স্বাধীনতার ভাষা -------------------------------- যদি মনে করো আমরা তোমার দাঁড়ে পুষে রাখা ময়না তবে জেনে রাখো খুব ভুল হয়ে গেছে । যদি মনে করো তোমার শেখানো বুলি আওড়াবো আমরা জেনে রাখো তবে সেটাও তোমার ভুল। তুমি কী ভেবেছ? আমরা সবাই তোমার সুতোয় বন্দী? বেঁধে রাখা বুঝি এতই সহজ ভাবলে? কী করে ভাবলে? সেটা হয় নাকি - কী ভীষণ বোকা স্পর্ধা ! রুখে দাঁড়াবোই প্রতিরোধে বিক্ষোভে। আমার স্বদেশে জন্মেছি আমি বুকের গভীরে বিশ্বাস অস্থি মজ্জা রক্তের মতো গাঢ় - আমি কথা বলি নিজের ভাষায় সে আমার স্থির প্রত্যয় স্বপ্নে আবেগে প্রিয় থেকে প্রিয়তম । নিপীড়িত আর শোষিতের হয়ে প্রতিবাদে হই দৃপ্ত স্তব্ধ করবে - কার ঘাড়ে কটা মাথা? প্রেমিকার হাতে হাত রেখে বলি ভালোবেসে আমি রিক্ত দুই হাত পেতে আজ আমি নতজানু । আমি নাস্তিক ঠাকুর মানি না মানতে চাই না ঈশ্বর তবু সারাক্ষণ ঠাকুরের গান গাই, ঠাকুর মানে তো রবীন্দ্রনাথ আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস যাঁর চোখে সারা বিশ্ব দেখেছি আমরা । তুমি কে বলতো, জানি...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...