Skip to main content

Posts

কবিতা ।। পুরুষ তুমি ।। তরুণ মান্না

   পুরুষ তুমি     তরুণ মান্না    তুমি রোজ রাত ক'রে বাড়ি ফেরো    সে কোনো দোষের কথা নয়    তুমি তো আর পাখি নও    সন্ধ্যে নামলেই নীড়ে ফেরার    আকুলতা জেগে উঠবে ডানায়    তুমি পুরুষ, এ তোমার অধিকার ।    তুমি রোজ ড্রিংক ক'রে বাড়ি ফেরো    সে কোনো দোষের কথা নয়     সংসার-সমুদ্র মন্থনের হলাহল    কণ্ঠ থেকে নামাতে    সুরামৃতের দরকার, তা মানি    তুমি পুরুষ, এ তোমার জন্মগত অধিকার ।    তোমার পোশাকে লিপস্টিকের দাগ    সে কোনো দোষের কথা নয়     আগুন দেখে পতঙ্গ যদি ঝাঁপ দেয়     আগুনের কী দোষ তাতে    দাহিকাশক্তি না থাকলে কীসের আগুন?    তুমি পুরুষ, এসব তোমায় মানায়।    তুমি নগ্ন হয়ে বাথরুম থেকে বের হও    সে কোনো দোষের কথা নয়     একা ঘরে বাবাই ঘুমিয়ে থাকে     হঠাৎ যদি ঘুম ভেঙে যায় তার    তুমি যেন লজ্জা পেয়ো না    তুমি পুরুষ, ত...

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ভাবনা ।। শেফালি সর

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে  আমার ভাবনা শেফালি সর         "নারী মানেই  অর্ধেক  আকাশ।নারী মানেই শক্তি।" কথাগুলো  শুধুই বানানো  বুলি। প্রকৃতপক্ষে  নারী চিরকাল  অবহেলিত  হয়ে  আসছে সমাজ সংসারে। সেই  ছোট্ট  থেকেই  একটি মেয়েকে   মা বুঝিয়ে  দেয় তার  অবস্থানটা ঠিক  কোথায় সমাজ  সংসারে। তুই  মেয়ে হয়ে  জন্মেছিস পরের জন্য, এই  সংসার থেকে  অন্য  এক সংসারে যাওয়ার  জন্য। তোকে  অনেক কিছু  মেনে  নিতে  হবে  জীবনে।আজ থেকেই অভ‍্যাস করতে  হবে - আগ বাড়িয়ে  কিছু  বলা যাবেনা,মেয়েদের স্বাধীন  ভাবনার কোনো মূল্য  নেই।পুরুষ-প্রধান সমাজ সংসারে নারী চিরকাল  অবহেলিত।       আর  ঠিক  সেই  কারণেই আজও  নারীকে আন্দোলনে নামতে হয় সমানাধিকারের দাবীতে।আজও সেই  কারণে বিশ্বজুড়ে  নারীদিবস পালন করতে হয়।নারীরা  এই দিনটিকে কেন্দ্র  করে পথে  নেমে  প্রতিবাদ  করে নারী  পুরুষ...

কবিতা ।। নারী নয় অবলা ।। দীনেশ সরকার

 নারী নয় অবলা  দীনেশ সরকার নারীকে অবলা বলে ক'রো না অপমান নারীকে দাও সামাজে তার যথাযোগ্য সম্মান । নারী মাতা, নারী বধূ, নারী আমার কন্যা এই সমাজে সকল ক্ষেত্রে নারী আজ অনন্যা । ঘরে ঘরে নারীরূপে লক্ষ্মী-সরস্বতী রণরঙ্গিনী রূপ ধরে সে ঘোচায় দুর্গতি । নারী আছে তাই এ সংসার এমনই মধুময় নারীর ত্যাগেই সংসার জীবন বড়ই সুখের হয় । সমাজের আজ সর্বস্তরে নারী অগ্রগন্যা শিক্ষা-দীক্ষা সংস্কৃতি সবেই অসামান্যা । কর্মক্ষেত্রে সবার সাথে সমান তালে চলে সাফল্যের চূড়াতে নারী ইতিহাসই বলে । এভারেষ্টের চূড়ায় নারী, নারী মহাকাশে রণাঙ্গনে লড়ছে নারী পুরুষেরই পাশে । সাফল্যের এই মাপকাঠিতে নারী-পুরুষ সমান নারীকে অবলা বলে ক'রো না অপমান । ************************************     দীনেশ সরকার ১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি, প্রেমবাজার, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর --- ৭২১৩০৬

কবিতা ।। অবগুন্ঠিত ।। বিবেকানন্দ নস্কর

  অবগুন্ঠিত বিবেকানন্দ নস্কর   নারী দিবসে অবগুন্ঠিত নারীবাদ  গান্ধীবাদ, মাক্সবাদ, সঙ্ঘবাদ, ধান্দাবাদ রাস্তার মোড়ে মিছিলে  হাঁটে সংসারের সেবাদাসী উনুনে তপ্ত হয়। যে মেয়েরা আঁচল খুলেছে মাথা থেকে ফেলেছে ঘোমটার  ভার পুরুষের  পায়ের ওপর রেখেছে পা তাদের পিঠে লিখে দিও নারীবাদ । পুরুষের  সংবিধান  পুরুষের খুশিতে দেশের সমন্বয় লাঞ্ছিত  নারী পিছনের সওদাগর এঁটোকাটা কুড়োতে সময় যায়। মাতৃগর্ভে রেখেছো প্রজন্ম শরীরে বেঁচে থাকে নারীর অস্তিত্ব  ভোগের টেবিলে  আরো কতদিন নারীবাদ  হাঁটে না মিছিলের আগে !

সমাজে নারীর অবস্থান ও মূল্য ।। দেবযানী পাল

  সমাজে নারীর অবস্থান ও মূল্য দেবযানী পাল ও মেয়ের সর্বঅঙ্গে তো নিষিদ্ধ বসন্তের প্রলেপ দেওয়া - নির্দিষ্ট সময়ে যার ছোঁয়ায় গ্রহণ লেগে যাবে সমাজ দর্পণে ----      আহা, এলোকেশীর এমন জ্যোৎস্না ঝড়ানো রূপে কত যে মৌমাছির আগমন হবে ----    এ তো গেল সুন্দরী মেয়ের নিত্য কথিত বর্ণিত পরিহাস, আবার যদি কালো মেয়ে হয় তো তার জন্মেই অমাবস্যার নিশি লেগে যায়।     এই পৃথিবী নামক গ্রহে মনুষ্যজাতির জন্ম ইভের থেকেই এবং তাকে আদমের সাথে দেখা যায় নিষিদ্ধ গাছের ফল পেড়ে খেতে, যার ফলে তাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে যায় এবং তার ফলস্বরূপ বংশবিস্তৃতি (বাইবেল ও কোরানে লিখিত )। মানুষের প্রথমে উৎপত্তি হয় ৭০ লক্ষ বছর আগে ওরাং ওটাং প্রজাতির নরবানর থেকে ক্রমবিবর্তন এর মাধ্যমে নারী পুরুষ এই দুই ভাগে বিবর্তিত হয়ে।        পুরাকাল থেকেই নারী হল সমাজের,সংসারের পুরুষ দ্বারা কঠোর শাসনে অনুশাসিত, পদানত। নারীর নিজস্ব সত্তা নিমজ্জ্মান ছিল তার নিজের অন্তরে যার বহিঃপ্রকাশ ছিল অবর্ণনীয় অপরাধ, বিভিন্ন মহাকাব্যেও তার বর্ণনা আছে তাই হয়তো ক্লিওপেট্রা বা ভারতের বিভিন্ন নারীরা বা ...

কবিতা ।। নারী! তুমি দুর্গা ।। হামিদুল ইসলাম

  নারী! তুমি দুর্গা    হামিদুল ইসলাম                       এই সেই নারী ! নারী ! তুমি আছো তাই পৃথিবী এতো কমনীয়  তুমি আছো তাই জীবনের প্রতিটি স্পর্শে জেগে ওঠে মায়া    ।। নারী ! তোমার মধ্যে এক দুর্বার শক্তি  তুমি দুহাতে গড়ো তুমি দুহাতে ভাঙো  ভাঙা গড়ার মাঝে গড়ো এক মোহময় মিলনের সেতু তুমি জল তুমি স্থল  তুমি স্বপ্ন। তুমি হৃদয়ের শ্বাশত স্বপ্নচারিণী       ।। নারী ! তুমি মা  তুমি বোন তুমি প্রেয়সী  তুমি আমৃত্যু আমার চির সহধর্মিনী       ।। নারী ! তুমি আগুন  তোমার মাঝে আদিমতার নৈ:শাব্দিক আগুন  তুমি সেই আগুনে জ্বলো  তুমি সেই আগুনে জ্বালাও  তুমি পোড়ো তুমি পোড়াও স্বর্গ মর্ত পাতাল। তুমি স্রষ্টার অপরূপা সৃষ্টি       ।। নারী ! তুমি আদ্যাশক্তি মহামায়া  তুমি দুর্গা  তুমি হাজার হাজার দুর্গতিনাশিনী দুর্গা       ।।   ---------------------------------------  হামিদুল ইসলাম গ্রাম+পোস...

কবিতা ।। প্রত্নতত্ত্বের শরীর ও ইছামতি নারীদের জ্যোৎস্না সংহিতা ।। নিমাই জানা

প্রত্নতত্ত্বের শরীর ও ইছামতি নারীদের জ্যোৎস্না সংহিতা নিমাই জানা প্রত্নতত্ত্বের মতো ভূ প্রকৃতির ফাটল থেকে যে নিশাচর শরীর বেরিয়ে আসে তারা ঠিক ঈশ্বরীদের মতো নৌকা চালাতে চালাতে রক্তকাশের পোশাক ফেলে রেখে গেছে জ্যোৎস্নাহীন রাতের মৃত প্রহরে একা একা ঘুরে বেড়ানো কালপুরুষীদের সারা শরীরে রক্তের প্রলেপ , চিৎকারের বমি উগরে দেওয়ার পর একা একা নিজেই সিঁদুরের আবির মেখে নেয় অন্ধত্ব নিবারণের পাখিরা, জাইলেম বৃষ্টিতে ভেজা কোন এক মৃৎশিল্পী রাতের ধ্রুবতারা আঁকছে পচে খত হয়ে যাওয়া কমলালেবু গাছের শেকড় দিয়ে কালো কালো ছায়াকে ছোবল মারলে বিষের পাথর দাঁত উপড়ে আসে, শুধু ঝাউ পাতার মতো সরু কোমরের নারীরা হিমগিরির মত ঠান্ডা উপত্যকায় দাঁড়িয়ে কতবার হিসহিস গোপী সেজে বিরহ কাতর হয়েছেন,  অমরাবতী স্নানের পর মাছেদের শিরদাঁড়ার কাঁটার ভেতরে থাকা জমাট অন্ধকার ক্রমশ গাঢ় হয়ে আসে নিঝুম আশ্রমিক কুঠুরির ভেতর লতাপাতার মতো, সবাই সর্পগন্ধা চেপে রাখে হরিণদের শরীরে প্রতিদিন নদী রজস্বলা অসুখ ধরে নেমে আসে আমি তার সারা শরীরে একাদশ মধ্যমার তারাদের কক্ষপথ আঁকার পর শ্বেতপাথরের শাঁখটি বাজিয়ে ফেলি, আর্তনাদ করে ওঠে বিবর্ণ পাথরে...

পিয়ালী বসাক : অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাঙালী নারী ।। সুইটি রায়

পিয়ালী বসাক : অক্সিজেন ছাড়াই ৮৮৪৮ মিটারে প্রথম বাঙালী নারী সুইটি রায়       নারীশক্তিকে বলা হয় আদ্যাশক্তি। নারী যেমন প্রেয়সী, তেমনি জননী আবার সেই নারীই মা চন্ডী। এখন নারী রা ঘরে বাইরে সর্বত্র সমান ভাবে দক্ষতা ও বুদ্ধি মত্তার পরিচয় দিয়েছে।        আমি নারী আমি সব পারি আমি রাজ্য চালাই দেশ ও চালাই বিশ্বটাকে এগিয়ে দিতে মহাকাশে দিই পারি আমি দুঃসাহসী নারী আমি তরোয়াল হাতে যুদ্ধ করেছি হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছি।       হ্যাঁ সত্যিই সত্যি এক বাঙালী নারী অক্সিজেন ছাড়াই তার জয়ের ধ্বজা হিমালয়ে স্থাপন করেছেন। চন্দননগরের বাসিন্দা পিয়ালী বসাকের অনেক অভাবের মধ্যেই বড়ো হয়ে ওঠার গল্প। বাবা শয্যাশায়ী। মা কে নিয়ে জীবন যুদ্ধের পথে যখনই সে পাহাড়ের নাম শুনেছে ছুটে ছুটে গেছে। পারিবারিক আর্থিক অবনতির কারণে পর্বত আরোহণের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হবে এই আশঙ্কায় বাড়ি থেকে নেপালে পাড়ি দেয়। চন্দননগরের বাসিন্দা পিয়ালী অঙ্ক নিয়ে স্নাতক পাশ করে। এখন এক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। পিয়ালী যেমন মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্ট তেমনি আইস স্কেটিংয়েও নজর কেড়েছে...

কবিতা ।। তিতাস নামের নদীটি ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

তিতাস নামের নদীটি (অনুর্ধ্ব ঊনিশ মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম‍্যাচের ম‍্যান অব দ‍্য ম‍্যাচ তিতাসকে নিয়ে) নিরঞ্জন মণ্ডল তিতাস নামের ছোট্ট নদীর তিরতিরে কাঁচ জল সবুজ গাঁয়ের জীবন ছুঁয়েই বয় সে কলোকল। বাদল দিনের ছোঁয়ায় নদীর কূল ছাপানো ঢেউ, বুক জুড়ে তার কোন সে তুফান বুঝবে না তা কেউ! তিতাস নামের একটা মেয়ের অসীম মনের বল স্বপ্নে বিভোর চোখদুটো তার লক্ষ‍্যে অবিচল। পরম দিনেই ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ ছিল তার বুকে জগত সভায় দেখল সবাই, সাবাস সবার মুখে। তিতাস নদীর জলের ধারায় জুড়িয়ে শরীর মন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে রোজ মগ্ন অযুত জন। গল্প গাথা গানের কলির নাগাল পেলে পর উজল আলোর অমল ধারায় উজায় বুকের চর। তিতাস নামের একটা মেয়ের ঝর্ণাধারার নাচ রোগ শোকেতেও ভারতবাসীর বাড়িয়ে বুকের আঁচ বইয়ে দিলো আবেগ জোড়া অঢেল সুখের ধারা, নতুন গাথা গান কবিতায় করলো আপন হারা। তিতাস নামের এই মেয়ে তাই সাগর মুখো নদী, গঞ্জ শহর গাঁও পেরিয়ে সাগরকে ছোঁয় যদি তার পরশে সাগর বুকেও সফেন ঢেউয়ের মায়া জাগতে পারে বেবাক ছুঁয়ে অথির কালের কায়া। তিতাস মেয়ে তোমায় পেয়ে গর্বিত এই দেশ মিলিয়ে যেন যায় না তোমার সাগর ছোঁয়ার রেশ! তিরতিরে ঢেউ কাঁচ জলেতে তুফান তোলো তুমি, ক...

কবিতা ।। অধিকার ।। সবুজ জানা

          অধিকার         সবুজ জানা                           (1) --এ পৃথিবীর মাটি, জল, বায়ু এবং অধিকার    নারী আর পুরুষ সমান সমান। তাই অধিকার চাই         অধিকার। নারীদেরও সমান অধিকার। স্ট্রিটকর্নারে ভাষণ চলে। অফিস ফেরত দাঁড়িয়ে পড়ি। --সমাজের প্রতিস্তরে মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আমার ছাপোশা বাংলাপানমার্কা আলুভাতে টাইপের বউ -এর ছবিটা চোখে ভাসে। ওর আবার মতামত! সে ত ধান ভানতে শীবের গীত! হাসি পায়। --ইতিহাস সাক্ষী।   আর্যনারীদের স্বয়ম্বরে বর বাছার অধিকার স্বীকৃত ছিল।   আমরা কি সামনে হাটছি না পেছনে? আরে সে ত আর্য নারীর কথা। তার উপরে আবার রাজ কন্যা। অধিকার শব্দটা ওদের মানায়। তাই বলে বাংলা পান। এত অধিকারের অপমান! --কবি বলেছেন, এ পৃথিবীর যা কিছু সৃষ্টি অর্ধেক তার   রচিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। ভায়া কবির কথা ছেড়ে। বাড়ির খবরটা কাসুন দেখি ...

প্রবন্ধ ।। পুরুষ এবং নারীর দ্বন্দ্ব কেন ।। আশিস ভট্টাচার্য্য

  পুরুষ এবং নারীর দ্বন্দ্ব কেন ? আশিস ভট্টাচার্য্য নারী ও পুরুষের সমকক্ষ মানুষ কেবল উভয়ের দৈহিক গঠন আলাদা। নারী ও সুযোগ এবং সাধনার সমন্বয়ে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছে, দুর্গম ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হয়েছে।           বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব সামলে ছে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে লিখেছে অসংখ্য বই , বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সুতরাং নারীকে বিন্দু তম খাটো করে দেখার বা দেখানোর অবকাশ নেই। নারী এবং পুরুষ উভয়ের সম্মেলিত শ্রমেই পৃথিবী সুন্দর, সবুজ, চির আকাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে।           তাহলে দ্বন্দ্ব কোথায়? নারীর সহজাত প্রবণতা সে বিন্দুমাত্র সুযোগ পেলেই পুরুষের সমালোচনা, নিন্দামন্দ করবে। নারী সদা সর্বদা অবহেলিতা, বঞ্চিতা, উপেক্ষিতা, অত্যাচারিতা সেই কথাগুলো বলবে, প্রচার করবে। সে অপর নারীর কাছে আলোচনার সুযোগ পেলে, সে মঞ্চে বলার সুযোগ পেলে পুরুষ কত ধরনের অত্যাচার নির্যাতন করে তার বিস্তৃত ব্যাখ্যা করবে। তাদের বক্তব্য শুনলে অথবা লেখাপড়লে মনে হবে পুরুষের একমাত্র কাজ মহিলাদের ওপর নির্যাতন করা, তাদের...

নারীকে নিয়ে দুচার কথা ।। মনোরঞ্জন সাঁতরা

নারীকে নিয়ে দুচার কথা  মনোরঞ্জন সাঁতরা দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে নারীরাও। পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নারীরা প্রায় সমানভাবে অবদান রাখছেন। ১৯৪৭ থেকে ২০২৩-স্বাধীনতার দীর্ঘ ৭৬ বছরে নারীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন এবং যাচ্ছেন। নারীদের এগিয়ে যেতেই হবে; কারণ আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এ নারীরা যদি উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত না হয়, পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে এগিয়ে না চলে; তাহলে পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে?            দেশের অর্ধেক জনশক্তি দিয়ে দেশের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়- এ বাস্তব সত্য আমাদের  উপলব্ধি  হয়েছে বলেই নারীরা আজ পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন। নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি নারী। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের যতগুলো খাত রয়েছে, তার প্রায় সব ক'টিতেই বিশেষ করে কৃষি এবং পোশাকশিল্প খাতে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি। দেশের রপ্তানি শিল্পে ৯০ ভাগই নারী শ্রমে অর্জিত। ...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

   বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের তাৎপর্য পাভেল আমান "বিশ্বে কিছু মহান সৃষ্টি চির যা কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর"। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের রচনায় নারীর বীরত্বগাঁথায় কোন বাহুল্য নেই। নারীর ভূমিকা সভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাসে সমন্তরাল। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ই মার্চ তারিখে পালিত হয়। আবিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ হিসাবে এই দিবস উদযাপন করে থাকে। ভৌগোলিক দিক থেকে পৃথিবীর এক এক প্রান্তে নারী দিবস পালনের প্রধান লক্ষ্য এক এক রকম। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ,শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রম উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয় , আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। এক কথায় খোলসা করে বলতে গেলে নারী জাতির ক্ষমতায়ন। নারী দিবস হচ্ছে সেই দিন যেদিন জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক,অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দেওয়ার দিন।           ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় উৎপাদনকে কেন্দ্র করে সমাজ বিবর্তনের পরিক্রমায় আদিম মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা থেকে শ...

বাংলাভাষা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ।। রমলা মুখার্জী

বাংলাভাষা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা রমলা মুখার্জী বাংলার বাহান্নর ভাষা আন্দোলন সমগ্র পৃথিবীর মাতৃভাষার আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবময় গাথা।       অনেক নারীরাও একুশের বাংলাভাষা আন্দোলনে এগিয়ে এসেছিলেন কিন্তু তাঁরা অন্তরালেই রয়ে গেছেন। ভাষা-আন্দোলনকারী নারীদের  মধ‍্যে যে নামটি সবার আগে উঠে আসে তিনি হলেন দৌলতুন্নেসা খাতুন। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা বহু নারীরাই তাঁর কাছ থেকে পেয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি  ছিলেন সে সময় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের একজন সংগ্রামী উদ্যোক্তা। ১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপিকা চেমন আরার নামও এ প্রসঙ্গে উল্লখ‍্য। ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠক তমুদ্দন মজলিসের সঙ্গে ১৯৪৮ সাল থেকেই চেমন আরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং এ সময় থেকেই সভা ও মিছিলে যোগদান শুরু করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে চেমন আরা ইডেন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী হয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শহীদ বরকতের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে যে মিছিল বের হয়, সে মিছিলে চেমন আরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আর এক নারী, শামসুন নাহার আহসান; জন্ম তাঁর ১৯৩২ সালে ১১ মে বরিশাল জেলার ...

মুক্তগদ্য ।। নারী ও নারী দিবস ।। রাণা চ্যাটার্জী

             নারী ও নারী দিবস                রাণা চ্যাটার্জী কিসের নারী দিবস!নারীদের জন্য আলাদা করে দিন পালন শুনতে তো ভালোই লাগছে কিন্তু নারীরা কি আজ এই দিনে স্পেশাল সুবিধা পাচ্ছে তাদের প্রিয় জন,প্রিয় সমাজ ব্যবস্থা থেকে।এই যেমন বাড়ির লোকজন কি আদৌ বলছে মা আজ তোমার ছুটি,গিন্নি আজ আমি আমরা সামলে দেবো বাড়ির যাবতীয় ঝক্কি ঝামেলার কাজ! বাড়িতে আজ কি তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছে!!সুতরাং অমন ভেক দেখানো নারীদিবস পালনের মানে টা কি যেখানে পান থেকে চুন খসলে দোষারোপের আঙুলওঠে নারীদের প্রতি। যে নারীকে বাড়ি,সমাজ ,অফিসে রাস্তা ঘাটে যোগ্য সম্মান আদায় করতে লড়তে হয়,লোভ লালসার আগুন চোখ থেকে বাঁচতে শরীর ঢাকতে হয়,অগোছালো মুহূর্তে সামান্য অপ্রীতিকর অবস্থায় হাঁ করে শরীর গিলতে আসা শকুনের মতো কামুকের চোখ চকচক করা দেখেও প্রতিবাদের ভাষা চেপে রাখতে হয় এই ভেবে যে একা পেলে যদি দিল্লির বাসের মতো নির্ভয়া কান্ড ঘটিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে বীর পুঙ্গব,কিংবা উত্তর প্রদেশের মতো জ্বালিয়ে মেরে দেবার ঘটনা নিছক হাতের খেল হিসাবে গণ্য হয় অ...

নিবন্ধ ।। নারী দিবসে নারী স্বাধীনতা ।। সোনালী ব্যানার্জ্জী

 নারী দিবসে নারী স্বাধীনতা  সোনালী ব্যানার্জ্জী আজ নারী দিবস। নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে কে একজন আবৃতি করছে  রেডিওতে ----, কানে এলো নীলার  । সকাল থেকে সময় নেই এই সব শোনার।  আজ ঘটা করে ক্লাবে ক্লাবে,মঞ্চে মঞ্চে, পাড়ায়‌ পাড়ায় , প্রভাতী অনুষ্ঠানে, নারী দিবস নিয়ে লম্বা ভাষন দেবে সবাই । কবিতা লেখা হবে নারীদের নিয়ে , বক্তৃতা দেবে শহরে ,গঞ্জে,নারী স্বাধীনতা নিয়ে, অনেক কথা বলবেন নেতা, নেত্রী ও সেলিব্রেটিরা-----------!! আর রাস্তার ডাস্টবিনে পড়ে থাকবে আধা জ্বলন্ত দেহ! কোথাও বা আধা নগ্ন, লোহার রডে বা ব্লেডের চৌচির করা  রক্তাক্ত শরীর নিয়ে! বাচ্চা শিশুরা পড়ে থাকবে কোনো ডাস্টবিনে নাম পরিচয়হীন ভাবে------!! নারী স্বাধীনতা------!!! আনমনে এইসব ভাবতে ভাবতে, হঠাৎ নীলার সম্বিত ফিরে এলো শ্বশুরের চিৎকারে ------ "বৌমা আমার চা কোথায়?'' "বৌমা আমার বাতের ব্যাথার  তেলটা কোথায়? দিয়ে যাও না!" শাশুড়ি বলে ওঠেন! "মা আমার টিফিন রেডি? '' ছেলে বেরিয়ে আসে। :স্বামীর জোর তলব ,-----" হ্যাঁগো, আমার টাইটা কই? অফিস যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে !''  তাদের উওর দিতে না দিতেই মেয়ে বলে----,...

সাম্প্রতিক কবিতা নিয়ে আলোচনা ।। আবদুস সালাম

কবিতা এখন  আবদুস সালাম সমকালের কবিতায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে সুদূর প্রসারী বর্ণচ্ছটা। প্রত‍্যন্তগামী ভাবনার বিচ্ছুরণ। ভাবনার মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে  আনতে হয় কবিতার শরীর। ভাবনা থেকে ভাবনায় ডিঙিয়ে যাওয়া শুধু। ভাবনার ভগ্নাংশ জুড়ে তৈরি হয় কবিতার পঙ্ক্তিমালা। ভাবনার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। সাবলীল গতি হোঁচট  খাচ্ছে প্রতি পদে।লাফ দিয়ে ডিঙিয়ে যাওয়া শুধু। আমরা যারা সাধারণ পাঠক হারিয়ে ফেলেছি খেই। পাচ্ছিনা সঠিক দিশা। প্রায়শই মনে হয় এ যেনো ভাবনার বুনো হরিণ।একে ধরা যায় না কেবলমাত্র চোখে দেখে যায়। ছেঁড়া ছেঁড়া ভাবনার স্ফুলিঙ্গ দিয়ে বোনা রাতের আকাশ। শরতের পেঁজা পেঁজা তুলোর মতো ভেসে যাওয়া  টুকরো টুকরো আশা, আকাঙ্ক্ষা। আধুনিক কবিতা বলতে আমরা উপলব্ধি করছি পেঁজা তুলোর মতো ভাবনা বিহীন ভাবনার জারিত কথামালা। যেমন দেবাশীষ সাহা লেখেন "মহিষ আর মেঘের সঙ্গমে জন্ম নিবে আমার উত্তর পুরুষ ।" "কাঠের স্বপ্ন অনুবাদ করছে গৃহ সজ্জা" "ঘরে ফিরে রং করি পাখিদের ডানা"  অসাধারণ সব অনুভূতি যা নতুন প্রজন্মকে কবিতার বনে ভ্রমণ করতে যোগাবে নতুন দিশা।     কবিতায় খুঁজে পাই নির্মাণগত ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

ছোটগল্প ।। গিরগিটি ।। উত্তম চক্রবর্তী

গিরগিটি উত্তম চক্রবর্তী লোকটাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগছিল আমার । কোথায় দেখেছি কোথায় দেখেছি ভাবতে ভাবতেই সে আমার পাশ কাটিয়ে চলে যায় বড় রাস্তার দিকে । আমি গলির ভিতরে যেতে যেতে চিন্তা করছিলাম কে এই লোকটা , ওকে আগে আমি কোথায় যেন দেখেছি । সন্তু ওর বাড়ির দরজাতেই দাঁড়িয়েছিল । আমি এখন ওর বাড়িতেই যাচ্ছি নোট আনতে । সন্তুকে দেখে আমি ওকেই জিজ্ঞাসা করলাম ,    'হ্যাঁরে সন্তু , এইমাত্র যে লোকটা এই গলি দিয়ে বের হল , ওই যে ওই যে পিছনটা দেখা যাচ্ছে রে , ওই লোকটা কে রে , চিনিস ? কোথায় যেন দেখেছি দেখেছি মনে হচ্ছে , কিন্তু মনে পড়ছে না । ' সন্তু ঘাড় উঁচু করে দেখে বলল , 'আরে ও তো আমার ছোটো মামা জগাই মণ্ডল। কাল রাতে এসেছে । তোদের কৃষ্ণ নগরের লোক । ওখানেই থাকে । নীল দলের খুব বড় একজন লিডার মানুষ । তুই হয়ত মামাকে কোন মিটিং মিছিলে দেখে থাকবি । '  আমি চুপ করে ভাবতে থাকলাম, হবে হয়ত । আমার বাড়ি কৃষ্ণ নগরে দর্জি পাড়া অঞ্চলে। কিন্তু আমি কলকাতায় মেস বাড়িতে থেকে এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এস সি করছি। মাসে একবার কৃষ্ণ নগরে বাড়িতে যাই। হয়ত ওনাকে দেখেছি কোথাও। সন্তুর ব...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...