Skip to main content

Posts

কবিতা ।। অঞ্জনা দেব রায়

  আয়োজন কখনো রং লাগে কখনো উজ্জ্বল হয় বাতাস যথাসাধ্য উড়িয়ে নিয়ে যায় তাকে কোনো কোনোদিন দরজা দিয়ে আমার ঘরে এসে থামা, আমি তার শুভেচ্ছা মাথা পেতে নিই - সমস্ত দিন টা শীতল থাকে । বহুদূরে অচেনা কেউ একজন  আমার জন্যে গান রচনা করছে  ভাবলে হৃদয় কেঁপে ওঠে  একদিন বাতাস আমার ঘরে  তাকে নিয়ে আসবে  ওই দিনট কত যে সুখময় হবে । তোমরা সবাই দরজা খুলে রাখ  ওই বাতাস ফুল উড়িয়ে নিয়ে আসছে পাপড়ির গায় এতোটুকু রং যায়নি  যায়নি উজ্জ্বলতা  দেখবে ঘরের মধ্যে তার জন্য  অনেক আয়োজন আছে ।

কবিতা ।। অমিত পাটোয়ারী

পনেরই অগাস্টের সকাল স্বপ্নের ভেতর মাইকেলবাবু কান মুলে বললেন, কী স্বপ্ন দেখেছিস বল ? — সিঁড়ির ওপর ওরা হেঁটে যাচ্ছিল। ওদের মুখ কখনো দেখা যায় না। যদিও আমি চিনি। আফটারঅল আমারই তো স্বপ্ন! তরুন হরভজন সিং-এর মতো ডানহাতে পাম্পের ভঙ্গি ক'রে বললাম, ইয়েস... ইয়েস... সেই মুহূর্তে হলে কী ভীষণ হাততালি! সেই মুহূর্তে হলে কী আনন্দ...  উত্তেজনা... মাইকেলবাবুর পিরিয়ড শেষ। হাসতে হাসতে তিনি ভ্যানিশ হয়ে গেলেন। কাঁধ চাপড়ে দিয়ে সুকান্ত বললো, কংগ্র্যাটস্ ভাই! — যেন অল ইন্ডিয়া ক্যুইজ় জিতে এসেছি, এইরকম একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিলাম ওকে! প্রথম ম্যাডাম দরজায় এসে বললেন – শুনলাম। ভালো লেগেছে। — আপনি কোথায় দেখলেন ? —আমাদের ফোনে কথা হয়ে গ্যাছে।                                  ভ্যানিশ দ্বিতীয় ম্যাডামকে আমি টিভি সিরিয়ালে, ওয়েব সিরিজে, বিজ্ঞাপনে... মাটি ফুঁড়ে সোজা বসে পড়লেন একেবারে পিছনের বেঞ্চে। পজ়... পজ়... লাল রঙের ব্লাউজ় , মুখের সামনে...পজ়। চশমা পরা বামাক্ষ্যাপা হঠাৎ প্রশ্ন করলো — দাদার নাম কী বৌদি ? আকাশ বাতাস বিদীর্ণ ক'রে পনে...

কবিতা ।। সুমিত মোদক

নতুন ভারত গড়ছি সাজছি আমি সাজছি , রণ সাজে সাজছি ; কপালে আমি ত্রিবর্ন রঙ আঁকছি ; সাজছি আমি সাজছি …     মা যে আমার , ডাক এসেছে ওই ; চারিদিকে কেবল শুনি – মা-ভৈ , মা-ভৈ …     আমি কি করে আর ঘরে বসে বসে থাকি  মা ! আমার আরেক মা যে ডাকছে ; আমার দেশ মাতৃকা , আমার ভারতবর্ষ ;     রাতের অন্ধকারে চুপিচুপি করা যেনো কাঁটা তার গলে ঢুকে পড়ছে  এপারে ! কারা যেনো সীমারেখা  লঙ্ঘন করছে ! আমি যাবো মা , আমি যাবো … সীমান্ত রেখা বরাবর আমাদের যে বীরসেনানী  দিন-রাত এক করছে , পাহারা দিচ্ছে ,  বুক পেতে আকলে রেখেছে আমাদের , আমাদের ভারত ভূমিকে ; আমিও সেখানে যাবো মা , সেখানেই যাবো …     সীমারেখা অতিক্রম যে  করে ঢুকে পড়েছে  মহামারী ; সেখানেও আমার খুবই প্রয়োজন , খুবই দরকারি ;     এ দেশ, সনাতন পরম্পরার দেশ ; এ দেশ, বৈদিক উচ্চারণের দেশ ; এখানে আমার মনুসংহিতা , আর্যভট্ট  … এখানে আমার চরকসংহিতা , কৌটিল্য … এখানে আমার রাম-রাবণের যুদ্ধ , অকালবোধন ; এখানেই বাজে পাঞ্চজন্য , বাঁশি-মোহন …     যে মাটিতে সোনালী ধান ফলে ; যে মাটিতে সোনা...

দুটি কবিতা ।। দেবাশিষ সরখেল

অর্থহীন   ফোন করলাম, সুইচ অফ। সেকেন্ড সেটটার উত্তর, গ্রাহক পরিষেবা সীমার বাইরে। এবার বন্ধুকে ফোন করি, হদিশ নেই। লজ্জার মাথা খেয়ে ওর মেয়েবন্ধুকে। না, সেও জানে না। বরং তাকেও উলটো উদ্বেগে ফেলে দেওয়া হোল। ২১০০ কিলমিটার দূরে থাকে, কী করি এখন। রাত ৯ :৩০ টা , কাজের যায়গায় যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা হবে না। হঠাৎ রিং ব্যাক। -ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, কিচ্ছু ভেবো না, বিন্দাস আছি। কথা বাড়ল ণা। ও ফোন করলে আমিও প্রায়শ ঘুমিয়ে পড়ি। অনেক পরে রিং ব্যাক করলে রাগ, অভিমান আর দুচোখে উৎকন্ঠার ধারাজল। আজ নিজের উদ্বেগের নিরিখে তার উৎকন্ঠা পরিমাপ করার চেষ্টা করি। তল পাই না। এই পার্থিব জীবনে দুজন দুজনের সাথে জড়ানো, দূরত্ব অর্থহীন।   একা নয়   সব্যসাচী এখন একলা নয়, দুজন মানুষ। নিজের সাথে আড্ডা দেয়, গল্প করে। একজন আরেকজনকে গাল দেয়, ভালোও বাসে। রাতের কাঁটা ১১টা ছুঁয়েছে। দু-দুটো ঘুমের ঔষধ গেলা হয়ে গ্যাছে, এবার কণ্টকশয্যার ভেতর এক ফুলশয্যার ভেতর যাবে। বউ বুবু কথা বলে না। চ্যাট করে ফোনে। সব কলহাস্যময় জোয়ান মরদ। সব্যসাচীর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। মানে তার ভেতরের আ...

কবিতা ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

নবদৃষ্টির গুচ্ছকবিতা ১ ধীরে ধীরে প্রিয় হয়ে উঠছে আটপৌরে বারান্দাটা কাজের চাপে কখনো মাপা হয় নি তার                                                          উদারতা  ২ খুব কাছাকাছি চলে এসেছে দেওয়াল ঘড়িটা  কখনো দেখা হয়ে ওঠেনি যার কাঁটাগুলির                                                         তীক্ষ্মতা ৩ মনে জায়গা করে নিয়েছে ছাদের ছোট্ট বাগানটা যার থেকে শুধু ফুল নিয়েছি, অনুভব করিনি তার                                                        মনের ব্যথা  ৪ হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকে ওই পুরনো দেরাজটা আমি প্রায় বিস্মৃত হয়েছিলাম যার অকৃপণ        ...

কবিতা ।। জুলি লাহিড়ী

গন্ধ স্বপ্নে আমি পেলাম খুঁজে পরীর দুটি ডানা যাব উড়ে নিরুদ্দেশে, কেউ করবে মানা? একফালি চাঁদ উঁকি মারে গাছের ডালের ফাঁকে দুহাত মেলে রাতের আকাশ হয়তো আমায় ডাকে। বাতাস ফুঁড়ে যাবো উড়ে দূরে অনেক দূরে মেঘের হৃদয় চিরে আকাশ মিশেছে সমুদ্দুরে। সেই দেশেতে আমার মায়ের গায়ের গন্ধ ভাসে লক্ষ লক্ষ তারার মাঝে লুকিয়ে মা যে হাসে। ================= জুলি লাহিড়ী সাঁতরাগাছি জগাছা হাওড়া *********

কবিতা ।। মঞ্জীর বাগ

ধান ঘ্রাণ জল আয় আয়, ডাকে। বীজ ধান মাঠ  আমার ঠাকুরদার বীজ ধান ছিল,মাঠ ও তবুও  হাল ধরেন নি কেবল স্বপ্ন বুনে বুনে দেশের মাটি ঘ্রাণ।।  দেশের পতাকা ওড়ার স্বপ্নের জন্য পথ হেঁটেছেন মাইল মাইল  সমুদ্রের জল ফুটে জীবনভর বুনেছেন  তিনটি রঙের উড়ানের পতাকা  একটি ভোরে তার রক্তের লাল ধুয়ে দিল মাটি ভোরের গন্ধে মিশে আছে তার সুর মাটির গন্ধে পূর্বের গান পতাকা উঠলেই,   স্বপ্ন ধান ওড়ে পোড়া বাদ্য বাজনার কথা আধপোড়া শরীর আজও কথা বলে। অমলিন কিশোরী দিন  পোড়া আধপোড়া দীর্ঘশ্বাসে দাবানল  গাছের মতো কথা বলে ঝলসানো শব  পূর্বজ বলেন আকাশে শকুন উঠলে  বড় কঠিন সময়। আকাশের রক্ত রং  শকুনের ডানায় বাতাস থামে  শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর  শয়তানের পোষা ভৃত্যের র দল  বাদকের ছদ্মবেশে সম্মোহনের বাজনা বাজায়  সেই বাজনায় মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ  দুপা ছেড়ে চার পা হয়  তারপর তীক্ষ্ণ শ্বাদন্ত নখ এমন হিংস্র  দাঁতে ছিঁড়েছে স্বপ্নিল মৃগী   ======================

প্রবন্ধ ।। নব কলা পাত্রে শিক্ষা চিন্তন ।। তপন তরফদার

নব কলা পাত্রে শিক্ষা চিন্তন প্রায়  ত্রিবিংশ বৎসরের পার  করিয়া নতুন  শিক্ষা নীতিমালা প্রনীত হইবে। প্রত্যেকে  আমরা প্রত্যেকের তরে। অতএব  আমরা  সবাই চিবুকে হস্তক্ষেপ করিয়া ভাবিত।   'আহা কি আনন্দ আকাশে-বাতাসে' - সত্যজিৎ ও রায় দিয়েছেন শিক্ষাপ্রণালীর পরিবর্তনের। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী অনুপ্রাণিত হইয়া স্থির করিয়াছেন, নতুন শিক্ষাব্যবস্থা ম করিয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ লইয়া ইতিহাসে উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক হইবার নজির রাখিয়া যাইবেন। সম্প্রতি ইচ্ছাটি প্রসব বেদনার মতোই চাগাড় দিয়া উঠিয়াছে। বাংলা ভাষার বর্ণ পরিচয়ের জনক বিদ্যাসাগরের মূর্তিকে খানখান করিয়া চূর্ণনে জন মানসের নজর কাড়িয়াছে। ইতি পূর্বে জাতির জনকের এক ও অদ্বিতীয় লাঠি অপহরণেও এই রূপ শোরগোলের উত্তাপ বঙ্গবাসী পায় নাই। শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সরেজমিনে সবিস্তারে জানিতে হইবে। নতুন ধাঁচে নবকলেবরে বিদ্যাসাগরকে স্থাপন করিতে হইবে। বিদ্যাসাগরের দ্বিশতক খন্ডিত অংশ অবলোকন করিয়া সুপ্ত বাসনা জাগরিত হইল শিক্ষামন্ত্রীর - আমাকেও শিক্ষাব্যবস্থা লইয়া চিন্তাসূত্র প্রয়োগ করিতে হইবে।  আমার ও মূর্তি এখানে সেখানে স্থা...

কবিতা ।। রঞ্জন চৌধুরী

কবিতায় সাঁকো বাঁধা পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে জল - - - - একে কি বলবো ? ঝরনা বলি ! না বেসামাল পাহাড়ি ভালোবাসা !  নীচে স্ফীতকায় জলাধার রঙিন মাছেদের চলাফেরা; ওপরে নীলাকাশ, উদাসীন, মূক প্রজাপতি হয়ে মেলে ধরেছে ডানা । ভূর্জপত্রে যা লিখি তা সব কবিতা নয় পূজাপার্বণ শেষে হাত পেতে যা নিই তেমনি প্রসাদ কণা। প্রদীপের মুখে বসে দ্বীপশিখা যদিও গোপনে রাখে এসব জোনাক কথা তবুও, একাত্ম হই, ডিমের খোলস ভেঙে দৃষ্য ও শব্দের উষ্ণতায় মধ্যবিত্তের পূণ্যপুকুরে নৌকো ভাসাই আর রাস্তা ফুরিয়ে গেলে মুখোমুখি হই নি:সীম অন্ধকারের নগ্নতায় - - - - এমনি একমুঠো সম্বল আমার এমনি অক্ষরের সুতো জুড়ে জুড়ে                     কবিতায় সাঁকো বাঁধা।                              **** রঞ্জন চৌধুরী । আর. জি. পল্লী। (মা সারদা শেলাই স্কুলের পাশে)। সোনারপুর। কলকাতা - ৭০০১৫০ । চলভাষ :৭০৪৪৯৩৩১৪৮(WhatsAp...

দুটি কবিতা ।। হাবিব মণ্ডল

(১) বাড়িয়ে দাও পা আবহমান পথের মাটি ভেদ করে মুখ তুলেছে বিষাঙ্কুর । অনুরাগের আকাশ থেকে ঝরছে শকুনের বিষ্ঠা                         গোগ্রাসে খাচ্ছে মাখছে আমার ভাই। ঝরিয়ে দিচ্ছে দুর্গন্ধ ঢেকুরে গাছের পাতা।  পিছুটান হত্যা করে বাড়িয়ে দাও পা।  ঘরে থাকতে নেই এখন, এসো বর্ষণ করি আগুন-কুয়াশা।  চোখের তীব্রতায় শুষে নিই হিংস্রার আঘা।  চলো যুদ্ধের নিশান ওড়াই, বজ্রকন্ঠে ছুড়ি হাত।  আর ঘরে থাকা নয়; পক্ষঘাত হবে মায়ের অশ্রুসক্ত চোখে যদি থেমে যাও! নপুংসক বলবে প্রেমিকা। (২) দাম্ভিক পা কষ্টেরা ভাষাহীন হয়ে গেলে শরীরে হতাশার আচড় দেখি প্রিয় আগুন স্পর্ধিত হয় ভস্ম খেলতে তখন চাঁদ ভাল লাগে না, চাঁদের আলোও না ইচ্ছে করে না পাখি হতে, এমনকী বৃষ্টিও না অপেক্ষা করি একটা সুখ সুখ মৃত্যুর ইচ্ছে করে ঘাস হতে; কেবলই ঘাস নির্বিশেষে মাড়িয়ে যাক শত শত দাম্ভিক পা   =============== হাবিব মণ্ডল রমাকান্তবাটি দক্ষিণ বারাসত দক্ষিণ ২৪ পরগনা

দুটি কবিতা ।। সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

  দেহাতি সন্ধা তারা তারপর। তারও পর। তারও অনেক পরে কাঠের বোঝার মতো গোধূলি মাথায় নিয়ে খাদান ফেরা মেয়েটি যেন সন্ধা তারা। চলতি রূপের ছটা নেই। আছে ভরা শরীরী দমক, কয়লারস্তরের মতো কুঁদে রেখেছ দেহজ বিন্যাস, যেন কৃষ্ণকায় মেঘের আস্তরণ ঢেকে রেখেছে ঝরণার গূঢ় শুভ্র উদ্দামতা। একদম মুখোমুখি হাঁটুমুড়ে বসে আছে সম্মোহন চোখের পলক পড়ে না। মুখে হড়িয়ার গন্ধ। চোখে না বলা কথাসাগর। রক্তে ইশারা। রাস্তার নির্জনতা ও লোলুপ চোখ টপকে দেহাতি সন্ধ্যা তারাটি, জোনাকি আলো আঁচলে বাঁধতে বাঁধতে পৌঁছে যায় কুলি বস্তিতে। খিস্তি খেউড় আর খিদের ভজনারতির মধ্যে বিচিত্র পোকার মতো সে একটু একটু করে  সেঁধিয়ে যায়। জীবনের এই তথ্যচিত্র  প্রতিদিনই রাত্রি এসে ঢাকা দিয়ে যায়, জেগে থাকে শন ছাওয়া কুঁড়ের মাথা গুমরে মরা কৃষ্ণকায়া  বিরহ ও যাতনা, কুঁড়ের ভিতর থাকে খাদানের প্রস্তর ভাঙা  হীরের মতো উজ্জ্বল দেহাতি সন্ধা তারা!!                      /*\   কবিতা পাঠের আসর এই প্রথম আমার তীর্থের কাক দর্শন ছড়ানো বেঞ্চের ওপারে একটি টেবিল দুটি চেয়ার ,তিন জন অতিথি,একজন ওয়েটিং-য়ে ...

কবিতা।। ওয়াহিদার হোসেন

উদ্বাস্তু ছাইয়ের ভেতর থেকে জ্বলে উঠবে  আমাদের উদবাস্তু চোখ ক্ষুধার তাড়না থেকে  ভুখা পেট নিয়ে  হাজার মাইল হাটার প্রেরণা নিয়ে আমরা ঠিক উঠে দাড়াব ঠিকঠাক উঠে দাড়াব মনে হয় হ্যাঁ  ====================  ওয়াহিদার হোসেন।।  রাঙ্গালিবাজনা।।আলিপুরদুয়ার।

কবিতা ।। স্বপ্না আচাৰ্জী

"সুরের ছোঁয়া "  গাইছে আকাশ , গাইছে বাতাস ,           গাইছে দেখো নদী , আমিও গান গাইতে পারি ,             তুমি শোনো যদি । নদীর জলে শ্যাওলা ভাসে -----             নেই তো কদর্যতা , গান শুনে মুচকি হেসো ----             না থাকুক মুগ্ধতা । না থাকুক শ্রুতি - মধুরতা ,               থাকুক অপার বিস্ময় , সুরের ছোঁয়ায় যদি তোমার ,                 শিহরণ টুকু হয় । গানের ছন্দে , মনের আনন্দে ,                পাখনা মেলি যখন ----  দু'হাতের মুঠোয় বিশ্ব ধরি                 তোমাকেও পাই তখন । বিনি সুতোয় গাঁথি মালা --                 সুরকে সাথে নিয়ে , আকাশ , বাতাস , সাগর , পাহাড়                  সবার পরশ দিয়ে ।। ==================== স্বপ্...

দুটি কবিতা ।। শ্যামাপদ মালাকার

দস্তখৎ এখন উর্বর মাটির মতোই সতর্ক উপাধানটি, শুধু কি বিনেপয়সায়! কতো রাত হত্যা করে.... ক্ষুদ্র হোক না কেন, পাশফেরা অপাঙ্গের ফোঁটা'দুই বৃষ্টি পেলেই কিশলয়টি মহীরুহ হয়ে উঠে...সর্বদা নিমেষহীন দৃষ্টি একটি মাখিয়ে রাখি যদি একশ্লেট  পেনসিলের বদলে আঁচলসমেত একগ্লাস ফুল পাই... পাপড়ির অতলতলে সজল দু'টিচোখ তার জেনে যাবে- কতটা আগুন মাখলে ফকির লালন হওয়া যায়... তোমার গল্প   এই যে তুমি বললে-" মা' যদি কোনোদিন বলে ওঠে- একটা নিজের জন্য গল্প লেখ দেখি! তোকে ছেড়ে যাবার আগে জেনে যেতে চাই---তুই কতোটা সুস্থ!" কি হলো, খুব কি অপ্রাসঙ্গিক?--বলতেও তো পারে- - যতবার ভাঙ্গাচুরা মনের দু'একটি কথা লেখার চেষ্টা করেছি, ততবার তুমি পথ আগলে দাঁড়িয়েছো! মাঠ-ঘাটের গন্ধে ভরা একতারাটার মতো বেজে উঠেছো। আজ আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের মতোই তুমি অন্তরময়! সত্যের সরলতা নিয়ে ভালো আছি বলে আমরণ মিথ্যে বলেছি। আর একটা মিথ্যে বলবো, যদিও- আমার একতারাটা তোমার শহরের গল্প বললেও তুমি আমার একতারার গল্প কখনো বলোনি।" চমৎকার দেবী! চমৎকার! এই যে তোমার গল্প তুমি না বললে আমি শুনবো কি করে বলতো... ...

কবিতা ।। কার্ত্তিক চন্দ্র পাল

অনৃত পায়চারি-চাঁদ অল্প আকাশ দুধেল আলো, দরমা বেড়ায় মাস্তুল হীন মন ফেরালো। গল্প যাদের অল্প হয়ে বেড়ার ভিতর সুখ-সকাশে আছাড় খেয়ে স্পন্দে নিথর, দোকানঘরে আলগা আঁচে বিপ্লবী শীত বেঁধে রাখার আত্মসেতু কল্পনা গীত। যুদ্ধশেষে সংক্রামিত বিষন্ন দিন সান্দ্র কাঁচে লেপ্টে থাকা সঙ্গী বিহীন- প্রতীক্ষিতের ঘন্টা নাড়ে গীর্জা গুলো, বপনহীনা ধূসর মেঘে বর্ষা ছু৺লো। আবেগ-আঁতাত টালির ছাদে টপটপিয়ে আড়ভাঙ্গা স্বাদ লবণ ছায়ায় স্বপ্ন নিয়ে- শ্বেতকেতুরা গল্পগাছা ফড়িং ঘাসে, মিথ্যা চাদর, ফসফরাসে নিভিয়ে আসে।   =======================       কার্ত্তিক চন্দ্র পাল বর্ধমান

কবিতা ।। বিবেক রায়

তমসামালা ১ আগুন হয়ে জন্ম নিতে চেয়েছি জন্মের  ভেতর ডুবে ছাই করে দিতে চেয়েছি পৃথিবীটাকে পারি নি- মৃত্যুর ভেতর ডুবে চেয়ে নিয়েছি অযথা জন্মযাপন ২ পৃথিবীর উপর দেশলাই জ্বালালে আমি ভয় করি ধুক ধুক করে মৃত্যু হয় প্রতিটি অন্ধত্বের দিনের শেষে প্রতিদিন জয় করে ভয় হয় মানুষেরা সবাই দেশলাই ব্যবহার করে ৩ অন্ধকারে পাশে থাকা যায় না, সন্ধিও করা যায় না তাই অন্ধকার আমার খুব বেশি প্রিয় অন্ধকারে মানুষও চেনা যায় না দাত নখ তাই সাদা বলে ঘৃণা করি ৪ পৃথিবীর সব উলঙ্গ মানুষেরা জামা কাপড় পরেছে রঙের থেকে আরও অজস্র রং না, কেউ দূরে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি নেই আমাদের সময় অন্ধকারে ফুরোয় না বলে ৫ আলোর থেকে অন্ধকারই ভালো কোনো ভেদাভেদ নেই সেখানে প্রতিটি মানুষের গোপন প্রার্থনার মতো গর্ভের অন্ধকারে ডুবে যাই আমরা ================= বিবেক রায় গ্রা:+ পো: - টেংনামারী থানা- ঘোক্সাডাঙ্গা জেলা- কোচবিহার ডাকসূচক  সংখ্যা- ৭৩৫২১০ মো-৮৬৯৭২১৬২৫৭

কবিতা ।। সবিতা বিশ্বাস

  দেশের নাম ভারতবর্ষ   যে পথটা শিমুল পলাশের পাপড়ি ঝরে লাল হবার কথা ছিল সেই পথে আজ রক্তের আল্পনা আঁকা ওই যে পাখিটা খাবার খুঁজতে খুঁজতে খুঁটে খাচ্ছে শস্যদানা তার ঠোঁটে লেগে আছে রক্ত যে চারাগাছটা নতুন পৃথিবী দেখবে বলে উঁকি মারছে পাথরের আড়াল থেকে, তার পাতায় রক্তের ছিটে রক্ত-রক্ত-রক্ত— গরম রক্ত, ঠান্ডা রক্ত ঠান্ডা রক্ত জমাট বেঁধে আছে লাশের শরীরে খোলা চোখে বিস্ময় ! আমায় মারলে কেন ?   আড়ালে কেন কবিতা ? এগিয়ে এসো, উত্তর দাও ওই শিশুটির চোখের কোণে টলটল করছে মুক্তোদানা মুছিয়ে দাও কবিতা, হাসি ফোটাও শিশুর মুখে তুমি পারবে কবিতা, তুমিই পারবে তুমি ছাড়া আর যারা আছে, তারা কেউ আগুনে ঘি ঢালবে, কাঠ দিয়ে উস্কে দেবে আগুনটাকে কেউ রড আনবে মাথা ফাটানোর জন্যে, আনবে পিস্তল, অ্যাসিড, বোমা ওসব দেখে তোমাকে ভয় পেলে চলবে না এগিয়ে যেতে হবে দৃঢ় পায়ে তোমার গর্জনে পিছু হঠতে বাধ্য হবে কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা অন্যায়, অত্যাচার   তুমিই পারবে কবিতা সাম্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারবে গোলকধাঁধায় পথ হারিয়ে ফেলা দেশকে ঠিক পথের সন্ধান দিতে, নতুন দিশা দেখাতে   ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,