আমি এক কৃষকের সন্তান একা বিস্তীর্ণ শূন্য ধানখেত পড়ে আছে শিরদাঁড়া উঁচু করে; আজ না হয় পাকা ধান নিয়ে চলে গেছে পড়ে আছে খর্বকায় ধানশিষ গোড়া মরুভুমির মতো- কিছুটা পুড়িয়ে দিয়েছে; কালো পাঁশ পড়ে আছে, কিছু দূরে দূরে ঢিপ ঢিপ পালি দেওয়া খড় ধান, বছরের সারা মাস খালি পড়ে থাকে ; বর্ষার একবার চাষ। আমরা আধুনিক শহরের বাসিন্দা, তবু দুবেলা খিদের জ্বালায় ভাত বা রুটি মুখে তো পুরতেই হয়। তবু বড়মানুষের লাল চোখ কখনো সাদা হয় না, বলে তোমরা নীচ; ছোটলোকের জাত। যে যতটা পারে পিষে নিগড়ে নেয়- কৃষকরা নিজেদের গতর মাটি করে , নাম মাত্র দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় । এতো এক রকমের সমাজ সেবা - সব ব্যবসায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভ রেখে তার জিনিস বিক্রি করে , তবে কৃষক নয় কেন ? আমি মনে মনে নিজের পিঠে হাত চাপড়ে বলি আমি গর্বিত বাবা আমি তোমার সন্তান - আমি এক দলিত নিপীড়িত শোষিত কৃষকের সন্তান। --------------
দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...