Skip to main content

উত্তরণে অন্তরায় ।। সমীর কুমার দত্ত

উত্তরণে অন্তরায়

সমীর কুমার দত্ত 



সতীশ মল্লিক জাতিতে ডোম। হাওড়ার মল্লিক ফটকের অনতিদূরের মর্গে লাশ কাটার কাজ করে। একাজ করতে গেলে মদ তাকে খেতেই হয়। না হলে মৃতদেহের পচনশীল তীব্র গন্ধে আর মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফর্মালডিহাইড ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণে উদ্ভূত তীব্র গন্ধে টেকাই দায়। এমতাবস্থায় পচা লাশ কাটা অসম্ভব। রাতে বাড়ি ফিরে কি শীত কি গ্রীষ্ম তাকে স্নান করতে হয়। লাল কাটা ঘরে থেকে থেকে মনটাও মলিন হয়ে উঠেছে।

সতীশের বৌ মলিনা জানে তার স্বামী সরকারি হাসপাতালে কাজ করে।অন্তত বিয়ের সময়ে তাই বলেছিলো। তবে কী কাজ করে তা খুলে বলে নি ।  সরকারি  হাসপাতালে হলে কি হবে, আজ পর্যন্ত ও অস্থায়ী রয়ে গেছে। মাইনে বারো হাজার টাকা পায়। বাজার দর যেভাবে বেড়ে চলেছে এই টাকায় চলে না। লাশের মালিকের কাছ থেকে কিছু উপরি আয় হয় বলে কোন রকমে চার জনের ভরণপোষণ চলে যায়।  মাইনে আগে কম ছিলো। বেড়ে বেড়ে এখন বারো হাজারে এসে ঠেকেছে।  এ হলো গিয়ে নব্ব‌ইয়ের দশকের কথা যখন ও চাকরি পায়।  সরকারি চাকরি, তাই ঢুকে পড়েছে। এটা এদের পরম্পরা। ওর বাবা, ঠাকুরদা এই কাজ করেই কাটিয়েছে। আজকাল এ পেশায় কেউ আসতে চায় না। বর্তমানে বেকারিত্বের জ্বালায় অন্য জাতের ছেলেরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই কাজকে মেনে নিচ্ছে। স্ত্রী, এক মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে সতীশের সংসার।মেয়ে ঝর্ণা, বয়স এই বছর পনেরো হবে, এবছর ফার্স্ট ডিভিশনে মাধ্যমিক পাশ করেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হবে। সায়েন্স নিয়ে পড়তে চায় উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে নার্স হ‌ওয়া। ছেলে দীপেন, ডাক নাম দীপু।বয়স এই দশ এগারো, ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠেছে।  সতীশ স্নান করে খেয়ে দেয়ে অফিস যায় আবার এসে স্নান করে। স্নান না করে ঘরে ঢোকে না। মেয়ে অনেক বার জানতে চেয়েছে ওর বাবার কাছে , " বাবা তুমি কি কাজ করো যে রাতে এসে স্নান করতে হয়?" উত্তরে ইতস্তত করে বলে,"  হাসপাতালের মর্গে কাজ করি।"


—মর্গ ? সেটা আবার কী? 
— মর্গ হলো ডোমঘর । যেখানে ডোমেরা মৃতদেহ কাটা ছেঁড়া করে মৃত্যুর কারণ জানতে।
— তুমি কি কাজ করো? 
সত্য গোপন করে সতীশ বলে, 
" আমি মর্গ দেখাশোনা করি— এই কতো গুলো মড়া এলো, তাদের নম্বর দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।" 
—তোমার ভয় লাগে না? 
— চাকরির প্রথম প্রথম লাগতো। এখন সয়ে গেছে।
— প্রথম প্রথম ভয় লাগতো কেন? তুমি কি কিছু দেখে ছিলে? 
হ্যাঁ, আমরা দুজন থাকতুম মর্গে।  যিনি আমার সঙ্গে থাকতেন তিনি হলেন শিবুদা। আমার সিনিয়র।  আমাকে একদিন একটা মড়া পোস্ট মর্টেম হয়ে যাবার পর সেলাই করতে বলে বাইরে বেরিয়ে গেলো। আমি যতবার মড়াটা সেলাই করছি, ততোবারই সেলাই খুলে যাচ্ছে। আবার মাঝে একবার নড়েও উঠলো। আমি ভয় পেয়ে মড়া ফেলে রেখে দ্রুত পদে বেরিয়ে গেলুম। গিয়ে শিবুদাকে খুঁজতে লাগলুম। দেখি শিবুদা দোকানে চা খাচ্ছে।  হন্তদন্ত হয়ে গিয়ে যা ঘটেছে সব বললুম। শুনে শিবুদা  বললো, "ধ্যাৎ, কী বলছিস্ কী! যখন কাটা হলো,তখন তো নড়ে নি। বুঝতে পেরেছি তুই ভয় পেয়েছিস্। প্রথম প্রথম তো , ও একটু হবে। আমার‌ও হতো। চল দেখি গে। গিয়ে যা দেখলুম, তাতে চক্ষু ছানাবড়া!
— কী দেখলে?
— কিছুই দেখতে পেলুম না। লাশ গায়েব! শিবুদাকে বললুম, 
" এই তো এখানে ছিলো! কোথায় গেলো? আমি বললুম না তোমায়।"
— সত্যিই তো লাশটা গেলো কোথায়? 
অনেক খোঁজাখুঁজির পর লাশটা দেখা গেলো অদূরে। কতকগুলো কুকুর টেনে নিয়ে গিয়ে খেতে শুরু করে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ওদের তাড়িয়ে দিয়ে শিবুদা তাড়াতাড়ি করে শেলাই করে দিলো। ন‌ইলে লাশের মালিকরা এসে ঝামেলা করবে। আর আমাদের কৈফিয়ৎ দিতে হবে।
সব শুনে ঝর্ণা বললো," দাঁড়াও, দাঁড়াও আমার সব কি রকম গুলিয়ে যাচ্ছে। তুমি যে বললে, তুমি মর্গ দেখাশোনা করো। নম্বর লাগাও। আর ডোমেরা লাশ চেরাই করে।"
কথা ঘুরিয়ে দিয়ে সতীশ বলে, "প্রথমে আমি তো ওই কাজেই ঢুকে ছিলুম।  তখন কাজ কর্ম পাইনি,  সরকারি হাসপাতালে কাজ, হাতে পেয়ে ছেড়ে দেবো? তাই ওই কাজে ঢুকে পড়ে ছিলুম । তখন আমাকে সব কাজ করতে হতো। তারপর প্রোমোশন পেয়ে পেয়ে  এই পোস্ট এসেছি।  
 সতীশ মেয়েকে যা বোঝালো তাই ও বুঝে গেলো। তারপর বললো," আর কিছু ঘটেনি?"
আর একবার রেল দুর্ঘটনায় কাটা পড়া একটা লাশ দু আধখানা হয়ে গিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের উদ্দ্যেশ্যে আঙুল তুলে বলছে, " এই, বাড়িতে একটু খবর দিয়ে দিস্।" এটা অনেকে দেখেছে। তারপর মারা গেছে। বাঁশের সঙ্গে বেঁধে এনে পোষ্ট মর্টেমের জন্য খুলে রাখা হয়েছে। আমি একটু মদ খেয়ে ছিলুম। না খেলে চলে না।
পোষ্ট মর্টেমের পর ফেলে রাখা হয়েছে লাশের মালিক এলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এমনসময় পরিষ্কার দেখলুম যেন পাশ ঘুরে শুলো আর গোঙানির শব্দ শুনতে পেলুম। পরক্ষনেই আবার সোজা হয়ে শুলো। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলুম। তারপর সহকর্মীকে  সব বললুম। ও আমাকে বললো, " তুই মাল খেয়ে আছিস্ তো, কী বলতে কী  দেখেছিস্ ,শুনেছিস্! আর বলিস্ নি কাকেও। নে লাশ রেডি কর।"

সতীশের ছেলে মেয়ে কেউই জানে না সতীশ আজ‌ও লাশ চেরাই, সেলাই করে। একদিন ঝর্ণা উচ্চ মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপ করে গার্জেনের স‌ই আর ভর্তির টাকার জন্য বাবার খোঁজে মর্গে যায়। বাবাকে আগেই বলেছিলো, ফর্মে স‌ই করে ভর্তির টাকা রেখে যেতে।  ওর বাবা যখন বেরোয়, ও তখন বাড়ি ছিলো না। বাবা ভুলেই গেছে হবে অথবা টাকা দেবার ভয়ে ভুলে যাবার ভান করেছে, যাই হোক একটা হবে। ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মর্গে  বাবার খোঁজ করতে গিয়ে একজনকে সামনে পেয়ে জিজ্ঞেস করে," সতীশ মল্লিককে একটু ডেকে দেবেন?" 
লোকটি বলে," সতীশ ? ও সতে ডোমকে খুঁজছো?  কথা বুঝতে না পেরে ঝর্ণা বললো, " আমি সতীশ মল্লিককে খুঁজছি।"
— ঐ হলো। এখানে ওকে ডোম বলে সবাই জানে। লাশ চেরাই করে। তোমরা ওর কে হ‌ও?
—ছেলেমেয়ে।
তারপর লোকটি ভিতরের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে হাত নাড়িয়ে বলে,
"ভিতরের যেও না। ও ব্যস্ত আছে। আমি গিয়ে ওকে বলে দিচ্ছি। কাজ হয়ে গেলে ও তোমাদের সঙ্গে এসে দেখা করবে। দীপুর আর তর সয় না। মুখ বাড়িয়ে দেখে ওর বাবাকে। দিদি ঝর্ণাকে বলে, " দিদি ওই যে বাবা। উঃ, কি গন্ধ!"
ঝর্ণা মুখ বাড়িয়ে দেখে ওদের বাবা নোংরা জামা কাপড় পরে লাশ সেলাই করছে। 
দীপু বাইরে থেকে ডাকে,"বাবা, ও বাবা ।"
 নাকে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে ঝর্ণা বলে, "আঃ  দীপু, বাবা এখন কাজ করছে। ডাকিস্ না।" মনে মনে ভাবে —তাদের বাবা নিজেই লাশ কাটে! তবে তাকে যে বলে ছিলো , ডোমে লাশ কাটে। তার বাবা কি তাহলে ডোম! ওই জন্যই বাড়ি ফিরে আগেই বার্থরুমে ঢুকে যায়। স্নান করে বের হয়। যারা ডোম তারাই শুধু লাশ কাটে। কি যেন বললো লোকটা, ও হ্যাঁ সতে ডোম! কি বিশ্রী কাজ করে তাদের বাবা! ঘেন্না করে না?
তাহলে তো তারা জাতিতে ডোম। ভাই বড়ো হলে ভাইকেও  লাশ চেরাই করতে হবে। বাবা, কি দুর্গন্ধ! না না ও কিছুতেই ভাইকে লাশ চেরাইয়ের কাজ করতে দেবে না।

ভাইকে নিয়ে সে দূরে সরে গিয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। বিষন্নতায় ভরে যায় তার মন। বাবার জন্য কষ্ট‌ও হয়, অর্থ উপার্জনের জন্য  বাবাকে এই নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় বলে। ঐ লোকটাকে দেখতে পেয়ে বলে," আমার বাবাকে একটু ডেকে দেবেন?"
— ও হ্যাঁ দিচ্ছি। 
বলে লোকটা ভিতরে ঢুকে গেলো। কিছুক্ষণ পর ওদের বাবা হাত পা ধুয়ে জামা কাপড় বদলে বাইরে এসে দেখলো ওর মেয়ে ও ছেলে কিছুদূরে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে এসে বললো, " "তোরা এখানে?"
—তোমাকে গতকাল বলেছিলাম না, আগামী কাল উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হতে হবে।ফর্মটা স‌ই করে দিয়ে যাবে আর ২৫০ টাকা রেখে যাবে। আমি তো থাকবো না। টিউশন যাবো। টিউশন থেকে এসে দেখছি তুমি না করেছো ফর্মে স‌ই, না রেখে এসেছো টাকা। তাই লোককে জিজ্ঞাসা করতে করতে এলুম। — তুই তো বলেছিলি কাল।
—হ্যাঁ, ঠিক‌ই তো  বলেছি। গতকাল বলে ছিলুম।
—হ্যাঁ, তাই তো! কাল কাল করে একদম ভুলে গেছি। ক‌ই দে দিকি ফর্মটা স‌ই করে দি। ঝর্ণা ফর্মটা বাড়িয়ে দিয়ে জায়গাটা দেখিয়ে দেয় কোথায় স‌ই করতে হবে। সতীশ স‌ই করে দিলে ঝর্ণা হাত পেতে বললো," টাকাটা দাও।" 
—টাকা দিতে হবে নয়? কতো টাকা?
—আড়াইশো টাকা।
—আমার কাছে তো মোটে দেড়শো টাকা আছে। মাসের শেষ। মাইনে হবে কাল। দাঁড়া দেখছি।
বলে সতীশ ভিতরে গিয়ে শিবুকে বললো, এই শিবুদা একশোটা টাকা দে তো। কাল মাইনে হলে দিয়ে দেবো।
—কি হবে? 
—ঐ যে মেয়েটা কালকে উচ্চ মাধ্যমিকের ফর্ম জমা দেবে।
—হ্যাঁ, হ্যাঁ  মেয়েটা পড়ছে পড়তে দে। তোর মেয়েটা ভালো রে। ওকে পড়তে দে। দেখবি ওই একদিন তোদের দুঃখ ঘুচিয়ে দেবে। হ্যাঁ , একশো টাকা চাইলি নয়? এই নে ধর। মাসের শেষে সবার‌ই এক অবস্থা।
 সতীশ  সরকারি হসপিটালে কাজ করে ঠিক‌ই কিন্তু পদোন্নতি না হ‌ওয়ায় অল্প মাইনেতে পড়ে থাকতে হয়েছে। আসলে ওদের তো কোন ইউনিয়ন নেই। লড়াইটা করবে কে? সতীশ মনে মনে ভাবে ছেলেমেয়ে জেনে যায় নি তো যে সে এখন‌ও লাশ চেরাইয়ের কাজ করে। যদিও কোন কাজ‌ই ছোট নয়। তবুও  সভ্য সমাজে এ কাজের কোনো মূল্য নেই। এ কাজকে সকলে নিচু নজরেই দেখে। ওর হীন কাজের জন্য ওর পরিবারকেও সকলে ঘৃনার নজরে দেখবে।  তাই পরিবারের সকলে তার এই কাজকে মেনে নিতে পারে না।

বাবার এ‌ই কাজকে ঝর্ণা কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছে না। যতো তাড়াতাড়ি পারে বাবাকে এই কাজ থেকে মুক্তি দিতে পারে সেই চেষ্টাই সে করবে। স্কুলের ভর্তির ওই সামান্য টাকা দিতে গিয়েও তাঁকে অপরের কাছে হাত পাততে হয়েছে। হ্যাঁ , এই মুহূর্তে হয়তো বাবাকে মুক্তি দিতে পারবে না ঠিকই, তবে সাহায্য তো করতে পারে। আর‌ও দু একটা টিউশনি ধরে পড়ার খরচ তুলে নিতে পারলে বাবার কিছু সুরাহা হয়। ভবিষ্যতে চাকরি পেলে সে বাবাকে ওই কাজ থেকে মুক্তি দেবেই দেবে।  ইংরেজিতে একটা কথা আছে— ম্যান প্রোপোজেস, গড ডিসপোজেস।  কিছুদিন পর ঝর্ণা কোন এক যুবকের,নাম দিলু'র কুনজরে পড়ে যায়। কয়েকদিন ওর পিছনে পিছনে ঘোরে। ঝর্ণা শুধু দেখে যায় জল কতদূর গড়ায় অর্থাৎ ভাব গতিক কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। এমনিতে ও অসভ্যতা কিছু করে না। শুধু  লালসার দৃষ্টি ছুঁড়ে মারে। ভাই দীপুও সব লক্ষ্য করে। বলে," দিদি দ্যাখ ওই লোকটা কেমন ড্যাবড্যাব করে তোর দিকে দেখছে । ঝর্ণা বলে,
"তোকে ওসব দেখতে হবে না।" 
দিলু তার কামনা চরিতার্থ করতে একটা ফাঁদ পাতলো।
একদিন সন্ধ্যায় দীপু খেলে বাড়ি ফিরছিলো। এমন সময় দীপু  সাদা ফুটফুটে সুন্দর একটা খরগোশ দেখতে পেলো। খরগোশটাকে কোথায় যেন ও দেখেছিলো। খরগোশটাকে ধরবে বলে ছুটলো। খরগোশটা ছুটতে ছুটতে দীর্ঘ দিন বন্ধ হয়ে যাওয়া  একটা কারখানায় গজিয়ে ওঠা বৃহৎ জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে গেল।  সচরাচর ওই জঙ্গলে কেউ ঢোকে না। দীপু ওটার পিছনে ছুটতে ছুটতে জঙ্গলে ঢুকে গেলো।  কারসাজি করে ওকে জঙ্গলে ঢোকানো কারো উদ্দেশ্যে ছিলো। দীপু যেই না জঙ্গলের মুখ পর্যন্ত গেছে, অমনি মুখে কালো কাপড় ঢাকা জনা তিনেক ছেলে এসে ওর মুখে সেলোটেপ মেরে ওই জঙ্গলের একটা গাছে বেঁধে রেখে চলে গেল। ভয়ে দীপু কাঁদতে লাগলো। এদিকে ভাইয়ের ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে  ঝর্ণা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো ভাইকে খুঁজতে। পথে দিলুর মুখোমুখি হলো।  দিলু বললো," ভাইকে খুঁজছো?"  কথা বলার ইচ্ছে না থাকলেও বলতে হবে। প্রয়োজনে টেক বজায় রাখলে চলে না। তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলো, হ্যাঁ হ্যাঁ,  ওকে দেখেছেন?" উত্তরে দিলু বললো," ওই একটু আগেই তো দেখলাম।" বিশ্বাস করে ঝর্ণা এগিয়ে গেলো। জায়গাটা নির্জন  এমনিতেই সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। ঝর্ণার ভয় ভয় করতে লাগলো। দিলু লুকিয়ে লুকিয়ে ঝর্ণাকে এমনভাবে অনুসরণ করে চললো, যাতে ঝর্ণা ওকে দেখতে না পায়। তেমাথার কাছে গিয়ে ঝর্ণা ডানদিক বাঁদিক দেখতে লাগলো। দিলু এসে হাজির হয়ে বললো," ওই দিকেই তো যেতে দেখলুম। যে দিকে দীপুকে বেঁধে রাখা হয়েছে ঠিক তার উল্টো দিকে একটা পোড়ো ঘর ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করে রেডি রাখা হয়েছে। সেখানে পৌঁছতেই দিলু বললো, "এই ঘরের মধ্যে তো ঢুকতে দেখলুম। 
" এই ঘরে কি করছে? এই দীপু, এই দীপু।" —বলতে বলতে ঝর্ণা  যেই দরজাটা খুলে ঢুকতে গেলো । দরজা খুললো না। ঝর্ণা বললো," একি, এ তো বন্ধ। চাবি দেওয়া।এতক্ষণে ওর তিন বন্ধু এসে হাজির হয়ে গেছে। দিলু হাতে চাবিটা দোলাতে দোলাতে বললো, " এই যে চাবি।" 
— ও, এসব তোমাদের প্ল্যান!
কিন্তু কেন? আমার ভাই কি করেছে?
বলেই হাত থেকে চাবি কেড়ে নিয়ে দরজা খুলে ফেললো। দেখলো কেউ নেই। সঙ্গে সঙ্গে দিলু বলে উঠলো,"তোমার ভাই কিছু করেনি। করেছো তুমি।
—আমি! আমি কি করেছি? উত্তরে দিলু ঝর্ণার মুখটা চেপে ধরে ধস্তাধস্তি করতে থাকে। সকলে মিলে  ওর‌ই ওড়না দিয়ে ওর মুখ বেঁধে ফেললো। ভিতর থেকে দরজার ছিটকিনি তুলে দিয়ে সকলে মিলে ওকে ধর্ষণ করে ওড়না দিয়ে ওর গলায় ফাঁস দিয়ে ওকে মেরে ফেললো। কারণ বেঁচে থাকলে ওদের বিপদ বাড়বে।

এদিকে সতীশের স্ত্রী মলিনা হাঁ করে অনেকক্ষণ সদর দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে বললো, "ভাইকে খুঁজতে গিয়ে দিদি আবার কোথায় আটকে পড়লো?  এখন কে ওদের খুঁজতে যাবে?"  দিলু ও দিলুর সাগরেদরা ওখান থেকে চলে গিয়ে দীপুর বাঁধন খুলে দেয়। তারপর ওরা ওখান থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ছিটকে যায়। দীপু কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে। দীপুর মা দীপুকে দেখে বলে,  "কিরে দীপু, তুই একা এলি? দিদি কোথায়? 
— দিদি কোথায় আমি কি করে জানবো?
— একজনের চিন্তা কাটলো তো আর একজনের চিন্তা। আমি যে কী করি? তোর বাবাও আজ আসতে দেরি করছে! তা তুই এতোক্ষণ কোথায় ছিলি?
দীপু যা ঘটেছে আদ্যোপান্ত সব তার মা'কে বললো। এমনসময় সতীশ বাড়ি ফিরে সব শুনে বেরিয়ে পড়লো মেয়েকে খুঁজতে। কোথাও হদিস করতে না পেরে ছুটলো থানায়। থানায় ফটো সহ এফ আই আর করে ঘরে ফিরে এলো। সতীশ ভীষণভাবে ভেঙে পড়লো। পড়ার‌ই কথা। মেয়েই তার সংসারের বল ভরসা। সেই রাতে স্বামী স্ত্রীর খাওয়া দাওয়া মাথায় উঠলো। কিছুদিন পর এলাকায় একটা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো। পাড়ার লোক ভাবলো কোন জন্তু জানোয়ার মরেছে হবে। কিন্তু যত দিন যায় গন্ধটা  ঐ ঘরের ভিতর থেকে তত‌ই প্রকট হয় । তখন লোকের সন্দেহ হয়। কিন্তু কেউই ঘরের কাছে যায় না। সতীশকে এসে তারা বলে। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে পোষ্ট মর্টেমে পাঠিয়ে দেয়। মর্গে লাশ চেরাই করতে চাইলো না সতীশ। খুবই স্বাভাবিক,  তার যা মনের অবস্থা তাতে নিজের মেয়ের বডি চেরাই করা  তার পক্ষে সম্ভব নয়। বন্ধুর মেয়ে তাই শিবুও চাইলো না। তাই অন্য মর্গ থেকে দীনু ডোম ও তার ছেলেকে ডেকে আনা হলো।

এদিকে পুলিশ সতীশের ছেলেকে জেরা করতে এসে দীপুকে জিজ্ঞাসা করে,"তুমি  বাড়ি না এসে কোথায় ছিলে?
—আমি তখন ওই যে ওখানে জঙ্গলটা আছে ওখানে।
—তুমি ওখানে কি করছিলে?
—আমি একটা খরগোশের পিছু ধাওয়া করেছিলুম।
— তারপর কি হলো?
—তারপর খরগোশটা জঙ্গলের ভেতর ঢুকে গেলো।
—তারপর?
—তারপর কতোগুলো লোক মুখে কালো কাপড় ঢাকা আমার মুখে সেলোটেপ মেরে আমায় একটা গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেললো। 
— হ্যাঁ কাজটা ওরা প্ল্যান করেই করেছে। তুমি কাকেও চিনতে পেরেছো?
—না, মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিলো তো তাই।
—ইদানিং তোমার দিদির সঙ্গে কাকেও অসভ্যতা করতে দেখেছো?
—না, তবে একটা দাদা, আমি আর দিদি রাস্তা দিয়ে গেলে দিদির মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো।
—তার নাম কী? তুমি চেনো? কোথায় থাকে?
—আমি চিনি না। তবে ওই লোকটাকে ওর বন্ধু কিনা জানিনা , দিলু বলে ডাকতে শুনেছি ।
—কোথায় থাকে? 
— ওই— ওই দিকে। 
— আচ্ছা , একটা কথা বলো তো। ওই খরগোশটাকে তুমি আগে কখনো দেখে ছিলে? 
—হ্যাঁ, আমি কারো কোলে ওকে দেখেছিলাম বলে মনে হচ্ছে। তবে কার সেটা মনে করতে পারছি না।
পুলিশ দীপুর মা ও বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো," আপনাদের কাকেও সন্দেহ হয়?" 
"আমি তো বড়ো একটা বাইরে বের হ‌ইনা তাই আমি বলতে পারবো না। "— দীপুর মা বললো। দীপুর বাবা বললো, 
" আমি তো ডিউটিতে থাকি, আমি কি করে বলবো,স্যার?"
— হুঁ, ঠিক আছে। আমরা এখন যাচ্ছি। সন্দেহজনক কাকেও দেখলে আমাদের জানাতে ভুলবেন না। অপরাধী ঠিক স্পটে ফিরে আসবেই হাল হকিকৎ জানার জন্য।

তারপর থেকে দিলু কিংবা দিলুর সাগরেদদের আর ওখানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় না।
দীপুকে ওর মা জিজ্ঞাসা করে,
" হ্যারে দীপু,  ওই দিলু বলে ছেলেটাকে আর দেখা যায় না?" 
দীপু উত্তর দেয়, " না। আমার মনে হয় মা ওই ছেলেটাই কিছু করেছে। নাহলে আর দেখা যায়না কেন।"
কানা মনে মনে জানা। তাই দিলু এলাকা ছাড়া হয়েছে, কারণ দিলু জানে ওর ভাই ওকে ওর দিদির মুখের দিকে চেয়ে থাকতে দেখেছে। ওকে দেখতে পেলে যদি ওর নামটা পুলিশের কাছে বলে দেয়, ছোটছেলে হলেও  ওর বোঝার মতো বয়স হয়েছে ও কেন ওর দিদির মুখের দিকে  ওই ভাবে তাকিয়ে থাকে। হ্যাঁ যদিও ও কোন রকম অসভ্যতা করেনি। তবুও সাবধানের মার নেই। সেইজন্য ও ওই রাস্তায় আর মাড়ায়  না।
পুলিশ অফিসার মিঃ অনির্বাণ সাহা একটা ক্লু পেয়েগেছেন, তার সূত্র ধরে তদন্তের কাজ চালিয়ে যাবেন বলে ঠিক করেন। তিনি এলাকায় গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। জিপ এসে থামলো পাড়ার মোড়ে। মিঃ অনির্বাণ পাড়ার একটা দোকানে জিজ্ঞাসা করলেন," আচ্ছা, দিলুর বাড়িটা কোথায়?"
"ওই যে ইঁট বেরিয়ে আছে, ওই বাড়িটা।" দোকানদার তর্জনী তুলে বললো।
পুলিশ অফিসার হাতের রুল দিয়ে দরজায় আঘাত করলেন। আওয়াজ পেয়ে ভিতর থেকে গলা ভেসে এলো,"কে?"
—পুলিশ!
কিছুটা দেরিতে দরজা খুলে মুখ বাড়িয়ে এক মহিলা বললো,"কাকে চাই?"
—দিলু আছে?
—দিলুকে কেন? দিলু কিছু কি করেছে?
—আছে কিনা বলুন। কি করেছে পরে বলছি।
দরজা যে খুললো, পুলিশ অফিসার লক্ষ্য করলেন, একটা খরগোশ তার পিছন পিছন বেরিয়ে এলো।
— এটা কি আপনাদের পোষ্য?
—হ্যাঁ।
পুলিশ অফিসার মনে মনে ভাবলেন —বাঃ, দুয়ে দুয়ে চার হয়ে গেলো। এখানেই অপরাধের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত ঠিক পথেই শুরু হয়েছে।
 — আচ্ছা, দিলু কোথায় বলুন।
— ও তো ঘরে নেই।
—কোথায় গেছে?
কি জানি, বলতে পারবো না। কিছু তো বলে যায়নি।
— ফিরলে থানায় দেখা করতে বলবেন।
—অফিসার ও কিছু কি করেছে?
— করেছে কিনা সে তো জানি না। সে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে। আর না গেলে, আমাদের যদি আবার আসতে হয়, এসে না পেলে, আপনাদের ধরে নিয়ে যাবো।
—ঠিক আছে। এলে বলবো।
পুলিশ অফিসার ফিরে গেলো। দিলুর কাছে খবর চলে গেলো। রাতের বেলায় দিলু চোরের মতো ঘরে এসে ঢুকলো। দিলুর মা বাবা দিলুকে জিজ্ঞাসা করলো, "এই তুই কী করে এসেছিস্, যার জন্যে পুলিশ তোকে খুঁজছে? থানায় দেখা করতে বলেছে। না গেলে আমাদের ধরে নিয়ে যাবে বলেছে।
— আরে ওই যে মেয়েটা খুন হয়েছে না,সেই ব্যাপারে আমাকে খুঁজতে এসেছে।
—কেন, তুই কি এ ব্যাপারে জড়িত? 
—আমি কেন জড়িত হবো? ওরা সন্দেহ করে আমায় ধরতে এসেছে।
—না, ওরা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেবে। তুই যদি কিছু না করে থাকিস্ , থানায় দেখা কর। না গেলেই তো ওরা ভাববে তুই এই কান্ড করে লুকিয়ে বেড়াচ্ছিস্ । তখন তোকে ছেড়ে দেবে ভেবেছিস্? তোকে তো ছাড়বে না আর আমাদেরও ছাড়বে না। তোর জন্যে আমরা জেলে যাবো? 
দিলু মাথা নিচু করে থাকে। মনে মনে ভাবে, পালিয়ে বেড়ালে প্রমাণ হয়ে যাবে যে ওই‌ই রেফ এন্ড মার্ডারে জড়িত। তারচেয়ে থানায় দেখা করাই ভালো।তাহলে ওকে কেউ সন্দেহ করতে পারবে না। আর ও যদি ধরা পড়েই যায়, তাহলে ও ওদের‌ও ধরিয়ে দেবে। ও জেল খাটবে আর ওরা ভালো মানুষ সেজে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবে তা হতে পারে না। অপরাধ করেছে সবাই তবে ও একাই কেন জেল খাটবে?
পরের দিন দিলু থানায় দেখা করতে গেলো। অফিসার ওকে জেরা শুরু করলেন, "ঘটনার সময় তুই কোথা ছিলি?"
"আমি ছিলাম না।" দিলু বললো।
—কোথায় ছিলি?
—আমি কাজে গিয়েছিলাম, রোজ যেমন যাই।
—কোথায়? ঠিকানাটা দে।
দিলু একটা কোম্পানিতে মাল ডেলিভারির কাজ করে। ওই দিন ও কাজে বের হয়নি। কি বলবে ঠিক করে উঠতে পারছিলো না। কোম্পানির ঠিকানা দেয়। তারপর বলে,
" আমি এখন যাই স্যার?"
—হ্যাঁ, যেতে পারিস্। তবে বাড়ি ও কাজে ছাড়া আর অন্য কোথাও যেতে পারবি না। দরকার হলে আবার ডেকে পাঠানো হবে।
ঘাড় নেড়ে দিলু থানা থেকে বেরিয়ে কোম্পানির  ম্যানেজারকে ফোনে ধরার চেষ্টা করলো। ফোনে রিং হচ্ছে শুনে দিলু প্রস্তুত হলো।
—হ্যালো।
—হ্যাঁ, আমি দিলীপ বলছি স্যার। 
— হ্যাঁ ,বল।
—বলছি স্যার আমি তো কাল যেতে পারিনি একটা বিশেষ কাজ ছিলো বলে।দেখুন না আমাদের পাড়ায় একটা খুন হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। থানা থেকে যদি ফোন করে জিজ্ঞাসা করে বলবেন আমি কাল অফিসে ছিলাম।
— কী বললি খুন! এসব খুনখারাবির ঝামেলা তুই অফিসে ঢোকাচ্ছিস্ কেন? একে তুই অফিস কামাই করেছিস, তার ওপর বলছিস্ তুই অফিসে এসেছিলি। এ কী মগের মুল্লুক নাকি। কর্মচারীরা কোথায় কী করে আসবে আর অফিসকে বলতে হবে অফিসে ছিলো। পুলিশ অ্যাটেনডেন্স রেজিস্টার্ড দেখতে চাইবে না? এ কি ছেলেখেলা নাকি। না না ও সব এখানে হবে না।
কথাগুলো বলে ম্যানেজার ফোন কেটে দিল। দিলু বুঝতে পারলো তার বাঁচার আর রাস্তা নেই। তারপর ওর সাকরেদরা যখন বলবে —এই নোংরা কাজে  দিলুই ওদের জোর করে ব্যবহার করেছে। এই মাষ্টার প্ল্যান সম্পূর্ণভাবে ওর। তাহলে ওদের থেকে ওর শাস্তি বেশি হবে। এইসব ভেবে ও ঠিক করলো পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেবে।

এদিকে পুলিশ ওর অফিসে ফোন করে জানতে পেরেগেছে যে ও ওই দিন অফিসে যায় নি। যে খরগোশ দেখিয়ে দীপু কে প্রলুব্ধ করা হয়েছে তা ওই দিলুর‌ই কাজ। দিলু বুঝে গেছে যে ধরা পড়েগেছে। তাই ও পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেবে। তাই পুলিশ সিভিল ড্রেসে ওদের বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে। ঠিক তাই সন্ধ্যে হলে দিলু ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির পিছনের দরজা ফাঁক করে দেখে নেয় কেউ আছে কিনা। কাউকেও দেখতে না পেয়ে মুখ ঢাকা দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে গেলে পুলিশ ওকে ধরে ফেলে বলে," কি পালাচ্ছিস্? পালিয়ে যাবি কোথায়? তুই যেখানেই যাস খুঁজে ঠিক বের করে এনে  গরাদে ঢোকাবো। আমরা তোকে থানায় গ্রেপ্তার করতে পারতাম। করিনি। কেন জানিস্? তাহলে তোকে এই পলায়মান অবস্থায় ধরতে পারতাম না। এতে তুই আর‌ও প্রমাণ করে দিলি যে তুইই কালপ্রিট। না হলে পালাবি কেন? চল থানায়,থার্ড ডিগ্রী অ্যাপ্লাই করে সব জেনে নেবো। থানায় দিলু কিছুতেই মুখ খুলতে চায়নি। থার্ড ডিগ্রী অ্যাপ্লাই করতে ও সব স্বীকার করে যে এ কাজের মাষ্টার প্ল্যান তার‌ই। ও এবং ওর তিন বন্ধু মিলে এই কাজ করেছে। পুলিশ বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে স্বীকারোক্তি নিয়ে নেয়। তারপর ওদের কোর্টে চালান করে। ধর্ষণ, খুন ও এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করার মাষ্টার প্ল্যানের দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩০৫ ও ৩০৬ ধারা মতে দিলু দশ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ডে দণ্ডিত হলো এবং বাকি তিন জন আট বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত  হলো। প্রতিশ্রুতিসম্পন্না, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থিনী ঝর্ণার অকাল, শোচনীয় মৃত্যুর শোকে সতীশ ও তার পরিবার ভীষন ভাবে ভেঙে পড়ে।  জাতধর্মে ‌ও অভাবে পিছিয়ে পড়া সংসারে তাদের আশার প্রদীপটি  এক ঝটকায় দুষ্টচক্রের চক্রান্তে  নির্বাপিত হয়ে গেল!

===============

Samir Kumar Dutta

Samir Kumar Dutta
Pune, Maharashtra 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্য...

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

ছয় দিনের ব্যবধান   ইদ্রিস মণ্ডল ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে। এ বাড়িতে এটাই নিয়ম। আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন। — "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।" কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন, — "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্ত স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি

অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তকে স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি ভাষাবিজ্ঞানের জগৎ আজ নিঃসন্দেহে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ল। অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তের প্রয়াণ কেবল একজন খ্যাতনামা ভাষাবিদের মৃত্যু নয়; এটি এমন এক শিক্ষকের বিদায়, যিনি ভাষা, সমাজ ও মানবিক যোগাযোগকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছাত্রদের শুধু ভাষাবিজ্ঞান নয়, চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং মানবিক হতে শিখিয়েছেন। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রবাল দাশগুপ্ত ভাষাকে শুধুমাত্র ব্যাকরণ ও বাক্যগঠনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে ভাষা ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, পরিচয়, ইতিহাস ও ক্ষমতার জটিল আন্তঃসম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতিফলন। বাংলা ভাষাবিজ্ঞান, সমাজভাষাবিজ্ঞান, ভাষানীতি ও ভাষাদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছিল অসংখ্য ছাত্র, গবেষক ও ভাষাপ্রেমীর সামনে। তাঁর প্রয়াণ আমার কাছে কেবল একাডেমিক ক্ষতি নয়, গভীর ব্যক্তিগত বেদনাও। ডেকান কলেজ, পুনেতে অধ্যাপনা করার সময় আমি তাঁর ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। সেই সময় প্রায়ই তাঁর কোয়ার্টারে যাওয়ার স...

একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার

  একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন: অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প  উৎপল সরকার মানুষের মৃত্যু কখনও কখনও শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না; সেটি সমাজের আয়নায় ভেসে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিও হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, কোনো শিল্পীর মৃত্যু হলে সেই প্রশ্ন আরও গভীর হয়। কারণ শিল্পীরা সাধারণ মানুষের মতো শুধু জীবন যাপন করেন না, তাঁরা অনুভব করেন বহু গুণ বেশি। তাঁরা হাসির আড়ালে কান্না লুকোন, আলোর নিচে দাঁড়িয়ে অন্ধকার বহন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক অনিক দত্ত— যিনি তাঁর ব্যতিক্রমী রসবোধ, সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করে তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন— তাঁর মৃত্যু নিয়ে সাম্প্রতিক খবর বহু মানুষকে নাড়া দিয়েছে। যদি সত্যিই তিনি গভীর একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু একজন পরিচালকের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সময়ের মানসিক নিঃসঙ্গতার এক নির্মম দলিল। অনিক দত্তের চলচ্চিত্রে বারবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া সময়, স্মৃতির ভাঙাচোরা বাড়ি, সমাজের ভেতরের নীরব ক্ষয় এবং মানুষের অদৃশ্য একাকীত্ব। “ভূতের ভবিষ...