কবিতা ও নদী, জঙ্গল, জীবন পার্থ সারথি চক্রবর্তী এক কবিতা আমায় ব্যাকুল করে দেয় আজো তার উচ্ছলতায়, যেমন করে এক পাহাড়ি নদী। তার প্রতিটি ঝংকার, নদীর বহমানতার মতো সুর তোলে মনে, আলোর স্ফূরণ জাগায় চোখে, মনে আর মননে। আমি শুধু জলের শব্দের মতো- অক্ষরের মৃদু আওয়াজ শুনি প্রাণপণে কোন এক পাহাড়ের পাদদেশে যেখানে পাহাড়ি নদী নেমে আসে কবিতার বুকে। দুই জঙ্গলের মধ্যে লুকানো কিছু ঘাঁটিতে হাত ধরাধরি করে থাকে অন্ধকার ও ভয়। অজানা ও না-জানা অনেক কথাই রহস্যের জটে জড়িয়ে থাকে- কবিতার অভাবে, কবিতা শোনার আশায় কাটাতে থাকে বনবসী , বুভুক্ষু জীবন। অন্ধকারের গাঢ়ত্ব ভেদ করে আসবে কোন ছবি কবিতার রূপে, পথ দেখাবে; কেটে যাবে সব ভয়, সব অন্ধকার, কোন এক অপার্থিব রূপোলি আলোর রেখায়। তিন কবিতার জন্য জীবন, কবিতার জন্য বাঁচা অতটাও সহজ নয়, যতটা মনে হয় শুধু আলোকিত অংশই দেখা যায়, আর বাকিটা মানে বেশিরভাগই- পেছনে, অগোচরেই থেকে যায়। কবিতার জন্য বহুরাত জাগতে হয় কবিতার জন্য বহুপথ হাঁটতে হয় কবিতার জন্য অসামাজিক হতে হয়, একা হয়ে যেতে হয়! একা থাকতে হয়! কবিতার জন্য সহিষ্ণু হতে হ...
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...