নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস আরজু মুন জারিন দৃশ্য : এক বল অ অ তে অজগর ঐ আসছে তেড়ে আ তে আমটি আমি খাব পেড়ে।। বারেক বসে আছে একপাল ভেড়ার সাথে মাঠের মধ্যে। শৈশবের মত বাল্যশিক্ষার ক্লাস চলছে। বর্ণমালা শেখানো হচ্ছে কিন্তু ভেড়ার পালের সঙ্গে কেন? একি কান্ড। তার স্কুলের অন্য শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী কোথায়? সিংহের দাত ওয়ালা চশমা পরা এক বৃদ্ধ হুজুর পড়াচ্ছে "বল তোরা ইদুর ছানা ভয়ে মরে ঈগল পাখী আসছে তেড়ে। অ তে আতা বল তুই রাতা বাড়ি মারে ছাতা সব পাগল খারাপ মাথা।। হুজুর মাথা নেড়ে নেড়ে পড়াচ্ছেন। "ওই তুই পড়িস না যে বারেকের মাথায় দিল এক থাপড় । থাপড়ে মাথা ঘুরে গেল তার । এই অবস্থায় ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসল সে বিছানায়। বুকে থু মারল কয়েকবার। স্বপ্ন দেখছিল তাহলে। মুখের উপর উড়ে এসে পড়ল বাজারের ব্যাগ তখনই বাস্তবে। "বাজার করে উদ্ধার কর আমারে"। তার স্ত্রী কোমরে হাত দিয়ে রনরঙ্গিনী ভঙ্গিতে দাড়িয়ে।চাল শেষ। "আজ ভাত রান্না নাই চাল না আসলে"। চিমটি কেটে দেখল এবার। না এবারের টা সত্যি। বউ সত্যি দরজায় দাড়িয়ে তাকিয়ে আছে কটমট চোখে। উঠে যেতে হল শোয়া থেকে।। ক্ষিধে পেয়েছে তার ভীষন। স্ত্রীর যে মূর্ত...
পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...