কবিতা ও নদী, জঙ্গল, জীবন পার্থ সারথি চক্রবর্তী এক কবিতা আমায় ব্যাকুল করে দেয় আজো তার উচ্ছলতায়, যেমন করে এক পাহাড়ি নদী। তার প্রতিটি ঝংকার, নদীর বহমানতার মতো সুর তোলে মনে, আলোর স্ফূরণ জাগায় চোখে, মনে আর মননে। আমি শুধু জলের শব্দের মতো- অক্ষরের মৃদু আওয়াজ শুনি প্রাণপণে কোন এক পাহাড়ের পাদদেশে যেখানে পাহাড়ি নদী নেমে আসে কবিতার বুকে। দুই জঙ্গলের মধ্যে লুকানো কিছু ঘাঁটিতে হাত ধরাধরি করে থাকে অন্ধকার ও ভয়। অজানা ও না-জানা অনেক কথাই রহস্যের জটে জড়িয়ে থাকে- কবিতার অভাবে, কবিতা শোনার আশায় কাটাতে থাকে বনবসী , বুভুক্ষু জীবন। অন্ধকারের গাঢ়ত্ব ভেদ করে আসবে কোন ছবি কবিতার রূপে, পথ দেখাবে; কেটে যাবে সব ভয়, সব অন্ধকার, কোন এক অপার্থিব রূপোলি আলোর রেখায়। তিন কবিতার জন্য জীবন, কবিতার জন্য বাঁচা অতটাও সহজ নয়, যতটা মনে হয় শুধু আলোকিত অংশই দেখা যায়, আর বাকিটা মানে বেশিরভাগই- পেছনে, অগোচরেই থেকে যায়। কবিতার জন্য বহুরাত জাগতে হয় কবিতার জন্য বহুপথ হাঁটতে হয় কবিতার জন্য অসামাজিক হতে হয়, একা হয়ে যেতে হয়! একা থাকতে হয়! কবিতার জন্য সহিষ্ণু হতে হ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...