নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস আরজু মুন জারিন দৃশ্য : এক বল অ অ তে অজগর ঐ আসছে তেড়ে আ তে আমটি আমি খাব পেড়ে।। বারেক বসে আছে একপাল ভেড়ার সাথে মাঠের মধ্যে। শৈশবের মত বাল্যশিক্ষার ক্লাস চলছে। বর্ণমালা শেখানো হচ্ছে কিন্তু ভেড়ার পালের সঙ্গে কেন? একি কান্ড। তার স্কুলের অন্য শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী কোথায়? সিংহের দাত ওয়ালা চশমা পরা এক বৃদ্ধ হুজুর পড়াচ্ছে "বল তোরা ইদুর ছানা ভয়ে মরে ঈগল পাখী আসছে তেড়ে। অ তে আতা বল তুই রাতা বাড়ি মারে ছাতা সব পাগল খারাপ মাথা।। হুজুর মাথা নেড়ে নেড়ে পড়াচ্ছেন। "ওই তুই পড়িস না যে বারেকের মাথায় দিল এক থাপড় । থাপড়ে মাথা ঘুরে গেল তার । এই অবস্থায় ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসল সে বিছানায়। বুকে থু মারল কয়েকবার। স্বপ্ন দেখছিল তাহলে। মুখের উপর উড়ে এসে পড়ল বাজারের ব্যাগ তখনই বাস্তবে। "বাজার করে উদ্ধার কর আমারে"। তার স্ত্রী কোমরে হাত দিয়ে রনরঙ্গিনী ভঙ্গিতে দাড়িয়ে।চাল শেষ। "আজ ভাত রান্না নাই চাল না আসলে"। চিমটি কেটে দেখল এবার। না এবারের টা সত্যি। বউ সত্যি দরজায় দাড়িয়ে তাকিয়ে আছে কটমট চোখে। উঠে যেতে হল শোয়া থেকে।। ক্ষিধে পেয়েছে তার ভীষন। স্ত্রীর যে মূর্ত...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...