পুরুষশাসিত সমাজের কঠিন নিয়মের বাইরে বেরিয়ে এসে বাংলা সাহিত্যে নারীশক্তির অন্যতম প্রকাশ আশাপূর্ণা দেবী অঞ্জনা দেব রায় প্রথামাফিক শিক্ষা না থাকলেও অন্তরের ভেতরে জাগরুক অদম্য সাহস , জ্ঞানপিপাসা সমস্ত তুচ্ছতাকে ভাসিয়ে দিয়ে আশাপূর্ণা দেবী মহান স্রষ্টার আসনে প্রতিষ্ঠিত হলেন আপন মহিমায় । ব্যর্থতার আবর্জনাকে পুড়িয়ে ফেলে যে জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলেন তাঁকে অস্বীকার করার ক্ষমতা কারো নেই । নারীশক্তির অপার মহিমা প্রকাশিত হল । বাংলা সাহিত্যে আশাপূর্ণা দেবীর অভ্যুদয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা । তাঁর এই আবির্ভাব একটি জ্বলন্ত প্রতিবাদ । আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সৃষ্টিশীলতায় যে অন্বেষণকে নিরন্তর জাগরুক রেখেছিলেন তা হ ' ল চেনা মানুষকে নতুন করে খুঁজে দেয়া । হৃদয়ের অনেক গোপন অন্ধকারের কথা তাঁর সাহিত্য প্রতিভায় প্রকাশ পেলেও নিজের হৃদয়কে কখনো সেই অন্ধকারের শিকার হতে দেননি । আশাপূর্ণা দেবী দেখেছেন মানুষ কত অসহায় , কেবল পরিবেশের কাছে নয় , সমাজের কাছে নয় , নিজের ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...