক দৃষ্টে দেখলে প্রতিমুহূর্তে কতকিছু চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। তেমন এই পঞ্চঘাঘের পাথরখণ্ডগুলো।
      সারাদিনের পাহাড়ি ঝর্ণা দেখার আনন্দ নিয়ে রাঁচি শহরের মধ্যে দিয়ে রাঁচিতে অবস্থিত আবাসের দিকে চলেছি। চারিদিকে আলো ঝলমল করছে। এখন বিবেকানন্দ রকে বিপরীত দিক দিয়ে ফিরছি। বিবেকানন্দের পূর্ণাঙ্গ মর্মর মুর্তি জলের মধ্যস্থলে দণ্ডায়মান। হনুমানজির মন্দিরে সকালে যেখানে ফাঁকা পড়ে ছিল এখন নেই। সেখানে চারচাকার ঠেলা ডালায় গরম পোষাকের ঢালাও ব্যবসা চরছে। তাই আমাদের গাড়ি উলটো দিকের পথে গলির মধ্যে ঢুকেছিল। ভেবেছিলাম সকালের মতো ভুল পথে ঘুরছে নাকি। আমাদের খাবার হোটেল হনুমানির মন্দিরের পিছনে। সরু পথ পেরিয়ে এই হোটেলটি। আমরা খাওয়ার আগে ও পরে পোষাকের বাজারে ঘুরলাম। দামও করলাম। ভীষণ ভালো সোয়েটার অনেক কম দামে এখানে পাওয়া যাচ্ছে। যখন দেখছি একে একে দোকান গুঠিয়ে নিচ্ছে, আমরাও রাত্রি যাপনের জন্য আস্তানার দিকে পা বাড়ালাম। সারাদিনের ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছে।
      ২৬শে ডিসেম্বর। দাদা, ভোর পাঁচটায় প্রাতঃভ্রমণে যাওয়ার জন্য ছটফট শুরু করে দিয়েছে। সাহিত্যসম্মেলনে যাওয়া শান্তিনিকেতনে প্রাতঃভ্রমণের ভূত রাঁচিতে ভীষণ ভাবে মাথায় চেপে বসেছে। সেখানেও এই অধম সঙ্গী। আমি বললাম দাদা ওরা এখনো গেট খোলেনি। আমাদের সবাই এখনো  ঘুমিয়ে আছে।
-চল, না গেলে খুলে দেবে কি? বাইরে এসে ঘুমিয়ে কাটালে, বাড়িতে থাকতে কি হয়েছে। -আমি তা বলছি না।
-কিছু বলতে হবেনে, চলো নিচে যাই।
হালকা আলোর মধ্যে সাবধানে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে গেলাম। নিজেরাই গেট খোলার নিষ্ফর চেষ্টা চালালাম। যদিও উচিত হয়নি এমন অস্বাভাবিক আচরণ করা। যাইহোক  ওপরে উঠে যাবো কিনা ভাবছি। রিসেপশানের ওদিকে থেকে মেঝে ফুঁড়ে কেউ যেন উঠে দাঁড়িয়েছে। ' উধার নেহি' বলে অনেকটা দৌড়ে যাওয়ার মতো করে অন্ধকারের দিকে চলে গেল। আমরা ভাবছি 'উধার নেহি কিউ, ইধার যানা পড়ে গা' বাংলায় কিছু বলে গেলে নিরাপদ বোধ করতাম। ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। কী করব এখন। যে পথে এসেছি, সেই পথে ফিরে যাবো।
     এমন সময় ছেলেটি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আর কোথাও নয়, প্রাতঃকৃত্য সারতে গিয়েছিল।এসে জানালো, সামনের দরজা খোলার এখনো সময় হয়নি। দাদা তাকে হিন্দিতে বুঝিয়ে দিলেন। প্রাতঃভ্রমনের জন্য বাইরে যেতেই হবে। আমি বুঝতেই পারলাম না। দাদা তো নির্মল বাংলায় শব্দগুলো উচ্চারিত করলেন। যেখানে ছিটেফোঁটা হিন্দিভাষার টান নেই। আমাকে তো সুযোগ পেলেই বলেতে ছাড়েনা, 'শিবু লেখালেখি করছ, বাইরে বেরুচ্ছ। একটু আধটু অন্তত হিন্দি বলতেই হবে'। দাদা ছেলেটাকে আচ্ছা করে বোঝাচ্ছিলেন। হোটেলে বিভিন্ন ভাষার মানুষজন নিয়ে কাজ করবার। তাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি। বাধ্য হয়ে বাথরুমের পাশ দিয়ে পথ দেখিয় দিল। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ভাষার বেড়াজালে থেকে মুক্তির স্বাদ পেলাম। এখন পথে বেরিয়ে হনুমানজির মন্দিরের দিকে যেতে থাকলাম। রাতের খাওয়া হোটেলের সামন দিয়ে হনুমানজির বিপরীত দিকে মন্দিরের গা ঘেঁষে চায়ের দোকান। সেখানেও দাদা নির্মল বাংলায় শারীরিক ভাষা সহযোগে দোকানীকে বুঝিয়ে দিলেন। 'দু'কাপ চা দিন আমরা এখানে খাবো। দশ কাপ আপনাদের কোনো জায়গায় দিন নিয়ে যাবো। আমরা পনেরো জন নটরাজ হোটেলে আছি। আরও অনেক চা লাগবে। বোঝানোর পালা প্রায় শেষ, এখন অপেক্ষায় থাকা।
      এই সুযোগে দুএকটি কথা জানিয়ে রাখি। হনুমানজির মন্দির বলছি বটে। আদপে কয়েক তলা বিল্লিং। যখন বাদ্যযন্ত্র বাজে বহুতল কাঁপে। এই কাঁপন ভক্তদের কাঁপায় বলে তো প্রণামিতে কৃপণতা করার অবকাশ থাকেনা। মন্দিরের সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখেছি। একভদ্রলোক শেতবস্ত্র পরিবৃত হয়ে, হাতে চামর নিয়ে মনে হয় ছোটছুটি করছে ভিতরে।  কী বলব কাশ্মীরী আপেলের মতো গায়ের রঙ। আর ভক্তদের রুক্ষ্ণ শরীর না হলে তো ভক্তি মাঠে মারা যাবে। ধর্মব্যবসায় কতকিছুর প্রয়োজন হয়। ভাবলে অবাক হতে হয়।
     এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সকালে এখানে পাইকারি সবজির বাজার। এখন থেকে ছোট ছোট দোকানীদেরে প্রয়োজন মতো কিনে নিয়ে যায়। সারাদিন ফাঁকা পড়ে থাকে। সন্ধ্যায় মন্দিরের ওপারে গরম পোশাককের অস্থায়ী দোকান আগের দিন জেনে গেছি। আমরা চা বিস্কুট খেয়ে, ফ্লাক্সে চা নিলাম । এখন ওপরে ওঠার মুক্ত দরজা পেয়ে গেলাম।  ততক্ষণে নটরাজে নটরাজের নৃত্য শুরু হয়ে গিয়েছে। ঈশানী অস্থির করে তুলেছে, দাদাই দাদাই করে। দাদাকে দেখে শান্ত হলো।
     কাজলদি দুজনের দেখে জানতে চাইল, বাবুরা সব কোথায় গেছেলে। যখন জানল সকালে বেড়াতে গিয়ে ছিলাম। চা বিস্কুট খেয়ে  অল্প চা নিয়ে এসেছি। এই চা'য়ে সবার হবেনা। আরও চা আনতে হবে। আমি যেতে রাজি, দাদা আমাকে একা ছাড়বে কী করে হিন্দি বলয়ে।
      চায়ের সঙ্গে যার যা সঙ্গে ছিল খেয়ে নিচে নেমে এলাম। আমাদের গাড়ির চালক ইমরানদা। আমার নাম যে শিবু জেনে গেছে। রাঁচির প্রাক্তন মূখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন। আমাকেও শিবু সোরেন নামে মজা করে ডাকতে শুরু করেছে। আমিও মুচকি হেসে উপভোগ করছি। যাইহোক দুটো গাড়ি ভ্রমণের জন্য বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়। আমরা হুড্রু ওয়াটার ফলস (Hundru Water Fall) দেখার জন্য মূল জায়গায় পৌঁছে গেলাম। এখন ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার জন্য যাওয়া-আসায় মোট ১৪৮৪ টা পোটে ভাঙতে হবে। শুনে প্রথমে দিদি ও পীযুষাবু না করে দিল। অনেকেই মনের জোরে নামতে শুরু করলেও শেষ পযর্ন্ত নামতে পারেনি। অতৃপ্ত মনে উঠে আসতে হয়েছে।
      আমি নেমে গিয়েছিল শেষ ধাপে। যেখানে সবাইকে দাঁড়িয়ে দু'দণ্ড ভাবতে হবে এবার কী করবে। 'ওই দেখা যায় বাবার মন্দির-' বলে প্রণাম করে ফিরবে। না ঝর্ণা প্রপাতের তলদেশে গিয়ে দাঁড়াবে। বিপদ যদি হয়, সেই বিপদের সম্ভবনা এবার প্রবলভাবে রয়েছে।ঈশানী পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তারবাবু প্রায় কাছেই আছে। মেয়ে বাবার কাছে আবদার করললো ঘুর্ণিয়মান চাকতির ওপর দাঁড়িয়ে রানিং ক্যামেরায় ছবি তুলল। ঈশানী টাইটানিকের নায়িকা যেভাবে দুদিকে হাত  মেলে ছুটন্ত জাহাজে দাঁড়িয়ে ছিল তেমন পোজ দিয়েছে। ছবি তোলা হয়ে গেলে মনে হবে। আমাদের বড়মেয়ের চারদিকে পুরো পাহাড় গাছপালা সমেত ঘুরছে। এই বয়সে এরা তুলবে না তো ষাট পেরিয়ে যাওয়াদের মতো ভয়ে কুঁকড়ে থাকবে। ছোটদের নিষেধের বেড়িতে আটকে রাখলে তারা তা মানবে কেন।
      চাকতিতে ঘুরে ছবি তোলা বিপদের ছিলনা। ওই ঘুর্ণিয়মান চাকতি বসানো ছিলো ভগ্ন পাহাড়ের কানা ঘেঁষে। মেয়ের ছবি তোলা শেষ। আমি এই সময়টায় ভাবছিলাম কী উপায়ে অসংখ্য ভ্রমণার্থী গভীর খাদে ওপর থেকে ঝরে পড়া ঠান্ডা ঝর্ণার জল নিয়ে কতভাবে যে জলকেলি করছে। কঠিন হলেও সহজে নামার পথে তখনও আবিষ্কার করে উঠতে পারিনি। ঈশানী যেদিকে ঘুরছিল, এদিকে টুকরো টুকরো পাথরখণ্ডের ওপর দিয়ে    অনেকেই নামতে দেখে আমিও দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। মেয়ে বলল,ও শিবুমামা চলো ওদিকে যাই। হ্যাঁ বলে পা বাড়িয়ে দিলাম।
     আর পেছনে তাকানোরও  সময় নেই। দুজনের মনের ইচ্ছে ওই ঝর্ণার তলায় যাওয়ার। একের পর এক পাথরখণ্ডের ওপর দিয়ে দুজনে চলেছি। এক পাথরে দুজনে নেই। এগিয়ে চলেছি আমি, মেয়ে পেছনের পাথরে। মেয়ের পায়ে সু। আমার পায়ে নতুন চামড়ার জুতো। জুতার তলার খাঁজ ক্ষয়ে জায়নি। মেয়েকে বলে দিয়েছি। হঠাৎ শরীর টলে গেলে হাত ছড়িয়ে বসে পড়বে। যেন পাকা প্রশিক্ষকের ভূমিকায় নিজেকে ভাবছি। সামনে পেছনে তাকাতে তাকাতে পা ফসকে অল্পের জন্য বিপদমুক্ত হলাম। একটু থেমে আরও একটি পাথরখণ্ডে পা বাড়াতে যাবে আপাতত থেমে গেলাম। ওপর থেকে আমার নাম ধরে বলছে, ফিরে যাওয়ার জন্য। কার গলা আবার - দাদার। আর দু'তিনটে পাথরের চাঁই পার হলে আমাদের উদ্দেশ্য সফল হয়। দাদা তো পোটের সংখ্যার শুনে নামতে নারাজ ছিল। ওইযে বাৎসল্য কতটা দুর্বল করে করে দিতে পারে এই মানুষটাকে না দেখলে বুঝতে পারবেন না। দুটো মেয়ে কৌশানী ও ঈশানী বাবা মায়ের সঙ্গে গেলেও দাদাইয়ের মনে সর্বদা সংশয়। ঠিক চলে এসেছে। আমি ঈশানীকে বললাম। মেয়ে তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকো। আমি একা ঘুরে আসছি। পারলে ওখান থেকে ছবি তুললে তুলতে পারো।
      যেভাবে নেমেছিলাম সেই ভাবে ওপরে দুজনে উঠে গেলাম। কৌশানী ঝাঁকে মিশে গেল। কিছু কেনাকাটায়, খাওয়াখায়িতে সঙ্গীদের অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমি কোথাও হ্যাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনা। ধাপে ধাপে একাই এগিয়ে চলেছি। যা ভালো লাগছে ছবি তুলছি। পথের চওড়া রেলিংএ আশপাশের পাহাড়ি বন থেকে সংগ্রহ করা গামার কাঠ। সেই কাঁচা কাঠে তলোয়ার তৈরি করে সাজিয়ে রেখেছে বেচার জন্য। সংগ্রহ করে আনা ফল, ফুল ছাড়াও স্থানীয় কতকিছু জিনিস পত্র বেচার জন্য খরিদ্দারের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। এইসব দোকান যারা দিয়েছে তাদের দেখে আমার মনে হলো অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষজন। আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবন যাপন করে।
       এক বাচ্চা মেয়ে হাত বাড়িয়ে কিছু চাইছে না। ছোট্ট কাঠের টুকরো যাকে সে তলোয়ার বলছে। কিছু শিল্পীর ছবির তলায় না লিখে দিলে কীসের ছবি বোঝা যায়না। ওই বাচ্চা মেয়টি অস্পষ্ট ভাষায় তলোয়ার না বললে সত্যি কিছুই বুঝতাম না। তলোয়ার নামক কাঠের টুকরো দশ টাকায় আমার কাছে বেচতে চায়। ইচ্ছে না থাকলেও দশ টাকা দিয়ে ওটা কিনে বাড়িতে এনেছিলাম। আমার ওই মেয়টির বয়সি নাতি খেলনা মনে করে কী খুশী না হয়েছে। কদিন ওটাই হাতছাড়া করেনি। শয়ণে, স্বপনে, খেলার অঙ্গনে হাতের কাছে রাখত।
       আমি তলোয়ার ছাড়া আর কিচ্ছুটি কিনিনি। হিড্রু জলপ্রপাত দেখে বা না দেখে সবাই একত্র জড়ো হলাম। ওখানকার পথের হোটেলে খেয়ে গাড়িতে বসলাম। এখন চলেছি জোহানা ওয়াটার ফলস (Jonhana Water Falls) দেখার জন্য। আমরা গন্তব্যে পৌঁছে ওখানকার দোকানীদের থেকে ফলমূল কিনে খাওয়ার ব্যস্ততায় কিছুটা সময় কাটালাম। এবার ধাপে ধাপে ওপরে উঠে দেখলাম সুন্দর পার্ক বানানো। পার্কের ভিতর থেকে এগিয়ে গেলাম ঝর্ণা দেখার জন্য। বাঁদিক ঘুরে পাহাড়ের গা কেটে তৈরি পথ দিয়ে এগিয়ে চলেছি কতো নিষেধ নির্দেশিকা মেনে। প্রথম বুঝতেই পারিনি ঝর্ণা কোথায়। কতদূর গেলে দেখতে পাবো। আমাদের পনেরো জনের কে কার সঙ্গে কোথায় ছড়িয়ে পড়েছে বোঝা যাচ্ছে  না। এমন অন্য কোথাও হয়নি। শারীরিক অক্ষমতা মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি দেখছি সামনে দিদির সঙ্গে অনেকে বসে আছা। সামনে একটা দল এগিয়ে গেছে। আমি সামনে পেছনে না ভেবে একাই চলতে শুরু করেছি। বুঝে ফেলেছি এখানে দ্বিতীয় পথ নেই। যারা বসে আছে,আর যারা ঝর্ণা দেখতে গেছে তাদের জন্য অপেক্ষা করবেই। পৃথিবী গোলের তথ্য এখানে খাটবে।
      আমি গাছপালার ফাঁক দিয়ে দেখতে পেলাম খুব উঁচু থেকে ঝর্ণার জল ঝরে পড়ছে। আমার মনে হলো হুড্রুর থেকেও অনেক উঁচু। সামনে ঝুলন্ত সাঁকো। দেখতে পাচ্ছি পিঁপড়ের সারের মতো দর্শনার্থীরা যাতায়াত করছে।এই ঝুলন্ত পাহাড়ি পথে দুই পাহাড়ের মানুষজন যাতায়াত করতে পারে। এক সময় মাওবাদীরা ওই পথটাই নিজেদের কাজে লাগিয়েছে। আমি আর এগিয়ে না গিয়ে মাঝ পথে পায়ে হাঁটা পথ দিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেলাম। ওই ঝর্ণার জল বয়ে চলেছে আমার সমন দিয়ে। একদম কাছে না গেলেও স্পষ্ট ঝর্ণা দেখতে পাচ্ছি। পাথরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছি। জলে হাত দিয়ে দেখছি বেশ ঠাণ্ডা। পা ডুবিয়ে নিলাম। কতটা সময় পেরিয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। কে কোথায় আছে জানিনা। এখন আমি একা, সত্যি আমার একা লাগছেনা। গাছপালা পাথর, মাথার ওপর খোলা আকাশ, পায়ের তলায় প্রবাহিত শীতল জলধারা আমার আপন হয়ে উঠেছে।
      হঠাৎ ঘোর কেটে গেল। কে কোথায় অপেক্ষা করছে বুঝতে পারার কথা নয়। তাড়াতাড়ি সংকীর্ণ পাথরের চাঁইয়ের ফাঁক গলে ওপরে উঠে এলাম। ফেরার পথের দিকে এগিয়ে যেতে দেখলাম দিদির উদ্বিগ্ন। কী ব্যাপার জানতে চাইলাম। মানতু,মহুয়া তারা কোথায়? ওই পথ দিয়ে নামতে তো দেখলুম ওদের। আমার মতো নিচে নামার পাগলামীতে পেয়ে বসেছে। অনেক্ষণ বলছে, দুটো মেয়ের তো যাওয়া উচিত হয়নি। আবার ফোন ধরছে না। কী হলো বুঝতে পারছিনা। অতো গড়েনে কেউ নামতে সাহস পাচ্ছে না। আমি বললাম নেমে দেখছি কোথায় গেছে। চারদিকে নজর রেখে সাবধানে নামছি। ওইতো প্রবাহিত ঝর্ণার শীতল জলধার পাথরের নুড়িতে ধাক্কা খেতে খেতে বয়ে চলেছে। আর কোথায় নেমে খুঁজবো। তবে বেশ কয়েটা বড়ো পথরখণ্ড সামনের কিছুটা জায়গা আড়াল করে আছে। আমি তার ওপর দিয়ে খাদের জল দেখছিলাম। নিচের দিকে লক্ষ্য পড়লো গায়ের  সোয়েটার ঝাঁটি গাছের ওপর পড়ে আছে। বুকের মধ্যে ছ্যাঁৎ করে উঠলো। কাউকে তো দেখতে পাচ্ছি না। দিদির কাছে ফোন করেছি। কানে রিংএর শব্দ শুনতে শুনতে চলেছি। তেমন হলে ফোন কেড়ে নেওয়ার আগে দুঃসংবাদ জানাতে পারব। পাথরের বাধা দৃষ্টি থেকে সরে যেতে দেখি মানতু ডুবন্ত পাথরে বসে আছে, ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে। দুহাতে জল ছিটুচ্ছে। কি বলব, কী সুন্দর দেখতে লাগছে। যেন কোন রাজকন্যা সখীর সঙ্গে নিয়ে জলখেলা করছে। গুঠিয়ে নেওয়া বসনে মুক্ত চরণ স্বচ্ছ জলে মুক্তর মতো মনে হচ্ছে। তবে সঙ্গীটি জল খেলছে না। সম্ভবত ঘষে পায়ের ময়লা তুলছে। দেখে মনে হলো সময়ের অপচয় করেন না। এতো দূরে এসেও হিসাব বরাবর রেখেছেন। নতমুখে উভয় নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিল। মনে হলো আমাকে দেখতে পায়নি। আমি তৎক্ষণাৎ মুখ ঘুরিয়ে ওপরে উঠে আসতে চাইলাম। মানতু আমাকে ডাকল, ও- শিবেনদা, চলে যাচ্ছো? ওরা আমাকে ঠিক লক্ষ্য করেছে।
- তোমাদের খুঁজতে এখানে আসা। তবে এসো আমি যাই।
- কী যাই, আমাদের ছবি তুলবে না।
- বললে তুলব। আমি নিচে নেমে ওদের কাছাকাছি গেলাম। মানতুর কতরকমের ভঙ্গিমায় ছবি তুলতে হলো। মহুয়া বোনের ছবি না তোলার অর্থ একযাত্রায় পৃথক ফল, তা কি করে সম্ভব। ছবি তোলার সময় কোনপ্রকার অঙ্গভঙ্গীর অবতারণা করেননি। ছবি তুলতে হয় তাই তোলা। খুব সাদাসিদে মনের। আর মানতু ভীষণ আমুদে, হাসিখুশিতে থাকতে অভ্যস্ত।
      জোহনা জলপ্রপাতের দিক থেকে এসে বাড়ির পথে গেলাম না। বিপরীতে এগিয়ে গেলাম। সবাই খাদের পথ ধরে নিচে নামার সাহস দেখায়নি। পথের পাশে লেলিংএর ওপর বসে আনন্দ উপভোগ করছে। আমার একই গোঁ নিচে নামার। ডাক্তারবাবুকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধে মতো সরু পাথুরে পথে এগিয়ে গেলাম। এখানে রোপওয়ে সিষ্টেমে আছে। অনেক উঠছে। এখন বুটু থাকলে ঈশানীকে আটকানো যেতো না। পথরের ওপর দিয়ে জলাধারের কাছে তো যেতে পারি। মেয়ের ওখানে যাওয়ার ইচ্ছা। এখানে দাদার নিষেধ থেকে অনেকটা দূরে আছি। ডাক্তারবাবুর কথায় ঈশানী থামবে না। বেলা ডুবতে বসেছে দুঃসাহসিকতা দেখানো ঠিক নয়। মেয়েকে বললাম যাওয়া ঠিক হবেনা। চলো ফিরে যাই। ৪:২৪শে গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি ছুটল হোটেল নটরাজে। চলার পথে মহেন্দ্র ধনির বাড়িটি দেখে নিলাম।
      ২৭শে ডিসেম্বর। ৯:৪২শে সূচি অনুযায়ী ভ্রমণ শুরু হলো। প্রথম রাঁচির মানসিক রুগীদের হাসপাতালে। আমাদের দুটো গাড়ি গেট দিয়ে ঢুকলো তবে নামার অনুমতি ছিল না। বিশাল এরিয়া। ওখান থেকে বেরিয়ে গেলাম। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন তাঁর বাড়ি পেরিয়ে রক গর্ডেনে ঢুকলাম। একনজরে ঘুরে নিলাম। এবার পাত্রাতু লেক (Patratu Lake Resort. Patratu) ঘুরলাম। পরিপাটি করে সাজানো। 
 
Lake Resort, Patratu -Ranchi- Jharkhand -
 
আদিবাসীর যুগলমুর্তি দেখার মতো। যেন শিল্পীর তৈরি নয়। টিকিট কেটে হাইস্পিড বোটে লেকের মধ্যবর্তী পর্যন্ত পাক দিয়ে এলাম। বিশাল এরিয়া নিয়ে এই জলাধারটি। দেখলে ভয় পাওয়া মতো বটেই। ফেরার পথে কিং রেষ্টুরেন্টে ওই পাত্রাতু লেকের থেকে ধরা মাছ আর ভাত খেয়ে নটরাজে ফিরলাম। রাতে অর্ডার দিয়ে খাসির মাংস ভাত খেয়ে সেই রাতটা হোটেলে কিটালাম।
      ২৮শে আগষ্ট। সকল ৬:৩০শে চলেছি বেতলা ন্যাশানাল পার্ক (Betla National Park) অভিমুখে। এখন গভীর জঙ্গলের মধ্যে। ট্রেন লাইনের আগে গড়ি সারবেঁধে গড়ি দাঁড়িয়ে গেল। শুনলাম মালট্রেন পার হবে। দীর্ঘ সময় নিয়ে একটি মালট্রের জুড়ি পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দেখছি গেট খুলছে না। রাঁচির দিক থেকে আসা আরও একটি পার হলে তবেই খুলবে। ঘন জঙ্গলে হাড়হিম করা পরিবেশ। এইসব দুর্গম জঙ্গলে দুস্কৃতির আড্ডা। তারা এমন সুযোগে নিজেদের কাজে লাগায়। যাক গেট উঠে গেল, গাড়ি চলতে শুরু করেছে। নানা ভাবে পথে অনেকটা সময় হয়ে গেল। এদিন আর বেলতা ফরেস্ট  দেখা হলোনা। তেলতা ফরেস্টর বিশাল গেটের সামনে হাইওয়ে। ওই রাস্তা পেরিয়ে হোটেলে পার্ক ভিউতে ( Hotel Park View) বতর্মানে থাকার জায়গা। দুখানা বাথরুম সহ হলঘরে ( Dormitory) রানিং এগারো খানা বেডের ব্যবস্থা।আছে। আমরা পনেরোজন একে একে ঘরের মধ্যে ঢুকে গেলাম। এখানে বেশ ঠান্ডা অনুভব করছি। কাচ দুটো জানালায় ভাঙা। আপাতত কাগজ দিয়ে আটকানো হলো। অফিসে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
      পীযূষবাবু থাকবেন আর মজা হবেনা তা কি করে হয়। কার কোথায় ত্রুটি সেই নিয়ে ঘোটপাকিয়ে মজা করার উপাদন বের করেই তবে ছাড়বে। এইভাবে একঘরে থাকার এটাই সবচেয়ে আনন্দ উপভোগের মজাদার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। দীপ রেষ্টুরেন্টে থেকে রাতের খাবার দিয়ে গেল। খেয়েদেয়ে যেযার নিদিষ্ট জায়গায় ঘুমিয়ে পড়লাম।
      ২৯শে আগষ্ট। বেতলা ফরেস্ট সাফারি, ৭:৩০ থেকে  ৪:৩০ এই সময়ের মধ্যে দেখাশোনা করিয়ে গেটের বাইরে ছেড়ে দিল। জিমকরবেট জঙ্গলের থেকে বেশ খোলামেলা। অনেক দূর পযর্ন্ত দেখা যায়। হরিণ আমাদের কাছাকাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কয়েকটি বুনো শেয়ার রাত-দিন গুলিয়ে ফেলেছিল। আমাদের প্রথম গাড়ি যেতে দেখে ছুটে পালালো। বানরের লাফালাফি বনের থেকে সদর রাস্তায় গেটের সামনে বেশি। বানরের দৌরাত্যিতে হাতে কিছু রাখার উপায় নি। তবে দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস যাদের নেই, তাদের লুকিয় চুরিয়ে খেতে কষ্ট হয় এইযা।
       এবার  দীপ রেষ্টুরেন্ট থেকে টিফিন খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম, সবাই নয়। ডেলটাগঞ্জের দুবিয়া খাঁড় মার্কেট এবং পরসা নদী  তার ওপর দীর্ঘ ব্রিজ দেখার মতো। বালি মাড়িয়ে নদীর জলের ধারে গিয়ে দাঁড়ালাম। পা ডুবিয়ে কিছু দূর পযর্ন্ত হাঁটলাম। স্বচ্ছ জল হাতে মুখে দিলাম। যে যার মতো ছবি তুলে ডেরায় ফিরে এলাম।
      দুপুরের খাওয়া সেরে পালামৌ ফোর্স দেখার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। মূল রাস্তা
ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তায় চলেছি। সরু ঢালাই পথ। রাস্তার ধারেই সাধারণ মানুষের বাড়ি। ধারের ক্ষেত । সবজির বাগান। ক্ষেত খামারে মেয়ে মদ্দ কাজে ব্যস্ত। গাড়ির মধ্যে দেখতে দেখতে এগিয়ে চলেছি। বেশ ভালো লাগছিল দেহাতি গ্রাম্যচিত্র দেখতে। গ্রাম ছাড়িয়ে যাওয়ায় আর ঘরবাড়ি চোখে পড়ছে না। ঘন বনের মধ্যে ঢুকছি ক্রমশ। দুদিকের ঘন ঝাঁটি গাছ যেন ভিতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। কেন জানিনা তেমনটাই মনে হচ্ছিল।
    ফিরতি গাড়ি সামনে আসতেই কেউ কাউকে  পথ ছাড়তে পারছিল না। সরুপথ দিয়ে গুতাগুতি করে পার হয়ে গেল। আমাদের দুটো গাড়ি এক পদ্মপুকুরের কাছে দাঁড় করালো। এই পুকুরটিতে এক সময়ে রানি স্নান করত। পাহাড়ের ওপর এই ঐতিহাসিক পুকুর দেখার জন্য সুন্দর ওয়চটাওয়ার বানানো হয়েছে। আমরা অনেক চক্কর কেটে আসলাম। এবার পালামৌ ফোর্ট দেখার পালা।
      ভ্রমনার্থীরা প্রথম যেখানে এসে সবাই দাঁড়ায়। আমরা সব্বাই সেখানেই এসে দাড়ালাম। ছাদ খোলা বেশ চওড়া চওড়া প্রাচীর কয়েক মানুষ উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর ভেতর যাওয়া যাবে না গাছের জঙ্গল বসে গেছে। আমাদের ঘোরাফেরার মধ্যে চোখে পড়ল পাথুরে সিঁড়ি দেখে বুঝলাম উপরে ওঠা যায়। আমি,ডাক্তারবাবু,কৌশানী সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠলাম। তলাতেই বোঝা যায় না। প্রাচীরগুলোর মাথা বেশ চওড়া পথ। পথের ধারে এমনভাবে ঘেরা ওপর থেকে নিচে দেখা যাবেনা। নিচে থেকে কেউ আছে বোঝার উপায় নেই। সন্ধানী দৃষ্টিতে নিজেদের মতো ধারণা অনুভব করে নেমে এলাম। তবে মন চাইছিল না নামতে। আর কিছুক্ষণ থাকার ইচ্ছে ছিলো।
      এই ধংসাবশেষের বিপরীতে চলতি পথে দাঁড়ালে পাহাড়ের অতোটা উপরে বিশাল পাথুরে বাড়ি প্রায় অক্ষত। ওঠার তেমন ভালো পথ নেই। পূর্বে এখনকার মতো পাথরের টুকরো ছড়ানো ছিল, না তাও কী করে বলব। তলায় কয়েকটি সুড়ঙ্গ দেখেছি। ভিতরে খানিকটা ঢুকে বেরিয়ে আসি। সম্ভবত ওখানথেকেই ওপরে ওঠার পথ আছে বলে আমার ধারণা। যাইহোক লড়াই করে ওপরে উঠে আমরা তিনজন কী দেখলাম সেটাই বলি। সামনে অনেকটা প্রসস্ত জায়গা। সমান্তরাল দীর্ঘ প্রাচীর। দশফুট উচ্চতায়, ছয়ফুটের মতো চওড়া কপাট। দরজা নষ্ট হয়নি। গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম ছমছমে, থমথমে ভাব নিয়ে। ভেতরের ঘরগুলো দেখে গৃহস্থালির বলে মনে হলনা। আমরা প্রথমে যেখানে উঠেছিলাম হলে ওটাই রাজাবাড়ি। এখন থেকে নজরদারী করার মূল ডেরা। আমরা এখানেও পাথুরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠেছি। বাইরে প্রাচীর ভাবছিলাম, এতো যেন চীনের প্রাচীর। যেখান থেকে অনায়াসে পাহারা দেওেয়া যায়। আমরা দেখলাম পতাকা দেওয়ার বেদী আছে। যেখানে পতাকার দণ্ড পোতার মতো ছিদ্র করা আছে। আমরা যে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠেছিলাম, দ্বিতীয় সিঁড়িতে নামলাম। এই পালামৌ ফোর্স পুরোপুরি পাহাড়ের শেষ প্রান্তে। আমরা যেদিক থেকে এসেছি সমতল।
আরো অনেক দেখার ছিলো সম্ভব হলোনা। সূর্য ডুবতে বসেছে।এবার ফিরত হবে গভীর জঙ্গল এলাকা ছেড়ে।

##################

শিবপ্রসাদ পুরকায়স্থ
ডাক- লক্ষ্মীকান্তপুর জেলা- দক্ষিণ ২৪পরগনা। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত পিন-৭৪৩৩৪৫


 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

উদভ্রান্ত আমি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় একটা জীবন্ত আমি ঘুরে বেড়াই খাতার পৃষ্ঠায় ব্যর্থ প্রেম থেকে তুলে আনি নতুন অহংকার বস্তু কণার মতো ছড়িয়ে দিই দুঃখকে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত গড়ে ওঠে একটা বিরাট পথ যা তুমি পেরুতে পারো না আবার সরাতেও পারো না আর আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে বেড়াই নিজেরই কবিতার পংক্তিতে আমার দুহাতে এখন উপচে পড়ে দয়া গোটা পৃথিবীই মনে হয় ভীষণ আপন কেবল তুমি একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে বলে... ============== জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...