গরীব অর্থনীতি --- একটা মূল্যায়ণ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি তাঁর বিদেশিনী স্ত্রীর সঙ্গে যুগ্মভাবে এবার ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন। আনন্দ সংবাদ। বাঙালি বলে গর্ব হতেই পারে। সাবেকি তত্বভিত্তিক অর্থনীতি বর্জন করে তিনি ও তাঁর স্ত্রী এসথার ডাফল পরীক্ষামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করে বিশ্বের দারিদ্র দূরীকরণ কর্মসূচির ওপর আলোচনা করেন Poor Economics নামক গ্রন্থে। সহজ সাবলীল ভাষায় বইটাতে দারিদ্র্য দশা দারিদ্র্য ফাঁদ ও তার সমাধান সূত্রের ওপর বিশদ আলোচনা হয়েছে। অহেতুক গণিতের ভারে আলোচনাকে ভারাক্রান্ত করে তোলা হয় নি। ফলে অর্থনীতির দুর্বোধ্য তত্ব না জানা পাঠকের কাছেও বইটা সহজবোধ্য। অর্থনীতির বৃহত্তর আঙ্গিক সমাজ বিদ্যার সঙ্গে খুব সহজেই যুক্ত হতে পেরেছে বইটা। বইটার নাম গরিব অর্থনীতি কেন তা জেনে নিয়ে বইটার ওপর একটা আলোচনার চেষ্টা করব। এই প্রসঙ্গে আলোচনার আঁকে বাঁকে আমি বিষয়টাকে কিভাবে বুঝেছি সেটাও রাখব। সুতরাং এটা শুধু বইটার পর্যালোচনা নয় বইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার দুঃসাহস হয়তো ধরা পড়বে। বইয়ে আলোচিত কিছু অংশ আমার কাছে বাহুল্য বলে মনে হয়েছে। সেগুলো আমার...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...