Skip to main content

Posts

রম্যরচনা ।। ভগবান নিপাত যাক ।। প্রদীপ দে

  ভগবান নিপাত যাক প্রদীপ দে এই যে ভগবান,  তুমি যা বলবে আমি ঠিক তার উল্টোটাই করবো। আমি কানে একেবারেই কম শুনি, একটু চিল্লিয়ে বললে ভাল হয়! --  কি? পাপ দেবে ? --  তা দাও দেওয়ার জন্যই তো তুমি! সকাল বিকাল কতো কি-ই তো চাইছি -  শুনতে পাও না?  তুমিও কি কালা? --  চাইলেই পাবে না ! --  ঢং ! তাহলে কি কাজে আসো তুমি ? --  বিশ্বের সৃষ্টি স্থিতি আর বিনাশ! --  বড় বড় ডায়ালগ আর জ্ঞানের ভাষনে তো বাজার গরম করে দিচ্ছো। কার কতোটা কাজে লাগলো ভেবে দেখেছো ? -- কি বললে, এসব বড় বড় জাগতিক ব্যাপার? --  নিকুচি করেছে জাগতিক ফাগতিক! যার যতটুকু চাহিদা দিয়ে দাও -তোমার অসুবিধার কি আছে? তুমি তো আর মানুষ নয়? ইচ্ছা করলেই তুমি তোমার বিশাল সাম্রাজ্য আর অর্থকোষ কে কাজে লাগাও - আমরা যে ভিখারি হয়ে পড়ছি ক্রমশই। তোমার গায়ের চামড়া কি শুকিয়ে নির্দয় হয়ে গেছে। বাব্বাঃ এত আস্তে কথা বলো - যে মিউমিউ করে, নিজেকে খুবই জ্ঞানী আর মুক্তি দাতাহি  হিসাবে মনে হয়। এত অহংকার ভাল নয়। পতনের কারন। দেখছো না সকলেই তোমাকে আর কেউ পাত্তা দেয় না। --  যে যার ভাগ্যে খায়? সেতো অটোমেটিক মেশিনও কর...

কিশোর অপরাধ : সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে প্রধান অন্তরায় ।। মেশকাতুন নাহার

কিশোর অপরাধ : সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে  প্রধান অন্তরায়  মেশকাতুন নাহার  শিল্পবিপ্লবের ফলশ্রুতিতে যেসব নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তারমধ্যে কিশোর অপরাধ অন্যতম। শিল্প বিপ্লবের ফলে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়নের বিকাশ ঘটেছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নির্ভর সমাজব্যবস্থা ভেঙে যান্ত্রিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটে। জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রয়োগ ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব সংগঠিত হয়। কারখানা শিল্পের ব্যপক বিস্তৃতি লাভ করে। এর ফলে নারী পুরুষ উভয়েরই কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটে। আর সেক্ষেত্রে পরিবারের নির্ভরশীল শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিশু কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের দ্বারা সংগঠিত সমাজবিরোধী আচরণকেই কিশোর অপরাধ বলা হয়। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ। অপরাধ বিজ্ঞানী বার্ট বলেছেন "কোনো কিশোর কে তখনই অপরাধী মনে করতে হবে যখন তাঁর অসামাজিক কাজ বা অপরাধের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে"।কিশোর কিশোরীরা সাধারণত আবেগের বশবর্তী হয়ে কিংবা পরিবেশ পরি...

গল্প ।। ঠগ ।। স্তুতি সরকার

   ঠগ স্তুতি সরকার              মিষ্টভাষী ধীর স্থির সুনীল বাবু যেখানে যান খুব জমিয়ে দেন আসর। আশেপাশে অনেক তোসামোদকারী স্তাবক জুটে যায়, এতো ওনার জনপ্রিয়তা। মাত্র কিছুদিন হলো এসেছেন এ পাড়ায় ভাড়াটে হিসাবে, বাবুদের বাড়ীর একতলার এঁদো একটাএক বেডরুমের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে। অবশ্য একখানা বেডরুমের ঘর বলতে একখানাই শুধু ঘর নয়। ফাউ হিসাবে আছে দু'দিকে দুটো বারান্দা, একটা ছোট বসবার ঘর, রান্নাঘরের সঙ্গে লাগোয়া একচিলতে ডাইনিং রুম, বাথরুম পাইখানা সমেত কম্প্যাক্ট একটা ফ্ল্যাট। তবে বড়ো স্যাঁতস্যাঁতে ফ্ল্যাটটা। কী যেনো একটা ব্যবসা করেন তিনি। এহেন সুলীল বাবুর  পিছনেও আইবুড়ো মেয়েদের বাবা মা রা ফেউ লেগে গেলেন।কারণ তিনি আইবুড়ো। প্রত্যেক আইবুড়ো মেয়ের বাবা মা চাইছেন নিজের মেয়েটিকেগচাতে। আর কি আশ্চর্য, পাড়াতে এতো আইবুড়ো মেয়েও আছে! যাদের নিজেদের মেয়ে নেই, তাদেরও তুতো বোন, বোনঝি, ভাইঝির উত্পাত লেগেই রইলো। সুনীল বাবুর ডিমান্ড তো বেড়েই চলেছে পাত্র হিসেবে। বয়স অবশ্য একটু বেশীই হয়তো। সময়ে বিয়ে হলে চার ছেলের বাপ হয়ে যেতেন...

ছড়া ।। রেলের গাড়ি ।। শীলা সোম

রেলের গাড়ি শীলা সোম কু ঝিক্‌ ঝিক্‌ রেল গাড়ি, দেয় ছুট দূরের পানে, হাওয়ার বেগে যাচ্ছে জোরে, থামছে শুধু ইস্টিশানে। গাছ পালা সব মত্ত হয়ে, চলছে ছুটে, তারই সাথে, মাঠ ভরা ধান, পুকুর, নদী, সব যেন এক খেলায় মাতে। নামছে কেউ, উঠছে কেউ, রয়েছে কেউ ঠায় দাঁড়িয়ে, গান গেয়ে কেউ ভিক্ষা করে, হারমোনিয়াম গলায় নিয়ে। হকাররা সব চেঁচায় সুরে, কত রকম যে তাদের ঢং, ছাই মেখে তীর-ধনুক হাতে, সাজে আবার কেমন সঙ। ঝাঁট দিয়ে সব করছে জড়ো, ট্রেনের ভিতর নোংরা যত, খুঁটে খুঁটেই খাচ্ছে খাবার, উচ্ছিষ্ট যা মনের মত। পালিশ বলে যাচ্ছে ডেকে, বেচছে জিনিস রকমারি, কাঁদছে জোরে, ছেলে যে কার, বসার জন্য হুড়োহুড়ি। ভাব জমিয়ে নিয়েছে কেউ, যেন কত কালের চেনা, তাস খেলছে আপন মনে, নিত্যযাত্রী তারা ক'জনা। তাদের নিয়ে ছুটছে গাড়ি, আলসেমি নেই কক্ষনো,  সময় ধরে কাজ করে সে, নিয়ম মেনে চলছে জেনো।

ছড়া ।। এসেছে শীতের বেলা ।। বদ্রীনাথ পাল

  এসেছে শীতের বেলা বদ্রীনাথ পাল বসিয়ে গাঁদার মেলা- এসেছে শীতের বেলা। হলুদে দিচ্ছে শোভা- সর্ষেও মনোলোভা। খসে যায় শুকনো পাতা- ভরা মাঠ শূন্য খাঁ খাঁ। নলেনের সুবাস ভাসে- উত্তুরে ওই বাতাসে। মা'র হাতে তৈরী পিঠে- সে যে ভাই বড্ড মিঠে। সারাদিন মাতামাতি- মেলা আর চড়ুইভাতি। কুয়াশার চাদর মুড়ি- ডেকে যায় শীতের বুড়ি। "ঢাকা খোল্ সকাল হলো" তা কি হয়, তোমরা বলো ?   -------------------------------    বদ্রীনাথ পাল বাবিরডি, পোস্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া।

ছড়া ।। ফুটবলের রাজপুত্র ।। আনন্দ বক্সী 

ফুটবলের রাজপুত্র  আনন্দ বক্সী  ফুটবল ছিল ধ্যান-জ্ঞান ফুটবল ছিল প্রাণ  ফুটবলের সঙ্গে ছিল তাঁর যে নাড়ীর টান। তাঁর খেলাতে সৃষ্টি হতো তীব্র আকর্ষণ  ফুটবল-শৈলীতে তাঁর ভরতো সবার মন। তাঁর খেলাতে সারা বিশ্ব হয়েছিল একসূত্র  মারাদোনা নামটা যে তাঁর ফুটবল-রাজপুত্র।  আর্জেন্টিনাবাসী তিনি ফুটবল-জাদুকর ফুটবল-দক্ষতায় তিনি বিশ্ব করেন ঘর। ছুতোর মিস্ত্রি পিতা তাঁর দরিদ্র পরিবার। আট ভাইবোন নিয়ে ছিল কষ্টের সংসার।  অনটনের সঙ্গে সদা করতে হতো লড়াই  স্কুলে ভর্তি হলেও তাঁকে ছাড়তে হলো পড়াই। ফুটবলকেই তিনি শেষে ধরলেন যে আঁকড়ে  বদলে গেল জীবন তাঁর নিলো এমন বাঁক রে। পড়ে গেলেন এমন চোখে দেখতে হলো না ফিরে জুহুরীর চোখ চিনে নিলো যে এক আসল হীরে। ক্লাব কিম্বা দেশের হয়ে মাতিয়ে দিলেন খেলে  তাঁর খেলাতে মুগ্ধ হলো প্লাতিনি থেকে পেলে। বার্সালোনা-নাপোলিতে খেলেন তিনি চুটিয়ে ক্লাব-তাঁবু সাজিয়ে দিলেন ট্রফির ফুল ফুটিয়ে। ছিয়াশির বিশ্বকাপের তিনি একক নায়ক প্রতিযোগিতা-সেরার ট্রফি তারই পরিচায়ক। চার-পাঁচজন মিলে তাঁকে ধরলো যতই ঘিরে তবুও তিনি দিলেন পাস সেই রক্ষণ চিরে। তাঁর খেলা...

কবিতা ।। আত্মদণ্ডে নিমগ্ন বালিকা ।। রুদ্র সুশান্ত

  আত্মদণ্ডে নিমগ্ন বালিকা রুদ্র সুশান্ত যে অঙ্গে যৌবন উথলায় বালিকার মার্কিন থলির কাছে-  নিজদ্রোহী বালিকাদের আদৌ সে খবর আছে ! মনের মৈথুনে ঘর পার হতে দিন চলে যায় যার  ষোড়শীর স্তনে থমকে গেছে জীবন, নিশ্চল প্রেমিকার। মনে মনে চলে স্বদলদ্রোহিতা, দেহ শয়নে সঙ্গমে বর্ধিষ্ণু ঊর্ধ্বগামী মিলনের দোলনা, চিৎকার করে কামে। চোখে মুখে লেশ নেই, মনে নির্বোধ রতি- প্রকৃতি জাগে, না না করে ইতি। নিশির নিদ্রা ভাঙ্গে, আলিঙ্গনের সুখ মনে জাগে খুব-  পাঁচ থেকে সাত - এই দণ্ডে ক্লান্ত হয় বিষুব।  মন জাগে দেহ জাগে - খুলে দাঁড়ায় দুয়ার চাষার আহবানে নিতান্ত আসে যদি জোয়ার। ============ রুদ্র সুশান্ত বালুঘাট, ঢাকা।

কবিতা ।। জেতার আসক্তি ।। দেবযানী পাল

  জেতার আসক্তি দেবযানী পাল সব সরে যাও ভুঁইফোড় সস্তা দুঃখ যাকিছু পথের কাঁটা উপড়ে ফেলে সামনে তাকাই ফিকে রঙে লাগছে নতুন ছোঁয়া ধীরে ধীরে এবার রাঙা পা ফেলি আগামীর পিছু পিছু। দেখো, ওই কাঠবেড়ালি ঘুরছে কেমন গাছে গাছে ওরাই ধন্য পৃথিবীর প্রকৃতিতে, মগ্ন আপনিতে খেলে বেড়ায় সরল মনে,জটিলতা শূন্য হয়ে সহজ কত ওদের জীবন, দুঃখের না আড়াল আছে। জানা নেই আগামীর সুখ কোন্ বেড়াজালে শুয়ে অতীত থেকে লম্বা পথে অনেকটা সময়ের চিরকুট শুকনো ক্ষেতে শস্য ভরে আছে সোনালী রঙ নিয়ে এমনটা তো হতেই পারে, ভরা স্বপ্নের ধান রুয়ে । নীড়ভাঙা ক্লান্ত পাখি চেয়ে থাকে আকাশের কোণে প্রশ্ন আছে,তবু ভাষা যেন পায় না স্থবির মুখখানি নির্বাক ইতিহাস গড়ে দিগন্ত জুড়ে নির্লিপ্ততা উচ্ছল পৃথিবীর গলায় সেই নতুনের ডাক শোনে। হারতে চাইনা একটুও, তীব্র আসক্তি জেতায় খুঁড়ে চলেছি বালিয়াড়ি দিনরাত নির্লজ্জতায় এত চেষ্টা দমিয়ে রাখা মুঠো জোনাকী আশায় চাহিদার সম্মানটুকু সঞ্চিত ভরে আছে যেথায়। নতুনের আগামীতে ভরে যাবে শেষ ইচ্ছের কথা সুস্থ জীবনের দিকে চাইবো দূর নিহারিকা পথে স্বপ্ন মেদুর উজ্জ্বল সুদূর আনন্দের বার্তা দেবে ইতিহাস বাঁচুক সারমর্মে - ...

কবিতা ।। অন্বেষণে ।। অঙ্কিতা মজুমদার

  অন্বেষণে  অঙ্কিতা মজুমদার একটা জীবনমুখী গল্পগাথা, সেই গল্পের পাতা খুলে পড়েছিল এক ঝাপসা রাত্রির কাঁচে। ছেলেটি, ছুটতে.... ছুটতে.... কলকাতা,বরানগর,হাওড়ার - ওলিতে - গলিতে, প্রত্যহ নিয়ন্ত্রণ পায় চোখ থামা অশ্রুর। হাত ভর্তি জ্ঞানের সার্টিফিকেট আর ঝোলা ভর্তি বই, সব ছড়ানো ওর মণিকোঠায়.... দুশ্চিন্তা,সংসার,দায়িত্ব। দুঃখের কালরাত্রি তাকে ডেকে আনে সম্মুখে; বেসামাল পদচিহ্ন,ক্লান্তি জড়ানো দেহ করে তোলে এক নিরেট পাথরের স্তূপ। নির্বিকার প্রতিবাদ দীর্ঘশ্ব‌াসে সাড়া ফেলে, অগ্নুৎপাতে বেরিয়ে আসে জ্ঞানের দেহাবশেষ। জ্বলতে থাকে দাউ দাউ আগুনে; তখনও খুঁজে ফেরে.... একটা কাজের ঠিকানা।।   =================  অঙ্কিতা মজুমদার গ্রাম +পোস্ট - চকদিঘী পিন -৭১৩৪০৪

ছড়া ।।  বই পড়ো জীবন গড়ো ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

 বই পড়ো জীবন গড়ো রঞ্জন কুমার মণ্ডল করো কেন হই চই সবে মিলে পড়ো বই । জীবন কে দেয় গড়ে বড়ো হও বই পড়ে। বই পড়ো খুশি মনে ভালো বই জেনে শুনে। সাথী হলে ভালো বই বড়ো হ'বার পাবে মই। বই পড়ো ফল পাবে জ্ঞান চক্ষু খুলে যাবে। বই চোখে আনে আলো ঘুচে যায় যত কালো। জ্ঞানী গুণী জন যারা বই পড়ে লেখে তারা। ধ্যান হলে বই পড়া হবে শুরু জীবন গড়া। বই পড়ো পাবে দিশা পূর্ণ হবে মনো আশা। বই ছাড়া গতি নাই সদা বই পড়ো তাই। ============== রঞ্জন কুমার মণ্ডল সারাঙ্গাবাদ,মহেশতলা ওয়ার্ড নং-৩৫(মহেশতলা) জেলা -দক্ষিন ২৪ পরগণা।

কবিতা ।। সময়কে ভালোবাসি ।। পূজা সিংহ রায়

  সময়কে ভালোবাসি   পূজা সিংহ রায় হয়তো আমার মধ্যে অনেক খামতি, এই কমতি দিয়েই সন্তুষ্টির নীড় গড়ে পূর্ণতার মহোৎসব করি। অন্ধকারে আর ভয় পাই না, জোনাকিরা যে একলা ছাড়ে না। বস্তুগত অধিকত্বের চাওয়া পাওয়া গুলো কে পুঁটলিতে পুরে হারিয়ে দিয়েছি। অন্ধকার ঘরে খুঁজতে থাকা অজানা প্রশ্নোত্তরের উপর আলোকপাত করে, সময় কত অজানা সমীকরণের সমাধান পথ জানিয়ে দেয়। সময়ই প্রতি রাতে শান্তির অ্যারোমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়, সময়কেই ভালোবেসেছি, নিরবচ্ছিন্ন সঙ্গী সবার। কানে কানে আশ্বাস ও মন্ত্রণা দিয়ে যায় শান্ত থেকে সময়ের স্রোতে ভেসে চলার। খেয়া কোন তীরে নোঙর বাঁধবে, তা নাকি সময় জানে। রক্ষাকর্তা হয়ে দায়িত্ব নিয়েছে, ডুবতে দেবে না কোনো এলোপাতাড়ি বানে। বেশ তো তবে সে পথেই ভাসুক তরী, গন্তব্যস্থলে যাত্রাপথের বৈচিত্র্যময় দৃশ্য গুলো উপভোগ করি। তুমি এই খেয়া নীড়ে আসলে তোমারও হয়তো ভালো লাগতো, নীরবতা তুমিও তো বেশ পছন্দ করো। আর আতিথেয়তা, যত্ন আত্তি.. তুমি তো আমার বর্ণমালার সবটা জানো।  =============== পূজা সিংহ রায় বোলপুর, বীরভূম 

কবিতা ।। স্বার্থ ।। অশোক দাশ

স্বার্থ অশোক দাশ স্বার্থের পৃথিবীতে বহুরূপী বদলায় রং ঔদ্ধত্য অহং প্রকট, বৃহতের আস্ফালন ক্ষুদ্র পদানত। স্বার্থের স্বপ্নে বিভেদ বিস্ফোরণ বিভেদ ভাঙ্গে ঐক্য  লোভের যুপকাষ্ঠে অকাল বলিদান, ভালোবাসা ঘৃণ্য  পণ্য মান- সম্মান। ভোগের স্বার্থে মেকি ভালোবাসা ভালোবাসায় শকুনের লোলুপদৃষ্টি                      নেই অমৃত সুধা বৃষ্টি। যৌবন মুঠোফোনের নেশায় মত্ত বাঁচার এখন একমাত্র স্বত্ত্ব। ভাবনায় আনো নতুন কৃষ্টি যাক রসাতলে অমূল্য সৃষ্টি। স্বার্থের দাসত্বে বন্দী ফেরারি মন সরল অংক জটিল জ্যামিতিক প্যাঁচে আবদ্ধ। ভাঙো  দেশ ভাঙো প্রদেশ দ্বন্দ্ব সংঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হোক মানুষের সহজাত  প্রবৃত্তি স্নেহ -প্রেম -মায়া -মমতা। সুনাম -অর্থ -যশ -ভোগ- ত্যাগ  সবেতেই লুকিয়ে আছে স্বার্থ। নিঃস্বার্থ শুধু আভিধানিক শব্দ অলঙ্কার।   ==============    অশোক দাশ ভোজান, রসপুর ,হাওড়া।।

কবিতা ।। বিষণ্ণ সন্ধ্যায় ।। প্রবোধ কুমার মৃধা

  বিষণ্ণ সন্ধ্যায়  প্রবোধ কুমার মৃধা ছায়া-ঘন পল্লী 'পরে  সন্ধ্যা নামিছে ধীরে -             দিকে দিকে বেজে ওঠে শাঁখ । রাত-চরা পশু পাখি হেথা-হোথা দেয় উঁকি-             ঝোপে-ঝাড়ে জোনাকির ঝাঁক । পশ্চিম দিগন্তু -ভালে সহসা উঠিল জ্বলে-               সাঁঝের -প্রদীপ সন্ধ্যাতারা । ত্বরিতে চরণ ফেলে গৃহপানে ফিরে চলে -               দূরের পথিক ছিল যারা । গোঠে ফিরে এল ধেনু উড়ায়ে পথের রেণু-               কুলায়ে ফিরিল পক্ষীকুল । ফিরিল না মা যে আর বুকে বাজে হাহাকার-               বারে বারে হয়ে যায় ভুল ।   ================= প্রবোধ কুমার মৃধা, গাববেড়িয়া, পোঃ ঢোষা‌, জয়নগর‌, দঃ ২৪ পরগণা  

কবিতা ।। মিথ্যে শহর ও অকৃত্রিম হাসি ।। রাজাদিত্য

  মিথ্যে শহর ও অকৃত্রিম হাসি রাজাদিত্য   হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলার মতোই, হারিয়ে গেছে অম্লান হাসি ,  মেঘ জমেছে বুকের ভিতর অন্তর হয়েছে ক্ষয়িষ্ণু ,  তবু দিনের শেষে চাই একটু বাতাস, বাঙালির আড্ডা আর, ঠোঁটের কোণে বক্রতা ।  নেশা লাগুক অকৃত্রিম ছোঁয়ায় ,  গালের গোটায় ফুঁটুক ভালোবাসা ।  মিথ্যেমাখা রক্ত খেকো শহর, লুকিয়ে দেখুক মুক্ত হাসির, প্রাণখোলা স্নিগ্ধতা ...

কবিতা ।। সর্বহারার স্বার্থ চুরি ।। হারান চন্দ্র মিস্ত্রী

সর্বহারার স্বার্থ চুরি     হারান চন্দ্র মিস্ত্রী                ভানুমতীর খেলা চলছে জগৎ জুড়ে।   একই লোক একই পথে যায়-আসে অনন্তর  যন্ত্রের মতো।   নেই তার অগ্র-পশ্চাতগতি।   তাদের সমগতিতে চলতেই হবে   এক শ্রেণীর মানুষের অভিলাষ পূরণের জন্যে।   তাদের সুখের দায়ভার নিরন্ন মনুষের হাতে।  এদের বিশ্রামের সুযোগ থাকতে নেই-  থাকে নাও।   এরা সর্বহারা বলে পরিচিত জগতে।   স্বার্থ চুরি করে ওরা অর্থের পাহাড় গড়ে, ওরা সম্মান পায় পীরের মতন।   দেশটা তাদের হাতে পড়ে সংকটাপন্ন।  লোভ আর স্বার্থের টানে   তলানিতে এসে ঠেকেছে বিপন্ন মানবতা।   হানাহানি আর টানাটানি করে   ছিনিয়ে নিয়েছে সর্বহারার স্বার্থ।   আম খেয়ে আঁটিও চুষে ছেড়ে দেয় এরা- পীপিলীকাও অভুক্ত থাকে।     সর্বহারার সুখ চুরি করে স্বার্থচোরের উদরপূর্তি হয়। __________     হারান চন্দ্র মিস্ত্রী গ্রাম ও পো- আমতলা, থানা-ক্যানিং, জেলা-দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্...

কবিতা ।। গাঁয়ের উপকণ্ঠে ।। গোপা সোম

  গাঁয়ের উপকণ্ঠে গোপা সোম যাচ্ছে দেখা দূরে ওই, ছোট্ট এক খানি গাঁ,  স্বল্প পরিসরে জমি, নিয়ে কয়েক বিঘা। গাঁয়ের উপকণ্ঠে আছে বিশাল পুষ্করিণী, গাঁয়ের যত মানুষ, সবে, তার কাছে ঋণী। ঘাট গুলি বাঁধানো , সুন্দর তার সোপান, শান্ত জলে মুগ্ধ, পাই গভীর এক টান। স্বচ্ছ, পরিষ্কার জল তার, করে টলটল, তরঙ্গায়িত জলস্তর, বাতাস পরিমল।   সেই পুষ্করিণীতে হয় হরেক মাছের চাষ, এছাড়া, কিছু জলজ প্রাণীর আছে এতে বাস।  সাঁতার কাটে কাতলা, মৃগেল, জলে তরতাজা শোল আছে, রুই মাছ আছে, মাছেদেরই রাজা। ছিপ নিয়ে মাছ ধরে কেউ, সারা দিনমান ধরে, টোপ বানায় মাছের তরে, অনেক যতন করে। মাঝে মধ্যেই জেলেরা, পুকুরে ফেলে জাল,  টাটকা তাজা মাছগুলি, হয় যে নাকাল। গাঁয়ের মানুষ, সুলভে পায় পুষ্টির উপাদান, বাড়তি মাছ গুলি সকল বাজারে হয় চালান। স্নান করা, বাসন মাজা, নিষেধ আছে সেথা, গ্রামবাসীরা পালন করে সাধ্যমত যথা।  মাঝে মাঝে মাছরাঙা পাখি দেয় জলে ডুব, মাছ মুখে নিয়ে উঠে আসে, আনন্দিত খুব। বক ধার্মিক, আশায় থাকে, মাছের প্রতীক্ষায়, মাছের দেখা মিললে পরে, ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। পুষ্করিণী ঐ গাঁয়ের মানুষের অনেক আশা-ভরসা, শান্ত, সুনিবিড় ছায়া...

ছড়া ।। মানবতার গান ।। খগপতি বন্দ্যোপাধ্যায়

  মানবতার গান খগপতি বন্দ্যোপাধ্যায় ঋতুচক্রের আবর্তনে  শীত এসেছে ভাই, গরীব দুখীর কষ্ট ভীষণ  গরম পোশাক নাই । রবির কিরণ গায়ে মেখে  কাটে সারাদিন, সন্ধ্যা বেলায় কাঁপা শুধুই  কুটোর কাছে ঋণ । খড়কুটোতে আগুন জ্বালায়  শরীরে নেয় তাপ, গরীব ঘরে জন্ম নেওয়া  তাদের কোথায় পাপ? খিদের জ্বালা সাথী তাদের দোসর হলো শীত, এই ছবিটা গাঁ শহরে  নড়ায় না কি ভিত? পারবে যাঁরা এসো না ভাই  করো বস্ত্রদান, সবাই মিলে একসুরে গাই  মানবতার গান ।   ============ খগপতি বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া ,পশ্চিমবঙ্গ ,ভারত 

ছড়া ।। শীতের ছুটিতে ।। দীপক পাল

    শীতের ছুটিতে        দীপক পাল   সন্ধ্যে থেকেই বাবু সোনা মন দিয়েছে পড়ার   পণ করেছে আজ রাতেই হোমটাস্কটা শেষ করার।   কাল শনিবার পরশু রবি দুদিনেই স্কুল ছুটি,   সোনামনির আসার কথা কালকে মোটামুটি।   পিসেমশাই বলেছিলেন কাল দেখাবেন সার্কাস   শীতের দুপুর জমবে ভারী সিংহ হলে প্রকাশ।   সোনামনির পাশে বসে ক্লাউন দেখতে মজা   হাসতে হাসতে সবার মন যে হবেরে তরতাজা।   সোনারা যেই অবাক হবে ট্রাপিজের খেল দেখতে   কেক মিষ্টি দেবেন রে মা ওই সোনাদের হস্তে   সবার শেষে ভয় লাগে ভাই বাঘ সিংহের খেলায়   বাবা বলেন ভয় নেই রে ফিরবে ওরা খাঁচায়।   চায়ে চুমুক দিয়ে বাবা হাঁকেন ' বাবু সোনামনি '   চিড়িয়াখানায় যাবোরে কাল শোন তবে এক্ষুনি।   আনন্দেতে নেচে ওঠে বাবু  সোনা মণি,   তাইনা দেখে হেসে ওঠেন মা আর পিশিমনি।   এক শিম্পাঞ্জি ডিগবাজি খায় আর একজনা গাছে   কখনো সে সিগার ধরায় চেয়ে কারও কাছে।   ঘুরে দেখে জেব্রা জিরাফ সাদা বাঘের খাঁচায়,   বোঁটকা গন্ধে টেকা যে দায় তারাতা...

কবিতা ।। আমার একজন লোক চাই ।। সাইফুল ইসলাম

  আমার একজন লোক চাই সাইফুল ইসলাম  আমার একজন লোক চাই এমন মানুষ কোথায় পাই? যে আমারে কথায় কথায় হাসি ভুলিয়ে কেবল কাঁদায়। চোখের জলে নদী হয়ে কুলুকুলু যাবে বয়ে। লাগায় আগুন মনের বনে ধিকিধিকি জ্বলে ক্ষণে।  রক্ত-মাংসের শরীরখানা ছিন্নভিন্ন সবার জানা। যে জন আমায় অহোরাত্র  জ্বালায় পোড়ায় স্বর্ণগাত্র। গ্রাম-শহরে খুঁজি তারে মাঠে-ঘাটে ঝোপে ঝাড়ে। বলো না তারে কোথায় পাই আমার একটি কবিতা চাই। দূঃখ ব্যথা থাকলে পাশে কবিতা আসে অনায়াসে। ----------------------------     সাইফুল ইসলাম  গ্রাম-বর্দ্ধনপাড়া ডাকঘর-পঞ্চহর  জেলা-বীরভূম  পিন-৭৩১২২১ 

ছড়া ।। রঞ্জনদা ।। দিলীপ কুমার মধু

  রঞ্জনদা দিলীপ কুমার মধু আমার পাড়ার রঞ্জনদা সুখরঞ্জন নাম বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ তার সকল কাম, নারকেল গাছের মাথায় উঠে ডাব থেকে জল খায়  ফুটো  ফাটা হয়না তবু ডাব , ডাবের জায়গা রয়, ভরা বর্ষায় হেঁটে বেড়ায় জল লাগে না গায়ে ছাতা মাথায় নেইকো তবু জল লাগেনা পায়ে, আজগুবি সব গল্প শোনায় মানতে পারা দায় যে শুনবে সে বলবে হায়, রামরাম হায় ! হঠাৎ হঠাৎ বুদ্ধি এসে মাথায় হাজির হয় বললে বলে- হয়তো ভাই মাথার C.P.Uতে রয়, এমন বানিয়ে এমন গুছিয়ে কল্প গল্প বলবে রঞ্জনদা জিও জিও এটা, অনন্তকাল চলবে।   ------   দিলীপ কুমার মধু, মেমারি, পূর্ব বর্ধমান। 

কবিতা ।। নাড়ুগোপাল ।। সবুজ জানা

  নাড়ুগোপাল সবুজ জানা নাড়ুগোপাল! হেয়ালিটা কানাকানি তা বিলক্ষণ আমি জানি। আমার জীবনীটা পড়। ডিজিটাল প্রতিবাদ ও তোতাকাহিনি। আমার ফেয়ারীটেল মুভমেন্ট পাড়ার মোড়ের চায়ের ঠেকে নেহাত না'হয় হাঁটতে রাজি নিরাপদ দূরত্ব রেখে  শেয়ালের সুরে স্লোগান তুলি ভীড় ঘ‍্যাঁষে হুক্কাহুয়া  চললে গুলি তোমার রক্ত আনুক স্বাধীনতা পূণ্যতোয়া... যদি এই নাড়ু শেয়ানের কথাই অনুসরণীয় ধরো  অযথা এই বলিদান কিংবা রাজপথ থেকে জেলভরো  তার চেয়ে এঁদোগলির অন্ধকারে গাঢাকতে বেশ রাজি ভাবতে পার তোমরা হাড়হাভাতে, বজ্জাত কিংবা পাজি! আবার কোনো সার্ভেকার, সুযোগ বুঝে উঁকি দেবো সেলুলারের ফলক ঘেঁটে-'ঘ' নিজের নামটা লিখিয়ে নেবো।                                                                              ============== সবুজ জানা পাঁশকুড়া পূর্বমেদিনীপুর

কবিতা ।। দহন ।। পশুপতি দত্ত 

      দহন   পশুপতি দত্ত  স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে দেখি কত যে রঙিন স্বপ্ন, সজীব যেন সবই আজ তাতে মন হতে চাই মগ্ন। কত ছিল সুখ, ছিল কত আশা ছিল না তার কোন পরিভাষা, উচ্ছ্বাসে প্রাণ ভাসিত জোয়ারে সৃষ্টিতে ছিল নব আশা। দিবারাতি সে তো আসিত স্বপনে সব হেরে আজ পুড়ছি দহনে, তার বিরহে বুক ফেটে যায় সে তো আজ কারও মননে।   ===================    Pasupati Dutta Vill - Bonbiddi (Asansol) P.O - Basudevpur -Jemari P.S - Salanpur,  Dist - Paschim Bardhaman,  PIN - 713335.

কবিতা ।। ইচ্ছের মৃত্যু ।। মেশকাতুন নাহার

  ইচ্ছের মৃত্যু  মেশকাতুন নাহার প্রতিদিন কত ইচ্ছেরা নীল প্রজাপতির মতো পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়, ফুলে ফুলে গাছে গাছে,পুলকিত হয়ে আবেশ ছড়ায়।  প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই কলি টা কখনো ঝরে যায়!  ইচ্ছে গুলোর মৃত্যু হয় প্রতিনিয়ত নানান প্রতিকূলতায়  পিষ্ট আহত প্রজাপতি মন কখনো তাঁর ডানা হারায়! স্বাধীন ভাবে উড়ে চলার  ইচ্ছে গুলো দূর অজানায় অদৃশ্যে গিয়ে মিলায়। কখনো ইচ্ছে করে গিরির পথ বেয়ে হারিয়ে যাই ঐ সুদূর নীলিমায়,  মনের অন্তরীক্ষে সপ্তরঙের পাখা মেলে  ইচ্ছেগুলো দোলে হাওয়ায়,  আকস্মিক দুর্বিষহ ঝটিকা বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হয়ে ইচ্ছে ডানাগুলো খোয়ায়, অভিলাষ গুলো বিবর্ণতায় জরাগ্রস্ত হয় মর্মান্তিক যন্ত্রণায়। হৃদয় উদ্যানে স্বপ্নের বীজ রোপণ করেছি বারেবারে,  অঙ্কুরিত হওয়ার আগেই দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে অজ্ঞাতসারে। সহস্রবার রঙ তুলির আঁচড়ে এঁকেছি ছবি ভাবনার ক্যানভাসে,  সম্মুখে উন্মেষিত হয়নি কখনো অন্তর্ধান হয়েছে দীর্ঘশ্বাসে। পূর্ণিমা রজনীতে কত যে বিনিদ্র কাটিয়েছি শূন্যতা নিয়ে,  স্পৃহা সমূহ ভস্মীভূত হয়েছে যাতনা ভরা প্রদাহের অনল জ্বালিয়ে,  প্রাণচঞ্চল মনকে শান্ত করেছি ইচ্ছ...

কবিতা ।। অনুভবে পাই ।। মীরা রায়

  অনুভবে পাই মীরা রায় সব কিছু দেখে বুঝা যায় না অনুভবে পাওয়া যায় যেমন শীত গ্রীষ্ম বর্ষা দেখা যায় না অনুভবে ও বুঝায়। দুঃখ ক্ষোভ কষ্ট নিজের অনুভূতি একান্ত ই নিজের কাউকে বলার দরকার পড়ে না নেই কোনো খোঁজের। ভালোবাসা সে ও তো অনুভূতি সুখ ও তাই সবকিছু ই অনুভব, অনুভূতি ওতেই সব পাই। শোক তাপ, রোগ, ব্যথা  সবই অনুভূতির ব্যাপার শান্তি অশান্তি তাও নিজের মধ্যে থাকে সবার।   ========= মীরা রায় আঁকড়ি, শ্রীরামপুর, পুরশুড়া, হুগলি।

কবিতা ।। ভালোবাসি বলে দিও ।। বলরাম বিশ্বাস

  ভালোবাসি বলে দিও বলরাম বিশ্বাস তুমি ক‍্যামন আইছো জানিনাই তবু এচিঠি তুমার আগমণী বার্তার দুত পাশবালিশে মুখলুকাইয়া কাঁদলাম মন ঘামের ঘনত্ব কমিগেচে একন একনজর তাকাইয়া ভুরু দিলে মুড়ে দুপুরে দুঃখ আসে হাতকতক ঘুরে আচ লেগেচে তাই শীত গেচি ভুলে অভ‍্যন্তর কাঁদচে কতক খেয়েচি গোলামাটি গুলে। হাসচে চোখ কাঁদচে মন তুমি আচ সেআগের মতন? এসো সব ভুলে। জট বেধেচে চুলে। চাড়িয়ে দাও হাত।। ভালোবাসা হবে কাচাকাচি শুলে।।। গরীবের ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবে জানি তবু পাটালাম এ দুত তুমি থেকে কারো মনে যুত আমি এবার হব অদ্ভুত।।।।

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,