Skip to main content

Posts

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বালাকী নাচ ।। শুভ জিত দত্ত

ঐতিহ্যবাহী বালাকী নাচ শুভ জিত দত্ত   বাংলাদেশের গ্রাম বাংলায় বিশেষ করে চৈত্র সংক্রান্তিতে বালাকী নাচের এই আয়োজন চোখে পড়তো । বালাকী নাচে শিল্পীরা বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্র নিজেদের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতেন গান ও নাচের মধ্য দিয়ে। লোকসংস্কৃতি অন্যতম একটি অনুষঙ্গ ছিল এই বালাকী নাচ। সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তিতে যে সকল উৎসবগুলো চোখের পড়ে তার মধ্যে চড়ক পূজা, লোকজ নীল পূজা, নীল উৎসব, শিবের গাজন ও গম্ভীরা পূজা, খেজুর ভাঙ্গা উৎসব ও বালাকী নাচ অন্যতম।   বালাকী নাচ একটি দল থাকে তাদের মধ্যে একজন দলনেতা থাকে এবং একজন বাদক এবং একজন গায়ক এবং কয়েক জন শিল্পীর সমন্বয়ে বালাকী নাচ এর এই দল গঠিত হয়ে থাকে। সাধারণত রামায়ণ অথবা মহাভারতের কোন একটি অংশ তারা নাচের মধ্যে অভিনয় ভঙ্গিমায় সম্পূর্ণ পর্বটি তুলে ধরার চেষ্টা করে। তারা মূলত বংশ পরম্পরায় এই আয়োজন এর সাথে যুক্ত থাকতো। বাঙালির পালাপার্বনের এটি একটি অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে ওই সময়কার দিকে। এটার উৎপত্তি বার শুরুর সময়টা যথাযথভাবে জানা না গেলেও এটা সাধারণত জমিদারি সময় থাকে এই প্রচলন হয়। এই আয়োজন দেখার জন্য কয়েক গ্রামের মানুষের ভিড় জমে যেত তৎকালীন সম...

নিবন্ধ ।। কাটোয়ার সবলা মেলা ।। অনুপম বিশ্বাস

    কাটোয়ার সবলা মেলা অনুপম বিশ্বাস শীতকাল, বাঙালির মন যেন চায় কোন মেলা, একটু গান, একটু গল্প, একটু আড্ডা, সঙ্গে নানান রকমারি গরম গরম তেলেভাজা থাকলে তো জমে ক্ষীর। কাটোয়া শহরের পৌর প্রধানের ব্যবস্থাপনায় গত বেশ কয়েক বছর ধরে কাটোয়া কাশীরাম দাস বিদ্যায়তনের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে সবলা মেলা।  গ্রামীণ মেয়েদের স্বনির্ভর করতে, তাদের সৃষ্টিকে মেলে ধরতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিয়ুক্তি বিভাগের উদ্যোগে প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করা হয়।      প্রতিটি বছর এই মেলায় মানুষজনের সমারোহ চোখে পড়ার মতো। মেলাটি অনুষ্ঠিত হয় ৬ থেকে ৭ দিন ধরে এবং সঙ্গে চলতে থাকে নানান রকম তারকা গায়ক নর্তকিদের আগমন। কাটোয়া দেখে এক নতুন উজ্জ্বল সন্ধ্যা।      প্রতিবছরের মত এই বছরও ২০২৩ থেকে ২০২৪ এর সবলা মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে কাটোয়ার কাশিরাম দাস বিদ্যায়তনের ময়দানে। নারান জাতির ভিড় ছিল সঙ্গে ছিল আনন্দ উল্লাস।      সবলা মেলার প্রথম দিন ৩০/১২/২০২৩ এ প্রখ্যাত গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর কন্ঠে গান শুনলো কাটোয়া বাসি। মাঠের চারিদিকে শুধুই ভিড়, ভিড...

দুর্গোৎসব সম্প্রীতির উৎসব ।। রতন বসাক

 সমস্ত রকম বিভেদ ভুলেই একালের মানুষ পুজোতে শামিল হয় রতন বসাক প্রকৃতির নিয়ম মেনেই বর্ষা ঋতুর শেষ হতে না হতেই শরৎ ঋতুটা এসে যায় আমাদের দেশে। যদিও ঝড় বৃষ্টির তাণ্ডব পুরোপুরি যায় না। শরৎ ঋতু মানেই নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘের ভেসে চলা। পথে, ঘাটে, জমির আলে কাশফুলের মেলা। মন মাতানো শিউলি ফুলের গন্ধ বাতাসে। আর শিশিরের পরশ গাছের পাতা ও সবুজ ঘাসে। এই সবই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মায়ের আগমনের কথা মানে পুজো আসছে। পুজো মানেই একটা বছর অপেক্ষার পর আবার এক বিশাল উৎসবের আয়োজন। যেখানে ধনী-গরিব ও ধর্ম বিভেদের বেড়াজাল টপকে এক মহামিলন দেখা যায়। মায়ের পুজোর ক'টাদিন সবকিছু ভুলে শুধুই আনন্দ আর মজা করা। দুর্গা মায়ের পুজো হিন্দুদের হলেও, বিশ্বজুড়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মানাতে দেখা যায়। আসলে একঘেয়েমি জীবন থেকে একটু সরে এসে, আনন্দে মনকে হালকা করে নিতে সবাই চায়।  প্রায় প্রত্যেকটি মানুষই তাঁর ক্ষমতা অনুযায়ী পুজোর সময় নতুন কিছু কিনবেই। নতুন জামা, কাপড়, জুতো, কিংবা ঘরের কিছু না কিনলে মনে হয় না যে পুজো-পুজো ভাব। তাই পুজোর আগে থেকেই হাট-বাজারে প্রত্যেকটা দোকানে নতুন-নতুন জিনিসের দেখা পাওয়া যায়। বোনাস কি...

বাঙালির পার্বণ ।। মিঠুন মুখার্জী

বাঙালির পার্বণ মিঠুন মুখার্জী  'বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু বাংলার ফল/  পুণ্য হোক পুণ্য হোক পুণ্য হোক হে ভগবান।'--- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই পুণ্য বাংলা  ভূমিকে নিয়ে যে প্রার্থনা তা প্রতিটি মুহূর্তে পূর্ণ হোক। আমরা বাঙালি, বাংলা মায়ের সন্তান। বাংলা সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার-আচরন ও বাংলার ঐতিহ্য আমরা বংশপরম্পরায় বহন করে চলেছি। শত দুঃখের মধ্যেও আমরা আনন্দে  থাকতে চাই। বাঙালি যেমন ভোজন প্রিয়, তেমনি বারো মাসে তেরো পার্বণ নিয়ে মেতে থাকেন তারা। এক কথায় উৎসবমুখর বাঙালি। শত কষ্ট হলেও এই উৎসব মুখর দিনগুলোতে পরিবারের সমস্ত সদস্যের মুখে হাসি দেখতে চান প্রতিটি বাঙালি পরিবারের অভিভাবক- অভিভাবিকারা।                উৎসবমুখর বাঙালির পার্বনকে  আলোচনার  সুবিধার্থে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া হলো।----                            ১) সামাজিক পার্বন                            ২) ধর্মীয় ...

লোকসমাগমের পাশাপাশি মেলা শিক্ষা-সংস্কৃতিরও প্রসার ঘটায় ।। প্রদীপ কুমার দাস

লোকসমাগমের পাশাপাশি মেলা শিক্ষা-সংস্কৃতিরও প্রসার ঘটায় প্রদীপ কুমার দাস মেলা কথাটার অর্থ হল কোন একটা জায়গায় বহু লোকের সমাবেশে একত্রে মিলিত হয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভাব বিনিময় করা।মেলা মানে মহামিলন। মানুষের আনন্দ-উচ্ছাসের প্রকাশ ঘটে মেলার মাধ্যমে। এছাড়া ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের উপরে উঠে মেলা সকলের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে।  মেলা ঐতিহ্যবাহীও বটে। বাংলার বারো মাসে তের পার্বণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মেলার আকর্ষণ। মেলার জায়গাগুলো হয় কোন বড় গাছতলায়, ধর্মীয় মন্দির-মসজিদের আশপাশে, নদীর পাড়ে কখনো বা সাধু-সন্ন্যাসী-পীর-ফকিরদের আস্তানায়। রাজ্যে বহু আনুষ্ঠানিক মেলা হয়। যেমন মকর সংক্রান্তিতে জয়দেবের কেন্দুলী মেলা যে মেলায় লোকেরা সারা রাত ধরে আকড়ায় ঘুরে ঘুরে বাউল গান শোনেন আর সময়মত কোন একটা আকড়ায় বসে গরম গরম খিঁচুড়ী খেয়ে নেন। ভোর রাতে পাকা কলা কিনে খুশি মনে বাড়ি ফেরেন। ঐ একই সময়ে বর্ধমানের প্রান্তিক অঞ্চল পান্ডবেশ্বরে একদিনের মেলা বসে।  সেখানকার মেলার বৈশিষ্ট্য হল মেলা শেষে লোকেরা ডিম খেয়ে বাড়ি ফিরে।  এছাড়া প্রতিটা জেলায় জেলায় বিভিন্ন সময়ে গ্রন্হমেলার আয়োজন করা হয় যেখানেও বহু লোক সমাগম হয়।...

নিবন্ধ ।। মকর সংক্রান্তি ।। বিজয় দাস

মকর সংক্রান্তি বিজয় দাস   🌿মকর সংক্রান্তি অর্থ হচ্ছে -- এখানে মকর শব্দটি মকর রাশিকে বুঝানো হয়েছে। আর সংক্রান্তির অর্থ হচ্ছে সংক্রমণ অর্থাৎ প্রবেশ করাকে বুঝায়। বৈদিক গণনানুসারে কাল বা সময় গননা হয় দুইভাবে।  ১) চন্দ্র মাস গননা ২) সৌর মাস গননা আর এই সৌর গণনা শুরু হয় সংক্রান্তি দিয়ে। সংক্রান্তি অর্থাৎ সংক্রমণ মানে প্রবেশ করা। সূর্যের প্রবেশ। অর্থাৎ সূর্য যে রাশির মধ্যে প্রবেশ করে সেই রাশির সংক্রান্ত বলা হয়। এমনিতেই সংক্রান্তি ১২ রকমের। কিন্তু ৪ ধরনের সংক্রান্তি বিশেষ মাহাত্ম্য পূর্ণ। তাহলো মেষ, কর্কট, তুলা ও মকর সংক্রান্তি।  মকর সংক্রান্তি বিশেষ মাহাত্ম্য কারন এই দিনে সূর্যদেব দক্ষিণায়ন থেকে উত্তারায়ন হয়। অর্থাৎ সূর্যদেব উত্তরদিকে যাত্রা শুরু করে। এর আগে সূর্যদেব দক্ষিন দিকে যাত্রা শুরু করেছিল এখন উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করবে। এভাবে ৬ মাস দক্ষিন দিকে অর্থাৎ দক্ষিণায়ন আর বাকি ৬ মাস উত্তরদিকে অর্থাৎ উত্তরায়ণ। আর এই উত্তারায়ন বিষয়ে ভগবদগীতায় ৮/২৪ নং শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন ---  অগ্নির্জ্যোতিরহঃ শুক্লঃ ষণ্মাসা উত্তরায়ণম্। তত্র প্রয়াতা গচ্ছন্তি ব্রহ্ম ব্রহ্মবিদো জনাঃ।।...

প্রতিবেদন ।। মাঘী পূর্ণিমা পালন ।। শুভশ্রী দাস

মাঘী পূর্ণিমা পালন শুভশ্রী দাস  প্রতি বছর তুলসী মঞ্চ প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে এই দিনটি খড়গপুর-এর খরিদাস্থিত জানা পরিবারে মহা সমারোহে পুজো অনুষ্ঠান করা হয়। এ হলো আমাদের পরিবারের কাছের দূরের আত্মীয় স্বজনের মিলিত হওয়ার উৎসব। পাড়া প্রতিবেশী রাও আগ্রহের সাথে যুক্ত হয়। এই পুজোতে মানত করা হয় । এবং তার উপযুক্ত ফলও পাওয়া যায়। কাঁসর শাঁখ-এর ধ্বনিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হয় পুজোর ক্রিয়াকর্ম ।   মূল আকর্ষণ বাতাসা  লুঠ ও হরি কীর্তন । দু হাত তুলে কীর্তনের সাথে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমে হরির প্রতি অগাধ বিশ্বাস এ চলে নাম গান। অনেক রাত অবধি চলে প্রসাদ বিতরণ। জানা পরিবারের এই বিশ্বাস যেন আজীবন অটুট থাকে। পূর্নিমার চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা। উদ্যোক্তা:পারুল বালা জানা (জানা পরিবারের কর্তৃ) ও পরিবার বর্গ ।   ============= কলমে : শুভশ্রী দাস  স্থান:খড়গপুর (জেলা:পশ্চিম মেদিনীপুর)

কবিতা ।। উৎসবের রিনরিন আওয়াজ ।। অজিত দেবনাথ

উৎসবের রিনরিন আওয়াজ অজিত দেবনাথ শীতের কুয়াশাঘেরা মাঠের প্রান্তরে মেলার  বাঁশির  রিনরিন আওয়াজ বেজে ওঠে, শীতের হাওয়ায় আমলকি পাতাদের নাচ, ভরে ওঠে মনের হৃদয়প্রাঙ্গণ নিজস্ব ভাষায় মেলা বর্ণসংকেতের ভিড় রেখে যায়, হৃদয়ের তোশকে ধুনুচি নাচের আলিঙ্গন। আলুথালু শীতে ফিকিরহীন ধুলোয় নগ্ন জীবনের  রক্তচোষা জোকের ঠোঁটে শুঁয়োপোকা-ঠাসা ঈশান মেঘ যে পুঞ্জ গড়ে তোলে, তার ওপর চিতসাঁতার  দিয়ে আমি ভেসে যাই জন্মমৃত্যুর মনুস্মৃতির পটে । উৎসবের ভেজা কলসি উৎপেতে শুনিয়ে যায় কুহকবিহীন নিরাসক্ত উতল নির্জন, নির্জনতার ক্রীড়াঙ্গনে যে বায়োস্কোপের ছবি ফুটে ওঠে তার ভিতর আমি খুঁজে পাই বহু আঁকজোকের নক্ষত্ররাজি। জনসমুদ্রের গবাক্ষবলয়ের পক্ককেশে বিভাহীন আলোর পঙত্তিতে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে উৎসবের তৈলচিত্র। ================    Ajit Debnath Assistant Professor Department of History Ramananda College Bishnupur.Bankura. Pin-722122.West Bengal

কবিতা ।। উৎসব আসছে ।। মানস চক্রবর্তী

উৎসব আসছে মানস চক্রবর্তী  মেঘেদের ভেলা ওই আকাশেতে ভাসছে রাশি রাশি খুশি নিয়ে উৎসব আসছে। দিকে দিকে কলরব, লেখাপড়া বন্ধ সকলেই খুশি আজ, বড় মহানন্দ। কাশফুল দোল খায়, শিউলিরা হাসছে। রাশি রাশি খুশি নিয়ে উৎসব আসছে ।। একঘেয়ে কাজ ফেলে মন পাখি গান গায়  বারে বারে শারদীয়া ফিরে পেতে মন চায়। ফিরে এলো উৎসব, পুজো পুজো গন্ধ খুলে দাও জানালাটা, রেখো নাকো বন্ধ। শান্ত দিঘির জলে শালুকেরা ভাসছে। রাশি রাশি খুশি নিয়ে উৎসব আসছে ।। ********************************* মানস চক্রবর্তী  উত্তর বাওয়ালী, নোদাখালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পিন-৭০০১৩৭

কবিতা ।। মিলন মেলার আঁকে বাঁকে ।। গোবিন্দ মোদক

মিলন মেলার আঁকে বাঁকে গোবিন্দ মোদক কখন যে উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলা বসে,  আর কখন যে মেলাকে ঘিরে উৎসব  তার কোনও সীমারেখা না থাকলেও  মন জুড়ে বে-নী-আ-স-হ-ক-লা।  তাই কখনও বীরভূমের রাঙামাটির পথে  অথবা রাজস্থানের রুক্ষ প্রান্তরে  মনের বেহালায় কে যেন ছড় টেনে বাজায়।  তখন আর দু'দন্ড বসে থাকার জো নেই,  রাম রহিম আর জনসনেরও ফারাক নেই;  অগতা মনবাউল পথ হাঁটে উৎসবের আলোয়, হাঁটে মেলার পথ ধরে হাজারো মানুষের ভিড়ে; কখনও বা সাথী হয় পার্বণ  ভাদু .. টুসু .. বোলান .. জারিগান .. কিংবা নকশিকাঁথা আঁকা পিঠে-পুলি,  আতপের ঘ্রাণ, ঝুমঝুমি, খাজা-গজা,  নাগরদোলার মায়াবী হাতছানি,  আর কোমর জড়ানো নাচের বাহার … তবুও এতো কিছুর মধ্যেও                  কখনও কখনও মনে হয় —  ধর্ম থাকুক ধর্মের মতো,  উৎসব উৎসব-ই হোক,  তাহলেই মনে মনে জমবে মেলার বাহার!  এসো! একটু রঙিন হই মেলার ভিড়ে!! ___________________________   গোবিন্দ মোদক। রাধানগর, ডাক- ঘূর্ণি, কৃষ...

ছড়া ।। মেলায় ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

মেলায় নিরঞ্জন মণ্ডল দোল লেগেছে নরম হাওয়ায় দোলা খুকির মনে যাবে সে আজ রথের মেলায় অথির সময় গোনে। গড়িয়ে গেলে মেঘলা দুপুর চওড়া হবে হাসি আঁকড়ে মাকে মেলার ভিড়ে হাঁটবে পাশাপাশি। সব বয়সী হরেক রঙের কাপড় জামায় যারা জড়িয়ে শরীর দুলিয়ে মাথা হাঁটবে বাউল পারা তাকিয়ে তাদের মুখের পানে দেখবে নতুন ছবি, আঁকবে মনে যে ছবিটায় ভাসছে আলোর রবি। তালের পাতার বাঁশি এখন যায় না মেলায় পাওয়া পাঁপড় ভাজা কড়াই বাদাম – যায় না এ সব চাওয়া, কিনতে কেবল পারবে খুকি রঙিন বেলুন কিছু নাগরদোলার মটকা থেকে মুখটা করে নিচু দেখবে ভিড়ের আজব ঢেউয়ে কোন মায়া যায় ভেসে মেঘ-থমথম আকাশ পারে উতল দিনের শেষে! কিনবে ক'টা খেলনা নতুন,সোনাল গলার হার নক্সা কাটা একটা রুমাল মোড়ানো চার ধার। মেলায় কেনার বায়না – খুকুর দেয় না সাড়া মন দেখতে বড়ই ইচ্ছে মেলায় ঘুরছে আপনজন। গন্ধ মেলার বুকের মাঝে চায় সে নিতে ভরে কান্না হাসির অঢেল ছবি দেখতে আজব ঘোরে।

কবিতা ।। পিঠে পুলি ।। দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়

পিঠে পুলি দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায় নতুন চালের গুঁড়ি গরম জলেতে ফেলি  নতুন ডালের পুরে আর নারকেল কুরে  দুধের ভেতরে ফেলে খেজুরে গুড়ের কেলি  পৌষের পার্বণে যত নারী একসাথে মিলে  রকম রকম পুলি হাসি মজা মন খুলি চেটে চেকে খেয়ে মজা ফুরফুরে খোশ দিলে  সারা শীত জুড়ে থাকে নানান মেলার মজা  মেলাতে মিলবে পিঠে খেজুরে গুড়ের মিঠে  ভাপা পুলি ভাজা পুলি সেদ্ধ পুলি মিঠে গজা। পাটিসাপটায় আর সরু চাকলিতে সায়  মোদক শোকেস জোড়া রস বড়া ঝোড়া ঝোড়া সংস্কৃতি বাংলার এক অর্থ হেতু লুপ্তপ্রায়।। ---------------------------

ছড়া ।। পৌষ পার্বণ ।। ফটিক ঘোষ

পৌষ পার্বণ ফটিক ঘোষ বাঙালিদের তেরো পার্বণ বারো মাসে ভাই, প্রতি মাসেই পার্বণ থাকে মজা লুটে যাই। শীত কালেতে পৌষের পার্বণ পিঠাপুলির ধুম, মায়ের হাতের পিঠার ঘ্রাণে কেড়ে নেয় যে ঘুম। নলেন গুড়ে পিঠার বাহার জিভে আসে জল, খেজুর রসের পায়েস খেতে আসে বন্ধুর দল। দক্ষিণায়নে পৌষ সংক্রান্তি তৈরি বুড়ির ঘর, ছন বাশেতে তৈরি ঘরে কাটায় রাত্রি ভর। ছেলের দলে নিজের হাতে রাধে মাংস মাছ, মাইক বাজে বুড়ির ঘরে চলে খুশির নাচ।

ছড়া ।। নবান্ন উৎসব ।। ক্ষুদিরাম নস্কর

নবান্ন উৎসব  ক্ষুদিরাম নস্কর শিশির ঝরা ঘাসের মাথা সূর্যতে চিক চিক নতুন ধানে ভরছে গোলা আলপনা চারদিক। ইঁদুর লাফায় নাকের ডগায় প্যাঁচার জ্বলে চোখ উদয় অস্ত ব্যস্ত বড় ক্লান্ত চাষের লোক। গাঁদা গাছে রঙ লেগেছে উচ্ছসিত মন গুনগুনিয়ে ভ্রমর আসে সরষে ফুলের বন। ধান ভাঁঙিয়ে নতুন চালে নবান্নে হয় ভাত বেচবে ফসল আশায় চাষি সচল হবে হাত। তুলাইপঞ্জির পায়েস হবে বিন্নি ধানে খই পিঠেপুলির সঙ্গেতে চাই নলিন গুড়ের দই। সজন সুজন খবর পেল সাজো সাজো রব দুখের ঘরে সুখের লগন নবান্ন উৎসব।

ছড়া ।। রথের মেলা ।। নিতাই মৃধা

রথের মেলা নিতাই মৃধা রথের মেলা, মেলা রথের হাজার জীবন মেলা, মেলা রথের দেখতে দেখতে কেটেই গেল বেলা। কেউবা দোলে নাগর দোলায় দোলায় নাগর দোলে জয় জগন্নাথ বলে কেউবা মাদলে বোল তোলে। পাপাই খোঁজে পাপড় ভাজা, ভজা খোঁজে গজা, পুচকা খোঁজে ফুচকা খেতে ফুচকাতে তার মজা। সার্কাস, ম্যাজিক, মরনকুপে, জমজমাটি মেলা, যেখানে যাও দেখতে পাবে সব-ই  টাকার খেলা। অন্ধ বুড়ির নাতনিটা চায় দুটি পয়সা পেতে, পয়সা পেলে তবে তারা পাবে দুটি খেতে। এমনিভাবে কাটে জীবন মেলায় মেলায় ঘুরে, মেলাই জীবন, জীবন মেলা। চলছে জগৎ জুড়ে। ============== Nitai Mridha, Baisnabghata-Patuli, Kolkata-7000 84.

কবিতা ।। নবান্ন ।। মনোরঞ্জন ঘোষাল

নবান্ন মনোরঞ্জন ঘোষাল আজও ভাসে বায় ঘ্রাণ  সেই নবান্ন অনুষ্ঠান! চোখে ভাসে আজও কত স্মৃতি মনে নিদারুণ অনুভূতি। এই পৌষ আর মাঘ দিনে শীতের কাপড় জড়ানো ক্ষণে। জ্বলা কেরোসিন লণ্ঠন  মাতা গুড় পিঠে পার্বণ। সেই শিশিরের ভেজা ঘাস ঘরে তোলা আমন চাষ। গড়া খেজুর রসের গুড় মিঠে গন্ধে সে ভরপুর।  শিলে পেষা চালের গুঁড়ো  কত আনন্দ তাড়াহুড়ো। হাতে গড়া পিঠে পুলি আজও জাগায় পরশ গুলি। মেটে ঘরে চেটাই পাতা মুখে খাবারের মুগ্ধতা।  থালা ভরা চিতুই পুলি তার আয়েস কেমনে ভুলি। সাথে পায়েস সরু চাগলি পাটি সাপটা মালাই ছাপলি। হত মন পেট পুরে খাওয়া ঘরে ভেতর নয়তো দাওয়া। জিভে বাসি পিঠের স্বাদ বাজে কোমল নয়কো খাদ। ঘন কুয়াশা শিতল বাতাস দেহ কাঁপা মনে আশ। বেলার হালকা রোদ্দুর মন ছোটে অচিনপুর।  ফাঁক পেলেই দেদার ছুট জলা মাঠে ঘুঁড়ির লুঠ। খেজুর গাছে রসের চাপ নাড়া গদির উপর লাফ। চুপড়ি আলু পোড়া চাট কলাপাতায় ফাঁকা মাঠ। গান গল্পে লুটোপুটি পাড়ার সকল ছেলে জুটি। আজও দিনগুলো সব বাজে যত থাকুক ব‍্যাস্ত কাজে। শীত পৌষ মাঘের দিন বাজে নবান্নের সেই বিন। ================= মনোরঞ্জন ঘোষাল আত্মারাম পুর পশ্চিম রামেশ্বর পুর বজ বজ দক্ষিণ চব...

ছড়া ।। মকর সংক্রান্তি || ঊষা মল্লিক

মকর সংক্রান্তি  ঊষা মল্লিক ঠান্ডা ঠান্ডা শীতল বাতাস, বইছে চারপাশে,  পিঠের গন্ধ ভাসে আজ আকাশে বাতাসে। আজ যে সংক্রান্তি, আর পৌষ মাসের শেষ, সকাল থেকে মনে যেন আজ, বড়ই খুশীর আবেশ। গঙ্গা সাগরের জলে আজ,  নাগা সন্ন্যাসীর স্নান,  আদিবাসীদের সুরে আজ, জমে উঠেছে গান।  কদিন ধরে চলেছে ঢেঁকি সমস্ত গ্রাম জুড়ি, ঢেঁকি কুটে সবাই আজ বানাল চাল গুঁড়ি।   রং বে রং এর আলপনাতে, সেজেছে সব উঠান,  মকর সংক্রান্তির মেলা আজ, পল্লীতে ফিরেছে প্রাণ।  নারকেল আর মাখা সন্দেশে তৈরী কতো কিছু,  পিঠে খাবার তরে, বাচ্চারা ঘুরছে , মায়ের পিছু পিছু।  সব রকমের পিঠেতে প্রায়, লাগছে খেজুর গুড়,  পাটিসাপটা আর পুলি পিঠেতে, লাগবে গুড়ের পুর। বাংলার আকাশ জুড়ে দেখি চলছে ঘুড়ির মেলা,  ছোট থেকে বড় সবাই খেলছে, কাটাকুটি খেলা।  সন্ধ্যা বেলায় প্রায় আজকাল, টুসু পৃজা হয়,  পিঠে খেতে দারুণ মজা, সবাই যে তাই কয়। দুধ পুলি, সরুচাকলী আর ভাপা পিঠের  স্বাদে,  মানুষের মন যেন আজ, ভরেছে আহ্লাদে।  পিঠে খেতে এসো সবাই, করি নিমন্ত্রণ,  সবাইকে জানাই, মকর সংক্রান্তির শুভেচ্ছা,...

হুগলীর চৈতন্যবাটী গ্রামের নন্দী ভিটের পঞ্চ দেবদেবী ।। অঞ্জলি নন্দী

হুগলীর চৈতন্যবাটী গ্রামের নন্দী ভিটের পঞ্চ দেবদেবী অঞ্জলি নন্দী বঙ্গের হুগলীর চৈতন্যবাটী গ্রামের নন্দী ভিটেতে প্রায় তিন শত বৎসর পূর্বে পঞ্চ দেব আর দেবীর প্রতিষ্ঠা করা হয়। আজও নিত্য পুজো চলে আসছে। রোজ পূজারী এসে পুজো করেন।       ভিটেতে ঢুকতেই মা শ্রী শীতলা দেবীর মন্দির। আমরা সকল মন্দিরকেই ঘর বলি। যেমন, মা শেতলার ঘর। এর পর একটু এসে পাশের দিকে রামেশ্বর ও বানেশ্বর। আরও ঢুকে দো তলায় রঘুনাথের ঘর। এর ঠিক কাছেই নিচে মনসা ও তুলসী তলা। সকল ঠাকুরের জন্য আলাদা আলাদা আলাদা পুকুর আছে। শিবের ঘরের পিছনে খিড়কি পুকুর। এরকম। পুজোয় ঐ পুকুরের জল লাগত। আবার চানও করা হত। বারো মাসে বহু পুজো, পার্বণ চলতেই থাকে.......... আমাদের মায়ের সামনে পাঁঠা বলি হয়। মা শেতলার প্রসাদ। আবার রঘুনাথের ঘরে রাম নবমী, জন্মাষ্টমী, দোল, চাঁচর, রাশ পুজো হয়। শিবের ঘরে শিব রাত্রি হয়। মনসার সামনে অরন্ধন অর্থাৎ রান্না পুজো হয়। তুলসী তলায় আমরা পুণ্যিপুকুর, কুলকুলবতী ব্রত করতাম। আবার গোকুল ব্রতও করতুম। ওই পুণ্যিপুকুরের সঙ্গেই, একসঙ্গে। চার বছর করে, দুটি ব্রত। আর তিনটি ব্রত আট বছরে করেছি। বালিকা বেলায়। আর রঘুন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত ।। বইমেলা ২০২৪ সংখ্যা ।। প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র

 

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৭০তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

    সূচিপত্র   নিবন্ধ ।। স্তন-কর রুখতে "নাঙেলি"র আত্মত্যাগ ।। শাশ্বতী চ্যাটার্জী নিবন্ধ ।। Self Medication ।। গৌতম সমাজদার নিবন্ধ ।। ফাঁদ ।। জয়শ্রী সরকার মুক্তগদ্য ।। বিষাদ ।। লালন চাঁদ স্মৃতিকথা ।। গোবিন্দ বাবু ও টাইপরাইটার ।। সুশান্ত সেন জীবনের সেরা পুজোর দিনটির কথা ।। গোবিন্দ মোদক বাঙালি মানসে চিরস্মরণীয় গণ সংগীতের স্রষ্টা সলিল চৌধুরী ।। পাভেল আমান প্রবন্ধ ।। দ্বন্দ্বতত্ত্বের আবহে সাহিত্যে কল্পকথা ও কল্পচিত্র ।। রণেশ রায় তবে হাসুন...!! বিশ্বজিৎ কর প্রবন্ধ ।। 'কাব্যজিজ্ঞাসা': সারকথা ।। শংকর ব্রহ্ম গল্প ।। ভয়ংকর স্মৃতি ।। অনিন্দ্য পাল গল্প ।। অবনী ।। সুনীল কুমার হালদার অণুগল্প ।। নোকরানি ।। লিপিকর রম্যগল্প ।। বুক খোলার কথা ।। প্রদীপ কুমার দে অণুগল্প ।। মন্দিরার উপহার ।। অধীর কুমার রায় ছোটগল্প ।। স্যার ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল ছোটগল্প ।। বাঁশিওলা ।। সুদামকৃষ্ণ মন্ডল চিঠি ।। তপন মাইতি স্মৃতিকথা ।। সিনেমার আড্ডাটা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) অণুগল্প ।। দেবাংশু কি তাহলে...? ।। আশিস ভট্টাচার্য্য ছোটগল্প ।। কুত্তায় সময় খাইছে কত্তা ।। সহদেব মণ্ডল অণুগল্প ।। বিস্কুট ।। প্রতীক ম...

নিবন্ধ ।। Self Medication ।। গৌতম সমাজদার

Self Medication  গৌতম সমাজদার  যখন একজন মানুষ তার অসুস্থতা, মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাবার জন্য ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে তা ব্যবহার করে, তাকে self medication বলে। নিজের থেকে মানসিক বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কষ্ট থেকে রেহাই পাবার জন্য কোন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ নিজের ওপর প্রয়োগ করে তা অনেক সময়ই বিপদ ডেকে আনতে পারে অথবা সেই ওষুধের ওপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়বে।মাথা ব্যথা, গা-হাত-পা ব্যথা হলেই ওষুধের কাউন্টার থেকে কিনে খায় যা তার সামান্য রোগকেও বাড়িয়ে তুলতে পারে।আবার এটাও হয় কারো বা নিজের পুরোনো prescription দিয়ে ওষুধ কিনে খায়। তাতে কিন্তু কষ্ট বেড়েও যেতে পারে। পুরোনো ওষুধ খেয়ে ফেললে যা নির্দিষ্ট সময় পরে শরীরে কাজ করে না তাতে কষ্ট তো কমেই না, ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। তাই expired ওষুধ কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। এটা হয় মূলতঃ সময়ের জন্য গুণগত মান কম থাকে বলে। এটা খাওয়া বিপদজনক এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ না খেলেও এর বিপরীত ফল হতে পারে। তাই ডাক্তার দেখিয়ে prescription অনুযায়ী ও expire date দেখে তবে গ্রহণ করা উচিত।শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু প্রবেশ করলে মূলতঃ ব্যাকটেরিয়ার আক্র...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর

    রঙ বিবেকানন্দ নস্কর    আদুল স্রোতের টান  আঙুল রঙিন  চোখের পাতায় কৃষ্ণচূড়া  আদিবাসী মেয়ে বাজালো ফাগুন বীণ। বাসন্তিকা এমন বেআব্রু  আনমনা দক্ষিনা কোথায় যায় আবির বাতাস ঘ্রাণ  বিরহ বৃথা দায় । রঙ বিন্দু,স্বেদ বিন্দু  কিশোরী যুবতী হোক আদি প্রেম আদি ভাষা  রক্তাভ হাতের নখ । =============== বিবেকানন্দ নস্কর  সম্পাদক -ছন্দের ঘ্রাণ পত্রিকা  সন্তোষ পুর  পোঃ চাঁদ পালা  ফলতা  দ:২৪ পরগনা 

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

রঙ || নীল ডায়েরি

  দুটি কবিতা  নীল ডায়েরি  সময়ের জলছবি শহরের পিচগলা দুপুরে আজ ভীষণ একাকীত্ব, ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়া একমুঠো রোদ্দুর— যেন কোনো প্রাচীন লিপির অস্পষ্ট পাঠোদ্ধার। সবুজ সংকেত আসতেই তারা মিলিয়ে যায়, ঠিক যেমন আমাদের শৈশব ভিড় করে স্মৃতির স্টেশনে। আমি আজও খুঁজি সেই হারানো ডাকবাক্স, যেখানে চিঠিরা অপেক্ষার হলুদ রঙ মেখে বসে থাকে। অথচ এখন শুধু ইমেলের ইনবক্সে ডিজিটাল নীরবতা— হৃদয়ের মানচিত্রে জমা হচ্ছে কেবলি ধূসর বালুচর। সময় তো নদী নয়, সময় আসলে এক আয়না, যেখানে আমরা প্রতিদিন অচেনা কাউকে দেখে চমকে উঠি। মায়া ও মৃত্তিকা মাটির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে আদিম এক ঘ্রাণ, সেখানে শিকড় চেনে তার নিজস্ব ঠিকানার হদিস। আমরাও তো বৃক্ষের মতো ডালপালা মেলেছি আকাশে, অথচ পায়ের তলায় মাটির স্পর্শ ছাড়া সবটাই অলীক। কুয়াশার চাদর সরিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটে ওঠে, তখন মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই আসলে এক আশ্চর্য শিল্প। বুকের বাঁদিকে আজ এক অদ্ভুত জোনাকির আলো, হয়তো কোনো প্রিয় মানুষের ফিরে আসার পদধ্বনি। পাখিদের ডানায় লেগে থাকা বাতাসের গান শুনে— বিকেলের বিষণ্ণতা মুছে যায় চেনা কোনো সুরের টানে। জীবন মানে তো কেবল ফুরিয়ে যাওয়া নয়, জীবন মা...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...