স্বাধীনতাদিবসের এখন তখন কিছু বক্তৃতা, দেশাত্মবোধক গান-নাচ-আবৃত্তি-নাটিকা সমণ্বিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মার্চ-পাস্ট পতাকা, উত্তোলন এবং বোঁদে বা জিলিপি। প্রতি বছর ১৫ই আগস্টের এই পরিচিত ছবিটা দেখতে বা তাতে অংশগ্রহণ করতে সাত সকালে স্কুল, বাবাদের স্টাফ রিক্রিয়েশন ক্লাব ও অফিসের মাঠে হাজির হতাম। এই তিনটের সময়সূচি এমন ছিল যে একটা জিলিপি বা এক মুঠো বোঁদেও না ফস্কাত না। সেই কচি বয়সে স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের কাহিনী যতটা উদ্বুদ্ধ করত ততটাই বিমর্ষ। তখন এই ভ্যালেন্টাইন ডে, মা দিবস, বাবা দিবস, বন্ধু দিবস, পৃথিবী দিবস, পরিবেশ দিবস ইত্যাদির আমদানি হয়নি। তাই স্বাধীনতা দিবস ছাড়া বুঝি অন্যদিন স্বাধীন নই এমন প্রশ্নও মনে উদয় হোত না। মোটের ওপর পুজোর মতো ১৫ই আগস্টও ছিল ‘বছরকার দিন’ মানে আনন্দের দিন। তখন ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হেয়’ বাক্যটি শুনে থাকলেও বুঝতাম না। তখনও জানতাম না কাশ্মীরের জঙ্গি কার্যকলাপও আসলে স্বাধীনতা আন্দোলন, তখনও জানতাম না স্বাধীন দেশের উত্তর-পূর্ব অংশের নাগরিকদের বিনা পরোয়ানায় যখন খুশি গ্রেপ্তার করা...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...