Skip to main content

Posts

কবিতা ।। স্মৃতির ভেলায় রথের মেলা ।। জয়শ্রী সরকার

স্মৃতির ভেলায় রথের মেলা         জয়শ্রী সরকার রথযাত্রা নামটা শুনেই পৌঁছে তো যাই ছোট্টবেলায় বাবার কাছে বায়না ধরি, যাও না নিয়ে রথের মেলায়। সেই সে দিনের সুখগুলো সব লেপটে থাকে মনের মাঝে চাইলেও কী ভুলতে পারি? প্রশ্ন করি সকাল-সাঁঝে ! রথযাত্রার রহস্য কী --- সেটাই মাথায় ঢুকতো না যে আনন্দটাই মুখ্য ছিল --- আর বাকি সব বৃথাই কাজে। ছুটি পেতাম একটি দিনের ঠিক দুপুরে পৌঁছে যেতাম জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা মনের সুখে হামলে খেতাম ! রথটাকে তো টানবো বলে বায়না ধরি বাবার কাছে ধমক যে খাই ঠিক তখনই ভীড়ের মাঝে হারাই পাছে। নাগোরদোলায় আমার সাথে চড়তে হতো বাবাকেও নাছোড়বান্দা আমি নাকি, ছাড়ছি না তো ধমকালেও ! বায়না করার আগেই বাবা কিনে দিত পালকি-পুতুল সাজবো বলে সঙ্গে দিত গলার হার আর কানের দুল। বাবার হাতটা ধরে ধরেই আহ্লাদেতে কাটতো বেলা মনের সুখে মজা লোটা --- এই না হলে রথের মেলা ! হঠাৎ দেখি মেঘের ঘটা --- বৃষ্টি নামে মুষলধারে জল-কাদা আর ভীড়ের ঠেলায় দাঁড়াই গিয়ে শেডের ধারে। ভাবতে গেলেই মন ছুটে যায় সেই সে দিনের রথের মেলায় হাতড়ে বেড়াই আজকে শুধুই মধুর স্মৃতির এই অবেলায় ! *********************...

কবিতা ।। আমার এ দেশ ।। দীনেশ সরকার

        আমার এ দেশ               দীনেশ সরকার আমার দেশে রোজ সকালে তরুণ অরুণ ওঠে ঠিক তখনই ফুলকলিরা হাসতে হাসতে ফোটে । অলিরা সব দলে দলে ফুলের বনে জোটে গুনগুনিয়ে ফুলের মধু মনের সুখে লোটে । ঘুম ভাঙে রোজ শীতল হাওয়ায় পাখির কলতানে বাউল-ফকির মন ভরায় তার পাগল করা গানে । নতুন নতুন সাজ প্রকৃতির ষড়ঋতুর টানে বর্ষ জুড়ে খুশির প্লাবন সবার মনে প্রাণে । সবুজঘেরা আমার এ দেশ উর্বর যে তার মাটি লক্ষ হীরে মোতির চেয়েও দামি এবং খাঁটি । বীর শহিদের রক্তে ভেজা আমার দেশের মাটি বাধ্য হ'লো ব্রিটিশ শাসক ছাড়তে ভারত ঘাঁটি । সন্ধ্যা হলেই আকাশ ভালে লক্ষ মানিক জ্বলে বাঁধভাঙা ওই চাঁদের হাসি ছড়ায় গগন তলে । আঁধার রাতে আলো জ্বালে জোনাক দলে দলে আমার দেশে চাঁদ দেখা যায় পদ্ম দিঘির জলে । আমার এ দেশ ভরা আছে সম্পদে সম্পদে ঝর্ণা-পাহাড়, বন-বনানী এবং নদী-নদে । কালো হীরে, রত্ন খনি, পাহাড়ঘেরা হ্রদে হাসি-খুশি ঝরে পড়ে সকল জনপদে । *************************************************     দীনেশ সরকার ১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি, ...

ছড়া ।। ভার ।। তূয়া নূর

  ভার  তূয়া নূর চুরি এখন বড়ো বিদ্যা লজ্জা পায় না  তাতে, ভয় লাগে না কলকাঠি সব এখন নিজের হাতে। কেটে কুটে ইচ্ছে মতো দিন-দুপুরে চুরি, ঘুষ খায় সে আটকে ফাইল, দালান উঁচু ভুঁড়ি। বস্তা ভরা ধান আসে না বস্তা ভরা টাকা, দেশ বিদেশে জমি বাড়ি ঠিক দেবে গা ঢাকা। কোথায় খরচ করবে বলো এতো টাকা যার? বুঝবে কবে অনেক টাকার অনেক বেশী ভার।  ===========

ছড়া ।। ধরায় আন সুখ ।। সুনন্দ মন্ডল

  ধরায় আন সুখ         সুনন্দ মন্ডল এই তো আষাঢ় নামল ধরায় বৃষ্টি তবুও নাই! মানুষ পাখি ঘামছে খরায় তীব্র দহন ঘায়। ফলগুলো সব গাছেই পাকে মাটি ছুঁলেই পচে। কীই বা করি বাজার ঘুরে ভেজালে থাকি মজে। ফুলগুলো সব শুকিয়ে গেল বৃষ্টিহীনতায়। বাঁচবে কীভাবে পাতারা গাছের দারুন এ খরায়? চাতকগুলো কোথায় এখন? নাই কি প্রয়োজন! তারাও কি সব ঘুমিয়ে আছে ক্লান্ত প্রিয়জন। তোমরা যদি না ডাক তবে বৃষ্টি ফেরায় মুখ। আমরা ডাকি পথের পথিক ধরায় আন সুখ। ==============   কাঠিয়া, পাইকর, বীরভূম    

ছড়া ।। ভোট এলে ।। আনন্দ বক্সী

  ভোট এলে  আনন্দ বক্সী ভোট এলে হানাহানি-মারামারি-দ্বন্দ্ব  অন্য দলের হলে কথা বলা বন্ধ।  রক্ত গরম করা উত্তাপ ভাষণে  একটাই দাবি থাকে বসাও না আসনে। জীবন লড়িয়ে দেবো তোমাদের জন্য  উন্নতি ছাড়া কিছু ভাববো না অন্য।  হুঙ্কার-গর্জনে জনসভা জমান  নিজেদের ভাবে তারা সিংহের সমান।  খালি হলে কারো কোল মুছে গেলে সিঁদুর  কিবা আসে যায় বলো যদু-মধু-বিধুর।  এটা দেবো ওটা দেবো বুকে নেবো জড়িয়ে  আমাকে ভোটটা দিও দুটো হাত ভরিয়ে। প্রচারের কৌশলে দিতে চায় টেক্কা  গরু-গাড়ি চড়ে কেউ, কেউ চড়ে এক্কা। হেলিকপ্টারে চেপে কেউ নামে আসরে  বিজয়-মালাটা যেন জোটে ভোট বাসরে।  মসনদ চায় ওরা যেনতেন প্রকারে  সেই বার্তাই দেয় ইঙ্গিত আকারে। গরিবের গৃহকোণে সেরে নিয়ে আহার  নিতে চায় এরা খালি মাইলেজ তাহার।  ভোটের বাজারে এক বিরল সে চিত্র  দলীয় পতাকা ওড়ে হয়ে দেখি মিত্র।  জনসেবা করাটাই হয় যদি কর্ম  বিভাজন কেন তবে তুলে জাত-ধর্ম? মানুষকে ভাবো নাকি হাতের ঐ খেলনা জেনে রেখো ভালো করে ওরা নয় ফেলনা। বলিয়ান তোমরা যে ওদের সে বলেতে...

কবিতা ।। নতুন সকাল ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

নতুন সকাল তীর্থঙ্কর সুমিত বহুদিন পর আবারও যে পথ ধরে বেড়িয়ে পরলাম সবুজের দেশে,  নীলকে পিছনে ফেলে ক্রমশঃ ক্রমশের দিকে সরলরেখা বরাবর শুধুই...  যেখানে নদী শেখায় ভালোবাসার গান পাখি শেখায় উচ্ছ্বাসের সুর  সবুজ জানায় আমন্ত্রণ ছেঁড়া চিঠি আজ খাম ছেড়ে আকাশের পথে এসো মুগ্ধতা কুড়োই ভোরের আলোয়।  ===================== তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুণ্ডু, হুগলী পিন - ৭১২১৩৯

গ্রন্থ-আলোচনা ।। কবি সাথি রায়-এর কাব্য 'ইচ্ছেরা ছুঁয়ে যায়' ।। আলোচক: বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

ইচ্ছেরা ছুঁয়ে যায় হৃদয়ের অনুভূতিমালা বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়   'ইচ্ছেরা ছুঁয়ে যায়' কবি সাথি রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। কোন গভীর তাড়নায় একজন কবি কবিতা লেখেন এর উত্তর বিভিন্ন জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হলেও প্রথম কাব্যগ্রন্থ  প্রকাশের যে রোমাঞ্চ, যে আবেগ ও উদীপনা তা কমবেশি সকলের ক্ষেত্রেই সমান। সাথি  দীর্ঘ সময় ধরে কাব্যচর্চার সাথে সংযুক্ত থাকলেও কাব্যগ্রন্থ প্রকাশে তাঁর তীব্র অনীহা, অথচ সাহিত্যের এক গর্বিত উত্তরাধিকার তাঁর রক্তে ও মজ্জায়। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি তিনি। সংস্কৃতির অঙ্গনে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ছন্দের অসামান্য কারুকাজ তিনি রপ্ত করেছেন শৈশব থেকেই। এই কাব্যগ্রন্থে জীবনের আলোড়িত সত্তার ভেতর থেকে প্রাত্যহিক দ্বন্দ্ব সংঘাত, প্রেম- জটিলতা, ক্ষুদ্রতা-উদারতা, সংগ্রাম এবং বিচ্ছিন্নতার নিরলস ভাবনা বারবার আবর্তিত হয়েছে। ' বালুচরে ফোটে না তো ফুল/ কাঙাল হৃদয় আজ হয়েছে আকুল' এই আকুলতাই তাঁর গতিজাড্য। তাই ধ্যানলীন চৈতন্যের ভেতর অস্তিত্বের সুপ্তি ও জাগরণচিহ্ন নিয়ে জীবনকে এঁকেছেন তিনি। যে জীবন নিরালম্ব আলোকলতা নয়। যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে যন্ত্রণাময় দাহ এবং ...

সোনার ছেলে ।। বাসুদেব সরকার

সোনার ছেলে  বাসুদেব সরকার  আমার দেশে সেই ছেলে তো কই,  ভালোবাসে ফুল পাখি ভালোবাসে বই।  বিদ্যাচর্চা করবে তো পরচর্চা নয়,  কর্মগুণে করবে যে সারাবিশ্ব জয়।  নিজ কর্মে হবে তারা সদা মনোযোগী  মানব সেবায় রত, সেবা দেবে রোগী।  দেশপ্রেমে হবে তারা সদা আগুয়ান,  প্রয়োজনে উৎসর্গ করবে যে প্রাণ।  দুখীজনের দুঃখ নেবে ভাগ করে,  নিরপেক্ষ হবে তারা সকলের তরে। অন্ন তুলে দেবে মুখে অন্নহীন জনে,  হিংসা বিদ্বেষ কভু থাকবে না মনে।  ছোটোদের স্নেহ আর গুরুজনে ভক্তি,  ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় আত্মশক্তি।  নিজ ধর্মে বিশ্বাস ও মেনে রীতিনীতি  পরধর্মে সহিষ্ণুতা মানবতা প্রীতি।  তেমন সোনার ছেলে করি আশা সবে,  সেই ছেলে দ্বারা হবে সুখ শান্তি ভবে।  মহাস্বর্গ রচিত যে দুনিয়াতে হবে,  আসবে মোদের দ্বারে সেই ছেলে কবে?  ================ ◼️বাসুদেব সরকার, পেশা: শিক্ষক চরভৈরবী, হাইমচর, চাঁদপুর, বাংলাদেশ।

কবিতা ।। কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

কথা তীর্থঙ্কর সুমিত কথার সাথে কথারা হারিয়ে যায় সময় বাঁকে .. আলাপের দ্বিচারিতা আর সময়ের ব্যার্থতা ক্রমশ এগিয়ে আসে  পাশে বসে সখ্যতা জমায় আঙুলে আঙুল রেখে এক - দুইয়ের অছিলায় নতুন কোনো সংখ্যা বসায় আর দূরের নদীটা বয়েই চলে জোয়ার - ভাটার সাথে সাথে। =================     

স্মৃতিকথা ।। আমার বন্ধু কবি শ্যামলকান্তি দাশ ।। শংকর ব্রহ্ম

আমার বন্ধু কবি শ্যামলকান্তি দাশ শংকর ব্রহ্ম -------------------- ------------ ------------ ------------ ------------ ------------ আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা। সত্তর দশকের কথা। 'সত্তর দশক মুক্তির দশক।' দেওয়ালগুলি যখন ভরে উঠেছিল এই শ্লোগানে। আমরা কতিপয় তরুণ তখন মুক্তি খুঁজেছি কবিতায়। কমল সাহা তখন আমাদের সঙ্গে কবিতা লিখত। আর নতুন প্রকাশিত প্রায় সব লিটল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদপট আঁকত। ওর ছিল চারটে নেশা। ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, চা আর চার্মিনার সিগ্রেট। কবিতা লেখায় মুন্সীয়ানা ছিল ওর, ছিল প্রখর ছন্দ জ্ঞান। প্রচন্ড অনুভূতি সম্পন্ন কবি ছিল কমল। প্রায় সব পত্রিকায় ওই সময় কমলের কবিতা প্রকাশিত হত। কমল সাহা তখন এক জনপ্রিয় কবির নাম। শ্যামলকান্তি দাশ সেইসময় - 'সূর্যনেশা' নামে একটি পত্রিকা মেদনীপুর থেকে  প্রকাশ করত। কমল তখন এতটাই জনপ্রিয় কবি ছিল যে শ্যামল আমাদের ও কমলের সমসাময়িক কবি হয়েও 'সূর্যনেশা' পত্রিকার 'বিশেষ কমল সাহা সংখ্যা' বের করেছিল। যা এখন প্রায় ভাবাই যায় না সমকালীন কবিদের কাছে থেকে। শ্য...

কবিতা ।। মেঘ বিলাসে ।। বন্দনা পাত্র

মেঘ বিলাসে  বন্দনা পাত্র ও আকাশ ঢালো ঢালো উজ্জ্বল প্রণয় অজস্র  মেঘের ভিতর মেঘ ছিল ঐ আকাশের সহস্র... দুরন্ত সেই রোদেলা আকাশ হারিয়েছে আজ মেঘের আঁখি কিরণ ঢালে কেবল অভিমানী সাজ। মেঘের ভিতর কলঙ্ক ছিল ও পূর্ণ আকাশ বিলাসে  কঙ্কাবতী নাম নিয়ে সে উতলা হয় বাদল বাতাসে... পূব হাওয়াতে দুলল যখন দোদুল দোলায়.. আষাঢ়ের মেঘ যে তখন ভীষণ রকম দূত হয়ে যায়। মেঘ বৃষ্টি বিলাস করে তাদের নীরের মেঘ-নীড়ে, সর্বনাশী সুরা ঢেলে কন্ঠে আকাশ উতল ধারায় নৃত্য করে... এমন বিলাস আকাশ ঘরে আষাঢ় অভিসারে, আকাশের আঁখি জলে ঊর্বশী-মেঘ নাচ করে। ঝিনুক মত বৃষ্টি যেন ঢেউ খেলানো নক্সা ক'রে  রুদ্র আকাশ গর্জনেতে যুগল মিলন বন্দী করে। মেঘ বৃষ্টির এমন ধরন আকাশ পথেই হরিণ হয়ে  দৌড়ে গিয়ে লক্ষ প্রণয় আকাশ জলে যাচ্ছে ধুয়ে। ও বাতাস তুই বাদল হলি এখন কেন আষাঢ় বলে? সব যেন ঐ যৌথ-মিলন বিলাস করে আকাশ কোলে। ============   নাম- বন্দনা পাত্র   

কবিতা ।। ভাঙ্গা আয়নায় ।। সনথ রায়

   ভাঙ্গা আয়নায়     সনথ রায় শব্দরা কেঁদেছে অনেক প্রয়াণ সভায় স্বপ্ন গুলো বিগড়ে যাওয়া নীড়ে  হামাগুড়ি ক্ষতচিহ্ন হাঁটু সহসা দাঁড়ায় । অজানা অচেনা ধাম হঠাৎ জীবন এক আকাশ মহাবিশ্ব ভাঙ্গা আয়নায় । নিখোঁজ এখনো আছি জানিনা কোথায় অনুরাগ বনানীকে রেখেছি বিতাড়ে কী নামে নিজেকে ডাকি কেমন প্রথায় । দেহ ভরা দাসপ্রথা সহিছে পীড়ন যোগাসনে অনুযোগ আছে কী শোভায় । পরিযায়ী সুখ নিরাশ্রক ঠিকানা ডানায় দেখিতাম ডানা পেলে ডানায় উড়ে অনাশ্রিত বনজ প্রাণ বিবিধ উপাধ্যায় । পালিলাম মহামান্য মানব জীবন গেছে শতকাল মুনী'ঋষি নিযুত অধ্যায়। এখনো রয়েছি "তারপর " যত নিরুপায় বিধাতার তমসুক খেলাপির ঘাড়ে বিকৃতি শতমুখ ভাসে ভাঙ্গা আয়নায় । আপনার চেহারাটি দেখতে কেমন টুকরো আয়নাতে দেখে পড়েছি দ্বিধায় ।  ============   ঠিকানা:- শিলচর, আসাম

ঝরা পাতা ।। নিবেদিতা দে

 ঝরা পাতা   নিবেদিতা দে  খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোর পছন্দের রং ধূসরের উর্দ্ধে গেল কিনা, নীল আর কালোর নিকষ অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে, জগতটাকে দেখে তোর পছন্দ হলো কিনা। খুব জানতে ইচ্ছে করে, তোর বদলে যাওয়া স্বভাবগুলো আর পরনের সুরগুলোর কথা। জানতে ইচ্ছে করে, আসা-যাওয়ার মাঝে তোর মনে দাগ কেটে যাওয়া উড়ো মেঘগুলোর কথা। জানতে ইচ্ছে করে, তোর দক্ষিনা বাতাস আর বৃষ্টির গন্ধ মাখা চিঠিপত্র পাঠায় কিনা। শীতের ঝরা পাতাগুলো কি নিয়েছে তোর খোঁজ? ভোরবেলার পাখিগুলো কি তোকে আর জিজ্ঞেস করে, ঠিক কতটা একাকিত্ব পোহালো? ================ নাম: নিবেদিতা দে  বিহু, শরৎপল্লী, নিবেদিতাপল্লী,গোলাপবাগ পূর্ব বর্ধমান।

গল্প ।। কর্কট-ক্রান্তি ।। সুশান্ত পাত্র

কর্কট-ক্রান্তি  সুশান্ত পাত্র     বর্ষাকাল বিশেষ পছন্দের নয় গোকুলের। এই সময়টাতে তাকে অনেকগুলো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ধারা নেমে আসে, তার ঘরের খড়ের চাল ভেদ করে ঝরঝর করে জল পড়তে থাকে। উঠোন জুড়ে খেলা করে সোনা ব্যাঙ, বিছে, ইঁদুর, কেন্নোরা। নদীর জলে ভাঁটা প্রায় নামতেই চায় না, ফলে উপার্জন বন্ধ হয়ে আসে। পেটে টান ধরে। কাজকর্ম থাকে না। সেঁতিয়ে ওঠা মাটির দাওয়ায় বসে তখন সে কেবল তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে।      দুদিন অবিরাম বৃষ্টির পর আজ একটু ধরণ দিয়েছে দেখে সকালবেলাতেই পান্তা খেয়ে কাজে বেরোচ্ছিল গোকুল। দুদিন বসে বসে কাটল। আজ না বেরোলে সংসারের চাকা ঘুরবে না। বারান্দার বেড়ার গায়ে ঝোলানো থাকে একটা লোহার শিক, তার পাশেই নাইলনের ব্যাগ। জিনিস দুটো নিয়ে বেরোবার মুখে যমুনা ডাকল।  — কিছু তো বললে না। কি ভাবলে?      গোকুল আকাশ দেখছিল মুখ উঁচু করে। আবার ঢালবে কিনা তাই বোঝার চেষ্টা করছিল। যমুনার কথা কানে গেলেও মনে গেল না।      সে আলগোছে বলল, কিসের কি ভাবব?   ...

ডাকবাক্সে তোমার চিঠি ।। গোলাপ মাহমুদ সৌরভ

ডাকবাক্সে তোমার চিঠি   গোলাপ মাহমুদ সৌরভ  আজও আমি প্রতিনিয়ত অপেক্ষায় থাকি হলুদ খামে প্রিয়তমার চিঠি আসবে বলে,  ডাকহরকরা আমার দরজা কড়া নাড়বে, চিঠিটা দেখে আনন্দে মনটা ভরে যাবে অধিক আগ্রহ নিয়ে বারংবার পড়বো,  কবে,কখন যে আসবে প্রিয়তমার চিঠি  প্রশান্তির দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চিঠি পড়বো।  একাকী বিষন্ন মনটা একটু স্বস্তি পাবে তুমি হীন নিজেকে বড়ই একা মনে হয়,  ফেরারি এই মনটা তোমারই কথা কয়।  অভিমানে না-হয় নিজেকে দূরে সরে রেখেছো বিনিময়ে কষ্ট ছাড়া বলো কি পেয়েছো?  অজান্তে একবার স্মৃতির ডাইরিটা খুলে দেখো একটি ভুলের জন্য কতোদিন হারিয়ে গেছে,  আমি প্রতিদিন ডাকবাক্সে তোমার চিঠি খুঁজি  অবশেষে ক্লান্ত হয়ে ভাবি আজও এলোনা বুঝি! ============

কবিতা ।। বদল ।। কার্ত্তিক‌ মণ্ডল

                   বদল      কার্ত্তিক‌ মণ্ডল   বদলে গেলাম আমি তুমি,বদলাল হালচাল   দেখেছি আবার বদলে মানুষ তিলকে করে তাল‌ পোশাক আশাক বদলে গেছে বদলাল বাক্‌ ভাষা গাড়ি বাড়ি বা চলন বলন,মনের যত উচ্চাশা। চারদিকটা লাগছে ফাঁকা বদলাল গাছ ভূমি বদলে গেল মাছ মাংস দূষণ চাষের জমি সুউচ্চ সব অট্টলিকা ,নেইকো মাটির ঘর আগের মত কেউ মিশে না, শুষ্ক যে অন্তর দোয়েল কোয়েল নেইকো আর দেখিনা ঘুঘু টিয়া ভাবলে মনে তুফান আসে যায়রে‌ ভেঙে হিয়া বাপও ছেলে আলাদা রয়,দেখাদেখি নেই কার‌ও সবার মন পাষাণ যেন, ভুলে গেছে কথা মার‌ও ভাই বন্ধু আর কেউ বলে না,প্রেম তো মরীচিকা চোখের সামনে দেখছি রে প্রেম,বন্ধনহীন ফিকা‌ উদার প্রীতি মানবিকতার সূত্র গেছে ছিঁড়ে মানুষ এখন হারিয়ে গেছে অমানুষের ভীড়ে । ===========  

কবিতা ।। সৃজণ মনন ।। তপন মাইতি

সৃজণ মনন  তপন মাইতি সৃষ্টি থেকে সবুজ মনন সৃজণ  বায়ুমণ্ডল নির্মল হলে পরে  পৃথিবী রাখবে ধরে শ্রীজন  বাড়লে বিপদ দুর্যোগ তুফান ঝড়ে।  একটি সংগ্রাম সবুজায়ন করে  নদীবাঁধে উঁচু করলে মাটি  মেরু গলন রুখে সৃজণ গড়ে  সবুজ যত্নে বৃক্ষ পরিপাটি।  একটি লড়াই বিপ্লব সচেতনে  মানুষ নিজের সামাজিকবোধ দেবে  সার্বিক পৃথিবী আদর যতনে  মুক্ত জীবন নিঃশ্বাস নেবে।  ভালবাসতে জানলে তুমি পারবে  অরণ্য যে বাঁচতে শেখায় লড়াই  যেদিন জীবন জগত তুমি ছাড়বে  দিয়ে যাবে সমান উতরাই চড়াই। বৃক্ষ হয়ে বৃক্ষের কাছে দাঁড়াও  কাছের মানুষ নিজের হয়ে দাঁড়াও।  ================   নামঃ তপন মাইতি ঠিকানাঃ গ্রামঃ পশ্চিম দেবীপুর; পোঃ দেবীপুর; থানাঃ মৈপীঠ কোস্টাল; জেলাঃ দঃ২৪ পরগণা; পিন-৭৪৩৩৮৩; পশ্চিমবঙ্গ। ভারতবর্ষ  ।

কবিতা ।। তন্ময় দাস

   চল না ; ফিরে যাই তন্ময় দাস               আহ্ রে,-                এই ব‍্যস্ত জীবন-  একটু থমকে দাড়া। আর চাই না যেতে দুর পথ_  আবার ফিরে চল শৈশবের পথে। যে পথে চল্লে মানুষ কিছু বলে না_ দু হাত তুলে নাচা যায় - বন, বাদারে। সকাল, দুপুর,সন্ধার ধূলো মাখা ধূসর পথে। যেখানে চিন্তা নেই, ক্রোধ নেয়, ভয় নেই, হিংসা নেই _ জীবনরে চল না - একটু ওই ফেলে আসা পথে। একটু ছুয়ে আসি তারে। যেমন শরৎ- শিশীর বিন্দুরে ছোঁয়, তেমনি_ যেমনি বুড়ো ঈগলের ঝড়া পালক গজায় ; তেমনি_ চল না একটু ;সেই পথ হতে_ গোধুলি এখন,সূর্য ডোবার পথে। ঘুরে আসি হাত ধরে - ছোট্ট বেলার বন্ধুর সাথ ধরে। একটু খেলে আসি,, লুকোচুরি, গোলা পাক, পাতা ছেঁড়া। লুকিয়ে  আসি; চুরি করা আম, লেচুর থোকা। বকুনিটি খেয়ে  আসি মায়ের। চল না রে মন_  একটু নেচে আসি প্রজাপ্রতির মতন। ফিঙের মতন, বুলবুলির লেজটি নাড়ানোর মতন। ব‍্যস্ত জীবন, বরই ব‍্যাকুল_ চল ফিরে যাই _ আরেক, বারেক বার।                      _________ নাম- তন্ময়...

ছড়া ।। ভোরের পাখি ।। মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান

ভোরের পাখি  মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান রোজ সকালে গাছের ডালে পাখপাখালির ডাকে,  খোকা খুকুর ঘুম ভেঙে যায় খোঁজে তারা মা'কে।  দোয়েল কোয়েল ময়না শালিক  হরেক রকম পাখি,  গানে গানে প্রভাত আনে  সুরুজ খোলে আঁখি।  কোকিল ডাকে আপন তালে  কুহু কুহু সুরে,  বউ-কথা-কও ডাকে পাখি  অল্প কিছু দুরে ।  চড়ুই পাখির কিচির-মিচির  বাংলা ঘরের চালে,  টুনটুনি তাই  মনের সুখে  নাছে ডালে ডালে ।  **************     মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান  দশানী, বাগেরহাট 

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

  কথা ও সুখ সুশান্ত সেন   কোনো একটা সাধারণ কথা নিয়ে  আগ বাড়িয়ে আগ বাড়িয়ে অনেক দূর চলে যাবার পর দেখা যাবে এতক্ষণ যা কিছু কথা হলো  সে সব কথার কোনো মানে নেই। আর অর্থহীন কথা ছাড়া সারাদিন ত এত কথা বলা যায় না। স্বচ্ছ জলের মধ্যে সাঁতারের মত আর কি বা সুখ আছে - অথচ আমি জানি আমি সাঁতার জানি না। সাধারণ কথা আর সাঁতারের থেকে দূরে চলে গিয়ে ছিপ ফেলি মানস সাগরে - সেই যেন নিয়ে এলো সুখ । ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

কবিতা ।। পরিণতি ।। চন্দন দাশগুপ্ত

  পরিণতি চন্দন দাশগুপ্ত  টিলা -ঢিবি ছিল বটে সে-দেশে কিছু, আর ছিল অজস্র গাছ, ফুল আর পাখি ছিল অগুন্তি, খোলা আকাশের বুকে ছিল মেঘ, ঠান্ডা বাতাসে ছিল ফুলের সুবাস। তারপর একদিন শুরু হল গাছ কাটা, ওরা নির্মম....ওদের হাতে আছে কুঠার, ওরা নাকি করবে "উন্নয়ন", মাটির পথকে ওরা করল পিচঢালা পাকা রাস্তা, সেখানে চলল গাড়ি আর বাইকের মিছিল, কারখানার ধোঁয়াতে ঢেকে গেল বাতাস, ঘোলাটে আকাশে মুখ ঢাকলো সমস্ত তারা-নক্ষত্র, ঠান্ডা বাতাস পালিয়ে বাঁচল, এসে গেল লু, আদুল গায়ের সরল মানুষগুলোর জায়গা নিলো, সুটেড বুটেড কিছু "সভ্য" মানুষের দল, ওরা এক পা হাঁটতে পারেনা, তাই চড়ে বাইক, তার দূষণের ঠেলায় তারা নিজেরাই নাজেহাল,  টিলা ঢিবিগুলো আজ আর নেই সে-দেশে, আর, ফুল-পাখি-প্রজাপতি ,,,,,,,,? ওরা সবাই আজ চলে গেছে না-ফেরার-দেশে। ================= চন্দন দাশগুপ্ত  সি/৩০/১, রামকৃষ্ণ উপনিবেশ,  রিজেন্ট এস্টেট,  কলকাতা--৭০০০৯২  

কবিতা ।। ঋণশোধ ।। সবুজ জানা

  ঋণশোধ সবুজ জানা বাজারে গোপন দাঁদন ইহকাল ও পরকালের বোঝা  এখন মৃত্যু হলে আমি ঋণী থেকে যাব আপাদ মস্তক কোন এক শাইলকের কাছে। এই মরলোকের ঋণশোধ নিয়ে আমি কিন্তু দু:শ্চিন্তায়! আমার ঠাকুরমা বলতেন, কাঁধ থেকে ঋণের বোঝা নামাও  গঙ্গা স্নান সারবে....  অন্যথায়  ঋণশোধ পরজন্মেরও দায় মানুষ কিংবা পশু হয়ে! ভালবাসায় সুদ, আসল বা লভ্যাংশ আছে কিনা জানি না তবুও ভালবেসে ঋণী করে যাও তুমি আমায় প্রতিনিয়ত। ভাবছি এ বোঝা নামিয়ে দেব কাঁধ থেকে শাপমোচন! ওগো সই তবুও পারছি কই।  ============ সবুজ জানা পাঁশকুড়া পূর্ব মেদিনীপুর 

কবিতা।। তোমার প্রতি ।। তপন মাইতি

  তোমার প্রতি  তপন মাইতি যখন তোমায় বলতে যাব  তখন তুমি ভিড়ে  বলব বলব করে কি আর  পাখি গেল নীড়ে।  যখন তোমায় বলব ভাবি  কেমন যেন মগ্ন  হৃদয় যেন অন্য কারোর  আসছে শুভলগ্ন।  শুরু করা গেলে ভাবতাম  কিছু একটা হবে  বলব বলব বলি করে  পাখি উড়ল কবে? এখন যদি একটু বোঝ  তোমার জন্যে এমন  ভালবাসি ভাবলে যেন  ভাল লাগে কেমন... ============= নামঃ তপন মাইতি ঠিকানাঃ গ্রামঃ পশ্চিম দেবীপুর; পোঃ দেবীপুর; থানাঃ মৈপীঠ কোস্টাল; জেলাঃ দঃ ২৪ পরগণা; পিন-৭৪৩৩৮৩; পশ্চিমবঙ্গ। ভারতবর্ষ। 

কবিতা ।। হিসেব ।। প্রতীক মিত্র

  হিসেব প্রতীক মিত্র সবাই বহালতবিয়তে আছে। জানলায় শৌখিন পর্দা। মোবাইলে হিন্দি গান। অবসর সমান সমান গাছের পাতায় গরম হাওয়ার দোলা। শেয়ার বাজার, জমির দালালি, বিছানার কুঁচকে থাকা চাদরে ভালোবাসা। নেতাদের চুরি, ধড়পাকড়, স্ফটিক জারে মাছেদের জলের বুদবুদ গেলা। ঘরে আকছার অনধিকার প্রবেশকারী  পাড়ার বিচ্ছু বেড়ালটা আগাছার ঝোপের কাছে হাঁচে। দিনযাপনের পাতার একের পর এক উলটে যাওয়া মুহুর্তগুলোর কখনও শর্ত কখনও শর্ত ছাড়া আঁকড়ে ধরে আঠা হয়ে কিম্বা ছেড়ে দেওয়া যেন বাদামের খোলা। আর যদি বা কিছু বাকি থাকার থাক… সবাই তো দেখছি বহালতবিয়তেই আছে। ============== প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235, পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। আশিস ভট্টাচার্য্য

অহল্যার চোখে ঘুম নেই আশিস ভট্টাচার্য্য স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়  অবৈধ সম্পর্ক সুখ দেয় আরাম দেয়  কিন্তু শান্তি কেড়ে নেয় কেড়ে নেয় চোখের ঘুম। উদাসীন স্বামী তাকে তৃপ্তি দিতে ‌ অক্ষম তাই অহল্যা হাজার বিনিদ্র রাতের ছটফটানি ভুলে ইন্দ্রের কাছে সতীত্ব বিসর্জন দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করেননি। ইন্দ্রের শরীরে কি জাদু আছে অহল্যার মস্তিষ্কে, শরীরে হাজার সঙ্গীতের সুর বেজেছিল, লম্পট ইন্দ্রের চম্পট দিতে এক লহমা বিলম্ব হয়নি। উদাসীন ঋষির ক্রুদ্ধ শাসনের সামনে চঞ্চলা হরিণীর মত ভীত , স্তম্ভিত অহল্যা ত্রিভুবন শান্তির ঘুমে মগ্ন তার চোখে নেই। =================   আশিস ভট্টাচার্য্য রামকানাই গোস্বামী রোড শান্তিপুর নদীয়া -৭৪১৪০৪

কবিতা ।। সান্ত্বনা চ্যাটার্জি

ঠিকানা সান্ত্বনা চ্যাটার্জি  আমি ছিলাম সপ্তদশী তখন ফাগুন মাস, আকাশ জুরে রঙের মেলা ,স্বপ্ন ভরা চোখে; দেখে ছিলাম তোকে। মেঘের ভেলায় শিশু রবি আগুন বরণ কায়া , তারই মাঝে দেখেছি তোর ছায়া । একটি দশক পরে .. তুই এলি আমার ঘরে ; আমার জীবন আলো করে । তোর তো সবই ছিল.. আমি কিছুই রাখিনি বাকি; তুই ছেড়ে কেন গেলি আমায় , ,জীবন জুরে আঁধার । গ্রহন লেগে সুর্য যেমন আকাশ কে দেয় ফাঁকি মাঘের শীতের সায়াহ্নে আজ শুকনো চোখে চাই- শুস্ক নদী ,ধুধু প্রান্তর, শুধু বালিয়ারি পাই । তুই আছিস কোথায় জানি ; তোর প্রার্থীব ঠিকানা টা; নাইবা দিলি আর -স্বপ্ন ভাঙ্গা হৃদয় মনে নেই তার দরকার ।                          ****** সান্ত্বনা চ্যাটার্জি A166 Lake Gardens Kolkata 700045

কবিতা ।। বিজ্ঞানে রই, অপবিজ্ঞানে নয় ।। শুভ্রা ভট্টাচার্য

বিজ্ঞানে রই,অপবিজ্ঞানে নয় শুভ্রা ভট্টাচার্য বিজ্ঞান কথাটির মূলগত অর্থ "বিশেষ জ্ঞান" যাহার সাথে জড়িত রয় জৈব অজৈব প্রাণ, পরীক্ষা নিরীক্ষা সিদ্ধান্ত তাহার তিনটি ধাপ হাতে কলমে জ্ঞান অর্জনে চাই বুদ্ধির ছাপ। এ বিশ্ব ব্রম্ভান্ড প্রকৃতি মাঝে লুকিয়ে বিজ্ঞান  পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সঠিক ব্যবহারে শিক্ষার মান, অজানাকে জানাতে প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন  তারই মাঝে অপবিজ্ঞানের টানে ছোটে মন। অজ্ঞানতার আঁধারে বিজ্ঞানের অপব্যবহার অন্ধ বিশ্বাস আর অনুকরণে মেকি আধুনিক, যদিও মোরা কুসংস্কারের সঙ্কীর্ণ বেড়াজালে অনুদার চিন্তায় মনে ব্যাকডেটেড পৌরাণিক। অন্যায়াসক্ত অপরাধী মন সদা ভীত ত্রস্ত  মানসিক দুর্বলতায় ভ্রান্ত সংস্কারে আচ্ছন্ন, মসৃণ জীবনধারার মূল সত্য ও লক্ষ্য ভুলে  উদারতা মানবিকতা হতে অন্তর বিচ্ছিন্ন। অদৃষ্টবাদ অসঙ্গত ভীতি আতঙ্ক হতেই যত আদিকালে অবৈজ্ঞানিক কুসংস্কারের জন্ম, রন্ধ্রেরন্ধ্রে আষ্ঠেপৃষ্টে বাঁধা সংকীর্ণতা হতে না জানি কেমনে বাঁচবে আমাদের প্রজন্ম! বিলাসযাপনে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ভোগবাদ তবুও মনেতে একরাশ শুন্যতার হাহাকার, তাই আপাতত আনন্দ সুখ শান্তির খোঁজে  তাবিজ কবজ আর পাথরের জয়জয...

গল্প।। মায়ের স্বপ্নভঙ্গ ।। মিঠুন মুখার্জী

                  মায়ের  স্বপ্নভঙ্গ                         মিঠুন মুখার্জী  সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ছোট্ট আফরিনা তার মাকে বলে--- "মা, আমরা কি দেশে ফিরতে পারবো না!! আমার স্বপ্ন কি পূরণ হবে না?" মা খাদিজা বিবি কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন--- "এই পরিস্থিতিতে কিভাবে যে মাতৃভূমিতে ফিরে যাব, কে জানে। দেশে তোর বাবার ও দিদির চোখের জলে দিন কাটছে।" খাদিজা বিবির মাতৃভূমি হল ভারতবর্ষ। কলকাতার পার্ক সার্কাসের একটা বস্তিতে মোহাম্মদ সালেম তার বউ খাদিজা বিবি ও দুই মেয়ে আফরিনা ও কারিনাকে নিয়ে একপ্রকার সুখেই বাস করতেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে খুলনা জেলায় ভাইয়ের বাড়িতে বড় মেয়ে করিনার বিয়ের নিমন্ত্রণ করতে গিয়েছিলেন তারা। তাছাড়া অনেকদিন ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়া হয়নি। দেশভাগের সময় ভাই আবু হোসেন পূর্ব পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। তারও জন্মস্থান কলকাতা। সপ্তাহখানেক পর মোহাম্মদ সালেম বড় মেয়ে কারিনাকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন। সপ্তাহ দুই পরে খাদিজা বিবি ও আফরিনাকে...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...