Skip to main content

Posts

কবিতাঃ সবর্না চট্টোপাধ্যায়

মাকে তুলে দিয়ে আসার পর ... হাতের তালু ছুঁয়ে চলে গেলে । ঠিক হাওয়ার মত জলের মত ছায়ার মত করে । প্রতিবার চলে যাওয়ার পর এমন করেই রেখে যাও আমায় । সর্বস্বান্ত । ছুটেও পারিনা একটা পাজি দুরন্ত ট্রেনের সাথে ।             কলিংবেলে হাত রেখে আঁতকে উঠি । এখন আইহোলে তোমার অপেক্ষার চোখ আর নেই । শূন্য ঘরে তবুও কেমন চন্দন আর ফুলের গন্ধ । এ ঘর থেকে ও ঘরে লুটোপুটি খায় আঁচলার খুঁট ... ধরতে গেলেই পালিয়ে পালিয়ে যায় । ফ্রিজের ভেতর থেকে কারা যেন চুপিচুপি ডাকে । দরজা খুলতেই হেসে ওঠে তোমার হাতের দুবাটি ছানার ডালনা .... তোমার মিষ্টি গন্ধটা সারাঘরে ধূপের মত ছড়িয়ে আছে । ' ছো --- টা ' নামটা শুনেই ঘাড় ফেরাই ... বালিশে মাথা রেখে অনর্গল ডেকেই চলেছো চোখ বুঝে । কি ভাবে টের পাও আমার নিঃশব্দ পদসঞ্চার ? সমস্ত মুগ্ধতা ভেঙে মাথায় হাত বুলিয়ে অচমকাই কোলে টেনে নাও । তোমার নতুন চশমাটা চোখ থেকে খুলে রাখি । বুকে মাথা দিয়ে রক্ত আর ঘামের কথা শুনি । এখনও বহু ঢেউয়ের আক্ষেপ তোমায় ছুঁয়ে শান্ত হয়ে যায় । অথচ জড়িয়ে ধরতে গেলেই তুমি আবার .... নেই যে ...

দুটি কবিতা: আবদুস সালাম

  নারীদিবস দাম্ভিক ঢেউ চলচলিয়ে ওঠে  ক্ষমতার অলিন্দে ঢুকে পড়ে আর্তনাদ সত্যের ভিতর অসত্যের উদ্ভাস সোচ্চার সোচ্চারে মেতে ওঠে মনুষ্যত্বের নির্মাণ রহস‍্যময়তার সোচ্চার মেখে ম‍্যাজিক দেখি অপলক অসংখ্য ভিন্নতায় কেঁপে ওঠে মানবিক ভিত্ নির্বোধ হাতালিতে কেঁপে ওঠে মঞ্চ চোখের সামনে ঘুরেফিরে আসে ভন্ডপ্রতারক ছলনার রাজ‍্যে খেলা করে  সন্ন্যাস কালবৈশাখী ঢুকে আমাদের ভালো বাসার ঘরে ঘটা করে পালন করি নারীদিবস ##### অপাঠ    ভালোবাসার আঁচল খুলে বেরিয়ে আসে বেদনা  বেদনারা লাগাম পড়িয়ে কে  কী  মজা পাই কে জানে?  আমাকে বুদ্ধদেব হতে বোলো না   সুজাতা দাঁড়িয়ে আছে পায়েস নিয়ে  দূরে পাহারা দিচ্ছে নগ্ন আকাশ  বোধীবৃক্ষের ছায়ায় নৃত্য করে শাক‍্য যুবতীরা  ভালোবাসার আগুনে ঝলসে উঠছে  ওদের মুখ   #####  শুভেচ্ছান্তে আবদুস  সালাম  প্রয়াস  ,শ্রীকান্তবাটি ( মাদারল‍্যান্ড) রঘুনাথগঞ্জ মুর্শিদাবাদ 742225 9734332656

তৈমুর খানের কবিতা

বিজ্ঞাপন অন্যকথা এক একটা গভীর জলাশয় নারী হয়ে হেঁটে যাচ্ছে দিনগুলি সাদা রাত্রি হয়ে গেলে কে হবে জীবনের চাঁদ? ফাগুন মাসের জুতো হারিয়ে গেছে আকাশের ভেজা জামা থেকে মৃত্যুর গন্ধ স্টেশনে থেমে আছে নীল ট্রেন আগুন চেপেছে তার বন্ধু ঘাতকের সাথে ঘুরছে যার যা সামর্থ্য দেয়াশলাই বাক্স, পেট্রোল, কেরোসিন নরম তুলোয় শুয়ে থাকা গান হাসপাতালের মায়ায় চতুর আরোগ্য মহাজাগতিক বিশ্বে ঝরে পড়ছে এক একটি         বিজ্ঞাপন                      অন্যকথা

কবিতাঃ অমিতাভ দাস

পায়েস মেয়েটার জন্মদিনে ভাতের পায়েস হয়নি কখনো,ছোটো বেলায় বায়না করলে মা সিমুই এর সাথে দুধ ফুটিয়ে দিয়ে বলত এই তো তোমার জন্মদিনের পায়েস।বোকা মেয়ে সোনা মুখ করে খেয়ে নিত সেটাই। মেয়েটার জন্মদিনে ভাতের পায়েস হয়নি কখনো,বেশি বায়না করলে ঠাকুমা বলত ওরকম করতে নেই দিদিভাই,এতে সংসারের অকল্যাণ হবে। আজ সেই মেয়ে আর এক মেয়ের 'মা'।সে তাঁর মেয়ের জন্মদিনে সারাদিন শুধু ভাতের পায়েস রাধে আর পায়েসের ম ম করা গন্ধ গিয়ে ধাক্কা মারে বিকৃত সংস্কারের দরজায়। মেয়েটার জন্মদিনে ভাতের পায়েস হয়নি কখনো, এখন সে তাঁর আত্মজার জন্মদিনে পেট ভরে ভাতের পায়েস খায়। ====================== অমিতাভ দাস 40/এ বাকসাড়া রোড,বাকসাড়া,হাওড়া - 711110

কবিতা: ফিরোজ আখতার

ডাইনি ও ছাতিমগাছ .............................. . ডাইনিটার দেহ যেখানে পুড়েছিল সেখানে আজ মস্ত ছাতিমগাছ তবু, ধোঁয়া বেরোয় সেই মাটি থেকে আদিম নবান্ন আর নারীমাংসের পোড়া গন্ধ মিশে যায় ছাতিমফুলের মাদকতায় না, ছাতিমতলায় জ্যোৎস্না এসে পড়ে না হ্যাঁ, ডাইনি'র অস্বীকৃত ধ্যান 'জানগুরু'দের লক্ষণ-রেখায় টুং করে শব্দ তোলে উদ্বাস্তু নারীদিবসে ......................  ফিরোজ আখতার ১৮ই জায়গীর ঘাট রোড, ঠাকুরপুকুর, কোলকাতা- ৭০০০৬৩

কবিতাঃ সোমনাথ বেনিয়া

নারী, একটি জানালার নাম  জানালার পাটাতন জানে বৃষ্টি-বিকেল বর্ণনা আর অপেক্ষার রঙ মন খারাপ উদাস দৃষ্টি যে পথ রচনা করে, তার ভূমিকায় - নিশ্বাসের সংকলন, প্রতিশ্রুতির আবহসঙ্গীত হাতের উপর স্পর্শের পাশে কামনা কমা হয়ে বসে গর্ভবতী হয় মেঘ, আদর্শ ছায়া তার ব‍্যাকুল মনের অচিনপুরে ফিরে আসে স্থাপত‍্যের ভাস্কর্য সমস্ত পাঠ‍্য শেষ হলে সম্পর্কের পাশে হাসে বিস্ময় ঘোর লেগে যায়, বাতাস প্রফুল্ল চিত্তে, বহুগামী ভাষা, নারকেল পাতার মতো তিরতির, সবুজ চিরুনি কবিতার ব‌ইয়ের প্রথম লাইন অবিস্মরণীয় হতে, বুকের নাবাল উপত‍্যকায় রাখে ভাঙনের দাগ বোঝা যায়, বোঝা দায়, সবটা নিয়ে অর্ধেক আকাশ সহজে বলতে পারে না বলে - বানান নিজেকে সিলেবেলে ভাঙে রূপ নাও, নাও গন্ধ, নাও বিরহের আনন্দ, পদাবলি নারী, একটি জানালার নাম এবং ধ্রুবক, মেলানকলি ================ সোমনাথ বেনিয়া  ১৪৮, সারদা পল্লি বাই লেন ডাক + থানা - নিমতা জেলা - উত্তর ২৪ - পরগনা কলকাতা - ৭০০ ০৪৯।

গুচ্ছকবিতা: সুপ্রীতি বর্মন

(নারীর বিভিন্ন আঙ্গিকে বিমূর্ত রূপ,,,,,  সামাজিক খন্ডবিখন্ড রূপলেখা,,,,) যখন সে ছন্নছাড়া কিশোরী,,,,,,,, ১. কবিতা: আবাল্য কিশোরী। দুমড়ানো মুচড়ানো কিশোরীর আবাল্য জেদ ঘ্যাঁন ঘ্যাঁন,,,,,, এনে দাও, এনে দাও। ঘোমটার তলায় হাহাকার খ্যামটার নাচন সরিয়েছে বৃদ্ধকাতর অঙ্গুলীদল আর হবে না আর হবে না। এবার তবে মুখে দাও তালা হও তুমি রুদ্ধ জীবনপ্রপাত। মেয়েটির আটঘাটে যৌবনা সুন্দরীর ফণার ছোবল দংশনের করাঘাতে ভাগ্য যেন শুকিয়ে মরে অকাল জরা ও শোক। নৌকাবিহারে দামাল বৈঠা মাথা গুঁজে হাতড়িয়ে দূর্ভিক্ষ অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের সংসার চালানোর ঢঙ মরে যাই মরে যাই। সখের ভুলে বিভ্রম সহবাস আটচালা কোলে আগন্তুক মশারী টানার আয়তক্ষেত্রে বাক্সবন্দী সিনেমাটোগ্রাফি। নিভু নিভু আঁচের লোডশেডিং কর্মক্লিষ্ট গলদঘর্ম অন্ধ প্রত্যাশায় কানাগলি সিঁথিতে আবাল্য প্রেমের দৌরাত্ম্য বোবা কালা স্বীকারোক্তি অমোঘ বর্ষণ। চোখের কোলে দেখেছিলেম নৌকাবিহারে সঙ্গম। মৈথুন স্রোতে উড়ন্ত হংস গ্রীবায় অজন্তা ভাস্কর্য হাতড়িয়ে ব্যধ অণ্বেষনে তোমার খাদ। ন্যাওটা কিশোরীর...

কবিতা: সুজাতা মিশ্র (সুজান মিঠি)

মল্লিকা বনে উচ্চ শিক্ষার ভারে নোয়া ঘাড় টাকে সোজা করতে মাঝে মাঝে গিয়ে বসি রাজুদার চায়ের দোকানের মাচাটাতে। এসে বসে হারু, সানু, আর রমজান। ফিজিক্স, ম্যাথ আর রমজান সংস্কৃত। গড় গড় করে বলে শ্লোক গুলো ..., মন্ত্র গুলোও। আসে সাইকেল মিস্ত্রী নাড়ু, আসে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে যাওয়া মন্টু রাও। মন্টু নতুন বিয়ে করেছে, বউকে গড়িয়ে দিয়েছে পায়ের মল। সেই নিয়েই কদিন চলছে গরমা গরম। ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় আড্ডা চলে আমাদের। গুমোট বিকেলের ঘাম গলার গামছারা শুষে চলে। আর শীতের শুকনো হওয়া ফাটিয়ে চলে ঠোঁটের চামড়া। মাথার চুলগুলোও বিদ্রোহ করে, হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে। বলে' পড়াশুনো করে করে এ ব্যাটা সব কটাকেই ঝরিয়ে ফেললো মাথা থেকে। দাঁড়ানা কদিন পরে টাকে হাত বোলাবি হতোভাগা।" গতানুগতিক ছকে বাঁধা মাচা আর মাচার আড্ডা। সেদিন ছিল আটই মার্চ। সকাল থেকেই মাইকে সেই ঘ্যান ঘ্যানে প্যান প্যানে গান আর বক্তৃতা "নারী আমাদের মা, নারী আমাদের মা"... আরে বাবা সব নারীই যদি মা হয় তবে তো... যাক গে যাক, ঠোঁটের ফাঁকে বিড়িটা গুঁজে পা দোলাতে দোলাতে গাইতে লাগলাম মান্না দে। সুখী বেকা...

.কবিতা: সুনন্দ মন্ডল

'নারী- নয় অরি'                   সে এখনও নিভৃত আড়ালে একলা         ডুকরে ডুকরে কাঁদে আমারই জন্য।  ‎ বাড়ি ফিরতে দেরি হলেই মিনিটে মিনিটে ফোন করে বলে, "আর কতক্ষণ লাগবে?" জানতে চায় কেন ফোন করে জানাইনি? ভাতের থালা নিয়ে বসে থাকে রাতের পর রাত                                      সে তো আমারই জন্য। 'মা' নামক নারীর অংশ চরিত্র আমারই দামি গয়না। ক্লান্ত শরীরে যাঁকে জড়িয়ে একটু স্বস্তি পাই আর নরম কোলে তুলোর মত ফুরফুরে স্নিগ্ধতা। ছোট থেকে আমৃত্যু শিখতে শিখতে কেটে যায় ভাষার বহরে আঁকা সেই মায়ের মুখ। যে দূরে গিয়েও এখনও মঙ্গল কামনা করে, স্বামী-সন্তান-সংসার সামলে প্রতিদিন সন্ধ্যে হলেই ফোন করে জিজ্ঞেস করে "দাদা, ভালো আছিস?" "তোর চাকরির পরীক্ষা কেমন হলো?" কিংবা যখন বলে, "দাদা, তোর এবারে চাকরিটা হবেই হবে" তখন বেকার ছেলের চোখের কোনে জল এলেও হাল্কা আনন্দের সুবাস মনকে শিহরিত করে। সেও তো একজন নার...

কবিতা: দেবাশিস রায়কাশ্যপ

মানচিত্রে সমুদ্র ------------------------------ --------- আরো একটু হাঁটলে সমুদ্র যেখানে নিরবিচ্ছিন্ন ছায়া ছুঁয়ে যায় দিগন্ত তার পাশে এলোচুলে প্রান্তিক মানচিত্র আঁকে আমার নারীমুখ। নিঃশ্বাসে সুগন্ধি জোছনা মাখি আমিও নরম আঁচলে ঢেকে যায় গোধুলি-বসন্ত... প্রকৃতির কাছাকাছি ঈশ্বরীসমুদ্র আমার মা আমার‌ই নাভিমূলে এঁকে দেওয়া পৃথিবীমানচিত্রে একটার পর একটা উলম্বপদভ্রুণ আমি জড়ো করি। জড়ো করি ঝরণা-কণা আর কয়েক মেরু সমুদ্র... আরও একটু হাঁটলে নদী বিবর্ণ ভিখিরি মায়ের বুকচিরে পতিতা বোনের কান্নাভেজা গোধুলি টেনে নিয়ে চলেছে  আমার সে সমুদ্রে গোধুলি-বসন্ত... প্রকৃতির কাছাকাছি তো আমিও তবু অনেকখানি দূর যেখানে আমার নারীমুখ সমুদ্র ভেসে বেড়ায় ঈশ্বরী-সমুদ্রে মাতৃত্বের মানচিত্র... ১০/৩/১৯ বারাসাত

কবিতা : অ-নিরুদ্ধ সুব্রত

কফিনের ধার ছুঁয়ে যে তোমরা... কফিন গুলোতে শেষ পেরেক কে বা কারা মেরেছিল  তোমাদের চোখের জল সে প্রশ্নে ওঠেনি ব্যাকুল হয়ে  কিংবা পূর্বাহ্নে অঝোর বৃষ্টি ঝরানো শেষে শুধু স্তব্ধতা  অপেক্ষা করে গেছ যুদ্ধক্লান্ত শরীরের শীতলতা ছোঁয়ার চারদিকে সংবাদের ঝোড়ো হাওয়ায় ধুলোর চিৎকার তাকেও নি:শব্দে সয়ে গেছ, যেন উপনিষদের গহন আরণ্যকে  তাপসীর মতো সত্য গুনতে গুনতে ধ্যান মৌনে রত ছিলে কফিন গুলোতে ফুল জমে উঠেছিল, পতাকার রঙের উপর জয় অথবা পরাজয়ের চেয়ে লড়াইয়ের আবিরে ঢাকা, যোদ্ধা শুয়েছে নীরব, রমনীর কাছে প্রেম জীবাশ্ম হয়ে আছে  থেমে যাওয়া অথবা নষ্ট বন্দুকের চুপের মতো ঠান্ডা বোধ  এসে ঠেকেছে গভীর আগুনে ক্ষতের গায়ে, হাত ছুঁয়েছে পায়ে  আজ বীরত্বের গান ঈশান থেকে এসে তোমাদের ডুবিয়ে দেবে, কিন্তু যে কৃপণ মোড়কে বিরহ বারুদ তুলে রেখে শুধু মুছে নেবে  বলো মেয়ে, সে বারুদ বাষ্প কি কোনও নির্জন দ্বীপের উদ্যানে                               সারি সারি সাদা জুঁই ফুল হয়ে ফুটে যাবে.....

কবিতা: কান্তিলাল দাস

তুমি জানো যে তুমি জানোই তোমার নিজের কোনো ঘর নেই, নেই ঠিকঠাক স্বীকৃতি আজীবন সেই তুমি উষর মাটিকে আশ্চর্য ভরাও এত প্রাণস্পন্দনে সকলেই বেঁচেবর্তে যায় ! জানো তুমি জন্মলগ্নে তোমার বাজায়নি কেউ শাঁখ অখুশির মুখগুলি বিব্রত ভীষণ ফিসফাস আবর্তিত ছিল যেন কোনো সঙ্কটের নিশ্চিত প্রকাশ ! দিন যায় ভূমিকা বদল হয় সমস্ত চরিত্রে তুমি মানান সামলাও ! এ চরিত্রে বাস্তবতা, অভিনয় নয় নিজেকে ফুরিয়ে দেওয়া দায়বদ্ধতায় ! কোথা থেকে পাঠ নাও পাহাড় ভাঙার ? কোথা থেকে শিখে আসো সহন এতখানি যা তোমাকে ঘরে বাইরে রাখে ক্রিয়াশীল ! ক্রিয়াশীল হওয়া ভালো, প্রতিক্রিয়া কোরোনা প্রকাশ যত খুশি কাজ করো, ঘর দোর যেভাবে সাজাতে চাও, সাজাও সাজাও বেসুরে বেজোনা পদক্ষেপে চোখ রাখছে সমাজ, সংসার ! এসব ভেবেই কেন যে গুটিয়ে থাকো শামুক যেমন এসব জেনেই কত যে বসন্ত যায় ফুলশোভা না দেখা দিয়েই ! তবু তুমি জানি পাথর নও কোনোমতে ! যে কোনো নারীর উদ্বর্তনে মনে মনে উল্লসিত হও, বেদনার্দ্র হও নারী লাঞ্ছনায় ; যে সমস্ত বিজ্ঞাপন পণ্য করে নারীদের যেসব ঘটনা নারীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তোমায় আহত করে ; রা...

কবিতা: তাপসকিরণ রায়

একটি সতী-সাধ্বী নারী একটি সতী-সাধ্বী নারীর টিকে থাকার মাঝে একটা ইচ্ছের বাঁধ দেওয়া থাকে -- ধরে রাখার হাজার চেষ্টা ছাপিয়ে কখনো বাঁধভাঙ্গা কল্লোল ছুটে যেতে চায় ! কোন রাতে তার দেহ থেকে রঙফুল উড়ে যেতে যেতে কামনা বাসনার পাতঝড বৈশাখে উড়ে যাচ্ছে দেখো --   বীজতুলোর মতো উৎক্ষেপ্য হয়ে পড়ছে শয্যার তুলট ওমের মাঝে নারী তার স্বপ্নের পাখায় নিজেকে নস্যাৎ করে দিতে দিতে কিছু রাত জাগা ভাবনা কেন তাকে দলে মুচরে ব্যভিচারী করে তোলে !

কবিতাঃ চন্দন মিত্র

    নারী যেমন নদীর কাছে যেতে হয় মানুষের সভ্যতায় সেচ দিতে যেমন বনের কাছে যেতে হয় মানুষের অমূল্য রসদ নিতে যেমন পাখির কাছে যেতে হয় মানুষের শিখে নিতে সাত সুর  যেমন ফুলের কাছে যেতে হয় মানুষের খুঁজে নিতে মধুপুর তেমন প্রাণের দায়ে তোমার কুটিরে সভ্যতাকেও যেতে হয় নারী তোমাকে  মুগ্ধ করে স্তোকে সে নিপুণ গেঁথে দেয় স্নিগ্ধ তরবারি  =======================   চন্দন মিত্র ভগবান পুর ( হরিণডাঙা ) ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা  চলভাষ - ৯৩৩২৩৫৮৭৪৭   

কবিতা: শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়

নারী দ্য বস মাটির ওপরে গাছ শেকড় গভীরে, নারী তো মাটির মতো, বুঝি কখনো মা,কখনো সে মেয়ে, পুরুষ ধারণ করে, ভালবেসে নিজের শরীরে।

কবিতাঃ শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

অঙ্কুরে ও বইখানা বড়ো হলে , এখন পড়তে নেই গুপি বাঘার গান তো আছে, শুনতে পারো সেই। পাকা পাকা এই সিনেমা, তোমার জন্য নয় ; অ্যালিস আছে অবাক দেশে তোমার অপেক্ষায়। ন্যাকা বোকা ধারাবাহিক, কী যে দেখছ ধাৎ! আইস এজে দেখবে না আজ প্রকাণ্ড ম্যামথ? বড়োদের সব কথাই কি বুঝতে পারবে সোনা? তোমার জন্য ক্ষীরের পুতুল ; যাও না , খেলো না। আজে বাজে বিজ্ঞাপন চ্যানেলটা ঘোরাও ; পরীক্ষা এল বলে, পড়তে বসবে যাও। বিশ্ব ভরা কদর্যতার থেকে পেছন ফিরে, সুকুমার রায় সুকুমারীর জগৎ ছিল ঘিরে। আত্মজাকে দুধেভাতে ডুবিয়ে আগলে বুকে অন্তরীক্ষ অভিযানের স্বপ্ন বুনি চোখে। আড়াল করে রেখেছিলাম শব্দগুলো শুধু ঘটনা এসে দিল হানা, তপ্ত দুপুর ধূ-ধূ- থামিয়ে দিল কিচির-মিচির খুশির কলরব   গাড়িকাকু ছিনিয়ে নিল এ জন্মের শৈশব.. ================  Sriparna Bandyopadhyay Flat 3A, Jagadish Apartment 26 J. K. Chatterjee Road Sodepur, Kolkata 700110

কবিতাঃ সৌরভ ঘোষ

         মা জরায়ু দেওয়াল আঁকড়ে রক্তের ছিটে,আমি।  ছিটে থেকে কণা,কণা থেকে পিন্ড  তারপর পূর্ণাঙ্গ।সযত্নে লালিত...  জন্মের ক্ষণ কতটুকু শুভ ছিল জানা নেই!  চিরায়ত কান্না শুনে,শত কষ্টেও ; তোমার শুকনো ঠোঁটে ছিল মৃদু হাসি। ঈশ্বরীয় অমৃত সুধায়, আমার নরম বুকের পাটা, একদিন শক্ত হলো ; সীমান্ত ছুঁলো অকপটে । তোমার আঙুল ধরে প্রথম হাঁটতে শেখা,মা তোমার বিদুর সুরে সুর মিলিয়ে প্রথম কথা বলা, তোমার লেখায় আঙুল রেখে প্রথম বর্ণমালা। ছেলেবেলার হাসি-কান্নার সাথি, তুমিই।  তখন কিশোর,তখন বন্ধু,তখন খেলার মাঠ সন্ধেবেলা দেরি হলে, 'বাবু -বাবু' হাঁক। খুব রাগ হতো। যখন কলেজ-  পুজো,পাড়ার রক,বাড়ি ফিরতে মাঝরাত  তোমার ঘনঘন ফোন।কেটে দিতাম। মনে হতো জ্বালাতন। আমার কৌটো ভরা গোঁসা,অবিবেকী দোতলার দরজা; তোমার আদরের ঠকঠক,আকছার রোজা। পায়ে ব্যাথা নিয়ে ঠায় দাঁড়াতে,রোদসী ধৈর্য্য, আমার রাগ,তর্ক, ইচ্ছাকৃত অগ্রাহ্য... মা- কখনো অক্রোধের চূড়ায় বসে হিসেব করিনি, তুমি কি পেলে ! অবজ্ঞাতেও কখনো হেসেলে উঁকি দিয়ে...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432