মিৎসুবিশি অনিন্দ্য পাল ঠাণ্ডাটা আজ একটু বেশিই পড়েছে। কিঙ্কর এখনও শুয়ে আছেন, বলা ভালো-- ইচ্ছা থাকলেও উঠতে পারছেন না বিছানা ছেড়ে। বড়বৌমা যতক্ষণ না চা দিয়ে যাবে ততক্ষণ বিছানা ছেড়ে ওঠার হুকুম নেই কিঙ্করের। 'বেড টি'র অভ্যাস আগে ছিল না, রমলা চলে যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সকালে একসঙ্গে বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে গল্প করেছেন। গল্প শুধু নয়, সংসারের খুঁটিনাটি নিয়েও চলতো কথাবার্তা, খুনসুটি, এমনকি কখনও সখনও জম্পেশ তক্কাতক্কিও বেঁধে যেত দুজনার। হঠাৎ কি যে হল, আর ফেরানো গেল না। --উঠুন বাবা। বড়বৌমা মিলি চা নিয়ে ঢুকলো ঘরে। এবার উঠতে পারবেন কিঙ্কর। ছেলে মেয়েদের এবং সবাইকে ব্রেকফাস্ট দিয়ে তবে মিলি তার জন্য চা নিয়ে আসার ফুরসত পায়। প্রথম প্রথম এই ব্যবস্থা মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিল কিঙ্করের, কিন্তু যখন বুঝলেন মিলি ও তার মতই এই ব্যবস্থায় বাধ্য সৈনিক, তখন মেনে নিলেন। বুঝেছিলেন এর আগে বিছানা ছাড়লে বাথরুম ফাঁকা পাওয়া যাবে না। এখন কিঙ্করের মনে হয়, মিলি যদি তার মেয়ে হত তবে কি এর চেয়ে যত্ন পেতেন? বোধ হয় না। মাসের পর মাস কেটে যায় খোঁজও নেয় না ছোট ছেলে। গ্রামেই দুই ছেলের জন্য বাড়ি করেছিলেন,...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...