Skip to main content

প্রবন্ধ ।। নব কলা পাত্রে শিক্ষা চিন্তন ।। তপন তরফদার



নব কলা পাত্রে শিক্ষা চিন্তন


প্রায়  ত্রিবিংশ বৎসরের পার  করিয়া নতুন  শিক্ষা নীতিমালা প্রনীত হইবে। প্রত্যেকে  আমরা প্রত্যেকের তরে। অতএব  আমরা  সবাই চিবুকে হস্তক্ষেপ করিয়া ভাবিত। 
 'আহা কি আনন্দ আকাশে-বাতাসে' - সত্যজিৎ ও রায় দিয়েছেন শিক্ষাপ্রণালীর পরিবর্তনের। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী অনুপ্রাণিত হইয়া স্থির করিয়াছেন, নতুন শিক্ষাব্যবস্থা ম করিয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ লইয়া ইতিহাসে উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক হইবার নজির রাখিয়া যাইবেন। সম্প্রতি ইচ্ছাটি প্রসব বেদনার মতোই চাগাড় দিয়া উঠিয়াছে। বাংলা ভাষার বর্ণ পরিচয়ের জনক বিদ্যাসাগরের মূর্তিকে খানখান করিয়া চূর্ণনে জন মানসের নজর কাড়িয়াছে। ইতি পূর্বে জাতির জনকের এক ও অদ্বিতীয় লাঠি অপহরণেও এই রূপ শোরগোলের উত্তাপ বঙ্গবাসী পায় নাই। শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সরেজমিনে সবিস্তারে জানিতে হইবে। নতুন ধাঁচে নবকলেবরে বিদ্যাসাগরকে স্থাপন করিতে হইবে। বিদ্যাসাগরের দ্বিশতক খন্ডিত অংশ অবলোকন করিয়া সুপ্ত বাসনা জাগরিত হইল শিক্ষামন্ত্রীর - আমাকেও শিক্ষাব্যবস্থা লইয়া চিন্তাসূত্র প্রয়োগ করিতে হইবে। 

আমার ও মূর্তি এখানে সেখানে স্থাপিত হইবে একদিন। যথারীতি মূর্তি ভাঙিলেই সংবাদ মাধ্যমের খবর হইয়া মরিয়াও মরিল না, প্রমাণিত হইব। কিন্তু কিরূপে কি মশলা দিয়া নতুন শিক্ষাসৌধ গড়িবেন সেই চিন্তায় প্রায়শই স্নানঘরে নগ্ন হয়ে মগ্ন থাকেন। অদ্যাপি সেই বিজ্ঞানীর মতোন মত্ত হইয়া নগ্ন-শরীরে ইউরেকা ইউরেকা বলিয়া বঙ্গবাসীর জ্ঞাতার্থে কোন সূত্র উদ্ভাবন করিতে পারেন নাই। মানসিকভাবে সামান্য বিপর্যস্ত্য। কিন্তু বঙ্গদেশীয় বিদ্বজন শিক্ষকমন্ডলী শিক্ষামন্ত্রীকে বঞ্চিত না করিয়া মহাশয়ের আজন্ম লালিত ভিন্ন এক ইচ্ছার ইচ্ছাপূরণ করিলেন।   

উত্তরবঙ্গের কালিদাস বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষ শিরোপা উপঢৌকন দিয়াছেন শিক্ষামন্ত্রীকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ কালিদাস ইহার নিমিত্তিই সৃষ্টি হইয়াছিল। যত্রতত্র বৃক্ষশাখা কর্তন করিয়া, নিজস্ব কর্ন-নাসিকা মর্দন করিয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তৈলমর্দন করিতে পিছপা হইবেক না। শিক্ষামন্ত্রীর নব্যউদ্ভাবনী শিক্ষাসূত্রর জন্য উনি পিতৃদত্ত নামাবলীর পূর্বে একটি বিশেষ আলঙ্কারিক অক্ষর ব্যবহার করিবেন যাহার দ্যূতি হীরকের ন্যায় ঔজ্জ্বল্যের ঝিলিক বিচিত্রস্থানে গমন করিবেক। এই শিরোপার তরে মনলোভা বিদ্বজন সহ মন্ত্রীরাও লালায়িত। 

অদ্য স্বয়ং রাজ্যপাল স্বহস্তে সেই উদ্ভট পোশাকে মস্তকে তাসের দেশের রাজার মতো টুকটুকে রঙিন কাপড়ের 'লিবার্টি ক্যাপ' শিরস্ত্রাণের আদলে মস্তকে ধারন করিয়া শিক্ষামন্ত্রীর বক্ষে আলিঙ্গন করিয়া মহামূল্যবান তুলটের কাগজটি প্রদান করিলেন। দূরদর্শন ও দৈনন্দিন দৈনিক বাজারি পত্রিকার চিত্র সাংবাদিকরা পুনর্বার বক্ষ আলিঙ্গনের অনুরোধ করিলেন। তাঁহারা মন্ত্রীমহোদয়ের ঐতিহাসিক ছবি প্রচার করিবেন। মন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছা পূরণ করিয়া উনার সন্তুষ্টির নিমিত্তই এই প্রয়াস।

শিক্ষামন্ত্রী সপার্ষদ উজ্জ্বল নীল বর্ণের তৈল চালিত চার চাকার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বলেরো রথে উপবেশিত হইয়া ফণী ঝড়ের ন্যায় নবযৌবন প্রাপ্তীর আনন্দে নবান্নের অলিন্দের তরে অগ্রসর হইতেছেন। মন্ত্রী তাহার হাফ-হাতা নীল-সাদা ডোরা কাটা খদ্দরের পাঞ্জাবির বুক পকেট হইতে মুঠোফোন নির্গত করিতে বাধ্য হইলেন। তারঃস্বরে ক্ষুদ্র যন্ত্রটি বলিতেছে - বন্দেমাতরম, সুজলাং-সুফলাম-মাতরম। 
যন্ত্রটিতে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠটি স্পর্শ করিয়া নিজ কর্ন-কুহরে স্থাপন করিয়া বলিলেন - বল।
অপর প্রান্ত হইতে উচ্চস্বরে ধ্বনিত হইল - স্যার, আমি শঙ্কুদেব দেববর্মন। 
এই নামটি এক্ষনে বঙ্গদেশের অতি পরিচিত স্বনামধন্য মান্যবর মনিষীদের অন্যতম সার্বজনীন সংগ্রহযোগ্য নাম। এই ব্যক্তি ও তার পুত্র বেলতলা বিদ্যানিকেতনের সহিত অতি সক্রিয় হইয়া জড়িত। পিতা শঙ্কুদেব এই বিদ্যানিকেতনের ছাত্র সাংসদের মহাসচিব। পুত্রও 'সক্রিয়' ছাত্র। বিস্তারিত রূপে অনুসন্ধান করিলে গিনেস রেকর্ডের অধিকারী হইবেক। বিশেষ সংবাদে শঙ্কুদেব ঘোরতর শঙ্কায় ছিলেন - সরাসরি ছাত্ররা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে মহাবিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার অর্জন করিবেক। শিক্ষা শুরুর পূর্বে শিক্ষাঙ্গনে পদধূলি প্রদানের প্রয়োজন নাই। শঙ্কুদেব ওই সময়ে শঙ্কাগ্রস্ত গলায় বলিয়াছিল - আমরা ছাত্র নেতারা কিরূপে 'রূপিয়া' অর্জন করিব, বাল-বাচ্চা সহ সংসার কি মন্ত্রে প্রতিপালিত করিব। মন্ত্রী মহাশয়ের পূজোয় প্রদান করিবার অর্থ কোন যাদুমন্ত্রে সংগ্রহ করিব?
উক্ত সময়ে মন্ত্রী নির্ভিক কন্ঠে আশ্বস্ত করিয়াছিলেন - যতই বৈদ্যুতিন মৈদ্যুতিন হউক, সবার উপরে মানুষ সত্য। মানুষই ফাঁকফোকর রাখিবে এবং ফাঁকতাল দিয়া ভালই অর্থ উপার্জন করিতে পারিবেক। সঠিক হিসাব কষিলে দেখা যাইবে শতকরা হিসাবে ন্যায়ত আমাকে আরও অর্থ প্রদান করিবে।
শঙ্কুদেব ছাত্র সমস্যার বিষয় উত্থাপন না করিয়া সজোরে শরবাণ নিক্ষেপ করিল - স্যার, মমতাময়ী ফরমান করিয়াছেন, আজ হইতে 'কাটমানি' অবৈধ ঘোষণা করিয়াছেন। আরও বলিয়াছেন কাটমানি হানিকারক হইয়াছে। উহা ওয়াপস করিয়া কালীঘাটের মন্দিরে পূজা প্রদান করিয়া বিশুদ্ধ দেশহিতব্রতী হইতে হইবেক। 
মন্ত্রী দন্তবিকশিত হাসি হাসিয়া বলিলেন - সময়ে সব ঠিক হইয়া যাইবেক। চিন্তা করিবেক না।      

শিক্ষামন্ত্রীর মস্তকের কেশরাজি কুচকুচে কালো। এই কালোতে ভূষন্ডীকাক বা ভুষিকালিও পরাজয় বরণ করিতে বাধ্য। কর্নদ্বয়ের পার্শ্ব হইতে সাদা-সফেদ চুনকাম করা কাঁচি দিয়ে সূক্ষ্ম্য কারুকার্য করা শ্বেত শুভ্র ফরাসিমার্কা দাড়ি। দেহবল্লরী ভালুকের সমগোত্রীয়। মন্ত্রী ভালুক মুখের সাচ্চা শুভ্র দাড়িতে হস্তমর্দন করিতে করিতে ধূসর চক্ষু দুইটি চশমার ফোকর হইতে প্যাটপ্যাট করিয়া দিগন্ত বিস্তৃত ধান ও পাট ক্ষেতের ধারে ধারে প্রোথিত বট-অশ্বত্থ বৃক্ষের শীর্ষদেশ পারাপার করিয়া ফিরোজা আকাশ অবলোকন করিতেছেন। আজ বড় আনন্দের দিন। শিক্ষামন্ত্রীর হৃদয়ে এক্ষনে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ভাবনা উদিত হইতেছে। পুরীর মন্দিরের ন্যায় এক নকল মন্দিরের চূড়ায় গৈরিক পতাকা পতপত করিয়া ডানা ঝাপটাইয়া উড্ডিয়মান। যাহা অবলোকন করিয়া মন্ত্রীর অক্ষিগোলক প্রায় নিথর হইয়া স্থির হইয়া যায়। শিক্ষামন্ত্রীর বংশের পূর্ব প্রজন্মের প্রপিতামহ কৃষ্ণানন্দ ছিলেন রাজশাহীর ভূমিপুত্র। বিধর্মীদের দ্বারা ধর্মচ্যূতি এবং সামাজিক অত্যাচার হইতে পরিত্রানের নিমিত্ত সপরিবারে পালাইয়া আসিয়া ভদ্রাসন নির্মান করেন নবদ্বীপধামে। পবিত্র ভূমিতে তাঁর পুত্র পরমানন্দ একই চতুষ্পঠিতে শ্রী চৈত্ন্যদেবের সহপাঠী হইয়া তালপাতার পুঁথি সমুদয় গোগ্রাসে গিলিয়া, মুখস্ত করিয়া হৃদয়ে ধারন করিতেন। পরবর্তীকালে ভাটপাড়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করিয়া পরমানন্দ "অগম বাগীশ" উপাধিতে ভূষিত হইয়াছিলেন। তৎকালীন ভাটপাড়া ছিল বাংলার অক্সফোর্ড। ছায়ায় ঘেরা শান্তির নীড়। দূর-দূরান্ত হইতে ছাত্ররা আসিত। আয়ূর্বেদ, জ্যোতির্বিদ্যা,কাব্য থেকে ন্যায়দর্শনের শিক্ষালাভের জন্য। এখানকার শিক্ষকেরা তর্কে পরাস্ত করেন আর্যসমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকেও।    

ওনার একান্ত মনস্কামনা ছিল মহামহোপাধ্যায়, উপাধ্যায় বা বেদান্ত পন্ডিত-প্রবর উপাধি অর্জন করিয়া নামের অগ্রভাগ কর্নকুন্ডলীর মতো জ্বুল জ্বুল করিবেক। তদানীন্তন উচ্চাশা বা উচ্চাকাঙ্খা পরিপূর্ণ হয় নাই। সমগ্র জীবিতকাল ঐ টুলো পন্ডিতের পরিচয় লইয়া বৈতরণী নদী পার করিয়াছিলেন। বিষয়টি পরিবারের একাধারে লজ্জা এবং জ্বালা। সমাজের নিকট ইহা লজ্জার বিষয়, নিজেদের হৃদয়ে-মনে শিল নোড়ায় পেষিত লঙ্কা বাটার ন্যায় জ্বালায় সর্বদাই জ্বলিতে থাকিত। বংশ পরম্পরায় এক সুপ্ত ক্ষোভ সহ জ্বালা এইক্ষণেও বিরাজমান। 

শিক্ষামন্ত্রীর মা মানদা দেবী, তির্যক ও কর্কশ স্বরে হামেশাই বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর গোচরে আনেন। বারংবার বিষয়টি সুপুত্রের কর্নকুহরেপ্রবেশ করাইয়া স্মরণ করান। পূর্বপুরুষদের ক্ষমতা ছিলনা - উপাধির জন্য প্রতিপত্তি, অর্থ ইত্যাদি ব্যয় করিবার। অবশ্য তৎকালীন সময়ে ওই উপাধি ক্ষমতা বলে বা উৎকোচের দ্বারা অধিগ্রহণ করিতে কেহ অগ্রসর হইত না।

সময় পরিবর্ত্তিত হইয়াছে। সামাজিক নিয়মনীতি, রীতিরও পরিবর্তন হইয়াছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর হাতের তালুতে সেই সুবর্ণ সুযোগ পকেটস্থ করিবার, শিক্ষামন্ত্রীর অঙ্গুলিনির্দেশেই টুকুস করিয়া খাজা কাঁঠাল মান্যবরের গোঁফের উপর টুপ করিয়া খসিয়া পড়িল। মন্ত্রী মহাশয় গোঁফে সহর্ষে খাঁটি সরিষার তৈলমর্দন করিয়া ভক্ষণ করিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক ধন্য ধন্য হইয়া মন্তব্য করিলেন - এমন শ্রুতিধর, জ্ঞানবান, কন্দর্পকান্তি ছাত্র ভারতবর্ষে বিরল। আমরা এই মহান ব্যক্তিকে শিরোপা প্রদান করিতে পারিয়া মোরা ধন্যপ্রাণ। খুশি, খুব খুশি একশ শতাংশ খুশি।

দুরন্ত চলন্ত চার চাকার বলেরো স্থলযানে সাপার্ষদ মন্ত্রী। মন্ত্রীর পার্ষদদের মুখমন্ডলে উজ্জ্বল হাসি। কিন্তু ভালুকমুখো মন্ত্রীর কপালে এক সূক্ষ্ম ভাঁজ প্রস্ফুটিত। স্বকীয় প্রশ্ন অবচেতন মনে ঘুরিয়া ফিরিয়া শুশুকের ন্যায় ভাসমান - সত্যি কি আমি ইহার যোগ্য। শুশুক গঙ্গায় ভুস করিয়া ভাসিয়া উঠে পরমুহূর্তে ফুস করিয়া ডুবিয়া যায়। মন্ত্রীর মন্ত্রণায় অন্তর বীর রসে প্লাবিত হইয়া বলিল - কোন সম্বন্ধীর পো বিচার করিবে, আমি যোগ্য না অযোগ্য? 
প্রশ্ন তুলিলেই তাহাতে 'সেন্টি' না হইয়া সেই চার অক্ষরকে 'খাপে খাপ' ভরিয়া দিব। কেহ বলিতে পারিবেক না ইহা "ভুয়ো ডিগ্রী"। বর্তমানে অনেক রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নাগরিকতা লইয়া দগদগে প্রশ্ন উঠিতেছে। এই অলংকার লক্ষ্য করিয়া কেহ কড়ে আঙুলও তুলিবার সাহস পাইবে না - কারন ইহা জলের মতো পরিষ্কার, ভুয়ো নহে।

ভারতবর্ষের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ অবগত আছেন উপাধিটা প্রদান করা হয় নতুন কিছু অবদান বা আবিষ্কার করার জন্য। উপাধি প্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী ভাবিতে থাকেন তিনি কি কি করিয়াছেন। বদন এবং বগল চুলকাইয়া মস্তকে অঙ্গুলির দ্বারা হস্ত সঞ্চালন করিতে করিতে চিন্তা ভাবনা করিয়া কোন কূল কিনারা পাইলেন না। থই পাইলেন না। ভুলিয়া গিয়াছেন কি বস্তুর রহস্য উন্মোচনের জন্য উপাধি প্রদান করা হইয়াছে। 

'ভুলিয়া গিয়াছেন'। মহান ব্যক্তির প্রধান গুণ ভুলিয়া যাওয়া। ওই ইউরেকা ইউরেকা বলিয়া নগ্ন গাত্রে মগ্ন হওয়া সূতাহীন দেহে সব সমক্ষে আসিয়া ঘোষণা করেন তার অবিষ্কারের বিষয়। তাৎপর্যপূর্ন বিষয় তিনি ভুলিয়া গিয়াছেন তাহার অঙ্গে একটিও সূতা নেই। সম্পূর্ণ নগ্ন, বিবস্ত্র - ইহা ভুলিয়া গিয়াছেন। এই মগ্ন চিন্তার মাঝেই মুঠো ফোন গর্জাইয়া উঠিল। মন্ত্রী যথারীতি বৃধাঙ্গুষ্ঠি ঘর্ষণ করিয়া বলিলেন - বল।
- স্যার, সাংঘাতিক কান্ড হইতেছে। এই বৎসর যাহারা বেঙ্গল জয়েন্টে মেধা তালিকার প্রথম দশে নাম আছে, তাহারা প্রত্যেকেই সাংবাদিকদের বলিয়াছে উহারা বঙ্গদেশে পড়াশুনা করিবেক না। এখানকার পরিবেশ পড়াশুনার উপযুক্ত নহে। প্রথম স্থানাধিকারী ছাত্র 'মিস্ত্রী'র ন্যায় দক্ষ কন্ঠে দ্বিধাহীন ভাষায় দূরদর্শনে বক্তব্য পেশ করিয়াছে। গোদের উপর বিষফোঁড়া, রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সে প্রথম দশে রাজ্য বোর্ডের এক মাত্র সবেধন নীলমনি 'অর্ক' নামধারী এক বালক। 

শিক্ষামন্ত্রী সদ্য সংগ্রীহিত শংসাপত্রের উপর চক্ষু দ্বারা লেহন করিয়া মুখে এক স্বর্গীয় হাসির রূপরেখা প্রস্ফুটিত করিয়া শিক্ষা অধিকর্তাকে মুঠোফোনে বলিলেন - আপনারা কি করিতেছেন, শুধু দুর্বা কর্তন করিতেছেন। অগণিত ব্যক্তিবর্গদের বঞ্চিত করিয়া আপনাকে শিক্ষা সংসদের সভানেত্রীর পদে আসীন করিলাম - প্রতিদানে কি করিলেন? সাংবাদিকদের দৃষ্টিকোন ওই মহুয়ার নেশার দাসে বশীকরণ করুন। এখনই প্রকৃষ্ট সময় - নিজস্বতা দ্বারা প্রচার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার।
- আপনি সঠিক পথের সন্ধান দিয়াছেন, মান্যবর। আমি উহাদের কর্ণকুহরে কিছু বাণী প্রবেশ করাইব। তাহা এইরূপ - অর্ক অর্থাৎ সূর্য। একটিমাত্র সূর্য আমদের ধরিত্রীকে আলোকিত করিতেছে, পৃথিবীর পথ প্রদর্শক। একটিই আমাদের শত সহস্রের সমতুল্য। রাজ্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সমাপনের কিয়ৎক্ষণেই রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের তজদিগ হয়। 

শিক্ষামন্ত্রীর কর্নে তজদিগ শব্দটি বুলেটের ন্যায় কর্নমন্ডলীতে প্রবেশ করে হৃদয়ে আলোড়িত হইল। শিক্ষামন্ত্রী অথচ তজদিগ শব্দের মর্মার্থ অবহিত নন - তাহা অপরজনের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ্যে আসিলে জ্ঞানী ব্যক্তিত্বের অনুকূল নহে। নিমিলিত চক্ষুদ্বারা মর্মকথা শ্রবণ করিয়া শশব্যস্ত হইয়া ওঠেন। মৃদু স্বরে বলেন - অতঃপর পিঠোপিঠি দুইটি পরীক্ষার প্রস্তুতি পর্বে আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়। অধিকাংশ মেধাবীরা রাজ্যবোর্ডের মেধাতালিকায় স্বীয় নাম সমুজ্জ্বল করিবার স্বপ্ন দেখেন। ইহার কারনেই জয়েন্ট এন্ট্রান্সের জন্য ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি করেনা। মেধা তালিকায় আমাদের একজনের নাম থাকিলেও শতকরা হিসাবে আমাদের পরীক্ষার্থীদের সাফল্যের হার ৯৯.৫ শতাংশ যা অন্যান্য বোর্ডের থেকে অনেক অনেক বেশি। শুধু উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যসূচী অধ্যয়ন করিয়াই সাফল্য পাইতেছে। উপরন্তু বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা বহু পূর্বে সমাপন হইবার নিমিত্ত প্রচুর সময় ব্যয় করিতে পারে - এন্ট্রান্স পরীক্ষার নিমিত্ত। অধিকিন্তু অন্যান্য বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ধনীর সন্তান। জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সফল হইবার নিমিত্ত কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালিয়া বিভিন্ন স্তরের প্রাইভেট টিউশন ও বিশেষ প্রশিক্ষণের দারস্থ হয়। 

বিরক্ত শিক্ষামন্ত্রী একটু রাজনৈতিক প্রলেপ লাগাইয়া কহিলেন - কৃতী ছাত্র-ছাত্রী, জ্যোতি বসু, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ও ব্যারিস্টারি পড়িতে বঙ্গদেশের বাহিরে গমন করিয়াছিলেন।       

'প্রাইভেট টিউশন' শব্দটি ইথারের মাধ্যমে ভাসমান হইয়া শিক্ষামন্ত্রীর হৃদয়ে লক্ষণের শক্তিশেলের ন্যায় আঘাত করিল। চক্ষু মুদিত করিয়া রাখিতে পারিলেন না। নয়ন মেলিয়া অবলোকন করিলেন স্থানটির নাম - চাকদহ। অন্যতম ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধাম। এই স্থানেই ভগীরথের রথের নিম্নাংশ অর্থাৎ চাকা ভূমিতে নিমজ্জিত হইয়াছিল। চাকদহে আসিয়া চারচাকার চাকা শম্বুক গতিতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হইতেছে। রাগান্বিত শিক্ষামন্ত্রী - অতি সত্ত্বর নবান্নে বা গৃহে গমন করা জরুরী। 
উদর ও তাহার তলদেশ গুরুতর বিদ্রোহ করিতেছে। উদ্যত উদর গহ্বরে ঠাসাঠাসি করিয়া লোভনীয় খাদ্যবস্তু উদরস্থ করিবার ফলস্বরূপ বিদ্রোহ ঘোষণা করিতেছে। শিক্ষামন্ত্রী বিরক্তির আঁখি মেলিয়া বুঝিতে পারিলেন ৩৪ নং জাতীয় সড়কের সেই ফ্যানেলের চ্যানেলে প্রবেশ করিয়াছেন। পুরমন্ত্রীর মেজ শ্যালিকার দুনম্বরী মিঁঞার মিডল্যান্ড মদিরালয় এই জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী জমি বেআইনি দখল করিয়া মহানন্দে মদের দুনম্বরী ব্যবসা করিতেছে। তৎকালীন সময়ে স্বপ্নেও ভাবিতে পারেন নাই এই জীবনে কোন দিন মন্ত্রী হইবেন। তৎকালীন প্রশাসনের মুখে চুনকালি মাখাইবার জন্য বিভিন্ন দুর্বৃত্ত ও জবরদখলকারীদের এককাট্টা করিয়া যুগান্তকারী আন্দোলনের সলতে পাকান - জান দেব, দেব না সূচাগ্র মেদিনী। ওই আন্দোলনই এখন বুমেরাং হইয়া প্রকটিত হইতেছে। বোলেরো রথের গতি একান্তই শূন্য। নয়নে জলচ্ছবির মতো স্পষ্ট হইয়া উদিত সেই হেলিয়া পড়া বটবৃক্ষ, যাহার তলদেশ হইতে মোরাম রাস্তা মিলিত হইয়াছে কাঁকিনাড়ার রথতলার ময়দানে। উক্ত মাঠ হইতেই রথ দেখা এবং কলা বেচার ক্রিয়া শুরু করিয়াছিলেন। বাঁশের দ্বারা নির্মিত মঞ্চ থেকে সজোরে চোঙা ফুঁকিয়া বাণী ছড়াইয়াছিলেন - জান দেব, রক্ত দেব তবু রাস্তার জন্য জমি দেব না। বেআইনীর সমর্থকরা, দখলদারেরা উদার হস্তে স্বতস্ফূর্ত করতালি সহযোগে অভিনন্দন জানাইয়াছিল। কান্ডজ্ঞানহীন জনতা জনার্ধনের মনে বা প্রাণে এ প্রশ্ন ঘুণাক্ষরেও উদিত হয় নাই - জান বিসর্জন সুসম্পন্ন হইবার পর রক্ত কোথা হইতে আসিবে। প্রায় এক যুগ পূর্বের ঘটনা ছায়াচিত্রের 'ফ্ল্যাশ ব্যাক' হইয়া চক্ষুর সামনে ভাসিতেছে। ইহা জনগনের সম্মুখে স্বচ্ছ হইলে মোক্ষম আঘাত আসিত। জনগণমনের ওই এক দোষ বা মহান গুণ - কিয়তকাল উদর গুরু গুরু করিলেও অবশেষে সব হজম করিয়া ফেলে। বিলকুল ভুলিয়া যায় বটবৃক্ষের বৃহদাকার একটি স্থলশাখা ভূতলে ধরাশায়ী হইয়া চির নিদ্রায় শায়িত। 

শিক্ষামন্ত্রী গবাক্ষ হইতে অবলোকন করিলেন - এক কন্যা নিবিষ্ট মনোজগতে শামিল হইয়া ঘোষি প্রস্তুতের আয়োজন করিতেছেন। বাম হস্তে গোবরের এক তাল। দক্ষিণ হস্ত উর্দ্ধে তুলিয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোল্লা সযত্নে গুঁড়িতে লেপটাইয়া একাগ্র চিত্তে ঘুঁটে শিল্পের নির্মাণে নিমগ্না। গোবর ধারণে ব্যস্ত থাকায় এ ধরার অন্যান্য বিষয়ে কোন হুঁশ নাই। না থাকারই কথা। গায়ের রঙ খোসে পড়া শালপাতার সহিত তুলনীয়। আট হাত মিলের মোটা সুতোর শাড়ী দেহাঙ্গে আলুলায়িত রূপে লেপটিয়া রহিয়াছে। উপযুক্ত পৃষ্ঠদেশে বৃক্ষের পাতলা শিকড়ের মতো ছড়াইয়া রহিয়াছে রুক্ষঘন কেশরাজি। কপালের রক্তিম সিন্দুর বর্তমানের চিত্র-তারকাদের মতো উল্মব রেখা হয়ে কপালে বিদ্যমান হইয়া এক ত্রিমাত্রিক রূপ ধারণ করিয়াছে। মাত্রাতিরিক্ত সাইরেনের শব্দ তাহার মানসিক একাগ্রতাকে খানখান করিয়া দিল। সরাসরি অক্ষিগোলক সরলভূত বায়ুঝড়ের ন্যায় আছড়াইয়া পড়িল ওই শৃগালচক্ষু ভাল্লুক দাড়িতে। পরপুরুষের সহিত চারচক্ষুর মিলনে শিহরিত হইয়া লজ্জায় 'এ্য মা' উচ্চারণ করিয়া নিজ জিহ্বা প্রদর্শিত করিল কন্যা। এই মাহেন্দ্রক্ষণের মহাদৃশ্যটি চলচিত্রের মহানায়িকার প্রতিবিম্ব হইয়া শিক্ষামন্ত্রীর হৃদয়ে দাগা দিল। হৃদয় গুনগুনিয়া উঠিল - ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের 'পরে লোটে। রবীন্দ্রনাথ প্রথমে লিখেছিলেন 'কৃষ্ণকলি' কবিতা। সেই কৃষ্ণকলি গানে রূপান্তরিত হইয়া সুপার হিট। সব কালো মেয়েরাই হরিণ চোখা হইয়া উঠিল। কালো মেয়েকে নয় আসলে মনে মনে লুক্কায়িত কালো ধনকে রক্ষা করিতে কালোর ভক্ত হইয়াছেন। শিক্ষামন্ত্রীর চোখ কালো হরিণ গ্রন্থিত ঘুঁটে সমুদয়। উজ্জ্বল খাঁকি রঙের ঘুঁটেগুলি এক অপার্থিব আলোক বিকিরণ করিতেছে। শিক্ষামন্ত্রী বুঝিলেন ঘুঁটে এক মহান শিল্প। শিল্পমন্ত্রী হইয়া উক্ত শিল্পকে উদ্বুদ্ধ করিবেন। ঘুঁটে শিল্পে পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বশ্রী পুরস্কৃত করাইবার সম্ভাবনা প্রবল। বর্তুলাকার উদর আবার ভুটভাট শুরু করিল। 

মহার্ঘ্য মুঠোফোনটি পুনরায় মুখোরিত হইল শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির সূরের ন্যায়। ও প্রান্ত থেকে শরনিক্ষেপ হইল - স্যার, আপনার বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ জানাইতে আসিয়াছিল। আপনি কাটমানি ভক্ষণ করিয়া উহাদের শিক্ষকের চাকুরীতে নিয়োজিত করিবেন। 
মন্ত্রীর ধূম্রলোচন শিহরিত হইলেও শক্ত কন্ঠে কহিলেন - আপনি কি করিয়াছেন? 
- স্যার, আমি ডায়রি গ্রহণ করি নাই। 
- সঠিক কর্ম করিয়াছেন। আদেশ করবেন প্রমাণপঞ্জী সহ পদার্পন করিবেক। কোন শ্যালক প্রমাণ করিতে পারিবেনা কারন আমি নগদা-নগদি কারবার করি। আমি কয়েকদিনের মধ্যেই দলের নেতার আসন হইতে ঘোষণা করিব আমাদের দলের নিরানব্বই দশমিক নিরানব্বই শতাংশ ক্যাডার সৎ। উহারা ঘুষ -কাটমানিকে ঘৃণা করে। 

গৃহ হইতে মন্ত্রীর শ্যালিকার মুঠোফনে তলব করিতেছে। সমস্ত শক্তি প্রদর্শন করিয়া মধুক্ষরা কন্ঠে কহিলেন - বল।
যে যতই শক্তিধারী মন্ত্রী হউন ওই নিজস্ব গৃহমন্ত্রীর কাছে সবাই কুপোকাত। অনুযোগ আসিল - আজও গৃহশিক্ষক মন্ত্রীকন্যা পৃথাকে অধ্যায়ণ করাইতে গরহাজির। এক্ষণে হোমওয়ার্ক কিরূপে সম্পন্ন হইবেক। 
মন্ত্রী কাতর স্বরে বলিলেন - প্লীজ, ম্যানেজ করিয়া লও। আমি ভীষণ ব্যাস্ত আছি। 
বিপদের সময়ও ধীরস্থির গতিতে মস্তক সঞ্চালন করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের মহামূল্যবান গুণ। ইতিপূর্বে শোনা প্রাইভেট টিউশনি শব্দটি হৃদয়ে ধাক্কা মারিতেছিল, কিন্তু তাহা উদর গুরগুর করিবার নিমিত্ত চিন্তাশক্তির শেকড় পাইতেছিল না। এবার সূর্যের ছটার ন্যায় মনে মনে ছক কষিতে লাগিলেন - ওই ঘুঁটে ঘাঁটাঘাঁটি - গোবরে পদ্মফুল - নিজস্ব শিল্প - অপরকে দায়ী করা যাবেনা। প্রাইভেট টিশনির টিউটর - অন্যকোন ব্যক্তির গর্দানে দোষ দেওয়া সঠিক হইবেক না। নিজেই ইউরেকা ইউরেকা বলিয়া - ঐ গৌরাঙ্গের ন্যায় দুই হস্ত উর্দ্ধে তুলিলেন - নিজেই নিজের বুদ্ধির প্রশংসা করিতে লাগিলেন। সর্বজন অবদিত, এ রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউশনের দৌলতে শিক্ষালাভ করিতেছে। ভাল ফলের আশায় সব অভিভাবকরা ষাঁড়ের ন্যায় ছুটিতেছেন। এক্ষণে বিদ্যালয় সমূহের পঞ্চত্ব প্রাপ্তি করাইয়া প্রাইভেট টিউশনির জন্য লাইসেন্স প্রথা চালু করা যাইতে পারে। 

ওই ছোট ছোট ঘুঁটেরা একত্রিত হইয়াই আগুন ধরায়। স্কুলের পরিবর্তে যদি প্রাইভেট টিউটরদের লাইসেন্স দেওয়া হয় - ইহারাই পড়াইবেন। স্কুল বন্ধ করিতে পারিলে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ উদ্বৃত হইবে, যাহা উৎসবে ক্লাবে অনুদান হিসাবে বিতরণ করা যাইবে। উপরন্তু লাইসেন্স ফি হিসাবে অনেক অনেক রূপিয়া রাজকোষে জমা পড়িবে। লাইসেন্স প্রদান করিবার সময় বাম হস্তে অগুনতি "ইনকাম" হইবে। গ্রীষ্মাবকাশ কয়দিনের হইবে - তাহা লইয়া গরমাগরম তর্কের অবসান হইবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ৪৮৪ পৃষ্ঠার শিক্ষাদলিলে প্রকাশিত - ধাপে ধাপে বেসরকারিকরণ করা হইবে শিক্ষাব্যবস্থা।  

"১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি বা ২০০৫ ও ২০০৯ সালের জাতীয় পাঠক্রম কাঠামোতে সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল, সমস্ত শিক্ষা প্রকল্প হইবে ধর্মনিরপেক্ষ, মূল্যবোধের ধারক, গণতন্ত্রের পাশাপাশি সাম্য, ন্যায়, স্বাধীনতা, মানুষের মর্যাদা-অধিকার, নাগরিকের কর্তব্যর প্রতি শিক্ষার দায়বদ্ধতা থাকিবে।" অতএব প্রাইভেট কোচিং 'শিক্ষানীতি' বৈধ। বকলমে এই উদার ব্যবস্থায় তৃণমূলস্তরের টোলগুলির টুঁটি চাপিয়া ধরিতে কোন বেগ পাইতে হইবে না। 

শিহরণে শিক্ষামন্ত্রীর মাথায় কলপ করা অকালপক্ক কেশরাজি ভালুকের লোমের ন্যায় খাড়া হইয়া গেল। নিজ দাড়ি নিজ হস্তে মোচড়াইয়া মনে মনে ভাবিলেন - এত সুন্দর, মসৃণ বুদ্ধিটা কেন এতদিন মস্তকাসীন হয় নাই। আগামী বিধানসভা অধিবেশনের পূর্বেই অর্ডিনেন্স আনিব। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন প্রাইভেট টিউটর হইতেই লাভবান হইতেছে - তাহা হইলে, অতঃপর - এমতাবস্থায় স্কুলের কোন প্রয়োজন মনে করিতেছিনা। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করিয়া আমরা এক নতুন দিগন্ত প্রসারিত করিব। শিক্ষার্থীকে কষ্ট করিয়া মোট বহিবার মতো মোটাসোটা ব্যাগ লইয়া আর স্কুলে গমন করিতে হইবে না। পাড়ার প্রাইভেট টিউটররা কোচিং করাইবে। কেবল লাইসেন্স প্রাপ্ত শিক্ষকরাই তাহাদের কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে বোর্ডের ফাইনান পরীক্ষায় নির্ধারিত 'ফি' জমা করিয়া অংশগ্রহনের অনুমতি পাইবে। সুব্যবস্থার সুব্যবহারে ছেলে-মেয়েদের কত মূল্যবান সময় সাশ্রয় হইবে। সরকারকে শিক্ষকদের বেতন বা বেতনবৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচন করাইবার দাবীতে কোন আন্দোলন সহিতে হইবে না। শিক্ষকদের বদলির সমস্যা। বিশেষ করিয়া শিক্ষিকারা বিশেষ বিশেষ স্ত্রী রোগ দেখাইয়া বদলির দরখাস্ত করিয়া শিক্ষাভবনকে বিড়ম্বনায় ফেলিবার অবকাশ পাইবে না। বস্তুতঃ সব মাদ্রাসা, টোল এমনকি বেসরকারী বিদ্যালয় গুলিতো বৃহদাকারের কোচিং সেন্টার বলিলে অত্যুক্তি করা হইবে না। 

আলোচ্য বিষয় শিক্ষা, আমরা যাহাকে এডুকেশন বলি, কথাটা ল্যটিন লেখা থেকে এসেছে। 'ই ডিউকো' মানে 'টু ব্রিং আউট' অর্থাৎ বার করে আনা। ছাত্রদের মধ্যে যে সুপ্ত ক্ষমতা, তার বহিঃপ্রকাশ জরুরী। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ও বলিয়াছিলেন - চার দেওয়ালের মধ্যে শিক্ষাকে আবদ্ধ রাখিলে উহা প্রসারিত হইবে না। 
দিব্যচক্ষে শিক্ষামন্ত্রী দেখিলেন উপরোন্তু সরকারী শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি করিতেছে বলিয়া সব অভিযোগে জল ঢালিয়া দেওয়া যাইবে। 

জ্ঞানী ও বিবেচক শিক্ষামন্ত্রী - ওনাকে অনেক খোঁজখবর রাখিতে হয় যাহা আম আদমীর গোচরে নাই। ২০২১ সাল থেকে এমনিতেই বিদ্যালয়ে ভর্তি হইবার হার খুবই কম হইয়া যাবে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড বা অন্ধ্রপ্রদেশ - যে সব অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম, সেখানে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়া সংখ্যা হ্রাস পাইতেছে। জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডাতেও স্কুলে ছাত্রাভাবের কারনে হয় বহু স্কুল বন্ধ নতুবা জুড়িয়া দেওয়া হইতেছে অনেক স্কুলকে একসঙ্গে। তৈরি হবে নবকলেবরে শিক্ষাব্যবস্থা। যাদের ক্ষমতা থাকবে না - তারা ঘরে বসে কম্পিউটারে সেলফ লার্নিং কোর্সে শিক্ষা নেবে। 

এই নব্যব্যবস্থার ফলস্বরূপ জিডিপি দর চড়চড় করিইয়া বৃদ্ধি পাইবে, ঢিলে সফেদ পাঞ্জাবি ধারণ করিয়া অর্থমন্ত্রী শির ফুলাইয়া বিধানসভায় হিসাব দেবেন। দিব্যচোক্ষে শিক্ষামন্ত্রী দর্শন করিলেন - এই উদ্ভাবনী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলন করিবার পুরষ্কার স্বরূপ হাভাতে ইউনিভার্সিটি বা অজানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ সাম্মানিক ডি.লিট উপাধির জন্য মনোনিত করা হইয়াছে। গোল চশ্মার কাঁচটি সন্তর্পণে খদ্দরের রুমাল দিয়া মুছিয়া শান্তিনিকেতনী কারুকার্য্য করা সিল্কের নীল-সাদা হাফ-হাতা পাঞ্জাবির বুক পকেটে রাখিয়া শিক্ষামন্ত্রী আবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়া নয়ন মুদিতেই উদর ভুটভাট করিতে লাগিল। 
 
==============

তপন তরফদার, প্রেমবাজার (আই আই টি), খড়গপুর - 721306, 
ফোন- 9434077490, e-mail: tapan.tarafdar@gmail.com


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

উদভ্রান্ত আমি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় একটা জীবন্ত আমি ঘুরে বেড়াই খাতার পৃষ্ঠায় ব্যর্থ প্রেম থেকে তুলে আনি নতুন অহংকার বস্তু কণার মতো ছড়িয়ে দিই দুঃখকে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত গড়ে ওঠে একটা বিরাট পথ যা তুমি পেরুতে পারো না আবার সরাতেও পারো না আর আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে বেড়াই নিজেরই কবিতার পংক্তিতে আমার দুহাতে এখন উপচে পড়ে দয়া গোটা পৃথিবীই মনে হয় ভীষণ আপন কেবল তুমি একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে বলে... ============== জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...