মাকে তুলে দিয়ে আসার পর ... হাতের তালু ছুঁয়ে চলে গেলে । ঠিক হাওয়ার মত জলের মত ছায়ার মত করে । প্রতিবার চলে যাওয়ার পর এমন করেই রেখে যাও আমায় । সর্বস্বান্ত । ছুটেও পারিনা একটা পাজি দুরন্ত ট্রেনের সাথে । কলিংবেলে হাত রেখে আঁতকে উঠি । এখন আইহোলে তোমার অপেক্ষার চোখ আর নেই । শূন্য ঘরে তবুও কেমন চন্দন আর ফুলের গন্ধ । এ ঘর থেকে ও ঘরে লুটোপুটি খায় আঁচলার খুঁট ... ধরতে গেলেই পালিয়ে পালিয়ে যায় । ফ্রিজের ভেতর থেকে কারা যেন চুপিচুপি ডাকে । দরজা খুলতেই হেসে ওঠে তোমার হাতের দুবাটি ছানার ডালনা .... তোমার মিষ্টি গন্ধটা সারাঘরে ধূপের মত ছড়িয়ে আছে । ' ছো --- টা ' নামটা শুনেই ঘাড় ফেরাই ... বালিশে মাথা রেখে অনর্গল ডেকেই চলেছো চোখ বুঝে । কি ভাবে টের পাও আমার নিঃশব্দ পদসঞ্চার ? সমস্ত মুগ্ধতা ভেঙে মাথায় হাত বুলিয়ে অচমকাই কোলে টেনে নাও । তোমার নতুন চশমাটা চোখ থেকে খুলে রাখি । বুকে মাথা দিয়ে রক্ত আর ঘামের কথা শুনি । এখনও বহু ঢেউয়ের আক্ষেপ তোমায় ছুঁয়ে শান্ত হয়ে যায় । অথচ জড়িয়ে ধরতে গেলেই তুমি আবার .... নেই যে ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...