সেলাই করা নরকের বিভীষিকা শাশ্বতী চট্টোপাধ্যায় কলকাতার রাতের একটা নিজস্ব গন্ধ আছে। পুরনো ট্রামের লোহা, ভেজা রাস্তার ধুলো, নর্দমার পচা জল আর ক্লান্ত শহরের অবশ শরীর থেকে বেরোনো এক অদ্ভুত উষ্ণতা—সব মিলিয়ে কলকাতা নগরী রাতেরবেলা যেন অন্য এক আদিম জীব হয়ে ওঠে। কিন্তু লেক গার্ডেন্সের সেই ১১১/৩ এর জরাজীর্ণ, স্যাঁতসেঁতে পুরনো ভাড়া বাড়িটার ভেতরে রাতের গন্ধ কলকাতার এই চেনা গন্ধের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। সেখানে যেন সময় নিজেই একটা বদ্ধ পাত্রে পচে গলে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। দেওয়ালের লোনাধরা ফাটলগুলো থেকে ভেজা চুন আর ক্ষয়ে যাওয়া ইটের সঙ্গে মিশে বেরোত এক তীব্র মিষ্টি অথচ অসহ্য আঁশটে গন্ধ—ঠিক যেমনটা কোনো মরা পশুর শরীর পচতে শুরু করলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের আদিম সিলিং ফ্যানটা কাঁপতে কাঁপতে ঘুরত ধীরে ধীরে, যেন বহু যুগ ধরে চলা কোনো যন্ত্রণার ক্লান্তিতে তার লোহার ডানাতেও মরচে ধরে গেছে। মাঝরাতে বাড়িটার প্রাচীন কাঠের দরজাগুলো কোনো বাতাস ছাড়াই নিজে থেকেই কেঁপে উঠত, আর ছাদের কোনো এক অদৃশ্য কোণ থেকে অবিরাম জল পড়ার শব্দ হতো—টুপ… টুপ… টুপ… যেন কোনো কাটা ধমনী থেকে মেঝেতে রক্...
যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...