পোষ্য ভূত সমীর কুমার দত্ত অনেক ভূতের গল্পের সঙ্গে আমরা পরিচিত। ভূত মানুষের ওপর ভর করে শুনেছি। কিন্তু কোন প্রাণীর ভূত বা আত্মা ঘুরে বেড়ায় কখনও শুনিনি। কুকুর, বেড়াল, খরগোশ, বেঁজি, বানর ইত্যাদি প্রাণী গৃহপালিত বা পোষ্য হিসেবে পালিত হয় এবং হচ্ছে। কতো পারিয়া ডগ, বিদেশি কুকুর তো হামেশাই আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু জন্তুদের ভুত ঘুরে বেড়ায় কখনও শোনা যায় নি। আমার এক খ্রিস্টান বন্ধু, নাম ডেভিড উইলিয়ামস কলকাতার লোয়ার সার্কুলার রোডের একদম কাছাকাছি থাকতো। ও একবার আমার কাছে গল্প করেছিল একটা কুকুরের বিষয়ে। কুকুরটার নাম ছিলো 'ভিকি' । তখন ছিলো শীতকাল। ডেভিড একটা জরুরী কাজে বেরিয়ে ছিলো। ফিরতে রাত হয়ে যায়। কোন গাড়ি পাচ্ছিলো না, তাই হেঁটেই বাড়ি ফিরছিলো। তখনই ভিকিকে রাস্তায় এদিক ওদিক ঘুরতে দেখে। ভেবেছিলো কারও পোষ্য হবে। যেভাবেই হোক ও ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জনশূন্য এলাকায় একটা প্রাণীও রাস্তায় ছিলো না। কোন্ নামে ডাকলে কুকুরটা রেসপন্স করে তা জানবার জন্য ডেভিড বিভিন্ন নামে ডাকতে শুরু করলো।যেমন, 'লাকি', 'ডিক', 'টমি', 'টম,' 'ভি...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...