করুণাময়ী ফ্লোরেন্স আমরা ভুলেই গেছি কোমল হৃদয় মেয়েটিকে একবার ও সেই দীপধারিনী সেবাময়ীকে শ্রদ্ধা জানালাম না তার দ্বিশত জন্মবর্ষপূ্র্তিতে। 200 বছর আগে মেয়েদের সব দেশেই সব কাজেই ছিল বাধার দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর। সেই পরিবেশেও মেয়েটি নিজের ও অন্য মেয়েদের জন্য একটি অসাধারণ স্নেহ মাখা স্বাধীন বৃত্তির স্বপ্ন দেখেছিল। তার স্বপ্ন ছিল সেবা দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের আরোগ্য করে তোলা। তিনি সারা পৃথিবীর মেয়েদের জন্য একটি সেবামূলক বৃত্তির পথ খুলে দিয়ে গেছেন। সমাজে অবহেলিত লাঞ্ছিত নারীরা শুশ্রুষাকারিনীর বৃত্তিতে এসে নিজেদের মনের মত কাজ ও সম্মান খুঁজে পেয়েছে। অবহেলিত কত নারী মর্যাদা লাভ করেছে। তিন্নি করুণাময়ী ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, তার জন্ম হয়েছিল1820 সালে। এই 2020 তে তার 200 বছর পূর্ণ হল। এই অবসরে তাকে একটু সম্মান করি একটু স্মরণ করি। ফ্লোরেন্সের পিঠা ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ার অঞ্চলের একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। ধনবান পিতা মাতার ঘরে ফ্রেন্ডস তাদের ডারবিশায়ারে বাড়িতে যত্নে লালিত-প...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...