পিরিতের তথা সৌহার্দের পুঁজিবাদ (Crony Capitalism) ও ভারত রণেশ রায় আগের সংখ্যায় আমরা ভারতে স্বাধীনতার স্বরূপ আলোচনা প্রসঙ্গে ভারতের অর্থনীতির চরিত্রটা আলোচনা করেছি । (পড়ুন: ঔপনিবেশিকত্তোর ভারতের অর্থনীতি ও ভারতের স্বাধীনতার স্বরূপ ।। রণেশ রায় ) এই প্রসঙ্গে আজকের ভারতে অনুগ্রহ তথা খয়রাতি অর্থনীতির বিষয়টা উঠে এসেছে । আজকের প্রতিবেদনে আমরা সারা পৃথিবী জুড়ে পুঁজিবাদ যে নতুন স্বরূপ গ্রহণ করেছে যাকে পিরিতের অর্থনীতি (crony capitalism) বলে সেটাই ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আলোচ্য বিষয় । এই প্রসঙ্গে আগের আলোচনার কিছু বিষয় এসে পড়বে । অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে সামন্তবাদ ভেঙে বাণিজ্যবাদের কাল পেরিয়ে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে । প্রাথমিক পর্যায়ে এই পুঁজিবাদ ছিল প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদ যা সামন্তবাদকে বর্জন করে সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায় । পুঁজিবাদের সবচেয়ে তীব্র সমালোচক কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঞ্জেলসও কমিউনিস্ট মেনুফেষ্টতে এই প্রাথমিক ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...