কবচ ঠিক ক্যারাটে নয় , বলা যায় সেল্ফ ডিফেন্স অর্থাৎ আত্মরক্ষা। পাড়ায় একটি ক্লাব তার কুড়ি বাই কুড়ি ফুটের জমি যার নাম মাঠ , সেখানে শিক্ষার আয়োজন করেছে। প্রশিক্ষরা সেই জমিকে বলছে লন। তবে অমসৃণ জমির ফালিকে প্রশিক্ষণ যোগ্য করতে লনে যেটুকু ঘাস ছিল তা চেঁছে দুরমুশ পিটিয়ে ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে। সেখানেই ভর্তি হয়েছে শাহানা। মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোটে তিনজন হওয়ায় তাদের জন্য আলাদা ব্যাচ তৈরি না করে আপাতত ছেলেদের সঙ্গেই শেখানো হবে। প্রথম দিন ট্রেনার কোনও নির্দিষ্ট ধারার পূর্ণাঙ্গ মার্শাল আর্ট আর আত্মরক্ষার মধ্যে পার্থক্য এবং তার উপযোগিতা নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। "এই যে শাহানার দিদির কথা তোমরা সবাই জানো। তার মতো অবস্থা যাতে না হয় সেই জন্যই সেল্ফ ডিফেন্স। ধরো যদি তোমাদের একসাথে চারজন চার দিক থেকে ঘিরে ধরেছে , তখন কী করবে ? তখন শুধু গায়ের জোর খাটালে চলবে না , বুদ্ধিও খাটাতে হবে। এই সমস্তই আমাদের কোর্সে আছে।" একজন শিক্ষানবিশের প্রশ্ন , " যদি যারা অ্যাটাক করছে তারাও এই ব্যাপারে...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...