পুরুষ তুমি তরুণ মান্না তুমি রোজ রাত ক'রে বাড়ি ফেরো সে কোনো দোষের কথা নয় তুমি তো আর পাখি নও সন্ধ্যে নামলেই নীড়ে ফেরার আকুলতা জেগে উঠবে ডানায় তুমি পুরুষ, এ তোমার অধিকার । তুমি রোজ ড্রিংক ক'রে বাড়ি ফেরো সে কোনো দোষের কথা নয় সংসার-সমুদ্র মন্থনের হলাহল কণ্ঠ থেকে নামাতে সুরামৃতের দরকার, তা মানি তুমি পুরুষ, এ তোমার জন্মগত অধিকার । তোমার পোশাকে লিপস্টিকের দাগ সে কোনো দোষের কথা নয় আগুন দেখে পতঙ্গ যদি ঝাঁপ দেয় আগুনের কী দোষ তাতে দাহিকাশক্তি না থাকলে কীসের আগুন? তুমি পুরুষ, এসব তোমায় মানায়। তুমি নগ্ন হয়ে বাথরুম থেকে বের হও সে কোনো দোষের কথা নয় একা ঘরে বাবাই ঘুমিয়ে থাকে হঠাৎ যদি ঘুম ভেঙে যায় তার তুমি যেন লজ্জা পেয়ো না তুমি পুরুষ, ত...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...