পিলসুজ ও আলো পিলসুজ। দীপাধার। দীপের প্রায় নিত্য তোয়াজ, দীপাধারের নয়। দীপ আলো দান করে, সেই আলোটি পাওয়ার জন্যে তার সলতে পাকানো থেকে তৈলদান। সলতে উসকে দেওয়া। সর্বোপরি দীপটির পরিপাটি যত্ন। কেন-না লোকে আলো চায় এবং তার পর দেখে কোথা থেকে আলোটা আসছে। কার মাথায় বসে সে আধার আলো দিচ্ছে তা নিয়ে কার আর মাথাব্যথা! তাই দীপাধার অর্থাৎ পিলসুজের দিকে তেমন করে নজর পড়ে না, দরকার হয় না নিয়মিত পরিচর্যারও। তার গায়ে লেগে অনেক অবহেলার ধুলো। তার গায়ে জড়িয়ে থাকে গড়িয়ে-পড়া পোড়া তেলের ক্লেদ। সভ্যতার ময়লা গায়ে মেখে, সভ্যতার আলোদানকারী দীপের তাপ এবং চাপ সহ্য করে ধরে থাকে সে সভ্যতার আলো। আমরা ঘরকে আলোকিত দেখি, খোদ পিলসুজেই সচরাচর সরাসরি পৌঁছায় না সে আলো। আলো-মাথায়-করে দাঁড়িয়ে থাকে সে আবছা-আবছা দৃশ্যমানতা নিয়ে, সামান্য আলোর আভাসমাত্র গায়ে মেখে। কখনও মায়াবি, কখনও ভূতুড়ে এক সত্তায়। কোনও বিশেষ দু-এক দিনে, আরাধ্য দেবদেবী কিংবা মান্য অতিথি-অভ্যাগতদের সন্তোষবিধানে এবং সেইসঙ্গে নিখুঁত আয়োজনের শিরোপা পেতে, তার দিকে একটু নজর। অযত্নের স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম সেই দু-একটি দিন। ব্যতিক্রমই। আলো-ঝলমল সুসজ্জি...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...