Skip to main content

Posts

কবিতা ।। স্মৃতির ভেলায় রথের মেলা ।। জয়শ্রী সরকার

স্মৃতির ভেলায় রথের মেলা         জয়শ্রী সরকার রথযাত্রা নামটা শুনেই পৌঁছে তো যাই ছোট্টবেলায় বাবার কাছে বায়না ধরি, যাও না নিয়ে রথের মেলায়। সেই সে দিনের সুখগুলো সব লেপটে থাকে মনের মাঝে চাইলেও কী ভুলতে পারি? প্রশ্ন করি সকাল-সাঁঝে ! রথযাত্রার রহস্য কী --- সেটাই মাথায় ঢুকতো না যে আনন্দটাই মুখ্য ছিল --- আর বাকি সব বৃথাই কাজে। ছুটি পেতাম একটি দিনের ঠিক দুপুরে পৌঁছে যেতাম জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা মনের সুখে হামলে খেতাম ! রথটাকে তো টানবো বলে বায়না ধরি বাবার কাছে ধমক যে খাই ঠিক তখনই ভীড়ের মাঝে হারাই পাছে। নাগোরদোলায় আমার সাথে চড়তে হতো বাবাকেও নাছোড়বান্দা আমি নাকি, ছাড়ছি না তো ধমকালেও ! বায়না করার আগেই বাবা কিনে দিত পালকি-পুতুল সাজবো বলে সঙ্গে দিত গলার হার আর কানের দুল। বাবার হাতটা ধরে ধরেই আহ্লাদেতে কাটতো বেলা মনের সুখে মজা লোটা --- এই না হলে রথের মেলা ! হঠাৎ দেখি মেঘের ঘটা --- বৃষ্টি নামে মুষলধারে জল-কাদা আর ভীড়ের ঠেলায় দাঁড়াই গিয়ে শেডের ধারে। ভাবতে গেলেই মন ছুটে যায় সেই সে দিনের রথের মেলায় হাতড়ে বেড়াই আজকে শুধুই মধুর স্মৃতির এই অবেলায় ! *********************...

কবিতা ।। আমার এ দেশ ।। দীনেশ সরকার

        আমার এ দেশ               দীনেশ সরকার আমার দেশে রোজ সকালে তরুণ অরুণ ওঠে ঠিক তখনই ফুলকলিরা হাসতে হাসতে ফোটে । অলিরা সব দলে দলে ফুলের বনে জোটে গুনগুনিয়ে ফুলের মধু মনের সুখে লোটে । ঘুম ভাঙে রোজ শীতল হাওয়ায় পাখির কলতানে বাউল-ফকির মন ভরায় তার পাগল করা গানে । নতুন নতুন সাজ প্রকৃতির ষড়ঋতুর টানে বর্ষ জুড়ে খুশির প্লাবন সবার মনে প্রাণে । সবুজঘেরা আমার এ দেশ উর্বর যে তার মাটি লক্ষ হীরে মোতির চেয়েও দামি এবং খাঁটি । বীর শহিদের রক্তে ভেজা আমার দেশের মাটি বাধ্য হ'লো ব্রিটিশ শাসক ছাড়তে ভারত ঘাঁটি । সন্ধ্যা হলেই আকাশ ভালে লক্ষ মানিক জ্বলে বাঁধভাঙা ওই চাঁদের হাসি ছড়ায় গগন তলে । আঁধার রাতে আলো জ্বালে জোনাক দলে দলে আমার দেশে চাঁদ দেখা যায় পদ্ম দিঘির জলে । আমার এ দেশ ভরা আছে সম্পদে সম্পদে ঝর্ণা-পাহাড়, বন-বনানী এবং নদী-নদে । কালো হীরে, রত্ন খনি, পাহাড়ঘেরা হ্রদে হাসি-খুশি ঝরে পড়ে সকল জনপদে । *************************************************     দীনেশ সরকার ১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি, ...

ছড়া ।। ভার ।। তূয়া নূর

  ভার  তূয়া নূর চুরি এখন বড়ো বিদ্যা লজ্জা পায় না  তাতে, ভয় লাগে না কলকাঠি সব এখন নিজের হাতে। কেটে কুটে ইচ্ছে মতো দিন-দুপুরে চুরি, ঘুষ খায় সে আটকে ফাইল, দালান উঁচু ভুঁড়ি। বস্তা ভরা ধান আসে না বস্তা ভরা টাকা, দেশ বিদেশে জমি বাড়ি ঠিক দেবে গা ঢাকা। কোথায় খরচ করবে বলো এতো টাকা যার? বুঝবে কবে অনেক টাকার অনেক বেশী ভার।  ===========

ছড়া ।। ধরায় আন সুখ ।। সুনন্দ মন্ডল

  ধরায় আন সুখ         সুনন্দ মন্ডল এই তো আষাঢ় নামল ধরায় বৃষ্টি তবুও নাই! মানুষ পাখি ঘামছে খরায় তীব্র দহন ঘায়। ফলগুলো সব গাছেই পাকে মাটি ছুঁলেই পচে। কীই বা করি বাজার ঘুরে ভেজালে থাকি মজে। ফুলগুলো সব শুকিয়ে গেল বৃষ্টিহীনতায়। বাঁচবে কীভাবে পাতারা গাছের দারুন এ খরায়? চাতকগুলো কোথায় এখন? নাই কি প্রয়োজন! তারাও কি সব ঘুমিয়ে আছে ক্লান্ত প্রিয়জন। তোমরা যদি না ডাক তবে বৃষ্টি ফেরায় মুখ। আমরা ডাকি পথের পথিক ধরায় আন সুখ। ==============   কাঠিয়া, পাইকর, বীরভূম    

ছড়া ।। ভোট এলে ।। আনন্দ বক্সী

  ভোট এলে  আনন্দ বক্সী ভোট এলে হানাহানি-মারামারি-দ্বন্দ্ব  অন্য দলের হলে কথা বলা বন্ধ।  রক্ত গরম করা উত্তাপ ভাষণে  একটাই দাবি থাকে বসাও না আসনে। জীবন লড়িয়ে দেবো তোমাদের জন্য  উন্নতি ছাড়া কিছু ভাববো না অন্য।  হুঙ্কার-গর্জনে জনসভা জমান  নিজেদের ভাবে তারা সিংহের সমান।  খালি হলে কারো কোল মুছে গেলে সিঁদুর  কিবা আসে যায় বলো যদু-মধু-বিধুর।  এটা দেবো ওটা দেবো বুকে নেবো জড়িয়ে  আমাকে ভোটটা দিও দুটো হাত ভরিয়ে। প্রচারের কৌশলে দিতে চায় টেক্কা  গরু-গাড়ি চড়ে কেউ, কেউ চড়ে এক্কা। হেলিকপ্টারে চেপে কেউ নামে আসরে  বিজয়-মালাটা যেন জোটে ভোট বাসরে।  মসনদ চায় ওরা যেনতেন প্রকারে  সেই বার্তাই দেয় ইঙ্গিত আকারে। গরিবের গৃহকোণে সেরে নিয়ে আহার  নিতে চায় এরা খালি মাইলেজ তাহার।  ভোটের বাজারে এক বিরল সে চিত্র  দলীয় পতাকা ওড়ে হয়ে দেখি মিত্র।  জনসেবা করাটাই হয় যদি কর্ম  বিভাজন কেন তবে তুলে জাত-ধর্ম? মানুষকে ভাবো নাকি হাতের ঐ খেলনা জেনে রেখো ভালো করে ওরা নয় ফেলনা। বলিয়ান তোমরা যে ওদের সে বলেতে...

কবিতা ।। নতুন সকাল ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

নতুন সকাল তীর্থঙ্কর সুমিত বহুদিন পর আবারও যে পথ ধরে বেড়িয়ে পরলাম সবুজের দেশে,  নীলকে পিছনে ফেলে ক্রমশঃ ক্রমশের দিকে সরলরেখা বরাবর শুধুই...  যেখানে নদী শেখায় ভালোবাসার গান পাখি শেখায় উচ্ছ্বাসের সুর  সবুজ জানায় আমন্ত্রণ ছেঁড়া চিঠি আজ খাম ছেড়ে আকাশের পথে এসো মুগ্ধতা কুড়োই ভোরের আলোয়।  ===================== তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুণ্ডু, হুগলী পিন - ৭১২১৩৯

গ্রন্থ-আলোচনা ।। কবি সাথি রায়-এর কাব্য 'ইচ্ছেরা ছুঁয়ে যায়' ।। আলোচক: বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

ইচ্ছেরা ছুঁয়ে যায় হৃদয়ের অনুভূতিমালা বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়   'ইচ্ছেরা ছুঁয়ে যায়' কবি সাথি রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। কোন গভীর তাড়নায় একজন কবি কবিতা লেখেন এর উত্তর বিভিন্ন জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হলেও প্রথম কাব্যগ্রন্থ  প্রকাশের যে রোমাঞ্চ, যে আবেগ ও উদীপনা তা কমবেশি সকলের ক্ষেত্রেই সমান। সাথি  দীর্ঘ সময় ধরে কাব্যচর্চার সাথে সংযুক্ত থাকলেও কাব্যগ্রন্থ প্রকাশে তাঁর তীব্র অনীহা, অথচ সাহিত্যের এক গর্বিত উত্তরাধিকার তাঁর রক্তে ও মজ্জায়। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি তিনি। সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ছন্দের অসামান্য কারুকাজ তিনি রপ্ত করেছেন শৈশব থেকেই। এই কাব্যগ্রন্থে জীবনের আলোড়িত সত্তার ভেতর থেকে প্রাত্যহিক দ্বন্দ্ব সংঘাত, প্রেম- জটিলতা, ক্ষুদ্রতা-উদারতা, সংগ্রাম এবং বিচ্ছিন্নতার নিরলস ভাবনা বারবার আবর্তিত হয়েছে। ' বালুচরে ফোটে না তো ফুল/ কাঙাল হৃদয় আজ হয়েছে আকুল' এই আকুলতাই তাঁর গতিজাড্য। তাই ধ্যানলীন চৈতন্যের ভেতর অস্তিত্বের সুপ্তি ও জাগরণচিহ্ন নিয়ে জীবনকে এঁকেছেন তিনি। যে জীবন নিরালম্ব আলোকলতা নয়। যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে যন্ত্রণাময় দাহ এবং ...

সোনার ছেলে ।। বাসুদেব সরকার

সোনার ছেলে  বাসুদেব সরকার  আমার দেশে সেই ছেলে তো কই,  ভালোবাসে ফুল পাখি ভালোবাসে বই।  বিদ্যাচর্চা করবে তো পরচর্চা নয়,  কর্মগুণে করবে যে সারাবিশ্ব জয়।  নিজ কর্মে হবে তারা সদা মনোযোগী  মানব সেবায় রত, সেবা দেবে রোগী।  দেশপ্রেমে হবে তারা সদা আগুয়ান,  প্রয়োজনে উৎসর্গ করবে যে প্রাণ।  দুখীজনের দুঃখ নেবে ভাগ করে,  নিরপেক্ষ হবে তারা সকলের তরে। অন্ন তুলে দেবে মুখে অন্নহীন জনে,  হিংসা বিদ্বেষ কভু থাকবে না মনে।  ছোটোদের স্নেহ আর গুরুজনে ভক্তি,  ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় আত্মশক্তি।  নিজ ধর্মে বিশ্বাস ও মেনে রীতিনীতি  পরধর্মে সহিষ্ণুতা মানবতা প্রীতি।  তেমন সোনার ছেলে করি আশা সবে,  সেই ছেলে দ্বারা হবে সুখ শান্তি ভবে।  মহাস্বর্গ রচিত যে দুনিয়াতে হবে,  আসবে মোদের দ্বারে সেই ছেলে কবে?  ================ ◼️বাসুদেব সরকার, পেশা: শিক্ষক চরভৈরবী, হাইমচর, চাঁদপুর, বাংলাদেশ।

কবিতা ।। কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

কথা তীর্থঙ্কর সুমিত কথার সাথে কথারা হারিয়ে যায় সময় বাঁকে .. আলাপের দ্বিচারিতা আর সময়ের ব্যার্থতা ক্রমশ এগিয়ে আসে  পাশে বসে সখ্যতা জমায় আঙুলে আঙুল রেখে এক - দুইয়ের অছিলায় নতুন কোনো সংখ্যা বসায় আর দূরের নদীটা বয়েই চলে জোয়ার - ভাটার সাথে সাথে। =================     

স্মৃতিকথা ।। আমার বন্ধু কবি শ্যামলকান্তি দাশ ।। শংকর ব্রহ্ম

আমার বন্ধু কবি শ্যামলকান্তি দাশ শংকর ব্রহ্ম -------------------- ------------ ------------ ------------ ------------ ------------ আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা। সত্তর দশকের কথা। 'সত্তর দশক মুক্তির দশক।' দেওয়ালগুলি যখন ভরে উঠেছিল এই শ্লোগানে। আমরা কতিপয় তরুণ তখন মুক্তি খুঁজেছি কবিতায়। কমল সাহা তখন আমাদের সঙ্গে কবিতা লিখত। আর নতুন প্রকাশিত প্রায় সব লিটল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদপট আঁকত। ওর ছিল চারটে নেশা। ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, চা আর চার্মিনার সিগ্রেট। কবিতা লেখায় মুন্সীয়ানা ছিল ওর, ছিল প্রখর ছন্দ জ্ঞান। প্রচন্ড অনুভূতি সম্পন্ন কবি ছিল কমল। প্রায় সব পত্রিকায় ওই সময় কমলের কবিতা প্রকাশিত হত। কমল সাহা তখন এক জনপ্রিয় কবির নাম। শ্যামলকান্তি দাশ সেইসময় - 'সূর্যনেশা' নামে একটি পত্রিকা মেদনীপুর থেকে  প্রকাশ করত। কমল তখন এতটাই জনপ্রিয় কবি ছিল যে শ্যামল আমাদের ও কমলের সমসাময়িক কবি হয়েও 'সূর্যনেশা' পত্রিকার 'বিশেষ কমল সাহা সংখ্যা' বের করেছিল। যা এখন প্রায় ভাবাই যায় না সমকালীন কবিদের কাছে থেকে। শ্য...

কবিতা ।। মেঘ বিলাসে ।। বন্দনা পাত্র

মেঘ বিলাসে  বন্দনা পাত্র ও আকাশ ঢালো ঢালো উজ্জ্বল প্রণয় অজস্র  মেঘের ভিতর মেঘ ছিল ঐ আকাশের সহস্র... দুরন্ত সেই রোদেলা আকাশ হারিয়েছে আজ মেঘের আঁখি কিরণ ঢালে কেবল অভিমানী সাজ। মেঘের ভিতর কলঙ্ক ছিল ও পূর্ণ আকাশ বিলাসে  কঙ্কাবতী নাম নিয়ে সে উতলা হয় বাদল বাতাসে... পূব হাওয়াতে দুলল যখন দোদুল দোলায়.. আষাঢ়ের মেঘ যে তখন ভীষণ রকম দূত হয়ে যায়। মেঘ বৃষ্টি বিলাস করে তাদের নীরের মেঘ-নীড়ে, সর্বনাশী সুরা ঢেলে কন্ঠে আকাশ উতল ধারায় নৃত্য করে... এমন বিলাস আকাশ ঘরে আষাঢ় অভিসারে, আকাশের আঁখি জলে ঊর্বশী-মেঘ নাচ করে। ঝিনুক মত বৃষ্টি যেন ঢেউ খেলানো নক্সা ক'রে  রুদ্র আকাশ গর্জনেতে যুগল মিলন বন্দী করে। মেঘ বৃষ্টির এমন ধরন আকাশ পথেই হরিণ হয়ে  দৌড়ে গিয়ে লক্ষ প্রণয় আকাশ জলে যাচ্ছে ধুয়ে। ও বাতাস তুই বাদল হলি এখন কেন আষাঢ় বলে? সব যেন ঐ যৌথ-মিলন বিলাস করে আকাশ কোলে। ============   নাম- বন্দনা পাত্র   

কবিতা ।। ভাঙ্গা আয়নায় ।। সনথ রায়

   ভাঙ্গা আয়নায়     সনথ রায় শব্দরা কেঁদেছে অনেক প্রয়াণ সভায় স্বপ্ন গুলো বিগড়ে যাওয়া নীড়ে  হামাগুড়ি ক্ষতচিহ্ন হাঁটু সহসা দাঁড়ায় । অজানা অচেনা ধাম হঠাৎ জীবন এক আকাশ মহাবিশ্ব ভাঙ্গা আয়নায় । নিখোঁজ এখনো আছি জানিনা কোথায় অনুরাগ বনানীকে রেখেছি বিতাড়ে কী নামে নিজেকে ডাকি কেমন প্রথায় । দেহ ভরা দাসপ্রথা সহিছে পীড়ন যোগাসনে অনুযোগ আছে কী শোভায় । পরিযায়ী সুখ নিরাশ্রক ঠিকানা ডানায় দেখিতাম ডানা পেলে ডানায় উড়ে অনাশ্রিত বনজ প্রাণ বিবিধ উপাধ্যায় । পালিলাম মহামান্য মানব জীবন গেছে শতকাল মুনী'ঋষি নিযুত অধ্যায়। এখনো রয়েছি "তারপর " যত নিরুপায় বিধাতার তমসুক খেলাপির ঘাড়ে বিকৃতি শতমুখ ভাসে ভাঙ্গা আয়নায় । আপনার চেহারাটি দেখতে কেমন টুকরো আয়নাতে দেখে পড়েছি দ্বিধায় ।  ============   ঠিকানা:- শিলচর, আসাম

ঝরা পাতা ।। নিবেদিতা দে

 ঝরা পাতা   নিবেদিতা দে  খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোর পছন্দের রং ধূসরের উর্দ্ধে গেল কিনা, নীল আর কালোর নিকষ অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে, জগতটাকে দেখে তোর পছন্দ হলো কিনা। খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোর বদলে যাওয়া স্বভাবগুলো আর পরনের সুরগুলোর কথা। জানতে ইচ্ছে করে, আসা-যাওয়ার মাঝে তোর মনে দাগ কেটে যাওয়া উড়ো মেঘগুলোর কথা। জানতে ইচ্ছে করে, তোর দক্ষিনা বাতাস আর বৃষ্টির গন্ধ মাখা চিঠিপত্র পাঠায় কিনা। শীতের ঝরা পাতাগুলো কি নিয়েছে তোর খোঁজ? ভোরবেলার পাখিগুলো কি তোকে আর জিজ্ঞেস করে, ঠিক কতটা একাকিত্ব পোহালো? ================ নাম: নিবেদিতা দে  বিহু, শরৎপল্লী, নিবেদিতাপল্লী,গোলাপবাগ পূর্ব বর্ধমান।

গল্প ।। কর্কট-ক্রান্তি ।। সুশান্ত পাত্র

কর্কট-ক্রান্তি  সুশান্ত পাত্র     বর্ষাকাল বিশেষ পছন্দের নয় গোকুলের। এই সময়টাতে তাকে অনেকগুলো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ধারা নেমে আসে, তার ঘরের খড়ের চাল ভেদ করে ঝরঝর করে জল পড়তে থাকে। উঠোন জুড়ে খেলা করে সোনা ব্যাঙ, বিছে, ইঁদুর, কেন্নোরা। নদীর জলে ভাঁটা প্রায় নামতেই চায় না, ফলে উপার্জন বন্ধ হয়ে আসে। পেটে টান ধরে। কাজকর্ম থাকে না। সেঁতিয়ে ওঠা মাটির দাওয়ায় বসে তখন সে কেবল তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে।      দুদিন অবিরাম বৃষ্টির পর আজ একটু ধরণ দিয়েছে দেখে সকালবেলাতেই পান্তা খেয়ে কাজে বেরোচ্ছিল গোকুল। দুদিন বসে বসে কাটল। আজ না বেরোলে সংসারের চাকা ঘুরবে না। বারান্দার বেড়ার গায়ে ঝোলানো থাকে একটা লোহার শিক, তার পাশেই নাইলনের ব্যাগ। জিনিস দুটো নিয়ে বেরোবার মুখে যমুনা ডাকল।  — কিছু তো বললে না। কি ভাবলে?      গোকুল আকাশ দেখছিল মুখ উঁচু করে। আবার ঢালবে কিনা তাই বোঝার চেষ্টা করছিল। যমুনার কথা কানে গেলেও মনে গেল না।      সে আলগোছে বলল, কিসের কি ভাবব?   ...

ডাকবাক্সে তোমার চিঠি ।। গোলাপ মাহমুদ সৌরভ

ডাকবাক্সে তোমার চিঠি   গোলাপ মাহমুদ সৌরভ  আজও আমি প্রতিনিয়ত অপেক্ষায় থাকি হলুদ খামে প্রিয়তমার চিঠি আসবে বলে,  ডাকহরকরা আমার দরজা কড়া নাড়বে, চিঠিটা দেখে আনন্দে মনটা ভরে যাবে অধিক আগ্রহ নিয়ে বারংবার পড়বো,  কবে,কখন যে আসবে প্রিয়তমার চিঠি  প্রশান্তির দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চিঠি পড়বো।  একাকী বিষন্ন মনটা একটু স্বস্তি পাবে তুমি হীন নিজেকে বড়ই একা মনে হয়,  ফেরারি এই মনটা তোমারই কথা কয়।  অভিমানে না-হয় নিজেকে দূরে সরে রেখেছো বিনিময়ে কষ্ট ছাড়া বলো কি পেয়েছো?  অজান্তে একবার স্মৃতির ডাইরিটা খুলে দেখো একটি ভুলের জন্য কতোদিন হারিয়ে গেছে,  আমি প্রতিদিন ডাকবাক্সে তোমার চিঠি খুঁজি  অবশেষে ক্লান্ত হয়ে ভাবি আজও এলোনা বুঝি! ============

কবিতা ।। বদল ।। কার্ত্তিক‌ মণ্ডল

                   বদল      কার্ত্তিক‌ মণ্ডল   বদলে গেলাম আমি তুমি,বদলাল হালচাল   দেখেছি আবার বদলে মানুষ তিলকে করে তাল‌ পোশাক আশাক বদলে গেছে বদলাল বাক্‌ ভাষা গাড়ি বাড়ি বা চলন বলন,মনের যত উচ্চাশা। চারদিকটা লাগছে ফাঁকা বদলাল গাছ ভূমি বদলে গেল মাছ মাংস দূষণ চাষের জমি সুউচ্চ সব অট্টলিকা ,নেইকো মাটির ঘর আগের মত কেউ মিশে না, শুষ্ক যে অন্তর দোয়েল কোয়েল নেইকো আর দেখিনা ঘুঘু টিয়া ভাবলে মনে তুফান আসে যায়রে‌ ভেঙে হিয়া বাপও ছেলে আলাদা রয়,দেখাদেখি নেই কার‌ও সবার মন পাষাণ যেন, ভুলে গেছে কথা মার‌ও ভাই বন্ধু আর কেউ বলে না,প্রেম তো মরীচিকা চোখের সামনে দেখছি রে প্রেম,বন্ধনহীন ফিকা‌ উদার প্রীতি মানবিকতার সূত্র গেছে ছিঁড়ে মানুষ এখন হারিয়ে গেছে অমানুষের ভীড়ে । ===========  

কবিতা ।। সৃজণ মনন ।। তপন মাইতি

সৃজণ মনন  তপন মাইতি সৃষ্টি থেকে সবুজ মনন সৃজণ  বায়ুমণ্ডল নির্মল হলে পরে  পৃথিবী রাখবে ধরে শ্রীজন  বাড়লে বিপদ দুর্যোগ তুফান ঝড়ে।  একটি সংগ্রাম সবুজায়ন করে  নদীবাঁধে উঁচু করলে মাটি  মেরু গলন রুখে সৃজণ গড়ে  সবুজ যত্নে বৃক্ষ পরিপাটি।  একটি লড়াই বিপ্লব সচেতনে  মানুষ নিজের সামাজিকবোধ দেবে  সার্বিক পৃথিবী আদর যতনে  মুক্ত জীবন নিঃশ্বাস নেবে।  ভালবাসতে জানলে তুমি পারবে  অরণ্য যে বাঁচতে শেখায় লড়াই  যেদিন জীবন জগত তুমি ছাড়বে  দিয়ে যাবে সমান উতরাই চড়াই। বৃক্ষ হয়ে বৃক্ষের কাছে দাঁড়াও  কাছের মানুষ নিজের হয়ে দাঁড়াও।  ================   নামঃ তপন মাইতি ঠিকানাঃ গ্রামঃ পশ্চিম দেবীপুর; পোঃ দেবীপুর; থানাঃ মৈপীঠ কোস্টাল; জেলাঃ দঃ২৪ পরগণা; পিন-৭৪৩৩৮৩; পশ্চিমবঙ্গ। ভারতবর্ষ  ।

কবিতা ।। তন্ময় দাস

   চল না ; ফিরে যাই তন্ময় দাস               আহ্ রে,-                এই ব‍্যস্ত জীবন-  একটু থমকে দাড়া। আর চাই না যেতে দুর পথ_  আবার ফিরে চল শৈশবের পথে। যে পথে চল্লে মানুষ কিছু বলে না_ দু হাত তুলে নাচা যায় - বন, বাদারে। সকাল, দুপুর,সন্ধার ধূলো মাখা ধূসর পথে। যেখানে চিন্তা নেই, ক্রোধ নেয়, ভয় নেই, হিংসা নেই _ জীবনরে চল না - একটু ওই ফেলে আসা পথে। একটু ছুয়ে আসি তারে। যেমন শরৎ- শিশীর বিন্দুরে ছোঁয়, তেমনি_ যেমনি বুড়ো ঈগলের ঝড়া পালক গজায় ; তেমনি_ চল না একটু ;সেই পথ হতে_ গোধুলি এখন,সূর্য ডোবার পথে। ঘুরে আসি হাত ধরে - ছোট্ট বেলার বন্ধুর সাথ ধরে। একটু খেলে আসি,, লুকোচুরি, গোলা পাক, পাতা ছেঁড়া। লুকিয়ে  আসি; চুরি করা আম, লেচুর থোকা। বকুনিটি খেয়ে  আসি মায়ের। চল না রে মন_  একটু নেচে আসি প্রজাপ্রতির মতন। ফিঙের মতন, বুলবুলির লেজটি নাড়ানোর মতন। ব‍্যস্ত জীবন, বরই ব‍্যাকুল_ চল ফিরে যাই _ আরেক, বারেক বার।                      _________ নাম- তন্ময়...

ছড়া ।। ভোরের পাখি ।। মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান

ভোরের পাখি  মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান রোজ সকালে গাছের ডালে পাখপাখালির ডাকে,  খোকা খুকুর ঘুম ভেঙে যায় খোঁজে তারা মা'কে।  দোয়েল কোয়েল ময়না শালিক  হরেক রকম পাখি,  গানে গানে প্রভাত আনে  সুরুজ খোলে আঁখি।  কোকিল ডাকে আপন তালে  কুহু কুহু সুরে,  বউ-কথা-কও ডাকে পাখি  অল্প কিছু দুরে ।  চড়ুই পাখির কিচির-মিচির  বাংলা ঘরের চালে,  টুনটুনি তাই  মনের সুখে  নাছে ডালে ডালে ।  **************     মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান  দশানী, বাগেরহাট 

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

  কথা ও সুখ সুশান্ত সেন   কোনো একটা সাধারণ কথা নিয়ে  আগ বাড়িয়ে আগ বাড়িয়ে অনেক দূর চলে যাবার পর দেখা যাবে এতক্ষণ যা কিছু কথা হলো  সে সব কথার কোনো মানে নেই। আর অর্থহীন কথা ছাড়া সারাদিন ত এত কথা বলা যায় না। স্বচ্ছ জলের মধ্যে সাঁতারের মত আর কি বা সুখ আছে - অথচ আমি জানি আমি সাঁতার জানি না। সাধারণ কথা আর সাঁতারের থেকে দূরে চলে গিয়ে ছিপ ফেলি মানস সাগরে - সেই যেন নিয়ে এলো সুখ । ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

কবিতা ।। পরিণতি ।। চন্দন দাশগুপ্ত

  পরিণতি চন্দন দাশগুপ্ত  টিলা -ঢিবি ছিল বটে সে-দেশে কিছু, আর ছিল অজস্র গাছ, ফুল আর পাখি ছিল অগুন্তি, খোলা আকাশের বুকে ছিল মেঘ, ঠান্ডা বাতাসে ছিল ফুলের সুবাস। তারপর একদিন শুরু হল গাছ কাটা, ওরা নির্মম....ওদের হাতে আছে কুঠার, ওরা নাকি করবে "উন্নয়ন", মাটির পথকে ওরা করল পিচঢালা পাকা রাস্তা, সেখানে চলল গাড়ি আর বাইকের মিছিল, কারখানার ধোঁয়াতে ঢেকে গেল বাতাস, ঘোলাটে আকাশে মুখ ঢাকলো সমস্ত তারা-নক্ষত্র, ঠান্ডা বাতাস পালিয়ে বাঁচল, এসে গেল লু, আদুল গায়ের সরল মানুষগুলোর জায়গা নিলো, সুটেড বুটেড কিছু "সভ্য" মানুষের দল, ওরা এক পা হাঁটতে পারেনা, তাই চড়ে বাইক, তার দূষণের ঠেলায় তারা নিজেরাই নাজেহাল,  টিলা ঢিবিগুলো আজ আর নেই সে-দেশে, আর, ফুল-পাখি-প্রজাপতি ,,,,,,,,? ওরা সবাই আজ চলে গেছে না-ফেরার-দেশে। ================= চন্দন দাশগুপ্ত  সি/৩০/১, রামকৃষ্ণ উপনিবেশ,  রিজেন্ট এস্টেট,  কলকাতা--৭০০০৯২  

কবিতা ।। ঋণশোধ ।। সবুজ জানা

  ঋণশোধ সবুজ জানা বাজারে গোপন দাঁদন ইহকাল ও পরকালের বোঝা  এখন মৃত্যু হলে আমি ঋণী থেকে যাব আপাদ মস্তক কোন এক শাইলকের কাছে। এই মরলোকের ঋণশোধ নিয়ে আমি কিন্তু দু:শ্চিন্তায়! আমার ঠাকুরমা বলতেন, কাঁধ থেকে ঋণের বোঝা নামাও  গঙ্গা স্নান সারবে....  অন্যথায়  ঋণশোধ পরজন্মেরও দায় মানুষ কিংবা পশু হয়ে! ভালবাসায় সুদ, আসল বা লভ্যাংশ আছে কিনা জানি না তবুও ভালবেসে ঋণী করে যাও তুমি আমায় প্রতিনিয়ত। ভাবছি এ বোঝা নামিয়ে দেব কাঁধ থেকে শাপমোচন! ওগো সই তবুও পারছি কই।  ============ সবুজ জানা পাঁশকুড়া পূর্ব মেদিনীপুর 

কবিতা।। তোমার প্রতি ।। তপন মাইতি

  তোমার প্রতি  তপন মাইতি যখন তোমায় বলতে যাব  তখন তুমি ভিড়ে  বলব বলব করে কি আর  পাখি গেল নীড়ে।  যখন তোমায় বলব ভাবি  কেমন যেন মগ্ন  হৃদয় যেন অন্য কারোর  আসছে শুভলগ্ন।  শুরু করা গেলে ভাবতাম  কিছু একটা হবে  বলব বলব বলি করে  পাখি উড়ল কবে? এখন যদি একটু বোঝ  তোমার জন্যে এমন  ভালবাসি ভাবলে যেন  ভাল লাগে কেমন... ============= নামঃ তপন মাইতি ঠিকানাঃ গ্রামঃ পশ্চিম দেবীপুর; পোঃ দেবীপুর; থানাঃ মৈপীঠ কোস্টাল; জেলাঃ দঃ ২৪ পরগণা; পিন-৭৪৩৩৮৩; পশ্চিমবঙ্গ। ভারতবর্ষ। 

কবিতা ।। হিসেব ।। প্রতীক মিত্র

  হিসেব প্রতীক মিত্র সবাই বহালতবিয়তে আছে। জানলায় শৌখিন পর্দা। মোবাইলে হিন্দি গান। অবসর সমান সমান গাছের পাতায় গরম হাওয়ার দোলা। শেয়ার বাজার, জমির দালালি, বিছানার কুঁচকে থাকা চাদরে ভালোবাসা। নেতাদের চুরি, ধড়পাকড়, স্ফটিক জারে মাছেদের জলের বুদবুদ গেলা। ঘরে আকছার অনধিকার প্রবেশকারী  পাড়ার বিচ্ছু বেড়ালটা আগাছার ঝোপের কাছে হাঁচে। দিনযাপনের পাতার একের পর এক উলটে যাওয়া মুহুর্তগুলোর কখনও শর্ত কখনও শর্ত ছাড়া আঁকড়ে ধরে আঠা হয়ে কিম্বা ছেড়ে দেওয়া যেন বাদামের খোলা। আর যদি বা কিছু বাকি থাকার থাক… সবাই তো দেখছি বহালতবিয়তেই আছে। ============== প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235, পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। আশিস ভট্টাচার্য্য

অহল্যার চোখে ঘুম নেই আশিস ভট্টাচার্য্য স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়  অবৈধ সম্পর্ক সুখ দেয় আরাম দেয়  কিন্তু শান্তি কেড়ে নেয় কেড়ে নেয় চোখের ঘুম। উদাসীন স্বামী তাকে তৃপ্তি দিতে ‌ অক্ষম তাই অহল্যা হাজার বিনিদ্র রাতের ছটফটানি ভুলে ইন্দ্রের কাছে সতীত্ব বিসর্জন দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করেননি। ইন্দ্রের শরীরে কি জাদু আছে অহল্যার মস্তিষ্কে, শরীরে হাজার সঙ্গীতের সুর বেজেছিল, লম্পট ইন্দ্রের চম্পট দিতে এক লহমা বিলম্ব হয়নি। উদাসীন ঋষির ক্রুদ্ধ শাসনের সামনে চঞ্চলা হরিণীর মত ভীত , স্তম্ভিত অহল্যা ত্রিভুবন শান্তির ঘুমে মগ্ন তার চোখে নেই। =================   আশিস ভট্টাচার্য্য রামকানাই গোস্বামী রোড শান্তিপুর নদীয়া -৭৪১৪০৪

কবিতা ।। সান্ত্বনা চ্যাটার্জি

ঠিকানা সান্ত্বনা চ্যাটার্জি  আমি ছিলাম সপ্তদশী তখন ফাগুন মাস, আকাশ জুরে রঙের মেলা ,স্বপ্ন ভরা চোখে; দেখে ছিলাম তোকে। মেঘের ভেলায় শিশু রবি আগুন বরণ কায়া , তারই মাঝে দেখেছি তোর ছায়া । একটি দশক পরে .. তুই এলি আমার ঘরে ; আমার জীবন আলো করে । তোর তো সবই ছিল.. আমি কিছুই রাখিনি বাকি; তুই ছেড়ে কেন গেলি আমায় , ,জীবন জুরে আঁধার । গ্রহন লেগে সুর্য যেমন আকাশ কে দেয় ফাঁকি মাঘের শীতের সায়াহ্নে আজ শুকনো চোখে চাই- শুস্ক নদী ,ধুধু প্রান্তর, শুধু বালিয়ারি পাই । তুই আছিস কোথায় জানি ; তোর প্রার্থীব ঠিকানা টা; নাইবা দিলি আর -স্বপ্ন ভাঙ্গা হৃদয় মনে নেই তার দরকার ।                          ****** সান্ত্বনা চ্যাটার্জি A166 Lake Gardens Kolkata 700045

কবিতা ।। বিজ্ঞানে রই, অপবিজ্ঞানে নয় ।। শুভ্রা ভট্টাচার্য

বিজ্ঞানে রই,অপবিজ্ঞানে নয় শুভ্রা ভট্টাচার্য বিজ্ঞান কথাটির মূলগত অর্থ "বিশেষ জ্ঞান" যাহার সাথে জড়িত রয় জৈব অজৈব প্রাণ, পরীক্ষা নিরীক্ষা সিদ্ধান্ত তাহার তিনটি ধাপ হাতে কলমে জ্ঞান অর্জনে চাই বুদ্ধির ছাপ। এ বিশ্ব ব্রম্ভান্ড প্রকৃতি মাঝে লুকিয়ে বিজ্ঞান  পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সঠিক ব্যবহারে শিক্ষার মান, অজানাকে জানাতে প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন  তারই মাঝে অপবিজ্ঞানের টানে ছোটে মন। অজ্ঞানতার আঁধারে বিজ্ঞানের অপব্যবহার অন্ধ বিশ্বাস আর অনুকরণে মেকি আধুনিক, যদিও মোরা কুসংস্কারের সঙ্কীর্ণ বেড়াজালে অনুদার চিন্তায় মনে ব্যাকডেটেড পৌরাণিক। অন্যায়াসক্ত অপরাধী মন সদা ভীত ত্রস্ত  মানসিক দুর্বলতায় ভ্রান্ত সংস্কারে আচ্ছন্ন, মসৃণ জীবনধারার মূল সত্য ও লক্ষ্য ভুলে  উদারতা মানবিকতা হতে অন্তর বিচ্ছিন্ন। অদৃষ্টবাদ অসঙ্গত ভীতি আতঙ্ক হতেই যত আদিকালে অবৈজ্ঞানিক কুসংস্কারের জন্ম, রন্ধ্রেরন্ধ্রে আষ্ঠেপৃষ্টে বাঁধা সংকীর্ণতা হতে না জানি কেমনে বাঁচবে আমাদের প্রজন্ম! বিলাসযাপনে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ভোগবাদ তবুও মনেতে একরাশ শুন্যতার হাহাকার, তাই আপাতত আনন্দ সুখ শান্তির খোঁজে  তাবিজ কবজ আর পাথরের জয়জয...

গল্প।। মায়ের স্বপ্নভঙ্গ ।। মিঠুন মুখার্জী

                  মায়ের  স্বপ্নভঙ্গ                         মিঠুন মুখার্জী  সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ছোট্ট আফরিনা তার মাকে বলে--- "মা, আমরা কি দেশে ফিরতে পারবো না!! আমার স্বপ্ন কি পূরণ হবে না?" মা খাদিজা বিবি কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন--- "এই পরিস্থিতিতে কিভাবে যে মাতৃভূমিতে ফিরে যাব, কে জানে। দেশে তোর বাবার ও দিদির চোখের জলে দিন কাটছে।" খাদিজা বিবির মাতৃভূমি হল ভারতবর্ষ। কলকাতার পার্ক সার্কাসের একটা বস্তিতে মোহাম্মদ সালেম তার বউ খাদিজা বিবি ও দুই মেয়ে আফরিনা ও কারিনাকে নিয়ে একপ্রকার সুখেই বাস করতেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে খুলনা জেলায় ভাইয়ের বাড়িতে বড় মেয়ে করিনার বিয়ের নিমন্ত্রণ করতে গিয়েছিলেন তারা। তাছাড়া অনেকদিন ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়া হয়নি। দেশভাগের সময় ভাই আবু হোসেন পূর্ব পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। তারও জন্মস্থান কলকাতা। সপ্তাহখানেক পর মোহাম্মদ সালেম বড় মেয়ে কারিনাকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন। সপ্তাহ দুই পরে খাদিজা বিবি ও আফরিনাকে...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

ছোটগল্প ।। গিরগিটি ।। উত্তম চক্রবর্তী

গিরগিটি উত্তম চক্রবর্তী লোকটাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগছিল আমার । কোথায় দেখেছি কোথায় দেখেছি ভাবতে ভাবতেই সে আমার পাশ কাটিয়ে চলে যায় বড় রাস্তার দিকে । আমি গলির ভিতরে যেতে যেতে চিন্তা করছিলাম কে এই লোকটা , ওকে আগে আমি কোথায় যেন দেখেছি । সন্তু ওর বাড়ির দরজাতেই দাঁড়িয়েছিল । আমি এখন ওর বাড়িতেই যাচ্ছি নোট আনতে । সন্তুকে দেখে আমি ওকেই জিজ্ঞাসা করলাম ,    'হ্যাঁরে সন্তু , এইমাত্র যে লোকটা এই গলি দিয়ে বের হল , ওই যে ওই যে পিছনটা দেখা যাচ্ছে রে , ওই লোকটা কে রে , চিনিস ? কোথায় যেন দেখেছি দেখেছি মনে হচ্ছে , কিন্তু মনে পড়ছে না । ' সন্তু ঘাড় উঁচু করে দেখে বলল , 'আরে ও তো আমার ছোটো মামা জগাই মণ্ডল। কাল রাতে এসেছে । তোদের কৃষ্ণ নগরের লোক । ওখানেই থাকে । নীল দলের খুব বড় একজন লিডার মানুষ । তুই হয়ত মামাকে কোন মিটিং মিছিলে দেখে থাকবি । '  আমি চুপ করে ভাবতে থাকলাম, হবে হয়ত । আমার বাড়ি কৃষ্ণ নগরে দর্জি পাড়া অঞ্চলে। কিন্তু আমি কলকাতায় মেস বাড়িতে থেকে এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এস সি করছি। মাসে একবার কৃষ্ণ নগরে বাড়িতে যাই। হয়ত ওনাকে দেখেছি কোথাও। সন্তুর ব...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...