Skip to main content

Posts

অরবিন্দ পুরকাইতের মুক্তভাবনা

পিলসুজ ও আলো পিলসুজ। দীপাধার। দীপের প্রায় নিত্য তোয়াজ, দীপাধারের নয়। দীপ আলো দান করে, সেই আলোটি পাওয়ার জন্যে তার সলতে পাকানো থেকে তৈলদান। সলতে উসকে দেওয়া। সর্বোপরি দীপটির পরিপাটি যত্ন। কেন-না লোকে আলো চায় এবং তার পর দেখে কোথা থেকে আলোটা আসছে। কার মাথায় বসে সে আধার আলো দিচ্ছে তা নিয়ে কার আর মাথাব্যথা! তাই দীপাধার অর্থাৎ পিলসুজের দিকে তেমন করে নজর পড়ে না, দরকার হয় না নিয়মিত পরিচর্যারও। তার গায়ে লেগে অনেক অবহেলার ধুলো। তার গায়ে জড়িয়ে থাকে গড়িয়ে-পড়া পোড়া তেলের ক্লেদ। সভ্যতার ময়লা গায়ে মেখে, সভ্যতার আলোদানকারী দীপের তাপ এবং চাপ সহ্য করে ধরে থাকে সে সভ্যতার আলো। আমরা ঘরকে আলোকিত দেখি, খোদ পিলসুজেই সচরাচর সরাসরি পৌঁছায় না সে আলো। আলো-মাথায়-করে দাঁড়িয়ে থাকে সে আবছা-আবছা দৃশ্যমানতা নিয়ে, সামান্য আলোর আভাসমাত্র গায়ে মেখে। কখনও মায়াবি, কখনও ভূতুড়ে এক সত্তায়। কোনও বিশেষ দু-এক দিনে, আরাধ্য দেবদেবী কিংবা মান্য অতিথি-অভ্যাগতদের সন্তোষবিধানে এবং সেইসঙ্গে নিখুঁত আয়োজনের শিরোপা পেতে, তার দিকে একটু নজর। অযত্নের স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম সেই দু-একটি দিন। ব্যতিক্রমই। আলো-ঝলমল সুসজ্জি...

সুপ্রীতি বর্মনের প্রবন্ধ

সভ্যতার পিলসুজ অগ্নিদ্দীপ্ত সমৃদ্ধশালী সভ্যতার অট্টালিকাসম প্রত্যাশার নীচে ধ্বস কুঁড়েঘরের ভাঙা চালে চাঁদের আলো।ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্নিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।বিলাসিতায় হুঁকোয় উড়ানো উল্লাসী ধোঁয়া উবে যায়।পড়ে থাকে করতলগত দৃঢ়মুষ্টিতে পোড়া চিতাভস্ম ছাই দুটাকার বিড়ি। ঠোঁটের ফাঁকে বিভাজিকায় নগ্ন খোলা হাওয়ায় সংসারের চাপ খানিকটা হ্রাস পায়।চোখে তখন চালচিত্র ভাসে কুমারটুলীর মৃন্ময়ীর।আমার ঘরের লক্ষ্মী তখন ব্যস্ত গোবরের ঘুঁটে দিতে হস্তপদ্মে পাঁক অশ্লীল না শুভ মহরৎ আমার উদরপূর্তির আয়োজন।লৌহসম বজ্রদৃঢ় পেশী সাতমণ ভার সামঞ্জস্যে গাঁইতির কোপ মাটির কোলে আঁচড়ে অন্ন ফলে। কোমর অবধি কিংবা হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে ঠায় নিমগ্ন একাগ্রচিত্তে মায়ের জরায়ুতে বীজধান রোপন দুইহাত দিয়ে কোমলচিত্তে পিতার বিশ্ব চরাচরে তুমি পালনপিতা।ঠুনকো আরাম পরিত্যাগে কপালের ঘাম পায়ে ফেলে উদয়াস্ত কঠোর পরিশ্রমে তোমার ভাগ্যের তালা খোলে। দূর্ভাগ্যের কঠোর শানিত ঘায়ে পায়ের তলার জমি চলে যায় অস্তাচলে।রবি তখন ফোঁটা ফোঁটা চোখের জলে ঝুপ করে ডুব অন্তহীন সমুদ্রে তোমার যেন আত্মহত্যা।সামর্থ্যের দড়িতে দাঁড়িয়ে একপ...

রীনা তালুকদারের প্রবন্ধ ও কবিতা

শ্রমজীবি মানুষের অস্তিত্বে মে দিবস প্রতিবছর মে দিবস আসে শ্রমিকের কপালে লাল কাপড় বেঁধে। বদলায় না শ্রমিকের শ্রম, ঘাম ও কামের জগত। 'মে দিবস' বিশ্বে একটি আলোচিত দিন। কেন আলোচিত সে বিষয়টি পৃথিবীর প্রত্যেক খেটে খাওয়া মানুষ মাত্রই বর্তমান বিশ্বে জানে। অন্তত: বিস্তারিত না জানলেও কাজের বিরতি বা এই দিন ছুটি থাকায়। এতদিনে মানুষ এই বিষয়ে যথেস্ট সচেতন ভাবেই জানে। ছুটি থাকলেও এমন কতক পেশা আছে যারা মে দিবসে কাজ না করলে তাদের মুখে কেউ খাবার তুলে দিবে না। এসব পেশার মানুষের কাছে মে দিবসের তাৎপর্য বুঝা না বুঝার মধ্যে কোন আলাদা পার্থক্য নেই। মে দিবসের তাৎপর্য বর্তমানে ব্যাপক। এ বিষয়ে বিশ্লে¬ষণ করতে হলে পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাসে চোখ বুলিয়ে আসতে হয়। বিশ্বের বয়স প্রায় ১৫০০ কোটি বছর। তাহলে পৃথিবীর সৃষ্টি ধরা যায় আজ থেকে ৪৬০ কোটি বছর আগে। প্রাণের আবির্ভাব হয়েছিলো ১০০ কোটি বছরের মধ্যে। কিন্তু এ সময়ে কখন, কোথায়, কিভাবে মানুষের জন্ম তা সঠিক ভাবে কেউ বলতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের অনুমান হোমো ইরেক্টাসকেই পৃথিবীর প্রথম মানুষ। বনমানুষ ও হমিনিত্তের বংশের এ পৃথিবীতে আগমন ঘটে প্রায় ৩৫ লক্ষ বছর পূর্বে...

রণেশ রায়ের প্রবন্ধ

প্রাচুর্যের অভিশাপ ---- একটা স্ববিরোধিতা (সম্প্রতি প্রকাশিত বিক্ষুব্ধ এ ভারতের অংশবিশেষ) প্রকৃতির নীলাভ উদাস আকাশ থেকে বিজন জঙ্গলে সুউচ্চ বৃক্ষের মিনারের ফাঁক দিয়ে আলোর চ্ছ্বটা বর্ষিত হয়। উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে জঙ্গল আলো আঁধারের লুকোচুরি খেলায়। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোন এক শিল্পীর তুলির টানে প্রকৃতি সেজে ওঠে। প্রকৃতির অপ্রতিহত ক্ষমতার নিদর্শন প্রতিফলিত হয় মুক্ত বাতাসের স্পর্শে, জলের অবিরাম কলকল প্রবাহে, জঙ্গলের আশ্রয়ে, পাহাড়ের প্রত্যয়ে। প্রকৃতির নিয়ম রক্ষা করে মানুষের সঙ্গে তার এক মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে এই প্রকৃতির জগতে যেখানে আধুনিক 'সভ্যতা'র আলো বর্ষিত হয় না। মানব গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে সমুদ্র তটে পাহাড়ের কোলে জঙ্গলের আশ্রয়ে। নাগরিক সভ্য সমাজের বন্ধন না মেনে এরা যারা এক বন্ধনহীন জীবন যাপন করে চলেছে তারা হল আদিবাসী। প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ মানব সম্পদ। পৃথিবীতে অসংখ্য এই মানব গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত হয়েছে মানব সমাজ। অসংখ্য মানব গোষ্ঠীর অন্যতম হলো বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী। তাদের দুর্ভাগ্য তারা জানত না যে প্রকৃতির অকৃপণ দান বর্ষিত হয়েছে তাদের ওপর। তারা শুয়ে থাকে প্রকৃতির এই দান...

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা

পথে প্রান্তরে দৃশ্য বদলে যায় রঙ রূপ রেখা এবং আস্তে আস্তে যে দেখছে সেও চোখে সানগ্লাস নিয়ে তুমি স্থির কর্পোরেট সূর্যের আলোয় ফলতঃ তোমার চোখে পড়ছে না কারা বাসুকী নাগের মতো ধরে আছে আমূল দুনিয়া । পোশাক পাল্টায় চোখের আদলে কিছু ভিন্নতার দাগ এই বদলে যাওয়া চারপাশ পর্ব থেকে পর্বত পর্বত থেকে পাথর পাথর থেকে প্রাসাদ । মানুষের সভ্যতার শুরু হয়েছিল অরণ্যে গুহায় তারপর আস্তে আস্তে নদীতীর খুঁজে নেওয়া পথ ও প্রান্তর ধরে হাঁটতে হাঁটতে হাইওয়ে । প্রান্তজীবি মানুষেরা সভ্যতাকে এতদূর বয়ে নিয়ে এল অথচ তাদের তুমি অসভ্য বর্বর ভাবছো হায় আস্ফালন। প্রকৃত শিল্পী থাকে উদাসীন মেঘের আড়ালে নীরবে অন্ধকারে একা ছায়া মেখে আলো লিখে চলে। --------০০০------- বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্রা, পুরুলিয়া

বিশ্বজিৎ লায়েকের কবিতা

  শ্রম, শস্য, অনাহার এক। একটা জলহই -এর লেকেন ঢুকে যাছি ই'দেয়াল থেকে উ'দেয়াল দেয়াল কি জানে — সে গাঁ-গঞ্জ আর নাই মেয়েরা টুকটুকে লাল ঠোঁটে ভোরের লেডিস স্পেশাল ঘরে ফেরে দুপুরবেলা — রাঁধে, বাড়ে, খায় বাচ্চারা ইংলিশ মিডিয়ামে আলফাবেট শেখে স্বামীও সচল পয়সা — সোহাগে খেলে চাঁদ পাশাপাশি বসে টিভি সিরিয়াল কতকিছু শেখে চুল, ত্বক, নখের আরাম বিজ্ঞাপনে যেমন দেখায় উঁচু বুক, শূন্য ফিগার তুলসীতলায় জ্বলে মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নয় মোবাইলে বাজে শঙ্খনাদ অমনি অমনি একদিন ঢুকে যায় গর্ভে পরকীয়া শীতের আরাম দুই। মাটির দেয়ালে ঝুলছে মেডেল আটা প্যাকেটের পলিথিনে ঘুমিয়ে আছে শান্ত শংসাপত্র নীচে মাননীয়'র উজ্জ্বল সহি পায়ে আর বশ নাই খুড়া গণেশ, কার্ত্তিক, কিরাতের মহড়া পিঁধে আগলা-পিছলা উলফা আসরে ধুম লাচ যুয়ান মরদ তখন — লাচ দেখাইয়ে পিরিত বিহা, ছেলে-পুলান দু'চুখে দেদার খুয়াব পেটে ভুক তবু মহড়া পিঁধলে এখনু নিজেকে রাজাই লাগে লাচ ছাড়িস না ব্যাটা, ভুখ তো ভুখ, দিন ফুরালে নুন মাড়েই সোয়াদ পিতলের ঘটিতে কনকনে জল এই কিরাতভূমে তিন। ঘাটের চাতালে বসে গা ঘষছে মধ্যদুপুর স্নান এই দ...

চারুর মুক্তগদ‍্য

শত আমিনার আত্মকথা জীর্ন শাড়ির ভাঁজে শীর্ন শরীর। ইটভাটার সকালের দৃশ্য পটে ফুটে ওঠে ব্যস্ত শত আমিনার চরিত্র। ওরা দিন মজুর। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষী। দিনের আলো নিভে এলে মালিক শ্রেনী অস্বচ্ছ পর্দা সরিয়ে ঢুকে পড়ে জীর্ন শাড়ির ভাঁজ খুলে শীর্ন শরীরের অভ্যন্তরে। কাল সাপের ছোবলের আতঙ্কে কেঁদে ওঠা শব্দ প্রাচীর ভেদ করে ছড়াতে পারেনা উদার আকাশে। দেওয়ালের প্রতিটা ইটে তখন শ্রমকন্যাদের অসতী হওয়ার ছাপ। একমুঠো অন্নের জোগানের জন্য লুটে পুটে খায় মালিক শ্রেনী। তবু পূর্নতা পায়না অভুক্ত পেট। হাড় সর্বস্ব শরীর গুলো সারাদিনের পরিশ্রমে বেদনার্ত তবু মালিকের দালাল প্রান্তে জড়িয়ে নেয় তাদের। শীতল পানীয়ের বোতলে ঢেলে দেয় শ্রমকন্যাদের থকথকে কালো রক্ত। চোখের জলে ঝাপসা হয়ে আসে তার দুটি চোখ । ফুটপাতের এককোনে অসাড় দেহটাকে মেলে দেয় আমিনা। ছায়াময় বাতিস্তম্ভের নীচে তার লজ্জাবনত শরীর । ভোরের আলো ফুটতে তখনও কিছু ঘন্টা দেরি। তারপর ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে বাবু আর বাবুর বিবিদের চুমুক। আর আমিনা ? সে চলেছে তোমাদের সুখী ইমারতের ইট গড়তে। সব কিছুর আড়ালে যে গল্পটা আছে তাই ফুটে ওঠে প্রতিটি কাঁচা ইটের অলিন্দে অল...

প্রিয়দর্শী চক্রবর্তীর কবিতা

  দুশো বছরের ছায়াবৃক্ষ     (স্মরণে বরণে কার্ল মার্কস) তুমি এসেছিলে বলে... তুমি এসেছিলে বলে কাঠফাটা রোদে আকাশ ভেজানো বৃষ্টি, মেঘের আদরে কৃষকের স্নান, বুক বেঁধে বাঁচে কৃষ্টি। তুমি এসেছিলে বলে বৃন্তেশাখায় কৃষ্ণচূড়ার লাল, মেহনতি ঘামে ঘনায় প্লাবনে পূর্ণচাঁদের কাল ! তুমি এসেছিলে বলে অনাহার তবু আজন্ম পথে হাঁটে, স্বপ্নপ্রলেপে যৌথ খামার নিশান ওড়ায় রাতে। তুমি এসেছিলে বলে দিনদুনিয়ায় ঘুরছে রথের চাকা প্রগতির ঢঙে সারথী মানুষ রামধনু রঙ মাখা। তুমি এসেছিলে বলে সংবেদ আজও আজানেই খোঁজে মন্ত্র, নীলকন্ঠেও বিষ মুছে দিয়ে বুনে যায় গণতন্ত্র...। তোমার সঙ্গে সখ্য আমার মহাকাল গিঁটে বন্দি ইতিহাসই জানে, কিসের উজানে ছুঁয়ে যায় এই সন্ধি...! তুমি আসবে বলেই-ই... ---------------000------------------- প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী দেশবন্ধুনগর, বাগুইআটি কলকাতা-700059

পারিজাতের গল্প

গোধূলি চোর "বাঃ, বউয়ের রঙটা তো বেশ হয়েছে! খুব সুন্দর! এই নে, এই টাকা কটা রাখ দেখি! এ দিয়ে কিছু কিনে দিস ওকে। কেমন?" গোধূলি চোখ তুলে তাকায় ভটচাজ্ গিন্নীর দিকে। বিশাল বপু, একটু আধটু হাঁটতেই হাঁপ ওঠে। আশ্বিনের শেষাশেষিও কপালে চিড়বিড় করছে ঘাম। বয়স — তা পঞ্চাশ মতো হবে! তবে ঠিক ঠাহর হয়না — শরীর দিয়ে যেন এখনও মাখন চুঁইয়ে পড়ছে! অবশ্য রইয়ে সইয়ে রাখা শরীর অমন তো একট আধটুু হবেই! এতো আর তার মায়ের মতো কালি পরা অকালে বুড়িয়ে যাওয়া একটুখানি জীবন নয়! কমলি ছোঁ মেরে টাকাটা নিয়ে নেয় ভটচাজ্ গিন্নীর হাত থেকে। "ও ধোলো রূপেই তো মজেছে আমার ছেলে। তাই তো কিছু দেয়া থোয়া নেই ড্যাংড্যাং করে কালীঘাটে গিয়ে সিঁদুর পরিয়ে ঘরে তুলল এই মেয়েছেলেটাকে।" সিঁড়ির হাতলটা ধরে একপা পিছিয়ে যায় গোধূলি। কানের পাশদুটো কেমন গরম হয়ে যাচ্ছে। চোখদুটো জোর করে নামিয়ে নেয় সে— যাতে মুক্তাবৎ বৃষ্টি না ঝরে পরে অচিরেই! "তোর সবেতেই বাড়াবাড়ি কমলী! বাড়িতে লক্ষ্মী এলো, তাকে পেয়েও তোর সুখ নেই!" পান খাওয়া লাল পুরু ঠোঁটদুটো ফাঁক করে একখাল হাসে কমলী। "আমাদের আবার সুখ! গেরামে যাও বা একরক...

সবর্না চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

একটা মেয়ের গল্প রোজ একটা আলোর আলপিন এসে স্বপ্নে বিঁধে যায় মেয়েটার। ততক্ষণে চড়ুইটা ঘুলঘুলিতে কিচকিচ করতেই থাকে.... জল আঁচড়ে মেয়েটা দুহাত উড়িয়ে দেয়। ঘরের আনাচকানাচ থেকে মুখে করে টেনে আনে ধূলো। চেটে নেয় ধবধবে মার্বেলের মেঝে। তারপর আঁশবটিতে কুচিয়ে নেয় তার স্বপ্নের বেশ খানিকটা উন্মুক্ত আকাশ। জ্বলন্ত গ্যাসের সামনে বাষ্প হয়ে উবে যায় শরীরের নোনতাজল। বিন্দুবিন্দু মেঘ ঘুরপাক খেতে থাকে মাথার চারধারে... রোজই দুকাপ ধোঁয়াওঠা আদাচায়ের গন্ধে তার 'দাদাবৌদি'র মাথার ওপর সূর্য হেসে ওঠে..... একরত্তি 'ভাইটি'র সবকিছু সেরেসুরে শেষমেশ বাথরুমে ঢোকে একবালতি ফেনা মুখেনিয়ে। তারপর নিরালায় বসে গান লেখে তার কুঁচকে যাওয়া ঠান্ডাহাতে। রঙীন বুদবুদে ভেসে ওঠে তিনবেলা খেতেপড়তে দেওয়া হাজারদুইমাসমাইনের তার গোছগাছ সংসার। তাকে ছাড়া এখানে কালবৈশাখী ওঠে... অথচ, পান থেকে চুন খসলেই চড়ুইটার সাথে তাকেও বুঝি উড়ে যেতে হবে অন্য এক মানচিত্রের আকাশে... =============০০০============ Sabarna Chatterjee Shalbagan, Noapara Barasat, Kol-125

রবীন বসুর নিবন্ধ ও কবিতা

।।নিবন্ধ।। ওরা  কাজ করে : শিশু শ্রমিক    সরকারি হিসেবে বলা হয় ৭ থেকে ১৭ ওরা শিশু শ্রমিক l আমরা জানি ৭ নয় ৫ থেকেই  শুরু হয়ে যাচ্ছে শ্রমিক জীবন l বর্ণপরিচয় সহজপাঠ নয়, ওদের শিক্ষা শুরু হয় সেই ভোর হতে, আর শেষ হয় দিনাবসানে বা অনেক রাতে l  ওদের গুরুকুল চায়ের দোকান, পাইস হোটেল, ধাবা,  ইটভাটা, মোটর গ্যারাজ, পাথর খাদান, ফ্ল্যাট বাড়ি, রাজ মিস্ত্রি কাজ— বিস্তৃত সে পরিমণ্ডল l ব্যাপক আকাশ l তবে সে আকাশে আলো নেই, শুধুই মেঘলা আবছায়া আর স্তিমিত অন্ধকার l অথচ কত আলো, কত আয়োজন চারপাশে l গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষে ভোট আসে, সর্বজনীন শিক্ষা, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা অধিকার আইন, শিশুশ্রম  বিরোধী আইন,কত বিন্যস্ত সুচারু কারুকার্যময় বাহারি বিলাপ ! তবু  গোটা ভারতবর্ষে ৬ থেকে ১২ কোটি শিশু শ্রমিক l এটা সরকারী হিসেব, তাই রাজনীতি  ঢুকে আছে, বাস্তব নিদারুণ এক ভয়াবহ চিত্র দেয় l দারিদ্র্য আর সামাজিক সুরক্ষার অভাব এই শিশুশ্রমের মূলে l উন্নত দেশগুলিতে সামাজিক সুরক্ষা বলয় থাকে, কিন্তু ভারতবর্ষের মত তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়শীল দেশে সামাজিক সু...

প্রশান্ত সেনের কবিতা

সাক্ষী আষাঢ় মাস রংটা গায়ের মিশকালো তার কেষ্টচরণ নাম হাতজোড়া তার কেটলি ও ভাঁড় দরদরে গায়ে ঘাম। কত্তটুকুন বয়স-বা আর হয়তো বছর দশ; কিংবা বারো --- শৈশবে তার শুকনো সকল রস। হাড় ভাঙানো খাটনি যে তার বেতন তিনশো ষাট পেট ভরা তার নেই যে খাবার পকেট গড়ের মাঠ। পান থেকে চুন খসল যদি রক্তচক্ষু দর্শন যায় শুকিয়ে অশ্রুনদী হোক যত গাল বর্ষণ। গাল খেয়ে দিন যায় তবু হায় গাল ভরা তার হাসি লক্ষ্মীদেবী হননি সহায় তাই খাটে ফরমাশি। ফুটপাতে তার বিছ্না পাতা আশমানী ছাদ ভরসা নন বিধাতাও পরিত্রাতা নামলে পরে বর্ষা। একদিন হায় মুষলধারায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি... জল থৈ থৈ সব রাস্তায় যেইদিকে যায় দৃষ্টি। বৃষ্টি মাথায় সারাটি রাত কেষ্ট ভিজে চান আঁকড়ে ধরে সেই ফুটপাত রাত্রি অবসান। বৃষ্টি সাথে লড়াই করে এবার অবসর সারাটি রাত যোঝার পরে গা-কাঁপিয়ে জ্বর... বৃষ্টিভেজা রাতের পর জল যদিও থামে থামল না আর কম্পন জ্বর বাড়ল উচ্চগ্রামে। কমল না আর তার সেই জ্বর ফেলল সে শেষ শ্বাস রইল পড়ে ফুটপাত-ঘর সাক্ষী আষাঢ় মাস। ------ooo------ ©প্রশান্ত সেন নজরুল পার্ক, পূর্ব ...

স্বপ্ননীল রুদ্রর কবিতা

বৃক্ষদূত _________________________ সমস্ত টবে এখন ফুলের সুদীর্ঘ উপন্যাস শিকড়ে শিকড়ে সুসংবদ্ধ বাক্যবিন্যাসের রস নাগরদোলার মতো অস্থির ঘূর্ণন সঙ্গে নিয়ে গাছ গাছে প্রদক্ষিণে পরখ করে ফুলের যশ সমস্ত টবে এখন কলুষ-নিবারক পঠন স্নিগ্ধতার শব্দবন্ধ, নিবিড় সমাসবদ্ধ পদ--- উন্মুক্ত গ্রন্থাগারের মতো অবাধ প্রবেশ হয়ে রসের নিরক্ষরতা ত্বরিত করে দিয়েছে রদ সমস্ত টবে এখনও মাটির ভেতরে শ্বাস নেয় টবওয়ালার সস্তায় খরচা করা নিনাদিত হাঁক, শুকিয়ে যায়নি তার রক্ত জলকরা ঘামের ফোঁটা মূল বেয়ে উঠে তারা ফুলে ফুলে লাগিয়েছে তাক ঠেলাগাড়িতে লাদাই হয় গাছ-ধারনের সারি, সারি সারি শ্রমের সজ্জায় বিমূর্ত সবুজ ফাগ--- বহুদিন আসে না পাড়ায় টববাহী বৃক্ষদূত সময় তাকে করাতে কেটেছে কি ভুলে অনুরাগ? _________________________________ স্বপ্ননীল রুদ্র "কল্পসুগন্ধী " হাকিমপাড়া ডাক ও জেলা: জলপাইগুড়ি _________________________________

আর্যতীর্থর দুটি কবিতা

 স্রেফ ছুটি শ্রমদিবসের ছুটির মজায় থাকেন শ্রমের দার্শনিক ঘুম ভাঙিয়ে চা দিয়ে যান মাইনেবিহীন তাঁর শ্রমিক। অফিসবাবু আড়মোড়া দেন শ্রমদোহাইয়ের ফাঁকতালে, বাড়ির বউয়ের শ্রমের ঘানি মে দিবসের প্রাক্কালে। পয়লা মে'তে বন্ধ যত ব্যাঙ্ক ও অফিস সরকারী, ( সারাবছর শ্রমের পরে এটুক ছুটি দরকারী) পায়নি ছুটি এ টি এমে নজর রাখা চৌকিদার, সিকিউরিটি শ্রমিক কিনা খবর রাখে কেউ কি তার! রিক্সাওয়ালার সকাল থেকেই প্যাডেল টানার এক রুটিন চলছে অটো, খালি পেটে ছুটির মানে অর্থহীন। রাজমিস্ত্রি, খুচরো শ্রমিক , ফুটপাতিয়া দোকানদার পয়লা মে'তে ব্যস্ত সবাই করতে ভাতের জোগান তার। পয়লা মে'তে ব্যাঙ্গে হাসে ছাঁটাই হওয়া চটশ্রমিক, অন্তত কেউ কারখানাটা বন্ধ হওয়ার ব্যাখ্যা দিক। শ্রমের মানে প্রোমোটারের দয়ায় খাওয়া একবেলা কাজ পাবে কে ঠিক করে দেন নেতা এবং তাঁর চেলা। শ্রমের ঘামের এপিটাফে চিটফান্ডের নাম লেখা, মজদুর সব তৈরী আছে , কাজের কোনো নেই দেখা। শ্রম এ দেশে খিদের সাথে কেঁদে করে রোজ আপোষ অশ্রমীদের ছুটি ছাডা আর কিছু নয় মে দিবস। --------০০০--------  ।।লিংক।। প্রতিটি শ...

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের অণুগল্প

 শনিবার    ********    শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস  প্রতিটা শনিবার আমার কাছে মহার্ঘ,এটুকু বলতেই আমি রিমিকে বললাম- বুঝেছি।পল্টু আসে তো? কবে থেকে পল্টু রিমি'র ছেলে হয়ে উঠেছে, একথা আমার জানা। সেই সেবার, যেবার আমরা উত্তরণ সেবা সোসাইটি থেকে ব্যাসপুর গ্রামে হেল্থ ক্যাম্প করতে গিয়েছিলাম! আর ক্যাম্প চলাকালীনই ওই গ্রামেরই পঞ্চায়েত সদস্যা সুমিত্রা রজক একটি হাড়জিরজিরে ছেলেকে ক্যাম্পে এনে হাজির করেছিলেন।           সুমিত্রার শেষ কথাটা এতদিন হলেও ভুলিনি। সুমিত্রা-- ওর দু' বার জন্ডিস হয়ে গেছে।কি বলবো বলুন, বিড়ি শ্রমিকদের পরিবারে এমন ঘটনা আখছার! ওর বাবা গত হওয়ার পর  ওর মা'ই কষ্ট করে চার ভাইবোনের সংসার চালান। ছেলেটি মেধাবী। ক্লাস নাইন পর্যন্তই! এরপর জন্ডিস! একটা কিছু ব্যাবস্থা করুন আপনারা। নইলে চোখের সামনে...        এরপরই রিমির সেই দ্বার্থহীন কথা-- তোমার জামাকাপড় নিয়ে এসো। আমার সাথে যেতে হবে তো তোমাকে! তবুও ও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আমি কনুই দিয়ে রিমিকে গুতো দিয়ে বলেছিলাম- নেই!      ...

সোমা ভারতীর কবিতা ও অণুগল্প

শ্রমিক ওইখানে কারখানা হবে- সবুজের বুকে মিটিমিটি সন্ধ্যাতারা। শ্রমিকের ঘরে ভিনদেশী চাঁদ নেমে আসে, মিথ্যের অজগর চোখ টিপে হাসে। খড়ের ছাউনিতে স্বপ্ন পিছলে যায়, এক বিন্দু শিশির চোখের কোনে। একুশের মেয়েটা লাল চেলি খোঁজে, মায়ের কপালের টিপ সূর্যর মত জ্বলে। ঠান্ডা ঘরে অঙ্ক কষে কোট-প্যান্ট-টাই পোশাকের আড়ালে খাদ্যলোভী। পান্তাভাতে লঙ্কা ঘষে শ্রমিকের ছোট মেয়ে, তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে অবসরে ক্লান্ত উৎসবে অবসন্ন শ্রমিক বিপ্লবী।  স্লোগানের ফোয়ারায় ভিজতে ভিজতে লাল ফিতে কাটে প্রশিক্ষিত হাত। শ্রমিকের হাতে ফোস্কা পড়ে ছিটেবেড়ায় নতুন করে মাটি, বছরের ফেরে বোনাস মেলে বন্ধ কারখানার তালা-চাবি। শ্রমিকের প্রতিশব্দ তখন বিপন্নতা। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় না, খিদেটাই মরে যায়। পাততারি গোটানো অজগর শ্রমিকের বিক্ষোভে গলা মেলায়, আড়ালে ডাবা পেট হজমের বড়ি খায়। গান্ধীর দেশ,বুদ্ধের দেশ, এ দেশ নির্বোধের ও। সভ্যতার স্তরে স্তরে ঘূনপোকার বাসা, মরচে পড়া প্রতিবাদ,সংবিধান শব দেহ। রঙ বদলায় নীতি বদলায়, অপুষ্ট হাত পতাকা তুলে নেয়। মিছিলের শেষে ক্লান্ত পায়...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

উদভ্রান্ত আমি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় একটা জীবন্ত আমি ঘুরে বেড়াই খাতার পৃষ্ঠায় ব্যর্থ প্রেম থেকে তুলে আনি নতুন অহংকার বস্তু কণার মতো ছড়িয়ে দিই দুঃখকে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত গড়ে ওঠে একটা বিরাট পথ যা তুমি পেরুতে পারো না আবার সরাতেও পারো না আর আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে বেড়াই নিজেরই কবিতার পংক্তিতে আমার দুহাতে এখন উপচে পড়ে দয়া গোটা পৃথিবীই মনে হয় ভীষণ আপন কেবল তুমি একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে বলে... ============== জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...